অমর প্রেমের করুণ গল্প ‘The Lovers Of Valdaro’

Now Reading
অমর প্রেমের করুণ গল্প ‘The Lovers Of Valdaro’

দুনিয়া বা পৃথিবী হচ্ছে রহস্যের যায়গা। আর দুনিয়ার সবচেয়ে বড় রহস্য হল ‘ভালবাসা’ যার মায়া মহিমা অসীম। যার কোন ব্যাখ্যা নেই, নেই কোন মাপকাঠি। এই ভালবাসাকে কেন্দ্র করে ট্রয় যুদ্ধের মত ধ্বংসযজ্ঞ এবং পৃথিবীর সব বড় বড় ঘটনার মূলেও রয়েছে ভালবাসারই হাত।

দুনিয়া ছোট হয়ে আসছে, নাগালের ভেতরে চলে আসছে দুনিয়া। কিন্তু ভালবাসা রহস্যই রয়ে গেল এবং ধরা ছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেল। কি মায়ায় মানুষ নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে দিচ্ছে সেই মায়াবী রহস্যের জাল ছেঁদ করার ক্ষমতা নেই কোন বিজ্ঞানীর, কোন গবেষকের। ভালবাসাকে যতই ময়নাতদন্ত করার চেষ্টা করা হোক না কেন সে ততোই মোনালিসার মতন রহস্যময় মুচকি হাসি দিয়ে যেন ধোঁয়াশায় নিজেকে আড়াল করে।

যদিও বর্তমান সময়ে ভালবাসাতে এসেছে নতুন স্বাদ গন্ধ যা মানুষকে সহজেই আকৃষ্ট করে এবং আসক্ত করে। যা ক্ষণস্থায়ী এক মোহ ছাড়া আর কিছুই নয়। কিন্তু সত্যিকার ভালবাসা যে পেয়েছে সে এক সর্গীয় সুখের স্বাদ পেয়েছে। যে জন্য দুনিয়ার যন্ত্রনাদায়ক কষ্ট তাঁকে আঁচর কাটতে পারেনি কোনদিন ! এমন নসীবওয়ালাদের সংখ্যা খুব কম পৃথিবীতে। এমন কিছু মাত্র জুটিই ইতিহাসের স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ রয়েছে।

কিন্তু এমন অনেক জুটি আছে যাদের না‌ম, যাদের ভালবাসার অমর কিচ্ছা ইতিহাসে উল্লেখ নেই ! যাদের নিয়ে তৈরী হয়নি কোন নাটক সিনেমা। যাদের জ্বলজ্বলে  হৃদয় বিদারক গল্প মাটির গহীনে ঘুমিয়ে আছে।

এমনই এক জুটি হল ‘The Lovers Of Valdaro’। হাজার হাজার বছর ধরে এই জুটি মাটির নিচে চাঁপা পড়ে আছে নীরবে নিভৃতে এবং একে অপরকে নিবিড় আলিঙ্গলে জড়িয়ে। কালের বিবর্তনে এই জুটির রক্ত মাংস মিশে গেছে মাটিতে রয়ে গেছে শুধু তাদের কঙ্কাল। এই জুটিকে প্রত্নতত্ত্ববিদরা ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে ইতালির মান্তুয়া/মাতুয়া নামক একটি গ্রাম থেকে উদ্ধার করেন। প্রত্নতত্ত্ববিদ এলেনা মারিয়া মেনোত্তি এই খনন কার্যটি পরিচালনা করেন। প্রত্নতত্ত্ববিদরা জানান এই জুটির বয়স প্রায় ৬০০০ হাজার বছর। বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, মৃত্যুর সময় এই জুটির বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে হবে এবং তাদের উচ্চতা ছিলো ৫ ফুট ২ ইঞ্চি। বর্তমানে তাদের নতুন ঠিকানা হল ইতালির মাতুয়ার ন্যাশনাল আর্কিওলজিকাল মিউজিয়াম।

আসলে কি ছিলো তাদের ভালবাসার সেই গল্প? কেন এই নির্মমতা? কোন অপরাধে আর কারা তাদের মাটিচাঁপা দিয়ে রেখেছে? এভাবেই কি তাদের রাখা হয়েছিল নাকি জীবন্ত কবর দেয়া হয়েছিল? হাজার হাজার বছর ধরে কি এমন লোমহর্ষক ইতিহাস তাদের সাথে মাটির নিচে চাঁপা পড়ে আছে? এত অল্প বয়সে কেন নেমে এসেছিল তাদের প্রতি এই নির্মমতা যার কোন উত্তর নেই….।

দিন দুনিয়ার কর্কশ আওয়াজ, দুঃখ, যন্ত্রনা সবকিছু থেকে আড়ালে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে আছে মাটির গহীনে তাঁরা। তাঁরা শুধু দুনিয়াতেই নয় বরং মৃত্যুর পরেও এক সাথে আছে এবং হয়তো এভাবেই থাকবে পৃথিবী ধ্বংসের দিন পর্যন্ত। তাদের দেখে অনেকেই চোখের পানি ফেলেছেন। অনুভব করে নিয়েছেন তাদের ভালবাসার অভীরতা। তাদের দেখতে আসা সবার মনেই কে জানে কি ঘটেছিল তাদের সাথে। এর উত্তর স্রষ্টাই জানেন। আপাতত এটাই শান্তি যে তাঁরা নিশ্চিন্তে নিরাপদে ঘুমিয়ে আছে তাদের নতুন ঠিকানায়।

 

সুত্র:অনলাইন