বাংলাদেশে ইন্টারভিউ এবং স্কলারশীপ

Now Reading
বাংলাদেশে ইন্টারভিউ এবং স্কলারশীপ

ইন্টারভিউ বোর্ডের সবাই বসে আছে, বাইরে অপেক্ষায় চাকুরি প্রার্থিরা। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হবে ইন্টারভিউ। চাকুরিপ্রাথির্ দের চোখে কত স্বপড়ব আবার কারো চোখে অজানা এক আতংক, কী জানি চাকুরিটা যদি না হয়? কারো কাধে পরিবার চালানোর দায়িত্ব আবার কারো নিজের পায়ে দাড়ানোর স্বপড়ব। শিক্ষা জিবনের শুরুতে প্রায় অধিকাংশ শিক্ষার্থির এইদিনের কথা মাথায় থাকে না কিংবা সুযোগ হয়ে উঠে না। যার ফলে গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে শিক্ষা জীবন শুরু করে অধিকাংশ শিক্ষার্থি। এরকমই একজন রাশেদ। ৩৫ বছরের যুবক। সেও এসেছে এই ইন্টারভিউ এ। দরজা খূলে ইন্টারভিউ কক্ষে ঢুকবার সময় তার মনে পড়ে যায় প্র মবারের চাকুরি ইন্টারভিউ এর কথা। তখন তার ছিল তথৈবচ অবস্থা। পকেটে লোকাল বাসে চড়বার টাকাটি না থাকায় হেটেই যেতে হতো অফিসে অফিসে।

জ্যাম আর রোদে ঘামে যখন অতিষ্ট তখনও মাঝে মাঝে মুখে ফুটতো করুন হাসি। কারন এই রাশেদের জীবন শুরু হয় এদেশের সাধারন আর দশটা পরিবারের মতো এক নি¤ড়ববিত্ত ঘরে। বাবা সরকারী অফিসের ছোট চাকুরে আর তার উপরেই পাঁচ জনের সংসার চালানোর ভার। দুই বোন এক ভাই এর মধ্যে রাশেদ মেজ। ভালোই চলছিল তাদের বিজ্ঞান পড়ছিল রাশেদ স্বপড়ব কম্পিউটার ইজ্ঞিনিয়ার হবার। কিন্তু এক ছোট্র ঝড় সব উলট-পালট করে দেয়। উচ্চমাধ্যমিক পরিক্ষার ঠিক আগেই বাবা স্ট্রোক করে প্যারালাইসিস হয়ে যাওয়ায় ভালোমতো পরিক্ষা দিতে পারে না রাশেদ। কোনমতে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে পরিবারের হাল ধরার তাগিদে ভর্তি হয় গ্রাজুয়েশন কোর্সে।

টিউশনি করে যা পায় বাবার চিকিৎসা আর সংসার খরচে পাঠিয়ে যৎসামান্য দিয়ে নিজের পড়াশুনা চালাতে হয়। যার কিনা কম্পিউটার ইজ্ঞিনিয়ার হবার স্বপ্ন সে কোনাদিন কম্পিউটার ধরে দেখারও সুযোগ হয়নি।

গ্রাজুয়েশন শেষ করে প্র মবারের মতো কনো চাকুরির ইন্টারভিউ এ যায় রাশেদ। যদিও তার চেহারায় ব্যার্থতা আর হতাশার ছাপ কারন এই চাকুরির বেতন তার টিউশনের উপার্যনের থেকেও কম। আর এই ইন্টার ভিউ তেই বোর্ডের সদস্যরা তাকে নানা নানা প্রশ্নে জর্জরিত করে, রাশেদের মাথায় আসে না এই বেতনের চাকুরির জন্য এত এত প্রশ্ন কেন? যথারিতি উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়ে উল্টো বোর্ডের সদস্যদের প্রশ্ন করে রাশেদ। এতে ক্ষিপ্ত, রাগান্বিত হয় বোর্ডের সদস্যরা তাকে ইন্টারভিউ রুম থেকে বের করে দেয়।

অথচ আজ বের্ডের সদস্যরা দাঁড়িয়ে তাকে স্বাগত জানায় ইন্টারভিউ বোর্ডে। রাশেদ তার চেয়ারে বসতে বসতে সবাই কে উদ্দেশ্য করে বলে, আই ডি বি বিএসআইডব্লিউ এর আইটি ডিপ্লোমা ছাত্রদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে এবং কিছু মৌলিক প্রশড়ব করে চাকুরির অফার দেয়া হবে। রাশেদ আজ এই ইন্টারভিউ বোর্ডের প্রধান, আইটি প্রতিষ্ঠান সফটকম এর সিইও। তার কথার বিরোধিতা করার কেউ নেই, তার পরেও একজন বোর্ড সদস্য মুচকি হেসে বলেন, আপনে আই ডি বি বিএসআইডব্লিউ এর আইটি ডিপ্লোমা করা বলেই কি তাদের প্রতি এই পক্ষপাতিত্ব? রাশেদ বলে, না, এজন্য না যারা আই ডি বি বিএসআইডব্লিউ এর আইটি

