নেটফ্লিক্স এর আদি উপাখ্যান

Now Reading
নেটফ্লিক্স এর আদি উপাখ্যান

ওয়েব ভিডিও জগতে আধিপত্য বিস্তার করা নেটফ্লিক্সের কথা কে না জানে? সারা পৃথিবীতে ১০০ মিলিয়নের উপরে মানুষ নেটফ্লিক্স ব্যবহার করে। কিন্তু এটা তৈরি করার পেছনে যে গ্রাজুয়েট স্কুলের একটি গাণিতিক সমস্যা দায়ী ছিল সেটা কজনই বা জানে? গত বছরের প্রথমদিকে ফেব্রুয়ারি মাসে স্পেনের বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসের একটি সেশনে নেটফ্লিক্সের সহ-আবিষ্কারক রিড হেসটিংস এ কথা প্রথম সবার সামনে প্রকাশ করেন।

১৯৮০ সালের কথা, তখন হেসটিংস স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞানে পড়াশোনা করছিলেন। সে সময় আরেক বিখ্যাত কম্পিউটার বিজ্ঞানী এন্ড্রু তানেনবাম তাকে একটি গাণিতিক সমস্যার কথা বলেন। সমস্যাটি ছিল টেপ বহনকারী একটি স্টেশন ওয়াগনের ব্যান্ডউইথ বের করা। এর মানে দাঁড়ায় এমন, সর্বাধিক কতগুলো টেপ স্টেশন ওয়াগনের ভিতর ভরা যাবে, সেই টেপগুলো কতটুকু ডাটা সংরক্ষণ করতে পারবে এবং কত দ্রুত স্টেশন ওয়াগনটি টেপগুলো নিয়ে তার গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। এ সমস্যা দেখে তার মনে হয়েছিল এটা তখনকার সময়ে অনেক দ্রুতগতি সম্পন্ন নেটওয়ার্কের দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এ সমস্যা থেকে হেসটিংসের মাথায় আসে, টেপের বদলে তিনি ডিভিডি ব্যবহার করতে পারেন। তারা মনে করেন, নেটফ্লিক্সের শুরুটা তারা এমন ডিভিডি ব্যবহার করে শুরু করতে পারেন। পরবর্তীতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে তারা নেটফ্লিক্সকে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেন। মূলত সেই অংকের মাধ্যমেই তাদের নেটফ্লিক্স তৈরির চিন্তা মাথায় আসে। কোম্পানি হিসেবে নেটফ্লিক্স যাত্রা শুরু করে ১৯৯৭ সালে। তখন থেকে ডিভিডি ব্যবহার করেই তাদের যাত্রা শুরু। এরপর ২০০৭ সালে তারা ভিডিও স্ট্রিমিং শুরু করে। দেখতে দেখতে ২০১০ সালের মধ্যে গ্রাহক সংখ্যা ডিভিডি ব্যবহারকারীদেরকেও ছাড়িয়ে যায়। ১০০ মিলিয়ন ভিডিও গ্রাহকদের পাশাপাশি এখন ৫ মিলিয়ন ডিভিডি ব্যবহারকারীও আছে নেটফ্লিক্সের।

ইলেকট্রনিক কোনো তথ্যকে কোনো বস্তু, যেমন: পেনড্রাইভ দিয়ে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে পৌঁছে দিয়ে সেখানে পুনরায় ব্যবহার করার এই প্রক্রিয়াকে বলে স্নিকারনেট (Sneakernet)। এন্ড্রু তানেনবাম তার জনপ্রিয় বই “Computer Networks”-এ সমস্যাটির বর্ণনা দেন এভাবে-

এক কম্পিউটার থেকে আরেক কম্পিউটারে ডাটা বা তথ্য স্থানান্তর করার সবচেয়ে সহজ এবং জনপ্রিয় উপায় হচ্ছে প্রথমে তথ্যগুলোকে কোনো ম্যাগনেটিক টেপ বা ডিভিডি বা এরকম কোনো রিমুভাল ডিস্কে লিখে রাখা এবং সেগুলোকে অন্য কম্পিউটারে নিয়ে গিয়ে আবার পড়া। যদিও Geosynchronous Communication Satellite-এর যুগে ব্যবস্থাটি পুরনো মনে হতে পারে, কিন্তু তখন এটা খরচ সাপেক্ষ ছিল। একটি ছোট্ট অংক বিষয়টিকে পরিষ্কারভাবে বুঝতে সাহায্য করবে।

