আমি কারাগার থেকে বলছি।

Now Reading
আমি কারাগার থেকে বলছি।

যদিও মেয়েটা কালো, তবুও হাসিমুখে বিয়ে
করেছি। কারন বাবার পছন্দ করা ছিল। আর যাই
অমান্য করিনা কেন বাবার কোন কথা ফেলতে
পারিনা।
..
বিয়ের আগে ওকে দেখিনি। শুধু শুনেছি মেয়েটা
শ্যামলা দেখতে। বাঙালী মেয়েদের রূপ অন্যান্য
মেয়েদের তুলনায় আলাদা। তারা সুন্দর হলেও
শ্যামলা, আবার কালো হলেও শ্যামলা। আমি জানি
না আমার হবু স্ত্রী এ দুটার মধ্যে কোন পাল্লায়
আছে।
..
যাইহোক, বাসর রাতে ওকে দেখলাম। প্রতিবেশিদের
যত কানাঘুষা শুনেছি মেয়েটা দেখতে তত খারাপ
না। ওদের কাজই এরকম। কারো ভালো কিছু সহ্য
করতে পারে না। ওদের কোন কথায় কান দিলাম না।
..
বাসরের নিভু নিভু জোনাক আলোতে ওর মুখটা অনেক
সুন্দর লাগছিল। ও খেয়াল করছিল আমি ওর দিকে
অনেক্ষন তাকিয়ে আছি। সে একটু ভিত গলায়
আমাকে জিজ্ঞেস করলো এভাবে কি দেখছেন!
আমাকে ছবিতে দেখেন নি?
আমি জানতাম না কোন ছবির কথা। কেউ আমাকে
বলেনি মেয়ের বাড়ি থেকে ছবি এসেছে। আমি
ওকে বললাম আমি তোমাকে না দেখে বিয়ে
করেছি। তোমাকে আমার বাবা পছন্দ করেছেন।
সে বললো বাবা যদি না করতেন তাহলে করতেন না?
আমি না বললাম। মেয়েটা তখন আর কিছুই বললো না।
চুপ-চাপ থেকে গেল। আমিও ওর সাড়া-শব্দ না শুনে
ঘুমিয়ে পড়লাম।
..
সকালে ঘুম থেকে উঠে লঙ্কা-কান্ড হয়ে গেল।
জীবনেও কল্পনা করিনি আমার সকালটা এরকম হবে।
সোফায় বসে ছিল সে। মেয়েটা গতকাল রাতের
অপ্সরী ছিল না বরং অপ্সরী ন্যায় কোন ভূত ছিল।
আমি লাফ দিয়ে বিছানা থেকে উঠি। সে আমাকে
সালাম দিল। আমি কোন জবাব না দিয়ে আম্মুর রুমে
গেলাম। আম্মু আমাকে রাগান্বিত দেখে বললেন কি
হয়েছে বাবা! এই সাতসকাল বেলায় এরকম মুখ
বানিয়েছিস কেন?
আমি টাস করে দরজায় লাথি দিয়ে বললাম তোমরা
আমার জীবনটাকে নিয়ে এভাবে খেলতে পারলে!
আমি কি দোষ করেছি যে আমার এরকম মেয়ে
জুটালে!! কেন!!???
..
আমার হাইস্পিড আর হাইলোডের কথায় রুমে
প্রতিধ্বনি ভাসতে লাগলো। আম্মু কিছু বলছে না।
আমি জোরে জোরে চেঁচাতে লাগলাম। আম্মু শুধু
একটাই কথা বললেন, তোর বাবা সব জানে। এটা শুনে
থমকে গেলাম। মনটা ভিষন খারাপ হয়ে গেল। মনে
হচ্ছিল বাবা আমাকে ইচ্ছে করে তালাবে ফেলে
দিয়েছেন।
..
বাবা তো অন্তত আমাকে মেয়েটার ছবির দেখাতে
পারতেন। আর মেয়ে দেখতে যাওয়ার সময় কি টিনের
চশমা লাগিয়ে গিয়েছেন যে কালো একটা
মেয়েকে আমার জন্য পছন্দ করে আসছেন!
..
মেয়েটা কালো নাহ, অনেক কালো। ছোটবেলায়
আমার নজর না লাগার জন্য মা কপালে যে টিপ
লাগিয়ে দিত ওইটার মত দেখতে কুচকুচে কালো।
একে নিয়ে কিভাবে থাকবো!
..
ভাবছি কোথাও বেরোলে পাচে কেউ জিজ্ঞেস
করবে না তো এই জঙলিটাকে কোথা থেকে নিয়ে
এসেছি! কেউ মজা করার জন্য বলবে না তো
মেয়েটা বাড়ির বউ নাকি কাজের মেয়ে!
..
আব্বুর ভুল ডিসিশনের কথা আমি ভাবছি না, আমি
ভাবছি এই কালো মেয়েটাকে নিয়ে কিভাবে
সংসার করবো! ও কালো হয়েছে, কয়েকদিন দিন পর
আমার সন্তানও কালো হবে। সব কালো হবে।
উফফফফ!!! নাহ!! এটা আমি মেনে নিতে পারবো নাহ।
যা বলার যা শুনার সব কোর্টে। আমি ডিভোর্স চাই।
..
মেয়েটা ততক্ষনে সব জেনে গেছে আমার রেগে
যাওয়ার কারনটা কি। সে ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে
রুমে চলে গেল। ওর চেহারাটা দূর আওয়াজটাও আমার
কানে বিচ্ছিরি শুনাচ্ছিল।
..
আব্বু ঘরে হৈ চৈ শুনে ভিতরে এলেন। মনে হচ্ছিল
বাইরে কোথাও ছিলেন। আমাকে বললেন কি হয়েছে
এত আওয়াজ কিসের! আমার মুখ থেকে কোন কথা
বের হচ্ছিল না। সারা দুনিয়ার সামনে আমি যা-তা
করতে পারি কিন্তু বাবার সামনে কিছুই করতে
পারিনা। মুখ ফুটে বলতেও পারছি না কথাটা। হাত
মুষ্টিবদ্ধ ছিল। ওইগুলো খুলে একটা লম্বা দীর্ঘশ্বাস
নিয়ে বেরিয়ে গেলাম।
..
আমি ছাদে বসে ভাবছিলাম কেন আমার সাথে
এরকমটা হল! আমি কি দেখতে খারাপ যে আমার বউও
খারাপ হবে! নাকি আমার টাকা পয়সা কম! আমার
তো সবই আছে তাহলে কেন এরকম মেয়ে আমার
কপালে জুটলো! মাথা ফেটে বেরিয়ে যাচ্ছে কিন্তু
কোন উত্তর পাচ্ছি না। ছাদের রেলিং এর রডে শক্ত
করে ধরে আছি। হয়ত রাগ চেপে রাখছি। ইচ্ছে
করছিল রডটা চ্যাপ্টা করে দিই। তখন হঠাৎ পিছন
থেকে আব্বুর আওয়াজ শুনতে পেলাম। আব্বু ডাকছেন।
হাত নরম হয়ে গেল। রড ছেড়ে দিলাম। তাকিয়ে
দেখি রড যেভাবে ছিল সেভাবেই আছে। শুধু আমার
হাত লাল হয়ে গেছে। আর প্রচন্ড রেগে যাওয়াতে
মুখটা গরম লাগছিল।
..
আব্বুর আদেশ মেনে আব্বুর পিছন পিছন উনার রুমে
গেলাম। আম্মুর চেহারা দেখে বুঝে গেলাম উনি সব
আব্বুকে বলে দিয়েছেন। তারমানে এখন আর নাটক
করা যাবে না। যা বলার ক্লিয়ারকাট বলবো। আব্বু
নরম স্বরে বললেন,
..
-সকাল বেলা তোমার আচরনের কারনটা জানতে
পেরেছি। কেন আমি ওই মেয়ের সাথে বিয়ে
দিয়েছি এটাই জানতে চাচ্চো তো!
..
আমি মাথা নিচু করে হ্যাসূচক জবার দিলাম। আব্বু
বললেন,
..
-তার আগে আমাকে একটা প্রশ্নের উত্তর দাও। কেন
প্রিমাকে এক্সেপ্ট করতে পারছো না! সে কি
বিবাহিতা! নাকি সে কি ধর্ষিতা! নাকি দেখতে
কালো!!
..
আব্বুর প্রশ্ন শুনে চমকে গেলাম। এমনিতেই সহজ কিছুর
উত্তর দিতে পারিনা আর এটা তো………..। আমি
বরাবরের মত চুপ থেকে গেলাম। কিছুই বলতে
পারলাম নাহ। উনি বললেন, “মেয়েটার গায়ের রঙ না
দেখে মনটা দেখতে, মন কে ভালোবাসতে। গায়ের
রঙ তো একদিন খসে পড়ে যাবে কিন্তু মন নাহ। তাই,
আমি যা বলছি তাই করো। মেয়েটাকে নিয়ে সুখে
থাকো। আর আমি তোমার বাবা। কোন বাবা তার
ছেলের খারাপ চায় না। যেদিন বাবা হবে সেদিন
টের পাবে”।
..
আব্বুর কথা শুনা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল নাহ। সব
বুঝেছি ভান করে রুমে চলে গেলাম। এসে দেখি সে
কাঁদছে। আমার মনে ওর জন্য কোন দয়া জন্মালো
নাহ। আর হবেই বা কেন! সে কে! কি হয় আমার!
ধোকা খাইয়ে বিয়ে দেয়া হয়েছে!
..
এখন আর এসব বলে লাভ নেই। কয়েকটা দিনের তো
ব্যাপার। একটু এডজাস্ট করে চলতে হবে। আমি তাকে
বললাম,
..
-তুমি এই বিয়েতে খুশি?
-আপনার কেমন লাগছে?
-বুঝতে পারছো না কেমন লাগছে!
-বুঝি। তবে আপনি যা চাইবেন তা-ই হবে।
-তা তো হবেই। শুধু কয়েকটা দিনের ব্যাপার। এই
কয়েকদিন স্বামী-স্ত্রীর মত থেকে যাই, পরে
আলাদা হয়ে যাবো।
-আলাদা বলতে?
-ডিভোর্স!
..
কথাটা যেন ওর কানে তীরের মত বিধলো। এক কান
দিয়ে ঢুকে অন্য কানে বের হল। যতক্ষন কথা বললাম
এই এতটুকু সময় ছিলল যে তার চোখে জল ছিল না।
এখন আমার কথা শুনে আবার! আমি ওসব সহ্য করতে
পারিনা। প্রচন্ড রেগে যাই। মারা-মারিও তো করা
সম্ভব নাহ। কোনরকম রাগ চেপে ধরলাম।
..
বিয়ের দু-মাস চলে গেল। আমি সোফায় ঘুমাই আর সে
বিছানায়। সকালে ওর ঘুম ভাঙার পর আমি আবার
