৩৩ নং মাথা

Now Reading
৩৩ নং মাথা

এবারেই প্রথম মনে হচ্ছে মাথাটা কেটে ফেলা ঠিক হয়নি। কাটা মাথা থেকে অনবরত রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। প্লাস্টিকের সিমেন্ট ব্যাগে ভরেও কিছু হচ্ছেনা। ব্যাগ চুইয়ে চুইয়ে রক্ত পড়ছে। ফ্লোর মুছবে নাকি বডি ফেলে দিয়ে আসবে স্থির করতে পারছে না আরফান। মাথাটা নিজের জন্য রেখে বডিটা ফেলে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু এত রক্ত দেখে তার নিজের হাঁটু ভেঙ্গে আসছে।

 

নিজের উপর রাগ হতে লাগলো তার । ৩৫ তলা একটি ভবনের ২৭ তলাতে অবস্থান করছে সে। খানিক আগে শাকিল এর সাথে গতবছরের জেলখানার দিনগুলো নিয়ে হাসি ঠাট্টা করছিল। হটাৎই প্রসাব করার নাম দিয়ে শাকিলের পিছে চলে আসে আরফান। কোমরে গুঁজে রাখা হালকা মরচে ধরা চাপাতিটা হেঁচকা টানে বের করে আনে। জং ধরে গেলেও জিনিসটা দারুণ কাজ করে। ধীরে ধীরে শাকিলের পিছে এসে কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে। ভাবে গত কয়েকদিনের কথা।

 

২ সপ্তাহ আগেও শাকিলকে চিনতো না আরফান। দুপুরে বাসায় ভাত খাচ্ছিল শুঁকনো মরিচ আর আলুভর্তা দিয়ে। এমন সময় নেতার ফোন এলো। মাখা ভাত রেখেই হাত ধুয়ে এসে নেতার ফোন তুললো সে,

-আরফান, কিরম আছোস?

  • জ্বী নেতা আছি।
  • তোরেতো দরকার।
  • আমি আসতেছি।
  • আসা লাগবে না। রাসেল তোর সাথে স্টেশনে দেখা করবে। ওর কাছে থেকে কাজ বুঝে নিয়ে চলে যা।

  • এলাকার বাইরের কাম?

  • না হইলে তো স্টেশনে যাইতে কইতাম না।

  • মাফ কইরা দেন নেতা। আমি যাইতাছি।

  • যাহ যাহ। ভাল মত কাজ কর। সামনে তোরেই আমি মাঠের রাজা কইরা দিমু।

  • জ্বি আচ্ছা। আসসালামুয়ায়ালাইকুম।

 

নেতা সালামের উত্তর দেন না। ফোন রেখে শার্ট গায়ে চড়িয়ে বের হয়ে যায়। ব্যাগ তার রেডি ই থাকে। রেল স্টেশনে রাসেল চা দোকানে বসিয়ে সব বুঝিয়ে দেয় আরফানকে। গাড়িতে উঠার সময় পিঠে হাত বুলিয়ে দেয় রাসেল, -“আরফান ভাই, তুমি একটা মাল। এত সুন্দর কইরা কাজ আমরা পারিনা। নেতা তাই তোমারেই ডাক দেয়। নেতা বলে সামনে ছাইড়া দিব, লগে রাইখো। ”

 

আরফান হালকা হাসে। মাথা ঝাঁকিয়ে গাড়িতে উঠে পড়ে।

 

আরফানের কাজের পদ্ধতি অন্যরকম। সে প্রতিটা খুন সময় নিয়ে করে। মাঝে মাঝে ১ মাস, মাঝে মাঝে ৩ মাস আবার কখনো ২ সপ্তাহেও কাজ শেষ করে ফেলে। খুন করার আগে প্রতিটা ভিক্টিম এর সাথে বন্ধুত্ব করে সে। নিজেকে ভিক্টিম এর টার্গেটে পরিনত করে। তারপর ঘনিষ্ঠতা যখন চরমে উঠে যায়, তখন নিরিবিলি কাজ করে দেয়।

 

