আমার শহর জ্যামের ঘোরে

Now Reading
আমার শহর জ্যামের ঘোরে

বাইরের দেশে মানুষরা দিনে অনেক কাজ করে।তারা কঠোর পরিশ্রম করে।আমরা করি না।আমরা অলস।এটা আমাদের জন্যে বিশাল একটা হতাশা।না…সবটুকুই হতাশা নয়।সব দোষ শুধু নিজেদের উপর নিলে চলবে না।কিছু দায়ভার পারিপার্শ্বিক সুযোগ সুবিধার উপরও দেয়া যাক।

 

একটি মানুষ প্রতিদিন কতটুকু সময় পায়?এর সংক্ষিপ্ত এবং একমাত্র উত্তর চব্বিশ ঘণ্টা।একটা মানুষের হাতে প্রতিদিন চব্বিশটা ঘণ্টা সময় থাকে।একটা মানুষ এই সময়ের ভিতর কি কি করতে পারে?অনেককিছু।হিসাব করে বলা কঠিন।সময়ের সুন্দর পরিকল্পিত ব্যবহার আমাদের অনেক সাফল্য এনে দিতে পারে।

চব্বিশ ঘণ্টা সময় চারটি খানি কথা নয়।এখন কথা হচ্ছে আপনি আপনার পরিকল্পনা অনুযায়ী সময়টা ব্যবহার করতে পারবেন কি না।

 

গতকাল ৮ নভেম্বর ২০১৭;রোজ বুধবার আমার হাতে ঠিক চব্বিশ ঘণ্টা সময়ই ছিল।কিন্তু সারাদিনে আমি কাজে লাগাতে পেরেছি মাত্র দুই ঘণ্টা।কেন? আমার নিজের অবহেলার কারনে? মোটেই না।

সকাল ১১টায় বাসা থেকে বের হয়েছি পুরান ঢাকার দিকে যাব।থাকি মোহাম্মদপুরে।বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অনুষ্ঠানের মঞ্চনাটকের জন্যে কিছু সরঞ্জাম কিনতে হবে শাঁখারিবাজার থেকে।বেলা বারোটার দিকে বাসে উঠলাম শ্যামলী থেকে আর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে যখন নামি,ঘড়িতে তখন বিকেল তিনটা।হাতে গুণে হিসাব করলে তিনটা ঘণ্টা আমি এবং আমার মত জ্যামে বসে থাকা মানুষ গুলো নিছক গাড়িতে বসে কাটিয়ে দিলাম।শাঁখারিবাজারে আমার কাজ শেষ হল বিকেল পাঁচটার দিকে।বাসে উঠতে উঠতে বাজলো সাড়ে পাঁচটা।আমি যখন আমার বাসায় এসে পৌঁছাই তখন রাত সাড়ে আটটা।আবার গেল তিন ঘণ্টা।তাহলে সারাদিনে আমার তিন ঘণ্টার কাজের জন্যে বাড়তি ছয় ঘণ্টা মোট নয় ঘণ্টা খরচ করতে হয়েছে।

 

এটা হল মাত্র একটা দিনের হিসাব।এভাবে প্রত্যেকটা দিন আমার মত কোটি বাঙ্গালির কতটুকু সময় অযথা অকারণে জ্যামে আটকে থেকে অলসভাবে গাড়িতে বসে কেটে যাচ্ছে কেউ সেই হিসেব কখনো করে দেখেছে কি?স্বল্প উন্নত দেশের মানুষ আমরা।দূষিত পরিবেশ,তুলনামূলক অনুন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা,জনসংখ্যার আদিপত্যে পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাব_____এ সব নিয়ামকের কারণে উন্নত দেশ গুলোর মানুষের চেয়ে আমরা এমনিতেই আয়ু কম পাই।জীবনে সময় খুব কম,কিন্তু তবুও আমরা উন্নত দেশ গুলোর সাথে পাল্লা দিয়ে ঠিকই টিকে আছি।জীবনের সবটুকু সময় ব্যবহার না করতে পারলেও আমরা ঠিকই বছর বছর বিশ্ববিদ্যালয় গুলো থেকে আমেরিকা,যুক্তরাজ্য,কানাডা,জার্মানি,জাপান সহ পৃথিবীর বিভিন্ন সেরা বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ভুরি ভুরি মেধাবী ছাত্র রপ্তানি করছি।তারা সেখানে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে নামযশ জমাচ্ছে।কেউ কেউ বড় মাপের বিজ্ঞানীও হচ্ছে; নাসার মত গবেষণা সংস্থায় কাজ করছে।জীবনের অধিকাংশ সময় জ্যামে কাটিয়ে দেয়ার পরও আমাদের দেশ থেকে বড় মাপের কবি,সাহিত্যিক,লেখক বের হচ্ছে,দার্শনিক ইতিহাসবিদ তৈরি হচ্ছে_____খেলাধুলা,শিক্ষা সংস্কৃতি কোনদিক থেকে আমরা খুব বেশি পিছিয়ে নেই।বরং দিন দিন আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