বিছানায় চলে যাই। আব্বুর সামনে ওর সাথে ভালো
ব্যবহার করছি। অনেক যত্ন নিচ্ছি। আমার রুমে
আসলেই সব উল্টো হয়ে যায় যেন বাবার কাছে ধরা
না খাই।
..
কোন দরকার ছাড়া ওর সাথে কথা বলিনা। রুমে
যতক্ষন থাকে সবসময় বই একটা পড়ে। আর কাজ হাতে
থাকলে কাজ। আমি অফিস শেষ করে বাসায় যখন
ফিরি তখন অনেকের খাওয়া শেষ হয়ে যায়। রাত্র
১২টা পর্যন্ত আমার জন্য কে ওয়েট করবে! ঠিক তখন
সে আমার সামনে হাজির। টেবিলে সবকিছু রেখে
রুমে চলে যায়। আমার খাওয়া শেষ হলে আমি রুমে
আসলে সে বেরিয়ে যায়। আড়চোখে তাকিয়ে দেখি
সে খাচ্ছে। একটা মানুষ পেলাম যে আমার কথা
ভাবে কিন্তু মানুষটা ভুল। ওর ভাবা না ভাবা নিয়ে
আমার কিছু যায় আসে নাহ। কোর্টের আলোকে
আমাদের কমপক্ষে ছয়-মাস একত্রে থাকতে হবে।
একত্রে থাকা মানে এক ছাদের নিচে আলাদা হয়ে
থাকা। তাই আমি ওকে নিয়ে বেশি মাথা ঘামাচ্ছি
না।
..
একদিন রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়। চোখে অল্প জল
জমে আছে। হয়ত কোন খারাপ স্বপ্ন দেখেছি। পানি
এক গ্লাস খেয়ে ঘুমোতেই যাবো তখন দেখি
বিছানায় প্রিমা নেই। ওয়াশরুমের লাইটও তো বন্ধ।
বেলকোনির দরজাও ভিতর থেকে লাগানো। তাহলে
সে গেল কোথায়! কেবল মাত্র সোফা থেকে
নামলাম তখন দেখি বিছানার ওপাশে সে নামাজ
পড়ছে। আমি স্বস্তির নিশ্বাস ফেললাম। সেকেন্ডের
জন্য মাথায় আসছিল ও পালিয়ে গেল না তো! যাক!
এখন একটু শান্তি পেলাম। চোখ বুজে ঘুমানোর চেষ্টা
করলাম। তখন প্রিমা কি জানি বলছিল। স্পষ্ট শুনা
যাচ্ছিল না। আমি আবার উঠলাম। আস্তে আস্তে ওর
পিছনে গিয়ে দাড়ালাম যেন সে টের না পায় আমি
জেগে আছি। তাহাজ্জুদের নামাজ শেষে সে
মোনাজাত করছিল…
..
“হে আল্লাহ, তুমি কেন আমাকে কালো করে
পৃথিবীতে পাঠিয়েছো! জন্মের পর মা-বাবার আদর
পাইনি। পাড়া-প্রতিবেশির লোকেরা আমায় নিয়ে
মা-বাবাকে কটাক্ষ করতে দ্বিধা করেনি।।
ভাইবোনদের কে জিজ্ঞেস করত এই কালো প্যাচা
কি তোর বোন! ওরা লজ্জায় মাথা নামিয়ে নিত।
তাদের কাছে কোন উত্তর ছিল বলার।
..
স্কুলে সামনের ব্রেঞ্চে বসা আমার নিষেধ ছিল।
একা পিছনের ব্রেঞ্চে বসতে হয় যেন আমার গায়ের
রং অন্য কারোর গায়ে না লাগে। আচ্ছা, এটা কি
কোন ছোঁয়াচে রোগ! না তো! তাহলে কেউ আমার
সাথে মিশে না কেন! কথা বলতে চায় না কেন? এটা
কি আমার দোষ ছিল যে আমি কালো! টিভিতে
দেখায় ক্রিম মাখলেই মানুষ সাদা হয়ে যায়। তাহলে
আমি কেন সাদা হই না! আমি কি এতটাই কালো!!!
..
বয়সের চেয়েও দ্বিগুন বার পাত্রপক্ষ দেখতে এসে
একি কথা বলে যায় “কালা কাউয়াকে লাইটের
নিচে বসালেও দেখা যাবে না আর বিয়ে করতে
বসছে”! কালো বলে কেউ আমাকে নিতেও চাচ্ছে না
আবার নিজের কেউ রাখতেও চাচ্ছে না। আমি
কালো বলে কি আমার বেঁচে থাকাও দায় পড়বে!
..
শেষে কিভাবে জানি আমার বিয়েও ঠিক হয়ে
গেল। বড় ঘরের ছেলে, শিক্ষিত সুন্দর ছেলের সাথে
আমার বিয়ে ঠিক হল। মনে করেছিলাম হয়ত এখান
থেকেই আমার নতুন জীবন শুরু হবে। কিন্তু তা আর হল
না। ঘুটঘুটে কালো থাকার জন্যে বিয়ের পরের দিন-ই
আমার স্বামী ডিভোর্স চায়। আমার সাথে নাকি
উনাকে মানায় নাহ। উনার মত আমারো দুই-হাত, দুই-
পা, দুই-কান, দুই-চোখ, এক মাথা আছে। সবই এক তবুও
নাকি মানায় না। শুধু পার্থক্য হল উনি সুন্দর আর আমি
কুৎসিত!
..
কেন তুমি আমাকে কালো রং দিয়ে বানিয়েছো!
অন্য কোন রং দিলেই তো পারতে!
..
হয় তুমি আমাকে বদলিয়ে দাও নয় মৃত্যু দাও। এভাবে
আমি আর বাঁচতে পারবো না। তোমার দরবারে
কতবার হাত পেতেছি কিন্তু আমায় কিছইু দাওনি।
শেষ বারের মত একটা জিনিস-ই চাইবো, আমার
স্বামী যেন সুখে থাকেন। আমার কালো ছায়া যেন
উনার ওপর না পড়ে”
আমিন।
..
আমি ওর মোনাজাত শুনে দু-পায়ে দাড়ানোর শক্তি
হারিয়ে ফেলেছি। হাঁটু গেড়ে ঠাস করে নিচে
পড়লাম। সে তার পিছনের আচমকা শব্দ শুনে আঁতকে
যায়। সঙ্গে সঙ্গে পিছনে তাকায়। আমি ওর পিছনে
এভাবে পড়ে থাকবো সেটা সে কল্পনা করে নি।
ওসব কিছু না ভেবে সে আমাকে তুলে বিছানায়
শুয়ালো। আমার সারা শরীর কাঁপছে। আমি স্থির
হয়ে শুতে পারছিলাম না। আবার বসতেও পারছিলাম
না। গায়ের লোম সব দাড়িয়ে গিয়েছে।
..
এত সবের পরেও আমি ওর দিকে তাকিয়ে আছি। সে
ছুটা-ছুটি করছে এদিক থেকে ওদিক। পাগলের মত
ওষুধ খুজছে। মনে হচ্ছে কয়েক সেকেন্ডের ভেতর
আমাকে ওষুধ না দিলে আমি মারা যাবো আর তার
আপ্রান চেষ্টা চলছে আমাকে বাঁচানোর। আমি
ওকে বললাম আমাকে পানি দাও ভিষন তৃষ্ণা
পেয়েছে। সে দৌড়ে এসে আমাকে পানি দিল।
আমি কিছুক্ষন জোরে জোরে নিশ্বাস নিলাম।
তারপর উঠে সোফায় গিয়ে শুয়ে পড়লাম।
..
সে আমাকে জিজ্ঞেস করছে বারবার আমি ওখানে
গেলাম কি করে! আমি নিশ্চুপ রইলাম আর ঘুমিয়ে
যাওয়ার ভান ধরলাম। সে মনে করেছে আমার শরীর
খারাপ আমাকে আর বিরক্ত করা ঠিক হবে না তাই
আর ডাকে নি।
..
কিন্তু আমি ঘুমাতে পারিনি। চোখের দু-পাতা এক
করতে পারিনি। ওর প্রতিটা কথাগুলো কানে
বাজছে। নিজেকে অনেক বড় অপরাধী মনে হচ্ছে।
আমি কিভাবে মেয়েটাকে এত কষ্ট দিতে পারলাম!
ও তো আমার স্ত্রী! আমি কিভাবে ওর মনের কথা
বুঝতে পারলাম না! এতদিন যে আমায় ভালোবেসে
এসেছে আমি কেন তার ভালোবাসা বুঝতে পারিনি!
আমি কি সাদা-কালোর মধ্যে এতটাই অন্ধ হয়ে
গিয়েছি যে একটা মানুষকে চিনতে পারলাম না!!
..
নিজেকে অনেক ভাবে স্বান্ত্বনা দিচ্ছি কিন্তু
চোখের জল আটকাতে পারছিলাম না। হয়ত আজ এখনই
সব জল শুকিয়ে যাবে। হয়ে যাক সব মরুভুমি তবুও ওকে
আর দূরে রাখা যাবে না। যাকে দু-মাস আগে বিয়ে
করেছি , তাকে যে স্ত্রীর মর্যাদা থেকে বঞ্চিত
করেছি কাল সব ফিরিয়ে দিব। হ্যা কাল-ই। কাল
তাকে নতুন জীবন দিব। কালো বলে আর অবহেলা
করবো না। এতদিন যা ছিল সব ভুলে-ভরা ছিল। এখন
সবকিছু শুদ্ধ করে নতুন সকালের সূচনা করবো। এখন শুধু
সকালের অপেক্ষায়।
..
চোখটা বন্ধ করে শুয়েছিলাম যেন হাল্কা বিশ্রাম
নিয়ে উঠে যাই। কিন্তু কখন যে ঘুম লাগল টের-ই
পেলাম না। চোখ খুলে দেখি ১১টা বাজে। উঠে
দেখি সে বিছানায় নেই। আমি ওকে খুজতে রুম
থেকে বের হলাম। আম্মুকে জিজ্ঞেস করতেই
যাচ্ছিলাম ও কোথায় তখন ওকে দেখতে পাই।
কাপড়ের বালতি নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকেছে। ইচ্ছে
করছিল এখনই ওর কাছে যেতে কিন্তু না, এভাবে
যাবো না। আজকে অন্যরকম হয়ে যাবো। তাক
লাগিয়ে দেয়ার মত যাবো।
..
ঝটপট ফ্রেশ হয়ে বাইরে থেকে এক গুচ্ছ গোলাপফুল
কিনে আনলাম। কাপড় মেলতে এখন সে ছাদেই
থাকবে। তাই আর রুমে না গিয়ে ছাদে যেতে
লাগলাম। ফুলগুলোর দিকে তাকিয়ে ভাবছি
কিভাবে শুরু করবো। ওর সামনে হঠাৎ করে এভাবে
দাড়ালে তার কি রিয়েকশন হবে! সে চমকে যাবে
তো! হ্যা, ওকে চমকানোর জন্যই তো যাচ্ছি। ভাবতেই