শাকিল গাজীপুরের প্রভাবশালী গুন্ডা। টেন্ডারবাজি – চাঁদাবাজি – ধর্ষণ – খুন – গুম সবই করে এবং করায়। আরফানের জন্য কাজটা সোজা হয়ে যায় কারন চোরে চোরে মাসতুতো ভাই। শাকিলের মেয়েকে ইচ্ছাকৃত ভাবে অটোরিক্সার নিচে ফেলে, নিজেই উদ্ধার করে ১ নিয়ে শাকিলের নজরে আসে। শাকিল খুব আন্তরিক হয়ে মিশে যায় আরফানের সাথে। ২ মাসে শাকিলের সব ব্যবসার নাড়ি-নক্ষত্র বের করে ফেলে। তারপর আজ সন্ধ্যার পাগলা পানি খাওয়ার দাওয়াত দিয়ে শাকিল কে আসতে বলে এই কন্সট্রাকশন এর কাজ চলা ভবনে।

 

১ মিনিটে সব রিওয়াইন্ড প্লে করে এক কোপ দিয়ে শাকিলের গলাটা নামিয়ে ফেলে আরফান। চিৎকার দেয়ার সুযোগটাও পায়নি মানুষটা। কেন খুন করতে হলো সেটা জানেনা, সে জানে নেতার একে সরিয়ে দেয়ার দরকার ছিল তাই সে তার বেচে থাকার অধিকার হারিয়েছে।

 

মাথাটা পাশে রাখা বালুর উপরে কতক্ষণ ঘষলো সে। তারপর শ্বাসনালিতে একটু বালিও ভরে নিল। বাড়িতে গিয়ে ধুয়ে নেয়া যাবে। আর লাশটা বস্তায় ভরে উপর থেকে ফেলে দিল নিচে। এটা ঘাড়ে করে নামাতে পারবেনা। শাকিল বেশ স্বাস্থ্যবান তো তাই। আর নিচে কেউ নাই।

 

খুনের পর মাথা রেখে দেয়া আরফানের শখ। তার গ্রামের বাড়িতে যথাযথ বৈজ্ঞানিক উপায় মেনেই সে মাথাগুলো সংরক্ষণ করে। বাড়িতে কাচারী ঘরের পিছে খড়ের গাদার নিচে একটা কম্পার্টমেন্ট বানিয়ে নিয়েছে সে। প্রায় ৩১ টার মত মাথা আছে তার সেই সংগ্রহশালায়। এটা নিয়ে ৩২  টা হলো।

 

ঘাটে এসে স্পীডবোটে লাশ তুলে নিজেই চালানো শুরু করলো। আগেই ঠিক করা ছিল। লাশটা বুড়িগঙ্গার বুকে যাবে।

 

বাড়ি ফিরে নেতাকে কল দিল। নেতা সেই রাতেই রাসেলকে দিয়ে বখশিশ পাঠিয়ে দিল। এইদিক দিয়ে নেতা কখনো আরফানকে নিরাশ করেননি। দরকারের চেয়ে বেশিই দিয়েছেন। গত ৭ বছরে আরফান ৩২ টা খুন করেছে সব নেতার আদেশে। ৩৩ নাম্বার খুনটা নিয়ে সে খুব আশাবাদী। কারন সেটাই তার জীবনের শেষ খুন হবে। আর ভাল লাগেনা এই ফেরারী খুনির জীবন। তার জীবনের সব স্বপ্ন –আশা ৩৩ নাম্বার খুনটা নিয়ে।

 

ছোটবেলায় বাবাকে নিজের চোখের সামনে খুন হতে দেখেছে। বাচ্চা, কিছু বুঝবে না বলে খুনিরা তাকে ছেড়ে দিয়ে চলে গেছে। মা কে চোখের সামনে ৩ পশুর লালসার শিকার হতে দেখেছে। মা মুখে হাত চেপে চিৎকার করে কেঁদেছে। লজ্জা, গ্রামের মানুষের নিন্দা আর চেয়ারম্যানের দেয়া শাস্তির সামনে দাড়াতে পারেনি মা। সেখানেই এলিয়ে পড়েছেন, বুকের ঊপর উঠে মার মুখ ধরে নাড়ছিল আরফান, মনে আছে তার। কিন্তু মা কথা বলেনি। ৪ বছরের শিশু আরফান সব মনে রেখেছে।

৪ মাস পরের কথা। ইলেকশন শেষ। নেতা আবারো গ্রামের চেয়ারম্যান। ২৮ বছর ধরে তিনি একাই রাজত্ব করছেন। সামনে আরো করবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করে সভা শেষে বাসায় ফিরছেন। সাথে আরফান ছাড়া কেউ নেই।