একটি আলট্রিয়াম টেপ (Ultrium Tape) ৮০০ গিগাবাইট পর্যন্ত ডাটা ধারণ করতে পারে। ৬০ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্য, ৬০ সেন্টিমিটার প্রস্থ ও ৬০ সেন্টিমিটার উচ্চতার একটি বাক্স এরকম ১ হাজার টেপ ধারণ করতে পারে। মোট ধারণক্ষমতা হয় ৮০০ টেরাবাইট বা ৬৪০০ টেরাবিট, অর্থাৎ প্রায় ৬.৪ পেটাবিট তথ্য ধারণে সক্ষম এই এক বাক্স টেপ। আমেরিকাতে তখন এ ধরনের টেপের বাক্স ফেডারেল এক্সপ্রেস বা অন্য কোনো কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের সাহায্যে যেকোনো স্থানে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাঠানো যেতো। ডাটা ট্রান্সমিশনের জন্য যতটুকু ব্যান্ডউইথের প্রয়োজন হতো তা হলো প্রতি সেকেন্ডে ৭০ গিগাবাইট। পথের দূরত্ব যদি ১ ঘণ্টা হয় তাহলে ব্যান্ডউইথ প্রতি সেকেন্ডে ১৭০০ গিগাবাইট পর্যন্ত বেড়ে যায়। এখান থেকে বোঝা যাচ্ছে, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বৃদ্ধির সাথে সাথে টেপ এর পরিমাণ এবং ঘনত্বও বেড়ে যাচ্ছে।

এখন খরচের দিকে আসা যাক। আলট্রিয়াম টেপ একসাথে অনেকখানি করে কিনলে প্রায় ৪০ ডলারের মতো খরচ পড়বে। এ ধরনের টেপ পুনরায় প্রায় ১০ বার পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। তাই টেপের দাম প্রতি বক্সে এবং প্রতি ব্যবহারে ৪,০০০ ডলারের মতো খরচ পড়বে। এর সাথে শিপিং এর জন্য ১,০০০ ডলারের মতো খরচ পড়বে। অর্থাৎ ৮০০ টেরাবাইট তথ্য স্থানান্তরের জন্য ৫,০০০ ডলারের মতো খরচ পড়বে। এটা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, ১ গিগাবাইট তথ্য পাঠাতে মোটামুটি এক সেন্টের অর্ধেকের মতো খরচ পড়ছে।

এন্ড্রু তানেনবাম

এন্ড্রু তানেনবামের জনপ্রিয় বই – Computer Networks;

এ কথাগুলো বইতে ব্যাখ্যা করার পরে নিচে এমন বক্তব্য আছে- “Never underestimate the bandwidth of a station wagon full of tapes hurtling down the highway.”

১৯৯১ সালে রিড হেসটিংস Pure Software নামে তার নিজের প্রথম কোম্পানি চালু করেন। এ কোম্পানি থেকে যে পরিমাণ আয় হয় সেটা দিয়ে খুব সহজেই নতুন প্রজেক্টে হাত দেয়া যেত। আর এই আয় করা লভ্যাংশ থেকেই নেটফ্লিক্সের জন্ম। নেটফ্লিক্সের সাফল্যের সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে এটি নতুন আরেকটি প্রযুক্তির সাথে যুক্ত হয়ে তাদের ব্যবসার আইডিয়া দাঁড় করায়। তখন ভিডিও দেখার জন্য VHS (Video Home System) ব্যবহার করা হতো যেটা দেখতে বড় ছিল। ৯০-এর দশকের শেষ দিকে যারা বাসায় ভিডিও ভাড়া করে এনে দেখতো তাদের কাছে VHS অপরিচিত মনে হবে না। নেটফ্লিক্সের প্রজেক্টে হাত দেবার সময় হেসটিংসের এক বন্ধু তাকে ডিভিডির কথা বলে যেটা দেখতে ছোট, হালকা এবং VHS যা কাজ করে এই ডিভিডিও একই কাজ করে। তাছাড়া VHS ব্যবহারে খরচও পড়তো বেশি। তাই হেসটিংসকে ফি দিতে হতো বেশি।