আমার মুখের এককোণে হাসি ফুটলো।
..
তখন হঠাৎ-ই কিছু একটা নিচে পড়ার শব্দ হল। মনে
হচ্ছিল কিছু সিঁড়ি থেকে পড়ছে। আমি মাথাটা একটু
তুলতেই প্রিমার পড়ে যাওয়াটা দেখতে পেলাম।
আমি এক পা বাড়াবার আগেই সে আমার পায়ের
কাছে এসে পড়লো। ওর নাকে-মুখে রক্ত। মাথা
অনেকটা ফেটে গেছে। আমি ওর অবস্থা দেখে
প্রায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলি তবুও ফেললাম না। হাত
থেকে ফুলগুলো পড়ে গেল। আব্বু আম্মু তারা দৌড়ে
আসলেন। আমি মুর্তির মত দাড়িয়ে থাকলাম। আব্বু
ড্রাইবারকে কল দিয়ে বের হতে বললেন। আমি
প্রিমাকে কোলে নিয়ে গাড়িতে যাই। এই প্রথম
আমি তাকে স্পর্শ করেছি। আলাদা একটা শিহরণ
আমায় ছুঁয়ে গেল। তাও ভুল সময়ে।
..
গাড়ি যত দ্রুত যাচ্ছিল ওর রক্তে আমি তত লাল হচ্ছি।
ওকে বাহুতে বসিয়ে হাত দিয়ে চেপে রক্ত বন্ধের
চেষ্টা করছি কিন্তু পারছিনা। রক্ত ওর ঝড়ছে কিন্তু
কষ্ট পাচ্ছি আমি। বুঝতে পারছিনা এ কেমন কষ্ট।
..
প্রিমার রক্তে গাড়ি যখন পুরোটা লাল হয়ে যায়
আমরা তখন হাসপাতালে পৌছলাম। ততক্ষনাৎ তাকে
ইমার্জেন্সি রুমে তাকে নেয়া হয়। আমি ছানা-মাখা
রক্তে ভিজে দেয়ালে হেলান দিয়ে বসি। ভাবতেই
পারছিলাম না এরকম কিছু হবে।
..
কিছুক্ষন পর ডাক্তার এসে বললো অনেক রক্তক্ষরণ
হয়েছে ইমিডিয়েটলি ৫ ব্যাগ রক্ত লাগবে। আব্বু
ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করলেন রক্তের গ্রুপ কি।
ডাক্তার বললো বি পজেটিভ। আমি তখন বললাম
আমার রক্তের গ্রুপও বি পজেটিভ। আমি আব্বু আর
আমার ছোট ভাই কেবিনে গেলাম। ডাক্তার বললো
আমি একা এত রক্ত দিতে পারবো না। তাই আব্বু আর
ছোটভাইয়ের গ্রুপ একি থাকায় রক্ত দিলাম।
..
প্রায় ৪ ঘন্টার অপারেশনের পর ডাক্তার বের হল।
আমরা সবাই ডাক্তারের কাছে এগিয়ে গেলাম।
ডাক্তারের মুখ নিচু করা। কিছুই বলছেন না। আব্বু
ডাক্তারকে বললেন আমার বউমা কেমন আছে! কি
করছে! আম্মু জিজ্ঞেস করলেন আপনি চুপ করে
আছেন কেন কিছু বলুন! ডাক্তার তখন আব্বুর কাধে
হাত রেখে মাথা নাড়িয়ে নাসূচক ইশারা দেখালেন।
..
আমি ইশারা দেখে দাড়ানো অবস্থায় পড়ে যাই।
ভাই এসে আমাকে সামলালো। আব্বু ডাক্তারকে
বলছেন আবার বউমাকে দেখতে! ওর কিছু হয়নি, ওকে
ভালো করে চেক করুন!! আব্বু নিস্তেজ হয়ে মাটিতে
ঢলে পড়লেন। আম্মু উনাকে চেয়ারে নিয়ে বসালেন।
আমি নির্বাক হয়ে যাই। ডাক্তারের কথা আমার
বিশ্বাস হচ্ছিল না।
..
তাই আমি অটি-র ভিতর ঢুকে যাই। ওর থেতলানো
মাথায় সেলাই, নাকে ব্যান্ডেজ দেখে আমি আঁতকে
যাই। পা যেমন আমার চলতেই চাচ্ছিল না। তবুও একটু
একটু করে এগুলাম। আমি কোনদিন ওকে ওর নাম ধরে
ডাকিনি। আজ ডাকছি।
..
“প্রিমা, ও প্রিমা!”
..
সে কোম রিসপন্স করছে না। আমি ঢোক একটা গিলে
ওর হাত ধরি। হাত বুলাতে থাকি আর ডাকতে থাকি।
কিন্তু সে কোন উত্তর দিচ্ছে না। আমার চোখ জলে
ভরে যায়। কিছুই দেখতে পাচ্ছিলাম না। মনে হচ্ছে
চোখের পানিতেই ডুবে গিয়েছি। শেষে আমি
জ্ঞান হারিয়ে ফেললাম।
..
আমার যখন জ্ঞান ফিরে আমি নিজেকে একটা রুমে
আবিষ্কার করি। জ্ঞান ফিরতেই আমি প্রিমাকে
খুজতে থাকি। আর নার্স আব্বুকে খুজছে যেন বলতে
পারে আমার জ্ঞান ফিরেছে। নিজেকে অনেক
দুর্বল মনে হচ্ছিল তবুও ওকে খুজতে বের হয়েছি।
কয়েকটা নার্স আমাকে প্রায় অচেতন অবস্থায় ধরে
রাখে। মেডিসিন একটা আর তার সাথে ইঞ্জেকশন
দিল। কয়েকমিনিট দুর্বল ছিলাম তারপর শরীরে
আস্তে আস্তে একটু এনার্জি পেলাম।
..
প্রিমার লাশ নিয়ে সবাই বাসায় ফিরছিল।
চারিদিকে কান্নার আওয়াজ। হয়ত কেউ হারানোর
ব্যথায় কাঁদছে, নয়ত সে আর বেঁচে নেই তাই কাঁদছে।
কিন্তু আমি কাঁদছি কষ্টে, নিজের কষ্টে কাঁদছি।
তাকে আমি যত কষ্ট দিয়েছি সব যেন উল্টো ঘুরে
আমার বুকেই বিধছে। নিজেই নিজেকে আজ মেরে
ফেললাম।
..
কফিনে করে ওকে কবরে নিয়ে যাচ্ছি। কয়েকমাস
আগে আমি তাকে বিয়ে করে গাড়ি করে আমার
বাসায় এনেছিলাম। আর আজকে……..। সারাটা
রাস্তা আমার চোখের জলে ভিজছিল। সাথে সাথে
আবার শুকিয়েও যাচ্ছে। কিন্তু চোখ থেকে ঝড়া বন্ধ
হচ্ছে না। এ কেমন শাস্তিভোগ করছি আন্দাজা-ই
নেই।
..
সাড়ে তিন ফুট মাটির নিচে যখন ওকে রাখা হল
আমার কান্নার বেগ বেড়ে গেল। আমার ইচ্ছে
করছিল যেন ওর পাশে যাই। কিন্তু মানুষেরা আটকে
রাখলো। বড় বড় বাশের ওপর যখন সবাই মাটি
ছিটিয়ে দিচ্ছিল আমার কলিজা ফেটে যাচ্ছিল। ও
দূরে চলে গিয়েছে তবুও মনে হচ্ছে কেউ যেন আমার
পাশ থেকে ওকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। এগুলো আমি
সহ্য করতে পারছিনা, একটুও না।
..
প্রিমা যখন প্রথমবার আমার সামনে কাঁদছিল তখন
বিচ্ছিরি লাগছিল শুনতে। এখন ইচ্ছে করছে ওর
কান্না শুনেই সারাজীবন কাটিয়ে দিতে। কিন্তু
ভাগ্যটা সাথে নেই। শুনেছিলাম দাঁত থাকতে দাঁতের
মর্ম দিতে হয়। আজ সেটার মানে বুঝতে পেরেছি।
..
ওকে দাফন করে যখন বাসায় ফিরছিলাম তখন
রাস্তায় পুলিশ আটকালো। কিছু বুঝার আগেই ওরা
আমাকে তাদের গাড়িতে তুলে নেয়।
..
যেতে যেতে বুঝতে পারলাম কেউ একজন আমার ওপর
কেস দিয়েছে। নিজের স্ত্রীকে হত্যার কেস। এটা
শুনার আগে যদি আমার কান ফেটে যেত তাহলে দুঃখ
পেতাম না।
..
গ্লাস যেভাবে পড়ে ভেঙে চুরমার হয়ে যায়
সেভাবে আমার ভরসাও আমাকে ছেড়ে দিল।
নিজের ওপর আর কোন নির্ভরতার আশা দেখতে
পাচ্ছি না। এরই মধ্যে আমাকে নিজের স্ত্রীর
হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়া হল।
..
আজ প্রায় ৪ বছর পেরিয়ে গেল। আমি কারাগারে।
পুরনো দিনের কথাগুলো মনে করছিলাম। মনে করছি
আমার প্রিমার কথা যাকে একবিন্দু ভালোবাসা
দিতে না পেরেও আজও পাগলের মত ভালোবেসে
যাচ্ছি। ও চলে যাওয়ার পর আমার যখন নতুন
কারাবাস শুরু হয়েছে তখন আমি আত্মহত্যার পথ
বেছে নিয়েছিলাম। কিন্তু পিছু নামতে হল। সে দুয়া
করেছিল আমি যেন আমি সুখে থাকি, ভালো থাকি।
তাই আজও ওকে ছাড়া ভালো থাকার চেষ্টা করছি।
মুখে তো বলছি ভালো আছি কিন্তু ভেতর থেকে
জ্বলে-পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছি মিথ্যে কথা বলতে
বলতে।
..
যে কালো মেয়েকে বলেছিলাম লাইটের নিচে
বসলেও দেখা যাবে না আজ সেই মেয়েকে চার
দেয়ালের অন্ধকার রুমের মধ্যে চেহারা দেখি। চোখ
বন্ধ করলে দু-চোখের আধারেই তার মুখ ভাসে। সব
অন্ধকার জায়গায় ওরই ছবি ফুটে উঠে। এক রুমের
মধ্যে শত বোল্টেজের আলোকসজ্জ্বায় কোন এক
অন্ধকার জায়গা যেমন বেমানান ঠিক একিভাবে
প্রিমা বেঁচে থাকতে আমার জীবন ছিল। আর ওর
মৃত্যুর পর পুরো রুম অন্ধকার শুধু ওই কোন এক জায়গায়
একটু আলো যেমন আবছা আশা দেখায় সেরকম জীবন
চলছে। হয়ত এরকমই চলতে থাকবে যতদিন না পর্যন্ত
সে আলো দিচ্ছে বা নিজে অন্ধকারে না যাচ্ছি।
..