 

যে জাতি এত সব প্রতিবন্ধকতা থাকার সত্তেও অনেক দূর যাওয়ার স্বপ্ন দেখার সাহস করে,বিশ্বজয়ের পরিক্লপনা মাথায় নিয়ে ঘুরে বেড়ায়,একবার গভীর মনোযোগ দিয়ে ভাবুন,সে জাতিকে দিনের সবটুকু সময় ব্যবহার করতে দিলে তারা কি করতে পারে!

উন্নত দেশ গুলোতে যে ট্রাফিক জ্যাম একেবারেই নেই এমন ধারনা ভুল।সেই সব দেশেও জ্যাম আছে।অবশ্যই আছে।তবে সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার করতে হয় না।স্বল্প সময়ের জ্যাম।তারা তাদের কাজ শেষ করে বিনোদনের জন্যে পর্যাপ্ত সময় পায়,বিশ্রামের সুযোগ পায়,মন ফ্রেস থাকে।পরবর্তীতে কাজ করার সময় পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে,ক্লান্তিহীন কাজ করতে পারে।বিষন্নতা এসে মনকে ভারাক্রান্ত করে না।

আর আমরা খুব সকালে ঘর থেকে বের হই জ্যাম ঠেলে গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে আর সেখান থেকে বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত হয়।ব্যক্তিগত কাজ গুলো সেরে আমরা ঠিকমত ঘুম আর বিশ্রামের সুযোগ পাই না,চিত্ত-বিনোদন আর মনোরঞ্জনের কথা না হয় বাদই দিলাম।আমরা এক ঘেয়ে জীবনের ক্লান্তিকর অনুভূতি বয়ে বেড়াচ্ছি।মানুষের মস্তিষ্ক কখনো একটানা যন্ত্রের মত কাজ করতে পারে না।বিশ্রাম দরকার হয়,চিত্ত-বিনোদন দরকার হয়।একটানা একটা কাজ দীর্ঘ সময় ধরে করতে গেলে মস্তিষ্ক ঠিকঠাক কাজ করতে চায় না।তাই মাঝেমাঝে কাজের ফাঁকে একটু বিনোদন আবশ্যক।এই ধরুন গান শোনা,মুভি দেখা,কিছুক্ষণের জন্যে কোথাও থেকে ঘুরে আসা,বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়া ইত্যাদি।

 

আমাদের এই প্রতিবন্ধকতা কিন্তু আময়াদেরই সৃষ্টি।অপরিকল্পিত সড়ক ব্যবস্থা,ট্রাফিক আইন পালনে অনিহা ও যথোপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা না থাকা,ফিটনেস বিহীন গাড়ি,ভিআইপিদের বেশি সুবিধা দেয়া ইত্যাদি কারণেই কিন্তু জ্যাম গুলো বাঁধে।এই সমস্যা গুলো সমাধান করা খুব বেশি কঠিন নয়।শুধু কর্তৃপক্ষের একটু সদিচ্ছা আর সতর্ক দৃষ্টি দরকার।এই সমস্যা গুলোর সমাধান হলে হয়ত ঢাকা শহর থেকে জ্যাম একেবারে উদাও হয়ে যাবে না,তবে অনেকক্ষাণি কমবে,মানুষের ক্লান্তি আর দূরাবস্থার কিছুটা হলেও সমাধান মিলবে।কিন্তু হতাশার কথা হচ্ছে আমরা কেউই এ বিষইয়টা নিয়ে সোচ্চার হচ্ছি না।দিন তো কেটে যাচ্ছে,এই জ্যাম মাথায় নিয়েই জীবনে উন্নতি করতে হবে_____এই ধরনের মানসিকতা আমাদের মাথায় গেঁথে গেছে।আমরা এখন সমাধান করার চেষ্টা না করে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছি।আমরা ধরেই নিয়েছি জ্যাম নামক সমস্যার কোন সমাধান নেই আর এই সমস্যার সাথে মানিয়ে চলতে আমরা বাধ্য।