ডিপ্লোমা করা তারা যে আসলেই যোগ্য তা আজ প্রমানিত, এর বড় উদাহরন যেমন আমি ঠিক তেমনি আপনিও, কারন আপনিও আই ডি বি বিএসআইডব্লিউ এর আইটি ডিপ্লোমা এর ছাত্র। সবাই হেসে উঠে।

– এভাবেই পরিবর্তিত হচ্ছে হাজারো তরুণের জীবন।পাল্টে যাচ্ছে ভবিষ্যত।

এই স্কলারশিপ করতে হলে আপনাকে কমপক্ষে ৪ বছর মেয়াদী আর্কিটেক্ট বা সিভিল এ পলিটেকনিকের ডিপ্লোমা সম্পন্ন করতে হবে অথবা ৪ বছর মেয়াদী অনার্স পাশ করতে হবে তবেই আপনি এই স্কলারশিপে ভর্তির সুযোগ পাবেন।

এখানে যে কোর্স গুলো করতে পারবেন সেগুলো হলোঃ সি শার্প ডট নেট, জাভা প্রোগ্রামিং, , ওয়েব প্রেজেন্স সলুশন  এন্ড ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন এন্ড এনিমেশন, অটোক্যাড এবং নেটওয়ার্কিং।

যারা অটোক্যাড করতে চান তাদের ৪ বছরের পলিটেকনিক ডিপ্লোমা সম্পন্ন করে আসতে হবে। আর যদি আপনি অনার্স মাষ্টার্স শেষ করে আসেন তাহলে আপনি যে কোর্স গুলো করতে পারবেন সেগুলো হলোঃ ডাটাবেজ ডিজাইন  এন্ড ডেভেলপমেন্ট, সি শার্প ডট নেট, জাভা প্রোগ্রামিং, , ওয়েব প্রেজেন্স সলুশন  এন্ড ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন এন্ড এনিমেশন এবং নেটওয়ার্কিং কোর্স।তবে এই কোর্স গুলো শুরু করার আগে একজন  প্রশিক্ষণার্থীকে ২ মাসের কম্পিউটার ফান্ডামেন্টাল সম্পন্ন করে আসতে হয়। যারা কম্পিউটারে দুর্বল তাদের জন্য কম্পিউটার ফান্ডামেন্টাল কোর্সটি করাটা অতী জরুরী একটি বিষয়। graduation-silhouette-630-315.jpgকারন কম্পিউটার ফান্ডামেন্টাল করার পর যদি কোন প্রফেশনাল প্রোগামিং অথবা নেটওয়ার্কিং কোর্স করে তাহলে দুর্বল ছাত্রদের জন্য কোর্সটি করতে সুবিধা হয়।

বর্তমানে ঢাকা এবং চিটাগাং এ ২৭ টি নামকরা ট্রেনিং সেন্টারে কোর্স গুলো পরিচালনা করা হচ্ছে। কোর্সের মেয়াদকাল কম্পিউটার ফানডামেন্টাল সহ ১২ মাস থেকে ১৪ মাস পর্যন্ত হয়ে থাকে। প্রশিক্ষণ শেষে আইডিবি-বিআইএইডব্লিউ এর প্লেসমেন্ট সেলের মাধ্যমে চাকুরী হয়ে থাকে। এই স্কলারশীপটি সম্পন্ন করে একজন ছাত্র বিভিন্ন কোম্পানীতে চাকুরী পায়। কাজের পারফরমেন্স ভাল হলে  চাকুরীর প্রথমবস্থায় বেতন কম হলেও পরবর্তীতে প্রোগ্রামার বা নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ারদের বেতন খুব দ্রুত বেড়ে যায়।

ভোকেশনাল ট্রেনিং স্কলারশীপ সম্পন্ন করতে হলে আপনাকে কমপক্ষে ৮ পাশ হতে হবে এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা সর্বোচ্চ  হতে পারে এসএসসি পাশ আর এইচএসসি ফেল পর্যন্ত। প্রশিক্ষণার্থীরা ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্কস, ওয়েল্ডিং অ্যান্ড ফেব্রিকেশন, ইলেক্টনিক্স, রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং এবং মেশিনিষ্ট ট্রেডে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহনের সুযোগ পেয়েছে। উল্লেখ্য ট্রেড সমূহের মধ্যে মেশিনিষ্ট ট্রেডটি নতুন যোগ করা হয়েছে। প্রতিদিন ৫ ঘন্টা করে সপ্তাহে ৬ দিন ক্লাস পরিচালনা করা হবে। এ প্রশিক্ষণের সকল ব্যয় আইডিবি-বিআইএসইডব্লিউ  বহন করবে এবং প্রতি মাসে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতখরচ বাবদ ৫০০ টাকা প্রদান করা হবে। প্রশিক্ষণ শেষে কৃতকার্য প্রশিক্ষণার্থীদের স্ব-স্ব ক্ষেত্রে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহন করা হবে। এ লক্ষ্যে আইডিবি-বিআইএসইডব্লিউ এর প্লেসমেন্ট সেল সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

 

ইন্টারভিউ বোর্ডের নিয়ম কানুনসহ কিছু কমন প্রশ্ন এবং উত্তর

Now Reading
ইন্টারভিউ বোর্ডের নিয়ম কানুনসহ কিছু কমন প্রশ্ন এবং উত্তর

১. ইন্টারভিউ বোর্ডে সাধারণত প্রথম প্রশ্ন হয় যে, আপনার সম্পর্কে কিছু বলুন?