ভিএইচএস

২০০৭ সাল পর্যন্ত নেটফ্লিক্স প্রায় ১ বিলিয়নের মতো ডিভিডি ক্রেতাদের সরবরাহ করে। এরপর যখন ইউটিউব অনেক বেশি জনপ্রিয় হয় তখন হেসটিংস নতুন এই প্রযুক্তিগত ধারণাকেও তাদের ব্যবসার আইডিয়াতে পরিণত করেন এবং কাজে লাগান। এই অংশে তিনি গ্র্যাজুয়েট শ্রেণীতে থাকাকালীন সময়কার সেই অংককে কাজে লাগান।

হেসটিংসকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “When a friend told me about DVDs and I realized, well that’s 5GB of data, and you know you can mail that very inexpensively, I realized that is a digital-distribution network”

নেটফ্লিক্সের হলিউড অফিস

একটি মজার কথা হচ্ছে, হেসটিংস এবং রেন্ডলফ  দুজনেই নেটফ্লিক্সের আবিষ্কারের পরপর এর সাথে ইন্টারনেটকে যুক্ত করার বিষয়টি মাথায় এনেছিলেন। কিন্তু সে সময়ে ইন্টারনেটের বিপ্লব আজকের মতো শুরু হয়নি। তবে তারা ঠিকই বুঝতে পেরেছিলেন নেটফ্লিক্সকে তারবিহীন মাধ্যমের সাহায্যে প্রচার করতে পারলে সবদিক থেকে লাভবান হওয়া যাবে। শুধুমাত্র ডিভিডি নামক বস্তুর সাহায্যে ক্রেতাদের কাছে না গিয়ে নতুন নতুন মাধ্যম ব্যবহার করা যেতে পারে, যেটা ক্রেতাদের নেটফ্লিক্সের সাথে ধরে রাখতে পারবে। কিন্তু তারা জানতেন এ জিনিসটি রাতারাতি সম্ভব হবে না। এর জন্য অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। শেষপর্যন্ত পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং গ্রাজুয়েট স্কুলের একটি অংকের হিসাব তাদেরকে ওয়েব ভিডিও জগতের এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

মোবাইল আর ইন্টারনেট কি আসলেই আমাদের উন্নত করতে পেরেছে ?

Now Reading
মোবাইল আর ইন্টারনেট কি আসলেই আমাদের উন্নত করতে পেরেছে ?

মোবাইল ফোন আমাদের বেষ্ট ফ্রেন্ডের মত হয়ে গেছে। এখন আমরা সাথে টাকা পয়সা না নিলেও মোবাইল টা নিতে ভুলি না। যেমন আমাদের খিদা লাগে খাওয়ার কথা মনে করার জন্য। তেমন হাতটাও সুর সুর করে ফোনের কথা মনে করার জন্য। জীবনটা কে অনেক সহজ করে দিয়েছে মোবাইল ফোন। কিন্তু আমাদের অবস্থা কোথায় যেয়ে দাড়িয়েছে ভাবতে পারেন? আজ থেকে ১০ বছর আগের কথা চিন্তা করলেই পাবো। আগে কোথাও বন্ধুরা মিলে আড্ডা দিলে সেখানে অনেক কথা হতো, অনেক হাসি, গান বাজনা, ফাইজলামি। সবচেয়ে ভাল ফোন বলতে একজন এর কাছে ছিল নকিয়া এন সেভেন্টি মোবাইল। এখন প্রযুক্তির আধুনিকতায় এন্ড্রয়েড, আই ও এস, উইন্ডোস আরো অনেক কিছু। একজন সেলফি তুলে, একজন অনলাইনে এটাক দিতে ব্যাস্ত। এই এখনকার আড্ডা। আপনি যখন ছোটবেলায় ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে যেতেন, আপনার মামাতো চাচাতো ভাই বোন দের সাথে মাঠে যেতেন শশা, টমেটো চুরি করতে। পুকুরে ঝাপ দিতেন গাছের উপর থেকে। অনেক ভোরে উঠে যেতেন বকুল আর শিউলি ফুল কুড়াইতে। নানী পিঠা বানাইতো আর আপনারা রান্নাঘরে লাইন দিয়ে বসে পড়তেন। এখন ঈদে বাসায় গেলে কি হয় জানেন? ম্যাসেঞ্জারে ভিডিও কল আসে। “এই দোস্ত এইখানে নেট ভাল না ভিডিও কল হবেনা”। সারা দিন ঘরের কোণায় বসে ফেইসবুক। কেও কেও তো ওয়াই ফাই নাই বলে গ্রামে যায় না।