সরকার,প্রশাসন,সাধারণ জনগণ সবাই একসাথে কাজ করলে এই সমস্যার সমাধান মিলতে খুব বেশি দেরি হবে না।

 

পরিশেষে কিছু আশার কথা বলি।সবাই বলে বাঙ্গালিরা অলস জাতি,আরাম প্রিয় জাতি।না,এই ধারনা সম্পূর্ণ ভুল।আমাদের যথেষ্ট মেধা যেমন আছে,তেমনি কঠোর পরিশ্রম করার সামর্থও আছে।আমরা বাঙ্গালিরা জীবনের খুব কম সময় কাজে লাগাতে পারলেও; এই কম সময়ে বড় ধরনের সাফল্য এনে বিশ্ববাসীকে বারবার অবাক করেছি।ড. জাহদ হাসান,আতিক উজ জামান,রুবাব খান,জামান নজরুল ইসলাম………এভাবে বলা শুরু করলে সারাদিনেও শেষ হবে না।আমরা এগিয়ে যাচ্ছি,এবং আরও দ্রুত বেগে ছুটে যেতে পারব যদি জ্যামে আটকা পড়ে আমাদের মূল্যবান সময় গুলো এভাবে নষ্ট না হয়।

 

 

// আমাদের শহরটা ছোট।বিশ্ববাসী বারবার গলা ফাটিয়ে বলে এই শহর বাসের অযোগ্য।
তবু আমরা বেঁচে থাকি।আমাদের প্রখর প্রাণশক্তি আমাদের বাঁচিয়ে রাখে।
এই জ্বালাময়ী বিশ্রী কোলাহলের মাঝেও আমাদের কবি গুলো কবিতা লিখে,গল্পে গল্পে সাহিত্য সাজায়।ম্যাথমেটিক্সের সাথে বিন্ধুত্ব পাতান ছেলেটা ডিফারেন্সিয়াল ক্যালকুলাসের রহস্যময় জটিল ধাঁধাঁর সমাধান করে ফেলে,এক কোণে বসে গভীর সন্তর্পনে কোন এক ইতিহাসবিদ পুরনো দিনের কথা সামনে তুলে আনে……কেউই তো থেমে নেই।দিন চলে যাচ্ছে তো!

এই অবহেলিত শহরে,ময়লার স্তুপে জমে দুর্গন্ধময় কিলবিল করা জীবাণু আর কীটপতঙ্গের সাথে,বখাটে যানবাহনের প্যা পু চিৎকার সাথে নিয়ে আমরা দিব্যি হেসে খেলে বেঁচে আছি।হোক না বাসের অযোগ্য,মানুষের প্রাণশক্তি খুব কঠিন।যে কোন পরিস্থির সাথে তারা  খাপ খাইয়ে চলতে জানে…//

