5
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

একটি আবেগশূন্য টাকার মেশিন

Now Reading
একটি আবেগশূন্য টাকার মেশিন

জীবিকার তাগিদে মানুষ কত কি না করে। কত রকম পেশা বেছে নেয়। কেও ইচ্ছা করে আবার কাওকে এই সমাজ বেছে নেয় তার কাজ করার জন্য। সবাই চায় তার জন্য ভালোটা। আমিও চেয়েছিলাম। এই সমাজের খাতায় আমি একজন ব্যর্থ মানুষ। আমাকে আর প্রয়োজন নেয় আমার স্ত্রী অথবা সন্তানের। দীর্ঘ ৫৯ বছর ধরে আমি এই পৃথিবীতে বেঁচে আছি আর নিরলসভাবে পরিবারের কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু কখনো তাদের থেকে পরিপূর্ণ কিছু পাই নি। আমি এখন বসে আছি কোন এক ব্রিজের উপর। উদ্দেশ্যঃ লাফ দেয়া।

আমার বয়ষ যখন ২০/২২ তখন আমি জীবিকার তাগিদে চলে যাই এক আরব কান্ট্রিতে। খুব সামান্য বেতনে চাকরি করতাম। বলতে গেলে আমার খরচের পর খুবি সামান্য পরিমানে কিছু থাকতো। তারপর ৭ বছর পর যখন কিছুটা সচ্ছল হলাম তখন দেশে আসলাম। সবাই জোর করে বিয়ে করিয়ে দিলো। বললো, নাহলে আর দেশে আসবো না। কিন্তু আমি তাদের বুঝাতে পারিনি যে আমার বেতনে নিজের ই চলে না। যাইহোক বিয়ে করলাম। বিয়ের ১৭ দিন পর আমার চলে যেতে চলো জীবিকার তাগিদে। যাওয়ার কিছুদিন পর জানলাম আমার স্ত্রী মা হতে চলেছে। ব্যাপার টা খুব সুখকর ছিলো আমার জন্য। ডেলিভারি এর সম্ভাব্য একটা মাস অনুমান করে আগেই ছুটির অবেদন করে রাখলাম। কিন্তু আমিযে প্রবাসী। প্রায় জোর করেই ছুটি নিতে হলো আমাকে।

চলে আসলাম দেশে। দেশে আসার ১ মাস পর আমার প্রথম মেয়ে হলো। খুব আনন্দেই যাচ্ছিল দিন গুলো। এদিকে আমার স্ত্রীর বায়না যেনো দিন দিন বেড়েই চলছিলো। এইটা ঐটা। বিদেশ গেলেই নাকি এত্ত এত্ত টাকা পাওয়া যায়। তো, তার কিছুদিন পর আমি গেলাম এম্বাসি। আমার ছুটি আর কিছুদিন বাড়ানোর জন্য। গিয়ে যা জানলাম তাতে আমার হাত মাথায় চলে এলো। আমি যে জোর করে ছুটি নিয়ে এসেছিলাম, তারা আমায় ছুটি তো দিয়েছে কিন্তু একেবারে। আমাকে কোম্পানী থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আমি অনেক চেষ্ঠা করলাম, ওদিকে অনেক বন্ধুদের সাথে কথা বললাম। আমার স্যারদের অনেক মিনতি করলাম কিন্তু কেও কিছু করতে পারলো না।

ফলে, আমি চাকরিহীন এক সন্তাদের বাবাতে পরিনত হলাম। যার কাধে তার সন্তান, স্ত্রী, বৃদ্ধ বাবা-মা এর সমস্ত দায়িত্ব এসে পরলো। পড়ালেখার দৌড় বলতে ছিলো ৯ ক্লাস। ফলে কোথাও কোন ভালো চাকরি পেলাম না। অবশেষ অনেক খুঁজে, এক অফিসের বয় এর কাজ পেলাম। আমার কাজ তাদের চা এনে দেওয়া আর এইটা সেইটা কাজ করা। আমার মতন একজনের জন্য চাকরিটা তেমন সুবিধার না, কিন্তু আমাকে করতে হলো। ওদিকে আমার স্ত্রীর সারাদিন এইটা সেইটা বায়না। নানান কথা শুনতে হয় তার থেকে। কাছেও ঘেষতে দেয় না। আমার মেয়েটাকেও আমার কাছে আসতে দেয় না। বলে কি পোড়াকপালের সাথে বিয়ে হলো। এক মেয়ে জন্ম দিয়েই ঘড় শুদ্ধ মানুষ পথে বসতে বসেছে। এদিকে চলে গেলো অনেকগুলো বছর। মেয়ে বড় হচ্ছে। ওর জন্য কিছু জমানো দরকার। এদিকে সংসার ও চলে না তেমন। বাবা-মা মারা গেছে অনেকদিন হলো। জীবনে কারো জন্য কিছু করে যেতে পারবো না। দিন রাত এক করে দিচ্ছি আমি এই সংসারটাকে টিকিয়ে রাখতে।