কি দিন আসলো, মোবাইল ফোনের আবিষ্কার হয়েছে আমাদের উপকারের জন্য। এই যন্ত্রটা নাকি আমাদের টাইম বাচায়। সত্যি? জন্মের পর থেকে এই জিনিসটা আমি টাইম পাসের জন্য ইউজ করি। আসলেই তাই, পড়তে ভাল লাগছে না? একটু নিউজ ফিড ঘুরে আসি। ঘুম আসছে না? ইউটিউবে যাই। মোবাইল আমাদের সবকিছু নিয়ে এসেছে হাতের মুঠোয় নাকি আমরা চলে গেছি মুঠোফোনের মুঠোর মধ্যে। আগে ছোটবেলায় বিকালে মাঠে খেলতে যেতে একটু দেরি হইলে আর জায়গা পাইতাম না। এখন মাঠের সব ঘাস গরুতে খায়। কারণ কি জানেন? এখন অনেক কম দামে ট্যাব পাওয়া যায়। যাতে অনেক গেইম ঘরে বসেই খেলা যায়। এইসবের ফলস্রুতি তে আমরা কি পাচ্ছি জানেন? ক্লাস সিক্সের ছেলের স্ট্যাটাস “অতীত কে ভুলতে চাই”। ক্লাস সিক্সের একটা ছেলের কি অতীত থাকতে পারে। আমার ক্লাস ফোরে থাকতে আমাকে একটা সুন্দর রঙ পেন্সিল এর বক্স কিনে দিছিল আমার মা। সেটা কয়েকদিন পরেই চুরি হয়ে যায়। আমি এই অতীত টা এখনও ভুলতে চাই। বন্ধুদের সাথে হ্যাংআউটে গেছেন? একজন আরেকজন কে বলছে “দোস্ত আমার ক্ল্যানে আয়”। আগে মানুষ ভাল রেস্টুরেন্টে খাইতে গেলে হাত মুখ ধুয়ে বসতো, এখন ক্যামেরা ওপেন করে বসে, চেক ইন দেয়। খাওয়ার আগে সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানাতে ভুলে গেলেও সেলফি তুলতে ভুলি না আমরা। হাইরে যুগের উন্নতি। এখন এমন অবস্থা চলে এসেছে রাস্তায় মানুষ মরে গেলে বাচানো বাদ দিয়ে ছবি তোলে।

নিজেকে প্রশ্ন করেন তো বাসায় বাবা, মা, ভাই, বোন এর চেহারা টা ভালভাবে শেষ কবে দেখেছেন?  বাসায় এসে ল্যাপটপ আর ফোনের ভিতর মুখ গুজে পড়ে থাকেন। মা এসে খেতে ডাকে আপনি কথা বলেন। তবে চোখ কিন্তু থাকে ওই ডিভাইসের দিকেই থাকে। বাবা রুমে এসে বলছেন তোর সাথে জরুরী কথা আছে। আমি বলি বলেন। আমি তাকিয়েও দেখিনা বাবার দিকে। এই আমার জরুরি মিটিং। যতই জরুরী কথা হোক না কেন আমরা তা বলি মোবাইল এর দিকে তাকিয়ে। সাইকোলজিস্ট রা বলেন কোন মানুষের পছন্দের তালিকায় থাকতে হলে তার সব কথায় পূর্ণ মনোযোগ দিতে হয়। আমরা তো এখন মানুষের চেহারা সামনা সামনির থেকে ফেইসবুক, ইন্সটাগ্রামে দেখি।

