নারী ও নায়িকা

Now Reading
নারী ও নায়িকা

১.

-আপনার নতুন ছবিটা দেখলাম।

– তা কেমন লাগলো?

-ভালই। কিন্তু ঐ যে আইটেম সং…আসলেই কি তার খুব বেশি দরকার ছিল?

– ভাই, এটা বানিজ্যিক ছবি। এতে নাচ থাকবে গান থাকবে, থাকবে মারদাংগা একশন। তার সাথে এই যুগে আইটেম সং না হলে কি চলে! আরে ভাই, মানুষ পকেটের টাকা খরচ করে সিনেমা দেখতে আসে। তারা চায় নির্মল বিনোদন। তাই সিনেমার মাঝে দু একটা আইটেম গান থাকলে দর্শকের ও ভাল লাগে, প্রডিউসার হল মালিকদের ও দুটো টাকা আয় হয়।

২.

-শুনলাম এবার নাকি ভিন্ন রকম ছবি বানিয়েছেন?

-এবারের ছবিটা আসলেই অন্যরকম। যাকে বলে জীবনঘনিষ্ঠ ছবি। জীবনটাকে খুব শৈল্পিকভাবে পর্দায় তুলে এনেছি। সিনেমা দেখলে আপনার মনেই হবে না আপনি সিনেমা দেখছেন। দেখলে মনে হবে এ যেন আপনারই জীবনের গল্প।

– তাতো বুঝলাম। কিন্তু এর মাঝেওতো দেখি কয়েকটা অশালীন দৃশ্য আছে। ওই যে নায়ক নায়িকার…ওই দৃশ্যটা…

-অশালীন বলছেন কেন? এতো জীবনেরই ছবি। কেন, বাস্তব জীবনে এমন কিছু হয়না? এর মাঝে আপনি অশ্লীলতা খুজে পেলেন কোথায়? অশীলতা কারে বলে আপনি বুঝেন, এর সংগা জানেন? ভাই, শ্লীল-অশ্লীল আমাকে শিখাতে আসবেন না। আমার খুব ভাল করেই জানা আছে কোনটা শ্লীল আর কোনটা অশ্লীল।

শরীরে পোশাক না থাকা মানেই অশ্লীল না। আবার কাপড় পড়েও আপনি নিদারুন অশ্লীল হতে পারেন। উপস্থাপনাটাই আসল।

World sinema  নিয়ে আপনার কোন ধারনা আছে? বিশ্বের অনেক ক্লাসিক সিনেমাতেই দেখবেন, দু চারটা ন্যুড সিন থাকে। কই সেগুলো নিয়ে শুনেছেন কোন সমালোচক তাকে অশ্লীল বলেছেন? আসলে আপনাদের মত এ রকম মানসিকতার লোকদের কারনেই দেশের শিল্প সংস্কৃতি এগুতে পারছেনা। যারা শিল্প সংস্কৃতির বুঝেনা কিছুই, খালি শ্লীল-অশ্লীল নিয়ে লাফালাফি করে।

৩.
– এবারেতো মিউজিক ভিডিও বানিয়েছেন শুনলাম।

-হ্যা। গানটা ভাল, সাথে গানের ভেতরের গল্পটাও। তাই অনেক যত্ন নিয়ে বানিয়েছি। খুবই রোমান্টিক একটা গান। এই গানের শ্যুটিং করতে গিয়ে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। ৫ দিন ধরে রাংগামাটি, বান্দারবান, সিলেটে শ্যুটিং করেছি। কি নেই গানে? আছে মেঘ, বৃষ্টি, পাহাড়, চা বাগান…

-শুনলাম, গানের একটা দৃশ্য নিয়ে নাকি খুব সমালোচনা হচ্ছে। যাতে নায়িকা পানিতে ভিজে…

-আরে বাদ দেনতো, সমালোচকদের কথা। এদেরতো আর অন্য কোন কাজ নেই, আমাদের সমালোচনা করেই এদের পেটে ভাত জোটে। রোমান্টিক গান…গানের ফিলিং অনুযায়ী দৃশটা ফুটিয়ে তুলতে হবে না? একটা গানে আর সময় কতটুকু? ৪-৫ মিনিট। তার মধ্যেই সব আবেগ তুলে আনতে হয়। অমন দৃশ্য না হলে রোমান্টিক গানের পুরো আমেজটা আসবে না। বুঝতে পেরেছেন? নাকি বুঝেন নি?

-জ্বি, জ্বী। খুব ভালই বুঝেছি। যতই বলুন শিল্পের জন্য, নারী আসলে বাজারের পন্য। বানিজ্যিক ছবি, আর্ট ফিল্ম কিংবা গান…বাজার অর্থনীতিতে নারীর একই স্থান। তাকে জনগনের মনোরঞ্জনের জন্য খোলামেলা হতেই হয়।

আচ্ছা, এমন ছবি কি আপনারা বানাতে পারেন না যাতে নায়িকার কোন বৃষ্টিভেজা দৃশ্য নেই, নেই আবেগঘন/অন্তরংগ কোন চরিত্র? যাতে নারী কেবল পুরুষের চোখে  শয্যাসংগী প্রেমিকাই নয়, বরং আপাদ মস্তক একজন মানুষ। যার আবেগ আছে, অনুভুতি আছে, দু চোখে স্বপ্ন আছে, আছে সুন্দর পৃথিবী গড়ার অভিলাষ। এমন ছবি, যাতে নায়িকা মানুষের সামনে নাচবেনা, গাইবেনা, যে ছবিতে তথাকথিত প্রেম নেই, আছে নারীর স্নিগ্ধ, প্রশান্ত রুপ। যেখানে নারী রুপের ছটায় মুগ্ধ করেনা, মহীয়ান হয়ে উঠে তার কর্মে।

ওই যে বললেন, জীবনঘনিষ্ঠ ছবি। এটাওতো জীবনেরই একটা রুপ। তাহলে এরকম কোন জীবন ঘনিষ্ঠ ছবি হতে বাধা কোথায়?

-বাহ! মনে হচ্ছিল ফিলোসফির কোন ক্লাসে বসে আছি। তা এমন ছবির প্রডিউসারই বা পাব কোথায় আর হলে গিয়ে দেখবেই বা কে? এ সব সস্তা আবেগ নিয়ে ইমোশনাল হওয়া যায়, ছবি বানানো যায় না। ছবি বানাতে হলে দর্শক, বাস্তবতা অনেক কিছুই বুঝতে হয়। যাক গে, আমার কাজ আমাকে করতে দিন। যে জগত আপনার না, সেটা নিয়ে খুব বেশি মাথা না ঘামানোই ভাল।

এই কে আছিস, ভাইকে একটা ঠান্ডা খাওয়া!

সিনেমা বন্ধ হলে আরো অনেক কিছুই বন্ধ হওয়া প্রয়োজন …।

Now Reading
সিনেমা বন্ধ হলে আরো অনেক কিছুই বন্ধ হওয়া প্রয়োজন …।

সম্প্রতি খবরে এসেছে যে এখন থেকে যৌথ প্রযোজনা তথা দুই বাংলার মিলিত প্রচেষ্টার সিনেমা বন্ধ । এই খবরে তুমুল ঝড় বয়ে যাচ্ছে  টিভি চ্যানেল ও সোশ্যাল মিডিয়াতে । আমার এর আগের লেখাটিতে আমি এই যৌথ প্রযোজনার ব্যাপারে কিছু বলেছিলাম । আজকে সেটা আর নতুন করে বলবো না । আজকে চলুন এই যৌথ প্রযোজনার সিনেমা বন্ধের পিছনে কারণ অনুসন্ধান করা যাক । একটি টিভি টকশোতে একজন যৌথ প্রযোজনার বিপক্ষে কথা বলছিলেন তখন হঠাৎ তাকে প্রশ্ন করা হলো এই যে আপনারা এত দিন অন্য দেশের সিনেমা এই দেশে চালাতে দেননি এতে কি উদ্ধার হয়েছে কিছুই তো করতে পারেননি । তখন তিনি সিনেমার বাজেট এর প্রসঙ্গ টেনে বললেন ওদের দেশে (ভারতে) একশ কোটি টাকার সিনেমা হয় আমাদের দেশে কি তা হয় ? আমাদের বাজেট বড়জোর টেনেটুনে এক কোটি ।

