ডার্ক ওয়েব: ইন্টারনেট এর নিষিদ্ধ জগত ( পর্ব- ৪) জীবন্ত মানুষের উপর অমানবিক গবেষণা!!

Now Reading
ডার্ক ওয়েব: ইন্টারনেট এর নিষিদ্ধ জগত ( পর্ব- ৪) জীবন্ত মানুষের উপর অমানবিক গবেষণা!!

ডার্ক ওয়েবের গত কয়েকটি পর্বে আপনারা ডার্ক ওয়েব সম্পর্কে মৌলিক কিছু ধারনা পেয়েছেন। সেই সাথে জানতে পেরেছেন ডার্ক ওয়েবের এক দুর্ধর্ষ সাইট সিল্ক রোড সম্পর্কে।
পূর্বেই বলা হয়েছে ডার্ক ওয়েব হচ্ছে ইন্টারনেটের এমন একটা জায়গা, যেখানে সাধারণ মানুষ প্রবেশ করতে পারে না। এখানে বিভিন্ন ধরনের অপরাধী , মানসিক বিকৃত মানুষ, উঁচু মানের হ্যাকার দের চলাফেরা। এছাড়া বিভিন্ন দেশের সরকারের অতি গোপনীয় তথ্য , মানব ইতিহাসের গোপন খবর লুকানো আছে এখানে। এই জগতে এমন কিছু কার্যক্রম হয় যা সাধারণ মানুষের কল্পনারও বাইরে। আজকে এমনি একটি কার্যক্রম সম্পর্কে আলোচনা করব যা জানতে পারলে আপনার পিলে চমকে যাবে।

সেটা হচ্ছে জীবিত মানুষের উপর অমানবিক গবেষণা । হ্যাঁ ঠিক শুনছেন ,ডার্ক ওয়েবে এমন একটি ওয়েব সাইট রয়েছে যেখানে মানুষের উপর বিভিন্ন অনৈতিক এবং অমানবিক গবেষণা গুলো করা হয় । আর এই গবেষণা করে নাম গোপন রাখা ডাক্তার এবং মেডিকেল শিক্ষার্থীদের একটা দল। এদের গোপনীয় গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে। এখানে বিভিন্ন মানুষকে ধরে এনে তাদের উপর মেডিকেল গবেষণা গুলো করা হয় এবং এই সকল গবেষণার রিপোর্ট, বর্ণনা, তথ্য- তথ্য উপাত্ত প্রকাশ করা হয় এই সাইটটিতে ।

the-human-experiment.21.4820PM.png

এই অমানবিক মানব গবেষণায় ্জড়িত আছে কিছু ডাক্তার। ছবি-কাল্পনিক।

 

এই সাইটের ট্যাগ লাইনে লেখা আছে, Not all humens are equal, some of them were born superior to others। অর্থাৎ, পৃথিবীর সব মানুষ সমান নয়, কেও কেও জন্মই নেয় আরেক জনের চাইতে বেশি মূল্যবান হিসেবে ‘। এই সাইটটি যারা পরিচালনা করে তারা এই কাজটাকে মোটেও অমানবিক মনে করে না। তার মনে করে গবেষণার জন্য যদি কিছু মানুষের জীবন যায় তাতে দোষের কিছু নেই। যাদের উপর এই অমানবিক গবেষণা গুলো করা হয় তারা বেশিরভাগই হচ্ছে ছিন্নমূল মানুষ।

 

আপনি যদি তাদের ‘about us’ পেজটিতে যান তবে দেখতে পাবেন সেখানে সরাসরি লেখা আছে, এই ওয়েব পেজে আমরা যে গবেষণা গুলো দেখিয়েছি তা করা হয়েছে কিছু মানুষ সাবজেক্ট এর উপর। এরা যাদের কে গবেষণার জন্য নিয়ে আসে তাদের কে উল্লেখ করা হয় ‘সাবজেক্ট’ হিসেবে। সাবজেক্ট হিসেবে যে মানুষগুলো কে এখানে বেছে নেওয়া হয়েছে এরা সবাই গৃহ হীন মানুষ এবং যাদের সরকারি খাতায় এদের কোন নিবন্ধন নেই । অনেকেই বলে মানব পাচার এবং কিডন্যাপ করেও এরকম সাবজেক্ট সংগ্রহ করা হয়। সাইটটির কোন জায়গায় সাবজেক্ট দের আসল নাম ব্যাবহার করা হয় না । নামের জায়গায় দেওয়া হয় একটি করে সিরিয়াল নম্বর।