মর্ডান যুগে খেলার মাঠের আকার ছোট হচ্ছে আর ফোনের র‍্যাম বাড়ছে। মানুষ টেকনলজিকালি আপগ্রেড হচ্ছে কিন্তু ফিজিকালি, মেন্টালি দুর্বল হচ্ছে। আমি যুগ বা প্রযুক্তি কোনটারই দোষ দিচ্ছি না। আমি শুধু মাত্র বলছি যান্ত্রিক আর আধুনিকতার ছোয়াতে আমরা রক্তে মাংশে গড়া মানুষ গুলাও কেমন জানি যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছি দিন দিন। প্রযুক্তি কে কাজে লাগিয়ে জীবন টা গড়তে হবে। আমাদের প্রযুক্তি কে যথাযথ ভাবে ব্যবহার করতে হবে। প্রযুক্তি যেন আমাদের ব্যবহার না করে বসে এটা খেয়াল রাখতে হবে। আমরা যাদের তৈরি ফেইসবুক, ইউটিউব, গুগল ব্যবহার করছি তারা কি সারাদিন ফেইসবুক চালাতেন ? না তারা প্রযুক্তি কে ব্যবহার করেছে আর বিশ্বকে পালটে ফেলেছে। আর তাদের বানানো প্রযুক্তি গুলো আমাদেরকে ব্যবহার করে আমাদের পালটে ফেলেছে। মনে করেন আপনার খুব খারাপ অবস্থা , আপনি আইসিইউ তে আছেন। বাইরে বসা আপনার বাবা, মা, বন্ধুবান্ধব আর আত্বীয় স্বজন। কিন্তু আপনার তো অনেক পপুলারিটি। আপনি ফেইসবুকে ৫০০০০০ মেম্বার ওয়ালা একটা গ্রুপের মালিক। ইউটিউবে আপনার চ্যানেলে লক্ষাধিক সাবস্ক্রাইবার। তাহলে আজ আইসিইউ এর সামনে কেও নেই কেন? কোথায় আপনার হাজার হাজার ফ্যান ফলোয়ার? কোথায় আপনার সাবস্ক্রাইবার। আপনার বাবা মায়ের থেকে আপন কেও হতে পারেনা। কিন্তু যখন বাসায় ৩ এম্বিপিএস এর ব্রডব্যান্ড কানেকশন থাকে তখন তেই কানেকশনের সামনে মা যদি একটু খেতে ডাকে আপনি তাতেই অসাধারণ এক বিরক্তবোধ প্রকাশ করেন। আপনার জীবন টা কিন্তু এতদুর এই অনলাইনে ব্রাউজিং করে করে আসেনি। এসেছে আপনার বাবা মায়ের ঘামঝরা পরিশ্রমে। তাই তাদের সময় দিন। মাঠে যান, বন্ধুদের সাথে সময় কাটান, ক্রিকেট খেলুন, দুই একটা গল্পের বই পড়ুন। আর মাঝে মাঝে ফেইসবুকে যান, ইউটিউবে যান। আপনি কি আপনার জীবনটা সত্যিই উপভোগ করছেন ? এর উত্তর আমি বলে দিচ্ছি। দিন শেষে আপনার ফোনের ব্যাটারি যদি ৮০% এর বেশি অবশিষ্ট থাকে তাহলেই আপনি জীবনটাকে উপভোগ করছেন। তাছাড়া না। জীবনের জন্য প্রযুক্তি, প্রযুক্তির জন্য জীবন না।

ছবিঃ গুগল

ইন্টারনেটের ইতিহাস

Now Reading
ইন্টারনেটের ইতিহাস

১৯৫০-এর দশকে ইলেকট্রনিক কম্পিউটারের গঠন শুরু হয়। প্রাথমিক ধারণা প্যাকেট নেটওয়ার্কিং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ও ফ্রান্সে বিভিন্ন কম্পিউটার বিজ্ঞান ল্যাবরেটরিজ মধ্যে সম্ভূত। ডিফেন্স ডিপার্টমেন্ট প্যাকেট নেটওয়ার্কের সিস্টেমের জন্য চুক্তি যত দ্রুত হিসেবে উন্নয়নসহ ১৯৬০, ভূষিত যেটি ARPANET ।
কম্পিউটার এর মাধ্যমে প্রথম বার্তা বিজ্ঞান অধ্যাপক লিওনার্ড Kleinrock এর পরীক্ষাগার থেকে যেটি ARPANET উপর পাঠানো হয়েছিল ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, লস এঞ্জেলেস স্ট্যানফোর্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে ।

