NOBODY থেকে SOMEBODY. . . ( Based on A True Story )

Now Reading
NOBODY থেকে SOMEBODY. . . ( Based on A True Story )

প্রথমেই আপনাদের যে কথাটি বলতে চাই তা হচ্ছে আমার আজকের আর্টিকেলটি জীবনের গল্প থেকে নেয়া। জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতে কিভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয় বা কিভাবে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করে সফল হওয়া যায় সেই গল্পই আজ আপনাদের বলব।

আজ আপনাদের এমন একজন মানুষের জীবনের গল্প বলব যিনি তার জীবনের খারাপ সময়ের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত লড়াই করে গেছেন। তিনি জন্ম গ্রহণ করেন ৩১শে জুলাই ১৯৬৫ সালে। তিনি Yate, Gloucestershire, England এ জন্ম লাভ করেন। তিনি সফলতা হিসেবে হয়েছেন একজন নোবেলিস্ট, ফিল্ম প্রোডিউসার এবং একজন স্ক্রিন রাইটার। চলুন তার জীবন কাহিনীতে কি ঘটেছে দেখে আসি।

সাধারণত মানুষ আস্তে আস্তে ছোট থেকে বড় হলে স্কুলে যায়। তারপর স্কুল পাশ করলে কলেজে ভর্তি হয়। অন্য সব সাধারণ মানুষের মত তার জীবন সাধারণ ভাবেই অতিবাহিত হয়। তবে তার যখন সতের বছর বয়স তখন তার জীবনে প্রথম ধাক্কার সূচনা হয় অর্থাৎ জীবনে ব্যর্থতা নেমে আসে। সতের বছর বয়সে তিনি কলেজ থেকে ড্রপ আউট হন। তার জীবনে ব্যর্থতার শুরু হয়তো এখানেই।

অতঃপর আরো বেশ কয়েকটি বছর কেটে যায়। পঁচিশ বছর বয়সে জীবনের দ্বিতীয় ধাক্কার সম্মুখীন হন। তাকে মাতৃহারা হতে হয়। পঁচিশ বছর বয়সে তার মা মারা যান। তার জীবনে কঠিন সময়ের সূত্রপাত হয়। পরের বছর তিনি এক কঠিন রোগে আক্রান্ত হন। সুখের সময়ের অবসান বুঝি এখানেই। ছাব্বিশ বছর বয়সে তিনি গর্বস্রাব জনিত রোগে আক্রান্ত হন। পিতা মাতা হীন অবস্থায় তিনি যেন অচল হয়ে পড়েন। অতঃপর সাতাশ বছর বয়সে তিনি একাকীত্ব দূর করার জন্য বিয়ের কাজ সম্পন্ন করেন।বিয়ে করে সংসারী হতে চেয়েছিলেন। সুন্দরভাবে জীবন যাপন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তার সে আশা হয়তো পূরণ হল না। তার বিবাহিত জীবন সুখের হল না। সংসারে কোন না কোন ঝামেলা লেগেই থাকত। এমতাবস্থায় তিনি কন্যা সন্তানের মা হলেন। হয়তো সংসারে শান্তি নেমে আসবে। কিন্তু না, পরের বছরেই আরেকটি দূর্ঘটনা ঘটল। আটাশ বছর বয়সে তার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। জীবনে যখন কঠিন সময় আসে তখন যেন তার শেষ ই হয় না। মেয়েকে নিয়ে যখন কোথাও যাওয়ার কোন জায়গা খুঁজে পাচ্ছিলেন না তখন ঠিক করলেন পুনঃর্বাসন কেন্দ্রে যাবেন। ঊনত্রিশ বছর বয়সে তিনি তার মেয়েকে নিয়ে পুনঃর্বাসন কেন্দ্রে যান এবং সেখানেই দিনানিপাত করতে থাকেন।