জানা যায় গবেষক দের এইদলটিতে রয়েছে ডাক্তার, নার্স, মেডিকেল স্টুডেন্ট।  তথ্য অনুসারে গবেষণার জন্য এদের কমপক্ষে চারটা গবেষণাগার বা warehouse রয়েছে। যেখানে মানুষদের কে রাখা হয় এবং গবেষণা করা হয়।

 

print-3.png

 

 

এখানে বিভিন্ন প্রাণঘাতী মেডিকেল গবেষণা করা হয়। এরকম কিছু ভয়ংকর গবেষণার গুলোর বর্ণনা নিচে দেওয়া হল –

১। খুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করার ক্ষমতা পরীক্ষা করা হয় –
এই গবেষণায় সাবজেক্টদের খাবার বা পানি ছাড়া রাখা হয়। এই অমানবিক পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায় মানুষ খাবার বা পানি ছাড়া কতদিন বাঁচতে পারে। খাদ্যের অভাবে একে একে সাবজেক্টগুলো মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। কোন সাবজেক্ট কতটা সময় ধরে টিকে ছিল , এই তথ্য গুলো ওয়েবসাইট টিতে পাবলিশ করা হয়।
খাবার ছাড়াও না ঘুমিয়ে মানুষ কতদিন বাচতে পারে এমন ধরনের পরীক্ষাও করা হয় এখানে।

২। ব্যথা সহ্য করার ক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়
বিভিন্ন বয়সের, লিঙ্গের মানুষের ব্যথা সহ্য করার ক্ষমতা কি পরিমাণ তা পরীক্ষা করা হয় এখানে। গরম পানি- ঠাণ্ডা পানি , বৈদ্যুতিক শক, বিভিন্ন আঘাতে মানুষ কি পরিমাণ ব্যথা সহ্য করতে পারে এধরনের পরীক্ষাও করা হয়। তাহলে বুঝতেই পারছেন বিভিন্ন বয়সের সাবজেক্ট দের ধরে এনে তাদের গরম পানি ঢেলে, বা বৈদ্যুতিক শক দিয়ে অথবা ইচ্ছাকৃত ভাবে আঘাত করে এই পরীক্ষাগুলো করা হয়। যা খুবই অমানবিক।

৩। ইনফেকশন  সমূহ পরীক্ষা এবং কোন অঙ্গ কিরকম ক্ষতিগ্রস্ত হয়
আমরা জানি আমাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ সমূহ বিভিন্ন ভাবে ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়। ডাক্তারদের এই দলটি সাবজেক্ট দের শরীরে ভাইরাস ঢুকিয়ে দেয় । এরপর বিভিন্ন অঙ্গের ইনফেকশন পর্যবেক্ষণ করে । কোন অঙ্গটি কত দ্রুত তম উপায়ে আক্রান্ত হয় তা পরীক্ষা করা হয়। এর ফলে কিছু কিছু সাবজেক্ট সারাজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যায় । অনেক সময় ইনফেকশন এই পরিমাণ ছড়িয়ে যায় যে সাবজেক্ট এর মৃত্যু পর্যন্ত হয়।

 

৪। ওষুধ ট্রায়াল

বিভিন্ন রোগের বিভিন্ন ওষুধ আবিষ্কার করা হয়। তবে সেই ওষুধ আসলেই মানুষের দেহে কতটা কার্যকর তা সাবজেক্ট দের উপর পরীক্ষা করা হয়। অনেক সময় গরীব মানুষেরা ইচ্ছাকৃত ভাবে টাকার বিনিময়ে এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

৫। বড় বড় সার্জারি
সাবজেক্ট দের উপর বড় বড় সার্জারি প্রাকটিস করা হয়। যেমন অঙ্গ প্রতিস্থাপন। এমনকি বিভিন্ন পশুর অঙ্গ মানুষের দেহে প্রতিস্থাপন করা যায় নাকি এমন ভয়ঙ্কর পরীক্ষা গুলোও করা হয় বলে জানা যায় ।