 

২ ঘন্টা পর আরফান নিজেই থানায় যায়। গিয়ে সব পুলিশকে খুলে বলে। পুলিশ সব শুনে চোখ বড় করে জিজ্ঞেস করে

  • লাশটা কই?
  • স্যার লাশ তো বুড়িগঙ্গায়। তয় আমি মাথা রাইখ্যা দেই।
  • চল দেখাবি।

  •  

    পুলিশকে নিয়ে সংগ্রহশালায় যায় আরফান। ৩৩ নং মাথাটা রাখা আছে। সামনে নেম প্লেট – “সোবহান শিকদার চেয়ারম্যান।”

     

    মাথাটার দিকে তাকিয়ে অনেকটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে আরফান। এটা মা আর বাবার জন্য ।

    ৩৩ নং মাথা

    Now Reading
    ৩৩ নং মাথা

    এবারেই প্রথম মনে হচ্ছে মাথাটা কেটে ফেলা ঠিক হয়নি। কাটা মাথা থেকে অনবরত রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। প্লাস্টিকের সিমেন্ট ব্যাগে ভরেও কিছু হচ্ছেনা। ব্যাগ চুইয়ে চুইয়ে রক্ত পড়ছে। ফ্লোর মুছবে নাকি বডি ফেলে দিয়ে আসবে স্থির করতে পারছে না আরফান। মাথাটা নিজের জন্য রেখে বডিটা ফেলে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু এত রক্ত দেখে তার নিজের হাঁটু ভেঙ্গে আসছে।

     

    নিজের উপর রাগ হতে লাগলো তার । ৩৫ তলা একটি ভবনের ২৭ তলাতে অবস্থান করছে সে। খানিক আগে শাকিল এর সাথে গতবছরের জেলখানার দিনগুলো নিয়ে হাসি ঠাট্টা করছিল। হটাৎই প্রসাব করার নাম দিয়ে শাকিলের পিছে চলে আসে আরফান। কোমরে গুঁজে রাখা হালকা মরচে ধরা চাপাতিটা হেঁচকা টানে বের করে আনে। জং ধরে গেলেও জিনিসটা দারুণ কাজ করে। ধীরে ধীরে শাকিলের পিছে এসে কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে। ভাবে গত কয়েকদিনের কথা।

     

    ২ সপ্তাহ আগেও শাকিলকে চিনতো না আরফান। দুপুরে বাসায় ভাত খাচ্ছিল শুঁকনো মরিচ আর আলুভর্তা দিয়ে। এমন সময় নেতার ফোন এলো। মাখা ভাত রেখেই হাত ধুয়ে এসে নেতার ফোন তুললো সে,

    -আরফান, কিরম আছোস?

    – জ্বী নেতা আছি।

    – তোরেতো দরকার।

    – আমি আসতেছি।

    – আসা লাগবে না। রাসেল তোর সাথে স্টেশনে দেখা করবে। ওর কাছে থেকে কাজ বুঝে নিয়ে চলে যা।

    – এলাকার বাইরের কাম?

    – না হইলে তো স্টেশনে যাইতে কইতাম না।

    – মাফ কইরা দেন নেতা। আমি যাইতাছি।

    – যাহ যাহ। ভাল মত কাজ কর। সামনে তোরেই আমি মাঠের রাজা কইরা দিমু।

    – জ্বি আচ্ছা। আসসালামুয়ায়ালাইকুম।

     

    নেতা সালামের উত্তর দেন না। ফোন রেখে শার্ট গায়ে চড়িয়ে বের হয়ে যায়। ব্যাগ তার রেডি ই থাকে। রেল স্টেশনে রাসেল চা দোকানে বসিয়ে সব বুঝিয়ে দেয় আরফানকে। গাড়িতে উঠার সময় পিঠে হাত বুলিয়ে দেয় রাসেল, -“আরফান ভাই, তুমি একটা মাল। এত সুন্দর কইরা কাজ আমরা পারিনা। নেতা তাই তোমারেই ডাক দেয়। নেতা বলে সামনে ছাইড়া দিব, লগে রাইখো। ”

     

    আরফান হালকা হাসে। মাথা ঝাঁকিয়ে গাড়িতে উঠে পড়ে।

     

