3
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

রহস্য গল্প: কেওক্রাডংয়ের দেশে। ভুতের আবার খুন!

Now Reading
রহস্য গল্প: কেওক্রাডংয়ের দেশে। ভুতের আবার খুন!

ছোটখাটো ছিমছাম হোটেল কাম কুঁড়ে ঘরটায় ঢুকেই অন্যরকম একটা ভালো লাগা কাজ করলো মনে। এয়ারকুলারের মৃদু শব্দটা ছাড়া চারপাশ চুপচুপে নিরব! ঠিক এমনটাই চেয়েছিলাম আমি।
সকালটা হবে নিরব আলোয় আলোকিত, সন্ধ্যেটা নামবে ঝিঁঝিঁর ডাকের সাথে তাল মিলিয়ে ঝুপ করে,টুপ করে ওঠে পড়বে মস্ত থালার মতো একটা চাঁদ!
একজন লেখকের জীবনে আর কি চাই?
ওহো! একটু ভুল হলো।
 সাগরিকা পাশে থাকলে মন্দ হতোনা অবশ্য। মৃদু বাতাসে ওর আঁচল উড়ে যেতো পতপত করে, আমি সেই শব্দে গল্পের লাইন খুজে বেড়াতাম নিরবে!
অফিসের চাপ সামলাতে সামলাতে মনটা আকুপাকু করছিলো গত কয়টা মাস। তিনদিনের ছুটি পেতেই তাই দৌড়ে পালালাম ঢাকা থেকে। পুরোটা রাত বাসে ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে সাত সকালে এসে পৌছুলাম বান্দরবান শহরে।
 তারপর সারাটা দিন চাঁন্দের গাড়ির লক্কর ঢক্কর সেরে বগা লেকের এই কুঁড়েতে এসে ঠাই নিয়ে তবেই শান্তি!
     দুদিন দুরাতের জন্য গুনতে হয়েছে হাজার খানেক টাকা! তাতে কি?
এমন প্রাকৃতিক শান্তির জন্য লাখ খানেক ঢালতেও আমার হাতে আটকাতো না।
ভরপেট খেয়ে অনেক দিন পর এমন নরম ঘুম দিলাম। বয়স কম তারপরও এই বয়সেই গ্যাস্ট্রিক বাঁধিয়ে বসেছি আমি, প্রতি রাতেই ব্যাথা ওঠে।
  তাইতো আমার বালিশের তলায় একপাতা করে সারজেল, রেনিটেড থাকাটা বিচিত্র কিছু নয় আজকাল। অথচ আজ রাতে ঘুমই ভাঙলোনা একবারের জন্যও!
এজন্যই বোধহয় ডাক্তাররা পথ্যের সাথে সাথে মানসিক ব্যাপারটায়ও জোর দেন!
খুব ভোরে গাইড নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম বগা লেকের পথে। ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা সাতটা। আজ একটু লেখালেখি করবো ভেবে জলদি শুয়ে পড়লাম।
মাঝ রাতে ঘুমটা ভেঙে গেলো!
বাইরে ক্রমাগত ঠুন ঠুন করে বিশ্রী একটা শব্দ হচ্ছে! এত রাতে এ কেমন বিরক্ত বাপু!!
ছিটকিনি খুলে বেরিয়ে এসেই থমকে গেলাম আমি।
আকাশে মস্ত একটা রূপালি থালা, চারদিকে যেনো স্বর্গীয় সোনালি আভা ছড়িয়ে আছে!
ঠুন ঠুন ঠুন..!
একটু থেমেছিলো,এখন বিরক্তিকর শব্দটা আবার শুরু হলো।
    “এমন সৌন্দর্য্য ফেলে কোন বেরসিক করছে এই কাজ?” চোখ কুঁচকে সামনে তাকালাম। সবই আলোকিত কিন্তু পরিষ্কার নয়। মোলায়েম চাঁদের আলোয় সবটুকু ঢাকা।
কুঁড়ে থেকে চাদরটা এনে গায়ে জড়িয়ে সামনে এগুলাম। শব্দটার কোন বিরামই নেই। হচ্ছেটা কি এত রাতে!
সামনে এগুলাম। আস্তে আস্তে তীব্রতর হচ্ছে শব্দটা।
   “ওইতো, একটা বড় জারুল গাছ দেখা যাচ্ছে।
ঠুন ঠুন ঠুন…..
শব্দের তালে তালে নড়ছে গাছটাও!”
“এত রাতে গাছ কাটছে! চোরাকারবারি নয়তো?”
      ভাবনাটা মাথায় আসতেই দমে গেলাম একটু। পাহাড়ি এলাকার এসব চোরাকারবারিরা খুব ডেঞ্জারাস হয় শুনেছি!
     “দেখে ফেললে আবার প্রমান লুকোবার জন্য খুনখারাবি করে ফেলবেনা তো!”
সাহস সঞ্চয় করে আর একটু এগুলাম। গাছের গোড়ায় মানুষের অবয়বটা এখন স্পষ্ট প্রায়। চিৎকার করে জিজ্ঞেস করলাম,
– “এই কে ওখানে অত রাতে? কি হচ্ছেটা কি এখানে!”
শব্দটা থেমে গেলো। ছায়া টা হাতের কুঠার চালানো থামিয়ে আমার দিক পেছন ফিরে এক হাত কোমরে রেখে সোজা হয়ে দাড়িয়েছে!
