লোমহর্ষক ঘটনার সাক্ষী ভাসছে যে হ্রদে !

Now Reading
লোমহর্ষক ঘটনার সাক্ষী ভাসছে যে হ্রদে !

রহস্যময় পৃথিবীর অন্যতম ব্যাখ্যাতীত একটি লোমহর্ষক ঘটনা। যার ফসিলগুলো আজো ভাসছে। আসলে কি ঘটেছিল তাদের সাথে !?

১৯৪২ সালে অবিভক্ত ভারতের ব্রিটিশ গার্ডরা ভারতের রুপকুন্ডে ঠান্ডায় জমে থাকা একটি হ্রদ দেখতে পায়। অতিরিক্ত ঠান্ডায় আরো জমে যাওয়ার মতন অবস্থা হয় তাদের, যখন তারা দেখল হ্রদের আশেপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে শতশত কঙ্কাল ! এই হ্রদ আরো ভয়াবহ রুপ নেয় যখন গ্রীষ্মের গরমে হ্রদের বরফ ক্রমশ গলে যেতে লাগল ! আরো কয়েক’শ ছিন্নবিচ্ছিন্ন কঙ্কাল ভেসে উঠতে লাগলো এবং হ্রদের তীরে জমতে থাকল !

অনেকেই এতশত কঙ্কাল একসাথে দেখে ভাবলো, হয়তো এগুলো ২য় বিশ্ব যুদ্ধের জাপানি সৈন্য যারা লুকিয়ে ভারতে এসেছিল যেহেতু ১৯৪২ সালে ২য় বিশ্ব যুদ্ধ হয়েছিল।

ব্রিটিশ সরকার একটি প্রতিনিধি দল পাঠান এই সত্য উদ্ঘাটনের বা রহস্য উন্মোচনের জন্য। তাতে প্রমাণ হল এগুলো জাপানি সৈন্যদের নয় বরং আরো অনেক আগের সময়কার মনে হচ্ছিল। সেই থেকে এই হ্রদের নাম দেয়া হয় কঙ্কাল হ্রদ।

তবে রহস্য রহস্যই রয়ে গেল। এত কঙ্কাল একসাথে এখানে কিকরে এলো বা কি হয়েছিলো এতগুলো মানুষের একসাথে এ নিয়ে মানুষের জল্পনা কল্পনার শেষ ছিলোনা। কারো মতে ভূমিধ্বস, কারো মহামারি, কারো মতে আত্মহুতির কারণে হয়তো এই বিভৎসতা !

গত ৬ দশক ধরে এই বিভৎস কঙ্কাল হ্রদ রহস্যই রয়ে গিয়েছিলো।

২০০৪ সালে একদল গবেষক ন্যাশনাল জিওগ্রাফি থেকে এই রহস্য উন্মোচনের জন্য অভিযান চালালেন। তাঁরা প্রায় ৩০ কঙ্কাল উদ্ধার করলেন যার কয়েকটিতে তখনও কিছু মাংস, চুল অবশিষ্ট ছিলো যা নিয়ে গবেষনা শুরু করলেন। আর তা থেকে প্রাপ্ত তথ্য সবাইকে আরো হতবাক করে দিলো ! হিসেব করে জানা গেলো এই কঙ্কালগুলো তারও আগেকার। প্রায় ৮৫০ সালের ! তাদের DNA পরিক্ষা করে জানা গেলো তাঁরা কোন দুই দলে ছিলো। একদল কোন পরিবার বা উপজাতীয় গোত্র হবে আর আরেক দল ছিলো বাইরের লোকজন। কঙ্কালের আংটি, কাঠের তৈরী জিনিসপত্র, চামড়ার জুতো, লোহার তৈরী বর্শার ফলক ইত্যাদি দেখে বিশেষজ্ঞ দল ধারণা করল এই কঙ্কালগুলো কোন তীর্থ যাত্রীর। যারা উপত্যকার উপরে উঠেছিল আর তাঁদেরকে সহযোগীতা করেছিলো স্থানীয় কুলি বা মাল বহনকারী।

এই রুপকুন্ড এলাকাটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পাথর আর বরফের বিশাল স্তুপ, যেখানে গরুর গাড়িই একটা ভালো মাধ্যম ছিলো এই এলাকা পাড়ি দেবার জন্য। স্থানীয় কিংবদন্তী অনুযায়ী কনৌজের রাজা চষদভাল ও তাঁর রাণী এবং তাঁর পরিষদবর্গ নন্দাদেবীর/ নন্দীদেবীর মন্দিরে তীর্থ যাত্রার উদ্দেশ্যে রুপকুন্ডে গিয়েছিলেন। আর আজও প্রতি ১২ বছর পর পর এই তীর্থযাত্রার আয়োজন করা হয়।

এদিকে ন্যাশনাল জিওগ্রাফি গবেষকরা কঙ্কালগুলোর খুলি পরিক্ষা করে দেখেন তাঁরা সবাই একইভাবে মারা গিয়েছে। সবার মাথায়ই ভারী কোন বস্তুর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। আর সেই ক্ষত পরিক্ষা করে আরো উদ্ভট এক তথ্য দিল ! তাঁদের মৃত্যু কোন অস্ত্রের আঘাতে হয়নি বরং কোন গোলাকার ভারী বস্তুর আঘাতেই হয়েছে ! খুলি এবং কাঁধ পরিক্ষা করে জানা গেল আঘাতগুলো উপর থেকে এসেছিলো ! এরপর সব পরিক্ষার শেষে তাঁরা একটি অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন, তীর্থযাত্রীরা সবাই শিলাবৃষ্টিতে মারা গিয়েছিলো যাদের কাছে রক্ষা পাওয়ার কোন ছাউনি ছিলোনা !!

যদি ও শিলাবৃষ্টি সাধারণত প্রাণঘাতী হয়না কিন্তু বিজ্ঞানীদের মতে সেদিন হয়ত অদ্ভূত অজানা কোন প্রাকৃতিক নিয়মে এমন এক বিপর্যয় ঘটে যার পরিণাম বিভৎস লোমহর্ষক এই মৃত্যু !!

 

কিন্তু প্রশ্ন কিন্তু মনে থেকেই যায় , আসলেই কি ভয়ঙ্কর শিলাবৃষ্টিতেই মৃত্যু হয় তাঁদের?

আর স্বাভাবিক শিলাবৃষ্টির বদলে ঐদিন কেন ভয়াবহ শিলাবৃষ্টি হল?

প্রকৃতির এমন কি অজানা নিয়মে এমনটি ঘটতে পারে যার উত্তর আধুনিক বিজ্ঞানের কাছে নেই !!

আজো কঙ্কাল হ্রদের কঙ্কালগুলো রহস্যই থেকে গেল !

 

তথ্যসুত্র: অনলাইন