প্রতিশোধ – পর্ব ৩

Now Reading
প্রতিশোধ – পর্ব ৩

হেমা তামিমের কথা কিছুই বুঝতে পারছে না।
হেমাঃভাইয়া আমি বাসায় যাবো
তামিমঃতোমাকে তো এখন বাসায় যেতে দেওয়া যাবে না।
হেমাঃভাইয়া আমি বাসায় না গেলে কি হবে আপনি বুঝতে পারছেন?
তামিমঃআমি জানি কি হবে।তোমাকে কিডন্যাপ করা হয়েছে। আর সমাজ এবং পরিবার কিডন্যাপ হওয়া একটা মেয়ে কে খুব ভালো ভাবে গ্রহন করে না।
হেমাঃভাইয়া আমি আপনার ছোট বোনের মত।তন্নি আমার খুব ভালো বন্ধু ছিলো।আমি জানি না ও কেন আত্মহত্যা করেছে।
প্লিজ আমাকে যেতে দিন।
তামিমঃহুম তুমি আমার ছোট বোন এর ফ্রেন্ড ছিলে।কিন্তু এখন আমার বোন বেঁচে নেই।তাই আমি এখন আর তার কোন ফ্রেন্ডকে চিনি না। এ কথা বলে তামিম হেমার কাছে গেলো।
হেমা তামিম কে কাছে আসতে দেখে ভয় পেয়ে গেলো।
তামিমঃভয় পেও না।আমি তোমার কোন ক্ষতি করবো না।তবে তোমাকে এখানে কিছু দিন বন্দী থাকতে হবে।
হেমাঃভাইয়া আমি একটা মেয়ে।এখানে আমি আটকে থাকার পর বাসায় ফিরে গেলে সবাই আমার দিকে আঙুল তোলবে।আমার জীবনটা নষ্ট হয়ে যাবে।
তামিমঃতোমার জন্য আমার বোন কে আমি হারিয়েছি।তোমাকে তো আমি সুন্দর ভাবে বাঁচতে দিব না।
হেমাঃভাইয়া তন্নি কেন আত্মহত্যা করেছে?
তামিমঃতন্নি আকাশ কে ভালোবাসতো
হেমাঃতাহলে আমি কিভাবে দায়ী?আর আকাশ কে ভালোবাসতো তা তো কখনো বলেনি।
তামিমঃআকাশ তোমাকে ভালোবাসতো
হেমাঃমানে?…..

তামিমঃহুম।তন্নি চায়নি তোমাদের মধ্যে থাকতে।আবার আকাশ কে ছাড়তে ও পারবে না।তাই ও মৃত্যুটা বেছে নিয়েছে।
হেমাঃকিন্তু ভাইয়া আমিতো আকাশকে ভালোবাসি না।আর তন্নি আকাশ কে এবং আকাশ আমাকে ভালোবাসে এই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।তাহলে আপনি আমাকে কেন শাস্তি দিচ্ছেন?তন্নি যদি আমাকে বলতো তাহলে আমি আকাশকে বুঝিয়ে বলতাম।আমাকে ভুলে যেনো তন্নিকে মেনে নেয়।

তামিমঃকলেজের অনেকেই তোমার জন্য পাগল।আকাশ ও তোমাকে ভালোবাসে।আমি দেখতে চাই এখান থেকে যাওয়ার পর আকাশ তোমাকে মেনে নেয় কিনা।তোমাকে তো আমি সুন্দরভাবে বাঁচতে দিব না।
সমাজ তোমার দিকে বাঁকা চোখে তাকাবে।কলেজের সবাই তোমার দিকে বাঁকা চোখে তাকাবে।সবাই তোমার দিকে আঙুল তোলবে। তোমার সাথে কিছু হয়নি তা শুধু তুমি আর আমি জানবো।আর সবাই জানবে তুমি একটা খারাপ মেয়ে।
এ কথাগুলা বলতে বলতে তামিম হেসে দিলো।
হেমা কি করবে বুঝতে পারছে না।কোন কারন ছাড়াই এমন করে ফেঁসে যাবে কখনো ভাবে নি সে।
ওর এখন চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে।তন্নি আর আাকাশের উপর খুব রাগ হচ্ছে ওর।