 আবারো চিৎকার দেবো কিনা ভাবছি, পেছনে পায়ের শব্দ পেয়ে সাই করে ঘুরলাম। আমার কুঁড়ের ম্যানেজার ঘুসং চাকমা হেটে আসছে দ্রুত।
-“ছ্যার! কি করছিন কি আপনি? এত রাতে বাইরি আসিছেন কেনো?”
জবাব দিতে যাবো এমন সময় পেছনে উত্তপ্ত ধমক শুনতে পেলাম! জারুল তলায় এখন দুজনের মানুষের আবছা ছায়া! “পাশের লোকটা কোথা দিয়ে এলো দেখলামনা তো!”
“এ্য গনশা, তুলি লে যা এরে এহানথুন। সূয্যি আওয়ার আগি ফিনিশ করি দে। বড় বেশি বারিছে।”
      আমার পাশ থেকে ঘুসং জোর গলায় বলে ওঠলো ওদের লক্ষ্য করে। বিড়বিড় করে ওদের নিজস্ব ভাষায় কিছু বললো,গালি দিলো সম্ভবত।
আমার দিকে তাকালো ম্যানেজার। দুহাত কঁচলাচ্ছে, মুখে তেলতেলে শীতল হাসি একটা!
– “ছ্যার এই শীতে বেশিক্ষন থাকতি নেইকো, যান ঘুমানগে, আর অন্ধকারে কি দিখতে কি দিখিলেন কারোক বলিয়েননা।”
         লোকটার চোখের দিকে তাকিয়ে কি যেনো ঝিলিক মেরে ওঠতে দেখলাম আমি। অজানা একটা ভয় ঢুকি ঢুকি করছে ভেতরে। লোকটা কি কিছু ইঙ্গিত করতে চাইলো? খারাপ কিছু কি ঘটতে চলেছে…..!
পেছনে চিৎকার শুনতে পেলাম তখনই। একজন অন্যজনকে মাটিতে চেপে ধরে রেখেছে!
      চাঁদের আলোয় স্পষ্ট ঝিলিক মারতে দেখলাম ওপর দিকে তোলা দুহাত লম্বা চাপাতি টা! এক হাতে দুহাত চেপে ধরে রেখে,চাপাতি সহ হাতটা ঝপ করে নিচে নামিয়ে আনলো লোকটা!!
    মুখ ফসকে চিৎকারটা বেরিয়ে এলো আমার। ছুটতে শুরু করলাম…
চিৎকার করতে করতে কোনদিকে যাচ্ছিলাম জানিনা, একটা কুঁড়ের দরজায় সজোরে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গিয়েই কুঁকড়ে গেলাম আমি। তারপর আর কিছুই মনে নেই।
সকালে ঘুম ভাঙতেই দেখি মস্তবড় একটা জাদরেল চেহারা ঝুকে আছে আমার উপর! গায়ে পুলিশের পোশাক!
বুকের একপাশে লিখা, ক্যাপ্টেন ইয়ান চাকমা!
আমাকে চোখ খুলতে দেখেই লোকটা কথা বলে ওঠলো,
– মশায় তো তাজ্জব করে দিলেন! তিন বছর আগের খুনিকে ধরিয়ে দিলেন,তাও সজ্ঞানে না অজ্ঞানে! কি করে করলেন বলুনতো?
সিআইডির কোন ডিপার্টমেন্টে আছেন?”
অবাক আমি চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছি। কি বলছে কিছুই বুঝতে পারছিনা!
আশপাশের অনেকজনের কথা থেকে যা বুঝলাম,
   “প্রায় তিন বছর আগে ঘুরতে এসে এক পর্যটক আততায়ীর হাতে খুন হয়। অনেক খুজেও পুলিশ কোনো হদিস করতে পারেনি। গত রাতে চিৎকার করতে করতে আমি পাশের পুলিশ ক্যাম্পে ঢুকে পড়েছিলাম।
বার বার করে খুন, ঘুসং, গনশা আরো কি কি নাকি বলছিলাম!
তা থেকেই ম্যানেজারকে জিজ্ঞেস করতে গিয়ে নতুন করে পুলিশের সন্দেহ হয়।
খানিক জেরা করতেই ঘুসং হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে! গত তিন বছর ধরে অজানা এক ঠুন ঠুন শব্দে লোকটার নার্ভ নাকি এমনিতেই শেষ! সে এসব থেকে মুক্তি চায়!
কিন্তু রহস্যের ব্যাপার হলো, ওর হাট ভাড়া নেয়া বাদে আমাদের আর কথাই হয়নি,তাছাড়া ঘুসং হলফ করে বলেছে গত রাতে সে বাইরে বের ই নাকি হয়নি! আমি তবে এত কিছু কি করে বললাম?
পরদিনই তল্পতল্পা গুটিয়ে প্রায় ভুতে তাড়া খাওয়া মানুষের মতো ঢাকায় পালিয়ে এলাম।
রহস্যটা রহস্যই রয়ে গেলো আমার কাছে!
থাকুক, ওটা নিয়ে আর ভাবতেও চাইনা আমি।
প্রকৃতি রহস্যময়।
সে তার চারপাশে ঘটনা ঘটায়,
 আবার অদৃশ্য একটা চাদরে তা জড়িয়ে রাখে!
 আমরা তো নগন্য সন্তান তার। প্রকৃতি নিজে না চাইলে প্রকৃতির রহস্য উদঘাটন যে নগন্য মানুষের সাধ্যের বাইরে!