 পদবী  যদি হয় প্রোগ্রামার তাহলে উত্তরটি হতে পারে নিম্নরুপঃmaxresdefault.jpg

আমার নাম মোঃ কামরান আকমল, আমি ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে  গনিতে অনার্স  এবং মাষ্টার্স সম্পন্ন করেছি। এর পাশাপাশি  আমি  কোন ভাল প্রতিষ্ঠান থেকে ১ বছরের জাভা প্রোগ্রামিং কোর্সে প্রফ্রেশনাল  ডিপ্লোমা  কোর্স সম্পন্ন করেছি। আমি মনে করি আমি প্রোগ্রামার হিসাবে ভাল। প্রোগ্রামিং এর পাশাপাশি আমি টুকিটাকি নেটওয়ার্কিং ও পারি।  আমি বই পাড়তে এবং ফুটবল খেলা দেখতে পছন্দ করি।

প্রশ্নকর্তা প্রথমত জানতে চায় যে এই পদবীর জন্য আপনার ইন্টারেষ্ট বা আগ্রহ আছে কিনা এবং আপনার জ্ঞানের গভীরতা কতটুকু। এর পাশাপাশি আপনার আচার ব্যাবহার এবং কথাবার্তা ও তারা দেখে থাকেন ।  আপনার অন্য কোথাও চাকুরীর অভিজ্ঞতা আছে কিনা। চাকুরীর অভিজ্ঞতা থাকলে আপনার বেতন বাড়বে। এবং আপনার চাকুরী হওয়ার সম্ভবনা বেড়ে যায়। আর অভিজ্ঞতা না থাকলে চাকুরী ক্ষেত্রে কেউ নিতে চায় না। তবে আপনার যদি যোগ্যতা থাকে এবং ইন্টারভিউয়ার  যা জানতে চায়  সবই আপনি পারেন তাহলে তারা আপনাকে সিলেক্ট করতে পারে।  সমস্যা হয় শুধু বেতনের ক্ষেত্রে তবে অনেক সময় বেতন সার্কুলারে আগে থেকেই বলা থাকে।

আপনার সিভিটা সুন্দর গোছানো হতে হবে। এলোমেলো হলে চলবে না।  বানান ভুল করা যাবে না। দরকার হলে অভিজ্ঞ লোকদের দিয়ে আপনার সিভি পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।

আপনি স্মার্ট কিনা নাকি স্যান্ডেল পড়ে প্যান্ট ইং ছাড়া ইন্টারভিউ বোর্ডে হাজির হন। তারমানে ইন্টারভিউ দিতে হলে আপনার নির্দিষ্ট পোষাক পড়তেই হবে। প্যান্ট  ইং  এবং আয়রন করতেই হবে। চুল বড় রাখা যাবে না। চোখে চোখ রেখে  ষ্পষ্টভাবে কথা বলতে হবে। প্রশ্ন কর্তা কি প্রশ্ন করে তা আগে বুঝতে হবে। বুঝতে না পারলে আবার জিজ্ঞাসা করুন।   ফ্রেশারদের ক্ষেত্রে ওভার স্মার্ট না হওয়াই ভাল। তবে ইন্টারভিউ বোর্ডে ভয় পাবেন না। মুখে হাসির একটি ভাব রাখবেন। ইন্টারভিউ এর সময় অন্যরা কি পড়ে আসে সেটা দেখেন কারন সবাই যদি টাই পড়ে তাহলে আপনিও টাই পড়তেই পারেন এবং সেখানে ওভার স্মার্ট হওয়ার কোন কারন নেই।

উল্টাপাল্টা প্রশ্ন বা উত্তর করবেন না। যা প্রশ্ন করে ঠিক সেই উত্তরটি করুন। তবে প্রশ্ন করলে চুপ করে থাকবেন না। উত্তর না জানলে বলুন স্যার এখন আমি উত্তরটি দিতে পারব না আমাকে অন্য প্রশ্ন করুন।

আর পদবী যদি হয় মার্কেটিং তাহলে উত্তরটি হতে পারে নিম্নরুপঃ

আমার নাম মোঃ কামরান আকমল, আমি ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে  মার্কেটিং বিষয়ে  অনার্স  এবং মাষ্টার্স সম্পন্ন করেছি। আমি পড়াশুনার পাশাপাশি মার্কেটিং  এ আমার অনেক ঝোঁক ছিল তাই আমি মার্কেটিং এর উপর ১ বছর মেয়াদী প্রফেশনাল ডিপ্লোমা অর্জন করি। এছাড়াও আমি পরবর্তীতে  মেজর মার্কেটিং নিয়ে আইবিএ  থেকে এমবিএ  ডিগ্রী সম্পন্ন করি। আমি দর্শণীয় স্থান ঘুরতে পছন্দ করি।

২. পরবর্তীতে প্রশ্নকর্তা আপনাকে প্রশ্ন করতে পারে যে আপনার আশানুরুপ বেতন কত চান?

