সিনেমা বন্ধ হলে আরো অনেক কিছুই বন্ধ হওয়া প্রয়োজন …।

Now Reading
সিনেমা বন্ধ হলে আরো অনেক কিছুই বন্ধ হওয়া প্রয়োজন …।

সম্প্রতি খবরে এসেছে যে এখন থেকে যৌথ প্রযোজনা তথা দুই বাংলার মিলিত প্রচেষ্টার সিনেমা বন্ধ । এই খবরে তুমুল ঝড় বয়ে যাচ্ছে  টিভি চ্যানেল ও সোশ্যাল মিডিয়াতে । আমার এর আগের লেখাটিতে আমি এই যৌথ প্রযোজনার ব্যাপারে কিছু বলেছিলাম । আজকে সেটা আর নতুন করে বলবো না । আজকে চলুন এই যৌথ প্রযোজনার সিনেমা বন্ধের পিছনে কারণ অনুসন্ধান করা যাক । একটি টিভি টকশোতে একজন যৌথ প্রযোজনার বিপক্ষে কথা বলছিলেন তখন হঠাৎ তাকে প্রশ্ন করা হলো এই যে আপনারা এত দিন অন্য দেশের সিনেমা এই দেশে চালাতে দেননি এতে কি উদ্ধার হয়েছে কিছুই তো করতে পারেননি । তখন তিনি সিনেমার বাজেট এর প্রসঙ্গ টেনে বললেন ওদের দেশে (ভারতে) একশ কোটি টাকার সিনেমা হয় আমাদের দেশে কি তা হয় ? আমাদের বাজেট বড়জোর টেনেটুনে এক কোটি ।

আসলে এই সময় এসে এই ধরনের কারণ দর্শানো খুবই হাস্যকর । এরপর আসলো সংস্কৃতি প্রসঙ্গ সেখানেও নানান কথাবার্তা হলো । সারমর্ম এটাই যে ওদের (ভারতের) সিনেমা চালালে যদি সমস্যা হয়ই তাহলে ওদের অন্য সব কিছুই বন্ধ করে দেয়া উচিৎ । বিশেষ করে হিন্দি যত চ্যানেল আছে সব এবং ওদের যেসব জামাকাপড় আমাদের দেশে আসে সেসব ও বন্ধ করে দেয়া উচিৎ । এই যুক্তি দেওয়ার পর আর কোন কথা থাকতে পারে কি ? অবশ্যই পারে । তাহলে আসুন সেটা একটু অনুসন্ধান করি । প্রথম কথা হলো যৌথ প্রযোজনা সিনেমাতে একটি নীতিমালা আছে । যেহেতু , নীতিমালা আছে তাই তা মানা উচিৎ । কাপড় আনা নেওয়াতে তো কোন নীতিমালা নেই  বা হিন্দি চ্যানেল চালানোতেও তো কোন নিতিমালা নেই ,থাকার প্রশ্নও উঠে না কারণ ভারতে আমাদের কোন চ্যানেলই চালানো হয় না । তাইলে এত কিছুতে যদি আমাদের সংস্কৃতি নষ্ট না হয় তাইলে সিনেমাতে সমস্যা কি ? তখন আবার সেই নীতিমালা টেনে আনা হয় । সবচেয়ে অবাক করা বিষয় কি জানেন ? যেই টকশোর কথা বললাম সেই টকশোতে যিনি যৌথ প্রযোজনার বিপক্ষে কথা বলছিলেন তিনি অকপটে মেনে নিলেন যে যদি নীতিমালা তুলে নেয়া হয় তাহলে উনাদের কোন সমস্যা নেই। বাহ ! চমৎকার তার মানে উনাদের মূল কাহিনি ওই সংস্কৃতি নয় উনাদের কাহিনি নীতিমালা । এখানে বলে রাখা ভালো হিন্দি উর্দু সিনেমা বন্ধের ব্যাপারটি আমাদের দেশে অনেক আগে থেকেই চলে আসছে ।

মাঝাখানে চালু হয়েছিল তখন অনেকে কাফনের কাপড় পরে আন্দোলন করেছিলো। পরবর্তীতে তোপের মুখে পরে এই নিয়ম আর টেকেনি । সর্বশেষ যৌথ প্রযোজনা ছিল সেটিও বন্ধ করে দেয়া হলো । এখন মানুষ তাহলে কি দেখতে হলে যাবে ? প্রথমত আমাদের অবস্থান এখনো অত ভালো হয়ে যায়নি । একটি কথা বলতেই হচ্ছে যে যৌথ প্রযোজনা আর যাই হক দীর্ঘদিন হলবিমুখ মানুষকে সিনেমা হলে ফিরিয়ে এনেছে । অনেক সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাওয়া থেকেও বাঁচিয়েছে । তবে এটাও সত্য যৌথ প্রযোজনা যেহেতু দুই বাংলার মিলিত সিনেমা তাই আমাদেরও অনেক অধিকার আছে সেইসব সিনেমাতে কিন্তু তার তোয়াক্কা খুব একটা করেননি ঐ সমস্ত কোলকাতার সস্তা  পরিচালকরা । তারা তাদের মত করে তামিল সিনেমা নকল করে সিনেমা বানিয়ে গেছে  । যেখানে তামিল সংস্কৃতি এসেছে । যাই হোক তারা তাদের কাজ করে গেছে । আমার প্রশ্ন হলো আমদের দেশের পরিচালকেরা কি করলেন ? তাদের কেন যৌথ প্রযোজনাতে কালেভেদ্রে আমাদের দেখতে হয় । সর্বশেষ বোধহয় নিয়তি সিনামাতে আমরা বাংলাদেশী পরিচালক দেখেছি । যেই সিনেমাটি সুপার ফ্লপ হয়েছে । অথচ আমাদের দেশে অনেক মেধাবী পরিচালক রয়েছেন যাদের ভালো মুভিও আমরা দেখেছি । মোস্তফা সারোয়ার ফারুকি , অমিতাভ রেজা , গিয়াস উদ্দিন সেলিম এনাদের সিনেমা আমরা দেখেছি । এনারা প্রত্যেকেই চমৎকার সব সিনেমা আমদের উপহার দিয়েছেন ।

তাহলে এনাদের কেন যৌথ প্রযোজনার সিনামাতে আমরা দেখি না । আমরা সেই কোলকাতার নকল করে সিনেমা বানানো পরিচালকের সিনেমা দেখি । যেই সিনেমাগুলোর বেশীরভাগেরই প্রেক্ষাপট এক । তবে  যৌথ প্রযোজনার ছবিতে যেহেতু বাজেট বেশী তাই লোকেশন ও অনান্য বিষয় বেশ সুন্দরভাবে উপস্থাপিত হয় । তাই আমদেরও উচিৎ হবে যৌথ প্রযোজনাকে বর্জন না করে বরং এর ভালো দিকগুলকে তুলে এনে আমদের মত করে সাজানো । হ্যাঁ , এই মুহূর্তে অবশ্যই  আমদের যৌথ প্রযোজনার সিনেমাকে মেনে নেয়া উচিৎ কারণ এতে অন্তত হলগুলো টিকে থাকবে । এখন যদি হল বন্ধ হয়ে যায় তাহলে পরে যতই ভালো সিনেমা হোক না কেন মানুষের দেখতে যাওয়ার মত জায়গাই থাকবে না । তাই , আসুন যৌথ প্রযোজনা বর্জন না করে এর থেকে কিভাবে নিজেদের সিনেমাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় তাই ভাবি । এতেই সবার ভালো ।