প্যাকেট সুইচিং

যেটি ARPANET নেটওয়ার্ক NPL নেটওয়ার্কের , CYCLADES , মেরিট নেটওয়ার্ক , টিমনেট এবং টেলিনেট , বিভিন্ন ব্যবহার ১৯৬০ এবং ১৯৭০ এর দশকে উন্নত ছিল যোগাযোগ প্রোটোকল হিসেবে । ডোনাল্ড ডেভিস প্রথমে প্যাকেট সুইচড নেটওয়ার্ক পরিকল্পিত করে ন্যাশনাল ফিজিক্স ল্যাবরেটরি ইউ কে, যা প্রায় দুই দশক ধরে যুক্তরাজ্য গবেষণার জন্য একটি টেস্টবেড হয়ে ওঠে। ARPANET প্রকল্পের জন্য প্রোটোকল উন্নয়ন নেতৃত্বে হিসাবে কাজ করে ইন্টারনেট ওয়ার্কিং , যা একাধিক পৃথক নেটওয়ার্ক কে যুক্ত করার কাজ করে।
ARPANET অ্যাক্সেস ১৯৮১ সালে সম্প্রসারিত হয় যখন জাতীয় বিজ্ঞান ফাউন্ডেশন (এনএসএফ) গড়ে তুলেছিল কম্পিউটার সায়েন্স নেটওয়ার্ক (CSNET) ।
১৯৮২ সালে, ইন্টারনেট প্রোটোকল স্যুট (টিসিপি / আইপি) ARPANET- এ প্রমিত নেটওয়ার্কিং প্রোটোকল হিসাবে চালু করা হয়েছিল । গোড়ার দিকে ১৯৮০ সালে এনএসএফ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়,জাতীয় সুপারকম্পিউটিং কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠা গড়ে তুলছে । বাণিজ্যিক ইন্টারনেট পরিষেবা সরবরাহকারীরা (আইএসপি) ১৯৮০ এর দশকের শেষভাগে উঠতে শুরু করেছিল । আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক সংস্থার মাধ্যমে ইন্টারনেটের অংশে লিমিটেড প্রাইভেট সংযোগগুলি ১৯৮৯ এবং ১৯৯০ সালের শেষের দিকে কয়েকটি আমেরিকান শহরগুলিতে আবিষ্ট হয়,এবং এনএসএফএনএইট ১৯৯৫ সালে নিষিদ্ধ ছিল, বাণিজ্যিক ট্র্যাফিক বহন করার জন্য ইন্টারনেট ব্যবহারের সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা অপসারণ করে।
১৯৮০ সালে ব্রিটিশ কম্পিউটার বিজ্ঞানী টিম বার্নার্স-লি সুইজারল্যান্ডে CERN এ গবেষণা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব ফলে একটি তথ্য সিস্টেমের মধ্যে হাইপারটেক্সট নথি, নেটওয়ার্কে কোনো নোড থেকে অ্যাক্সেসযোগ্য লিঙ্ক তৈরি করে।

1990-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে, ইন্টারনেটের মাধ্যমে বৈদ্যুতিন মেল, তাত্ক্ষণিক বার্তা প্রেরণ, ইন্টারনেট প্রটোকল (ভিওআইপি) টেলিফোন কলগুলির মাধ্যমে ভয়েস, দ্বিপথ ইন্টারেক্টিভ, সহ সংস্কৃতি, বাণিজ্য এবং প্রযুক্তির উপর বিপ্লবী প্রভাব রয়েছে। গবেষণা এবং শিক্ষা সম্প্রদায় বিকাশ এবং এই ধরনের এনএসএফ খুব উচ্চ গতিতে দাঁড়া নেটওয়ার্ক সার্ভিস (vBNS), Internet, এবং জাতীয় LambdaRail উন্নত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে চলেছেন।
ডেটার পরিমাণ বৃদ্ধি করে এবং ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে উচ্চ এবং উচ্চতর গতিতে প্রেরিত হয় 1-Gbit / সেকেন্ড এ অপারেটিং 10 Gbit / সেকেন্ড, বা আরো বেশি ।

প্রিকার্সর (precursors)
তথ্য যোগাযোগের ধারণা – একটি ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক মাধ্যম যেমন রেডিও বা বৈদ্যুতিক তারের মাধ্যমে দুটি ভিন্ন স্থানগুলির মধ্যে ডাটা প্রেরণ – প্রথম কম্পিউটারের প্রবর্তনটি পূর্বাভাস দেয় । এই ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থাগুলি সাধারণত দুইটি নির্দিষ্ট ডিভাইসের মধ্যে যোগাযোগের নির্দেশ দেয়। টেলিগ্রাফ সিস্টেম ও টেলেক্স মেশিন যোগাযোগ এই ধরনের প্রথম প্রিকার্সর বিবেচনা করা যেতে পারে। ১৯ শতাব্দীর মধ্যে টেলিগ্রাফ প্রথম পুরোপুরি ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল।

