অল এশিয়া ফাইনালের অপেক্ষায় গোটা ক্রিকেট দুনিয়া

Now Reading
অল এশিয়া ফাইনালের অপেক্ষায় গোটা ক্রিকেট দুনিয়া

final 1.jpg

আর মাত্র একদিন পরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এ বছরের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট ম্যাচটি। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে কাল মাঠে নামবে দুই  চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত এবং পাকিস্তান। ভারত-পাকিস্তান লড়াই মানেই বাড়তি উত্তেজনা। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বাড়তি কিছু, পরতে পরতে রোমান্সে ঠাসা ক্রিকেট বিনোদনের পরিপূর্ণ এক  প্যাকেজ। তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বুঁদ হয়ে থাকা। এমন লড়াইয়ের জন্যই অপেক্ষায় থাকে ক্রিকেট বিশ্ব। ক্ষণে ক্ষণে রং পাল্টাবে, পেন্ডুলামের মতো দুলবে ম্যাচের ভাগ্য। প্রতি মুহূর্তে আনন্দময় উৎকণ্ঠায় চলা ব্যাট-বলের এই দ্বৈরথের আবেশ ‘শেষ হইয়াও হয় না শেষ’! কথাগুলো যে চিরসত্য; তা জানা আছে অগণিত ক্রিকেটপ্রেমীদের। যেকোনো খেলায় ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হলেই ভোল্টেজ ‘হাই’ হয়ে যায়। সবচেয়ে বেশি উত্তাপ, উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে উপমহাদেশের সমর্থকদের মধ্যে। উপমহাদেশের প্রায় ২০০ কোটি মানুষের স্নায়ুর ওপর দিয়ে যে আগামীকাল ঝড় বয়ে যাবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফি দক্ষিণ এশিয়াতেই থাকছে। সেমিফাইনালের টিকেট পাওয়া চারটি দলের তিনটিই ছিল উপমহাদেশের। আর  এখন  ফাইনালেও নিশ্চিত এশিয়ানরা।

পাকিস্তান দলের ফাইনাল যাত্রাঃ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে এজবাস্টন মাঠে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের দল ভারত নির্ধারিত ৪৮ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৩১৯ রান তোলে।হাইভোল্টেজ ম্যাচে বৃষ্টির জন্য পাকিস্তানের ইনিংস দেরিতে শুরু হওয়ায় টার্গেট ছিল ৪১ ওভারে ২৮৯ রান। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারত ডাকওয়ার্থ লুইস মেথডে ১২৪ রানের ব্যবধানে হারিয়ে দেয় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে। ভারতের কাছে বিশাল ব্যবধানে পরাজয়ের পর থেকে পাকিস্তান দল একটা বিরাট পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। ভারতের কাছে হার ওদের কাছে এক  বিরাট বড় ধাক্কা ছিল। ওই ম্যাচের পর থেকে প্রাক্তনদের খোঁচা আর  দেশজুড়ে প্রবল সমালোচনায় বিদ্ধ হতে হয়েছে শোয়েব মালিক-মহম্মদ হাফিজদের। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল ওদের। এবং তারপর থেকে একমাত্র ঘুরে দাঁড়ানোই ছিল ওদের সামনে বাঁচার রাস্তা। শুধু ঘুরে দাঁড়িয়েছে বললে ভুল হবে, যে দলকে কেউ গুণাতেই ধরেনি, সেই পাকিস্তান দল এখন শিরোপা থেকে মাত্র একটি ম্যাচ দূরে! দ্বিতীয় ম্যাচে টস হেরে বোলিংয়ে যায় পাকিস্তান। ৫০ অভার শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস শেষ হয়,  ২১৯ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে। পাকিস্তান ইনিংসের ২৭তম ওভার শেষে বৃষ্টিতে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। এ সময় ১১৯/৩ সংগ্রহ নিয়ে বৃষ্টি আইনে ১৯ রানে এগিয়ে ছিল পাকিস্তান। ফলে আর খেলা না হওয়ায় বৃষ্টি আইনে ১৯ রানে জয় পায় পাকিস্তান।‘বি’ গ্রুপ এবং গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ৪৯ দশমিক ২ ওভারে ২৩৬ রানেই  গুটিয়ে যায় শ্রীলংকা। জবাবে ৩১ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটে ২৩৭ রান তুলে জয়ের স্বাদ পায় পাকিস্তান। এর ফলে সেমি ফাইনালে উঠে যায় পাকিস্তান। সেমি ফাইনালে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ইংল্যান্ডের শুরু আর  শেষটা হলো ভিন্ন। পাকিস্তানি বোলারদের তোপে নির্ধারিত ৫০ ওভারই ব্যাট করতে পারেনি স্বাগতিকরা। ৪৯.৫ ওভারে ২১১ রানে অলআউট  হয় ইয়ন মরগানের দল। জয়ের জন্য ২১২ রানে লক্ষ্যমাত্র নিয়ে খেলতে নেমে মাত্র ৮ উইকেট হারিয়ে ১১.৫ ওভার বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌছে যায় পাকিস্তান। যার পরিপ্রেক্ষিতে জয়ের সাথে সাথে ফাইনালে পৌঁছে যায় পাকিস্তান।

ভারত দলের ফাইনাল যাত্রাঃ এই ম্যাচটিতে ভারতই বেশি চাপে থাকবে। কারণ হট ফেভারিটের তকমা গায়ে মেখে মাঠে নামবে তারা।গ্রুপের প্রথম ম্যাচে এজবাস্টন মাঠে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের দল ভারত নির্ধারিত ৪৮ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৩১৯ রান তোলে।হাইভোল্টেজ ম্যাচে বৃষ্টির জন্য পাকিস্তানের ইনিংস দেরিতে শুরু হওয়ায় টার্গেট ছিল ৪১ ওভারে ২৮৯ রান। ডাকওয়ার্থ লুইস মেথডে ১২৪ রানের ব্যবধানে হারিয়ে দেয় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে।দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে ৭ উইকেটে হেরে যায় ভারত। আসরে টিকে থাকার লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭২ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটে জয় পেয়েছিল কোহলির দল। ১৫ জুন দ্বিতীয় সেমিফাইনালে একপেশে ম্যাচে  বাংলাদেশকে নয় উইকেটের বিশাল ব্যাবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠে ভারত।

ভারত এ নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে চতুর্থবার ফাইনালে খেলতে যাচ্ছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রথমবার ফাইনালে খেলছে। ভারত বর্তমান চ্যাম্পিয়নও।ভারত-পাকিস্তান একবার স্বপ্নের ফাইনাল হয়েছিল। সেটা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। ২০০৭ সালে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হয়ে, সেবার ভারতের কাছে ৫ রানে হেরেছিল পাকিস্তান। যদিও জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ছিল টান টান উত্তেজনায় ভরা। এছাড়া আইসিসি বিশ্বকাপ বলুন কিংবা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি- কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে দেখা হয়নি দু’দেশের।