অপেক্ষা

Now Reading
অপেক্ষা

“অপেক্ষা”
 
তোমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ল্যাপটপ,ইন্টারনেট,মোবাইল এগুলা ব্যবহার করা একদম প্রায় ছেড়েই দিয়েছি।এগুলোর সবগুলোই ছিল তোমার সাথে যোগাযোগ করার মাধ্যম।এখন তুমিই নাই এগুলো সব অর্থহীন আমার কাছে।কিন্তু আজকের দিনে না এসে পারিনা।এই দিনটাতে আমি তোমাকে হারিয়েছি তাই ভাবি যদি এই দিনেই তোমাকে আবার ফিরে পাই।
 
আজ আমার বিয়ে।অনেক ব্যস্ততম একটা দিন।তবুও হাজার ব্যস্ততার মধ্যেও আজ একটু ইন্টারনেট ব্যবহার করছি।জানিনা তোমাকে পাব কিনা।কিন্তু প্রতিবার যা করি তাই করছি।তোমার সাথে হওয়া চ্যাট গুলো দেখছি
 
-ঐ তেলচুরা(আমায় ও এইটাই ডাকত)
-কি গুবরে পোকা(আমি এইটাই ডাকতাম)
-খাইবার দিছে আজ?
-দিবেনা কেন?
-দিবে কোন দুঃখে?
-কেন আমি কি করছি?
-তেল চুরি করছ
-চুপ গুবরে পোকা আর গন্ধ ছড়াইয়ো না
-হুরর গরু
-ঐ গরু তুমি আমি কেমনে?
-আমার Doubt আছে তুমি আসলেই মেয়ে কিনা
-হাট এখান থেকে
-ওরে আমার সোনা আর রাগ করেনা
-ঐ মেজাজ খারাপ করবানা
-ওকে sweetheart আর বলবনা
-এখন এই ফাউল কথাগুলো বলছো কেনো?
-এগুলো বললে কি হইছে?এগুলা তো দুষ্টামি
-না এগুলা বলবানা
-না আমি এরকম দুষ্টামি মাঝে মাঝে করব।তোমার কি?
-আমার না তো কার?
-হুহ!
-আচ্ছা ঠিকাছে কইরো
 
এরকম দুষ্টুমি হাসি মান অভিমানের মধ্যে দিয়েই আমরা থাকতাম।আর তুমিই ছিলে আমার জীবনের একমাত্র মানুষ যে আমার সবথেকে কাছের এবং সবথেকে বেশি প্রিয়।অথচ তুমিই সবথেকে বেশী দূরে থাকতে।সীমানার ওপারে।মানে আমার পাশের দেশে।কিন্তু কয়েক মাস এভাবে চলার পর বুঝতে পারলাম আমি তোমাকে ভালবেসে ফেলেছি।আমি জানতাম তুমিও আমাকে ভালবাসো কিন্তু বিভিন্ন ধরনের সংকোচ থাকত মনের ভিতর।তাই সরাসরি বলতে পারতামনা।বিভিন্ন ধরনের রূপক করে বলতাম।হয়ত এটাই আমার জীবনের সবথেকে বড় ভুল ছিল।যদিও তোমার সাথে আমার মিলন অনেকটা অসম্ভবই ছিল।কারন দূরত্বটা অনেক ছিল।তবুও এটাকে আমি আমার জীবনের সবথেকে বড় ভুলই বলি।কারন যদি আমি সরাসরি বলতাম তাহলে তুমি কিছু হলেও করতে।কি করব বলো আমিও বোকা আর তুমি আমাকে বুঝতে পারতেনা।
 
-এই গুবরে পোকা জানো আমি একজনকে ভালবাসি।তার সাথে আমার সারাদিন কথা হয়।খুব বেশীদিন হয়নি তার সাথে পরিচিয় হয়েছে।কেমন জানি একটা আবেশে জড়িয়ে গেছি।কিন্তু তার আর আমার মাঝে অনেক দূরত্ব।
 
এই সহজ কথাগুলো তুমি বুঝতে পারলেনা।এগুলার সবকিছুই তো তোমাকে ঘিরে ছিল।আর তুমি কি করলে….
 
-তেলচুরা আমি তোমাকে খুব ভালবাসি।তাই তোমার সাথে ঐরকম দুষ্টামি করতে চাইতাম।কিন্তু তুমি এখন অন্য কাউকে ভালবাস।তাই কোনো মানেই হয়না তোমাকে আর বিরক্ত করার।তুমি ভাল থেকে।আমি সরে গেলাম চিরতরে।তবে তোমার জন্যই অপেক্ষা করব।যদি জীবনের কোন গলিতে দেখা হয়ে যায়।বিদায়!
 