    আরফানের কাজের পদ্ধতি অন্যরকম। সে প্রতিটা খুন সময় নিয়ে করে। মাঝে মাঝে ১ মাস, মাঝে মাঝে ৩ মাস আবার কখনো ২ সপ্তাহেও কাজ শেষ করে ফেলে। খুন করার আগে প্রতিটা ভিক্টিম এর সাথে বন্ধুত্ব করে সে। নিজেকে ভিক্টিম এর টার্গেটে পরিনত করে। তারপর ঘনিষ্ঠতা যখন চরমে উঠে যায়, তখন নিরিবিলি কাজ করে দেয়।

     

    শাকিল গাজীপুরের প্রভাবশালী গুন্ডা। টেন্ডারবাজি – চাঁদাবাজি – ধর্ষণ – খুন – গুম সবই করে এবং করায়। আরফানের জন্য কাজটা সোজা হয়ে যায় কারন চোরে চোরে মাসতুতো ভাই। শাকিলের মেয়েকে ইচ্ছাকৃত ভাবে অটোরিক্সার নিচে ফেলে, নিজেই উদ্ধার করে ১ নিয়ে শাকিলের নজরে আসে। শাকিল খুব আন্তরিক হয়ে মিশে যায় আরফানের সাথে। ২ মাসে শাকিলের সব ব্যবসার নাড়ি-নক্ষত্র বের করে ফেলে। তারপর আজ সন্ধ্যার পাগলা পানি খাওয়ার দাওয়াত দিয়ে শাকিল কে আসতে বলে এই কন্সট্রাকশন এর কাজ চলা ভবনে।

     

    ১ মিনিটে সব রিওয়াইন্ড প্লে করে এক কোপ দিয়ে শাকিলের গলাটা নামিয়ে ফেলে আরফান। চিৎকার দেয়ার সুযোগটাও পায়নি মানুষটা। কেন খুন করতে হলো সেটা জানেনা, সে জানে নেতার একে সরিয়ে দেয়ার দরকার ছিল তাই সে তার বেচে থাকার অধিকার হারিয়েছে।

     

    মাথাটা পাশে রাখা বালুর উপরে কতক্ষণ ঘষলো সে। তারপর শ্বাসনালিতে একটু বালিও ভরে নিল। বাড়িতে গিয়ে ধুয়ে নেয়া যাবে। আর লাশটা বস্তায় ভরে উপর থেকে ফেলে দিল নিচে। এটা ঘাড়ে করে নামাতে পারবেনা। শাকিল বেশ স্বাস্থ্যবান তো তাই। আর নিচে কেউ নাই।

     

    খুনের পর মাথা রেখে দেয়া আরফানের শখ। তার গ্রামের বাড়িতে যথাযথ বৈজ্ঞানিক উপায় মেনেই সে মাথাগুলো সংরক্ষণ করে। বাড়িতে কাচারী ঘরের পিছে খড়ের গাদার নিচে একটা কম্পার্টমেন্ট বানিয়ে নিয়েছে সে। প্রায় ৩১ টার মত মাথা আছে তার সেই সংগ্রহশালায়। এটা নিয়ে ৩২  টা হলো।

     

    ঘাটে এসে স্পীডবোটে লাশ তুলে নিজেই চালানো শুরু করলো। আগেই ঠিক করা ছিল। লাশটা বুড়িগঙ্গার বুকে যাবে।

     

    বাড়ি ফিরে নেতাকে কল দিল। নেতা সেই রাতেই রাসেলকে দিয়ে বখশিশ পাঠিয়ে দিল। এইদিক দিয়ে নেতা কখনো আরফানকে নিরাশ করেননি। দরকারের চেয়ে বেশিই দিয়েছেন। গত ৭ বছরে আরফান ৩২ টা খুন করেছে সব নেতার আদেশে। ৩৩ নাম্বার খুনটা নিয়ে সে খুব আশাবাদী। কারন সেটাই তার জীবনের শেষ খুন হবে। আর ভাল লাগেনা এই ফেরারী খুনির জীবন। তার জীবনের সব স্বপ্ন –আশা ৩৩ নাম্বার খুনটা নিয়ে।

     