উত্তরটি একজন ফ্রেশারের জন্য যে রকম হবে, একজন অভিজ্ঞতা সম্পন্ন

প্রার্থীর ক্ষেত্রে উত্তরটি  ভিন্ন হবে।

যদি ফ্রেশার হন তাহলে উত্তরটি হবে অনেকটা এই রকম যে, আমি আপনার কোম্পানীতে এই পদবীর বেতনের রেঞ্জ সম্পর্কে জানতে চাই। আমি মনে করি আমার যোগ্যতা অনুযায়ী কোম্পানী আমার বেতন নির্ধারন করবে। তবে আমি বেতনের থেকে বেশী গুরুত্ব দেই আপনাদের সাথে কাজ করার সুযোগ পাওয়াকে  কারন আপনার কোম্পানী একটি মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানী এবং সেক্ষেত্রে আমি আপনার প্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে আগ্রহী এবং একজন ফ্রেশার হিসাবে আমি মনে করি আমার বেতন হওয়া উচিৎ ২০,০০০ টাকা/মাস।

 ৩. কেন আপনি আমাদের সাথে কাজ করতে চাচ্ছেন?

আমি মনে করি আমি যে পদবীর জন্য আপনার কোম্পানীতে আবেদন করেছি  তা আমাকে প্রফ্রেশনাল হতে শেখাবে। আপনার কোম্পানী একটি রিপুটেড কোম্পানী এবং আমি আপনার কোম্পানীতে যোগদান করে ক্যারিয়ার ডেভেলপম্যান্ট করতে আগ্রহী।

৪. আপনার কয়েকটি স্ট্রেন্থ এবং উইকনেস বলেন?

স্ট্রেন্থ বা বিশেষ গুনাবলী গুলো নিম্নরুপঃ

  • আমি সময়মত কাজ করতে পছন্দ করি। যে কাজ যে সময়ের মধ্যে করতে বলা হয় সেই কাজ আমি সেই সময়ে সম্পন্ন করতে আপ্রান চেষ্টা করি।
  • আমি সাহসী।
  • আমি চাপ সহ্য করতে পারি।
  • আমি সবার সাথে খুব সহজে মিশতে পারি সে হতে পারে আমার সিনিয়র বা কলিগ।
  • আমি নতুন কিছু শিখার ব্যাপারে খুবই আগ্রহী এবং আমি কাজ করতে ভালবাসি।

উইকনেস বা দুর্বলতা সমূহ হলো নিম্নরুপঃ

  • আমি খুবিই সহজ সরল এবং আমি সহজেই মানুষের কথা বিশ্বাস করি এবং এটা আমার দুর্বলতা।
  • আমি খুবই ইমোশনাল।

৫. আগামী ৫ বছর পর আপনি আপনাকে কোন যায়গায় দেখতে চান?

আগামী ৫ বছর পরে আমি আমাকে সিনিয়র প্রোগ্রামার  অথবা সিনিয়র সিষ্টেম এডমিন হিসাবে দেখতে চাই। পরবর্তীতে আমি প্রোজেক্ট ম্যানেজার হওয়ার ইচ্ছা আছে।

৬. আমাদের কোম্পানী সম্পর্কে আপনি কতটুকু জানেন?

আমি ইন্টারনেটে আপনাদের ওয়েবসাইট সম্পর্কে জেনেছি যে, আপনার এই কোম্পানীতে ইআরপি নিয়ে কাজ হয়। তাছাড়াও এখানে ই-কমার্স ও অন্যান্ন সেলস সিষ্টেম সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট করা হয়েছে। আমি দেখলাম আপনার অনেক ভাল ভাল ক্লাইন্ট আছে।আপানার কোম্পানী অফার করে নেটওয়্যার্কিং এবং ই-কমার্স সার্ভিস। অনেক সফটওয়্যার বিদেশে রপ্তানীও হয়েছে। তার মানে বিদেশের অনেক কাজও আপনাদের কোম্পানীতে হয়।

 

 

চাকুরীর ইন্টারভিউ বোর্ডের প্রস্তুতি কেমন হওয়া উচিৎ এবং ইন্টারভিউ বোর্ডের করণীয় কাজ কি কি ?

Now Reading
চাকুরীর ইন্টারভিউ বোর্ডের প্রস্তুতি কেমন হওয়া উচিৎ এবং ইন্টারভিউ বোর্ডের করণীয় কাজ কি কি ?