জীবনে যখন কোনকিছুই করার নেই বা কি করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না তখন সুইসাইড করার সিদ্ধান্ত নেন। ত্রিশ বছর বয়সে তিনি সুইসাইড করার জন্য অগ্রসর হন। কিন্তু সব মানুষের কিছু না কিছু পিছুটান থাকে। তাই তিনি এই অসামাজিক কাজটি করতে পারলেন না। কোন এক পিছুটান তাকে বাধা দেয়। তিনি চিন্তা করতে থাকলেন জীবনে বেঁচে থাকতে হলে কিছু না কিছু করতেই হবে। অতঃপর তিনি লেখালেখিতে মনোনিবেশ করলেন এবং জীবন যাপনের চেষ্টায় ব্যর্থতার সাথে যুদ্ধ করতে থাকলেন।

তার লেখালেখির হাত ছিল অসাধারণ। অল্পদিনেই অনেক ভালো কিছু লিখলেন এবং সেগুলো প্রকাশ করার চেষ্টায় কাজ করতে থাকলেন। কিন্তু জীবন যেখানে যুদ্ধক্ষেত্র সফলতা পাওয়া কি এতটাই সহজ? তিনি অসংখ্য প্রকাশকের কাছে যান তার লেখা ছাপানোর জন্য। কিন্তু তিনি তাদের দ্বারা প্রত্যাখ্যান হন। তাই বলে তিনি হাল ছাড়েন নি। অবশেষে তার প্রথম বই প্রকাশিত হয়। তিনি কি সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছিয়েছেন? চলুন জেনে নেয়া যাক।

একত্রিশ বছর বয়সে তার প্রথম বই প্রকাশিত হয়। দীর্ঘ এক বছরের সাধনা যেন তার কাছে সুখের সাদা পায়রা হিসেবে আবির্ভূত হয়। তার মুখে হাসি ফুটে। তিনি তীব্র ভাবে লেখালেখিতে মন দেন। অতঃপর পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে তার চারটি বই প্রকাশিত হয়। তিনি হয়তো সফলতার দ্বারে পৌঁছে গেছেন। কারণ পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে তাকে বর্ষসেরা লেখক হিসেবে স্বীকৃত করা হয়।

লেখালেখি যখন তার পেশা হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পায় তখন তো লেখালেখিই তার কাছে সব। যেভাবেই হোক ভালো লিখতে হবে এই তার মূলমন্ত্র। পরবর্তীতে সাতটি বছর কেটে গেল। কি অবস্থা তার লেখালেখির? তিনি কি কালের গর্ভে হারিয়ে গেলেন? না, তিনি হারান নি। ৪২ বছরে তার প্রকাশিত বই প্রথম দিনেই এগারো মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়। অল্প দিনের মধ্যেই তিনি অনেক টাকার মালিক হয়ে গেলেন। ত্রিশ বছর বয়সে যিনি আত্নহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বারো বছর পর তিনি বিখ্যাত লেখকের স্বীকৃতি পান। ইনি হচ্ছেন J K Rowling যিনি আত্নহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আজকে তার সৃষ্ট হ্যারি পর্টার সিরিজ পুরো বিশ্বে একটি ব্রান্ড। যেটা ৪০০ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়। যেটা ১২ মিলিয়ন ডলারের ও বেশি আয় করে।

ইনি J K Rowling. যার পুরো নাম Joanne Rowling. তিনিই একজন Novelist, Film Producer and Screen Writer. তিনি সতের বছরে কলেজ থেকে ড্রপ আউট হয়েছিলেন ঠিক ই। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি University of Exeter এ পড়াশুনা করেন এবং সেখান থেকেই ১৯৮৬ সালে B.A. ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি মাত্র পাঁচ বছরে Multi-millionaire স্টেটাস লাভ করেন। ২০১০ সালে তাকে “ Most Influence Woman in Britain ” নামে অভিহিত করা হয়। তিনিই একমাত্র লিভিং অথর যার বই শ্রেষ্ঠ বিক্রিত বইয়ের সিরুজ হিসেবে ইতিহাসে জায়গা দখল করে নিয়েছে।

অবশেষে কিছু কথা বলতে চাই। জীবনের যে কোন মুহুর্তে নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন। পদে পদে ব্যর্থতা দেখে কখনোই পিছপা হবেন না। শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান। সফলতা আপনার কাছে ধরা দিবেই।