কাল লড়াইটাও কি হবে পাকিস্তানি বোলার বনাম ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের? সেই লড়াইয়ে কে হাসবে তা জানতে অপেক্ষা করা ছাড়া তো আর উপায় নেই।রিকেটের সব রঙ, রূপ, রস, গন্ধ মিলে মিশে একাকার হয়ে যাবে যেন এই একটি ফাইনালকে ঘিরে। যেই ট্রফি ঘরে তুলুক। আরেকটি এশিয়া ভিত্তিক ফাইনাল দেখবে ক্রিকেট বিশ্ব।

ভারত-পাকিস্তান সেরা ১০ ওয়ানডেঃ

১৮ জানুয়ারি ১৯৮৮

পাকিস্তানকে (৩১৪/৫) তিন উইকেটে হারায় ভারত। ঢাকায় ইন্ডিপেন্ডেন্স কাপের ফাইনালে

* এক বল বাকি থাকতে জয়সূচক বাউন্ডারি হাঁকান ঋষিকেশ কানিতকার

১৮ এপ্রিল ১৯৮৬

ভারতকে (২৪৫/৭) এক উইকেটে হারায় পাকিস্তান (২৪৮/৯)। শারজায় অস্ট্রেলিয়া কাপ ফাইনালে

* শেষ বলে চেতন শর্মাকে ছয় হাঁকান জাভেদ মিয়াঁদাদ

২২ মার্চ ১৯৮৫

ভারত (১২৫) জয়ী ৩৮ রানে। ৮৭ রানে অলআউট পাকিস্তান।

শারজায় চার জাতির সিরিজে

* ইমরান খান মাত্র ১৪ রানে ছয় উইকেট নেন

২৫ অক্টোবর ১৯৯১

পাকিস্তান (২৬২/৬) ভারতকে (১৯০) হারায় ৭২ রানে। শারজায় উইলস ট্রফির ফাইনালে

* আকিব জাভেদ হ্যাটট্রিকসহ সাত উইকেট নেন মাত্র ৩৭ রান দিয়ে

৯ মার্চ ১৯৯৬

ভারত (২৮৭/৮) পাকিস্তানকে (২৪৮/৯) হারায় ৩৯ রানে।

বাঙ্গালোরে বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে

* অজয় জাদেজা ২৫ বলে ৪১ রান করেন

১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৯৭

ভারত (১৮২/৬) পাকিস্তানের (১৪৮) বিপক্ষে জয়ী হয় ৩৪ রানে।

টরেন্টোয় সাহারা কাপে

* সৌরভ গাঙ্গুলী ১৬ রানে পাঁচ উইকেট নেন

১৬ এপ্রিল ১৯৯৯

পাকিস্তান (১২৯/২) আট উইকেটে হারায় ভারতকে (১২৫)।

কোকাকোলা কাপে

* ওয়াসিম আকরাম ১১ রানে তিন উইকেট নেন

১ মার্চ ২০০৩

পাকিস্তানের (২৭৩/৭) বিপক্ষে ছয় উইকেটে জয়ী হয় ভারত (২৭৬/৪)

বিশ্বকাপের গ্র“প ম্যাচে

* শচীন টেন্ডুলকার ৯৮ রান করেন

৩০ মার্চ ২০১১

ভারত (২৬০/৯) পাকিস্তানকে (২৩১) হারায় ২৯ রানে।

মোহালিতে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে

* শচীন টেন্ডুলকার ৮৫ রান করেন

১৩ মার্চ ২০০৪

ভারত (৩৪৯/৭) পাঁচ রানে জয়ী হয়

পাকিস্তানের (৩৪৪/৮) বিপক্ষে।

করাচিতে দুদেশের মধ্যে ওয়ানডে সিরিজে

* ইনজামাম-উল-হক ১২২ রান এবং রাহুল দ্রাবিড় ৯৯ করেন।

হারজিৎ চিরদিন থাকবে, তবুও সামনে এগিয়ে যেতে হবে

Now Reading
হারজিৎ চিরদিন থাকবে, তবুও সামনে এগিয়ে যেতে হবে

চোখের কোণা থেকে পানি টা গড়িয়ে পড়ল। অনেক চেষ্টা করেও আটকাতে পারলাম না। আর আটকাতে চেয়েও বা কি হবে? কিছু পানি ঝরতে দেওয়া ভালো। তাতে যদি ভিতরের ক্ষত টা একটু কমে। যন্ত্রণা টা অনেক বেশি ই। জবাব টা দিতে পারলাম না। সুযোগ থেকেও যেন আজ পারি নাই। ভাগ্য কেমন জানি আমাদের সাথে প্রতিনিয়তই খেলা করে। হ্যাঁ আমরা হেরে গেছি। আমরা খেলাতে হেরে গেছি। তার আগে টসে ও হেরে ছিলাম। দ্যা ওভালের ১৫ জুনের পিচ রিপোর্ট বলছিল ব্যাটিং ফেবার এই ক্রিজে রান তাড়া করে খেললে জেতার সুযোগ টা বেশি। আর হল ও তাই।

 264462.jpg

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ এর সেমিফাইনাল ম্যাচ। ভারত আর বাংলাদেশ মুখোমুখি। হাই ভোল্টেজ এই ম্যাচ টা নিয়ে আশা আকাঙ্খা ডানা বেঁধে ছিল প্রায় ২০ কোটি বাংলাদেশি সাপোর্টারদের ভিতরে। আইসিসি এর এত বড় আসরে ভারত নামের এই পরাশক্তি কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এর ফাইনালে ওঠার একটা বড় স্বপ্ন দেখছিল তারা। আসলে স্বপ্ন বললে ভুল হবে। বলা যায় প্রতিশোধ। ভারতীয়দের তোঁতা মুখ ভোঁতা করার প্রতিশোধ।

unnamed.jpg

আমাদের প্রতি ভারতীয়দের রুঢ় ভাব অনেক দিনের। ২০০০ সালে আইসিসি এর সদস্য পদ পাবার পর থেকে ভারতীয় রা বাংলাদেশে এসে খেলেছে মাত্র চারটা সিরিজ। যেটা অন্যান্য আসিসি মেম্বারদের থেকে কম। প্রতিবেশী দেশ হয়েও ভারত বাংলাদেশের উত্থানে অবশ্যই খুশি নয়। আইসিসি বিশ্বকাপ ২০১৫ এর কোয়াটার ফাইনালের কথাই ধরা যাক। বাংলাদেশের স্বপ্ন কে দুমড়ে মুচড়ে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছিল মার্চ ১৯, ২০১৫ তারিখে মেলবোর্নে। বাংলাদেশ তখন থেকেই বুঝে গেছিল বন্ধু প্রতিম দেশ ভারত অবশ্যই বাংলাদেশ ক্রিকেটের এ উত্থানে ভীত।

264437.jpg

১১ জুন ২০১৭ রবিবারের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এর ইন্ডিয়া আর দক্ষিণ আফ্রিকা এর ম্যাচে ভারতের সাবেক ক্যাপ্টেন সৌরভ গাঙ্গুলি তো ধারাভাষ্য দিতে দিতে বলেই ফেলেছিলেন, “আজ রবিবারের ম্যাচ শেষে ভারতীয় সাপোর্টারদের আবার উড়ে যেতে হবে লন্ডনের দ্যা ওভালে ফাইনাল দেখতে।” যেখানে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ১৫ জুন ২০১৫ এ এডবাস্টোন এর ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি ছিল বাংলাদেশ। তিনি যেন বাংলাদেশ কে কোন গুরুত্বই দিলেন না। এমন ভাবে ঘোষণা দিলেন যেন ভারতের কাছে বাংলাদেশ কোন টিম ই না।  একজন ক্রিকেটার হয়ে তিনি একটা দেশের ক্রিকেট কে অপমান করে এমন কথা কিভাবে বলেন?