আসলে এই সময় এসে এই ধরনের কারণ দর্শানো খুবই হাস্যকর । এরপর আসলো সংস্কৃতি প্রসঙ্গ সেখানেও নানান কথাবার্তা হলো । সারমর্ম এটাই যে ওদের (ভারতের) সিনেমা চালালে যদি সমস্যা হয়ই তাহলে ওদের অন্য সব কিছুই বন্ধ করে দেয়া উচিৎ । বিশেষ করে হিন্দি যত চ্যানেল আছে সব এবং ওদের যেসব জামাকাপড় আমাদের দেশে আসে সেসব ও বন্ধ করে দেয়া উচিৎ । এই যুক্তি দেওয়ার পর আর কোন কথা থাকতে পারে কি ? অবশ্যই পারে । তাহলে আসুন সেটা একটু অনুসন্ধান করি । প্রথম কথা হলো যৌথ প্রযোজনা সিনেমাতে একটি নীতিমালা আছে । যেহেতু , নীতিমালা আছে তাই তা মানা উচিৎ । কাপড় আনা নেওয়াতে তো কোন নীতিমালা নেই  বা হিন্দি চ্যানেল চালানোতেও তো কোন নিতিমালা নেই ,থাকার প্রশ্নও উঠে না কারণ ভারতে আমাদের কোন চ্যানেলই চালানো হয় না । তাইলে এত কিছুতে যদি আমাদের সংস্কৃতি নষ্ট না হয় তাইলে সিনেমাতে সমস্যা কি ? তখন আবার সেই নীতিমালা টেনে আনা হয় । সবচেয়ে অবাক করা বিষয় কি জানেন ? যেই টকশোর কথা বললাম সেই টকশোতে যিনি যৌথ প্রযোজনার বিপক্ষে কথা বলছিলেন তিনি অকপটে মেনে নিলেন যে যদি নীতিমালা তুলে নেয়া হয় তাহলে উনাদের কোন সমস্যা নেই। বাহ ! চমৎকার তার মানে উনাদের মূল কাহিনি ওই সংস্কৃতি নয় উনাদের কাহিনি নীতিমালা । এখানে বলে রাখা ভালো হিন্দি উর্দু সিনেমা বন্ধের ব্যাপারটি আমাদের দেশে অনেক আগে থেকেই চলে আসছে ।

মাঝাখানে চালু হয়েছিল তখন অনেকে কাফনের কাপড় পরে আন্দোলন করেছিলো। পরবর্তীতে তোপের মুখে পরে এই নিয়ম আর টেকেনি । সর্বশেষ যৌথ প্রযোজনা ছিল সেটিও বন্ধ করে দেয়া হলো । এখন মানুষ তাহলে কি দেখতে হলে যাবে ? প্রথমত আমাদের অবস্থান এখনো অত ভালো হয়ে যায়নি । একটি কথা বলতেই হচ্ছে যে যৌথ প্রযোজনা আর যাই হক দীর্ঘদিন হলবিমুখ মানুষকে সিনেমা হলে ফিরিয়ে এনেছে । অনেক সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাওয়া থেকেও বাঁচিয়েছে । তবে এটাও সত্য যৌথ প্রযোজনা যেহেতু দুই বাংলার মিলিত সিনেমা তাই আমাদেরও অনেক অধিকার আছে সেইসব সিনেমাতে কিন্তু তার তোয়াক্কা খুব একটা করেননি ঐ সমস্ত কোলকাতার সস্তা  পরিচালকরা । তারা তাদের মত করে তামিল সিনেমা নকল করে সিনেমা বানিয়ে গেছে  । যেখানে তামিল সংস্কৃতি এসেছে । যাই হোক তারা তাদের কাজ করে গেছে । আমার প্রশ্ন হলো আমদের দেশের পরিচালকেরা কি করলেন ? তাদের কেন যৌথ প্রযোজনাতে কালেভেদ্রে আমাদের দেখতে হয় । সর্বশেষ বোধহয় নিয়তি সিনামাতে আমরা বাংলাদেশী পরিচালক দেখেছি । যেই সিনেমাটি সুপার ফ্লপ হয়েছে । অথচ আমাদের দেশে অনেক মেধাবী পরিচালক রয়েছেন যাদের ভালো মুভিও আমরা দেখেছি । মোস্তফা সারোয়ার ফারুকি , অমিতাভ রেজা , গিয়াস উদ্দিন সেলিম এনাদের সিনেমা আমরা দেখেছি । এনারা প্রত্যেকেই চমৎকার সব সিনেমা আমদের উপহার দিয়েছেন ।

তাহলে এনাদের কেন যৌথ প্রযোজনার সিনামাতে আমরা দেখি না । আমরা সেই কোলকাতার নকল করে সিনেমা বানানো পরিচালকের সিনেমা দেখি । যেই সিনেমাগুলোর বেশীরভাগেরই প্রেক্ষাপট এক । তবে  যৌথ প্রযোজনার ছবিতে যেহেতু বাজেট বেশী তাই লোকেশন ও অনান্য বিষয় বেশ সুন্দরভাবে উপস্থাপিত হয় । তাই আমদেরও উচিৎ হবে যৌথ প্রযোজনাকে বর্জন না করে বরং এর ভালো দিকগুলকে তুলে এনে আমদের মত করে সাজানো । হ্যাঁ , এই মুহূর্তে অবশ্যই  আমদের যৌথ প্রযোজনার সিনেমাকে মেনে নেয়া উচিৎ কারণ এতে অন্তত হলগুলো টিকে থাকবে । এখন যদি হল বন্ধ হয়ে যায় তাহলে পরে যতই ভালো সিনেমা হোক না কেন মানুষের দেখতে যাওয়ার মত জায়গাই থাকবে না । তাই , আসুন যৌথ প্রযোজনা বর্জন না করে এর থেকে কিভাবে নিজেদের সিনেমাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় তাই ভাবি । এতেই সবার ভালো ।

শাকিব খানের সুপারস্টার বন্দনা- মিথ?

Now Reading
শাকিব খানের সুপারস্টার বন্দনা- মিথ?

আপনাকে যদি একজন শাকিব খানের ব্যাপারে চোখ বন্ধ করে দুই মিনিট ভাবতে বলা হয়, তাহলে আপনার মনে শাকিবের কী কী ব্যাপার সবার আগে আসবে? আসুন আমার মনের ভাবনার সাথে আপনার ভাবনা মিলিয়ে নেই-

১। ঠোঁটে লিপস্টিক

২। ক্লিন শেভড চকোলেট বয় লুক

৩। হাসি পাওয়ার মত কিছু নাচের স্টেপ

৪। শিকারি তে অন্য এক শাকিব

৫। অপু বিশ্বাসের সাথে প্রতারণা

 

দুই মিনিটে আমার মোটামুটি উপরের এই কয়টা বিষয়ই মাথায় আসলো। ওহ, আরেকটা ব্যাপার এসেছিল। সেটা হলো, নিজেই নিজেকে সুপারস্টার বলা। সেটা নিয়েই মূলত আজকের এই লেখা।

বাংলাদেশের সিনেমা জগত নিয়ে যদি কথা বলতে হয়, তাহলে রাজ্জাক আলমগীরদের যুগ পার হয়ে গেছে অনেক আগে। কিন্তু আমরা যারা তরুণ, তারা তাঁদের কিছু কিছু ছবি দেখেছি। এবং ভালও বলেছি। তখন হয়তো ধুম ধাম অ্যাকশন ছিল না, কিন্তু সিনেমার গুলোর গল্প ছিল, দারুণ অভিনয় শৈলী ছিল। এরপরে এল সালমান শাহ। যাকে এক কথায় বাংলাদেশের সিনেমা জগতের সুপার স্টার বলে দেয়া যায়। যেমন ফ্যাশন সচেতন ছিলেন, তেমনি ছিলেন দারুণ অভিনেতা। সেই সালমান শাহ ক্যামেরার সামনে নিজেকে কতবার সুপারস্টার বলেছে, সেই হিসেব আমার আসলে জানা নেই। তবে ধারণা করতে পারি, একবারও বলেননি।

সেখানে আমাদের বর্তমান সময়ের সব থেকে আলোচিত নায়ক শাকিব খান? প্রতি দশটি বাক্যে নিয়ম করে, নয়বার নিজেকে সুপারস্টার বলে দাবী করেন। মনে আছে বছর তিনেক আগে যখন শাকিবকে নিয়ে অনেক বেশী সমালোচনা হচ্ছিলো, তখন সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেছিলেন। এবার থেকে তিনি আর অতিরিক্ত ছবি করবেন না। বেছে বেছে ভাল মানের কাজ গুলো করবেন। আর সেই সংখ্যাটা হবে, বছরে মাত্র দশটি ছবি।

হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছে, ‘মাত্র’ দশটি।

শাকিব যেবার প্রথম মেরিল প্রথম আলোর সেরা চলচ্চিত্র অভিনেতা পুরষ্কার পেল, তখন আমার বাবা হাসতে হাসতে বলেছিলেন, ঠোঁটে লিপস্টিক লাগানো ছেলেটাকে অভিনেত্রী ক্যাটাগরিতে পুরষ্কার দিলে কিন্তু খারাপ হতো না।

আচ্ছা এই যে শাকিব খান কথায় কথায় নিজেকে সুপারস্টার হিসেবে দাবী করেন, ঠোঁটে অযথাই লাল রঙ লাগান, অদ্ভুত সব নাচের স্টেপ তোলেন ক্যামেরার সামনে- এর পেছনে কী পুরো দায়টা শাকিবের একার? নাকি একজন শাকিব তৈরি করার পেছনে যারা যারা থাকেন, প্রত্যেকের দায় রয়েছে?

