যে গান শুনে আত্মহত্যা করেছে শতাধিক মানুষ

Now Reading
যে গান শুনে আত্মহত্যা করেছে শতাধিক মানুষ

আসসালামু আলাইকুম প্রিয় বন্ধুরা। আমরা সবাই কম-বেশি গান শুনতে ভালোবাসি। বাচ্চা থেকে শুরু করে সবাই গান শুনে সময় কাটাতে পছন্দ করে থাকেন। তবে ভেবে দেখেনতো এই গান যদি হয়ে উঠে কারো মৃত্যুর কারণ!???বিশ্বাস হচ্ছে নাহ???তবে বিশ্বের ইতিহাসে এমনই এক গান রয়েছে যার পিছে লুকিয়ে আছে এমন  অনেক বিস্মকর অন্ধকার সব ঘটনা। যে গানটির কথা বলছি সেটির নাম হলো গ্লোমি সানডে“। ইংরেজিতে “Gloomy Sunday“।

“গ্লোমি সানডে” এই গান এর আরেক নাম “হাঙ্গেরিয়ান সুইসাইড সং”। নাম শুনেই বুজতে পারছেন এটি একটি হাঙ্গেরিয়ান গান তবে যার সাথে সম্পর্ক রয়েছে আত্মহত্যার। বিশ্বের ইতিহাসে এই “গ্লোমি সানডে” গানটিকে অনেক সুইসাইড ক্যাসের জন্য দায়ী করা হয়। দাবি করা হয় যে এই গানটি শোনার পরে এই পর্যন্ত্য আত্মহত্যা করা মানুষের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। এমনকি এই গানটির সুরকার “সেরেস” গানটি সুর করার ৩৫ বছর পর তিনি নিজেও আত্মহত্যা করেছিলেন ।

গানটি ১৯৩৩ সালে “রেজো সেরেস” নামক পিয়ানোবাদক দ্বারা সুর করা হয়েছিল যা “ইন্ড অফ দ্য ওয়ার্ল্ড” শিরোণামে প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯৩২ সালে প্যারিসে বসবাসরত অবস্থায় সেরেস প্রথম গানটি কম্পোজ করেন। প্রথমে সেরেস গানটির জন্য প্রকাশক খুঁজতে সমস্যায় পড়েন গানটির হতাশাব্যাঞ্জক কথার জন্য। যুদ্ধকে কেন্দ্র করে গানটির কথা লেখা হয়েছিলো এবং এর শেষে বলা হয়েছে মানুষদের পাপ এর কথা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে গানটি লেখা হয়েছিল।  “ইন্ড অফ দ্য ওয়ার্ল্ড” গানটির কথায় মানুষের প্রতি মানুষের অত্যাচার, অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও যারা অন্যায় কাজে লিপ্ত তাদের জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে। তবে অসফল প্রেম এর গল্পও লুকিয়ে আছে “গ্লোমি সানডে” নামক এই গানটির মধ্যে।

প্রথম দিকের ভার্সনগুলোতে যে লাইন ছিল তা অনেকটা আত্মহত্যাকে অনুপ্রানিত করে বলে মনে করা হয়। এর একটি লাইন হল,,

“গ্লোমি ইজ সানডে, উইদ স্যাডো আই স্পেন্ড ইট অ্যল,,মাই হার্ট এন্ড আই হ্যাভ ডিসাইডেড টু ইন্ড ইট অ্যল”

গানটির কথা লিখেছিলেন “লাজলো জাভোর”। ভালোবাসার মানুষের মৃত্যু ও মৃত্যুর পরবর্তী জীবণে তার সাথে মিলিত হওয়ার আবেগ নিয়ে লাজলো জাভোর গানটি লিখেছিলেন যা পরবর্তীতে হারানো প্রেমের কষ্ট বহন করে গেছে।

জাভোরের কথা ব্যবহার করে প্রথম হাঙ্গেরিয়ান ভাষায় গানটি রেকর্ড করেন পাল কামার ১৯৩৫ সালে। হাঙ্গেরিতে তার ভার্সনটি জনপ্রিয় হয়ে উঠে সেই সাথে উল্লেখযোগ্যভাবে আত্মহত্যার হার বেরে যায়। জাভোরের সাবেক স্ত্রীও আত্মহত্যা করে মৃত্যুবরণ করে ছিলেন। ১৯৩৫ সালে প্রথম পাল কামার হাঙ্গেরিয়ান ভাষায় গানটি রেকর্ড করার পরবর্তীতে কিছু লোক ভবনের ছাদ থেকে লাফ দিয়ে সুইসাইড করলে এই গানটির দোষ দেয়া হয় কারণ তখন তাদের হাতে গানটির একটি শীট মিউজিক ভার্সন ধরা ছিল। অনেক রেডিও নেটওয়ার্ক গানটি প্রচার বন্ধ করে দিয়েছিল যদিও এ দাবিগুলো প্রমানিত নয়। এছাড়াও এই গানটি নিয়ে অনেক ঘটনা শোনা যাই,,যেমন শোনা যাই যে একজন হাঙ্গেরিয়ান মুচি যেখানে আত্মহত্যা করেছিলেন সেখানে একটি নোট পাওয়া গিয়েছিলো যেখানে “গ্লোমি সানডে” এর  কিছু লাইন লেখা ছিল। দুজন লোক তাদের নিজেদের গুলি করে সুইসাইড করেছিলেন যে সময় একটি ব্যান্ড “হাঙ্গেরিয়ান সুইসাইড সং” গানটি করতে ছিলেন। কোন গবেষণাতেই অবশ্য স্পষ্ট করে গান ও আত্মহত্যা সম্পর্ক বোঝানো সম্ভব হয়নি।

