ভারতে জিও ফোনের জোয়ার আর আমাদের বাস্তবতা – ১

Now Reading
ভারতে জিও ফোনের জোয়ার আর আমাদের বাস্তবতা – ১

জুলাই মাসের একুশ তারিখে  পর্দা উঠল রিলায়েন্সের জিও ফোনের । অসাধারণ সব চমক আর আর ভরপুর বিনোদনের পাশাপাশি রিলায়েন্স অফার করেছে এক রাশ পয়সা  বাঁচানোর প্রক্রিয়া যা আমাদের দেশে কল্পনাকেও হার মানায়। যেটা আজ ভারতবাসী উপভোগ করছে অনেক সাশ্রয়ী   মূল্যের সাথে । আমার এই লেখাটার মুখ্য উদ্দেশ্য মোটেই ভারতের কোন কোম্পানির বন্দনা করা বা ভারতবাসীর সুখের নিবাসের গল্প করা নয় বরং আমরা বাংলাদেশীরা যাতে দেশী সেজে ইস্ট ইনডিয়ার মত ব্যবসা করা বিদেশী কোম্পানিগুলোর নিষ্পেষণের শিকার না হই  সে ব্যাপারে আপনাদের সচেতন করা যাতে ভবিষ্যতে আমরা তাদের ওপর আরও বেশী চাপ প্রয়োগ করতে পারি আমাদেরকে বিশ্বমানের ভাল সার্ভিস প্রদান করতে। উল্লেখ্য ভারতে মোট ফোন আছে ৭৮ কোটি যার মধ্যে ৫০ কোটি ফিচার ফোন। আর জিও চালু হওয়ার আগে ভারতে ডাটা খরচের পরিমাণ ছিল প্রতিদিন ২০ হাজার কোটি জিবি  যা জিও চালুর পর দাঁড়িয়েছে ১২০ হাজার কোটি জিবি। সুতরাং এ থেকেই অনুমান করা যায় জিও ভারতে কি বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করেছে । জিও চালুর আগে ভারত ছিল  বিশ্বের ৫৫ নম্বর মোবাইল ডাটা ব্যবহারকারী দেশ কিন্তু জিও চালুর পর ভারত এখন বিশ্বে এক নম্বর।  তো কথা না বাড়িয়ে আসুন দেখে নেই জিও তাদের দেশের মানুষের কল্যাণে কি কি সেবার দুয়ার উন্মোচন করেছে ?

১. প্রথমেই বলা ভাল এটি একটি ফিচার ফোনের আধুনিকায়ন । সাধারণ ফিচার ফোনে যা থাকে এতে অনেকাংশে তাই আছে শুধু মিলিত হয়েছে কিছু চোখ ধাঁধানো ব্যতিক্রম
২. Foxcon jior জন্য এই ফোন তৈরি করছে
৩. ফোনে থাকছে ভারতের সেরা 4G সুবিধা
৪. এখন এই ফোন নিতে হলে ১৫০০ টাকা ডিপোজিট দিয়ে নিতে হবে যা ৩ বছর পরে ফোন ফেরত দিলে পুরো টাকা ফেরত দেয়া হবে
৫. তারমানে ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে এই ফোন ফ্রি
৬. বাস্তবিক দৃষ্টিতে এর খরচ ১৫০০ টাকা
৭. ২৪ আগস্ট থেকে অগ্রিম বুকের জন্য আবেদন করা যাবে
৮. সেপ্টেম্বরে হাতে পাবে
৯. প্রধান আকর্ষণ মাসিক ১৫৩ টাকার প্যাকেজ
১০. যাতে আছে আনলিমিটেড কল
১১. আনলিমিটেড এসএমএস
১২. আনলিমিটেড ইন্টারনেট
১৩. প্রতিদিন ৫০০ এমবি পর্যন্ত হাই স্পিড তারপর ১২৮ কেবিপিএস স্পিড কিন্তু আনলিমিটেড ।
১৪. ৩০৯ টাকার মাসিক প্যাকেজে প্রতিদিনের হাই স্পিড লিমিট ১ জিবি তারপর ১২৮ কেবিপিএস স্পিড ।
১৫. ৩০৯ টাকার প্যাকেজে লাইভ টিভি দেখার সুযোগ থাকছে সারা মাস।
১৬. তবে ৩০৯ টাকার প্যাকেজ ঐ ১ জিবি হাই স্পিড ইন্টারনেটের সাহায্যে ৩-৪ ঘণ্টা পর্যন্তই টিভি দেখা যাবে ।
১৭. Small recharge start from 24 taka for 2 dys and 54 taka for 7 days.
১৮. ফোনের সাথে ফ্রি থাকছে জিও মুভি , মিউজিক এবং টিভি Apps
১৯. ফোন আসছে বিভিন্ন মডেলে
২০. কোয়ালকম প্রসেসরে
২১. অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে থাকছে ফায়ার ফক্সের কাই।
২২. ডুয়াল সিম একটা জিও বাধ্যতামূলক।
২৩. ২২ টি আঞ্চলিক ভাষা আছে এর মধ্যে ।
২৪. এর স্ক্রিন ২.৪ ইঞ্চি QVGA .
২৫. FM RADIO.
২৬. TORCH.
২৭. WhatsApp নেই ।
২৮. Voice Assistant আছে কিন্তু করটানার মত না।
২৯. আপাতত Voice Assistant হিন্দি আর ইংরেজি ছাড়া অন্য কোন ভাষায় ব্যবহার করা যাবে না
৩০. Microphone and Speaker
৩১. 4G support and GPS
৩২ . Voice command support for calls, sms ,  music and video
৩৩. NFC support for Tap and GO PAY.
৩৪ . User can link his bank account with it.
৩৫. 4 way navigation
৩৬. SD card slot
৩৭. Headphone jack
৩৮. টেস্টিং শুরু হবে ১৫ আগস্ট থেকে
৩৯. এবং গ্রাহক হাতে পাবে সেপ্টেম্বর মাসে।