ঠিক একই ম্যাচে যখন ভারত দক্ষিণ আফ্রিকার থেকে সহজ জয় তুলে নিয়েছিল, তখন ভারতীয় ক্রিকেটার ভিরেন্দর শেবাগ তার সামাজিক মাধ্যম টুইটার এর একটা টুইটে লিখেছিলেন “ভারতকে অগ্রিম ফাইনালে ওঠার জন্য শুভেচ্ছা। হ্যাঁ ভারত শক্তিশালী হতে পারে, অবশ্যই তারা এখন ভালো খেলছে, কিন্তু সেমিফাইনালে ওঠা একটি টীমের বিপক্ষে একজন কিংবদন্তী কিভাবে এমন মন্তব্য করেন।

রাঙ্কিং  ৬ এ থাকা একটা টীমের বিপক্ষে রাঙ্কিং  ৩ এ থাকা এমন টা বলতেই পারে হয়তো।। কিন্তু তারা হয়তো ২০১৫ এর বাংলাদেশের বিপক্ষে  সিরিজ হারাটা ভুলে গেছে। তারা হয়তো ভুলে গেছে ২০০৭ সালের ওই ম্যাচ টার কথা। ২০০৩ এর ফাইনালিস্ট ভারত রাঙ্কিং ১০ এ থাকা একটা টীমের কাছে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল। আর সে টীম টা ছিল বাংলাদেশ। এশিয়া কাপ ২০১২ এর ১৬ মার্চ এর ম্যাচটার কথা মনে আছে সৌরভ গাঙ্গুলি অথবা ভিরেন্দর শেবাগ এর??? বাংলাদেশের কাছে ৫ উইকেটে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বাইরে চলে গেছিল সে সময়ের হট ফেবারিট টীম ভারত। হ্যাঁ আমরা হেরেছি। অবশ্যই একটা পরাশক্তির কাছে হেরেছি। কিন্তু তারা যখন হেরেছিল? তখন বাংলাদেশ অবহেলিত টীম গুলোর মধ্যে একটা। আর এখনকার বাংলাদেশ টীম তো ইতিহাসের সেরা বাংলাদেশ একাদশের একটি। তবুও এত অপমান?

245395.jpg

আমরা খেলা এখন ও শিখছি। ১৭ বছর বয়সে আমারা নিশ্চই অভিমন্যু এর  থেকে ভালো জবাব দিয়েছি। বড় টুর্নামেন্ট এর সেমিফাইনালে গেছি। আমরা নিশ্চই গ্রুপ থেকে সেমিফাইনালের জন্য বাছাইকৃত ৪ টা টীমের ভিতর দুইটার একটি। অবহেলা টা আমাদের উপর মানায় না। ইংল্যান্ড এর সাথে ৩২৪ রান। অস্ট্রেলিয়ার সাথে বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে ১৮৪। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২৬৫ রান তারা করতে নেমে ৫ উইকেটের বিশাল জয়। কোথায় খারাপ খেলেছি আমরা?? তার পর ও এমন কটূক্তি।

আমাদের দেশের ক্রিকেট নিশ্চয় এখন অনেক ক্রান্তিকর একটা পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সিনিয়র প্লেয়ার রা অবসর নিচ্ছেন। নতুনদের নিয়ে দল সামলে মাশরাফির সেমিফাইনালে যাওয়া অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। নতুন রা অবশ্যই ভালো খেলছে আর আশা করা যায় তারা ভালো করবেও। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অভিজ্ঞতা তাদের সাহায্য করবে নিশ্চই অনেক ভাবে। তারা একসময় দেশের ক্রিকেট কে উজ্জ্বল করবে। আমাদের দেশেই আছে সাকিব আল হাসান। মাশরাফি তামিমের নাম জানেন না এমন ক্রিকেটপ্রেমী হয়তো খুব কম আছেন। নতুন দের মধ্যে মুস্তাফিজ, সাব্বির তাসকিন কে নিয়ে না বললেই নয়। ভালো করছে তারা। অভিজ্ঞতা নিচ্ছে নানান পরিস্থিতির। সময় দিতে হবে। তারা আমাদের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ হিসেবে যথেষ্ট।

264441.jpg

হয়তো দিন টি আর বেশি দূরে নয়। বাংলাদেশ তার ক্রিকেট দিয়ে ছড়িয়ে পরবে সারা বিশ্বের ক্রিকেট প্রেমীদের কাছে। স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ বাংলাদেশ নামের কম্পন উঠবে। লাল সবুজের পতাকাতে হবে গ্যালারির রঙ রঙ্গিত। সারা বিশ্ব একসাথে বলবে গো টাইগার, গো……।।

এডবাস্টনে ১৫ই জুনের সেমিফাইনালে কার কপালে জুটবে ফাইনালের টিকিটঃ বাংলাদেশ নাকি ভারত?

Now Reading
এডবাস্টনে ১৫ই জুনের সেমিফাইনালে কার কপালে জুটবে ফাইনালের টিকিটঃ বাংলাদেশ নাকি ভারত?

ক্রিকেট প্রেমীদের কাছে ক্রিকেট মানেই উন্মাদনা। বিশ্বকাপের পর আইসিসি এর দ্বিতীয় বড় টুর্নামেন্ট হল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। প্রতি চার বছর পর পর অনুষ্ঠিত এই আসরে এবার যোগ দিয়েছিল ক্রিকেট বিশ্বের সেরা আটটি দল। ১২ বছর পর প্রথম বারের মত ওয়েস্ট ইন্ডিজ কে পেছনে ফেলে সপ্তম দল হিসেবে জায়গা করে নেয় আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ এ। গ্রুপ পর্বের বাধা টপকে বাংলাদেশ পৌঁছে গেছে সেমিফাইনালে। সামনাসামনি ভারত। কি হবে পরিনতি? কে যাবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ এর ফাইনালে।

263793.jpg

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে গ্রুপ পর্বের খেলা প্রায় শেষ করে নক আউট পর্বের খেলা শুরু ১৪ জুন ২০১৭ থেকে। এর ভিতর নিজেদের স্থানকে সেমিতে করে নিয়েছে ইংল্যান্ড এবং ২ এশিয়ান টিম ভারত এবং বাংলাদেশ। বাংলাদেশ এবার প্রথমবারের মত আইসিসি আয়োজিত কোন বড় আসরের সেমিফাইনালে। এর আগে ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৫ এর কোয়াটার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই এশিয়ান টিম। ফলাফল টা বাংলাদেশী ক্রিকেট প্রেমীদের হতাশ করলেও এবার হয়তো আবার আশার মুখ দেখবে টাইগার সমর্থকরা।  সুযোগ টা বড় করে দেখে কঠোর পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাস দিয়ে বাংলাদেশ কি পারবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ এর ফাইনালে যেতে?

