Boss 2 : BACK TO RULE : বস যখন সত্যিই বস

Now Reading
Boss 2 : BACK TO RULE : বস যখন সত্যিই বস

বস-২ ছবিটি  ভারত বাংলাদেশর যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র। এটির গল্প সম্পূর্ণ মৌলিক, যার লেখক জিৎ নিজেই।এটি একটি ক্রাইম থ্রিলার ছবি। এটি ২০১৩ সালে মুক্তি প্রাপ্ত বস ছবির দ্বিতীয় অংশ। ছবিতে অভিনয় করেছেন জিৎ , শুভশ্রী গাঙ্গুলী, নুসরাত ফারিয়া মাজহার, ইন্দ্রনীল সেঙ্গুপ্ত , অমিত হাসানসহ আরো অনেকে। এই ছবিটি নিয়ে বাংলাদেশে অনেক আন্দোলন হলেও আমরা সে ব্যাপারে না কথা বলি। আমরা দর্শক হিসেবে ছবিটিকে উপভোগ করব। বস ২ ছবিটি নিয়ে কথা বলতে গেলে যে বিষয়গুলো চলে আসে তার মধ্যে সবচেয়ে প্রশনংশনীয় হলো জিতে অভিনয়।

জিতের অবদান : পুরো ছবিতে জিৎ এর অভিনয় ই আমার কাছে সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। বস ২ ছবিতে বস এর চরিত্রে বস এর মতোই সে অভিনয় করেছে।  তার অভিনয়ের মাধ্যমে সে অ্যাকশন, স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্য আর ভালোবাসার স্পর্শ দেয় দর্শকদের।পুরো  ছবিতে নিজের এটিটিউড, ব্যক্তিত্ব, ওজন বজায় রেখে অভিনয় করেছেন।জিৎ এমনিতেও ইন্ডস্ট্রিতে অনেক সিনিয়র এবং অভিজ্ঞ। তার অভিনয় দর্শকদের কে আকর্ষণ করার মতোই ছিলো।জিৎ এর  ফাইটিং স্কিল অনেক ভালো ছিল। মারামারির দৃশ্যগুলো উনেক চমকপ্রদ।গাড়ি চালিয়েই হোক, কিংবা বাইক সওয়ারি হয়ে। ‘বস’ জিৎ অ্যাকশনের ঝাঁজে এবার অ্যালান আমিনের হাত ধরে দর্শকের মুখ থেকে উরিব্বাস, আরে ব্বাবা এবং হাততালি দুটোই প্রতি মিনিটে কুড়িয়ে নিয়েছেন। পুরো ছবির প্রায় প্রতিটি ফ্রেমেই সূর্য উপস্থিত, ঠিক পৃথিবীর মতোই। বেশিরভাগ দৃশ্যগুলো ধীর করে দেখানো হয়েছে ব্যাপারটা একটু অন্য রকম লাগছে । বলতে গেলে ভালোই লেগেছে । ইতোমধ্যে বলেছি কাহিনীর লেখক জিৎ নিজেই এবং এই ছবির মধ্য দিয়ে জিৎ তার জিতজ পিভিটি লিমিটেড এর যাত্রা শুরু করে ।

অভ্যন্তরীন বিষয়াবলী ঃ ছবির সিনেমাটোগ্রাফি অনেক ভালো লেগেছে বলতে গেলে নিখূত। ডিরেক্টর ছবির দৃশ্যগুলোকে সঠিক ভাবেই উপস্থাপন করেছেন। ডিরেক্টর হিশেবে ছিলেন বাবা ইয়াদাভ। সে অনেক দক্ষ একজন ডিরেক্টর সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই। আল্লাহ মেহেরবান গানটিকে ইয়ারা মেহের বান এ রুপান্তর করা হয়েছে। ছবির এডিটিং সম্প্রর্কে যদি বলা হয় তাহলে বলব এখন কার বাংলা ছবিগুলো যেগুলো জাজ মাল্টিমিডীয়া লেবেল থেকে বের হচ্ছে সেগুলোর এডিটিং নিয়ে সমালোচনা করার কিছু নেই। ছবিতে মূল নায়িকা হিশেবে শুভস্রী ছিলেন । যদিও নায়িকার চরিত্রের প্লটগুলো তেমন গূরত্বপূর্ণ ছিলো না তারপর ও ভালোই করেছে শুভস্রী। তবে যদি এই ছবির সবচেয়ে দূর্বল দিকটার কথা যদি বলতেই হয় তবে এই নায়িকা চরিত্রের কথাই বলব। ছবিতে বাংলাদেশের দৃশ্যগুলোর মান অনেক ভালো ছিলো। বাংলাদেশকে অনেক সুন্দর করে উপস্থাপন করা হয়েছে। সিএঞ্জি এর একটি দৃশ্য থাকে।