এটার উত্তর পেতে হলে শাকিবের যৌথ প্রযোজনার ছবি গুলো দেখতে হবে। শিকারি আর মুক্তির অপেক্ষায় থাকা নবাব। ঠোঁটে লাল রঙ মেখেই শাকিব অনেক ব্যবসায় সফল সিনেমা উপহার দিয়েছেন কিন্তু আমার কাছে মনে হয় শিকারি শাকিবের ক্যারিয়ার সেরা ছবি।

একদম চকলেট ক্লিন শেভ করা ছেলেটির শিকারিতে লুক দেখেছিলেন? একদম সত্যিকারের একজন সুপারস্টার লাগছিল ওকে। সত্যি করে একটা কথা বলেন তো, যে মানুষটাকে আমরা সোশ্যাল মিডিয়াতে এত বেশী ট্রল করি, রিকশাওয়ালার নায়ক বলি, সেই মানুষটার কি চেহারা আসলেই খারাপ?

 

একদম ড্যাশিং সুপারস্টার হওয়ার মত যোগ্যতা কি ওর নেই? আছে। যদি নাই থাকত, তাহলে শিকারিতে দুই বাংলা কাঁপানো জিৎ আর দেব এর চাইতেও এগ্রেসিভ লুকিং লাগত না।

আসলে কী বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সংস্কৃতিটাই তো এখন এমন হয়ে গেছে। মাত্র কয়েক হাজার মানুষ চিনলে সেই নিজেকে সুপার স্টার ভাবতে শুরু করে। শাকিব যদি বাংলাদেশের সেরা নায়ক না হয়, তাহয় কাকে আপনি সেরা হিসেবে বেছে নিবেন?

-আরেফিন শুভ?

হুম, শুভর ফিটনেস নায়ক হিসেবে পারফেক্ট। কিন্তু অভিনয় আর ন্যাকামো যে এক না সেটা শুভর বুঝতে বুঝতে আরও কিছুটা সময় লেগে যাবে। তবে হ্যাঁ, এটা সত্যি শুভই হতে চলেছে বাংলাদেশের শাকিবের পরে সত্যিকারের সুপারস্টার।

সে যাকগে, যেজন্য শাকিবের সুপারস্টার বন্দনা নিয়ে লিখতে বসলাম সেটা বলে শেষ করি। একজন পরিচালকের কাজ হচ্ছে, তার আর্টিস্টের ড্রেস আপ থেকে শুরু করে মেক আপ পর্যন্ত দেখভাল করা। আপনার নিশ্চয়ই জানেন, একজন অভিনেতা কেবল টাকার বিনিময়ে শিডিউল বিক্রি করেন। আর বাকিটা সাজানো গোছানো যা কিছু দরকার, সেটা পরিচালক করে থাকেন।

অর্থাৎ, আমাদের বাংলাদেশের একক প্রযোজনার ছবি গুলোতে এ যাবত কাল আমরা যে শাকিব কে দেখে এসেছি, সেই শাকিবের পেছনে শাকিব কিন্তু একা দায়ী নয়। এর পেছনে সিনেমা সংশ্লিষ্ট সবাই দায়ী। তবে হ্যাঁ, শাকিবের দোষ ধরতে গেলে বলতে হবে, ওর নিজেরও বোঝা উচিত, ওকে কোনটায় ভাল লাগবে।

আর আসলেই শাকিব খান সুপারস্টার কিনা, সেটা নিয়ে কথা বলার আগে দুটো ব্যাপার সবার আগে চলে আসে। বাংলাদেশের শাকিবকে যদি আপনি তুলনা করেন, তাহলে ওকে সুপারস্টার মেনে নিতে আপনার কিছু ইগোতে লাগারই কথা। কিন্তু দুই দেশের শাকিবকে যদি আপনি তুলনা করেন তাহলে কিন্তু ওকে আর সুপারস্টার মানতে আপনার খারাপ লাগবে না। কেননা সুপারস্টারদের লুক এমনই হয়। যেটা নবাব অথবা শিকারিতে ছিল।

আর নিজেকে নিজেই সুপারস্টার বলার ব্যাপারটা যদি মাথায় আনতে চান, তাহলে আরও একবার মনে করিয়ে দেই, সুপারস্টাররা কিছুটা পাগল কিসিমের হয়। সেটা অমিতাভ বচ্চন থেকে শুরু করে হলিউডের টম ক্রুজ, অথবা আমাদের দেশের টম ক্রুজ- বেফাঁস মন্তব্যের সুপারস্টার কিন্তু সবাই! আর সেখানে আমাদের শাকিব খানের দোষ তাহলে কোথায়?

মানুন অথবা নাই মানুন, শাকিব খান… সাকিব আল হাসানের মতই একজন সুপারস্টার।

ফোবিয়া সমাচার (পর্ব-২) (সেলিব্রিটি পর্ব)

Now Reading
ফোবিয়া সমাচার (পর্ব-২) (সেলিব্রিটি পর্ব)

এর আগের পর্বে আমরা বেশ কিছু ফোবিয়া নিয়ে আলোচনা করেছিলাম | যারা লেখাটা পড়েননি তারা কষ্ট করে নিচের লিংক থেকে পড়ে নিতে পারেন |

ফোবিয়া সমাচার (পর্ব-১)

আজকে আমরা আরো কিছু ফোবিয়া নিয়ে আলোচনা করব; স্পেসিফিকালি যদি বলি তাহলে, কেবলমাত্র বিভিন্ন ধরনের Zoophobia (Fear of Animal) নিয়ে আলোচনা করব | তবে, আজকে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে সাজাতে চাই | আজকে, ফোবিয়ার সাথে সাথে কিছু সেলিব্রিটি মানুষও আলোচনার মুখ্য বিষয় হয়ে থাকবে | আমরা এদের চিনলেও হয়ত জানিনা এসব মানুষ ও কোনো না কোনো ফোবিয়াতে আক্রান্ত !

যেহেতু, আগেই ফোবিয়া কি তা নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে কাজেই, ভুমিকা না করে বরং সরাসরি মূল আলোচনায় যাই | আরেকটা বিষয় যেহেতু সেলেব্রিটি নিয়ে আমাদের আজকের আলোচনা কাজেই, এখানে সেলিব্রিটিকে প্রায়োরিটি হিসেবে ব্যবহার করা হবে | যার ফলে আগের পর্বে উল্লেখ করা হয়েছে এরকম ফোবিয়ার নামও চলে আসতে পারে | আর, আগের মত ফোবিয়ার নামকে টাইটেল হিসেবে ব্যবহার না করে সেলিব্রিটির নামকেই বরং ব্যবহার করা হবে |

Kristen Stewart: Twilight নাম শুনেনি এমন মানুষ হয়ত পাওয়া যাবেনা | হয়ত অনেকেই মুভি না দেখে থাকতে পারে কিন্তু, নাম নিশ্চয় কোনো না কোনো ভাবে শুনেছে| আর মুভির মূল ক্যারেক্টার এর মধ্যে অন্যতম একজন হলেন এই ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট! দেখতে খুব সাধাসিধে মনে হলেও ইনি কিন্তু ফোবিয়াতে আক্রান্ত | এর নাম হলো Equinophobia বা Hippophobia বা Fear of Horses. অর্থাত, সহজ বাংলায় ঘোড়াকে ভয় ! তার যখন ৯ বছর বয়স ছিল তখন তিনি ঘোড়া থেকে পরে গিয়ে কনুই ভাঙ্গেন আর তারপর থেকেই তার এই ফোবিয়া শুরু হয় |

w9BeFCqRWCDl6Y9wFkQU_kristen-stewart.jpg

 

Orlando Bloom: যারা ট্রয় মুভিটা দেখেছে তারা নিসন্দেহে এই মানুষটার সাথে আগে থেকেই পরিচিত | যেখানে, তার চরিত্র ছিল Hector এর ছোট ভাই Paris হিসেবে | তার ফোবিয়াটা অদ্ভূত ! কারণ, প্রাণীটিকে এতদিন ধরে মানুষ ভয় না পেয়ে ঘেন্না করতেই শিখে এসেছে ! কিন্তু, তিনিই প্রথম (সম্ভবত!) প্রমান করলেন একে ভয়ও পাওয়া যেতে পারে | যাইহোক, নামটা বলেই দেয় এইটা হলো Swinophobia বা fear of pigs. মানে, তিনি শুকর ভয় পান ! আর এইটা ধরা পরে তার “Kingdom of Heaven” এর শুটিং এর কাজ চলার মুহুর্তে | তখন কিভাবে জানি একটা শুকর পালিয়ে তার সামনে আসে ব্যাস আর যায় কই !