আমি আর বাবা

Now Reading
আমি আর বাবা

এই গল্পটা একান্তভাবেই আমার নিজের। কারো বিশ্বাস অবিশ্বাসে কিছুই করার নেই। গল্পের পুরোটাই আমার বাবাকে ঘিরে।
আমার বাবা জমাদার খায়রুল হক মুন্সী।
 সেই ৪৭’এর ভাঙনের সময় তার বাবা আহসান হক মুন্সীর হাত ধরে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। প্রায় মাস তিনেক এ জেলা ও জেলা ঘুরাঘুরি করে শেষে পুরান ঢাকার লক্ষীবাজারের এই জায়গাটায় এসে তারা স্থির হোন। ভারতে তাদের বিশাল জমিজমা বিক্রি করে অর্থকরি এনে বসত ভিটে গড়ে তুলেন এই এখানেই।
বাবা বড় হলেন, বিয়ে থা করলেন। আমার জন্মের ঠিক তিন মাস আগে দাদা পরলোক গমন করেন।
এদেশে এসেও দাদা বিরাট কারবার পেতে বসেছিলেন। হুট করে সব পড়লো বাবার ঘাড়ে! বাবাও বেশ পাক্কা ব্যাবসায়ীর মতো দাদার কাজ বুঝে নিলেন অল্প দিনেই।
সারাদিন বাবার দেখা পেতামনা। খুব মন খারাপ লাগতো। মেয়েরা এমনিতেও বেশ বাবা ভক্ত হয়। আমিও তেমন। কেও কেও আবার রসিকতা করতো, বলতো,
 “বাব্বাহ!
এমন দহরম মহরম আর দেখিনি! বাবা ভক্ত মেয়ে নাকি মেয়ে ভক্ত বাবা!!”
আস্তে আস্তে বড় হচ্ছি। স্কুল পেরিয়ে কলেজ, কলেজ পেরিয়ে ভার্সিটি। বাবা মেয়ের মধুর সম্পর্ক ঠিক ছোট্ট বেলার মতোই আছে আমাদের।
ভার্সিটির তৃতীয় বছরে নতুন একজন কে জীবনে স্থান দিলাম। ছেলেটির নাম শিহাব! এত সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলে আর এত কেয়ারিং ঠিক যেনো বাবার মতোই!
কথায় বলেনা? মেয়েরা ছেলে পছন্দ পছন্দ করে বাবার সাথে মিল দেখে। আমিও তাই করেছিলাম।
একদিন বাবার সাথে ওকে কথা বলিয়ে দিলাম, মূহুর্ত বাদেই দুজনের বেশ জমে গেলো!
পরের বছরই বাবা আমাকে বিয়ে দিয়ে দিলেন। শিহাবের সাথে। নতুন সংসার, নতুন বাড়ি। তারপরও বাবার সাথে আমার দূরত্ব এতটুকুন কমলো না। পাশাপাশি মহল্লায় থাকি, বাবা রোজ সকাল-বিকাল দুবেলা করে আমার শ্বশুর বাড়ির সামনে দিয়ে হেটে যায়। কখনো ভেতরে আসে কখনো বা হাটতে হাটতে ফোনে কল দেয়!
বছর ঘুরতেই আমাদের একটা ফুটফুটে মেয়ে এলো। বাবা দেখতে এলো ওকে, গুলুমুলো বাবুটার নাম রাখলো বাবা নাফিসা। ডাকনাম দিলাম আমরা সুমো।
দিন যাচ্ছে আমাদের। এক রাতে ঘুম আসছেনা, শুয়ে এপাশ ওপাশ ছটফট করছি কেবল।
হটাৎ মনে হলো বাবা যেনো রাস্তা থেকে ডাক দিলো! রাত তখন দুটো বেজে দশ।
এত রাতে কেও নেই রাস্তায়।
-ঘুম আসছেনা তো, অস্থির মনে এসব হ্যালুসিনেশন হয় ই। ঘুমিয়ে পড়ো।”
     শিহাবের কথা ই মেনে নিলাম। অনেক চেষ্টার পর ঘুমালাম।
সাত সকালে মা’র ফোন এলো। বাবা হার্ট এ্যাটাক করেছেন। পাগলের মতো ছুটে গেলাম হসপিটালে। ততক্ষনে ময়নাতদন্ত শেষ, মেজর হার্ট এ্যাটাক।