চাকুরী পাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেটা হতে পারে সরকারী বা বেসরকারী যে কোন চাকুরীই এখন পাওয়াটা যেন সোনার হরিনের মত। প্রতিটি সেক্টরে প্রতিটি পদের জন্য হাজার হাজার আবেদনপত্র   নেওয়া হয় এবং তার মধ্য হতে তিন/ চার জন বা একজন হয়ত চাকুরীটি পায়। তো আজ আমি আপনাদের বলব কিভাবে আপনি চাকুরীর জন্য প্রস্তুতি নিবেন, যাতে করে আপনি আপনার সোনার হরিণটাকে ধরতে পারেন এবং তার জন্য কি কি করণীয় পদক্ষেপ আপনাকে নিতে হবে সে সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণী।

আপনাকে প্রথমে প্রচুর পড়াশুনা করতে হবে।  অর্থ্যাৎ আপনি যে বিষয়ে ইন্টারভিউ দিবেন, সে বিষয়ে আপনার আপনার আরো বেশি জানতে হবে এবং আপনার পরিস্কার একটি ধারনা থাকতে হবে। সেই জন্য  আপনাকে বই, নোটবুক এবং যদি পারেন ইন্টারনেট দেখে বেশি বেশি জ্ঞান আহরণ করতে হবে।

আপনি যে সিভি অর্থ্যাৎ বায়োডাটা বানাবেন সেটা হতে হবে সাজানো ফুলের মত। তার মানে ধরেন প্রথমে থাকবে সুন্দর একটি হাস্যজ্বল ঝকঝকে কালার ছবি। তার পর থাকতে পারে আপনার কিছু ব্যাক্তিগত তথ্যাদী যেমন আপনার নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর এবং ঠিকানাটা  অবশ্যই হতে হবে বর্তমান ঠিকানা। সিভি যতটা সম্ভব ছোট হয় ততই ভাল তবে প্রয়োজনীয় তথ্যাদী থাকতে হবে। চাকুরী দাতারা দেখতে চান যে, আপনি কতটা দক্ষ এবং সেই জন্য সিভিতে আপনি যে কাজগুলো পারেন এবং ইতিপূর্বে করেছেন সেই সব কাজের তালিকা সংক্ষেপে দিতে হবে।

তারপরে আপনি দিতে পারেন আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতার টেবিল ফরমেটে বিবরণী যেমনঃ কোথায় পড়াশুনা করেছেন? কবে পাশ করেছেন? রেজাল্ট কি? ইত্যাদী কারন চাকুরীদাতার জানা প্রয়োজন যে আপনি কতটা শিক্ষিত । এর পরে চাকুরী দাতা জানতে চায় আপনার কোন চাকুরীর অভিজ্ঞতা আছে কিনা। আপনি যদি ফ্রেশার হন সেক্ষেত্রে আপনি শুধু লিখবেন আপনি কি কি পারেন। আপনার পরিকল্পনা কি অর্থ্যাৎে আপনি কোম্পানীর জন্য কি ধরনের কাজ করতে চান এবং নিজে কি কি কাজ করেছেন তার সংক্ষিপ্ত বিবরণী।

আর আপনি যদি অভিজ্ঞ হন তাহলে সিভিতে উল্লেখ করতে হবে যে, আপনার কত বছর অভিজ্ঞতা আছে, কোন কোন বিষয়ে আপনি পারদর্শী এবং আপনি কোন কোম্পানীতে কাজ করেছেন তার একটি পরিস্কার বিবরণী। উল্লেখ্য যে, যখন আপনি যখন কোন ডেটা দিবেন তখন সেটা টেবিল ফরমেটে দিলে চাকুরীদাতাদের জন্য দেখতে সুবিধা হয়। এর বাহিরে আপনি আপনার কাজের তালিকা বুলেট ফরমেটে ও দিতে পারেন। এ জন্য আপনি বিডি জবস সাইটের নির্দেশাবলীও দেখতে পারেন বা গুগলের সাহায্য নিয়ে সিভি ডাউনলোড করে দেখতে পারেন।

আপনি সিভিতে আপনার পার্সোনাল/ব্যাক্তিগত তথ্য ও দিতে পারেন। যেমনঃ আপনার নাম, বাবার নাম, মোবাইল নম্বর প্রয়োজনে ২টি, ই-মেইল, আপনার বর্তমান ঠিকানার পাশাপাশি আপনার স্থায়ী ঠিকানাও ‍ুদিতে পারেন। আপনার সিভির শেষ অংশে রেফারেন্স ব্যাবহার করতে পারেন যা অতী জরুরী একটি  বিষয় এবং যার রেফারেন্স দিবেন তাকে অবশ্যই জানিয়ে রাখবেন যে স্যার আমি আপনার নাম, পদবী, ফোন নম্বর সিভিতে দিয়েছি কোন প্রতিষ্ঠান থেকে ফোন আসলে যেন তিনি বলেন আমি তাকে চিনি, সে অনেক ভাল ইত্যাদি।  পারিশেষে স্ক্যান করা ডিজিটাল সিগনেচার অথবা অরিজিনাল সিগনেচারও সিভেতে  দিতে পারেন।