263808.jpg

১ লা জুন থেকে শুরু হওয়া চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ এর দুইটা গ্রুপ এ এবং বি  এর আটটি টিমের মধ্যে থেকে নিজেদের সেমিফাইনালে নিশ্চিত করা বাংলাদেশ ও ভারত যথাক্রমে গ্রুপ এ থেকে দ্বিতীয় সেমিগাইনালিস্ট হিসেবে এবং গ্রুপ বি থেকে ভারত প্রথম সেমিফাইনালিস্ট হিসেবে নিজেদের নাম লেখায়।

অপর সেমিফাইনালিস্ট এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ এর আয়োজক ইংল্যান্ড।এবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ এর সেমিফাইনালে দেখা যাবে ৩ এশিয়ান টীম কে। বাকি আছে গ্রুপ বি এর একটি খেলা। শ্রীলঙ্কা আর পাকিস্থান নিজেদের কে সেমিফাইনালে দেখার জন্য মাঠে নামবে আজ। ঠিক হবে ইংল্যান্ডের সাথে কে খেলবে ১৪ জুন ২০১৭ এর সেমিফাইনালে।

ভারত বাংলাদেশ ক্রিকেট যুদ্ধের শুরুটা বেশ পুরাতন। ১৯৮৮ সালের এশিয়া কাপ থেকে শুরু করে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ পর্যন্ত ভারত এবং বাংলাদেশ মোট ৩২ টা টুর্নামেন্টে একসাথে অংশগ্রহন করেছে। এবং এর ভিতর একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে নিজেদের মুখোমুখি হয়েছে ৩৩ বার। তৈরি হয়েছে অনেক রেকর্ড, আছে অনেক ইতিহাস। জেনে নেওয়া যাক ভারত আর বাংলাদেশের এই পর্যন্ত মুখোমুখি হওয়া ক্রিকেটের রেকর্ড গুলোঃ

Champions Trpophy Semi Final.jpg

টেস্ট রেকর্ডঃ

প্রথম মাচঃ

তারিখঃ নভেম্বর ১০-১৩, ২০০০।

ভেনুঃ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম।

ফলাফলঃ ভারত ৯  উইকেটে জয়ী।

 

টেস্ট সিরিজঃ  ৬ টি।

মোট টেস্ট মাচঃ ৯ টি।

ভারত  জয়ীঃ ৮ টি।

ড্রঃ ১ টি।

সর্বোচ্চটীম সংগ্রহঃ ৬৮৭ (ভারত ২০১৭ )

সর্বনিন্ম টীম সংগ্রহঃ ৯১(বাংলাদেশ ২০০০)

সর্বোচ্চজয়ঃ

  • ইনিংস হিসেবেঃ ১ ইনিংস এবং ২৩৯ রান (ভারত ২০১০)
  • রান হিসেবেঃ ২০৮ রান( ভারত ২০১৭)
  • উইকেট হিসেবেঃ ১০ উইকেট ( ভারত ২০১০)

সর্বোচ্চব্যক্তিগত রানঃ ৮২০ শচিন টেন্দুলকার ( ভারত ২০০০-২০১০)

  • সর্বোচ্চঃ ২৪৮*
  • ইনিংসঃ ৯ ।
  • মাচঃ ৭।

ভারতের হয়ে সর্বাধিক শতকঃ ৫ টি (শচিন টেন্দুলকার, ভারত)

বাংলাদেশের হয়ে সর্বাধিক শতকঃ  ২ টি (মুশফিকুর রহিম, বাংলাদেশ)

সর্বাধিক উইকেটঃ

  • বাংলাদেশের হয়েঃ ১৫ টি, সাকিব-আল-হাসান(বেষ্ট ৫/৬২)
  • ভারতের হয়েঃ ৩১ টি, জাহির খান(বেষ্ট ৭/৮৭)

 

একদিনের আন্তর্জাতিক মাচঃ

প্রথম মাচঃ

তারিখঃ ২৭ অক্টোবর ১৯৮৮।

ভেনুঃ চট্টগ্রাম।

ফলাফলঃ ভারত ৯ উইকেটে জয়ী।

 

একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ সিরিজঃ  ৩২ টি।

মোট একদিনের আন্তর্জাতিক মাচঃ ৩৩ টি।

ভারত  জয়ীঃ ২৫ টি।

ড্রঃ ২ টি।

বাংলাদেশ জয়ীঃ ৬ টি।

সর্বোচ্চটীম সংগ্রহঃ ৩৭০ (ভারত ২০১১)

সর্বনিন্ম টীম সংগ্রহঃ ৫৮(বাংলাদেশ ২০১৪)

সর্বোচ্চজয়ঃ

  • রান হিসেবেঃ ২০০ রান( ভারত ২০০৩)
  • উইকেট হিসেবেঃ ৯ উইকেট ( ভারত ১৯৮৮)

সর্বোচ্চব্যক্তিগত রানঃ ৫৯২, গৌতম গাম্ভির( ভারত ২০০৩-২০১২)

  • সর্বোচ্চঃ ১০৭*
  • ইনিংসঃ ১১ ।
  • মাচঃ ১১।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চরানঃ ৫১৭, মুশফিকুর রহিম(বাংলাদেশ ২০০৭-২০১৫)

  • সর্বোচ্চঃ ১১৭
  • ইনিংসঃ ১৭ ।
  • মাচঃ ১৮।

ভারতের হয়ে সর্বাধিক শতকঃ ৩ টি (বিরাট কোহলি, ভারত)

বাংলাদেশের হয়ে সর্বাধিক শতকঃ  ১ টি (অলোক কাপালি, বাংলাদেশ)

সর্বাধিক উইকেটঃ

  • বাংলাদেশের হয়েঃ ২০ টি, মাশরাফি মুর্তজা(বেষ্ট ৪/৩৮)
  • ভারতের হয়েঃ ১৬ টি, এ বি আগারকার(বেষ্ট ৩/১৮)

 

টি টুয়েন্টি ম্যাচঃ

প্রথম মাচঃ

তারিখঃ ৬ ই জুন ২০০৯।

ভেনুঃ নটিংহাম।

ফলাফলঃ ভারত ২৫ রানে জয়ী।

 

টি টুয়েন্টি সিরিজঃ  ৭ টি।

মোট টি টুয়েন্টি ম্যাচঃ ৫ টি।

ভারত  জয়ীঃ ৫ টি।

 

সর্বোচ্চটীম সংগ্রহঃ ১৮০ (ভারত ২০০৯)

সর্বনিন্ম টীম সংগ্রহঃ ১২১(বাংলাদেশ ২০১৬)

