আবারো জঙ্গি থাবায় বাংলাদেশ!

Now Reading
আবারো জঙ্গি থাবায় বাংলাদেশ!

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান চলাকালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের জনপ্রিয় অধ্যাপক ও প্রখ্যাত লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল হামলার শিকার হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার এলাকায় মুক্তমঞ্চে গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দুদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের  বিভাগীয় সভাপতি হিসেবে এর উদ্বোধন করেছিলেন ড. জাফর ইকবাল। গত শনিবার ৩মার্চ সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি রোবট প্রতিযোগিতা উপভোগ করছিলেন এমন সময় বিকাল ৫টা ৩৫ মিনিটের দিকে অধ্যাপক জাফর ইকবালকে পেছন দিক হতে ছুরিকাঘাত করে ফয়জুর রহমান ওরফে ফয়জুল (২৪) নামের এক যুবক। ঘটনার পরপরই শিক্ষার্থীরা হামলাকারীকে আটক করে বেধড়ক গণপিটুনি দেয়, অজ্ঞান অবস্থায় তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-২ এ আটকে রেখে পরে তারা পুলিশে সোপর্দ করে। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে আটক হামলাকারী সেই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ ও অধিকতর তদন্তের জন্য র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।

হামলাকারী ফয়জুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী কুমারগাঁওয়ের শেখপাড়ার বাসিন্দা মাদ্রাসা শিক্ষক আতিকুর রহমান এর ছেলে, তার মূল বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই। ঘটনার পরপরই শেখপাড়ার বাসাটি তালাবদ্ধ করে ফয়জুলের পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনার দিন রাতেই হামলাকারী ফয়জুর রহমানের তালাবদ্ধ বাসায় তল্লাশি চালিয়ে ভেতর থেকে ল্যাপটপসহ একজনকে আটক করে।

বরাবরই জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ অধ্যাপক জাফর ইকবাল বেশ কিছুদিন ধরেই জঙ্গি হামলার হুমকি পেয়ে আসছিলেন। গত দুই বছর পূর্বে ২০১৬ সালের জুনে দেশের শীর্ষ এক গোয়েন্দা সংস্থা থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো রিপোর্ট অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ওপর সম্ভাব্য হামলা সংক্রান্ত নিরাপত্তাবিষয়ক একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। নিরাপত্তাবিষয়ক সেই বিশেষ প্রতিবেদনের তালিকায় জাফর ইকবালের নাম ছিল দ্বিতীয় নাম্বারে। তখন তাঁকে চলাচলে সতর্কতা পালন করতে সরকারের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

২০১৬ সালের অক্টোবরে জঙ্গি সংগঠন আনসার উল্লাহ বাংলা টিমের পরিচয়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে হত্যার হুমকির পর জালালাবাদ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন জাফর ইকবাল দম্পতি, এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে তার নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক পুলিশ পাহারা দেয়া হচ্ছে।

কিন্তু ঘটনার কিছু সময় পূর্বে তোলা এক ছবিতে দেখা যায়, ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা তিন পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দুজনই তাদের মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত আর ঠিক তাদের পাশেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় ওই হামলাকারী যুবককে। প্রশ্ন উঠেছে সেই পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ববোধ নিয়ে, নিরাপত্তার বিষয়ে তাদের উদাসীনতা যথেষ্ট দৃশ্যমান।

গতকাল বিকেলে হামলার পর রক্তাক্ত অবস্থায় জাফর ইকবালকে বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে প্রথমে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করানোর পরে ইএনটি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এন কে সিনহাকে প্রধান করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। তাঁদের তত্ত্বাবধানে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করে রাত নয়টার দিকে মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য ড. ইকবালকে রাতেই এয়ার এ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার সিএমএইচে পাঠানো হয়।

সর্বশেষ খবর অনুযায়ী ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন ছুরিকাঘাতে আহত লেখক অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল এখন পূর্বের চেয়ে শঙ্কামুক্ত। আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।