    ছোটবেলায় বাবাকে নিজের চোখের সামনে খুন হতে দেখেছে। বাচ্চা, কিছু বুঝবে না বলে খুনিরা তাকে ছেড়ে দিয়ে চলে গেছে। মা কে চোখের সামনে ৩ পশুর লালসার শিকার হতে দেখেছে। মা মুখে হাত চেপে চিৎকার করে কেঁদেছে। লজ্জা, গ্রামের মানুষের নিন্দা আর চেয়ারম্যানের দেয়া শাস্তির সামনে দাড়াতে পারেনি মা। সেখানেই এলিয়ে পড়েছেন, বুকের ঊপর উঠে মার মুখ ধরে নাড়ছিল আরফান, মনে আছে তার। কিন্তু মা কথা বলেনি। ৪ বছরের শিশু আরফান সব মনে রেখেছে।

    ৪ মাস পরের কথা। ইলেকশন শেষ। নেতা আবারো গ্রামের চেয়ারম্যান। ২৮ বছর ধরে তিনি একাই রাজত্ব করছেন। সামনে আরো করবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করে সভা শেষে বাসায় ফিরছেন। সাথে আরফান ছাড়া কেউ নেই।

     

    ২ ঘন্টা পর আরফান নিজেই থানায় যায়। গিয়ে সব পুলিশকে খুলে বলে। পুলিশ সব শুনে চোখ বড় করে জিজ্ঞেস করে

    – লাশটা কই?

    – স্যার লাশ তো বুড়িগঙ্গায়। তয় আমি মাথা রাইখ্যা দেই।

    – চল দেখাবি।

     

    পুলিশকে নিয়ে সংগ্রহশালায় যায় আরফান। ৩৩ নং মাথাটা রাখা আছে। সামনে নেম প্লেট – “সোবহান শিকদার চেয়ারম্যান।”

     

    মাথাটার দিকে তাকিয়ে অনেকটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে আরফান। এটা মা আর বাবার জন্য ।

    স্বপ্নের নায়ক সালমান শাহ

    Now Reading
    স্বপ্নের নায়ক সালমান শাহ

    কিছুদিন হলো ফেইসবুকে সালমান শাহ এর মৃত্যুর রহস্য ফাঁস করে রুবি নামের একজন ভিডিও ছেড়েছে।

    সে ভিডিও এর পর সামিরার বাবা বলেছে সালমান শাহ জনপ্রিয়তা হারচ্ছিল তাই আত্মহত্যা করেছে।

     

    তার এ কথাটা আমি মানতে পারছিনা।

    কারণ যে মানুষটার মৃত্যুর ২১ বছর পরেও মানুষের মনে জায়গা করে আছে সে মানুষটা কি ভাবে জনপ্রিয়তা হারায়?

    সামিরার বাবা কি জানে সালমান শাহ মানুষের মনে কতটা জায়গা নিয়ে আছে?

    সালমানের মৃত্যুর পরে যাদের জন্ম,তাদের মনেও সালমান একটা জায়গা নিয়ে আছে।

    তাহলে সামিরার বাবা কি করে বলে যে সালমান শাহ জনপ্রিয়তা হারানোর কারণে আত্মহত্যা করেছে?

    সামিরার বাবা মনেহয় জনপ্রিয়তা কি বা জনপ্রিয়তা বলতে কি বুঝায় তা জানেন না।তাই এ ধরণের কথা বলে ফেলেছে।

    সালমানকে যারা চিনে তারা এখনও সালমানের ছবি দেখে।

    দেখা ছবি বার বার দেখ।

    টিভি চ্যানেল ঘুরাতে গিয়ে যদি সালমানের কোন ছবি চোখে পড়ে তাহলে আমি সিওর এখনো মানুষ চ্যানেল না ঘুরিয়ে কিছুটা সময় অপেক্ষা করে।

     

    বাংলা সিনেমায় তো আরো অনেক নায়ক মারা গেছে।কই তাদের তো মানুষ এতটা মিস করে না যতটা সালমান মিস করে?

    তাহলে সামিরার বাবা কি করে বলে সালমান শাহ জনপ্রিয়তা হারিয়েছে?