মৃত্যুর সময় রাত দুটা থেকে আড়াইটার ভেতর!
বাবার হঠাৎ এমন চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছিলাম না কিছুতেই।
রাতে ঘুম আসেনা সহজে, খাওয়ায় রূচি নেই, এমনকি সুমোর যত্নও করছিলামনা ঠিকভাবে। এর মাঝেই একদিন ব্যাপারটা খেয়াল করলাম। বিকেলে সিড়ির পাশের ছাদে সুমোকে  মাদুর বিছিয়ে বসে আছি, হঠাৎ দেখি ছাদের কার্নিসটার দিকে তাকিয়ে সুমো খিলখিল করে হাসছো!
অবাক হয়ে গেলাম। ওদিকটাতে কিচ্ছু নেই সুমো তবে হাসছে কেনো!
প্রায়দিনই সুমো এমন করছে। কখনো শুয়ে থেকে জানলার দিকে তাকিয়ে খিলখিল করে হাসছে আবার কখনোবা হামাগুড়ি দিয়ে অদৃশ্য কিসের পেছনে যেনো ছুটে বেড়ায় আর হাসে!
আমি কাওকেই দেখতে পাইনা, কিন্তু অনুভব করতে পারি বাবা আমাদের দেখছে! খুব কাছেই যেনো আছে, কানের পাশে গরম নিঃশ্বাস পাই যেনো আমি কখনো কখনো!
শিহাবকে বলবো বলবো ভেবেও বলিনা কিছু। এসব বিশ্বাস করানো কঠিন।
বাবা মারা যাওয়ার পর আস্তে আস্তে আবার সবাই যার যার কাজে মন দিয়েছি। সুমোও বড় হচ্ছে। প্রায় তিন মাসের মাথায় একদিন বাবাকে স্বপ্ন দেখলাম। হাত ইশারা করে দূরে কাকে যেনো দেখাচ্ছে! অস্পষ্ট চেহারা কাছে যেতে স্পষ্ট হলো, শিহাব! হঠাৎ দুম করে ও যেনো পড়ে গেলো নিচে! আমি চিৎকার করে জেগে ওঠলাম।
সে রাতে আর ঘুমোতে পারিনি। সারা রাত শিহাবকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে রইলাম আমি। কেনো যেনো ওকে নিয়ে ভয় ভয় লাগছিলো!
পরদিন ওঠে নাস্তা রেডী করছি। শিহাব গোসল করে কাপড় নেড়ে দিচ্ছে বারান্দায়।  আমার শ্বশুর বাড়িটা একটু পুরনো ধাঁচের। লম্বা বারান্দা দুপাশে, মাঝখানে থাকার ঘরগুলো সারি করে দেয়া।
আমি যে ঘরে নাস্তা দিচ্ছি তারই ঝুল বারান্দায় কাপড় দিচ্ছে শিহাব। হঠাৎ ওকে টলে ওঠতে দেখে কেমন করে ওঠলো আমার ভেতরটা! পুরনো ঝুল বারান্দার রেলিং শিহাবের ভর রাখতে পারছেনা, ভেঙে পড়ে যাচ্ছে ওটা!
চিৎকার করে দৌড়ে গেলাম আমি, শিহাবও কোনোমতে সামলে নিয়ে পিলার ধরে ওঠে এলো ভেতরে। জড়িয়ে ধরলাম ওকে। স্বপ্নটার কথা তখনি মনে পড়ে গেলো,
    “বাবা কি সাবধান করে দিতে এসেছিলো আমাকে? জানে তো শিহাব,সুমো দুজনের একজনকে ছাড়াও আমি থাকতে পারবোনা!”
রাতে শিহাবকে বলেছিলাম স্বপ্নের কথাটা। বিশ্বাস করেনি, অবশ্য মুখের উপর হাসেওনি, ভদ্র ছেলে তো। আমাকে ইনসাল্ট করতে চায়নি। আমিও আর জোর করে বিশ্বাস করাতে চাইলামনা।
দু মাস ভালোয় ভালোয় গেলো। এক বিকেলে হালকা চোখটা লেগে এসেছে, বাবাকে আবার দেখলাম!
