5
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

একটি রুপকথার গল্প

Now Reading
একটি রুপকথার গল্প

খুব ছোটবেলায় দাদার থেকে শোনা একটি গল্প।

একদেশে এক সুখী রাজা ছিলেন আর ছিলো তাঁর অপরুপ সুন্দরী , গুণবতী প্রাণপ্রিয় রাণী। রাণীর রুপ আর গুণের চর্চা পুরো রাজ্য জুড়ে ছিলো। তবে রাণী তাঁর সুশ্রী চেহারা সবসময় পর্দার আড়ালে রাখতেন। কারণ যে তাঁকে দেখতো সে আর চোখ ফেরাতে পারতো না। আর সুখী রাজা রাণীর ছিলো দুটি ফুটফুটে সন্তান। সুখী রাজার দেশে প্রজারাও বেশ সুখ শান্তিতে বসবাস করতো।

একদিন রাণীর খুব মন খারাপ। অনেকদিন হয়ে গেলো রানী বাবার বাড়ি যায়নি। রাণী বাবার বাড়ি যাবার আবদার করলো রাজার কাছে। কিন্তু রাজা তো রাণীকে ছাড়া একমুহূর্তও থাকতে পারেনা সে রাজিও হল না। সে বললো, “এইতো সেদিন নেমন্তন্নে সবাই এখানে এসেছিলেন। সবাই বেশ ভালো আছে। সেদিন সবার সাথে দেখাতো হয়েছেই, এখন যেতে দেব না ক’দিন পরে আমি যাওয়ার বন্দোবস্ত করে দেব ! ”
আরো কিছুদিন পরে যেতে বললেন রাজা। রাণী রাজাকেও সাথে যাবার অনুরোধ করলো কিন্তু রাজা রাজ্যের কাজে ব্যস্ত বলে সে যেতে পারবেনা জানালো। রাণী আবার মন খারাপ করে রাজার প্রতি অভিমান করে বসে রইলো। রাণীর অভিমান রাজা সইতে পারেনা। তাই সে রাজি হয়ে গেলেন। কিন্তু তাদের এই বিচ্ছেদ যে খুব লোমহর্ষক খুব বেদনার জন্ম দেবে তা কেউ বুঝতে পারেনি !
তারপর নির্দিষ্ট দিনে রাজা অনেক পাহারাদার এবং পালকী ঠিক করলেন রাণীর যাবার জন্য। রাণীর সাথে দুজন দাসীও ছিলো। অবশেষে তিনদিনের জন্য বিদায় নিয়ে চললেন কিন্ত সন্তানদের সাথে নিলেন না। অনেক দূরের পথ আর প্রচন্ড খরার দিন। বাচ্চাদের কষ্ট হবে ! তাছাড়া এইতো তিনদিন পরেই তো ফিরে আসবেন রানী।
রাণী বিদায় হয়ে গেলেন, তাঁর সুখের রাজ্য, সুখের সংসার, তাঁর প্রাণপ্রিয় রাজা আর ফুটফুটে বাচ্চাদের রেখে বিদায় হলেন চিরতরে ! তবে যাবার মুহূর্তে রাজা এবং রাণী অজানা কারণে কেঁদে বিদায় দিলেন একে অপর থেকে….!
যাত্রাপথে চলতে চলতে সবাই ক্ষুধা তৃষ্ণায় ক্লান্ত হয়ে পড়লো ! তখন সবাই পালকী রেখে একটু বিশ্রাম নিতে গাছতলায় বসলো। রাণীও বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। হঠাৎ অদূরে একটি পরিত্যক্ত দিঘী দেখতে পেলেন। স্বচ্ছ টলমলে জল দেখে রাণীর খুব লোভ হল সেই জলে পাঁ ভেজাতে, সেই স্বচ্ছ জল পান করতে। সে পেয়াদাদের বললেন, তাঁকে ঐ জলে কাছে নিয়ে যেতে ! নিয়ে গেলো তারা আর তাঁর সাথে দাসী দুজনও । রাণী তাদের সবাইকে দিঘীর পাশে অপেক্ষা করতে বলে দিঘীর জলে নামলেন। অসম্ভব সুন্দর মনোরম পরিবেশ আর দিঘীর লোভনীয় টলমলে জল। তিনি পানি পান করলেন এবং পাঁ ভিজিয়ে একটু আরাম করলেন। তারপর যখন উঠে আসবেন তখন হঠাৎ দেখলেন তাঁর পাঁয়ের কাছে কালো চুলের মতন কিছুতে পাঁ জড়িয়ে আটকে গেছে। রাণী অনেক চেষ্টা করেও পাঁ ছাড়াতে পারলেন না ! রাণীর পাঁ তুলতে সবাই চেষ্টা করলো কিন্তু কেউ পারলো না। যতই পাঁ ছাড়াতে চেষ্টা করছে ততোই পাঁ আরো আটকে যাচ্ছে। রীতিমত কান্নাকাটির রোল পড়ে গেল ! কয়েকজন পাহারাদার জলদি রাজাকে আনতে গেলো। খবর শুনে রাজা পাগলপ্রায় ছুটে আসলো। তিনদিন চেষ্টা করতে‌ লাগলো সবাই কিন্তু কেউই রাণীর পাঁয়ে জড়ানো চুল কেটে পাঁ তুলতে পারলোনা। আস্তে আস্তে রাণীকে জলের দিকে আরো টেনে নিয়ে যাচ্ছে যেন কোন শক্তি ! সবাই দেখছে কিন্তু কেউ কিছুই করতে পারছে না ! রাণী ক্লান্ত হয়ে রাজাকে জড়িয়ে একটু ঘুমিয়ে পড়লেন। তখন রাণী স্বপ্নে দেখতে পেলেন যে, কেউ তাঁকে অভিশাপ দিয়ে বলছে, ” এই জলে কেন পাঁ রেখেছিস ! আমাদের বিরক্ত কেন করলি ? জলে আলোড়ন করে আমাদের বিরক্ত করেছিস তুই ! তোকে এখন জলের গভীরে আমাদের অন্ধকার রাজ্যে আসতে হবে , আর কোনদিন তুই ফিরে যেতে পারবি না !”