রাত এ তামিম হেমা কে একটা প্যাকেট এনে দিয়ে বললো এটাটে খাবার আছে খেয়ে নাও।
এ বলে হেমার হাতের বাধন খোলে দিলো।
হেমাঃ আমি খাবো না।আমি বাড়ি যাবো।
তামিমঃতোমাকে যেতে দিবো না তা তোমাকে একবার বলা হয়েছে। খেয়ে নাও।
হেমা খাবারের প্যাকেট টা ফেলে দিলো।
তামিমঃআমার সাথে জিদ দেখিও না।আমি তোমার সাথে খারাপ কিছু করতে চাই না।আমাকে রাগালে কিন্তু এর ফল তোমাকেই ভোগ করতে হবে।আমার মাথা গরম হয়ে গেলে কখন কি করে ফেলবো তার ঠিক নেই।

হেমা তামিমের এ কথা শুনে ভয় পেয়ে গেলো।তাই আর কথা বাড়ালো না।চুপ করে এক কোনে বসে রইলো।
তামিম খেয়ে শুয়ে পরলো।
কখন যে হেমা ও ঘুমিয়ে পরেছে তা হেমা বুঝতে পারে নি।

ঘুম থেকে জেগে দেখে তামিম ঘুমাচ্ছে।
হেমার বাঁধনটা খোলাই ছিলো। হেমা সুযোগ বোঝে পালালো।কিন্তু কিছু দূর যাওয়ার পর আবার তামিমের সামনে এসে পরলো।
তামিম হেমাকে ধরে নিয়ে আসলো।
তামিমঃতুমি কি ভেবেছিলে আমার থেকে পালাতে পারবে?তুমি পালানোর চেষ্টা করে অনেক বড় ভুল করেছো।
এ কথা বলে তামিম হেমার গালে একটা চড় বসিয়ে দিলো।
চড় খেয়ে হেমা পরে গেলো।
তামিম হেমাকে একটা গাছের সাথে বেঁধে দিলো। তারপর গাছ এর একটা মোটা ঢাল নিলো।
আর হেমার পায়ের তালুতে কয়েকটা আঘাত করলো।ঢালের আঘাতে পায়ের তালু কেটে রক্ত বের হয়ে গেলো।
তামিমঃ নেক্সট টাইম যাতে আর পালাতে না পারো সে ব্যবস্থা করলাম।
আর আজ থেকে তোমার হাত আর খোলা হবে না।হাত সবসময় বাঁধাই থাকবে।

দুপুরে তামিম খাবার কিনে এনে হেমা কে খাইয়ে দিতে গেলো।
কিন্তু হেমা খেলো না।
তামিম দেখলো হেমার গায়ে জ্বর।
তামিম কিছু বললো না।নিজেই খেয়ে নিলো।

রাতের বেলা হেমার জ্বরটা বেরে গেলো।
কিন্তু তামিমের সে দিকে খেয়াল নেই।তার মনে শুধু বোন এর মৃত্যুর প্রতিশোধ ছাড়া আর কিছুই কাজ করছে না।
হেমার পা ফোলে গেছে।ব্যাথায় হাটটে পারছে না।
এত কিছুর পর ও তামিমের মনে হেমার জন্য একটু ও মায়া জন্মায় নি।
হেমা ও তামিমকে আর বাড়ি যাওয়ার কথা বলেনি।
হেমা বুঝতে পেরে গেছে যে তন্নির মৃত্যুর পর ওর ভাই একটা অমানুষে পরিনত হয়েছে।
যার মনে কোন মায়া দয়া নেই।যে মানুষের কথা বুঝতে পারে না।আর যা করছে তা কতটা ঠিক তার ও কোন ভাবনা নেই।

 

৫ দিন পর একটা গাড়ি হেমাকে তার বাড়ির সামনে ফেলে দিয়ে আসলো।
হেমার পায়ে ব্যাথা এবং শরীর দূর্বল থাকায় অনেক কষ্টে বাড়ি পৌছালো।.

চলবে….