ভয়ানক স্বপ্ন। দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে তার মাঝখানে আমাদের ছোট্ট সুমো চিৎকার করছে দু হাত বাড়িয়ে! বাবা দূরে দাড়িয়ে চোখের জল ফেলছেন নিরবে।
ঝট করে ঘুম ভেঙে সটান ওঠে বসলাম। চটপট একটা ব্যাগে আমার আর সুমোর কাপড় গুছিয়ে নিয়ে বেরিয়ে এলাম রাস্তায়। সিএনজি নিয়ে রওনা দেয়ার আগে ভাবলাম দোতলায় আমার শ্বাশুরিকে একবার বলে আসি,তারপর ভাবলাম না থাক। এভাবে হুট করে বেরুতে দেবেনা কেও, কিন্তি আমার তো আর এক মিনিটও এবাড়িতে থাকা চলবেনা। আমার মেয়ের যে বড্ড বিপদ! বললেও কেও বিশ্বাস করবেনা আমায়।
সিএনজি নিয়ে মা’র ওখানে যাচ্ছি। পথে শিহাবকে কল দিয়ে বললাম,
“মাকে দেখতে যাচ্ছি। তুমিও অফিস থেকে চলে এসো কিন্তু।”
ও অবাক হলো একটু, কিছু বললো না।
হঠাৎ এমন করে আসতে দেখে মাও অবাক। খুশিও হলো। খুশির চোটে তক্ষুনি বাজারে ছুটলো, নাতনী কে আজ চিংড়ি খাওয়াবে মা!
বাড়িতে আমি আর সুমো। দুতলায় বাবার ঘরটায় এলাম। কিছুই সরানো হয়নি, বাবা থাকতে যেমন ছিলো তেমনি সব সাজানো! মাও কি আমার মতো বাবাকে অনুভব করে?
সুমো বিছানায় বসে খেলছে। নিচের ঘরে এলাম ওর গোছলের জামা আনার জন্য,এমন সময়ই বাড়ি কাঁপিয়ে বিষ্ফোরনের শব্দ হলো! মা বার বার করে বলে গিয়েছিলো “চুলায় দুধ বসিয়ে যাচ্ছি দেখিস।”
 সিলিন্ডারটার জয়েন্টে একটু লিক হয়ে ছিলো দুধের বলক এসে পড়ে গিয়েছে।
ওখান থেকেই গরম বাড়তে বাড়তে বিষ্ফোরন।
সুমো!
আমার ছোট্ট মেয়েটা  দুই তলায় বসে আছে। আগুন কাঠের দরজা পুড়িয়ে সিড়ির দিকে ছুটছে দ্রুত! হাঁচড়ে পাঁচড়ে সিড়ি দিয়ে ওঠার চেষ্টা করলাম। ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে আসছে, অর্ধেক ওঠতেই মুখ থুবড়ে পড়ে গেলাম।
মুখে ঠান্ডা পানির ঝাপটায় চোখ খুলে দেখি সামনে অনেক মানুষ!
মা, আমার শ্বাশুরী,শিহাব আর ওর কোলে আমার সুমো!
জানলা দিয়ে তাকিয়ে দেখলাম এখনো হালকা ধোঁয়া ওঠছে। সব পুড়ে ছাঁই।
মা বললেন, কিছুই আর থাকলোনা রে। তোর বাবার ঘরটায় ঢুকেছিলাম একটা কিচ্ছু বাকি নেই সব পুড়া কাঠের গুলো হয়ে গেছে।”
কেনো জানিনা হাউমাউ করে কান্না বেরিয়ে এলো আমার। বাবা মারা যেতেও বোধহয় এত কান্না আসেনি যতটা না বাবার ঘরটা পুড়ে গেছে শুনে কাঁদলাম!
বাবা মারা যাওয়ার আগে ইনসিওরেন্স করিয়ে রেখেছিলেন। বাড়িটার সব ক্ষয়ক্ষতি ওরাই সারিয়ে দেবে।
আমি শ্বশুর বাড়িতে ফিরে এলাম। অদৃশ্য কারো অস্তিত্ব আর অনুভব করছিনা। সেদিনের আগুনে সব কিছুর সাথে বাবার প্রেতাত্মাটাও কি পুড়ে গিয়েছিলো??
জানিনা! শুধু জানি বাবা আমাকে প্রচন্ড ভালোবাসতো, আর আমিও!