    রুবি নামের ঐ মহিলা বলেছেন যে সালমান কে হত্যা করা হয়েছ।

    তার কয়েক ঘন্টা পর আবার বলেছে যে তার আগের বলা কথাগুলা সব মিথ্যে।

     

    আর তার এ কথা শুনে কিছু মানুষ তাকে নানান গালি দেওয়া শুরু করলো।

    তার সম্পর্কে খারাপ কথা বলতে শুরু করলো।

    কমেন্ট বক্সে ৮০% লোক তাকে নিয়ে নেগেটিভ কমেন্ট করা শুরু করলো।

     

    এক দাঁড়িওয়ালা লোক কমেন্টে গালি দিয়ে কমেন্ট করলেন। একজন তার কমেন্টে রিপ্লাই করলো” ভাই দাঁড়ি রেখে এভাবে গালি দেওয়াটা কি ঠিক হচ্ছে?”

    ঐ ভদ্র লোক বললো এমন সব মহিলাকে গালি দেওয়া যায়েয আছে।

    মানুষ আজ কোথায় নেমে এসেছে?

     

    অনেকে আবার তাকেই খুনি বলে দাবি করছে।

     

    কিন্তু কেও একবারও ভাবলো না যে মহিলা কেন তার বক্তব্য পরিবর্তন করেছে।

    আচ্ছা আমরা এত অসভ্য কেন? কারো সম্পর্কে ভালো ভাবে না জেনেই তাকে নিয়ে নানান আলোচনা সমালোচনা শুরু করি কেন?

    আমাদের বিবেক বুদ্ধি আজ কোথায় দাঁড়িয়ে আছে?

    একজন মহিলা যে কিনা সালমান শাহ খুনের ৭ নাম্বার আসামি  সে কেন নিজ দায়ীত্বে আবার সবার সামনে আসবে?

    সে যদি খুনি হয় তাহলে কেন মাটিচাপা পরা জিনিষ নিয়ে ঘাটাঘাটি করবে?

     

    আমাদের দেশের মানুষ কি এটা জানে না যে খুনির থেকে সাক্ষীর জীবনের ঝুঁকি বেশি থাকে?

    জীবনের ভয় কার নেই?

    রুবি নামের মহিলা যদি প্রথমে সত্যিটা বলে থাকে তাহলে তার জীবন হুমকির সামনে পরতেই পারে। এ নরমাল বিষয়টা আমরা বাঙ্গালী কেন বুঝিনা?

    সে জন্যই তিনি ভিডিওতে বলেছিলেন

    ” বাঙ্গালি কিছু বুঝেনা।যুক্তি বুঝেনা শুধু লাফাতে পারে।তাই আপনাদের খারাপ কথায় আমার কিছু আসে যায় না।”

     

    তার বক্তব্য পাল্টানোর পর সালমান এর মা এবং মামা একবার ও তো বলেনি যে রুবি খুনি,রুবি পল্টিবাজ,রুবি খারাপ।তারা শুধু একটা কথাই বলেছেন যে রুবির জীবন হুমকির মুখে আছে।তাকে নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যাবস্থা করা হোক।

     

    যাদের সন্তান হারিয়েছে তারা যদি বিষয়টা মানতে পারে তাহলে আমরা কেন রুবি কে নিয়ে এত বাজে কথা বলছি?

     

    আমরা সবাই চাই সত্যিটা বের হয়ে আসুক।

    সালমান খুন হয়ে থাকলে তার খুনিরা শাস্তি পাক।

     

    সালমান শাহ যখন মারা যায় তখন আমি খুব ছোট।প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি মাত্র।

     

    সালমান শাহ্ এর মারা যাওয়াটা তখন বুঝিনি।বাংলাদেশের ফিল্ম ইন্ড্রাসট্রি কি হারিয়েছে, বাংলাদেশের মানুষ কি হারিয়েছে তা বুঝিনি।

    ঐ বয়সে তা বুঝারও কথা না।

    আস্তে আস্তে বাংলা মুভিতে কিছু একটা মিস করা শুরু করলাম।হয়তো আমার মত সবাই তা করছে।

     

    সালমান অল্প কয়েক বছরে এতটা জনপ্রিয় হয়ে গিয়েছিল যে তা সহজে ভুলার না।

    যে জিনিস দ্রুত বেড়ে উঠে তা তাড়াতাড়ি ভেঙ্গে যায়।আমরা এমনটাই জানি।

    সালমান শাহ এর প্রতি আমাদের অতিরিক্ত ভালোবাসাই হয়তো তাকে হারানোর কারণ ছিল।

    এটা আমাদের ব্যার্থতা ছিল যে আমরা তাকে ধরে রাখতে পারিনি।

    পারিনি তার মৃত্যুর ২১ বছর পরেও তার হত্যার বিচার করতে।

     