মাঝে মাঝে দেখি স্ত্রী খুব গভীর রাতে বাসা থেকে চুপিসারে বেড়িয়ে যায় আর ফিরে সেই সকাল বেলা। সেদিন হাতে মোবাইল দেখে আমি চমকে উঠি। যেই বাসায় তিন বেলা খাবার জোটাতে কষ্ট হয়, সেই বাসায় মোবাইল। জিজ্ঞাস করাতেই ঝগড়া বেধে গেলো। শুনতে হলো হাজারটা কথা। এভাবেই চলে যাচ্ছিলো দিন। হটাৎ একদিন বাসায় এসে দেখি স্ত্রী বাসায় নেই। জিজ্ঞাস করে জানতে পারলাম দুপুরে বাসা থেকে বের হয়েছে। সব থেকে দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে ওর হাতের মোবাইলের নাম্বার আমার কাছে ছিলো না। পর পর ৩/৪ দিন চলে গেলো। নিকট আত্নিয় সকলের সাথে যোগাযোগ করেও কোন ফল হলো না। ধরে নিয়েছিলাম, হয়তো কোথাও আছে সেখানে এই যায়গা থেকে সুখে থাকতে পারবে।

বাবা মেয়ে মিলে কেটে যাচ্ছিল দিনগুলো। মেয়েটাও কেমন জানি স্বার্থপর এর মতন করে। কথার উত্তর দেয় না। কি করে কোথায় যায় কিছুই বলে না। জিজ্ঞাস করলে উলটা পালটা কথা বলে। ফলে আমিও আর এখন জিজ্ঞাস করি না। একদিন রাতে মেয়েটা বাড়ি ফিরলো বমি করতে করতে। বার বার বমি করছিলো। হাসপাতালে যে নিবো সেই শক্তিটাও যেন নেই আমার। পরে আশে পাশের সকলে মিলে বাসা থেকে এক সরকারী হাসপাতালে নিয়ে গেলাম মেয়েটাকে। ডাক্তার পরীক্ষা করে জানালো মেয়াদবিহীন ড্রাগস নেয়ার কারনে এই অবস্থা। খুব শিগ্রই পেট ওয়াস করাতে হবে। নাহলে খুব খারাপ কিছু হবে। কিন্তু যেহেতু এইটা ড্রাগস নিয়ে তাই পুলিশ কেইস। আর পুলিশ কেইস এ তারা পুলিশের পার্মিশন ছাড়া রোগী ধরবে না। এদিকে আমার মেয়ের অবস্থা খারাপ হতে লাগলো। মেয়েকে হাসপাতালে রেখেই ছুটে গেলাম পুলিশের কাছে। কিন্তু তারা নানান টালবাহানা শুরু করলো। এত রাতে যাওয়া যাবে না। মেয়ে কি করেছে, কার সাথে ছিলো এইটা সেইটা। পরে তাদের বহন খরচ দাবী করলো। কিন্তু আমার কাছে ছিলো ৩০০০ টাকার মতন। সেখান থেকে ১৮০০ দিলাম পুলিশকে। তাদের নিয়ে আসতে আসতে ফজরের আযান দিয়ে দিলো। এসে দেখি আমার মেয়ে আর কথা বলে না। ডাক্তার ঘোষণা দিলো মাঝ রাতেই মারা গেছে। আর আমি চলে যাবার পর কেও ফিরেও তাকায় নি আমার মেয়েটার দিকে।

বাকি টাকা দিয়ে মেয়ের দাফন করলাম। কি অদ্ভুত তাই না? দিনের আলোয় ছিলো আমার মেয়ে, হাসপাতালে নিলাম আর হয়ে গেলো রোগী, মৃত্যুর পর হয়ে গেলো লাশ। মেয়েকে দাফন করে এই ব্রিজে চলে এসেছি। আমার আর কিছুই নেই এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার। একটা বাবার কাছে সব থেকে কষ্টের কাজ হলো তার সন্তানের লাশ বহন করা। আমি সেই কাজটাও করেছি। এই পৃথিবীতে আজ আমি ক্লান্ত। আমার কিছুই নেই। কিছু নেই….

