অবিশ্বাস্য আকাশচুম্বী ইমারত

Now Reading
অবিশ্বাস্য আকাশচুম্বী ইমারত

আকাশকে ছোঁয়ার জন্য মানুষ কতো কি করেছে। আকাশ থেকে পৃথিবীকে দেখতে কেমন লাগে তা জানার অদম্য ইচ্ছা মানুষকে নিয়ে গেছে আজ বিশাল দূরে। এখন পৃথিবীর বুকেই তৈরি হচ্ছে আকাশ ছোঁয়া ইমারত। সেই ইমারতের উপর থেকেই মেঘের ভেতর দিয়ে পৃথিবীকে দেখতে কেমন লাগে তা অনুভব করা যায়। বর্তমানে সর্বোচ্চ উচ্চতার দালান “বুর্জ খলিফা” যার উচ্চতা প্রায় ৮৮৪মিটার দাঁড়িয়ে আছে আরব আমিরাতের বুকে। কিন্তু তাকে পাল্লা দিয়ে আরো উঁচু দালান তৈরি করার জন্য মানুষ উঠে পড়ে লেগেছে। আজ তুলে ধরবো ভবিষতে গড়তে যাওয়া বিশাল ইমারতগুলোর কথা যেখান থেকে পৃথিবী পৃষ্টকে সহজে দেখা যাবে না।Iconic_tower.png

আইকনিক টাওয়ারঃ
আইকনিক টাওয়ারটি হয়ত উচ্চতার দিক দিয়ে “বুর্জ খলিফাকে” ছড়াবে না কিন্তু বাংলাদেশীদের কাছে অবশ্যই আকাশ থেকে মাটিকে দেখার স্বাদ দিতে সাহায্য করবে। হ্যাঁ, ঠিকই পরেছেন। বাংলাদেশ হতে চলছে পৃথিবীর সুউচ্চ ভবনের অধিকারী। ৭৩৪ মিটারের একটি সুবিশাল ভবন ঢাকার পূর্বাচলে গড়ে তোলা হবে। এই টাওয়ারটি নির্মাণ করা হলে এটি দক্ষিন এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতার দালান হিসেবে প্রকাশ পাবে। উত্তর আমেরিকা ভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কেপিসি গ্রুপ যার মালিক বাংলাদেশী নাগরিক কালি প্রদ্বীপ চৌধুরী এই টাওয়ারটি তৈরি করছেন। এই টাওয়ারটি তিনটি টাওয়ারের সমন্বয়ে তৈরি করা হবে যা প্রধান একটি টাওয়ারকে ঘিরে দুটি টাওয়ার পাশে থাকবে। প্রধান টাওয়ারটির উচ্চতা হবে ১৪২ তলা এবং পাশের দুটি টাওয়ারের উচ্চতা হবে ৭১ তলা করে। এই টাওয়ারটি নির্মাণে প্রাথমিক খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। টাওয়ারটি নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যেই অনুমতি দিয়ে দিয়েছে এবং এই বছরেই এর নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে বলে কেপিসি গ্রুপ ঘোষণা করেছে। ধারণা করা হচ্ছে ২০২৫ সালের মধ্যেই এর নির্মাণ কাজ শেষ হবে।

স্কাই সিটিঃ
স্কাই সিটি নামে একটি সুবিশালভবন জাপানে খুব শীঘ্রই গড়ে তুলতে যাচ্ছে। ১০০০ মিটার বা ১ কিলোমিটার উচ্চতার দালানটি নির্মাণের জন্য নকশা করা হয় ১৯৮৯ সালে। ১৯৬ তলা উচ্চতার ভবনটি Takenaka Corporation নামে একটি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ এর জন্য ঘোষণা দিয়েছে। ভবনটি নির্মাণ করতে গেলে এর যা খরচ হবে তার ৯০% খরচ হবে এর জন্য জায়গা কিনতে কারণ জাপানে জায়গার দাম অনেক বেশি।80264da5-36e8-4ce0-8766-2df735b77cbe_16x9_788x442.jpg

জেদ্দা টাওয়ারঃ
পৃথিবীর প্রথম ভবন হিসেবে ১ কিলোমিটার উচ্চতা হওয়ার মাইলস্টোন গড়তে যাচ্ছে সৌদি আরবের এই জেদ্দা টাওয়ার। সৌদি প্রিন্স আল ওয়ালিদ বিন জালালের ইচ্ছা অনুযায়ী ১ মাইল উচ্চতার ভবন নির্মাণের জন্য এই টাওয়ার নির্মাণ করার কথা ছিল কিন্তু ভৌগোলিক কারণে জেদ্দা টাওয়ার ১মাইল উচ্চতার মাইলস্টোন পার হতে পারবে না। ২০১৩ সালে টাওয়ারটির নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে ২০১৯ সালের মধ্যেই এর নির্মাণ কাজ শেষ করা হবে। টাওয়ারটির নির্মাণ খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ১.২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যার সম্পূর্ণ অর্থই দিচ্ছেন প্রিন্স আল ওয়ালিদের কিংডম হোল্ডিং কোম্পানি।