    সালমান যদি বেঁচে থাকতো তাহলে ইন্ডিয়া যেমন একজন কিং খান পেয়েছে আমরা ও একজন কিং পেতাম।

    বাংলা সিনেমায় প্রাণ খুঁজে পেতাম।

     

    তার মৃত্যুটা এখনো রহস্যজনক।জানিনা তার মৃত্যুর জটলা এভার খোলবে নাকি আগের মত আবার ধামাচাপা পড়ে যাবে।

    আমাদের দেশে আবার এসব ধামাচাপা দেওয়ার খুব নাম আছে।

    সামান্য ভক্ত হিসেবে আমাদের সবার একটাই চাওয়া।তা হলো সালমানের মৃত্যুর সত্যি রহস্য বের হোক এবং খুন হলে তার খুনিদের শাস্তি হোক।

     

    কোন ক্ষমতার বলে যেনো কোটি মানুষের আশা হতাশায় পরিণত না হয়।

     

    সালমানের মামা এবং মা এর প্রশ্নের উত্তর গুলা সামিরাকে দিতে বলা হোক।

    সামিরা  যদি খুন না করে থাকে তাহলে মুখ লুকিয়ে না থেকে সবার সামনে আসুক।১৬ কোটি মানুষের চোখে চোখ রেখে কথা বলুক।

     

    সালমান বেঁচে আছে কোটি মানুষের স্বপ্নের নায়ক হয়ে।

    আর আমরা আশায় আছি তার খুনের সঠিক বিচারের।

    এবার অন্তত সত্যিটা বের হোক

    প্রতিশোধ -পর্বঃ ৮

    Now Reading
    প্রতিশোধ -পর্বঃ ৮

    পরেরদিন ভোরে হেমা কলেজে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে।কলেজটা ওদের বাসা থেকে অনেক দূরে। তাই আগেই বের হতে হবে।
    হেমা দেখল তামিম ও রেডি হচ্ছে
    হেমাঃআপনি কোথায় যাবেন?
    তামিমঃতোমার সাথে।
    হেমাঃআমি একাই যেতে পারব।
    তামিমঃআমি জানি তুমি একা যেতে পারবে।কিন্তু আমি তোমাকে বিশ্বাস করি না।
    হেমাঃ মানে?
    তামিমঃতুমি কলেজে গিয়ে যে হিমেলের সাথে দেখা করবে না বা হিমেলের সাথে পালিয়ে যাবে না তার কি গেরান্টি আছে?

    হেমা মনেমনে ভাবছে কাল হিমেলকে দেওয়া টেক্সট টা কি তামিম দেখে ফেললো?
    কিন্তু টেক্সট টা তো ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে।
    হিমেল কি টেক্সট পাওয়ার পর আমাকে কল বা টেক্সট করেছিল?

    তামিম আর হেমা কলেজে যাওয়ার জন্য বের হয়ে গেলো।
    কলেজে যাওয়ার পর হেমা ওর ফ্রেন্ডের কাছে গেলো
    এত দিন পর হেমাকে দেখে সবাই প্রশ্ন করতে শুরু করল।
    হেমা দেখল তামিম আশেপাশেই আছে।
    হেমার খুব টেনশন হচ্ছে।তামিম কিছুতেই দূরে যাচ্ছে না।হিমেলের সাথে কথা বলবে কি করে?তামিম দেখলে সমস্যা করবে।
    হেমা দেখল হিমেল চলে এসেছে।
    হেমা ঠিক করল ভাইভা দিয়ে তারপর হিমেলের সাথে কথা বলবে।
    হেমার এক ফ্রেন্ডকে দিয়ে হেমা হিমেলের কাছে খবর পাঠাল যে ভাইভার পর হেমা দেখা করবে।

