নন-প্রফিট গ্রুপ নাকি টেররিস্ট গ্রুপ?

Now Reading
নন-প্রফিট গ্রুপ নাকি টেররিস্ট গ্রুপ?

কিছুদিন আগে দেশের নানা অনলাইন পত্রিকা এবং সামাজিক নেটওয়ার্কে একটি ফেসবুক গ্রুপের কার্যকলাপ ভাইরাল হয়েছিল। গ্রুপটির নাম ছিল জাস্টিস ফর উইম্যান বাংলাদেশ বা সংক্ষেপে JFWBD। এই ফেসবুক গ্রুপের মূল এডমিন ইফরিত জাহিন কুঞ্জ নামে এক তরুণী যার নানা ধরনের কুকীর্তি ফেসবুকের মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। এছাড়াও দেশের মিডিয়া সমাজে একটি ঘটনাও ফাঁস হয়ে গিয়েছিল। যমুনা টিভির একটি ইন্টার্ভিউতে যখন এই কুঞ্জকে নানা ধরনের ডোনেশনের হিসাব চাওয়া হয় তখন সে মাইক্রোফোন খুলে পালিয়ে গিয়েছিল সেট থেকে।

ঈদের বেশ আগে থেকেই এই ফেসবুক গ্রুপটির নানা ধরনের কুকীর্তী প্রমাণ সহ মানুষের হাতে নাতে ধরা পড়েছে। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো এখনও কোন ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়নি এদের আইনের আওতায় আনার জন্য। উল্টো এই গ্রুপের এডমিন সেই তরুণী কুঞ্জ সমানতালে সামাজিক নেটওয়ার্কে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এমনকি নিজের মাকে মানানীয় প্রধানমন্ত্রীর ফুপাত বোন বলে দাবী করে সরকারের তথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সম্মান ক্ষুণ্ণ করছে। এগুলো আমার কথা না, ফেসবুকে হালকা ঘাটাঘাটি করলেই পেয়ে যাবেন সমস্ত নথি প্রমাণ। এই গ্রুপ নারীদের আইনি সহায়তা দেয়ার নামে এ পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ টাকা মেরে দিয়েছে। এই গ্রুপের মেম্বার কয়েকজন পুলিশের হাতে ধরাও খেয়েছে, মামলা হয়েছে। আবার এই গ্রুপের কিছু মানুষ যারা কোন একসময় গ্রুপের সাথে জড়িত ছিল নানা সামাজিক কাজে, তাদের অনেকেই সামনে এসে এই গ্রুপের এডমিন ইফরিত জাহিন কুঞ্জের কুকীর্তি একে একে প্রকাশ করছে।

এই তরুণী ইফরিত জাহিন কুঞ্জের এত সাহস কি করে হয় যেখানে সামান্য টাকা মেরে দেয়ার জন্য সে এমনকি এধরনের ঘটনায় বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নাম নিয়ে উনার মান সম্মান ক্ষুণ্ণ করছে ? বাংলাদেশে নারীদের আইনি সহায়তা দেয়ার জন্য পুলিশের ভাই বোনেরা আছেন, আছে অনেক আইনও। সেখানে কি এই গ্রুপ তথা ইফরিত জাহিন কুঞ্জ কি নিজের ব্যক্তিগত আদালত খুলে বসেছে? আর মানুষই বা কেমন? এই ঠগবাজদের কাছে গিয়ে আইনি সহায়তা চায়? কেন বাংলাদেশে পুলিশ, র‍্যাব নেই? আছে এবং অনেক ভালো পজিশনে আছে এখন। অনেক কাজও করছে। তবে কেন মানুষ এসব ঠগবাজদের কাছে যায় আমার মাথায় ঢুকে না!

