মঙ্গলে ভবিষ্যৎ সভ্যতার পরিকল্পনাকারী এলন মাস্ক

Now Reading
মঙ্গলে ভবিষ্যৎ সভ্যতার পরিকল্পনাকারী এলন মাস্ক

২০ বছর আগে কেউ যদি বলত যে মঙ্গলে সভ্যতার গোড়াপত্তন করতে চায় তাহলে সেটা নিতান্তই হাস্যকর হিসেবে গন্য হত ,কারন তখন সেটা অসম্ভব ছিল। এমনকি আজো অনেকের মানুষের চাদে বা অন্য কোন গ্রহে যাওয়ার সিদ্ধান্তে একটা প্রশ্নবোধক চাহুনি ছুড়ে দেয়। টেসলা, স্পেস এক্স এবং নিউরোলিংক এর মত নামী কোম্পানির চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার এলন মাস্ক সেই প্রশ্নবোধক চাহুনি ছুড়ে দেয়া মানুষগুলোকে ভুল প্রমান করে বিশ্বকে এটা দেখিতে দিতে চান যে অন্য গ্রহে মানুষের মাইগ্রেশন মানব সভ্যতার বিস্ফোরনকে বাচাতে পারবে।

যদি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় তাহলে পৃথিবী এবং মানব সত্যতা , দুটোই বিলীন হতে যাবে। মঙ্গল কে প্রস্তাবিত ব্যাক আপ প্ল্যান হিসেবে ধরে রাখা হচ্ছে সেই সময়ের জন্য যখন আমাদের পৃথিবী আর বসবার যোগ্য থাকবে না। এলন মাস্ক ইতিমধ্যে তার মিশন শুরু করেছেন এবং জনসমক্ষে তার এই মিশনের বাসবায়নের পক্ষে প্রতিটি পদক্ষেপ শেয়ার করছেন। আসুন , এই মঙ্গলে ভবিষ্যৎ সভ্যতার কিছু ব্যপারে জানি।

 “মিশন টু মারস” এর ঘোষনা

২০১৬ এর সেপ্টেম্বরে, এলন মাস্ক প্রথম ঘোষনা দেন যে তিনি মঙ্গলকে মানুষের বসবাসের জন্য গ্রহনযোগ্য করে তুলতে চান। তিনি মানব সভ্যতাকে interplanetary species বা আন্তগ্রহ প্রজাতি হিসেবে দেখতে চান এবং সেই লক্ষ্যে লাল মাটির গ্রহ মঙ্গলকে তিনি বেছে নিয়েছেন। এই স্বপ্ন পুরনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে অর্থনৈতিক বিষয়।  অস্ট্রেলিয়ার এডিলেইড এ অনুষ্ঠিত হওয়া ইন্টারন্যাশনাল এস্ট্রোনটিক্যাল কংগ্রেসে তিনি পুরো পরিকল্পনার কথা জানান।

মিশন টু মারস এর প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় একটু পরিবর্তন এসেছে সেটা হলো যাত্রা সময় কয়েকবছর পিছিয়েছে এবং রকেটের আকার ছোট হয়েছে। এলন মাস্ক এখনো পরিষ্কার করেননি তিনি কিভাবে এই বিশাল খরচ বহন করবেন কিন্তু এখন সফল এবং দুরদৃষ্টিসম্পন্ন স্বনির্ভর উদ্দোক্তা এর মত তিনি উপস্থিত সবাইকে রকেট তৈরী খাতে বিনিয়োগের জন্য আহ্বান করেছেন।২০২২ সালে প্রথম যাত্রা শুরু হবার কথা এবং পরবর্তী যাত্রা হবার কথা আছে ২০২৪  সালে।

 

 বি এফ আর

[youtube https://www.youtube.com/watch?v=UAkmP00QPJg]

BFR হলো Falcon 9, Falcon Heavy এর উন্নত ভার্সন যা মিশনের খরচ অনেকাংশে কমিয়ে দিচ্ছে ।এটি মঙ্গলের গরম বায়ুমন্ডলে প্রতি সেকেন্ডে ৭.৫ কিলোমিটার গতিতে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে এবং সেই গরম কে প্রতিহত করতে পারবে। এর যাত্রাপথ হবে পৃথিবী – চাঁদ -মঙ্গল এবং এটি সকল প্রকার সৌড় ঝড় প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুত।

এই মহাকাশ যান একের অধিকবার ব্যাবহার করা যাবে  এর মহাকাশে আজ পর্যন্ত ভ্রমনকৃত সকল মহাকাশ যানের চেয়ে এর খরচ কম। একসাথে এতে ১০ যাত্রী উঠতে পারবে। এছাড়াও এটি ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন এ পন্য আদান প্রদান, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ, গ্রহের ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার সহ নানা কাজ করতে পারবে। আমরা হয়ত ভবিষ্যতে কমার্শিয়াল ফ্লাইট এর পরিবর্তে BFR এর ব্যাবহার দেখতে পারি।

বিবিধ

BFR এর উন্নয়ন খরচ ধরা হয়ে প্রায় ১০ বিলিয়ন ইউএস ডলার। মঙ্গলে স্বনির্ভর সভ্যতা গড়ে তোলার জন্য মানুষ্য বাহিত প্রায় ১০০০০ ফ্লাইট এর কথা ভাবা হচ্ছে। এই বিশাল পরিমান খরচ স্পেস-এক্স এর পক্ষে একা বহন করা সম্ভব না তাই তারা বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে এবং সব কিছু ঠিক থাকলে ২০৬০ সাল নাগাদ মঙ্গলে মঙ্গলে প্রথম মানব সভ্যতা পরিপুর্ন ভাবে গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়েছে।

 

আপনিও যদি নিজের পরবর্তী আবাস মঙ্গলে দেখতে চান, যদি চান নিজেকে সেই ভাগ্যবান ১ লক্ষ মঙ্গলবাসীর মধ্যে দেখতে, এখন থেকেই সঞ্চ্য শুরু করে দিন।