বাংলার কৃতি সন্তান স্যার ড. এম. আজিজুল হক

Now Reading
বাংলার কৃতি সন্তান স্যার ড. এম. আজিজুল হক

স্যার আজিজুল হক ১৮৯২ সালের ২৭ নভেম্বর নদীয়া জেলার শান্তিপুর গ্রামের এক সাধারণ মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবার জন্মগ্রহণ করেন । তাঁর পিতা মুন্সি মনিরুদ্দিন আহমেদ এবং পিতামহ নাসিম উদ্দিন আহমেদ ।তিনি পিতা মাতার এক মাত্র সন্তান ।

শান্তিপুরে পিতামহের প্রতিষ্ঠিত পারিবারিক বিদ্যালয় আরবি ও বাংলা শেখার মাধ্যমে তাঁর শিক্ষা জীবন শুরু হয় । শান্তিপুর মুসলিম হাইস্কুলে তিনি লেখাপড়া করেন এবং ১৯০৭ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাস করেন । কলকাতা প্রেসিডেন্সি  কলেজে এম.এ ও বি. এ অধ্যয়ন করেন । ১৯০৯ সালে এফ. এ ও ১৯১১ সালে Distingshon সহ বি.এ পাস করেন । কলকাতা ইউনিভার্সিটি Law College থেকে ১৯১৪ সালে তিনি বি.এল ডিগ্রি  লাভ করেন ।

১৯১৫ সালে কৃষ্ণ নগর জেলা আদালতে ওকালতি শুরুর মধ্য দিয়ে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন । বেটণা Union Board এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হন। ১৯২৬ সালে নদীয়া জেলার সরকারি উকিল ও পাবলিক PP পদ লাভ করেন । ১৯৩৪ সালের ১৫ই জুন বঙ্গীয় সরকারের শিক্ষামন্ত্রী নিযুক্ত হন । ১৯৩৭ সালে বঙ্গীয় সভার সদস্য নির্বাচিত হন ।১৯৪২ সালে ভারতের হাইকমিশনার পদে নিযুক্ত হয়ে লন্ডন গমন করেন ।

তিনি  ১৯২৬ সালে খান বাহাদুর , ১৯৩৭ সালে সি .আ .ই  ,১৯৩৯ সালে নাইট উপাধি পান । তিনি ইউ . টি . সি অরানারি Lieutenant কর্নেল ছিল । বগুড়ায় তাঁর নামে ১৯৩৯ সালের ৯ জুলাই আজিজুল হক কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ।

Histoy and Problems of Moslem Education in Bengal (1917) ,Education & Retrenchment (1924) ,The Sword of the Cresent Moon (1984),Cultural Contributions of Islam to Indian Hisory : A Plea for Searate Electorate in Bengal (1931) ,The Man Behind the Plough (1939) etc….হল তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ ।

স্যার ড. এম. আজিজুল হক কলকাতার ১৯৪৭ সালের ১৯ মার্চ তারিখে মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ জনিত কারনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ।

বিয়ে না করলে ট্যাক্স!!

Now Reading
বিয়ে না করলে ট্যাক্স!!

মঙ্গোলিয়াতে আঠারো বছর বয়সে বিয়ে করা বাধ্যতামূলক। না করলে ট্যাক্স দিতে হয়।

এই মঙ্গোলিয়া থেকেই কুখ্যাত তাতার গোষ্ঠীর উৎপত্তি।ইতিহাসের কুখ্যাত চেঙ্গিস খান ছিল তাতারদের রাজা। যদিও চেঙ্গিস খানের আসল নাম তিমুজিন।চেঙ্গিস খান ছিল তার পদবী।

পরাক্রমশালী মঙ্গোলিয়ানরা সময়ের প্রেক্ষিতে দুর্বল হয়ে গেলেও জাতিগত চেতনা তাদের এখনো প্রকট। এই কারণে তারা নিজেদের মাঝে ছাড়া বাহিরে বিয়ে করে না।

এই গোঁড়ামির কারণে মঙ্গোলীয়দের সংখ্যা দিনে দিনে কমছে। এই অবস্থান থেকে বের হয়ে আসতে তারা আটারো বছর বয়সেই বিয়ে বাধ্যতামূলক করেছে।

সন্তান ধারণের সক্ষমতার হিসাব করা হয় সাধারণত টিএফআর (Total fertility rate) দিয়ে।