সর্বোচ্চজয়ঃ

  • রান হিসেবেঃ ৪৫ রান( ভারত ২০০১৬)
  • উইকেট হিসেবেঃ ৮ উইকেট ( ভারত ২০১৪)

সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানঃ ১৯৪, রোহিত শর্মা( ভারত ২০০৯-২০১৬)

  • সর্বোচ্চঃ ৮৩।
  • ইনিংসঃ ৫ ।
  • মাচঃ ৫।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চরানঃ ১০২, সাব্বির রহমান(বাংলাদেশ ২০১৬-)

  • সর্বোচ্চঃ ৪৪।
  • ইনিংসঃ ৩ ।
  • মাচঃ ৩।

সর্বাধিক উইকেটঃ

  • বাংলাদেশের হয়েঃ ৭ টি, আল-আমিন হোসেন(বেষ্ট ৩/৩৭)
  • ভারতের হয়েঃ ৬ টি, রবিচন্দন অশ্বিন(বেষ্ট ২/১৫)

5.jpg

২০১৫ সালের বিশ্বকাপের পর থেকে শুরু হয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভিন্ন পথ চলা। বিগত ২ বছরে বাংলাদেশ হারিয়েছে ক্রিকেটের নামিদামি সব পরাশক্তি কে। টানা ৫ টি সিরিজ জয়ে বাংলাদেশ নিঃসন্দেহে যে কোন ক্রিকেট টীমের উদ্বেগের কারন। বাংলাদেশ হারিয়েছে ভারত পাকিস্থান এবং দক্ষিন আফ্রিকার মত বাঘা টিমকে। নিউজিল্যান্ডকে প্রথমবারের মত বিদেশের মাটিতে হারিয়ে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ রাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ এখন ৬ এ। ২০১৬ সালে সর্বোচ্চ জেতার সমীকরণে সেরা ১০ এর দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে বাংলাদেশ কি পারবে সেমিফাইনালে ভারত কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে যেতে?

স্বপ্নের সেমিফাইনালে বাংলাদেশের মুখোমুখি ভারত: কে যাবে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ এর ফাইনালে?

Now Reading
স্বপ্নের সেমিফাইনালে বাংলাদেশের মুখোমুখি ভারত: কে যাবে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ এর ফাইনালে?

আইসিসি এর সদস্য হবার পর প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ প্রথমবারের মত মুখোমুখি হয় ভারতের। ফলাফল টা ভারতের পক্ষেই। ক্রিকেট জগতে ভারত নামক পরাশক্তির কাছে তখন বাংলাদেশ সবে জন্ম নেওয়া শিশু। হার জিত খেলাতে থাকবেই। আজকের জন্ম নেওয়া শিশু টাও হতে পারে কালকের ভবিষ্যৎ কুস্তি চ্যাম্পিয়ন। না আমরা কুস্তি তে চ্যাম্পিয়ন হতে হয়তোবা ভারতের সাথে লড়াই তে যাচ্ছি না, তবে সময় এখন আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির। আর বাতাস বলছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখ মুখি ভারত ও বাংলাদেশ। এডবাস্টোনের জুন ১৫, ২০১৭ এর ম্যাচটি বলে দিবে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে যাবার সৌভাগ্য জুটবে কার কপালে।  

unnamed.jpg

আন্তর্জাতিক একদিনের ম্যাচে বাংলাদেশ এখন একটি পূর্ণাঙ্গ শক্তির একটি দল। একথা ক্রিকেট দুনিয়া এককথায় স্বীকার করে নিবে। আইসিসি ওয়ার্ল্ডকাপের পর থেকে বাংলাদেশের ধারাবাহিক পারফরমেন্স অন্তত সেটাই বলে। ওয়ার্ল্ডকাপের পর থেকে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে প্রথমে পাকিস্থানের সাথে সিরিজ জয়, তারপর ভারতের সাথে এবং সব শেষে দক্ষিন আফ্রিকার সাথে সিরিজ জয় গুলো টাইগার দের উত্থানের একটা জোরালো হুঙ্কার দিচ্ছিল। তারপর একে একে জিম্বাবুয়ে এবং আফগানিস্থানের সাথে আরও দুইটি সিরিজ জয় বাংলাদেশ কে পর পর পাঁচটি সিরিজ জয়ের স্বর্গীয় স্বাদ এনে দেয়। এর পর শ্রীলঙ্কার মাটিতে অনুষ্ঠিত ৩ টি একদিনের ম্যাচ সিরিজ ড্র করার পর বাংলাদেশ নিঃসন্দেহে ক্রিকেটের যে কোন কাছেই মাথা বেথার কারন হয়ে গেছে। আয়ারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড এবং বাংলাদেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত ত্রি দেশিয় সিরিজে নিউজিল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ডের কাছ থেকে পাওয়া সহজ জয় দুইটা বাংলাদেশকে ওডিআই রাঙ্কিঙ্গে বাংলাদেশ কে প্রথমবারের মত ছয়ে এনে দেওয়ার সাথে সাথে আসন্ন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলার এক দারুন আত্মবিশ্বাস এনে দেয়। আর তার ফলাফল হিসাবে সমস্ত ক্রিকেট প্রেমিদেরকে অবাক করে দিয়ে বাংলাদেশ আইসিসি এর প্রথম কোন ইভেন্টে সেমিফাইনালে।

6.jpg

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ এর সপ্তম দল হিসাবে সুযোগ পাওয়া বাংলাদেশ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলল ১২ বছর পর। সেমিফাইনালের যাত্রা টা একেবারেই সহজ ছিল না টাইগারদের জন্য। মুখোমুখি হতে হয়েছে ক্রিকেটের নামি দামি সব পরাশক্তির। বাংলাদেশ জবাব ও দিয়েছে খুব শক্ত ভাবেই। বিগত ১২ বছরের কঠোর পরিশ্রমের দরুন বিধাতা হয়তো একটু  দয়াময় ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের উপর। ইংল্যান্ডের সাথে প্রথম ম্যাচে হেরে একটু ব্যাকফুটে চলে যায় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার সাথে ম্যাচ টাতে সহায় হয় বৃষ্টি। পয়েন্ট ভাগাভাগি। অস্ত্রেলিয়া তাদের প্রথম ম্যাচেও বৃষ্টির কারনে নিউজিল্যান্ডের সাথে নিজেদের পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নেয়। কিন্তু বাংলাদেশ তাদের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে খুব নিপুন ভাবে নিউজিল্যান্ড কে তাদের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির যাত্রা থামাতে সক্ষম হয়। তাকিয়ে থাকতে হয় অস্ট্রেলিয়া আর ইংল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচের উপর। কিন্তু ভাগ্য যে প্রসন্ন। অস্ট্রেলিয়া ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নিলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালের দ্বিতীয় দল হিসাবে বাংলাদেশ নাম লেখায়।