ইন্টারভিউ দেওয়ার আগে আপনার পড়াশুনার  প্রস্তুতি ভাল নেওয়ার পাশাপাশি আরো কিছু বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে। যেমনঃ আপনার আয়রন করা জামা কাপড়, ঘড়ি, মোবাইল, কাগজ, ২টি কলম যাতে করে একটি কলম শেষ হলেও অন্য কলমটি আপনার ব্যাকআপ হিসাবে কাজ করে।

আপনি একটি সুন্দর টাই  এবং কোটও রেডি রাখতে পারেন। তবে অনেকে কোট না পড়ে শুধু টাই পরেন। অনেকে মনে করে কোট পড়লে চাকুরীদাতারা ইন্টারভিউতে ওভার স্মার্ট মনে করতে পারেন তাই কোটটি এডিয়ে চলতে পারলে ভাল। এছাড়াও গরমের সময় আপনি কোট পড়লে ঘেমে যাবেন। তবে সবাই যদি কোট টাই পরে তাহলে আপনি পড়তে পারবেন না কেন ? পদবী যদি বড় হয় সেক্ষেত্রে পরতে পারেন। অর্থ্যাৎ আপনাকে পরিস্থিতি বুঝে কাজ করতে হবে। আইটি পদের জব হলে আপনার প্রজেক্টটি আপনি পেন ড্রাইভে অথবা ডিভিডিতে রাইট করে নিতে পারেন। অনেকের প্রজেক্ট গুলো নেটে আপলোড করে ও দেখাতে পারেন। অথবা আপনি গুগল ড্রাইভে প্রজেক্ট রেখেও দেখাতে পারেন।

ইন্টারভিউ বোর্ডে যাওয়ার কমপক্ষে ১/২ ঘন্টা আগে আপনার সঠিক লোকেশনে পৌঁছাতে হবে এবং তার জন্য আপনার ঘড়ি দেখে বাসা থেকে বের হতে হবে। আপনি সঠিক সময়ে যেতে পারেন কিনা সেটাও ইন্টারভিউ এর একটি অংশ। আপনাকে যখন তারা ডাকবে ঠিক তখনই আপনার যেতে হবে। দেরী করলে মোটেও চলবে না। ইন্টারভিউ এর আগের দিন আপনি সেই কোম্পানীতে একদিন যেয়ে তাদের ড্রেসকোড দেখতে পারেন। কোম্পানীতে কর্মরত লোকজনের সাথে কথা বলে দেখতে পারেন যে কোম্পানীটি কেমন এবং সেলারি কেমন দেয় ইত্যাদী।

ইন্টারভিউ বোর্ডে ঢুকবার আগে অবশ্যই আপনার মোবাইল ফোন অফ রাখতে হবে। অনুমতি নিয়ে সালাম দিয়ে আদবের সাথে ইন্টারভিউ বোর্ডে ঢুকতে হবে। তারা বসতে বললে বসবেন। তারা যদি বাংলায় প্রশ্ন করে তাহলে বাংলায় উত্তর দিবেন আর তারা যদি ইংরেজীতে প্রশ্ন করেন তাহলে ইংরেজিীতে উত্তর দিবেন কিন্তু তার আগে একটু প্রস্তুতি নেওয়া দরকার । আর ইংরেজী না পারলে বলবেন আপনি ইংরেজী বুঝছেন কিন্তু বলতে একটু সমস্যা আছে। বাংলাতে প্রশ্ন করলে আমার জন্য উত্তর দেওয়া সহজ হয়।

আপনি প্রাথমিক ভাবে সে সকল প্রশ্নের উত্তর আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে রাখবেন সেই প্রশ্নগুলো হলোঃ

আপনার নিজের সম্পর্কে বলুন, আপনি কেন আমাদের সাথে কাজ করতে চাচ্ছেন। অর্থ্যাৎ আপনাকে তাদের/কোম্পানীর সাইট থেকে তাদের সম্পর্কে আগে থেকে জানতে হবে। তারা কিকি কাজ করে তাদের কোম্পানীতে কত জন লোক আছে। কার পদবী কি এবং কোম্পানীর মালিকের নাম কি ইত্যাদী।

আপনি যদি কোন প্রশ্নের উত্তর না জানেন তাহলে বলবেন সঠিক উত্তরটি আমার জানা নেই তবে বর্তমান ইন্টারনেট থেকে জেনে আপনাদের জানাতে পারবো। যদি লিখিত পরীক্ষা হয় তাহলে আপনাকে জানতে হবে এর পর ইন্টারভিউ আজকেই হবে কিনা এবং পরীক্ষার ফলাফল কবে দিবে ইত্যাদী। বেতনের কথা বললে বলবেন আমি আসলে জানতে চাই আমার পদের জন্য আপনাদের কোম্পানীতে কত বেতন দেওয়া হয়।  একবারে কম বেতন বলবেন না আবার অনেক বেশী বেশী বেতন ও চাবেন  না। আবার এইরকম ও বলা ঠিক হবে না যে আপনারা যা দেন তাই। তখন ওনারা আপনাকে হয়তো বলবে আমরা যদি প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা দেই তাহলেও কি আপনি চাকুরী করতে  রাজি আছেন?  ইন্টারভিউ শেষে সবাইকে সালাম দিবেন।