MV5BMjE1MDkxMjQ3NV5BMl5BanBnXkFtZTcwMzQ3Mjc4MQ@@._V1_UY317_CR8,0,214,317_AL_.jpg

 

David Beckham: যারা ফুটবল খেলা দেখে অভ্যস্থ তারা নিসন্দেহে এই মানুষটাকে চিনে | তিনি ন্যাশনাল টীমে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলত | তবে, যারা ফুটবল না দেখে অভ্যস্থ তারাও এই মানুষটার সেই বিখ্যাত হেয়ার স্টাইল এর কারণে অন্ততপক্ষে চেনার কথা ! যাইহোক, আজকে হয়ত আরেকটা নতুন কারণে, তাকে জানতে পারব সেইটা হলো তিনিও ফোবিয়াতে আক্রান্ত; একটা নয় দু দুটো ! প্রথমটা হলো Ornithophobia বা Fear of birds.  বোঝায় যাচ্ছে এর ফলে পাখি ভয় পায় | আর দ্বিতিয়টা যদিও এই Zoophobia র মধ্যে পরেনা তাহলো Ataxophobia বা Fear of Untidiness. এই ফোবিয়া হলে মানুষ অগোছালো কিছু খুব ভয় পায় | কথিত, আছে এই কারণে, তার ক্লোসেট এমনকি ফ্রিজও নিয়ম করে সাজানো থাকে !

david-beckham-4.jpg

 

Eminem: যারা গান-বাজনা শুনে তারা এই মানুষটার সাথে পরিচিত থাকবে | বিশেষ করে যারা Hip hop/rap টাইপ এর গান শুনে অভ্যস্থ | এই জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পীর ও কিন্তু, ফোবিয়া রয়েছে যা হলো Fear of owls এইটা মূলত, Ornithophobia র একটা শাখা | অর্থাত, তিনি সকল পাখিকে ভয় না পেয়ে কেবলমাত্র স্পেসিফিক একটা পাখিকে ভয় পান আর তাহলো পেচা !

Eminem-eminem-228036_299_401.jpg

 

Walt Disney: যারা “Mickey mouse” কার্টুন এর সাথে পরিচিত তারা মোটামুটি একে চিনে থাকতে পারে | কারণ, ইনিই এই মিকি মাউস ক্যারেক্টার এর স্রষ্ঠা | কিন্তু, যেই বিষয়টা এখানে মজার তাহলো তিনি যদিও এই মাউস ক্যারেক্টার এর স্রষ্ঠা কিন্তু, তা সত্বেও তার কিন্তু এই মাউস এর উপরেই ফোবিয়া রয়েছে | যাকে বলা হয় Musophobia.

Walt_Disney_1946.JPG

 

Brad pitt: এই মানুষটাকে আমরা খুব ভালো অভিনেতা ছাড়াও একজন সুদর্শন পুরুষ হিসেবেও চিনে থাকি | বিভিন্ন মুভিতে তাকে হয়ত বিভিন্ন সাহসী ভূমিকায় থাকতে দেখা যায় | যেমন- ট্রয় মুভিতে তিনি প্রধান ক্যারেক্টার “Achilles” এর ভূমিকায় ছিলেন | বিভিন্ন সাহসী পদক্ষেপ নিতে দেখেছি, যুদ্ধ করতে দেখেছি; যেইটা দেখেনি তাহলো ভয় পেতে ! কিন্তু, সত্যি হলো তিনিও ভয় পান তারও ফোবিয়া আছে ! আর এইটা হলো Selachophobia বা Fear of Sharks. মানে, তিনি হাঙ্গর ভয় পান | অবস্য এতে এই বীরপুরুষের সম্মানহানির কোনো ভয় আশা করি নেই | কারণ, হাজার হোক, হাঙ্গর বলে কথা !

MV5BMjA1MjE2MTQ2MV5BMl5BanBnXkFtZTcwMjE5MDY0Nw@@._V1_UX214_CR0,0,214,317_AL_.jpg

 

Matt Damon: এই মানুষটাকেও আমরা বাঙালিরা খুব ভালো ভাবে চিনি | কারণ, আমরা সবাই “Bourne series” গুলো দেখে অভ্যস্থ | যেখানে, একজন মানুষ তার আইডেনটিটি নিয়ে সমস্যায় পরে এছাড়াও, তাকে বিভিন্ন সাহসী ভুমিকা নিতে দেখা যায় | সে যাইহোক, এই মানুষটারও ফোবিয়া রয়েছে নাম হলো Ophidiophobia বা fear of snakes. অর্থাত, তিনি সাপ ভয় পান | (এই ফোবিয়ায় আক্রান্ত মানুষেরা এতটাই সেনসিটিভ থাকে যে সাপের ছবি দেখলে রীতিমত উত্তেজিত হয়ে পরে !) সাপকে আমরা সবাই ভয় পাই কাজেই, তাকে নিয়ে ঠাট্টা মশকরা না করে বরং মাথা নেড়ে তার এই ভয়কে আমরা স্বীকার করে নেই !

6115-matt-damon.jpg

 

Adolf Hitler: আজকের পর্বের শেষ ব্যক্তিটি আর কেউ না তিনি হলেন জার্মানির হিটলার ! ইতিহাসের সবচেয়ে কুখ্যাত এবং নৃসংশ মানুষ হিসেবেই আমরা তাকে জানি | দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে লক্ষ্ লক্ষ্ মানুষ মারার পিছে যার বিশাল অবদান ছিল ! কিন্তু, শত্রুপক্ষরা যদি জানতেন এই ভয়ংকর মানুষটাকে বাগে আনার জন্য একটা বিড়ালই যথেষ্ট তাহলে হয়তবা এত কাঠখর পুরাতন ! মানে, তিনি যে Ailurophobia বা বিড়াল ভীতিতে আক্রান্ত !

23-Adolf-Hilter-Fear-of-Cats.jpg

 

যাইহোক, আজকে এই পর্যন্তই | আশা করি সবার ভালো লেগেছে | সবাইকে ধন্যবাদ |

Sources:

  1. http://www.fearof.net/fear-of-birds-phobia-ornithophobia/
  2. http://common-phobias.com/ataxo/phobia.htm
  3. http://www.onlinepsychologydegree.info/25-celebrities-with-animal-phobias/

দোষ কি শুধুই তাহসানদের?

Now Reading
দোষ কি শুধুই তাহসানদের?

গতকাল ফুটপ্রিন্টে একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয়েছিল “নাটকে ন্যাকামোপনা কবে শেষ হবে”– এই শিরোনামে যেখানে ফুটপ্রিন্টের একজন রেগুলার লেখক এবং সম্ভবত সবেচেয়ে জনপ্রিয় লেখক (এই সপ্তাহে) ফেরদৌস সাহেব বাংলাদেশের অভিনয় শিল্পীদের নিয়ে লিখেছেন। অত্যন্ত ভাল এবং বিশ্লেষন ধর্মী সেই পোস্টে তিনি তাহসান সহ আরো কজন অভিনেতার কিছু প্রফেশনাল দুর্বলতা সামনে তুলে এনেছেন। ফেরদৌস সাহেবের সেই পোস্টের প্রেক্ষিতে অর্থাৎ একটি ডিস্কাসন জবাব হিসবেই আমার এই লেখাটা দিচ্ছি।

অনেক সময় নিয়ে পুরো পোস্টটি পড়ার পর আমি সব পয়েন্টই ধরতে পেরেছি লেখক যা বোঝাতে চেয়েছেন। খুব ভাল একটা কম্প্যারিজনও দেখিয়েছেন পুরোনো দিনের নাটকের সাথে আজকের নাটকের। এবং আমি উক্ত লেখকের সাথে একমত, বাংলাদেশের টিভি-নাটকের এখন যাচ্ছেতাই অবস্থা। তবে, কিছু পয়েন্ট নিয়ে আমি কথা বলতে চাই আমি নিজে একজন ছোটখাটো ফিল্ম মেকার হিসেবে, অন্তত সেই লাইনেই আমার পড়ালেখা বা কার্যকলাপ।

উনার পোস্টটি মূলত বাংলাদেশের বিখ্যাত গায়ক এবং এখন অভিনেতা তাহসানকে নিয়ে। যেখানে তাহসানের “একঘেয়ে” অভিনয়ের কথা বলেছেন বার বার। গায়ক হতে, অভিনেতা হতে মেধার দরকার আছে এটা আমি মানি। কিন্তু, ফেরদৌস সাহেব, একটা ব্যাপার খেয়াল করলে দেখতে পারবেন, পৃথিবীর বিখ্যাত সব অভিনেতাদের কিন্তু অভিনয়ে হাতেখড়ি ক্যাজুয়াল অভিনয় থেকেই। অনেকেই আজ বিশ্ব সেরা অভিনয় শিল্পী কোন ধরনের অভিনয়-ডিগ্রী ছাড়াই। অনেকেই আবার উঠে এসেছেন একেবারে ক্ষুদ্র লেভেল থেকে আর আজ অস্কার মাতাচ্ছেন। শিল্প জিনিষটা আসলে কোন ডিগ্রীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বিশেষ করে অভিনয় শিল্প। ব্যাপারটা অভিজ্ঞতার উপরেই অনেক বেশী নির্ভরশীল। অভিনয় করতে হলে মঞ্চে গিয়ে শিখতে হবে আগে এরকম কোন কথা নেই।