ডেটা ট্রান্সমিশন এবং তথ্য তত্ত্বের মৌলিক তাত্ত্বিক কাজটি ক্লড শ্যানন, হ্যারি নুইউইচ, এবং র্যাল্ফ হার্টলি দ্বারা ২0 শতকের প্রথম দিকে তৈরি করা হয়েছিল ।

প্রাথমিক কম্পিউটারগুলির একটি কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট এবং দূরবর্তী টার্মিনাল ছিল। প্রযুক্তি উদ্ভাবন হিসাবে, নতুন সিস্টেমের জন্য দীর্ঘ দূরত্ব (টার্মিনালগুলির জন্য) বা উচ্চ গতির (স্থানীয় ডিভাইসের ইন্টারকানেকশন জন্য) যোগাযোগের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল যা মেইনফ্রেম কম্পিউটার মডেলের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল। এই প্রযুক্তিগুলি দূরবর্তী কম্পিউটারগুলির মধ্যে ডেটা (যেমন ফাইল) বিনিময় করা সম্ভব করেছে যাইহোক, পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট কমিউনিকেশন মডেল সীমিত ছিল, যেহেতু এটি কোনও দুটি অবাধ সিস্টেমের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের অনুমতি দেয়নি; একটি শারীরিক লিঙ্ক প্রয়োজন ছিল। কৌশলগত এবং সামরিক ব্যবহারের জন্যও প্রযুক্তিটি অনিরাপদ বলে বিবেচিত ছিল কারণ শত্রুর আক্রমণের ক্ষেত্রে যোগাযোগের জন্য কোন বিকল্প পথ ছিল না।
ওয়াইড-এরিয়া নেটওয়ার্কিং এর উন্নয়ন

সীমিত ব্যতিক্রম ছাড়া, নিকটতম কম্পিউটারের স্বতন্ত্র ব্যবহারকারীর দ্বারা ব্যবহৃত টার্মিনাল থেকে সরাসরি সংযুক্ত করা হয়, সাধারণত একই বিল্ডিং বা সাইটে। এই ধরনের নেটওয়ার্ক স্থানীয়-এলাকা নেটওয়ার্ক (LAN) হিসাবে পরিচিত হয়ে ওঠে। এই সুযোগ, ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক (WANs) নামে পরিচিত তার পরেও নেটওয়ার্কিং, ১৯৫০ সময় নির্গত এবং ১৯৬০ সময় প্রতিষ্ঠিত হয়ে ওঠে।
বোল্ট বেরানেক ও নিউম্যান, ইনকর্পোরেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে। সি। লিক্লাইডার, জানুয়ারী ১৯৬০ এর জানুয়ারি মাসে ম্যান-কম্পিউটার সিম্বিয়াসিসের একটি বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্ক প্রস্তাব করেছিলেন:
যেমন [কম্পিউটারের] এর একটি নেটওয়ার্ক, ওয়াইড-ব্যান্ড যোগাযোগ লাইন তথ্য স্টোরেজ এবং আহরণ এবং [OTHER] মিথোজীবী ফাংশন অপেক্ষিত অগ্রগতি সঙ্গে একসঙ্গে অধুনাতন লাইব্রেরি ফাংশন [যা প্রদান করা] এর দ্বারা একে অপরের সাথে সংযুক্ত থাকবে ।

আগস্ট ১৯৬২ সালে লিক্লিদার এবং ওয়েলডেন ক্লার্ক পত্রিকা “অন-লাইন ম্যান-কম্পিউটার কমিউনিকেশন” প্রকাশ করেন যা একটি নেটওয়ার্ক ভবিষ্যতের প্রথম বিবরণ ছিল।অক্টোবর 1962 সালে লিকলিডার ম্যান্ডেট পরস্পর সম্পর্কিত বা সংযুক্ত শাইয়েন মাউন্টেন এ প্রতিরক্ষা প্রধান কম্পিউটারের ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট পেন্টাগন এবং এসএসি এইচকিউ সঙ্গে নবপ্রতিষ্ঠিত ইনফরমেশন প্রসেসিং প্রযুক্তি অফিস (IPTO) DARPA সংক্রান্ত মধ্যে পরিচালক হিসেবে জ্যাক Ruina দ্বারা ভাড়া করা হয়েছে।সেখানে তিনি কম্পিউটার গবেষণা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার DARPA সংক্রান্ত মধ্যে একটি অনানুষ্ঠানিক গ্রুপ গঠন করে।