একটি ইন্টারভিউ

Now Reading
একটি ইন্টারভিউ

– স্যার আপনার নামটা?
– জ্বি নাম প্রীতম, কিন্তু কেও এই নামে ডাকে না।
– স্যার সম্প্রতি নোয়াখালী বিভাগ চাই নামে অনেক আন্দোলন চলছে। এই ব্যাপারে আপনার কি মতামত?
– মতামতের তো কিছু নাই। নোয়াখালী যদি বিভাগ চায় তাহলে নিবে। আরো কোন জেলার বিভাগ দরকার? তাইলে বলেন, আজকেই সব স্বীকৃতি দিয়া দিবো।
– এটাও কি সম্ভব? এইভাবে কি দেশ চলবে?
– দেশ তো চলছেই। আর আজকে যদি নোয়াখালী রা আন্দোলনে জিতে যায় আর নোয়াখালী বিভাগ হয় তাহলে পরশু থেকেই দেখবেন বরিশাইল্লা রা আবার শুরু করবে বরিশাল আলাদা রাষ্ট চাই। আর তখন যুদ্ধ ঘোষনা করবে। তাদের মেইন টার্গেট হবে নোয়াখালী আর ঢাকা।
– আমাদের আইন কি করবে তাহলে?
– আইন দিয়া তো হবে না। অন্তঃদলীয় কোন্দল হবে। মিটিং মিছিল হবে। আমাদের রাষ্ট পক্ষ গৃহপালীত বিরোধী দল সবাই বৈঠক করবে। কিন্তু কোন সমাধান হবে না।
– কেনো হবে না? এত বড় বড় মাথার মানুষ গুলা আলোচনা করলেই তো সমাধান হয়ে যাবে।
– আপনি ব্যাপার টা বুঝেন নাই। সমাধান মানেই শান্তি। শান্তির দরকার নাই তো। শান্তি আসলেই চে গুয়েভারা বা ফিদেল_কাস্ট্রো এর মতন বিপ্লবী আসবে না। আমাদের তো বিপ্লবী দরকার।আপনি দেখেন নাই, জয়নুল আবেদিন ফারুক সাহেব কে ধুম ধারাক্কা মাইর দিয়ে এক পুলিশ অফিসার এর সে কি প্রমোশন।
– তা দেখেছি বটে কিন্তু?
– আপনি এত কিন্তু কিন্তু করেন কেন? আমরা শান্তিতে বিশ্বাসী। তবে সেইটা নিজ বাসার। কার বাসায় কি হইলো আমার দেখার ব্যাপার না। শুধু ইকটু আকটু বুঝেন নাই, ঐ সুইচ টুইচ ব্যাংকে এই আর কি। আমরা কিন্তু শুধুই শান্তি চাই।
– আপনার সুইচ ব্যাংকে একাউন্ট আছে?
– নাউজুবিল্লাহ। কি বলেন এটি? দেয়ালের ও কান আছে।
– আপনি ই তো বললেন।
– আমি বলা আর আপনে বলায় তফাৎ আছে তো। আমরা আম পাবলিক, আমরা আম কে আম মনে করি। আপনারা আম কে জাম, কাঁঠাল করে দিবেন। বিশ্বাস নাই তো।
–  প্রধানমন্ত্রী সমুদ্রে গেলেন। নিউজের টপে চলে এলেন। এই ব্যপার টা কিন্তু এত প্রচারের দরকার ছিলো না। কি বলেন?
– নুসরাত ফারিয়া শুটিং এ পাদ দিসে, সেইটা কে আপনারা পুরা দুনিয়াকে জানাইসেন। আর আমাদের প্রধানমন্ত্রী সমুদ্রে গেলেই দোষ।
– আমাদের কাজ ই তো নিউজ করা। সবাইকে সত্যটা জানানো।
– শুনেন, বাথরোমের খবর কাওকে জানাইতে নাই। আপনারা কিছু পাইলেই হইলো- তনু, ফালানী, রামপাল, তিস্তা, বাহুবলী, ডুব, আলু, মূলা কিছু কি আর বাদ রাখেন নাকি।
– জনাব ট্রাম্প এর ব্যাপারে কিছু বলার আছে কি?
– সরি। আমি পাবনার লোকদের সম্পর্কে কিছু বলতে চাই না। সুরায়েজ এর বংশধর সবগুলা। পুরাই ডেঞ্জারাস, কামড় দিয়া দিবো।
– স্যার, বর্তমানে মেয়েরা লাইভ এ কি রকম অশ্লিল কর্মকান্ড করে, বেহায়াপানা করে। এইসব আপনি কিভাবে দেখেন?
– আমি তো HD তেই দেখতে চাই, কিন্তু নেট ডিস্টার্ব করে বলে দেখা হয় না।
– স্যার কি কিছু বললেন?
– না মানে এইসব ঠিক না। মেয়েগুলা নষ্ট হয়ে গেছে। যদিও আমি এইসব দেখি না। মানে শুনি আর কি, লোকে বলে।।
– স্যার, শোনা কথায় কান দিতে আছে?
– অবশ্যই আছে। আপনার বাসায় ৫ তলায় আগুন লাগছে। আপনে ৩ তলায় আছেন।সবাই আগুন বলে চিল্লাইতাসে আপনি কি করবেন? উপরে গিয়ে আগুন দেখে আসবেন নাকি নিচে নামবেন।
– স্যার, দুইটা তো দুই রকম।
– আপনি বেশী বুঝেন। শোনা কথায় ও কান দিতে হয়। তবে কানটা কার দিবেন সেইটা ভেবে দেখে নিবেন।
– স্যার, আপনার কত টাকা আছে টোটাল? মানে সম্পত্তি আর কি…
– জ্বি কি বললেন, বুঝলাম না।
– মানে স্যার আপনার সম্পত্তি…
– কথা শোনা যাচ্ছে না। কি বললেন?
– আমি তাহলে অন্য প্রশ্নে যাই…
– হ্যাঁ এইবার শুনতে পারছি… বলেন
– স্যার, আপনার দাম্পত্য জীবন সম্পর্কে বলবেন?
– তোমার বিয়ে হইছে?
-না স্যার। মেয়ে দেখতেছে। শিগ্রই হবে আশা করি।
– কইরো না। বউ হইতাসে আগুনের মতন। কিছুক্ষন সামনে থাকা যায়, সব সময় না।
– তাহলে স্যার এত মানুষ বিয়ে করে কেন?
– সাপে কাটলে মানুষ মারা যায়, তাই বলে কি মানুষ সাপ ধরে না? এমনি ব্যাপার টা… ।