এই গানটিতে এমন কি আছে যার জন্যে মানুষ আত্মহত্যা করতে এগিয়ে যাই???আপনাদের বোঝার সুবিধার জন্য গানটির কথা বাংলায় অনুবাদ করে  দিলাম,,এটি পড়লেই আপনার বোঝা হয়ে যাবে কি এমন আছে এই বিস্ময়কর গানটিতে। 

“”শত শত সাদা ফুলের সাথে অদ্ভুত রবিবার
আমি আপনার জন্য আমার প্রার্থনাশৈলীতে প্রার্থনা করার অপেক্ষা করছিলাম। । 
একটি রবিবার সকালে, ছুটছিলাম আমি আমার স্বপ্নের পিছে 
আমার দুঃখের বহিঃপ্রকাশ তোমার কাছে ফিরিয়ে নিল
এরপর থেকে  আমার রবিবার চিরকাল দুঃখজনক
কান্না  আমার একমাত্র পানীয়, দুঃখ আমার রুটি । । 

মেঘাচ্ছন্ন রবিবার

এই রবিবার, আমার প্রিয় আমার কাছে আসো দয়া করে
সেখানে একটি যাজক, একটি কফিন, এবং একটি ঘূর্ণন শীট হবে
আপনার জন্য ফুল থাকবে, ফুল এবং একটি কফিন 
ফুল গাছের নীচে এটি আমার শেষ যাত্রা হবে। । 
আমার চোখ খোলা হবে, যাতে আমি আপনাকে শেষবারের মত দেখতে পাই
আমার চোখে ভয় পেও না, আমি তোমাকে আমার মৃত্যুর পরেও আশীর্বাদ করছি । । 

রবিবার হতাশাজনক,
আমার ঘন্টা নিদ্রালু হয়।
প্রিয়তম ছায়া
আমি বেঁচে থাকা সঙ্গে বেঁচে থাকা

ছোট সাদা ফুল
কখনো তোমাকে জাগিয়ে তুলবে না
যেখানে কালো  স্মৃতি   
তোমাকে নিয়ে গেছে।

এঞ্জেলস এর কি কোন চিন্তা আছে
কখনও আপনাকে ফিরিয়ে দেবার ??
তারা কি রাগ হবে?
যদি আমি তোমার সাথে ওখানে যোগ দেয়ার কথা ভাবতাম??

মেঘাচ্ছন্ন রবিবার

অদ্ভুত রবিবার,
ছায়ার  সাথে সব সময় হয় পার 
আমার হৃদয় এবং আমি, 
সব শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি 

শীঘ্রই সেখানে  মোমবাতি জ্বলবে
এবং প্রার্থনা করা হবে
তাদের কাঁদতে দিয়োনা ,
তাদের জানাতে হবে যে আমি যেতে পেরে আনন্দিত।। 

মৃত্যু কোন স্বপ্ন নয়,
মৃত্যুর জন্য আমি তোমাকে দমিয়ে রেখেছি
আমার আত্মার শেষ শ্বাস হলেও ,
আমি তোমার উপর আশীর্বাদ করবো।

মেঘাচ্ছন্ন রবিবার

স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন দেখছিলাম
জেগে উঠি এবং আমি আপনাকে ঘুমিয়ে  থাকতে দেখেছি 
আমার হৃদয় গভীরে 

ডার্লিং, আমি আশা করি
আমার স্বপ্ন কখনো তোমাকে ঘৃণা করলো না
আমার হৃদয় আপনাকে বলছে,
কতটা আমি আপনাকে চেয়েছিলাম । । “

১৯৩৫ সালে রাশিয়ায় রাশিয়ান ভাষায় এবং ১৯৩৬ সালে ফ্রান্স এবং জাপানেও তাদের ভাষায় গানটি রেকর্ড করা হয়েছিল। বিবিসি প্রায় ৬৬ বছরের জন্য এই গানের  প্রচার বন্ধ করে দিয়েছিল যদিও ২০০২ সালে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছিল। ইংরেজি ভাষায় গানটির কয়েকটি ভার্সন বের হয়। “হাঙ্গেরিয়ান সুইসাইড সং” তথা “গ্লোমি সানডে” গানটি আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।