রাণীর ঘুম ভেঙে গেলো। রাণী ভয়ে, রাজা আর সন্তানদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্টে অঝরে কাঁদতে লাগলেন রাজাকে জড়িয়ে। আর বিদায় নিয়ে অনিচ্ছা সত্বেও একটু এজটু দিঘীর জলে তলিয়ে গেলেন……শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত একে অপরের হাত ধরে রাখলেন..‌ কিন্তু একসময় আর রাণীকে খুঁজে পাওয়া গেলনা।
আর কোনদিন রাণী উঠে আসলেন না জল থেকে। আর রাজা রাজ্য ছেড়ে দিঘীর পাশে অপেক্ষা করতে করতে একদিন মৃত্যুবরণ করলেন। তারপর রাজাকে ঐ দিঘীর পাড়ে সমাধি করা হল। তাদের সন্তান একদিন বড় হয়ে রাজ্যের সব দায়িত্ব বুঝে নিলো। রাজ্যের সবাই আবার আগের মত সুখী হল কিন্তু রাজা আর রাণীকে আজও রাজ্যের মানুষ স্মরণ করে চোখের জল ফেলে…।

 

এরকম কত গল্প হয়তো ছোটবেলায় অনেকেই শুনেছি। আরো কিছু গল্প সামনে লিখব যদি ভালো লাগে পাঠকদের…।