দ্য ইলিয়নোসঃ
দ্য ইলিয়নোস ভবনটি বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্র আমেরিকা স্থাপন করতে যাচ্ছে। ১৬০৯ মিটার ( ১মাইল) উচ্চতার ভবনটি নির্মাণের জন্যে ফ্রাঙ্ক ললয়েড রাইট ( Frank Lloyd Wright) এর নকশা করেন। ৫৩৮ তলা ভবনটিতে প্রায় ১৫০০টি গাড়ি এবং ১৫ টি হেলিকপ্টার পার্ক করা যাবে।1.jpg

বায়োনিক টাওয়ারঃ
বায়োনিক টাওয়ার আদতে ভবন রূপী একটি শহর। চীনের সাংহাইতে প্রায় ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে ১ লাখ মানুষের বাসস্থান এর জন্যে এই টাওয়ারটি নির্মান করা হবে। ভবনটি প্রায় ১২২৮.২ মিটার উচ্চতার ৩০০ তলার একটি ভবন। এখানে চলাচলের জন্য ৩৬৮টি এলিভেটর থাকবে।large_thumbnail.jpg

দুবাই সিটি সেন্টারঃ
আরব আমিরাত “বুর্জ খলিফা” ভবন নির্মাণের পর আরেকটি সুবিশাল ভবন নির্মাণের ঘোষণা দেয়। ২০০৮ সালে বলেন, তারা দুবাই সিটি সেন্টার নামে প্রায় ২৪০০ মিটার উচ্চতার (যা আমেরিকার আম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং এর চেয়ে সাত গুন বেশি উচ্চতার ভবন) ভবন নির্মাণ করতে যাচ্ছে। এই ভবনের ভিতরে চলাচলের জন্যে ঘন্টায় ২০০ কিমি গতির ভার্টিক্যাল বুলেট ট্রেন ব্যবহার করা হবে। এই ভবনটির নির্মাণ কৌশল কিছুটা আইফেল টাওয়ার এর নির্মাণ কৌশল থেকে ধারণা নেয়া হয়েছে। দুবাই সিটি সেন্টার এমন ভাবে নির্মাণ করা হবে যেখান থেকে গড়ে ৩৭০০০ মেগা ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।ultima_1.jpg

আল্টিমা টাওয়ারঃ
আমেরিকার সান ফ্রান্সিসকোতে প্রায় ১ মিলিয়ন মানুষের বসবাসের জন্য ৬০০ তলা উচ্চতার ৩২১৮ মিটার ভবন নির্মাণের জন্য ১৯৯১ সালে আমেরিকান স্থাপত্য শিল্পী ইউজিন সুই (Eugene Tsui) একটি নকশা প্রদান করেন। এটি ১৮২৮.৮ মিটার বেসমেন্টের উপর গড়ে উঠবে। বর্তমান সময়ে এর নির্মাণ ব্যয় প্রায় ১৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই টাওয়ারটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই টাওয়ার এর ভেতরেই একটি ছোট ইকোসিস্টেম অরে তোলা হবে।XSeed4000BurjDubaiComparison.jpg

এক্স সিড টাওয়ারঃ
এক্স সিড টাওয়ার নকশা করা পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু ভবন। পৃথিবীর সবচেয়ে সুউচ্চ ভবনের উচ্চতা কতো হবে বলে আপনার ধারণা? এই টাওয়ার এর উচ্চতা প্রায় ৪০০০ মিটার বা ৪ কিলোমিটার যার চূড়ায় থেকে মাটিকে দেখতে চাইলে দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখতে হবে। ১৯৯৫ সালে জাপানের Taisei Corporation এই ভবনটির ডিজাইন করে। অনেক স্থপতিদের মতে এই টাওয়ারটি কোনদিনই তৈরি করা সম্ভব না। একে “is never meant to be built” এর তালিকায় তারা ফেলতে চান। এক্সসিড টাওয়ারটি প্রায় ৮০০ তলা সম্পন্ন যেখানে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বসবাস করতে পারবে। ২০১৭ সালে যদি এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় তা প্রায় ১.৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার যা বিল গেটসের সম্পদের দ্বিগুন। এটি জাপানের ফুকুশিমা আগ্নেয়গিরির আকৃতির মতো করে ডিজাইন করা হয়েছে।

এখন হয়তো আমাদের অনেকের কাছেই এইসব ভবনগুলো নির্মান করা অসম্ভব মনে হচ্ছে কিন্তু হয়তো কোনদিন ঠিকই এইসব সুউচ্চ ভবন বাস্তবে রূপ নিবে। কেননা একদিন অনেকের কাছে আকাশ ছোঁয়া অসম্ভব মনে হয়েছিল কিন্তু আজ আমরা আমাদের আকাশকে ছুঁয়ে পৌঁছে গেছি অনেক দূরে।