এই গ্রুপের অন্যতম কাজ হলো মামলা করার হুমকি দিয়ে মানুষকে হয়রানি করা। নিজেদের নারীবাদী বলে এরা পরিচয় দেয় কিন্তু আসলে প্রকৃত নারীবাদীদের এরা অপমানই করছে একরকম। ইচ্ছে করে পরিবারে একটি ডিভোর্সের সূচনা করে দিয়ে এদের টাকা মেরে দেয়ার ব্যবসা শুরু হয়। আদপে কোন কাজই করে না। আমি এতক্ষণ যা বললাম এগুলো আমার কথা না। এসব কুকীর্তি ইতিমধ্যে ফাঁস হয়ে গেছে। কিছুদিন আগে নাকি দানের কম্বলের টাকা মেরে হজম করে ফেলে এরপর ভুলেই গেছে। ফেসবুকের নিউজফিড সয়লাব এদের অকাজের প্রমাণ! আর এসবের সমস্ত প্রমাণ ইউটিউবের তাহসীন একটি ভিডিওর মাধ্যমে তুলে ধরেছে। বিশ্বাস না হলে নীচের ভিডিওটি দেখতে পারেন। তবে অবাক করা ব্যাপার হলো, এই ফেসবুক গ্রুপ এখনও একটিভ! এরা একে ওকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে, ক্ষতি সাধন করার হুমকি দিচ্ছে, অযথা মামলা করার হুমকি দিচ্ছে, নানা সম্মানিত মন্ত্রী – এমপির নাম বিক্রি করে নিরীহ নারী এবং পুরুষদের অযথা ভয় দেখাচ্ছে।  এরা এখনও ফেসবুকে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে! সম্ভবত প্রশাসনের কানে এখনও ঠিক মত পৌঁছেনি। তবে আপনি যদি প্রশাসনের কেউ হয়ে থাকেন, তাহলে দয়া করে নীচের ভিডিওটি দেখুন।

ফুটপ্রিন্টের পক্ষ থেকে আমার দাবী, এই হীন নোংরা ফেসবুক গ্রুপটি বন্ধ করা হোক, যারা নারীদের সাহায্য করার নামে আরও বিপদে ফেলছে। এমনকি এই গ্রুপের অনেক পুরুষ এডমিন মেয়েদের অনলাইনে হ্যারেজ করছে, নানা ধরনের যৌন বিকৃতি দেখাচ্ছে ইনবক্সে নারী ভিক্টিমদের। আমি নিশ্চিত, পুলিশ বা র‍্যাবের বা সাইবার ক্রাইম ইউনিটের কানে যদি যায়, ব্যবস্থা হবেই। দেশ এখন আর আগের মত নেই। এখন আমাদের নিরাপত্তার বাহিনীগুলো অনেক বেশী স্কিল্ড। তাই আপনারা যারা এই পোস্ট পড়ছেন, এটি শেয়ার করুন, নীচের ভিডিওটি ছড়িয়ে দিন। এই কুঞ্জ এবং তার নারী ধোঁকার গ্রুপ আমরা বন্ধ করে ছাড়ব, বন্ধ করে ছাড়ব তাদের সমস্ত বেআইনি কার্যক্রম। আর একটা সাজেশন, কোন ধরনের সমস্যায় পড়লে দয়া করে পুলিশের কাছে যাবেন বা থানায় যাবেন। এধরনের গ্রুপের কাছে না।

 

“Justice” এর নামে “Injustice”? | দেশের নতুন ফেসবুক কেলেঙ্কারি ! ! !

Now Reading
“Justice” এর নামে “Injustice”? | দেশের নতুন ফেসবুক কেলেঙ্কারি ! ! !

ফেসবুকে এই মুহুর্তে একটি কেলেঙ্কারী ব্যাপক ভাইরাল। সেটি হলো বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠান যারা দাবী করে তারা নারী অধিকার আদায়ে কাজ করে। বেশ মহত উদ্যোগ। কিন্তু উক্ত প্রতিষ্ঠান নিয়ে ফেসবুক এখন রীতিমত উত্তাল। কারণ কিছু স্ক্যান্ডাল বা কেলেঙ্কারি ধরা পড়ে গেছে। আর অনলাইনে কোন কিছু প্রমাণ সহ চলে আসলে তো আর কথাই নেই।

তবে এই ব্যাপারে লেখা শুরু করার আগে ফুটপ্রিন্টের মডারেটরদের একটি অনুরোধ, যদি ঠিক মরে করেন আশা করি ফুটপ্রিন্ট তথা বাংলাদেশীজম (যতটুকু জানি, ফুটপ্রিন্ট বাংলাদেশীজমের একটি প্রজেক্ট) এই ব্যাপারে যেন একটু দৃষ্টি দেয় কারণ বাংলাদেশীজম প্রজেক্টকে দেখেছি নারী ও শিশু অধিকার নিয়ে অনেক আন্দোলন প্রতিবাদ করতে।