৬। নবজাতক রা কতটা এক্স রে রশ্মি,গরম সহ্য করতে পারে তার পরীক্ষা
এর চাইতে লোমহর্ষক আর কি হতে পারে যে , এখানে শিশু এবং নবজাতক দের উপর ও পরীক্ষা করা হয়। দেখা হয় যে শিশু রা কি পরিমাণ গরম বা এক্স রে রশ্মি সহ্য করতে পারে ।

৭। Bleaching ইনজেকশন ইফেক্ট পরীক্ষা

এই ওয়েবসাইট টি খুব গোপনে পরিচালনা করা হয়। কিন্তু প্রকাশ পাওয়া ওয়েব সাইটটির একটি পেজে দেখা যায় বিভিন্ন প্রেগন্যান্ট মহিলাদেরকে বিভিন্ন পরিমাণ Bleaching ইনজেকশন পুষ করা হয়। এবং দেখা হয় গর্ভের ভ্রূণ কি পরিমাণ Bleaching সহ্য করতে পারে ।এর পর লিপিবদ্ধ করা হয়েছে কতদিনে গর্ভপাত হয়েছে তার ফলাফল ।

print-2.png

 

এসকল অমানবিক গবেষণার পর অনেকে হয়ত বেচে ফিরে। কিন্তু বেশির ভাগ হতভাগ্য মানুষই সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যায়, বা মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ে। এই ওয়েবসাইট টিতে দাবি করেছে যে তারা তাদের সাবজেক্টদের কে নিয়মিত খাবার দেয় এবং মানুষ গুলো নিজের ইচ্ছায় নিজেদের কে এই গবেষণায় সপে দেয়। তারা বলে তারা ওয়ার হাউস গুলোতে সাবজেক্ট দের আটকে রাখে না। তবে এটা সহজেই বোঝা যায় এটা একটি খোঁড়া দাবি। কারণ কোন মানুষই নিজের ইচ্ছায় এমন অমানবিক গবেষণায় রাজি হবে না তা বোঝাই যায়।

কিন্তু মৃত্যুর পর কি হয় এই লাশগুলোর? গুজব রয়েছে পরীক্ষার পর এই লাশ গুলোকে টুকরো টুকর করে ফেলা হয়। এদের বডি পার্ট গুলো বিক্রি করা হয়। বডি পার্ট বিক্রির জন্য ও কিন্তু আলাদা ওয়েবসাইট আছে ডার্ক ওয়েবে। শুনলে আরও অবাক হবেন এই লাশগুলোকে বিভিন্ন মাংসের দোকানে বিক্রি করা হয়।সেখান থেকে তা পৌঁছে যায় বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে। ফলে এই হতভাগ্য ব্যক্তিদের আর কোন অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায় না।

যেহেতু, ডার্ক ওয়েবের সাইট গুলো এতই গোপন থাকে যে মানবাধিকার সংস্থা গুলোর পক্ষে সম্ভব নয় এই সাইটের সম্পর্কে জানা। অনেকেই বলে এগুলো আসলে গুজব। এরকম কোন সাইট আদতে নেই। অনেকেই আবার মনে করে এর সাথে আসলে অনেক বড় বড় সংস্থা এমন কি সরকার ও জড়িত ।

অবশ্য বিভিন্ন প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে এই অমানবিক সাইট টির অস্তিত্ব সম্পর্কে। যা মানব ইতিহাসে এক কলঙ্ক জনক অধ্যায় হিসেবেই বলা যায়। আমরা জানি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের হোল কাস্টের সময় নাৎসিরা জীবন্ত মানুষের উপর গবেষণা চালাত। কিন্তু বর্তমান পৃথিবীতে এরকম কাজ কোন ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কারণ, পৃথিবীর প্রতিটা মানুষই জন্মায় সমান অধিকার নিয়ে। বিশেষ করে শিশু এবং গর্ভবতী নারীদের উপর গবেষণা তো এক কথায় অমানবিক ।

 

n14.jpg

ইহুদী শিশুদের উপর চালান নাৎসিদের মেডিকেল গবেষণা। ছবি- গুগল।

এরকম অনেক নৃশংস গোপন কাজের এক আখড়া হয়ে আছে কুখ্যাত ডার্ক ওয়েব ।।

(চলবে)