ফেরদৌস সাহেব আরো একটি বিশাল পয়েন্ট মিস করে গেছেন। সেটি হলো, একজন অভিনয় শিল্পীর প্রকৃত অভিনয় ফুটিয়ে তোলার মূল কাজটা থাকে একজন ডিরেক্টর। এটা আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। ডিরেকশনের উপরে অনেক কিছু নির্ভর করে। তাহসানরা যে ধরনের অভিনয় করে থাকেন, বা যে ধরনের নাটক করে থাকেন, এই নাটকগুলো তো উনাদের লেখা না। উনারা তো ডিরেকশনে যান না। উনারা যেরকম অভিনয় করার সেরকমই করেন। যদি ডিরেক্টর বলে “TAKE OK” তাহলে OK। তাহলে এখানে শিল্পীদের কি দোষ? যদি কোন পরিচালক তাদের কাজকে বা সেই সিন-কে “ওকে” শট বলে দেন, তার মানে তাহসানদের কাজ ফুরিয়ে গেছে কারন ডিরেক্টর যেমন চেয়েছে তেমন পেয়েছে। আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা এটা, কারন এ পর্যন্ত প্রচুক শর্টফিল্ম বানিয়েছি দেশে-বিদেশে। আমি যা চাই একজন পরিচালক হিসেবে সেটাই কিন্তু ফাইনাল। এখন আমার সেটের কোন একজন অভিনেতা যদি বলেন যে “ভাই, ভাল লাগলনা, টেক টা আবার নেন” তাহলে আমি হয়তো আবার নেব অথবা নিব না, এটা সম্পূর্ন আমার বা যেকোন ডিরেক্টরের ব্যাক্তিগত ব্যাপার। এখন তাহসানদের “ন্যাকামো” মূলক অভিনয়ে যদি তাদের পরিচালক সন্তুষ্ট থাকে তাহলে বেচারা অভিনেতাদের দোষ কি? ডিএসএলআর ক্যামেরাধারী শত শত নাট্য-নির্মাতা বাংলাদেশের অলিতেগলিতে ঘুরে বেড়ায় যারা বছর খানেক আগে ক্যামেরা কি বা লেন্স কি সেটাই জানতো না। এখন এরাই যদি নাটক বানায়, তাহলে অভিনেতাদের কাছ থেকে আপনি কি আশা করতে পারেন? একজন ডিরেক্টরের কাজ হলো অভিনেতা সহ তার পুরো শুটিন্ত ইউনিট থেকে সেরাটা বের করে আনা কিন্তু বাংলাদেশে সেটা হচ্ছে কোথায়?

এখন আপনি যুক্তি দিতে পারেন, তাহলে তাহসানরা এদের নাটক করে কেন? কেন করবে না? আর কোন অপশন না থাকলে তারা কি হাত গুটিয়ে বসে থাকবে? খারাপের মধ্যে যেটা সবচেয়ে কম খারাপ সেখানে কাজ করবে। এর চাইতে তারা আর বেশী কিইবা করতে পারে? অনেক বছর আগে বাংলাদেশে ভাল নির্মাতারা ছিলেন যেমন হুমায়ুন আহমেদ, হানিফ সংকেত বা আরো অনেকেই। এখন তারা নেই বা থাকলেও নাটকে নেই। কেন নেই জানেন? কারন মার্কেটটা ছোট। এখানে নাটকের বাজেট ২ লাখ টাকা মানে অনেক কিছু। সেই ২ লাখ টাকা বাজেটের নাটকে আপনি কি আশা করবেন?

বাংলাদেশের অভিনেতারা অনেক কম অর্থ উপার্জন করেন। অনেক কম। যেকোন দেশের চাইতে অনেক গুন কম। নাটকের বাজেটই যদি হয় ২ লক্ষ টাকা, তাহলে কত টাকা আর্টিস্টকে দিবেন আর কত টাকা মেকিং এ দিবেন? এত কম টাকায় বাংলাদেশের একজন অভিনয় শিল্পীর সারা মাসে অনেকগুলো নাটকে অভিনয় করতে হয়। তা না হলে অনেকেরই পোষাবেনা।এখন একটা নাটক বানান, ভাল একটা বাজেট দেন – নূন্যতম ১০-১৫ লক্ষ টাকা, তাহসানের মত শিল্পীদের ভালভাবে পেমেন্ট করেন এবং সাথে এটাও বলে দেন যে আপনাকে সময় বেশী দিতে হবে কারন আপনি সেরাটাই চান – দেখেন কি হয়। তাহলে উনাদের মাসে ১৪টা নাটকে অভিনয় করে এক্সসটেড হতে হবে না। মাসে ২/১ বার অভিনয় করলেই হবে এবং পুরো ক্রিয়েটিভিটি আপনারা দেখতে পারবেন তখন। এর আগে যদি বাংলাদেশের অভিনয় শিল্পীদের যদি এভাবে মূল্যায়ন করা হয় তাহলে সেটা অন্যায় হবে।

এখন আপনি চাইলে উলটো আমাকে প্রশ্ন করে বসতে পারেন, যে নাহিদ, আপনি কেন তাহলে বানান না এত বড় বড় কথা যখন বলছেন। আমার উত্তর হলো, আমার মেইনস্ট্রিম নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই। কোন কালে ছিল না। এখানে কিছু দূষন আছে যেগুল আমার পছন্দ না। তাই আমি একটু দূর দিয়ে যায়। এটা আমার প্রথম লজিক। আর ২য়, হ্যা, আমি তৈরী করব যদি আমি আমার নাটক বা সিনেমায় আমার অভিনেতাদের পুরোপুরি মুল্যায়ন করতে পারি। আপনি আমাকে ২-৩ লাখ টাকা বাজেট দিয়ে “টাইটানিক” বানাতে বললে হবে না। কারন আমি যদি বানাই, তাহলে আমি নিশ্চিত করব আমার শিল্পীদের কাছ থেকে যেন সেরাটা বের করে আনতে পারি এবং আমার সেই শুটিং পর্ব উত্তরার মামার বাড়িতে ২ দিনের টানা শুটে শেষ হবে না। আমার সময় লাগবে বানাতে ভাল কিছু। আর সেসময়টাতে আমি আমার শিল্পীদেরও টিমে চাইব। এখন ২ লাখ টাকা একটা নাটকের বাজেটে তাহসানদের মত অভিনেতাদের আমি কিভাবে বলি আমাকে ১ সপ্তাহ সময় দিতে? এটা তো ঘোরতর অব মূল্যায়ন। যদি কোন প্রডিওসার বা টিভি চ্যানেল এসে আমাকে বলে, নাহিদ, এই নেন, আপনার এই নাটকের জন্য আপনাকে ২০ লক্ষ টাকা বাজেট দেয়া হলো তখন দেখেন সেই নাটক কি হয় আর সেই অভিনেতার পারফরম্যান্স কি হয়? কিন্তু এরকম কেউ নেই। সবাই কমের উপর দিয়ে যাবে। ক্রিয়েটিভিটির মূল্য আসলে যাদের কাছে থাকার কথা, তাদের কাছে কম টাকায় বেশী প্রোডাকশনের মূল্য বেশী। তাই মেইনস্ট্রিম থেকে আমি হাজার মাইল দূরে। এর চাইতে ইউটিউব ভিডিও তৈরি করে আরও বেশীও উপার্জন করা যায়।