ভয়াবহ ট্র্যাফিক জ্যাম

Now Reading
ভয়াবহ ট্র্যাফিক জ্যাম

বাংলাদেশ বিশ্বের একটি সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। ট্র্যাফিক জ্যাম দেশের প্রধান সমস্যা, বিশেষত ঢাকা এবং চট্টগ্রাম জেলা এই সমস্যা অনেক বেশি। ঢাকা একটি মেগা সিটি এবং ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী। ঢাকায় ১২ লাখেরও বেশি মানুষ বাস করে এবং ঢাকার জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে । সুতরাং, এই বিশাল জনসংখ্যার দ্বারা তৈরি হচ্ছে অনেক সমস্যা। প্রতিদিন সাত লাখ রিক্সা ঢাকার রাস্তায় চলাচল করে এবং এই বিপুল সংখ্যক রিক্সা শহরে ভিতরে একটি ট্র্যাফিক জ্যাম তৈরি করছে কিন্তু মাত্র ৭৫ হাজার রিক্সার রয়েছে আইনি নম্বর বা সরকারি নথি ভুক্ত । সময়ে সময়ে অনেক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে এই সংখ্যা কমাতে কিন্তু উদ্যোগ সাধারণত কোন ফলাফল নিয়ে আসেনি ।

ট্রাফিক জ্যাম ঢাকা শহরের একটি নিয়মিত বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে। ট্র্যাফিক জ্যাম আমাদের বাণিজ্য ও বাণিজ্য বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত। অফিস বা স্কুলে যাওয়ার জন্য যদি আমরা বাড়ি থেকে বের হই তাহলে আমরা জ্যামের মুখোমুখি হতে পারি এবং জ্যামের কারণে কেবল মাত্র ২০ মিনিটের পথ দুটি ঘন্টা লাগতে পারে।

আমি ঢাকায় বাস করছি, আমার বাসা থেকে মাত্র ২0 মিনিট দূরে আমার বিশ্ববিদ্যালয়, কিন্তু প্রতিদিন ক্লাস শুরু হওয়ার ২ ঘন্টা আগে আমি আমার বাসা থেকে বের হই কারন ভয়াবহ  ট্র্যাফিক জ্যাম । এই  ভয়াবহ ট্রাফিক জ্যামের কারণে, বেশিরভাগ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছাতে প্রায় ২ ঘন্টা সময় লাগে । তাই আমরা আমাদের গন্তব্য পৌঁছাতে আরো সময় প্রয়োজন হয় এবং আমরা আমাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে থাকি।

ট্র্যাফিক জ্যামের জন্য আমরা আমাদের কাজ সময় মত শেষ করতে পারি না তাতে আমাদের শিল্প-বাণিজ্য অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, যার কারনে আমরা যথাসময়ে পণ্য ও সামগ্রী সরবরাহ করতে পারি না। যদি আমরা শহরের অন্য কোথাও যেতে চাই তবে রাস্তায় দিনের অর্ধেক সময় ব্যয় করতে হবে। একই সাথে এটি আমাদের পরিবেশ দূষিত করেছে কারণ অনেক যানবাহন একসঙ্গে জড়ো হচ্ছে এবং তৈরি হচ্ছে শব্দ ও বায়ু দূষণ ।

5-20140712RajibDhar85983_0.jpg

কেন তৈরি হচ্ছে এই ট্র্যাফিক জ্যাম???

ঢাকা শহরের ভেতর ঘন ঘন জ্যাম সৃষ্টি করার জন্য রয়েছে অনেক কারণ। অবৈধ পার্কিং ট্রাফিক জ্যাম এর জন্য একটি প্রধান কারণ । আমরা প্রায় সময় দেখি যেকানে সেখানে গাড়ি,সিএনজি, রিক্সা, বাস ইত্যাদি পার্কিং করে রেখেছে আর এই পার্কিং এর কারনে তৈরি হচ্ছে ট্র্যাফিক জ্যাম । ভুল ট্রাফিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা, অপর্যাপ্ত জনশক্তি ,সংকীর্ণ রাস্তার, এবং ড্রাইভারের ওভারটেক করার মানসিকতা তৈরি করেছে যানজট এবং পাশাপাশি জনসাধারণকে নিমজ্জিত করে ভ্রমণকারীদের দুর্ভোগ আরো বাড়িয়ে দেয়। বাস ড্রাইভার বেশিরভাগই এই ট্র্যাফিক জ্যামের জন্য দায়ী এবং তারা ট্র্যাফিক নিয়ম এবং সিগন্যালগুলির ব্যাপারে বেশির ভাগ সময় নিয়ম মানছে না। ভিআইপি প্রোটোকল রক্ষণাবেক্ষণ রাস্তায় ঘন ঘন ট্রাফিক জ্যামের আরেকটি কারণ এবং শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলির বিভাজক সমস্যা কারনেও ট্র্যাফিক জ্যাম হয়ে থাকে । এছাড়া, ওয়াক্স অ্যান্ড সিউর অথরিটি (ওয়াসা), ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই অথরিটি (ডিইএসএ), টেলিফোন এবং টেলিগ্রাফ সংস্থার কোনও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়া একই রাস্তায় অবৈধ গাড়ি পার্কিং এবং অপরিকল্পিত সড়ক খনন করা অসম্ভব ট্রাফিক জ্যামের জন্য দায়ী। ঢাকায় যে কোনও রাস্তাঘাট সিএনজি, রিকশা, বাস, ইত্যাদি একাধিক লাইন তৈরি করে কারন সবাই আগে যেতে চায়, কিন্তু একটি  ক্ষুদ্র স্থান দখল করার জন্য নিদারুণ হতাশা হয়ে পরে এবং সেই কারনেই যানযট আরো বেড়ে যায় ।