IMG-20170601-WA0025.jpg

অন্য দিকে গ্রুপ বি এর নানা সমীকরণের মধ্য দিয়ে প্রথম সেমিফাইনালিস্ট বর্তমান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির চ্যাম্পিয়ন্স ভারত। এজন্য নিয়ম অনুযায়ী ১৫ তারিখে বাংলাদেশের মুখোমুখি হচ্ছে ভারত। উদ্দেশ্য চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল। লড়াই টা দুইদলের জন্নই হাড্ডাহাড্ডি হতে যাচ্ছে। ক্রিকেট উন্মাদনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ভারত পাকিস্থানের ম্যাচ এর উন্মাদনা কমে আসার কারনে বর্তমান দিনে ভারত বাংলাদেশ ম্যাচ কে ঘিরে জন্ম নিচ্ছে হাজার ও পরিকল্পনা। বিগত ২-৩ বছর ধরে প্রেক্ষাপট অন্তত সেটাই বলছে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ভারত একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে মোট ৩৩ বার। যাহার সারমর্ম অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য সুখকর না হলেও শেষ ৫ টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ে ভারত বাংলাদেশের উভয়ের জয়ের সংখ্যা ২ টি করে। অন্যটির ফলাফল ভাগাভাগি। টাই সম্ভাবনার একটা দিক থেকেই যায় বাংলাদেশের জন্য। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপের মত এবার ও কি বাংলাদেশ ভারত কে হারিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় জানিয়ে দিবে? রচিত হবে কি ইতিহাস? দৃষ্টি ১৫ তারিখের ম্যাচে।

Semi-Final-2.jpg

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ওয়ার্ম আপ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দুই ফাইনালিস্ট। ভারত ব্যাটিং শক্তিকে একটু ঝালিয়ে নিতে এক পাহাড় সমান টার্গেট দেয় বাংলাদেশ কে। অধিনায়ক মাশরাফির অনুপস্থিতে সাকিব যেন আটকে রাখতেই পারছিলেন না ভারত কে। ব্যাটিং ফিল্ডিং এ অনবাদ্য পারফর্মেন্স এর সাথে ভয়ানক বোলিং। উমেশ যাদবের শুরুতে কথায় যেন বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন আপ ধসে পড়ে শেষ হই ৮৪ রানেই।

২০১৫ বিশ্বকাপের কথা হয়তো মনে থাকবে বাংলাদেশি ক্রিকেট সমর্থকদের। আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তে সেদিন ও কোটি বাঙ্গালির স্বপ্ন ভেংগেছিল। কলঙ্কিত ম্যাচটি লজ্জায় ফেলে দিয়েছিল পুর ক্রিকেট বিশ্বকে। কোয়াটার ফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয় বাংলাদেশ কে। তারপর টি টুয়েন্টি ওয়ার্ল্ড কাপের ৩ বলে দুই করতে না পারার আক্ষেপ। ভারতীয় ক্রিকেট সমর্থকদের উল্লাসের আরালে অনেকটা ঢাকা পড়ে যায় ভারত ক্রিকেট টিমের বাংলাদেশে এসে বাংলাদেশের বিপক্ষের ভরাদুবির কথা। দুইটা ম্যাচের জবাব দেবার সময় এসেছে আজ।  আর সাথে থাকছে ওয়ার্ম আপের ৮৪ রানের লজ্জা।

তামিম, সৌম্য, সাকিব মাহামুদুল্লাহরা কি পারবে ব্যাট হাতে ১৫ তারিখের ম্যাচটাতে জলে উঠতে?

মাশরাফি, মোস্তাফিজের বোলিং জাদুর সাক্ষি কি থাকবে ক্রিকেট দুনিয়া?

প্রতিশোধ নিতে পারবে কি বাংলাদেশ?

২০১৭ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল নিশ্চিত বাংলাদেশের: কে হবে প্রতিপক্ষ?

Now Reading
২০১৭ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল নিশ্চিত বাংলাদেশের: কে হবে প্রতিপক্ষ?

শুরু টা হয়েছিল ৩১ মার্চ, ১৯৮৬, পূর্ণশক্তিধর কোন ক্রিকেট টিমের বিপক্ষে হাটা শুরু হয় শক্তিতে  ছোট্ট টাইগারদের। মুখোমুখি পাকিস্থান। দিনটি নিয়ে হয়তো কোন টিমের মাথা বেথা না থাকলেও, এখন যেকোন শক্তিশালী টিমের ভয়ের কারন। ২০০০ সালে “আইসিসি” এর সদস্য হবার পর থেকে ১৩ নভেম্বরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারতের মুখ মুখি হওয়া থেকে ১লা জুন ২০১৭, দ্যা ওভালে আয়োজক ইংল্যান্ড এর মুখোমুখি হয়ে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ এর যাত্রা শুরু করার পথ টা অনেক সল্প সময়ের হলেও অর্জন ২০১৭ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল।  

2.jpg

“আগে যে কাঙ্গাল বেসামাল বাংলাদেশ ছিল, ও রাতারাতি মালামাল হয়ে গেল”- নোভোজিত সাধু (ভারত)। হা সত্যি তবে জবাব টা মাঠের হিসাব বলছে। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ এর দ্বিতীয় দল হিসাবে ইতিহাসে প্রথম বার বাংলাদেশ আইসিসি এর কোন ইভেন্টের সেমিফাইনালে। যেখানে গ্রুপ পর্বের খেলা তে ২ ম্যাচের একটা তে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে ভারত এখন সেমিফাইনাল এর পথে অনিশ্চিত। যেখানে যেতে হলে সেই দ্যা গ্রেট ওভালে মুখোমুখি হতে হবে এক ম্যাচ জিতে থাকা পরাক্রমশালী দক্ষিন আফ্রিকার। লড়াই টা সহজ হবে না হয়তো ভারতের জন্য।

গ্রুপ “বি” এর হিসাব টা এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে ১১ এবং ১২ জুন ২০১৭ এর ম্যাচ দুইটার উপর। প্রথম টাতে মুখোমুখি ভারত আর দক্ষিন আফ্রিকা। ওভালের ওই ম্যাচটা নির্ধারণ করবে কোন দলের ভাগ্যে লেখা হবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালের টিকিট।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী এবং চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্থানের মুখোমুখি হয় ভারত। বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচটার ফলাফল ভারত ১২৪ রানে জয়ী। অন্য দিকে ওভালে গ্রুপ বি এর প্রথম ম্যাচে দক্ষিন আফ্রিকার মুখোমুখি হয় শ্রীলঙ্কা।  হাশিম আম্লার ব্যাটিং নৈপুণ্য এবং ইমরান তাহিরের বোলিং এর উপর ভিত্তি করে সহজে ৯৯ রানের বিসাল জয় তুলে নেই দক্ষিন আফ্রিকা। তারপর থেকেই কেমন যেন এলোমেলো হয়ে যায় হিসাব টা। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিন আফ্রিকাকে যেন আমলে নিলোই না পাকিস্থান যাদের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে আসাটা ছিল অনেকটা অনিশ্চিত। অসাধারন বোলিঙে দক্ষিন আফ্রিকা কে থামতে হয় ২১৯ রানে। তবে বৃষ্টি হামলার কারনে পাকিস্থান ২৭ অভারে ১১৯ রান করে “ডি এল এস” পদ্ধতিতে ১৯ রানের জয় পায়। অন্য দিকে শ্রীলঙ্কার দায়িত্বশীল ব্যাটিং এর উপর ভর করে কোন মতেই টিক তে পারে না চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ খেলতে আসা হট ফেভারিট ভারত। ফলাফল শ্রীলঙ্কা ৭ উইকেটে জয়ী। ৪ ম্যাচ, ৪ টিম, জিতল সবাই ১ টা করে!