পরের দিন এই মেসেজটা দিয়ে তুমি আমার সাথে সবরকম যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিলে।আর সেটা আজকের এইদিন।জানিনা তুমি আসলেই অপেক্ষা করছ কিনা।হয়ত তুমি করবেও।কারন তুমি অনেক মহান।আমি বোধ হয় তোমার মত মহান হতে পারবোনা।আমি এই ৬ বছর করেছি।অনন্ত কাল পর্যন্ত করতাম।কিন্তু বাবা-মা কে কি বলব।তাই পরাজিত হয়ে গেছি।
 
আমি সামিরা এখন বিয়ের পিড়ির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।এখনও একটা আশা করছি।যদি বরটা তুমি হও তাহলে হয়ত কাঁদতাম আর বলতাম আগে বলতে পারলেনা তাহলে একটু ভাল করে সেজে আসতাম।
 
কিন্তু সব আশা পূরন হয়না।তাই আমার অপেক্ষা এখানেই সমাপ্তি হল………….

একটি মেয়ের গুনাবলী এবং বিবাহ সম্পর্কে মানুষের বর্তমান ধারনা

Now Reading
একটি মেয়ের গুনাবলী এবং বিবাহ সম্পর্কে মানুষের বর্তমান ধারনা

বিয়ে আসলে  একটি মানুয়ের ভাগ্য নির্ধারিত একটি বিষয়। অনেকে বিয়ে করে সম্পত্তির লোভে আবার অনেকে প্রেম-ভালবাসা করে নিজে নিজেই কাজী অফিসে গেয়ে বিয়ে করে ফেলে । শুনতে হাস্যকর হলেও ঘটনাটা সত্য এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই।

একটি মেয়ের কোন কোন গুনাবলী দেখে আপনি মেয়েটিকে বিয়ে করতে পারেন যেমন মেয়েটি সুন্দর কিনা, আচার-ব্যাবহার ভাল কিনা। কম কথা বলে লাজুক স্বভাবের মেয়ে মেয়ে কি না । কিন্তু একটি মেয়ে খুব বেশী সুন্দরী হলেও তার আচার-ব্যাবহার ভাল নাও হতে পারে। আবার একটি কুৎশিত মেয়ের স্বভাব চরিত্র অনেক ভাল হতে পারে। কিন্তু ভুলেও আপনি কুৎশিত মেয়েকে বিয়ে করবেন না এটাই স্বাভাবিক কারন কুৎশিত মেয়ে তো আপনার ভালই লাগে না, তাহলে কেন আপনি বিয়ে করবেন? বিয়ে তো আর খেলা না। আপনার হয়ত ভাল লাগে খুব সুন্দরী না হলেও মোটামুটি মুখের গঠন ভাল মানে মোটামুটি সুন্দর এবং স্লিম এবং আচার ব্যাবহার ভাল এমন একটি মেয়ে। আর আচার ব্যাবহার কিছুটা  খারাপ বা দুষ্ট প্রকৃতির হলেও বিয়ের পরে তা পরিবর্তন করে নেওয়া সম্ভব।

একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা শেয়ার না করে পারলাম না। আমি একজন লোককে চিনি ‍যিনি তার ছেলেকে বিয়ে দিয়েছিলেন মেয়ের সম্পত্তি দেখে অর্থ্যাৎ মেয়ের পাঁচ তলা বাড়ি আছে। কিন্তু লোকটি মেয়েটিকে দেখেই নাই। সুধু ছবি দেখছে। ছেলে বেকার বা কম বেতনের চাকুরী করে ৫০০০ টাকা বেতন পায়, তার মানে ছেলে হবে ঘর জামাই । আবার ছেলেটি বোকা সোকা টাইপের তথ্যাৎ কিছুই বুঝেনা না। সে না  দেখল মেয়ে না দেখল বংশ পরিচয় শুধু জানলো মেয়ের ৫ তলা একটি বাড়ি আছে।  ফ্লাটের লোভে তড়িঘরি করে বিয়ে করে ফেলল। আরো একটি জিনিস মেয়ের শারিরীক গঠনও ভাল না মানে রোগা হালকা পাতলা অসুস্থ মেয়ে যা হোক মেয়েটি আবার জব ও করে ৪০০০০ টাকা বেতন পায়। সে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াশুনা করেছে। যা শুনে ছেলের বাবা তো আরো আগ্রহী। কিন্তু যা আসলে দেখা দরকার তা নাদেখেই অনেকটা জোর করে বিয়ে দিয়ে দিলো। যা হোক  বিয়ের পর শুরু হলো আসল সমস্যা, সংসারে অশান্তী কারন ছেলে আর মেয়ের মধ্যে কোন ভাবেই মিলে না। আসলে মেয়ে কথা বলে অন্য ছেলের সাথে মানে তার আগের বয় ফ্রেন্ড এর সাথে জামাইকে পাত্তা দেয় না। রাত বারোটা বাজেলে শুরু হয় কথা আর কথা সেই কথা যেন আর থামে না। বৃষ্টির মত চলতেই থাকে।  প্রতিদিন এমন ঘটনা দেখতে দেখতে ছেলের মেজাজ যায় বিগড়ে গভীর রাতে দেয় মেয়ের বুকে লাথ্থি আর যা খেয়ে মেয়ে লাফ ‍দিয়ে ভাগে। দুই সংসারের মাঝে শুরু হয় ভয়ংকর সমস্যা। ছেলেপক্ষ আর মেয়ে পক্ষের লাখ লাখ টাকা খরচ হওয়ার পাশাপাশি টেনশনে দুই পরিবারের কপালে ভাঁজ পরে। ছেলে মেয়ে কাঁদলে আবার পরিবারের লোকরা ছেলে মেয়েকে বুঝায় যাতে তারা আবার নতুন করে সংসার শুরু করে। আবার কেউ কেউ বলে তোমাকে আবার ভাল দেখে বিয়ে দিয়ে দিব। এত লাইফ রিস্ক আছে ডিভোর্স হওয়া ভাল। বাস্তবে আসলে তাই হয় অনেকদিন চোখের আঁধারে থাকতে থাকতে মনের আঁধারে চলে যায় আর ফিরে আসে না।

এই রকম ডিভোর্সের ঘটনা আমাদের দেশে প্রতিনিয়তই ঘটছে। এই ধরনের ঘটনাকে রুখতে হবে। কিন্তু কিভাবে? ছেলের বাবাদের আগে থেকেই সতর্ক হতে হবে। বিয়ের আগে ছেলেকে উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হবে এবং ছেলে ভাল চাকুরী বা ব্যাবসা না করা পর্যন্ত বিয়ে দেওয়া ঠিক না । কারন শুধু বিয়ে করলেই হবে না বিয়ে করতে হলে ছেলের হাতে টাকা থাকতে হবে অথবা অভিভাবকদের টাকা দিতে হবে। বাবার সাথে একসাথে থাকতে  না পারলে অথ্যাঁৎ বাসা ছোট হলে আলাদা বাসা ভাড়া নিয়ে মেয়েকে উঠিয়ে নিয়ে আসতে হবে।

 

কোন অবস্থায়ই মেয়ের বাড়িতে ছেলে দিনের পর দিন থাকা ঠিক হবে না এতে আশেপাশের লোকজন নানা কথা বলে যার ফলে মেয়ে কষ্ট পায় । ছেলের বাবাকে এটা বুঝতে হবে যে ঘর জামাই থাকা ঠিক না । মেয়ে নামাজী হলে ভাল তবে মেয়েকে আস্তে আস্তে বুঝাতে পারেন নামাজের জন্য এবং এর ফলাফল কি তা জানান হঠাৎ নামাজের জন্য চাপ দিয়েন না। চাপাচাপি করলে যেকোন বিষয়েই শুধু নামাজ বলে কথা না অন্য যে কোন বিষয়েই হিতে বিপরীত হতে পারে। বোরকা না পড়লেও কিছুটা ঢেকে চলা ভাল যেমন অনেক মেয়ে স্কার্ফ পরে বা বড় ওড়না ব্যাবহার করে।

যা হোক মেয়ে বা ছেলে দেখার জন্য যে জিনিষগুলো দেখা দরকারঃ

১. ছেলে বা মেয়েকে শিক্ষিত হতে হবে।

২. ছেলে বা মেয়ে বেশী সুন্দরী হওয়ার দরকার নাই মোটামুটি সুন্দরী হলে চলবে।

৩. মেয়ে পক্ষ বেশী গরীব না হওয়াই ভাল কারণ গরীব হলে তো আপনাকে মেয়ের পরিবারকে উল্টা টাকা দিতে হতে পারে।

৪. মেয়ের শারীরিক গঠন স্লিম হলে ভাল হয় বেশী মোটা হলেও সমস্যা আবার বেশী রুগ্ন হলেও সমস্যা।

৫. মেয়ের সাথে কিছু দিন ঘুরে দেখতে পারেন, তবে ব্যাভিচার করবেন না। মেয়ে কি কি খেতে পছন্দ করেন জিজ্ঞাসা করুন আর মেয়ের বয় ফ্রেন্ড আছে কিনা জিজ্ঞাসা করতে পারেন। একই ভাবে ছেলের অন্য কোন জায়গায় পছন্দ আছে কিনা জানতে চান।