গ্রহের নাম গার্ডিয়ান -১ { রাজা আকার রাজ্য বিস্তার }

Now Reading
গ্রহের নাম গার্ডিয়ান -১ { রাজা আকার রাজ্য বিস্তার }

এই গল্পে এ কিছু মজার তথ্য শেয়ার করা হয়েছে যা অনেকেই জানেন , যারা জানেন তারা নিঃসন্দেহে অনেক অভিজ্ঞ আর যারা জানেননা তারা এক ভরপুর রোমাঞ্চ উপভোগ করতে যাচ্ছেন নিশ্চিত থাকতে পারেন । বৈশ্বিক , আন্তর্জাতিক , কূটনৈতিক অনেক তথ্য এখানে অত্যন্ত সুকৌশলে প্রবেশ করানো হয়েছে যা একটু সূক্ষ্ম বিচার বুদ্ধি দিয়ে বিশ্লেষণ করে করায়ত্ত করতে হবে , না ভয় পাওয়ার কিছু নেই , বিষয় বস্তু অত্যন্ত সহজ ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে কিন্তু রূপকের আশ্রয়ে । রূপক বলতে কি বোঝায় তা নিশ্চয়ই আপনাদেরকে বুঝিয়ে দিতে হবেনা ? সব কিছুর সাথেই কোথায় যেন একটা মিল খুঁজে পাওয়া যাবে , একটু খেয়াল করে পড়লেই আসল রহস্য উন্মোচিত হবে । গল্পের আসল আকর্ষণ গল্পের একদম শেষে রেখে দেয়া হয়েছে। গল্পটি একদম প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত না পড়লে গল্পের আসল নির্যাশ উপভোগ করা যাবেনা । তাই পাঠকগণকে গল্পটি শুরু করলে শেষ পর্যন্ত পড়ার অনুরোধ জানানো গেলো । তো চলুন আর কথা না বাড়িয়ে চলে যাই আমাদের মূল গল্পে যেখানে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে গার্ডিয়ান গ্রহ , সেই গ্রহের মূল চরিত্র রাজা আকা আর তার মন্ত্রী ইন ।

 

পৃথিবী থেকে লক্ষ কোটি আলোক বর্ষ দূরে হুবহু পৃথিবীর মত দেখতে আর একটি গ্রহের নাম গার্ডিয়ান । সেই গার্ডিয়ান গ্রহের সবচাইতে শক্তিশালী দেশের নাম আটা। আর এই আটা দেশের রাজার নাম আকা।আকা খুবই কূটনৈতিক উপায়ে তার দেশ পরিচালনা করেন । অনেকটা ধরি মাছ না ছুঁই পানির মত।আর তার এই কূটনৈতিক পন্থা অবলম্বনে তাকে সাহায্য করেন তার মন্ত্রী ইন । মন্ত্রী ইন খুবই তীক্ষ্ণ আর সূক্ষ্ম বুদ্ধির অধিকারী । রাজা আকা নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করেন যে তিনি ইনের মত এতো বুদ্ধিমান লোককে মন্ত্রী হিসেবে তার রাজ্যে পেয়েছেন । এই এক ইনের জন্যই পুরো গ্রহ তার নিয়ন্ত্রণে এবং সবচাইতে মজার বিষয় ইন কূটকৌশলে এতই সিদ্ধহস্ত যে তার বুদ্ধির জোরে আকা অনেক সময় বিনা যুদ্ধেই অনেক রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিতে পেরেছেন।