খুন!

Now Reading
খুন!

চোখ খুলার পরেও রহমতের মনে হলো এখনো চোখ বুজেই আছে সে!

চারপাশ থেকে একটা কাঁথা শক্ত করে জড়ানো গায়ে। একদমই নড়াচড়া করতে পারছেনা। মনে মনে বেশ ভয় ভয় লাগছে তার।

-মাগ্গো! এ কেমুন আন্ধাইর দুনিয়া!

মনে মনে নিজেকে সাহস দেয়ার চেষ্টায় স্মৃতি ঘাটাঘাটি শুরু করলো রহমত।
– আইচ্ছা অখন রাইত না দিন? কাইলকা যেন্ কই আসলাম এমুন সময়?

পুরনো স্মৃতি সব অন্ধকারে তলিয়ে আছে রহমতের। বর্তমানের ভয় ভুলার জন্য অতীত ভাবতে গিয়ে আরো গহীন আঁধারে ডুবে গেলো রহমত। সেই সাথে নতুন করে ভয়টা আবার জেঁকে ধরলো! চিৎকার করার চেষ্টা করেও পারলোনা, গলা শুকিয়ে কাঠ, কেমন চাঁমচিকার মতো চিঁ চিঁ শব্দ বের হলো একটা!

নড়াচড়ার চেষ্টা করেও সুবিধে হলোনা, কাঁথা দিয়ে মুড়ানো নয় একদম যেনো কেও কষে বেঁধে রেখেছে রহমতকে!

সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতেই মনে পড়ে গেলো মাঝ রাতে কি করে এসেছে সে। ছবির মাঝির নৌকাটা ডুবিয়ে এসেছে মাঝ পদ্মায়, গলুইয়ে কষে বাঁধা ছিলো ছবির মাঝি। ঠিক তার নিজের মতই!
ডুবে যাওয়ার আগ মূহুর্তে একবার ছবির মাঝির দিকে তাকিয়েছিলো রহমত, আতঙ্কে চোখ দুটো কোটর ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলো, মুখে টু শব্দটি নেই! ছই এর দড়ি টা মুখে গুজে দিয়ে রেখেছিলো যে আগেই!

ছবির মাঝির ঐ আতঙ্ক নিজের মনেও আবিষ্কার করলো রহমত।
হাত-পা মোড়ানো!
মুখে শব্দ নেই!
চারদিন আন্ধার!!
একটু ক্ষন বাদেই সেও মাঝির মতোই…….

ভাবনাটা মাথায় আসতেই ঝটকা দিয়ে ওঠে বসলো রহমত।

-আল্লার দোহাই লাগে ছবিরা, আমারেও লগে নিছ না! এই জীবনে আর খুনখারাবি করুম না। বান্ধন ছাইরা দে আমারে!

চিৎকার করতে করতে চোখ মেলতেই থমকে গেলো রহমত। পিট পিট করে তাকালো ওর ওপর হুমড়ি খেয়ে থাকা মুখগুলোর দিকে!

জোয়ার্দার কষাই পানের পিক ফেলে বললো,
-লও মিয়া, ওইট্যা হাডা দেও,,ওসি সাব হেই কহন থিক্যা বইয়া রইছে ইস্টিটমিন্ট না কিয়ে জানি খত লওনের লিগ্গা।
মারছো বালা কতা, নিজে লিগ্গা আলেদা একখান নাও লইয়া যাইবানা বলদা?

জোয়ার্দারের কথা শুনে সবাই হ্যা হ্যা করে হেসে ওঠলো। এ যেনো আস্ত একটা রসিকতা হলো!

আস্তে করে ওঠে বসলো রহমত। ওসি সাহেবকে খুজে পেয়ে ওদিকে হাটা দিলো। পেছন থেকে পানের পিক ফেলে কষাই জোয়ার্দার রসিকতার ছলে বলে ওঠলো আবার,

-“কি মিয়া এই যাত্রায় কি শিখলা?”

– “কষাই হারাজীবন কষাই ই থাহে।
এর কতায় বালা মাইনষেরে না মাইরা এরেই মারন লাগবো। আর তহন নিজের বাঁচনের নাও কিনোনের ট্যাহাডাও কষাইয়েত্তেই নিয়াা রাহন লাগবো আগেই।”

রহমত আর দাড়ালোনা,

যা বলার বলে এসেছে, এখন নিজের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত তো নিজেকেই করতে হবে!

 

 

রাত্রি অন্ধকার!

Now Reading
রাত্রি অন্ধকার!

বাসটা শেষ স্টপেজে এসে থামতেই ঝপ করে বাম পা টা দিয়ে রাস্তায় নেমে এলো প্রদোষ। লক্ষীবাজারের এই আধো ছায়া আধো হলদে আলোর রাস্তাটায় একা একা উদ্দ্যেশ্যহীনভাবে হাটতে বেশ ভালোই লাগছে তার।

“ভালোই হলো এভাবে বের হয়ে এসে। অন্তত সকাল-বিকাল কানের কাছে ঘ্যানর ঘ্যানর করার মতো তো কেও থাকলোনা আর।” হাটতে হাটতে এসব সাত-পাঁচ ভাবছে প্রদোষ।

প্রদোষ বর্মন। নতুন মার সাথে এক ছাদের নিচে ছাব্বিশ বছর কাটিয়েও যার অভ্যেস করতে পারলোনা। কটাক্ষ করে নতুন মা আর প্রদোষের ঝগরা হয় বাবার সাথে!