৬. মেয়ের উচ্চতা আপনার সাথে মিলে কিনা দেখতে পারেন।

৭. ছেলে বা মেয়ে বেশী রাগী হলে সমস্যা আছে তাই আপনি চিন্তা করে কাজ করবেন।

৮. বেশী বড়লোক ছেলে বা মেয়েকে বিয়ে করা ঠিক না। আপনিও যদি বড়লোক হন তাহলে সমস্যা নাই অথ্যাঁৎ সমানে সমান।

৯. বিয়ে করতে কি পেলাম আর কি  পেলাম না সেটা চিন্তা করবেন না। ঘুষ নিয়ে বিয়ে করবেন না তার মানে ঘুষ দিবেন ও না নিবেন ও না, লোভ এড়িয়ে চলুন।

১০. ছেলে বা মেয়ে স্মার্ট হতে পারে তবে বেশী স্মার্ট ও ভাল না।

১১. মেয়ের সাথে ছেলের বয়সের পার্থক্য কমপক্ষে ৫ বছর রাখতে চেষ্ঠা করবেন। অথ্যাৎ ছেলেকে অবশ্যই কমপক্ষে ৫ বছর বড় হতে হবে বা মনের মিল হলে সমান ও হতে পারে।

১২. মেয়েকে আপনি কতটা পছন্দ করেন আর ছেলে আপনাকে কতটা পছন্দ করে সেটা দেখাও জরুরী।

১৩. একই পরিবারের ভীতরে বিয়ে না করাই ভাল। তবে অনেকে বিয়ে করে সমস্যা হয় না। যেমন চাচাতো ভাই, মামাতো ভাই ইত্যাদী। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন।

১৪. ছেলে লম্বা হলে ভাল হয় তাহলে বংশগত ভাবে বাচ্চাকাচ্চা ও লম্বা হতে পারে।

১৫. ছেলের বয়স বেশী হলে সমস্যা আছে তাই অভিভাবকরা বসে ঠিক করুন কার বয়স কত এবং আঠারোর কম কিনা?

১৬. রাগী ছেলে হলেও সমস্যা কারণ রাগী ছেলে হলে জীবনে অশান্তি নেমে আসতে পারে। যদিও আমাদের দেশের বেশীর ভাগ ছেলের মাথা গরম। অনেক ক্ষেত্রে রাগও দরকার আছে।

১৭. পরস্পর বুঝাপড়া হলেই বিয়ে করা উচিৎ।

আশাকরি আপনি কিছুটা ধারনা পেলেন এখন সিদ্ধান্ত আপনার হাতে আপনি কি করবেন।

 

Love-Marriage-1.jpg15

প্রতিশোধ- পর্ব ৬

Now Reading
প্রতিশোধ- পর্ব ৬

হেমার বিয়ে হয়ে গেলো।
বর এর সাথে বরের কয়েকটা বন্ধু ছাড়া আর কেও আসেনি।
বিয়ের দিনই হেমা বর এর সাথে চলে গেলো।যাওয়ার আগে বাসার কারো সাথে কথা বলে নি।বিদায় ও নেয় নি।

হেমা ভাবছে এমন কি পাপ সে করেছে যে এমন শাস্তি পেতে হচ্ছে!
হঠাৎ গাড়িটা একটা বাসার সামনে এসে থামলো।এই বাসাটা হেমা চিনতে পারছে না।কারন এটা তামিমের বাসা না।

কারন তন্নি মারা যাওয়ার পর হেমা তন্নিদের বাসায় এসেছিলো।
হেমা মনে মনে ভাবছে তামিম কেন এমন করলো? নতুন করে আবার প্রতিশোধ নিতে?

তামিম হেমাকে নিয়ে একটা ফ্লাটে উঠলো।বাসায় তেমন কেহ নেই।হেমার কাপড়ের ব্যাগ টা হেমার বাসা থেকে দিয়ে দিয়েছিল।
ব্যাগ থেকে জামা নিয়ে শাড়িটা পাল্টে নিল।

তামিমের এক বন্ধু রাতের জন্য খাবার কিনে দিয়ে গেলো।
এতক্ষণে হেমা বুঝে গেছে তামিম যে হেমার সাথে সংসার করার জন্য বিয়ে করেনি।হেমা ভাবছে না করা অপরাধের জন্য কি আবার নতুন করে শাস্তি পেতে হবে?
হেমা যখনি নতুন করে জীবন টা গুছিয়ে নিতে চেয়েছে তখনি একটা তুফান এসে হেমার জীবনটা নষ্ট করে দিয়ে গেছে।

রাত ১১ টা..
হেমা রুমে একা।
তামিম তার বন্ধুদের বিদায় দিতে গেছে।
হেমা কাপড়ের ব্যাগে তার মেবাইলটা খোঁজছে।হিমেলকে খবরটা দিতেই হবে।তামিমের সাথে কিছু হওয়ার আগেই হিমেলের কাছে চলে যাবে হেমা।কিন্তু এবারও হেমার কপাল খারাপ ছিলো।মোবাইলটা খুঁজে পায়নি।
বিয়ের আগে হিমেলের কথা শুনে বাসা থেকে হেমার মোবাইলটা নিয়ে গেছিলো।হয়ত ইচ্ছে করেই বাসা থেকে মোবাইলটা দেয়নি।

তামিম খাবার নিয়ে রুমে এসে হেমাকে খেয়ে নিতে বলল।
হেমাঃআপনি আমার সাথে এমনটা কেন করলেন?
তামিম হাসলো।
হেমাঃএকটা মেয়ের জীবন আর কতবার নষ্ট করবেন আপনি? আমি আপনার বোন এর বন্ধু ছিলাম।এইটা কি আমার খুব বড় অপরাধ ছিল?
তামিমঃতোমার জন্য আমি আমার বোনকে হারিয়েছি।এত সহজে আমি তোমাকে ছাড়বো না।

হেমাঃতাহলে আমাকে খুন করলেইতো পারেন।বিয়ে করলেন কেন?
তামিমঃতোমাকে কিডন্যাপ করার জন্য আমাকে ৬ মাস জেলে থাকতে হয়েছে। খুন করলে আবার জেলে যেতে হবে।কি দরকার এত কিছুর? আমি জানি তুমি হিমেল নামের একটা ছেলেকে ভালোবাস।ছেলেটা তোমার সব কিছু জেনেও তোমাকে ভালোবেসেছে।আর তাইতো তোমার পরিবারকে ভুল বুঝিয়ে তারপর তোমাকে বিয়ে করেছি।যাতে ঐ ছেলের সাথে তুমি সুখে সংসার করতে না পার।
হেমাঃতাহলে আপনি সবটা জানেন!
তামিমঃহুম।তুমি কি ভেবেছিলে আমার প্রতিশোধ নেওয়া শেষ?

হেমা চুপ করে আছে।
তামিমঃ তুমি যতদিন বাঁচবে আমার প্রতিশোধ ও ততদিন চলবে।
হেমাঃআমার মনে হয় আপনাকে মানষিক ডাক্তার দেখানো উচিৎ।আপনি মানষিকভাবে অসুস্থ।
এ কথা শুনে তামিম হেমার গালে একটা চড় বসিয়ে দেয়য়।

তামিমের মোবাইলে একটা কল আসে।তামিম মোবাইল নিয়ে বারান্দায় চলে যায়।
হেমা রুমে বসে আছে।নিজেকে শেষ করে দিতে ইচ্ছে করছে হেমার।কিন্তু আবার হিমেলের কথাও ভাবছে।
যে করেই হোক হিমেলের সাথে যোগাযোগ করতেই হবে।এই সব থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র উপায় হল হিমেল।
হেমার কাছে এখন হিমেলই একমাত্র ভরষা।

হেমা রুম থেকে তামিমের কিছু কথা শুনেছে।হেমা বুঝতে পারছে তামিমের বাসা থেকে কল করেছে।কারন তামিমের কথা গুলো এমন ছিলো….
“মা আমি সংসার করার জন্য বিয়ে করিনি।তাই বিয়ে করে বৌ নিয়ে বাড়িতে যাইনি…..
আমার ভবিষ্যত নিয়ে ভাবতে হবে না।আমার বোন ছিল আমার কাছে সব কিছু।ও মারা যাওয়ার পর আমার জীবনের সব শেষ….
মা প্লিজ আমি বৌ নিয়ে বাড়িতে যেতে পারবো না….আমি ফোন রাখছি”

তামিম রুমে ঢুকে দেখে হেমা কান্না করছে।গালটা লাল হয়ে আছে।
তামিম খাবারের প্যাকেট নিয়ে হেমাকে দিল আর একটা প্যাকেট থেকে খাবার খেয়ে বিছানায় শুয়ে পরলো।
হেমা একটা বালিশ নিয়ে নিচে শুয়ে পরলো।এত কিছু ঘটে যাওয়ার পর হেমার গলা দিয়ে খাবার নামবে না।

সকালে জেগে দেখে তামিম রুমে নেই।এদিক ওদিক খোঁজে না পেয়ে হেমা পালানোর কথা ভাবলো।পালাতে গিয়ে দেখে দরজা বাইরে থেকে লক।
তাই রুমে বসে রইলো।
প্রায় ঘন্টা খানেক পর তামিম সকালের খাবার আর দুপুরের জন্য বাজার নিয়ে আসলো।
হেমাকে বললো নাস্তা করে দুপুরের রান্না করতে।

হেমা তেমন কিছু রান্না করতে জানে না।হোস্টেলে থাকার কারনে টুকটাক কিছু রান্না শিখেছিল।
কোন উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়ে খুব ভয়ে রান্না করলো।
কারন হেমা জানে রান্না খারাপ হলে তামিম আবার হেমার গাঁয়ে হাত তোলবে।

দুপুরে খাবার খেয়ে তামিম কিছু বলে নি।তারমানে রান্না তেমন খারাপ হয়নি।

 

চলবে….