7621.JPG

অন্য দিকে গ্রুপ এ এর নিজেদের ৩ টা ম্যাচের ৩ টা তেই জয়ী ইংল্যান্ড। প্রথমে বাংলাদেশ, পরে নিউজিল্যান্ড, এবং গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে নিজেদের এবং আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ ইভেন্টের প্রথম দল হিসাবে নিজেদের কে তুলে ধরল ইংল্যান্ড। কিন্তু নিউজিল্যান্ড এবং অস্ত্রেলিয়ার দ্বিতীয় ম্যাচ থেকে বাধে বিপত্তি….. নিজেদের প্রথম ম্যাচে কিউইরা নিশ্চয় চেয়েছিল নিজেদের শক্তির প্রমান দিতে। ২৯১ রানের লক্ষে খেলতে নেমে ৫৩ রানেই ৩ উইকেট হারায় অজিরা। ভাগ্য ভাল কি খারাপ কে জানত? খেলা বৃষ্টি ভাসিয়ে দিল সাথে দুই দল ১ করে পয়েন্ট নিয়ে খুশি থাকল। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে কিউইরা সামনাসামনি হল ইংল্যান্ড এর। ফলাফল ইংল্যান্ড ৮৭ রানে জয়ী। কিউইদের সেমি ফাইনালের আশা অনেকটাই ফিকে হয়ে গেল। বাকি থাকল বাংলাদেশ আর অস্ত্রেলিয়ার লড়াই। অজিদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটা । দরকার জয়ের। কিন্তু বাধা বৃষ্টির। অবশ্য এটি হয়তো হবার ছিল। ওভালের ম্যাচটাতে বল হাতে নাস্তানাবুত করে ফেলে অজি বোলাররা মিস হয়ে যায় তামিমের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। রেকর্ড হয়ত হল না কিন্তু বৃষ্টি উপহার দিল ১ টি পয়েন্ট। অবস্থান ইংল্যান্ডের পয়েন্ট ৪, নিউজিল্যান্ডের ১, অস্ট্রেলিয়ার ২ আর বাংলাদেশের ১। খেলেছে ২ টা করে ম্যাচ ৪ টা দলই। বাকি আছে একটা করে ম্যাচ। জিত চাই সবারই।

জুন ০৯, ২০১৭ মুখোমুখি বাংলাদেশ এবং নিউজিল্যান্ড। তবে হিসাব টা আর ও আগের ২৪ মে ২০১৭, তারিখ টা হয়তো স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য। বিদেশের মাটিতে প্রথমবারের জন্য বাংলাদেশ হারায় নিউজিল্যান্ডকে। নিজেদের সেমিফাইনালে তোলার এবং প্রতিশোধ টা নেবার সুযোগ কিউইদের সামনে। কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনে নিজেদের শেষ ম্যাচে টসে জিতে হয়তো ভুল করে ফেলেছিলেন কেন উইলিয়ামসন। ব্যাট হাতে নিজেদের প্রমানও করেছিলেন কিউইরা। ২৬৫ রানের এক বিশাল লক্ষ বেঁধে দেওয়া হয় বাংলাদেশের সামনে। বাংলাদেশ যে সেমিফাইনালের স্বপ্ন দেখতে পারে এমন টা কে ভেবেছিল আগে?? কিন্তু ১৬ কোটি বাংলাদেশির সাথে হয়তো পৃথিবীর লাখো সমর্থক দের স্বপ্ন পুরনের নিজেদের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ব্যাট হাতে নেমেই ধাক্কা টা খায় বাংলাদেশ। ১১ ওভারের ৪ বলেই ব্যাট হাতে ফিরে যেতে হয় ৪ জনকে। দারুন ফর্মে থাকা তামিম ইকবাল দ্বিতীয় বলেই ফিরে যান। তার পর সাব্বির, সৌম্য আর মুশফিকও ধরেন সেই রাস্তা। স্বপ্ন টা ভেঙ্গে যাবার সঙ্কায় চোখে জল আশে নাই কার?

কিন্তু পথ তখনো অনেক বাকি। সাকিব আর মাহামুদুল্লাহ তখন ক্রিজে। আশার গাছ টাতে জল দেওয়া শুরু করলেন। নিজেদের সামলে দায়িত্ব টা তারা ভালই নিয়েছিলেন। করলেন রেকর্ড পার্টনারশিপ বাংলাদেশের জন্য। সাথে তুলে নিলেন নিজেদের শতক। তাইগার ফ্যানরা যেন তখন পাগল। আনন্দে। আনন্দ কেনই বা না! পুর ম্যাচে হাশ্তে থাকা নিউজিল্যান্ড কে ৫ উইকেটে হারিয়ে বাংলাদেশ সেমিফাইনালের যোগ্য অংশীদার। অবশ্য সামনে অস্ট্রেলিয়ার একটা মেচ ছিল। তাই আনন্দটাকে বুকে চেপে ধরেই চোখ রাখতে হল পরের দিনের ম্যাচটাতে। বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়া বা হার কোন একটার কাম্য। প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।

3.jpg

কিন্তু গ্রুপ এ এর শেষ ম্যাচে অস্ত্রেলিয়াকে যেন পাত্তাই দিল না ইংল্যান্ড।  অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং বোলিং দুই ডিপার্টমেন্টে হামলা মরগানদের। শিরোপা প্রত্যাশী ইংল্যান্ড অবশ্যই চেয়েছিলেন বিনা হারেই সেমিতে যেতে। আর হলও তাই। যদিও বৃষ্টি এসে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটিয়েছিল। কিন্তু ম্যাচের ভাগ্য লেখা হয়তো তার আগেই হয়েছিল। ডি এল এস পদ্ধতিতে ৪০ রানের বেবধানে হার অস্ট্রেলিয়ার। টাইগার সমর্থকরা আনন্দ আর কেন চেপে রাখবে???

বাংলাদেশ সেমিফাইনালে।

স্বপ্নের সেমিফাইনাল।

এখন শুধু প্রতিপক্ষ বাছার পালা।

ভারত?

শ্রীলঙ্কা?

পাকিস্থান?

দক্ষিন আফ্রিকা?

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ হিসাব-নিকাশ ও মাশরাফির বাংলাদেশ !

Now Reading
আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ হিসাব-নিকাশ ও মাশরাফির বাংলাদেশ !