আমার এত কথার সরামর্ম হলো, এখানে শিল্পীদের এক তরফা দোষ দিয়ে কোন লাভ নেই। যারা ডিরেকশনে আছে, যারা গল্প লিখছে তাদের আগে ফিল্টার করতে হবে বা ধরতে হবে। তাদের বানানোর যোগ্যতা পরিমাপ করতে হবে। ডিএসএলআর ক্যামেরা আর একটা প্রাইম লেন্স লাগিয়ে একটু ন্যারো ডেপথ অব ফিল্ডে (সোজা বাংলায় ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার) টাইপের মেকার হয়ে লাভ নেই। মেকারদের সিনেমাটোগ্রাফি বুঝতে হবে, এম্বিয়েন্ট বুঝতে হবে, অভিনয়ের ভাষাটা বুঝতে হবে, গল্পের ওজন বুঝতে হবে। একজন অভিনয় শিল্পী তো আর নাটকটি লিখেন না বা তাহসান তো ডিরেক্টরকে গিয়ে স্ক্রিপ্ট দিয়ে আসেন না। উনি উনার অভিনয়টা করে যান যেরকম ডিরেক্টর বলবে। যদি ডিরেক্টর বলে “ওকে” তাহলে “ওকে”। সেই নাটক খারাপ লাগলে, একঘেয়েমি লাগলে ডিরেক্টরকে গিয়ে ধরেন। আর আজকাল ঘরে ঘরে ডিরেক্টর আছে। যার কাছে ক্যামেরা আছে, সেই এখন ডিরেক্টর, ফিল্ম মেকার। কতজনকে ধরবেন বলেন। তাহসানের ভাল নাটকও আছে কিন্ত। সেদিন এক ছোট ভাই ইনবক্সে লিঙ্ক করেছিল “দূরবীন” নামের একটি নাটক, ইউটিউবে আছে, বেশ ভাল ছিল। পরে বুঝলাম প্রডিওসার বিদেশী তাই। কাজ ভাল ছিল কারন কাজ করার স্কোপ ভাল ছিল।

যাই হোক, আমার এই লেখাটা একটা ডিসকাসন মাত্র। আমি কিছু পয়েন্ট নিয়ে কথা বলতে চেয়েছিলাম এবং বলেছি। ফেরদৌস সাহেবের লেখাটা যথেষ্ট ইনফরমেটিভ ছিল এবং উনার পয়েন্টগুলো বেশ ভাল ছিল। কিন্তু, কিছু পয়েন্ট ফেরদৌস সাহেব মিস করে গেছেন যেগুলো আমি তুলে ধরলাম। আশা করি একটা বড় ছবি ফুটে উঠবে এর মাঝে। মিডিয়াকে ঠিক করতে হলে মিডিয়া যারা চালায় তাদের ঠিক করতে হবে অথবা অল্টারনেটিভ মিডিয়া খুজতে হবে। এটাই হলো মোদ্দা কথা।

 

সাবধানতার মোড়কে যৌনতার ডামাঢোল

Now Reading
সাবধানতার মোড়কে যৌনতার ডামাঢোল

মানব সভ্যতার বিবর্তনের যে বাহ্যিকতা তার অনেকটাই মানুষের নানান কর্মকান্ডের মাধ্যমে নিয়ত পরিবর্তিত হয়ে আজকের অবস্থানে এসেছে।আমরা যদি লক্ষ্য করি বাংলাদেশ স্বাধীন ভূ-খন্ড হওয়ার পর থেকে সার্বিক অর্থে বাংলাদেশের যে সভ্যতার বিকাশ,মানবীয় আচরণ ও গুণাবলির বিকাশ পাশাপাশি সৃজনশীলতার পরিচায় বহনকারী কার্যাবলীর যে নমুনা তার অনেকটাই আধুনিকতার মোড়কে। এই সময়ে সবচেয়ে বেশি অগ্রসর হয়েছে বাংলাদেশের মিডিয়া।

স্বাধীনতা পরবর্তী যাবতীয় কর্মকান্ডের কৃতিত্ব বাঙালি জাতি হিসেবে আমরা দাবি করতে পারি।আমাদের স্বভাবজাত একটা অভ্যাস যেটা কিনা অনেকাংশে বদভ্যাস বলা যায়।আমরা নতুনকে আহবান করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ভিনদেশী সংস্কৃতিকে কাছে টেনে নিচ্ছি। এটা আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে গেছে তাই চাইলেও আমরা এই চক্রাকার গন্ডি থেকে বের হতে পারি না।

বিদেশী সংস্কৃতি বা মূল্যবোধকে আঁকড়ে ধরতে গিয়ে আমরা প্রতিনিয়ত একটা আগ্রাসনের শিকার হতে যাচ্ছি।এই যে আগ্রাসন তা ক্রমশ আমাদেরকে অক্টোপাসের মত ঘিরে ধরছে যা জাতির স্বকীয়তাকে ভঙ্গুর করে দিবে।সম্প্রতি যে আগ্রাসন আমাদের সংস্কৃতির উপর বিরুপ প্রভাব রাখছে তা বর্তমান প্রজন্মকে বিপদগামী যেমন করছে তেমনি ভবিষ্যত প্রজন্মকে দিগভ্রান্ত করে তুলবে।তাই এই বিষয়ে আমাদের সোচ্চার হওয়া জরুরী কেননা হেলায় গা ভাসিয়ে আমরা কোন একটা সংকটময় পরিস্থিতির নীরব দর্শক হতে পারি না।

আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে আমরা বিনোদনের জন্য জাদুর বাক্সরুপী টেলিভিশনের উপর আকর্ষিত হয়ে যাচ্ছি।টেলিভিশনের প্রাণ মূলত বর্তমান সময়ের স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো ।এই স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে আপনার কাছে বাহারি অনুষ্ঠানের পসরা সাজিয়ে বসে আছে।আপনার আমার কৌতুহলী মন তা কোনভাবেই অবহেলা করতে পারবে না।এটাই স্বাভাবিক কেননা নিয়ত নতুন কিছু আমার জানার আগ্রহ যেমন বৃদ্ধি করে তেমনি নিজেকে আত্মতৃপ্তিতে ভোগায়।

আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির উপর যে বিরুপ প্রভাব পড়ছে স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোর জন্য তা কোনক্রমে অস্বীকার করার উপায় নেই।এটাকে আপনি প্রকরান্তরে সামাজিক আগ্রাসন বলতে পারবেন।

বর্তমানে মানুষের মধ্যে প্রতিনিয়ত নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার একটা সুপ্ত বাসনা তা যখন প্রকট আকার ধারণ করে, তখন নিজের অবস্থান সমন্নুত রাখতে নিজেকে জয়ী হিসেবে দেখতে যেকোন কিছু করতে রাজি হয়।এই যে নিজের সাথে প্রতিযোগিতা ও এক ধরনের স্বার্থান্বেষী মনোভাব তার শুরুটা হয় পরিবার,বাবা,মা,ভাই-বোন প্রতিবেশী ও বন্ধু স্বজন এদের যে কাউকে কেন্দ্র করে। এই ধরনের সমস্যা যখন ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তখন সমাজে একটা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। সমাজের প্রতিটা স্তরে এসব কার্যাবলির কারণে প্রভাবিত হয়। তখন সমাজে বসবাসকারী মানুষ আবার নতুন কোন উৎস বা পথের সন্ধান করে। এই ধরনের পরিবর্তন হওয়া স্বাভাবিক সমাজ বিশ্লেষকদের মতে সমাজে এই যে নেতিবাচক কর্মকান্ড তাতে সম্পৃক্ততা যাদের তারা সংখ্যায় কম কিন্তু এসবের বিরুদ্ধে কোন সুচিন্তিত পদক্ষেপ না থাকাতে এক সময এগুলো মহীরুহে পরিণত হয়।

মানুষের যে অভিযোজন ক্ষমতা তার কল্যাণে প্রকৃতির নানান পরিবর্তনের সাথে তার খাপ খাইয়ে নেয়ার একটা মানসিক ক্ষমতা অন্তনির্হিত শক্তি বিদ্যমান রয়েছে।এই গুণাবলির কারণে সমাজের ভারসাম্য এখনো অটুট রয়েছে।

সমাজ সংস্কারক বা নীতিনির্ধারকরা এই সকল সসম্যা সমাধানকল্পে গঠনমূলক পদক্ষেপ নেয়। এই কর্তৃপক্ষের বাইরে গিয়ে সমাজে বসবাসরত মানুষের জন্য কিছু একটা করার দায়বদ্ধতা রয়ে যায় মিডিয়ার,কেননা এই মিডিয়া কেবল বর্তমানে সবার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হতে পারে।এই প্রসঙ্গে সমাজের কল্যাণের জন্য কিছু করাটা তাদের নৈতিক দায়বদ্ধতার মধ্যে পড়ে।

আমরা দেখি জাতীয় ও আন্তজার্তিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলো নিজ পরিসর থেকে তাদের সক্ষমতার আলোকে অনেক কিছু করছে।এই যে সচেতনতামূলক কর্মকান্ড এটাকে হাতিয়ার বানিয়ে বর্তমান সময়ে স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো এক ধরনের আগ্রাসন চালাচ্ছে।সমাজের প্রতিটা মানুষের নৈতিক দায়বদ্ধতা রয়েছে সমাজের প্রতি কিন্তু অসাধু কিছু ব্যবসায়ী এই কাজকে মোক্ষম হাতিয়ার বানিয়ে চ্যানেলের টিআরপি বাড়িয়ে নিচ্ছে।এই একই কাজের কারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো যে শো বা অনুষ্ঠানমালা প্রচার করে তাতে স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সম্পর্কের মুল্যকে ঠুনকো করে দেখানো হয়।তখন পর্দার এপাশে বসে দর্শক এরুপ কিছু ভেবে বসে হয়তো ভাবে এটাই হওয়াটা অনুচিত নয়। সমাজের মানুষকে সাবধান করার আরো বহুবিধ উপায় আছে বা ছিল কিন্তু চ্যানেলগুলো বেছে নিয়েছে এক ধরনের কৌশল যা কিনা সমাজের জন্য আত্মঘাতী বলা যায়।