প্রতিশোধ – পর্ব ৫

Now Reading
প্রতিশোধ – পর্ব ৫

 

হেমা রুমমেটদের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে এবং ২ টা স্টুডেন্ট পড়িয়ে যে টাকা পেত তা দিয়ে পরীক্ষা পর্যন্ত চলে।
পরীক্ষা শেষ হওয়ার সাথে সাথে আবার জব খুঁজা শুরু করে।
একটা জব পেয়েও যায়।
নতুন জব এ ঢুকার পর একটা ছেলের সাথে পরিচয় হয়। ছেলেটার নাম হিমেল।হেমা ছেলেটাকে এড়িয়ে চলে। নতুন কোন ঝামেলায় আর নিজেকে জড়াতে চায় না।
একদিন হিমেল হেমার সামনে এসে দাঁড়ায়।

হিমেলঃ আমি জানি তুমি কেন আমাকে এড়িয়ে চলো।
হেমা ভয় পেয়ে যায়। যে ঘটনা থেকে দূরে থাকার জন্য এত দূর আসা তা এখানে ও তাকে তাড়া করছে!
হেমাঃ কি জানেন আপনি?
হিমেলঃ তুমি কেন ছেলেদের এড়িয়ে চলো তা।
হেমা চুপ করে আছে।
হিমেলঃ তোমার জীবনে এমন কিছু ঘটে গেছে যার জন্য তুমি দায়ী না। কোন অপরাধ না করেই তুমি শাস্তি পেয়েছিলে।
হেমাঃ আপনি কি করে জানলেন?
হিমেলঃ তুমি যেদিন এখানে জয়েন করেছো সেদিন তোমাকে দেখেই আমার ভালো লেগে যায়।তোমার সাথে কথা বলার চেষ্টা করেছি।কিন্তু তুমি আমাকে এড়িয়ে গেছো।

তোমার সিভি থেকে তোমার বাড়ির ঠিকানা যোগার করে তোমাদের গ্রামে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে সবটা জানতে পারি।
ভেবেছিলাম তোমার বাসায় যাবো।কিন্তু পরে আর সাহস পাইনি।
হেমাঃ সবটাই তো জেনে গেছেন।এখনো আমার পিছনে পরে আছেন কেন?
হিমেলঃহুম সবটা জেনেছি।আর আমি জানি এতে তোমার কোন দোষ ছিলো না।তুমি শুধু শুধু নিজেকে এভাবে সব কিছু থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছো।

হেমাঃ মানে?
হিমেলঃ দেখো আমি সবটা জেনেছি এবং সত্যিটা জেনেছি।যে সত্যিটা তুমি সবাইকে বলেছো কিন্তু কিছু লোক ছাড়া আর কেও বিশ্বাস করেনি।আর আমি তোমার বলা সত্যিটা বিশ্বাস করেছি।
হেমা চুপ করে আছে।

হিমেলঃহেমা আমি আমার মা কে তোমার কথা বলেছি।তোমার সাথে যা যা ঘটেছে সবটা বলেছি।আমার মা বলেছে তোমাকে মেনে নিতে তার কোন সমস্যা নেই।তুমি চাইলে মা তোমার বাসায় বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যাবে বলেছে।
হেমাঃ এসব জেনে ও তিনি রাজি হলেন?
হিমেলঃ হুম। মা শুধু একটা কথাই বলেছে,এর থেকে বেশি কিছু হলে ও মা তোমাকে মেনে নিতো।যে অন্যায় তুমি করোনি তার শাস্তি ও তুমি প্রাপ্য না।
হেমা হিমেলের দিকে তাকিয়ে আছে।
হিমেলঃতুমি ভাবার জন্য সময় নাও।ভেবে আমাকে জানিও।
এ কথা বলে হিমেল চলে গেলো।

 

হেমা কি করবে বুঝতে পারছেনা।নতুন কোন আঘাত হেমা সামলাতে পারবে না।হিমেলের বলা কথাগুলা বিশ্বাস করবে কিনা তাও বুঝতে পারছে না।এ ব্যাপারে কথা বলবে এমন কেউই নেই।

অনেক দিন হয়ে গেলো।হেমা হিমেলকে কিছু জানায়নি।
হিমেল ছেলে হিসেবে ভালো।কিন্তু হেমা ভয়ে হিমেলের সাথে কোন সম্পর্কে জড়াতে চায় না।
একদিন হিমেল হেমাকে বললো…

হিমেলঃহেমা তুমিতো আমাকে কিছু জানালে না।
হেমা হিমেলকে কি বলবে তা ভেবে পাচ্ছে না।
হিমেল হেমাকে অনেক বুঝানোর পর হেমা রাজি হলো।
হেমা হিমেলকে বললো ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষা শেষ হলে তারপর হেমার বাসায় বিয়ের প্রস্তাব পাঠাতে।
হিমেল ও রাজি হলো।
হেমা আর হিমেল এর জীবন ভালোই কাটছে।
হঠাৎ করে এলোমেলো হয়ে যাওয়া হেমার জীবন নতুন করে রং খুজে পেয়েছে।

ফাইনাল ইয়ার এর পরীক্ষা চলে আসলো।
হেমা আর হিমেল খুব খুশি।পরীক্ষা শেষ হলেই হিমেল ওর মা কে নিয়ে হেমার বাসায় যাবে।

হেমার পরীক্ষা শেষ হয়ে গেলো।
হেমার বাসা থেকে হেমাকে কল করে বলল যেনো ঐ দিনই হেমা বাড়ি আসে।

হেমা বাসায় জানালো ভাইবা পরীক্ষার পর বাসায় আসবে।কিন্তু হেমার বাবা কিছুতেই রাজি হলো না।ঐ দিনই বাসায় যেতে বললো।
বাবা অনেক জোর করার পর হেমা বাসায় যেতে রাজি হলো।
হেমা ভাবলো এখন তাদের কথা না শুনলে বাসা থেকে হিমেল কে সহজে মেনে নিবে না।

তাই ব্যাগ গুছিয়ে বাসার দিকে রওনা হলো।
বাসায় গিয়ে যা শুনলো তাতে হেমা নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না।হেমাকে না জানিয়েই বিয়ের সব আয়োজন করে ফেলেছে।
হেমা কিছুতেই বিয়ে করতে রাজি হলো না।
বাবাঃএই বিয়েটা তোকে করতেই হবে।সমাজে মুখ দেখাতে পারছিনা।আর কোন ছেলেই তোকে বিয়ে করতে রাজি হয় না।ছেলেটা ভালো তাই তোকে বিয়ে করবে বলেছে।
হেমাঃকিন্তু বাবা আমাকে একবার জিজ্ঞেস ও করলে না? চিনি না জানিনা একজন কে কিভাবে বিয়ে করবো?
আর তাছাড়া আমি একজনকে পছন্দ করি।ও আমার সবটা জানে।আর জেনেই আমাকে বিয়ে করতে চেয়েছে।কিছুদিন এর মধ্যে আমাদের বাসায় আসবে বলেছে।বাবা তুমি বিয়েটা না করে দাও।এই বিয়েটা করা আমার পক্ষে সম্ভব না।

বাবাঃআমি ছেলেটা কে কথা দিয়েছি।বিয়েটা তোকে করতেই হবে।এমতেই তোর জন্য আমরা সমাজে মুখ দেখাতে পারছি না।তোর জন্য নতুন করে আমি আর কারো কাছে অপমানিত হতে পারবো না।বিয়েটা না করলে এ বাড়ির কারো সাথে আর তোর সম্পর্ক থাকবে না।
হেমা সবাইকে বুঝাতে চেষ্টা করলো।কিন্তু কেও হেমার কথা শুনলো না।
বাধ্য হয়ে হেমা বিয়ে করতে রাজি হলো।
বিয়ে পড়ানোর সময় বর এর নাম শুনে হেমা চমকে গেলো।
হেমা দ্বিতীয় বারের মত ধাক্কা খেলো।হেমার সাথে এসব কি হচ্ছে?

 

চলবে….