যে কারণে দেখবেন বস ২ ঃ
১। বস ২ আপনাকে অণুপ্রেরণা দিবে আপনার নিজের কর্মস্থানে সবচেয়ে ভালো করার জন্য।
২।মানুষের জন্য কিছু করার অনুপ্রেরণা পাবেন।
৩।ফাইটিং এ পাবেন অসাধারণ কিছু দৃশ্য।
৪। বাংলা ছবির উন্নতি দেখুন
৫।বস ২ এর ডায়ালগ গুলো ছিলো রোমাঞ্চকর। সেইরকম উপভোগ করার মতো।

বস ২ এর ট্রেইলার যারা দেখে যা ভাবছেন আপনার ধারণাকে সম্পূর্ণ ঘুরে যেতে পারে ছবিটি দেখলে। অনেক বড় রকমের মোড় রয়েছে কাহিনীতে। আপনি প্রথম দিকে ছবির যা ভাববেন সেই ধারণাকেও ছবির শেষে পাল্টে দিবে। ছবিটি শুধু আপনার ধারণাকে পাল্টেই ক্ষান্ত হবে না এটি আপনার ভিতরের সূর্যকেও জাগিয়ে তুলবে।

বস ২ এর কিছু ডায়ালগ ঃ বেশির ভাগ ডায়ালগ ই ট্রেইলার এ আছে। যেমন – ‘আমি একবার বলি আর একশ বার বলে মানে টা এক ই ,  ‘ কালকে যখন সূর্য উঠবে তোমার পাশে নতুন সূর্য কে পাবে’ , ‘ তুই যদি শনি হস আমি শনির বাপ সূর্য’ , ‘স্বপ্ন পূরণ করাটা লক্ষ্য নয় লক্ষ পূরণ করাটা স্বপ্ন হওয়া  উচিত।’ এরকম অনেক ডায়ালগ দিয়ে হলের দর্শকদের রোমাঞ্চিত করেছেন জিৎ। 

বস ২ এর গান ট্র্যাক ঃ বস ২ এর মোট ৩ টি গান বের হয়েছে জনপ্রিয় ভিডিও সাইট ইউটিউব এ । সেগুলো হলো উরেছে মন, বস ২ টাইটেল গান এবং ইয়ারা মেহেরবান। ইয়ারা মেহেরবান প্রথমে আল্লাহ মেহেরবান নামে প্রকাশিত হয় পরে অনেক সমালোচনার পর গানের শিরোনাম ও গানেও কিছু পরিবর্তন করে ইয়ারা মেহেরবান ইউটিউব এ প্রকাশ করা হয়। উএছে মন গানটির অনেক প্রশংসা শোনা যায় লোকমুখে। গানটি বিখ্যাত গায়ক অরিজিত সিং এর গাওয়া।অসম্ভব রোমান্টিক গানটিতে সাগরের মুগ্ধ করা দৃশ্যের সাথে শুভস্রী ও জিতকে দেখা যায়।

বস ২  ছবিটির নির্মাণ ব্যয় ৬.৫০ কোটি প্রায় এবং প্রথম দশ দিনে এটি ২.১৫ কোটি টাকা আয় করেছে। আশা করা যাচ্ছে বস ২ ভালোই ব্যবসা করবে। প্রথম দিনে এর আয় ছিলো সাড়ে ৩৭ লক্ষ টাকা।

 

যাদের থ্রিলার পছন্দ তাদের জন্য একদম সঠিক ছবি এটি।আশা করি সবাই হলে গিয়ে বাংলা ছবিগুলো দেখার চেষ্টা করবেন। একটা সময় ছিলো বাংলা চলচ্চিত্রের যখন নতুন ছবি রিলিজ পেলে হল কর্তৃপক্ষ হলে দর্শকদের জায়গা দিতে পারতেন না। টিকেট কাউন্টার এ ভিড় জমে যেত , রাস্তায় চলে আসত টিকিট কাটার লাইন। কিন্তু মাঝে আমাদের এই সোনালী সময় মাঝে ছিল না  কিন্তু আমরা আবার সেই সোনালী আমল ফিরে পেতে চলেছি। এখন আবার ছবি হলের সামনে  ভিড় দেখছি। মানুষ টিকেট কেটে ছবি দেখছে। আসুন আমরাও হলে গিয়ে ছবি দেখি এবং বাংলা চলচ্চিত্রকে বাচিয়ে রাখি।