বিদেশী বা দেশীয় চ্যানেলগুলোতে যে ক্রাইম বা অপরাধ বিষয়ে সচেতনতামূলক শো চালায় তার নেপথ্যে কি ? এই বিষয়টা দর্শকের কাছে এখনো পরিস্কার না। কেননা এই অনুষ্ঠান আপনি যদিও সচেতনতার স্বার্থে বানাচ্ছেন কিন্তু এমনও পরিস্থিতি আছে যেখানে আপনি পরিবার পরিজন নিয়ে তা উপভোগ করতে পারছেন না।

এখানে প্রতিটা শো বা পর্বের স্টোরি বা গল্প বলার ধরনটা এমন মুখরোচক করবে যাতে আপনাকে পর্দার সামনে আটকে রাখবে। এই বিষয়টা মূলত কোম্পানির প্রোগ্রাম পলিসির আওতায় পড়ে।

এখানে প্রেম, ভালবাসা, পারিবারিক দ্বন্ধ ,ব্যবসায়িক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দ্বন্ধ, স্বার্থপরতা, হিংসা বিদ্বেষ সবকিছুর পরিণতিটা আলটিমেট নির্ধারিত করা থাকে।প্রতিটি ঘটনার নাটকীয়তায় এখানে খুনের ঘটনা বা যৌনতার ঘটনাকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হাইলাইট করে আসছে। তাছাড়া এখানে কলাকৌশলীদের যেভাবে উপস্থাপন করা হয় তাতে করে মূল যে উদ্দেশ্য ঐ অপরাধ বিষয়ে আপনি আমি সচরাচর সতর্ক হব তা বেমালুম ভুলে যায়।

ইদানীং আমরা পত্রিকায় পাতায় দেখি কোন ঘটনার ব্যাখায় সাংবাদিক বা প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য তাকে এই ঘটনা ফিল্মি কায়দায় হয়েছে।এইসব ঘটনা যারা ঘটাচ্ছে তারা নিশ্চয়ই কোন মাধ্যমকে অনুসরণ করে তা করতে গিয়ে এক ধাপ বেশি সতর্ক হয়ে যায়।

এক প্রবীণের ভাষ্য আমাদের সময় এতো প্রেম ভালবাসা ছিল না এখন কেন এসব হচ্ছে।এটা স্বাভাবিক প্রশ্ন কেননা আপনার সামনে যদি ইনিয়ে বিনিয়ে কোন ঘটনাকে উপস্থাপন করা হয় তবে কৌতুহলবশত আমরা চ্যালেঞ্জিং কোন কিছুকে গ্রহণ করব।

দেশীয় বা বিদেশী চ্যানেলগুলোতে অপরাধ বিষয়ে সচেতন করতে যে অনুষ্ঠান বা শো দর্শকের সামনে হাজির হয় তাতে খোদ সিনিয়র সিটিজেনদের আপত্তি বা ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

আপনি যদি সামাজিক দায়বদ্ধতার কারনে কিছু করতে চান তবে অন্যভাবে করেন।আপনি প্রতিদিন একজন ভিক্ষুককে ভিক্ষা দিয়ে তার সমস্যা নিরসন করতে পারবেন না ভালো হয় যদি তার একটা পুনবার্সন করেন।

এই একই উপায় অবলম্বন করে আমরা সামাজিক সমস্যা সমাধানের জন্য গ্রাম বা মহল্লা পর্যায়ে জনসচেতনতামূলক পদক্ষেপ নিতে পারি।একদম প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ হতে শুরু করে প্রায় সবাইকে সামাজিক আন্দোলনে শরিক করে আমরা দৃশ্যমান সকল অসঙ্গতির একটা সুন্দর বিহিত করতে পারি।

স্থানীয় নীতিনির্ধারক বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের তদারিকর মাধ্যমে কেবল এই সকল সমস্যার আশু প্রতিকার সম্ভব হবে। আমরা প্রান্তিক পর্যায়ে সামাজিক সচতেনতা বাড়ানোর জন্য মনিটরিং সেল বা কমিউনিটি ক্লাব গঠন করতে পারি যা কিনা এইসকল সমস্যার সমাধান বা নিরসনকল্পে কাজ করবে কেবল সামাজিক দায়বদ্ধতা হতে।

পুলিশ বনাম ছাত্র

Now Reading
পুলিশ বনাম ছাত্র

নাশকতাকারীদের নিয়ে কিছু কথা:

আজকে আমি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঢাকার অন্যতম স্বনামধন্য কলেজ সরকারি বিজ্ঞান কলেজের ছাত্রদের ফার্মগেটে বাসা ভাঙা নিয়ে যে আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়ে কথা বলবো।   গত ১৪/০৫/২০১৭ ইং তারিখে সরকারি  বিজ্ঞান কলেজের কয়েকজন ছাত্র পরিক্ষা শেষ করে ফার্মগেট থেকে গুলিস্তানের উদ্দেশ্যে শিকড় পরিবহণের বাসে উঠে। বাস শাহবাগের কাছাকাছি আসার পর বাসে কন্ট্রাক্টর ছাত্রদের কাছ থেকে ভাড়া খুজলে ছাত্ররা তাকে হাফ ভাড়া দেয়ার পর সে ছাত্রদের গালি দেয় তখন ছাত্ররা তার প্রতিবাদ করলে শাহবাগে শিকড় বাসের অন্যান্য ড্রাইভার, হেল্পার এবং কন্ট্রাক্টরেরা মিলে ছাত্রদের প্রচন্ড মারধর করে।  একজনের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিলো ওই বাসের লোকেরা।  ছাত্ররা সেখান থেকে মার খেয়ে এসেছে কারো সাহায্য ছাড়া।  পরেরদিন পরিক্ষা দেয়ার পর সরকারি বিজ্ঞান কলজের সকল শিক্ষার্থী এই অন্যায় এর প্রতিবাদের ফার্মগেট অবস্থান করে এবং ৩ টি শিকড় বাস কে থামতে বলে কিন্তু বাসের ড্রাইভার বাস না থামানোর ফলে ছাত্ররা বাসে আঘাত করতে বাধ্য হয়। ছাত্ররা তাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি পরিচালনার এক পর্যায়ে পুলিশ বাধা দেয়।  পুলিশ তাদের ছেলের বয়সী ছাত্রদের যুক্তিপূর্ণ আন্দোলনে লাঠিচার্জ করে,  মারধর করে এবং বাবা মাকে নিয়ে গালাগালি করে নিজেদের ছোটলোকির পরিচয় দিয়েছে।  ওইদিন তারা বিজ্ঞান কলেজের ২জন শিক্ষার্থী কে গ্রেফতার করে পরে ছাত্রদের তীব্র চাপের মুখে পুলিশ ওই ২জন ছাত্রকে ছেড়ে দেয়।  কিন্তু ঘটনা এখানেই শেষ হয় নাই ১৫ তারিখ রাতেই দেশের অনলাইন নিউজ পোর্টাল গুলো ইনিয়েবিনিয়ে পুলিশ ও পরিবহণ শ্রমিকদের পক্ষ নিয়ে নিউজ পাবলিশ করতে থাকে। দেশের জনপ্রিয় নিউজপেপার তাদের প্রতিবেদনের ছাত্রদের নাশকতাকারী বলে উল্লেখ করেছে । নিজেদের উপর জুলুমের প্রতিবাদ করা যদি নাশকতা হয় তাহলে ৫২ এর ভাষা আন্দোলনের নায়কেরাও নাশকতাকারী ছিলো। দেশের প্রায় প্রতিটি নিউজ পোর্টালেই বিজ্ঞান কলেজের ছাত্রদের গুন্ডা বলে আখ্যায়িত করা হয়।  পরেরদিন সকালে ছাত্ররা কলেজে গিয়ে তাদের উপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদ  স্বরূপ ফার্মগেটে অবস্থান করে তখন তারা একটি লাব্বাইক বাস আটকে রাখে হাফ পাশ না রাখার কারণে কিন্তু সাথে সাথেই পুলিশ এসে ঘটনা না শুনের ছাত্রদের গালাগালি করতে থাকে এবং ২ জন কে এরেস্ট করে।  তখন ছাত্ররা তাদের অধিকার এর কথা পুলিশের কাছে উপস্থাপন করে কিন্তু তারা কোনো কিছু না শুনেই এলোপাথাড়ি লাঠিচার্জ শুরু করে এতে বেশ কয়েকজন ছাত্র আহত হয়।  এরপর ধফায় ধফায় ছাত্ররা পুলিশের সাথে কথা বলে তাদের দাবী তুলে ধরার ট্রাই করেছে কিন্তু পুলিশ প্রতিবার ছাত্রদের রাইফেল দিয়ে মেরে, ফাকা গুলি ছুড়ে এবং লাঠিচার্জ করে সরিয়ে দিয়েছে।  পরবর্তীতে পুলিশের  তেজগাঁও  জোনের উপ-কমিশনার বিজ্ঞান কলেজে এসে ক্ষমা চেয়ে ছাত্রদের অধিকার আদায়ের ব্যাপারে সাহায্যের আশ্বাস দিয়ে গেছেন কিন্তু আফসোস আমরা এখনো হাফ ভাড়া দিতে পারি না।  এখনো আমরা বাসে উঠতে গেলে গেট অফ করে দেয়া হয়।  এখানে কিছু কিছু বাসের নাম উল্লেখযোগ্য : লাব্বাইক, ওয়েলকাম, শিকড়,এয়ারপোর্ট বংগবন্ধু এভিনিউ ইত্যাদি।