সৎ মা মাত্রই নির্দোষ অথচ ঝগরাটে হবে!” সম্ভবত পুরো দেশটার শিকড়-বাকরের সাথেই এমন বিদঘুটে ব্যাপারটা আষ্টেপৃষ্টে জমে গেছে। প্রদোষের আর কি বলার থাকে, যেখানে নতুন মাও নিজেকে নির্দোষ দাবী করে এসেছেন সবসময়!

হাটতে হাটতে হুশ হলো সামনে প্রাচীরের বাঁধা পেয়ে। আহসান মঞ্জিল! এতদূর হেটে চলে এসেছি আমি! অবাক হয়ে ভাবলো প্রদোষ। চাঁদনী আলোয় প্রকান্ড আহসান মঞ্জিল অপূর্ব ঝিলিক দিচ্ছে। অপরূপ সৌন্দর্য্য! হা করে তাকিয়ে আছে প্রদোষ। হঠাৎ দেখে মঞ্জিলের গেইট খুলে কে যেনো বেরিয়ে এলো।

– “হ্যা ভাই এই ঘুটঘুটে অাঁধারে পথ-ঘাট কিছুই চিনতে পারছিনে! সদরঘাট যাওয়ার রাস্তা খানা কোথা বলোতো বাপু?” মূর্তিটার ভরাট পুরুষ কন্ঠ গমগম করে প্রশ্ন করলো প্রদোষের কাছে এসে।

– এত রাতে! আপনি আসলেন কোথা থেকে!

– “এই গিয়েছিলুম একটু ওইদিক হাটতে, হঠাৎ পথ হারিয়ে ফেললুম। এত জঙলা গাছ ছাঁটেনা কেনো ওরা বুঝিনাহ!” খেদ ঝরে পড়লো যেনো।
– তা ভাই সদরঘাট দেখিয়ে দাও, আমায় আবার ভোরের আগেই শীপ ধরতে হবেনে।”

-জ্বী! এত রাতে তো বাস পাবেননা। বড় রাস্তার মোড়ে গিয়ে সিএনজি পান কিনা দেখুন। তা নাহলে রাতটা কোনো আত্মীয়ের বাসায় কাটিয়ে সকালে নাহয়….
-বড় রাস্তা কোনদিক গ্যালে পাবোনে বাপু? প্রদোষ কথা শেষ করার আগেই লোকটা ধমকে ওঠলো প্রায়।

অবাক প্রদোষ হাত ইশারায় দিক দেখিয়ে দিতেই ধুতিটা তুলে নিয়ে হনহন করে ওদিকে চললো।
-অকৃতজ্ঞ একটা, ধন্যবাদ দিতেও শিখেনি!

মোড় ঘুরতেই চোখের আড়ালে চলে গেলো লোকটা। প্রদোষও একটা শ্বাস ফেললো। জায়গাটা আবারো স্তব্ধ হয়ে গেলো!
মঞ্জিলের গেইটের পাশেই দারোয়ানের একটা টুল।

-ব্যাটা হয়তো আশেপাশেই কোথাও আছে, এই ফাঁকে একটু বসে নেই।আসলে নাহয় গল্পে গল্পে রাতটা পার করা যাবে।”

বসে সারাদিনের কীর্তি কাহিনী সব মনে পড়ে গেলো একে একে। বাবার হুংকার,নতুন মার মায়াকান্না,প্রতিবেশীর ওঁকিঝুকি মারা সঅঅব!
কখন ঘুমিয়ে পড়েছে জানেনা প্রদোষ। ঝাকুনিতে ঘুম ভেঙে দেখে এক লোক সামনে দাড়িয়ে।

-কি মিয়া বাই, সাত সক্কালে ঘুরতে আইয়া পরছেন। দশটার আগে ত খুলবোনা! লাল দাঁতগুলো বের করে অকারন হাসলো লোকটা।

প্রদোষ বিরক্ত হলো একটু।
-আমি ঘুরতে আসি না ঘুমাতে আসি তোর কি শালা! মনে মনে লোকটার পিন্ডি চটকাতে চটকাতে প্রাচীরের গেইটের সামনে চলে এলো প্রদোষ।

প্রবেশ মূল্য ২০ টাকা। সাত বছরের নিচের বাচ্চাদের ফ্রী। শনিবারে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রবেশ বিনামূল্যে।
বাহ! ভালোই তো!

দশটা বাজতেই টিকিটঘরের ঝাপি খুললো। দলে দলে দর্শনার্থী আসছে। প্রদোষও একটা টিকিট কেটে ঢুকে পরলো তাদের সাথে। ঘুরে ঘুরে দেখলো এক তলা দো তলা। তিন তলায় এসে প্রথম তৈলচিত্রটার সামনে থমকে দাড়ালো।

-ছবিটা কেমন চেনা চেনা লাগছে!
একই গোঁফ,একই পাতলা চুল,একই গোলগাল মুখ,একই রাগী চোখ! পড়নের ধূতিটা ও সেই রকমই লাগছে!