“ভোগ করতে ভালোবাসি, বিয়ে করতে নয়” – বর্তমান সময়ের প্রেম এবং সামাজিক অবক্ষয় (পর্ব-১)

Now Reading
“ভোগ করতে ভালোবাসি, বিয়ে করতে নয়” – বর্তমান সময়ের প্রেম এবং সামাজিক অবক্ষয় (পর্ব-১)

আমরা বর্তমানে এমন একটা সময়ে বসবাস করছি, যেখানে প্রেম-ভালোবাসা সবচাইতে কমন একটা ব্যাপার। আজকের যুগে প্রেমিক বা প্রেমিকা না থাকলে তাকে নাকি ক্ষ্যাত সম্বোধন করা হয়! ব্যাপারটা যতটানা হাস্যকর, তার চাইতে বেশি বেদনাদায়কও বটে। আর এই বেদনায় শয্যাশয়ী হয়ে ছেলে-মেয়েরা চেষ্টা করে একটা গার্ল-ফ্রেন্ড বা বয়ফ্রেন্ড জোটাতে। প্রেমের জোয়ারে অজানা তেপান্তরে ভেসে যেতে। তারা জানেনা তাদের কি ঠিকানা, সেই প্রেমেরই’বা কি পরিণতি। বয়ঃসন্ধিকাল সময়টা এক্ষেত্রে খুব বেশি প্রভাব ফেলে, প্রেমে কে পড়েনি এই সময়ে? আমি নিজেও প্রেমে আটকে গিয়েছি, মরীচিকার মত মনে হয়েছে সব কিছু। কাছে গিয়ে দেখেছি শূণ্যতার হাহাকার। প্রেম-বিদ্যায় পাশ-ফেল আছে; কেউ আবার ইচঁড়েপাকা নাম পেয়ে থাকে অল্প বয়সে প্রেমে সিদ্ধহস্ত বা PHD নেয়ায়। আমার এই কথা গুলো পড়ে হাসছেন আর নিজের কথা ভাবছেন না তো? যাইহোক, আজ সমাজের কিছু কঠিন বাস্তবতা আর চরিত্রকে আপনাদের সামনে তুলে ধরবো। যেখানে উঠে আসবে কিছু প্রেম, কিছু ভালোবাসা, ভালোলাগা, ঘৃণা আর সমাজের কিছু নরপশুর কথা। সমাজের পরতে পরতে ছড়িয়ে থাকা অবক্ষয়ের কথা।

প্রথমেই রূপা আর মেহেদীর গল্প দিয়ে শুরু করছি। গল্প বললে ভুল হবে, আসলে এটি একটি বাস্তব ঘটনা। আরো ৮ বছর আগের কথা। তারা দুজনই তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট। রূপা এসেছে প্রত্যন্ত গ্রাম-অঞ্চল থেকে, আর মেহেদী শহরের ইট-পাথরের কোলাহলে মিশে বড় হওয়া শহুরে ছেলে। রূপা মেধাবী হওয়ায় মেহেদী প্রায়ই তার সাহায্য নিতো। ভার্সিটি লাইফে এটা খুব স্বাভাবিক। এভাবেই একদিন মেহেদী আর রূপার ভালোলাগা ভালোবাসাতে গিয়ে গড়ায়। ভার্সিটির সবচাইতে সুদর্শন ছেলেটা হাবুডুবু খাচ্ছে গ্রাম্য সহজ সরল মেয়েটাতে!! এক মেধা ছাড়া কি আছে এই মেয়ের ভেতরে? যদি রূপ-লাবণ্য এর কথা বলি, নাহ, সেটাও মানা যায়না কোনোভাবে; দেখতে লম্বা আর শারীরিক গঠনটা ভালো এই আরকি! – আসলে, এখানেই কথা। এক বছরের সুমধুর সেই সম্পর্ক, মেহেদীর সুমিষ্ট আচরণ বদলে যেতে সময় লাগেনি। একসময় ভার্সিটিতে খবর রটে যায়, রূপা ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। নাহ, মেহেদী তাকে গ্রহণ করেনি, অ্যবরশন এর টাকাটা দিয়ে রূপাকে সে বলেছিল, “এটাই আমি, কলেজ লাইফ থেকে আমি এমনই, ভোগ করতে ভালোবাসি, বিয়ে করতে নয়”। এরপর রূপার কি হয়েছিল? আত্নহত্যা? নাহ, রূপা গ্রামের সহজ সরল মেয়ে হলে কি হবে? সে ছিল সৎ আর সাহসী। আর ঠিক তখনই রূপার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল তারই ক্লাসমেট, এক মহান পুরুষ জুবায়ের। রূপা তো বিশ্বাস করেছিল মেহেদীকে, মেহেদীর আশ্বাসকে। বিয়ে করবার আশ্বাস। নকল কাবিননামা করেছিল। রূপা যখন তা বুঝতে পারে, ততদিনে অনেক দেরী হয়ে যায়।

সাবস্ক্রাইব করে রাখুব বাংলাদেশীজম প্রজেক্টের ইউটিউব চ্যানেলে এখানে ক্লিক করে নতুন সব আপডেটের জন্য! 

কি, এমন ঘটনা তো প্রতিনিয়ত ঘটছে বলে গায়ে মাখছেন না? নিজেও প্লেবয় সেজে কোনো মেয়ের সতীত্ব হরণে ব্যস্ত? ভাই, হ্যাঁ আপনাকেই বলছি, নিজের অবস্থান থেকে একটু চিন্তা করে দেখেন তো, আপনার বোন থাকলে তার যদি এমন কোনো ক্ষতি কেউ করতো, চুপ করে ঘরে বসে থাকতেন? নাকি হাতের কাছে দা থাকলে সেই দা নিয়েই সেই কাপুরুষ হায়েনাটাকে হারিকেন জ্বালিয়ে খুজেঁ বেড়াতেন? অনুরোধ করছি, আপনি নিজেই সেই হায়েনা হওয়ার আগে সুস্থ মাথায় চিন্তা করে দেখুন, ভেবে দেখুন, ভালোবাসা দিয়ে অনেক কিছুই হয়তো পাবেন, আপনার প্রেমিকার বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তার ক্ষতিও করতে পারবেন, আপনার চরিত্র একবার নষ্ট হয়ে গেলে সেটা সমাজের কাছে ঠিকই হয়তো অধরা থেকে যাবে, কিন্তু যে মেয়েটাকে চরিত্রহীনা বানিয়ে দিলেন সমাজের কাছে, তার কি হবে? সবাই তো রূপার মত না যে আত্নহত্যা করবে না, সবাই তো জুবায়ের না যে সেই হতভাগী মেয়ের পাশে এসে দাঁড়াবে? ম্যাক্সিমাম তো খারাপ পথটাই বেছে নেয়, পত্র-পত্রিকায় দেখেন তো! আপনার অধিকার নেই কোনো মেয়ের জীবন নষ্ট করে দেয়ার, তার পরিবারকে যন্ত্রণায় ভোগাবার।

ভাইরে, প্রেম করতে পারেন আর বিয়ে করতে কি হয়? ভয় হয়? বিয়ে করতে যদি ভয়ই করে, প্রেম করতে তাহলে ভয় করেনা? নাকি প্রেম-ভালোবাসা পবিত্র এই খোঁড়া অজুহাতে বিয়েকে বস্তাবন্দি করে বুড়িগঙ্গার জলে ভাসিয়ে দেন?

আমাদের সমাজে মেহেদীর মতন নষ্ট পুরুষের যেমন অভাব নেই তেমনি রূপার মত ভুক্তভুগীরও অভাব নেই। মেয়েদেরকে বলছি, কেন এমন ভুক্তভুগী হবেন আপনারা? আপনাদের কি বিবেকে নাড়া দেয়না বিছানার যাবার আগে? এইটা মনে হয়না যে, বিয়ে করলাম না, বিছানায় যাবো কেন? এই ছেলে যদি প্রতারণা করে বসে? এখন তো এটাই বেশি হচ্ছে, ভালোবাসা আর বিশ্বাস হারিয়ে যাচ্ছে সমাজ থেকে। নাকি আপনাকেও সমানে সমান অপরাধী হিসেবে ধরে নেব যে আপনিও শারীরিক চাহিদা মেটাতেই মেহেদীর মত পুরুষের সাথে একান্তে সময় কাটাচ্ছেন?

আপনারা যারা আমার এই লেখাটি পড়ছেন, তাদেরকে অনুরোধ করছি, প্লিজ, দয়া করে এইসব বন্ধ করুন, সুস্থ একটা জীবনে ফিরে আসুন। যারা এমন করে আর বলে যে, “ভোগ করতে ভালোবাসি, বিয়ে করতে নয়” – তারা অসুস্থ, জানোয়ার, কীট, নরপশু। আপনার, আমার, কারোরই এই অধিকার নেই অন্য একজনকে শুধুমাত্র ভালোবাসার বশে কাছে এনে ভোগ করার। বিয়ে করুন, সংসার করুন, সুস্থ জীবন-যাপন করুন। সমাজে বিয়ে বলে কিছু একটা তো আছে নাকি? নষ্টামো করে নষ্ট হবেন কেন?

( রূপা, মেহেদী, জুবায়ের – ছদ্মনাম ব্যবহার করেছি; পাঠকদের উদ্দেশ্যে বলছি, রূপা এবং জুবায়ের বর্তমানে সুইডেনে আছেন। দুই বাচ্চা নিয়ে সুখের জীবন তাদের; যে বাচ্চাকে অ্যবরশন করার জন্য মেহেদী টাকা দিয়েছিল, সেই বাচ্চা জন্মের পরপরই মারা গিয়েছিল, মস্তিষ্কের সমস্যার কারণে। মেহেদী নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ির চাকার নিচে জীবন দিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিকগুলোর শিরোনাম হয়েছিল! )

আসছি পরের পর্বে- আপুদের চরিত্রের ঘটনা নিয়ে, শুধুমাত্র ছেলেদেরই যে দোষ তাতো না, তাইনা?

চলবে………