    হেমার সিরিয়াল আগে ছিল তাই ভাইভা শেষ করে লুকিয়ে হিমেলের সাথে কথা বলতে গেল।
    হেমা হিমেলকে দেখে কান্না করে দিল।
    হিমেল হেমার হাত ধরে বলল,
    হিমেলঃহেমা কান্না করো না।কি হয়েছে আমাকে বল?তুমি এত দিন কোথায় ছিলে? তোমার মেবাইল বন্ধ ছিল কেন?
    হেমা কি ভাবে শুরু করবে বুঝতে পারছেনা।
    হেমা সবটা বলতে যাবে এমন সময় তামিম এসে সামনে দাঁড়াল।
    হেমা কি করবে বুঝতে পারছে না।

    তামিমঃতুমি বলেছিলে পরীক্ষাটা দিবে তাই তোমাকে একটা সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।এখন দেখছি তোমাকে সুযোগ দেওয়া ঠিক হয়নি।
    হিমেলঃহেমা লোকটা কে? আর এ সব কি বলছে?
    হেমা চুপ করে আছে।
    হিমেলঃহেমা কি হল? এ লোকটা কে?
    তামিমঃআমি ওর হাজবেন্ড।
    হিমেলঃমানে? হেমা তুমি বিয়ে করেছ?
    তামিমঃহেমা চল।তোমার পরীক্ষা দেওয়া হয়ে গেছে।
    হেমা দাঁড়িয়ে আছে।

    তামিম হেমার সামনে গিয়ে আস্তে আস্তে বলল
    তামিমঃতুমি যদি হিমেলের ভাল চাও তাহলে আমার সাথে চল।আর না হয় হিমেলকে এর জন্য ভোগতে হবে।
    হেমা চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালো।
    হিমেল হেমার হাত ধরে রাখলো।
    হিমেলঃহেমা আমার সাথে এমনটা কেন করলে?আমাকে ভালোবেসে অন্য একজনকে বিয়ে করলে কেন?
    হেমাঃতোমাকে অনেক কিছু বলার ছিল।কিন্তু বলার সুযোগটা হল না।
    শুধু একটা কথা বলি।আমি এ বিয়েটা করতে চাইনি।
    আমার জীবনটা নষ্ট করার জন্য শুরু থেকে এ লোকটা দায়ী।
    এ কথা বলে হেমা হিমেলের থেকে হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে চলে গেল।
    হিমেল হেমার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে।হিমেল কি বলবে তা খুঁজে পাচ্ছেনা।

    তামিম হেমাকে নিয়ে বাসায় চলে আসলো।
    বাসায় এসেই তামিম হেমার গালে একটা চড় বসিয়ে দিল।
    হেমা চুপ করে আছে।
    তামিমঃআমি জানতাম তুমি এমন করবে।তাইত তোমাকে একা যেতে দেইনি।
    তুমি কি ভেবেছিলে? তুমি তোমার প্রেমিকের হাত ধরে পালাবে আর আমি তা চুপ করে দেখব?
    হেমাঃপালাব নাত কি করব? তোমার মত একটা জানোয়ারের সাথে সারাজীবন কাটাব নাকি?

    তামিম হেমার দুইহাত পিছনে নিয়ে ধরে বলল
    তামিমঃহুম আমার সাথেই কাটাবে।এ ছাড়া তোমার আর কোন সুযোগ নেই।আর তুমি যদি হিমেলের সাথে পালানোর কথা চিন্তা কর তাহলে তোমার ভুলের জন্য হিমেলকে শাস্তি পেতে হবে। এ কথা বলে তামিম হেমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল।
    খাটের সাথে ধাক্কা লেগে হেমার কপাল কেটে গেল।
    হেমাঃআগে ভাবতাম আপনি একটা জানোয়ার কিন্তু এখন দেখছি আপনি তার চেয়েও বেশি খারাপ।

    তামিমঃআমার খারাপটাত তুমি এখনও দেখনি।আজ দেখবে আমি কতটা খারাপ এবং ভয়ংকর।

    একথা বলেই তামিম কোমর থেকে বেল্ট খোলে নিয়ে হেমাকে আঘাত করতে শুরু করল।

    হেমা ভাবছে হয়ত আজই হেমার শেষ দিন।তবে এটাও ভাবছে যে আজ যদি শেষ দিন হয় তাহলে সব কিছু থেকে মুক্তি পাবে। এ কথা ভাবতে ভাবতে হেমা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

    তামিম এমন ভাবে হেমাকে আঘাত করল যে হেমা কখন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে তা তামিম খেয়াল করেনি।

     

     

    (more…)