-স্যার, আপনার মেয়ের হাসবেন্ড সম্প্রতি “দিনে নারী উন্নয়ন” নামে একটা প্রতিষ্ঠান খুলেছে। এই ব্যাপারে যদি স্যার আপনি কিছু বলেন।

– আসলে বলার মতন তো কিছু নাই। তার উদ্দেশ্য মহৎ। দিনের বেলা নারী উন্নয়ন। নামেই বুঝা যায়, কতটা সামাজিক প্রতিষ্ঠান।

-কিন্তু স্যার, দিনে নারী উন্নয়ন কেমন না নামটা?

– তাহলে আপনি কি বলেন, রাতে নারী উন্নয়ন করতে? এইসব সমাজ মেনে নিবে? আমাকে ভোট দিবে এইসব করলে? কেন যে আপনি সাংবাদিকতায় আসলেন। আফসোস।

-স্যার, দেখেছি আপনি অনেক যায়গায় সামাজিক কাজের সাথে যুক্ত থাকেন। ব্যাপারটা খুবি আনন্দদায়ক। কিন্তু স্যার, জার্মানি’র নাইট ক্লাবে আপনার সাথে এক তরুণীর ছবি সম্প্রতি খুব আলোড়ন তৈরি করেছে। এই ব্যাপারে স্যার যদি কিছু বলেন।

– আসলে বলার মতন তো কিছু রাখেন নি আপনারা। একটা তরুণী আমার সাথে তো থাকতেই পারে তাই না। আমিতো আর সাধু সন্ন্যাসী কেও না যে একা জীবন যাপন করবো। মেয়েটা বাংলাদেশী। আমাদের বিরোধী দলের সমর্থক। আমি তাকে শুধু দ্বিনের পথে আনার জন্য ক্লাবে নিয়ে জ্ঞান দান করছিলাম।

-স্যার, নাইট ক্লাবে দ্বিনের আলো ছড়াচ্ছিলেন আপনি? কেমন জানি হয়ে গেলো না ব্যাপার টা?

– তাতে সমস্যাটা কি? নাইট ক্লাবে কি সমাজের কথা, জ্ঞানের কথা বলা নিষেধ নাকি?

– না স্যার। না নেই। কিন্তু তা বলে নাইট ক্লাবে? জনগন কিন্তু স্যার অন্য কথা বলছে?

– আরে রাখেন আপনার জনগন এর কথা। আমরা ক্ষমতায় আসি, নানা রকম টর্চার করি আবার ভোট চাই। তারা ভোট দেয়, অত্যাচার অনাচার সহ্য করে, মিটিং-মিছিল করে, আবার আমাদের ই ভোট দেয়। ভোটের আগে জনগন, আমার চিন্তায় ব্যাপার না।
– স্যার অনেক ধন্যবাদ। সময় দেয়ার জন্য আমাকে।
– আমরা সাধারন পাবলিক। এই জিনিসটা আর জীবনটাই পাইবেন। আর কিছুই নাই..
– তো স্যার আজকের মতন বিদায়.. ভালো থাকবেন।

(শুধুমাত্র বিনোদন এর জন্য এই ইন্টারভিউটি । কাওকে ছোট করা বা অপমান করা এই লিখার উদ্দেশ্য না। তাই শুধুমাত্র উপভোগ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।)