আমি যেন অন্যের কস্টের কারণ না হই।

Now Reading
আমি যেন অন্যের কস্টের কারণ না হই।

আজকাল আমরা সবাই খুব বেশী সেলফিস বা আত্মকেন্দ্রিক হয়ে গিয়েছি।সবাই নিজেকে নিয়ে খুব ব্যাস্ত। আমরা খুব কম মানুষই আছি যারা অন্যের অসুবিধা/ অন্য জনের কস্ট নিয়ে ভাবি। আমি সবাইকে এমন করে ভাবতে বলছি না যে, আপনি আপনার সব কাজ কর্ম ফেলে রেখে, অন্যকে নিয়ে ভাবেন।এক্ষেত্রে আপনাকে বা আমাকে সব সময় একটা ছোট জিনিস মাথায় রেখে চলতে হবে,সেইটা হলো। “আমার দ্বারা যেন, কারোর ক্ষতি না হয়।” বা “আমি যেন অন্যের কস্টের কারণ না হই।” আপনি যদি সব সময় শুধুমাত্র এই কথাটা মাথায় রেখে রাস্তা ঘাটে চলাফেরা করেন বা কাজ কর্মে মনোনিবেশ করেন। তাহলে দেখা যাবে, আমরা সত্যিকারের একটা আর্দশ সমাজ প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের সামান্য মানসিকতার পরিবর্তনের মাধ্যমে, আমরা গড়ে তুলতে পারি সুন্দর একটা সমাজ। আমাদের সমাজে জীবন ধারনের জন্য আমাদের সকলকেই কোন না কোন কাজে সম্পৃক্ত হতে হয়। প্রতিদিন আমরা কোন না কোন কাজে ঘর থেকে বের হই বা কর্মস্থলে যাই। এই বের হওয়ার মাঝে আমরা পাবলিক নানান পরিবহন ব্যাবহার করি। আমরা যারা ঢাকা শহরে বাস করি, তারা সবাই মোটামুটি জানি। এখানে কি পরিমান ট্রাফিক জ্যাম। এহেন ট্রাফিক জ্যামের মাঝে আরোও সমস্যা হলো অপর্যাপ্ত পাবলিক ট্রান্সপোর্ট।

এরই মাঝে আমাদের দেশের বিপুল সংখ্যক কর্মজীবী মা বোন পাবলিক ট্রান্সপোট ব্যবহার করেন। তাদের অনেকেই কর্মস্থলে আসা যাওয়া করেন পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যাবহার করে। তাদের এই যাত্রা পথকে আমরা খুব সহজেই স্বাভাবিক করে দিতে পারি।শুধু মাত্র আমাদের একটু ভালো মন মানসিকতার প্রকাশের মাধ্যমে। আমি প্রায়ই দেখি।বাসে অনেক গুলো মহিলা দাড়িয়ে আছে। অথচ আমাদের সমাজের বিবেক হীন ভাইয়েরা, মেয়েদের সীটে আরাম করে বসে আছেন। এতোটুকু বিবেচনা বোধ তাদের মনে কাজ করে না। আমি কেন মেয়েদের সীটে বসে আছি? বা মেয়েদের সীট মেয়ে দ্বারা পরিপূর্ন থাকলেও,এক দুইজন তাদের ( ছেলেদের সিট) সিট ছেড়ে মহিলাদের বসতে দিলে, কি এমন ক্ষতি হবে? আমার এই সীটে একটি মেয়ে বসতে না পেরে, সে তো সারাটা রাস্তা দাড়িয়ে দাড়িয়ে যাবে।আর প্রতিটি ভূক্তভোগী মানুষ মাত্রই জানেন, লোকাল যেসব বাস আছে, সেগুলির ভিতরে দাড়িয়ে থাকাটা কতো কস্ট সাধ্য।যখন কেউ ভিতরে দাড়িয়ে থাকেন, তার মাঝে যখন কোন যাত্রী যখন উঠানামা করেন বা আসা যাওয়া করেন। তখন নিজেকে সেন্ডউইচের ভিতরে ফিলিং এর মতো মনে হয়। একপাশে সীট মাঝখানে আপনি, অন্য পাশ্বদিয়ে আপনাকে চেপে চলে যাচ্ছে অন্যজন। আমরা ছেলেরা যখন দাড়িয়ে থেকে এমন অসুবিধা অনুভব করি।