যাই হোক, পুরো ব্যাপারটি শুরু হয়েছে ফেসবুকে কিছু স্ক্যান্ডাল বা কেলেঙ্কারি ফাঁস হয়ে যাইয়ার পর। প্রতিষ্ঠানটির নাম Justice For Women, Bangladesh বা JFWBD। শুরুতেই বলে রাখি এধরনের কোন প্রতিষ্ঠানের কোন রেজিস্ট্রেশন আছে কিনা তা নিয়ে একটু গবেষণা করে কিছু খুঁজে পাইনি। সম্ভবত প্রতিষ্ঠানটি কোন রেজিস্টার্ড কোন প্রতিষ্ঠান না। ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে তাদের “কার্যক্রম” পরিচালনা করে। তাছাড়াও এই প্রতিষ্ঠানের কোন অফিশিয়াল ওয়েবসাইটও নেই। অন্তত ৩০ মিনিট খোজার পরেও পাওয়া যায়নি। ফেসবুক ছাড়া আর কোথাও তাদের অস্তিত্ব নেই। এই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে মানুষ কতটা জানে তাও জানিনা। বা সঠিক তথ্য কেউ অন্তত দিতে পারেনি।

এখন কথা হলো, কি ধরনের কেলেঙ্কারি ফাঁস হলো? এই কেলেঙ্কারি ফাঁস করল অনুরূপ আরেকটি সেবাদানকারী বা এনজিও (সম্ভবত) প্রতিষ্ঠান। তাদের অভিযোগ কতটা সত্য সেটাও যাচাই করে দেখেছি একই সাথে। কিন্তু প্রমাণ সহ থাকার কারণে খুব বেশী কষ্ট করতে হয়নি। অভিযোগটি মূলত হলো Justice for woman এর কোন পরিচালক বা টিম মেম্বার অথবা ফেসবুক গ্রুপের এডমিনকে নিয়ে মূলত। তাই পুরো প্রতিষ্ঠানকে দোষারোপ করার কোন মানে নেই। অবশ্যই সেই প্রতিষ্ঠানে মহত লোকজনও আছেন। সেই গ্রুপের এডমিন ইফরিত জাহান কুঞ্জর কোন একটি অসহায় নারীকে ঠকানোর ব্যাপেরি কেলেঙ্কারি হয়েছে। বিষয়টা টাকা জনিত। আর ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে টাকা হাতানোর কত কথাই না আছে যেমন অনেক ফুড গ্রুপ রেস্টুরেন্ট গুলো থেকে এতদিন টাকা হাতিয়ে নিত ডিফেইমিং করার জন্য। অভিযোগটি করেছে SCAWBD নামের আরেকটি সমাজসেবা মূলক প্রতিষ্ঠান থেকে যার সরামর্ম নিম্নরূপ –

 ফেসবুক ভিত্তিক সমাজসেবামূলক গ্রুপ JUSTICE FOR WOMEN, BANGLADESH – JFWBD এর বিরুদ্ধে চাদাবাজি করে অসহায় এক নারীর কাছ থেকে ১৬০০০০ টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে খুলনার এমপি মুন্নুজান সুফিয়ান সাহেবের দৃরতার প্রশংসা না করে উপায় নেই। উনার হস্তক্ষেপেই এই শালিস মামলাতে পরিনত হয়।
গত ২৪/০৮/২০১৭ তারিখ রাত ৮ টায় এক শালিসি বৈঠক বসানো হলে সেখানে সকল তথ্যপ্রমান সাপেক্ষে তাহান আর আলামিন ( যারা Justice for Women Bangladesh এর খুলনা বিভাগের ভলান্টিয়ার) কে থানায় সোপর্দ করা হয় এবং রাতেই মামলা গ্রহন করে ২৫/০৮/২০১৭ তারিখ এ কোর্টে চালান করে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়। এ ব্যাপারে Ifreet Zahin Kunjo এর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি তাদের চিনেন না বলে জানায়। কিন্তু আমাদের কাছে সকল তথ্য প্রমান থাকায় তার এ বক্তব্যকে আমরা মিথ্যা বলেই সবাইকে জানাতে চাচ্ছি।
কিছুদিন পর তাহান এবং আলামিনকে জুনায়েদ এবং মাহাবুবুর রহমান আরমানের মতো তাদেরকে গ্রুপ থেকে বের করে দেওয়া হবে। তাদের উপর সকল দোষ চাপিয়ে। তবে আমরা তাদের পক্ষে থাকবো তখন যদি এমমন হয়। তবে আপাতত আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সেই নারীকে সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছি আর দেবো।
খুলনা এর কোন পরিচিত আইনজীবি থাকলে সেই নারীকে ফ্রিতে আইনি সহায়তা দিয়ে সাহায্য করলে খুশি হবো।
কেসের সত্যতা জানতে ফোন করুন খুলনা জোনের ওসি খালিশপুর এর কাছে। নম্বর খুজে নেবেন দয়া করে।