Behavioral বিজ্ঞানীরা একটি পরিক্ষায় দেখেছেন যে একজন মাণুষ কোন ভিড়ের মধ্যে অবস্থান করে তখন সে যদি তার কাজ করতে না পারে তাহলে সে আক্রমনাত্মক আচরণ প্রদর্শন করে। ঠিক একি রকম ভাবে একজন চালক যখন রাস্তায় গাড়ি চালায় কিন্তু যানযটের কারনে কোন দিকে যাওয়া সম্ভব না তখন চালকরা রাস্তার মাজে একাধিক লেন বা একটি ক্ষুদ্র স্থান দখল করার জন্য নিদারুণ হতাশা হয়ে পরবে । অতএব, ঢাকার পথচারীরা,রিক্সাচালক, সিএনজি ড্রাইভার, ভ্যান চালক এবং বাস / ট্রাক ড্রাইভারদের সব লক্ষণীয় আগ্রাসন এবং অন্যের অধিকার কে উপেক্ষা করে কোন নিয়ম না মেনে একটি ছোট ফাঁকা স্থানের জন্য প্রতিযোগিতা নেমে যাওয়াটা কোন বিস্ময়কর ঘটনা নয় ।

 

ট্রাফিক জ্যাম কমাতে আমরা যা যা করতে পারি

কিছু পদক্ষেপ অনুসরণ করলে আমরা একরকম ট্র্যাফিক জ্যাম হ্রাস করতে পারি, তবে আমরা স্থায়ীভাবে এটি সমাধান করতে পারব না ।

  • যদি আমরা সত্যিই এই সমস্যার সমাধান করতে চাই, তাহলে বিকেন্দ্রীকরণ সবকিছুই আবশ্যক। আমাদের শিল্পোন্নতির উপজেলা ভিত্তিক হওয়া উচিত এটা মহানগরী শহরগুলির উপর নির্ভর করা উচিত নয়। কারন সব কলকারখান যদি একটা মহানগরী শহর গুলোতে হয় তাহলে সে খানে মাণুষ সেশি থাকবেই আর যেখানে মাণুষ বেশি সেখানে গাড়িও বেশি। তাই আমাদের উচ্চিত সব শিল্প-কারখানা গুলো মহানগরীতে না হয়ে উপজেলা ভিত্তিক হওয়া উচিত ।
  • একটি ভাল গণপরিবহন ব্যবস্থা যা মানুষ সহজে পেতে পারে তাহলে ট্রাফিক জ্যাম কমে যাবে ।
  • যদি সম্ভব হয় শহরের প্রধান রাস্তার পাশে একটি রিক্সা এবং সাইকেলর রাস্তা তৈরি করা এবং ঢাকা শহরের প্রধান সড়ক থেকে রিক্সা প্রত্যাহার করা ।
  • একটি ভাল ট্রাফিক ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন গাড়ির জন্য লেন তৈরি করা এবং কঠোরভাবে এটা বজায় রাখা।
  • জিব্রা ক্রস এবং ফুট ওভার ব্রিজ ব্যবহার করুন।
  • আইন মেনে চলা