যদি কোন দেশের টিএফআর ২.১ হয়, অর্থাৎ প্রত্যেক সক্ষম মহিলা গড়ে ২.১ করে বাচ্চা নেয়, তাহলে সেদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি স্থিতিশীল থাকে। অর্থাৎ জনসংখ্যা বাড়েও না, কমেও না। এর অর্থ হল, কোন দেশে সন্তানদানে সক্ষম (১৫ থেকে ৪৯ বছর) নারীর মোট সংখ্যা যদি ১০০০ হয়, তবে তাদের বাচ্চার সংখ্যা হতে হবে ২১০০।

২.১ এর বেশি হলে জনসংখ্যা বাড়ে, আর ২.১ এর কম হলে জনসংখ্যা কমতে থাকে।

জাপানের টিএফআর ১.৪। এর ফলে একদিকে জাপানে জনসংখ্যা যেমন কমছে, তেমনি গড়আয়ু বাড়ার কারণে সেখানে বৃদ্ধদের সংখ্যাও বাড়ছে… এভাবে চলতে থাকলে একসময় জাপানে বেশিরভাগ জনগণই হবে বৃদ্ধ… এসব অক্ষম লোক তখন জাপানের উন্নয়নের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে, তাদের অর্থনীতি ধ্বসে পড়বে।

শুধু জাপানেই নয়, রাশিয়াতেও একই অবস্থা… এমনকি রাশিয়াতে বাচ্চা নিলে বাড়ী পর্যন্ত দেওয়া হয়।

ইউরোপ, আমেরিকার অবস্থাও একই… ইউরোপে টিএফআর ১.৫, কানাডায় ১.৬, আমেরিকা ১.৮।

কানাডার যে অবস্থা, তাতে প্রতি বছর গড়ে প্রায় পাঁচ লক্ষ করে লোক কমছে নিম্নজন্মহারের কারণে।এই ঘাটতি মেটানোর একমাত্র উপায় অভিবাসী নেওয়া।এই কারণে প্রতি বছর কানাডা অভিবাসী নিচ্ছে জনসংখ্যা বাড়ানোর জন্য।

এমনকি বাচ্চা হলে আলাদা করে তার জন্য মাসিক ভাতাও প্রদান করছে। তবে এক গবেষণায় দেখা গেছে, যে উদ্দেশ্যে অভিবাসী নেওয়া, সে উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে না। অভিবাসীরা সেখানে গিয়ে বেশি সংখ্যক বাচ্চা নিচ্ছে না।

এই তো গেল বিশ্ব।এবার আসি বাংলাদেশের প্রেক্ষিত।বর্তমানে আমাদের দেশে টিএফআর ২.৩ অর্থাৎ একজন মেয়ে গড়ে বাচ্চা নিচ্ছে ২.৩। অথচ ১৯৭৩ সালে এটি ছিল ৬.৫।

উন্নত দেশ যখন তাদের জনসংখ্যার কমতি নিয়ে চিন্তিত, এই সময় আমাদের রয়েছে পর্যাপ্ত জনশক্তি।

বর্তমান সময় হল বাংলাদেশের জন্য গোল্ডেন পিরিয়ড।পপুলেশন পিরামিড বানালে দেখা যায়, দেশের মোট জনগনের মাঝে এই সময়ে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যাই বেশি। দেশের ৬০ ভাগের বেশি লোক ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী।

প্রত্যেক দেশের ক্ষেত্রেই এই সময় আসে, যাকে সে দেশের গোল্ডেন পিরিয়ড বলে।এই সময় যারা তরুণ জনশক্তিকে কাজে লাগাতে পারে, তারাই সফল দেশ হিসেবে খাতায় নাম লেখায়। এটাকে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট’ বলে।

আমাদের দেশের লোকের মেধা আছে, কিন্তু আমরা তাদের মেধার সঠিক প্রয়োগ করাতে পারিনা।

এদেশের লোকদের আমরা অলস, অকর্মা বলি।অথচ আমাদের দেশ থেকে যাওয়া শ্রমিকদের কারনেই মধ্যপ্রাচ্যসহ অনেক উন্নত দেশের অর্থনৈতিক চাকা ঘুরছে ।

অধিক জনসংখ্যা আমাদের জন্য সমস্যা নয়, সমস্যা হল ইকোনোমিক্যালি নন প্রোডাকটিভ জনসংখ্যা। আমরা এদের কাজে লাগাতে পারছি না, কিংবা তাদের কাজে লাগানোর কোন চেষ্টাও করছি না।

আমাদের যে পরিমাণ লোকবল রয়েছে, এদের অর্ধেককেও যদি কাজে লাগাতে যায়, পৃথিবীর এক নম্বর জাতি হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে খুব বেশি সময় লাগবেনা।

Page Sidebar