চোখ কঁচলে নিয়ে নিচের নামটা পড়লো প্রদোষ।
– “নওয়াব স্যার খাজা আহসানউল্লাহ। বাংলার চতূর্থ নবাব!

– “এও কি কোনোভাবে সম্ভব? ভেবে কূল কিনারা পেলোনা প্রদোষ।

– কি জানি কি হচ্ছে এসব। তাও ভালো রাতে ওটা পুরুষ ছিলো, নয়তো কোনো অপ্সরী হলে হয়তো ব্যাপারটা অন্যরকম হলেও হতে পারতো!!”

 

মৃত্যুর গন্ধ আসে ধীরে……..

Now Reading
মৃত্যুর গন্ধ আসে ধীরে……..

#আনলাকি_থার্টিন

গত এক ঘন্টা ধরে ঠায় বসে আছি।জানলাটাও এত বিশাল,, আর এত সুন্দর মিষ্টি মধুর ঝির ঝিরে বাতাস,, জানলাটার পাশ থেকে নড়তেই তো মন চাইছেনা!

ঢং ঢং!
রাত দুটো। এখনো দাড়িয়ে আছি। কিছুতেই ঘুম আসছেনা। বা পা টা ছেড়ে দিয়ে আলগোছে ডান পায়ে ভর চাপালাম। একটু ঘাড় ফিরিয়ে পাশের ওয়ার্ডটায় তাকালাম। ভেতরটা আবছা অন্ধকার। পর পর সাজানো ১৩ টা বেড। ১২ টা রোগী শুয়ে আছে। এই মুহুর্তে অবশ্য সবাই ই বেঘোরে ঘুমুচ্ছে। এত রাতে অবশ্যই কারো জেগে থাকার কথা নয়।
এক আমিই আছি। ১৩নম্বর জন!

ওয়ার্ডটা একেবারেই পানির মতো পরিষ্কারভাবে মনে ছাপ মেড়ে আছে। তাইতো ঘুটঘুটে অন্ধকারেও বারান্দার এই দিকটায় খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলে আসতে মোটেও কষ্ট হয়না।

একটা বাজতেই ঝট করে ঘুম ভেঙে গেছে রোজকার মতোই।অন্ধকারে পথ খুজে চলে এসেছি, তারপর….
তারপর?
তারপর পিছু ফিরে তাকিয়ে আছি!

পাশের ১২ নম্বর রোগীটার সাথে একজন অল্প বয়সী সাহায্যকারী এসেছে আজ।আগের বুড়ি মহিলাটা চলে গেছে বুড়িটা নাকি অসুস্থ্য, তাই ওর বড় মেয়েটাকে রেখে গেছে রোগীর দেখাশুনার জন্য।

আহা আজ সারাটাদিন মেয়েটা খুব খেটেছে বটে। তরতাজা মেয়ে, দৌড়াদৌড়ি করে রোগীকে বার বার উপর-নিচ নিয়েও গেছে।

মেয়েটাকে বার বার দেখেছি, আর নিজেকে ওর জায়গায় কল্পনা করে দীর্ঘশ্বাস ফেলেছি বারং বার!! মনে মনে ওর পা দুটোকে ভেঙচি কেটেছি আরো কত শত বার!!, হুহ ছুড়ি! এমনভাবে হাটিস আমি যেনো  কোনোকালে হাটিনি!!

সেই সকাল থেকেই মেজাজটা বিগড়ে ছিলো।মেয়েটা হাব-ভাবে তিক্ততা বিষে পরিণত হয়েছে। এজন্যই হয়তো ঘুমটা একটা বাজার আগেই ভেঙে গেল।
সেই থেকে বারান্দায় আছি।
অপেক্ষায়!!
মেয়েটা আসবে তো?
নাকি এক ঘুমেই রাত কাবার করে দেবে!!

না না! আজ আর বিফল হতে চাইনা।গত একটা বছর ধরে অপেক্ষায় আছি আমি। এক এক সেকেন্ড গুনে গুনে বিকল করেছি বারান্দাটার গ্রীল!

আমার বিশ্বাস শিকার আজ রাতেই আসবে। আমার পাশে দাড়াবে, তারপর………..
তারপর আমার একটা হালকা ধাক্কা ই CRP’র ছয় তলা থেকে ফেলে দিতে সক্ষম!!

তারপর!!
সকাল হলেই,
আরো একটা বেড বাড়বে ওয়ার্ডে!
আমার আনলাকি থারটিন লাকি ফরটিন হয়ে যাবে!

ঢং ঢং ঢং!

রাত তিনটে!
অপেক্ষা অপেক্ষা অপেক্ষা……..!!!