এই অভিযোগের সাথে যুক্ত হয়েছে আর অনেক তথ্য প্রমাণ যা আমরা এই পোস্টে দিয়ে দিচ্ছি নীচের দিকে। অবাক লাগে, নারীদের যারা বাঁচানোর কথা বলে তারা নিজেরাই ধোঁকাবাজিতে ব্যস্ত। এখন কাদের বিশ্বাস করব এই দেশে! প্রমাণ তো বলছে সবকিছু সত্য বলছে। তবে আমি আবারো বলছি, এখানে সবাইকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে ছদ্মনামে নানা ধরনের ক্রাইম করার ঘটনা আমরা আগেও দেখেছি। কিন্তু এধরনের প্রতিষ্ঠান কখনও এভাবে যুক্ত হবে তা ভাবিনি। যে অসহায় নারীর কাছ থেকে ১,৬০,০০০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে সেই নারীর প্রতি আমাদের সমবেদনা। কারণ যারা তাকে রক্ষা করার কথা বলে তারা নিজেরাই চাদাবাজি করল। এর চাইতে লজ্জার আর কিই বা হতে পারে। ফেমিনিস্ট মুভমেন্টেকে এরা অযথাই কলঙ্কিত করছে আর কিছু না।

এছাড়া আর নানা ধরনের অভিযোগ অনেক জায়গার কমেন্ট সেকশন এবং ফেসবুক গ্রুপে এখন ভাইরাল। নানা ধরনের স্ক্রিনশট, ভিডিও এবং ফোনালাপ।

এই ইফ্রিত জাহান কুঞ্জের নামে আর যে অভিযোগগুলো অনলাইনে সবাই করছে সেগুলো হলো

  • মানুষের নামে ভুয়া নারী নির্যতন কেস করা বা কেস করার হুমকি দেয়া।
  • বড় বড় মন্ত্রী – মিনিস্টার বা সরকারী কর্মকর্তার নাম ভাঙিয়ে মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করা বা ভয় দেখানোর চেষ্টা করা।
  • নিরীহ, নির্দোষ মানুষদের নামে অযথা পুলিশ কেইস করে হয়রানী করা।
  • চাঁদাবাজি করা যেটার প্রমাণ ইতিমধ্যে আপনারা পেয়েছেন।

সব কিছু এরকম খোলাখুলি অনলাইনে বিচরণ করছে কিন্তু প্রশাসন এখনও কোন একশন নিচ্ছে না কেন? এধরনের প্রতিষ্ঠান আর সেই এডমিনকে এখনও ধরা হচ্ছে না কেন? যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এসবের সত্যতা যাচাই করা উচিত। সেই সাথে আমি ফুটপ্রিন্টের ইনবক্সে কিছু অডিও ফাইল এবং ভিডিও ফাইল এবং সেই সাথে কিছু ছবি পাঠাচ্ছি যেগুলো আমি ফেসবুকের নানা গ্রুপ থেকে সংগ্রহ করেছি। খুঁজলে আপনারাও পাবেন। সেই সাথে আমি কয়েকজন ইউটিউবারকেও এসব ফুটেজ পাঠিয়ে দিচ্ছি। যদি তারা এগুলো নিয়ে কোন ক্রাইম ডকুমেন্টারি করতে চাই।

সেই অসহায় নারীর জন্য খুব খারাপ লাগছে। একজন নারী হয়ে কিভাবে আরেকজন নারীকে যিনি অলরেডি ভিক্টিম, তাকে ঠকাতে পারে কেউ। আসলেই, আমাদের সমাজ কোনদিকে যাচ্ছে। কোথায় যাচ্ছে আমাদের মানসিকতা বা বিবেগ।

যেসমস্ত প্রমাণগুলো এখন অনলাইনে ভাইরাল, তা নীচে দেয়া হলো