king-avalon_bannerdfd.jpg

এই যেমন রাজা আটার যদি কোন মহাদেশ নিয়ন্ত্রণ করতে হয় তাহলে সেই মহাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশকে প্রথমে বন্ধুত্বের আবরণে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয় যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে তার আশে পাশের দেশ গুলো দিয়ে সেই দেশকে চাপে ফেলা হয় তাও যদি না হয় তাহলে ঐ দেশকে বিভিন্ন ভাবে যেমন অর্থনৈতিক , আন্তর্জাতিক , খাদ্যসংক্রান্ত , বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক অবরোধের মধ্যে নিয়ে আশা হয় তারপরও যদি সেই দেশ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না হয় তাহলে আকা তার মিত্র দেশ গুলোকে নিয়ে সামরিক জোট করে ঐ দেশকে হামলা করে , আর যদি হামলা করা সম্ভব না হয় তাহলে দিন দিন অবরোধের পরিমাণ বাড়ানো হয় যাতে একসময় ঐ দেশ অবরোধের চাপে নতি শিকার করতে বাধ্য হয় । কিন্তু ঐ দেশ নিয়ন্ত্রণের চাইতে যদি সে দেশকে দখল করলে বেশি লাভজনক মনে হয় তাহলে সে সব লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে লক্ষকৃত দেশকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত , সন্ত্রাসের মদতদাতা ঘোষণা করে একাই ঐ দেশকে আক্রমণ করতে নেমে পড়ে উল্লেখ্য যে তখন আর অন্য মিত্রদের সাথে নেয়ার প্রয়োজন মনে করেনা কারণ সাথে নিয়ে আক্রমণ করলে তাকে তাদের ভাগ দিতে হবে , এই ভাগ দেয়া মতাদর্শে সে আবার বিশ্বাসী নয় ।

maxresdefaultdfsdf.jpg

আবার অনেক সময় নিজের মিত্র দেশের সাথে অন্য দেশের যুদ্ধ লাগিয়ে মিত্র দেশকে অতি উচ্চ দামে অস্ত্র বিক্রি করে ব্যাপক বাণিজ্যিক লাভ করে , অস্ত্র বিক্রির জন্য সারা বছর কোথাও না কোথাও যুদ্ধ বাজিয়েই রাখে । আর কোন দেশ যদি এর বিরোধিতা করে তাহলে তো কথাই নেই ঐ দেশ আক্রমণ করার জন্য যত রকমের ফন্দি ফিকির আছে তা সর্বান্তকরণে চেষ্টা করতে থাকে । এর মধ্যে ঐ দেশে আত্মঘাতী কিছু আক্রমণ করে ঐ দেশকে অনিরাপদ বলে স্বীকৃতি দেয়া , ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য অনিরাপদ এবং ব্যবসায়ীদের জন্য যাতায়াত নিষিদ্ধ করে দেয়া , পর্যটকদের জন্য নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে ঘোষণা করা , নিজ দেশের নাগরিকদের ঐ দেশে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা আরও কত কি ।

এখন সবচেয়ে লক্ষ করার বিষয় এই যে , সে সব সময় যে কোন মহাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশকে কেন নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে ? খুবই সহজ বনের নিয়ন্ত্রণ পেতে হলে আগে হয় বনের রাজার সাথে বন্ধুত্ব করতে হবে , তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে অথবা তাকে আক্রমণ করে তাকে পরাজিত করে নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে । তাহলে বনের আর বাকি যত কম শক্তিশালী পশুরা আছে তারা ভয় পেয়ে যাবে আর ভবিষ্যতে কোন উচ্চবাচ্য না করে দাসত্বের আড়ালে মিত্রতাকেই বেছে নেবে । আর যদি সব পশুরা মানে সব শত্রু-দেশ একত্র হয়ে যুদ্ধ ঘোষণা করে তাহলে-তো বিশ্ব যুদ্ধ করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকেনা। তখন ঐ বিশ্বযুদ্ধে যে কোন মূল্যেই জয়ী হওয়াটাই আসল কথা । তাই আমাদের গ্রহের মত গার্ডিয়ানেও বিশ্বযুদ্ধ বেঁধে গেলে প্রতিপক্ষকে মেরে কেটে একাকার করাই মূল লক্ষ্য হয়ে দাড়ায় । যুদ্ধে কত মানুষ মরল বা কত দেশ ধূলিসাৎ হয়ে মানচিত্র থেকে বিলীন হয়ে গেলো সেটা এখানে ধর্তব্য নয় ।

 

war-01dsdf.jpg

 

 

চলবে ……………

 

আল্লাহ্‌ হাফিজ