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ হিসাবনিকাশ মাশরাফির বাংলাদেশ

আগামী ১ জুন থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম আসর আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭। বর্তমানে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির কাউন্টডাউন চলছে। এই আসরে অংশগ্রহণকারী সকল দল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দল ঘোষণা করলেও আইসিসির সঙ্গে সমস্যার কারণে দেরিতে দল ঘোষণা করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অষ্টম অাসর ২০১৭ সালের ১ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। আর জমজমাট এই অাসর অনুষ্ঠিত হবে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে। আইসিসির ওডিআই চ্যাম্পিয়নশীপের শীর্ষে থাকা আট দল দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা করবে।আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ তে মোট খেলা হবে ১৫ ম্যাচ আর এই অাসরের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে লন্ডনে ১৮ জুন। ২০০৪ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি বিজয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে থেলার সুযোগ নেই নির্দিষ্ট সময়সীমায় র‌্যাঙ্কিংয়ে ৯ নম্বরে থাকার কারণে।

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি প্রথম অনুষ্ঠিত হয়েছিল বাংলাদেশে ১৯৯৮ সালে। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আইসিসি নক- আউট প্রতিযোগিতা নামে অায়োজিত চূড়ান্ত খেলায় দক্ষিণ আফ্রিকা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পরাজিত করে শিরোপা লাভ করে। সর্বশেষ অায়োজিত আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে মাত্র ৫ রানে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল ভারত। সেরা খেলোয়ার নির্বাচিত হয়েছিলেন রবীন্দ্র জাদেজা।

এবার এক নজরে দেখে নেওয়া যাক বিগত মোট সাতবার অনুষ্ঠিত আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বিজয়ী ও রানার্স আপ দলসমূহ-

সাল  চ্যাম্পিয়ন রানার্স আপ স্বাগতিক দেশ
১৯৯৮ দক্ষিণ আফ্রিকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ বাংলাদেশ
২০০০ নিউজিল্যান্ড ভারত কেনিয়া
২০০২ ভারত/শ্রীলঙ্কা —- শ্রীলঙ্কা
২০০৪ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড
২০০৬ অস্ট্রেলিয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভারত
২০০৯ অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ড দক্ষিণ আফ্রিকা
২০১৩ ভারত ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড/ওয়েলস

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি রান করেছেন ক্রিস গেইল। ক্রিস গেইল মোট ১৭ ম্যাচ খেলে করেছেন ৭৯১ রান। কিন্তু এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের খেলার সুযোগ না থাকায় মাঠে দেখা যাবে না এই রান মেশিনকে।রানের দিক থেকে তার পরে আছেন কুমার সাঙ্গাকারা।

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী খেলোয়ারদের নাম ও মোট রান-

খেলোয়ারদের নাম মোট ম্যাচ মোট রান
ক্রিস গেইল ১৭ ৭৯১
কুমার সাঙ্গাকারা ২২ ৬৮৩
সৌরভ গাঙ্গুলী ১৩ ৬৬৫
জ্যাক ক্যালিস ১৭ ৬৫৩
রাহুল দ্রাবির ১৯ ৬২৭

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রহকারী খেলোয়ারদের নাম ও মোট উইকেট-

নাম মোট ম্যাচ মোট উইকেট
কাইল মিলস ১৫ ২৮
মুত্তিয়া মুরালিধরন ১৭ ২৪
ব্রেট লি ১৬ ২২
গ্লেন ম্যাকগ্রা ১২ ২১
লাসিথ মালিঙ্গা ১১ ২১

এবার দেখে নেওয়া যাক বাংলাদেশসহ অন্যান্য দলগুলো কে কোন গ্রুপে আছে- এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ আছে গ্রুপ- এ  তে-

গ্রুপ- এ
অস্ট্রেলিয়া
বাংলাদেশ
নিউজিল্যান্ড
ইংল্যান্ড

 

গ্রুপ-বি
ভারত
পাকিস্তান
দক্ষিণ আফ্রিকা
শ্রীলঙ্কা

নক-আউট পর্বে সবচেয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে ৪ জুন ভারত বনাম পাকিস্তান মধ্যকার হাই ভোল্টেজ ম্যাচে।

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দৌড়ে বাংলাদেশের হিসাবনিকাশ

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশ সর্বশেষ অংশগ্রহণ করেছিল ২০০৬ সালে।প্রায় ১১ বছর পর আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। অাসন্ন আসর উপলক্ষে আইসিসি  বিভিন্ন খেলোয়ারদের নিয়ে নিয়িমিত লিখছে তাদের ওয়েব পেজে।সম্প্রতি অংশগ্রহণকারী আট দলের তরুণ খেলোয়ারদের নিয়ে লিখছে আইসিসি। সেখানে তুলে ধরা হয়েছে টাইগার তরুণ পেসার মুস্তাফিজকে।আইসিসির মতে মুস্তাফিজও জ্বলে উঠবেন এবার, তার খেলা দেখার জন্য অপেক্ষা করছে ক্রিকেট বিশ্ব্। মুস্তাফিজ সম্পর্কে আর্টিকেলে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ একজন অসাধারণ পেসার দলে পেল যার কারণে যেকোন সময় ম্যাচের ভাগ্য ঘুরে যেতে পারে। এবারের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিবেন টইগার সফল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশ দলের খেলার সময়সূচি:

বাংলাদেশ বনাম ইংল্যান্ড               ১ জুন ২০১৭

বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড        ৫জুন ২০১৭

বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়া           ৯ জুন ২০১৭

গত বিশ্বকাপে কোয়ার্টার-ফাইনাল পর্যন্ত খেলার পর দেশের মাটিতে পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে টানা সিরিজ জয় করে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ তে জায়গা নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির  উদ্বোধনী ম্যাচেই ১ জুন বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশ সর্বশেষ খেলেছিল ২০০৬ সালে ভারতে।জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১০১ রানের জয় পেলেও শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে পরাজিত হয়েছিল।

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশের রয়েছে একটি রেকর্ড যা এখনো অক্ষত।সম্প্রতি আইসিসি তাদের টুইটার পেজে বাংলাদেশের তালহা জুবায়েররের রেকর্ডটি তুলে ধরেছে।বার্তায় বলা হয়েছে,  এখন পর্যন্ত আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সবচেয়ে কম বয়সী ক্রিকেটারের রেকর্ড তালহা জুবায়েররের দখলে রয়েছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শুভেচ্ছা দূত নির্বাচিত হয়েছেন। হাবিবুল বাশারের অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ সর্বশেষ ২০০৬ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশগ্রহণ করেছিল। তাছাড়া তিনি ২০০০, ২০০২ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলেছেন। শুভেচ্ছা দূত নির্বাচিত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় সুমন বলেন, এটি আমার জীবনে অন্যতম বড় প্রাপ্তি।তার মতে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করা আমাদের দেশের ক্রিকেটের জন্য একটি বড় অর্জন।২০০৬ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলেছিলেন টাইগার বর্তমান অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ও বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। বর্তমানে মাশরাফির অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ খুব ভালো খেলছে এবং চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভালো করবে বলে হাবিবুল বাশার মনে করেন। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশ  প্রস্তুতি ম্যাচে মুখোমুখি হবে পাকিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে। পাকিস্তানের সাথে ২৭ মে এবং ৩০ মে ভারতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে লড়াই করবে বাংলাদেশ।