তখন একটি মেয়ে বা মহিলা মানুষের কি হাল হয়। সেইটা বোধ হয় সবাই বোঝেন। কারণ আমি বিশ্বাস করি, সবার ই মা বোন আছেন। সত্যি বলতে কি,আপনি আমি যদি একটি মহিলাকে সম্মান করে বসতে দেই।এবং তার স্থলে আপনি বা আমি দাড়িয়ে থেকে বাকি পথটুকু পাড়ি দেই। তাহলে আমরা সম্মান হারাবো না বরং সম্মান আমাদের বাড়বে। অনেকেই আছেন যারা মনে করেন, এই মহিলা তো গরীব বা গার্মেন্টেসের কর্মী তাকে কেন আমি সিট ছেড়ে দিব? তার চেয়ে কি আমার সামাজিক অবস্থান খারাপ নাকি? এইটা ভাবা কখনোই উচিত না। তাছাড়া সমাজের খুব পয়সা ওয়ালা শ্রেনীর মানুষ জন। আপনার মতো বা আমার মতো পাবলিক বাসে চলাচল করে না। আমরা যারা চলাচল করি, আমাদের অনেকেরই একমাত্র অবলম্বন এই পাবলিক বাস। যার জন্য আপনাকে আপনার সীট ছেড়ে,বসতে দিতে হবে। তিনি ধনী বা গরীব সেইটা কোন বিষয় না। তিনি একজন মহিলা মানুষ এইটাই তার পরিচয় বা তিনি একজন বয়স্ক মানুষ এইটাই তার পরিচয় হওয়া উচিত। আপনি বা আমি যদি আমাদের
চলার পথে একটু নমনীয় হই। তাহলেই, আমাদের পারপার্শিক পরিবেশটা কে আরোও সুন্দর করে তুলতে পারি। ইদানীং দেখা যায়, ঢাকার ব্যাস্ত এলাকা গুলোতে পুরো ফুটপাত জুড়েই লোকজন দোকানপাট সাজিয়ে বসে থাকেন। পথচারী চলাচলের জন্য কোন সরু রাস্তাও অবশিষ্ট রাখেন না। একজন পথচারী কিভাবে চলাচল করবেন? সেই ব্যাপারে তাদের কোনই ভ্রুক্ষেপ নেই। ঐ সমস্ত জ্যাম ঠেলে একজন ছেলে মানুষের চলাচল কঠিন হয়ে যায়। সেখানে মহিলা নিয়ে চলাচল অনেক ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগী মহিলারা বুঝেন কতো কস্ট করে পাড় হতে হয়। আমাদের সমাজে এমন অনেক দুস্টো বা নীচু মনের মানুষ আছেন, যারা চান, ভীড়ের মাঝে মহিলাদের গায়ের সাথে যেন টাচ লাগে।এইটা ভাবেন বলেই বলেই অনেকেই মহিলা মানুষ দেখেও রাস্তায় সাইড দিতে চান না।যদি সব মানুষের মানসিকতা বদলাতে হয়। তাহলে আপনার বা আমাকেই প্রথমেই উদ্যোগী হতে হবে।কেহ যদি ভালো কাজ নাও করে, তবুও আমি বা আপনি ভালো কাজ করে যাবো, এইটাই যেন হয় সবার স্বাভাবিক চিন্তা। অন্যথায় এই সমাজকে আমরা পরিবর্তন করতে পারবো না।