মোট কথা বন্ধুরা এটা ফিচার ফোনের আদলে একটা স্মার্টফোন । যেটা একটা এক্সট্রা ফোন হিসেবে সাথে রাখতে ভারতবাসীর কারোরই আপত্তি থাকবেনা
এবং এর মার্কেটিং পলিসি এতটাই চমকপ্রদ যে ৩ বছর পরে কেউ ফোন ফেরত দেয়ার অবস্থায় রাখতে পারবেন কিনা সে ব্যাপারে সন্দেহ থাকলেও এই
ফেরত দেয়ার সুযোগ রাখাটাকে সবাই স্বাগত জানিয়েছেন ।

বিশেষজ্ঞরা একটা যে সমস্যা পেয়েছেন যে WhatsApp ব্যবহার করার উপায় নেই যদিও ২২ টির মত ভাষা ব্যবহারের সুযোগ থাকছে ।
WhatsApp এর ব্যাপারে জিও বলেছে তারা শীঘ্রই এর সমাধান নিয়ে আসবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই জিও কে পরিচিত করানো হয় ভারতের সর্বপ্রথম ইনটেলিজেন্ট স্মার্টফোন হিসেবে ,
এর পাশাপাশি এটাকে বিশ্বের সবচাইতে কম দামের স্মার্টফোন বলে অভিহিত করা হয় ।
অনুষ্ঠানে কিরণকে আকাশের কাছে ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে এসএমএস পাঠাতে দেখা যায় যেটা সত্যি আকর্ষণীয় ।
ভয়েস কমান্ডে ডিভাইসের রিসিভিং পাওয়ার ছিল অবিশ্বাস্য রকমের দ্রুত , স্পষ্ট এবং সাবলীল । যা এই ডিভাইসের মার্কেট করায়ত্ত করতে বেশ সুবিধা হবে ।
এটাতে গুগলের ভয়েস সার্চের মত সুবিধা দেখা যায় । শুধু তাই নয় ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে এটাতে ভিডিও চালানোর সুবিধাও রাখা হয়েছে ।
জরুরি পরিস্থিতিতে ৫ নং বাটন চেপে ধরে রাখলেই যে বন্ধু বা ফ্যামিলি মেম্বারকে আগে থেকে বাছাই করে রাখা হবে তার কাছে জরুরি বার্তা পৌঁছে যাবে ।
এটাকে জিওর লাইফ সেভিং সুবিধা হিসেবে দেখানো হয়েছে । ১০০ এর বেশী   ফিচার বিশিষ্ট এই ফোনে ব্যাংক হিসাবধারীদের
জন্য বিশেষ এনএফসি ফিচার রয়েছে যাতে একজন ব্যাংক হিসাবধারী সাবলীল ভাবে কোন রকম ঝামেলা ছাড়া ব্যাংকের সমস্ত কাজ জিও মোবাইলে সেরে নিতে পারবেন ।
জিও ফোনে যে কোন পেমেন্টের জন্য অত্যন্ত সুরক্ষিত হার্ডওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে  যা অটোম্যাটিক আপগ্রেড হয়ে যাবে ।

যারা উদ্বোধনি অনুষ্ঠানটি দেখতে চান তাদের জন্য এই লিঙ্ক –

আজ এ পর্যন্তই আগামী পর্বে  আলোচনা করবো ভারতের রেভলুশনের সাথে আমাদের বাস্তবতা ।

আল্লাহ্‌ হাফিজ ।