এখন আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন:

সরকার কর্তৃক প্রণীত ছাত্রদের জন্য হাফ পাশ আইন বাস্তবায়নের জন্য কেনো আজ এই মেধাবী ছাত্রদের রক্ত জড়াতে হচ্ছে…??

কেনো আজ তাদেরকে রাস্তায় বাসের হেল্পারদের থেকে মার খেতে হচ্ছে…?

কেনো আজ পুলিশ দেশের ভবিষ্যৎ কে এভাবে রাস্তায় ফেলে পিটাচ্ছে…?

আমরা ছাত্ররা যখন দেশের বিপদে এগিয়ে আসি তখন আমরা হিরো কিন্তু যখন নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথ আগলে থাকি তখন আমরা গুন্ডা, মাস্তান। যারা এইসব ভালোমানুষির মুখোশ পরে কথা গুলো বলছেন তারা একবার ভেবে দেখবেন আমাদের রক্ত আর পরিশ্রমের বিনিময়েই আপনার সন্তান বাসে হাফ পাশ দিতে পারছে।

অবশেষে আমি এতটুকুই বলবো যে, দেশের ক্রান্তিলগ্নে এই গুন্ডাগুলোই এগিয়ে আসে।

ভালো থাকুক ভদ্রতার মুখোশ পরা মানুষগুলো।

13 Reasons Why Review.

Now Reading
13 Reasons Why Review.

কথায় আছে বিন্দু বিন্দু জল মিলে একটি সাগর গড়ে তুলতে পারে।

তেমনি অনেক বড় বড় ঘটনার পেছনেও ছোট ছোট অনেক গুলি কারন থাকে। এরকম আরেকটা টার্ম আছে, তা হচ্ছে “বাটারফ্লাই ইফেক্ট ”

‘বাটারফ্লাই ইফেক্ট’ টার্মটির সাথে আমাদের অনেকেরই পরিচয় আছে।

যাদের নেই, তাদেরও পরিচয় এই লেখাটি পড়তে শুরু করলে হয়ে যাবে।

বাটারফ্লাই অর্থাৎ প্রজাপতি, আর ইফেক্টের অর্থ প্রভাব। বিজ্ঞান বলে, মহাকাশের কোথাও একটা প্রজাপতি যদি ডানা ঝাপটায় তবে অন্য কোন কক্ষপথে তার প্রভাবে তুমুল সাইক্লোনও আঘাত আনতে পারে আর এই ব্যাপারটিকেই বৈজ্ঞানিক টার্মে বলে ‘বাটারফ্লাই ইফেক্ট’। অর্থাৎ প্রত্যেকটি ক্রিয়ার একটি বিপরীত প্রক্রিয়া আছে, যা মাঝে মাঝেই এমন কোন রুপ ধারন করে ফেলে যা আমরা হয়তো ক্ষুদ্র জ্ঞানে বা অজ্ঞানে জানতে পারি না।

এই যে আপনি নিছক আনন্দের জন্য বাসে একটি মেয়ের শরীরের ব্যক্তিগত কোন অংশ স্পর্শ করে হেঁটে চলে গেলেন, আপনার সেই আনন্দটিই এই মেয়েটির জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণার কারন হয়ে যেতে পারে?

ক্লাসে কোনো একটি মেয়ের নামে বাজে গুজব শুনলেন আপনি,অথচ আপনি হয়তো জানেন ই না কথাটা আদৌ সত্য কিনা। কিন্তু আপনি ঠিক ই মেয়েটাকে জাজ করে ফেললেন? মেয়েটা খারাপ মেয়ে নামে পরিচিত হয়ে গেলো.. কি হবে তখন মেয়েটার অবস্থা? তার জীবন টা উলট পালট হয়ে যাবে নাতো?

এমন ই এক হাইস্কুল পড়ুয়া ১৭ বছরের একটি মেয়ের জীবন এর ঘটনা দেখানো হয় “13 Reasons Why” সিরিজ টিতে।

হ্যানা বেকার নামে একটি মেয়ে হঠাত তার বাসার বাথটাব এ হাত কেটে সুইসাইড করে এবং এই ভয়ানক ডিসিশান নেয়ার কারন হিসেবে সে ১৩ জন মানুষ কে দায়ী করে কিছু ক্যাসেট রেকর্ড করে যায়.. হ্যানার মৃত্যুর এক সপ্তাহ পরে তার বন্ধু ক্লে জেনসন তার বাসার নিচে এই ১৩টা ক্যাসেট আবিষ্কার করে এবং পরবর্তীতে বিস্ময়ের সাথে সে বের করে, এই ১৩টি কারণের মধ্যে সে নিজেও একটি কারন! এরপর থেকেই ক্লে’র জীবন হুট করে বদলে যায়। তারই সহপাঠীদের এমন সব রূপ তার চোখে ধরা পড়ে যা হয়তোবা তারা নিজেরাও কখনো আবিষ্কার করেনি। একটি আত্মহত্যা বদলে দেয় অনেকগুলো জীবন।

এই সিরিজটি দেখতে যেয়ে আপনার প্রথমেই মনে হবে ‘এত ছোট ঘটনায় কেউ আত্নহত্যা করে? মেয়েটা নিশ্চয়ই খালি অন্যের দৃষ্টি আকর্ষন করতে চায়! কিন্তু ধীরে ধীরে পরিষ্কার হবে যে, যেটি এই মুহূর্তে সামান্য একটি ঘটনা, সেটা হয়তো কোনো জীবনের সবচাইতে বড় দুর্ঘটনার শুরু। ‘তোমার তো সবার সাথেই সমস্যা। কেউই তো তোমাকে পছন্দ করে না। সমস্যাটি তোমার ভিতরেই’- কয়েক মাস আগেই আমি আমার এক পরিচিত সিনিয়রের কাছ থেকে এমন একটি মন্তব্য শুনে প্রায় বিশ্বাস করে বসেছিলাম যে সমস্যা আমার,আমি ‘আনওয়ান্টেড’। আমি জানি, এই ছোট তিনটা লাইন যে বলেছে, তা তার কাছে কিছুই না। কিন্তু যাকে বলা হয়েছে, তার গোছানো ভেতরের দুনিয়াটা উল্টে-পাল্টে দিতে সক্ষম।

এই সিরিজে হ্যানা ব্যাকারের সাথেও প্রতি মুহূর্তেই ছোট থেকে বড় ঘটনা ঘটছে এবং প্রতিবারই হ্যানা চেষ্টা করেছে সেগুলো থেকে বেরিয়ে নতুন করে শুরু করার এবং আবারো তার সাথে খুব ছোট থেকে বড় কিছু ঘটেছে। সোশাল মিডিয়া, পার্টি, চেক-ইন আর ক্যুল সাজার চেষ্টায় আমরা যার সাথে ইচ্ছা তার সাথেই কোন একটা প্র্যাঙ্ক বা বিচ্ছিরি মজা করে বসছি…

পাশের মানুষটাই হয়তো জীবনের কোন একটি বা অনেকগুলো ঘটনায় অনেক বেশী কষ্ট পাচ্ছে, কিন্তু এত কোলাহলে আমরা সবচাইতে কাছের শব্দটিও শুনতে পারছি না। যেটা হয়তো আমার কাছে বা আপনার কাছে নিতান্তই “ফান”, সেটাই হয়তো কারো কাছে লজ্জা, ভয়, ইনসিকিরিটির কারণ। যে মানুষটি সুইসাইডের মত এত বড় একটি দুর্ঘটনা, ভয়াবহ কাজটি নিজের সাথে করতে যাচ্ছে- কোথাও না কোথাও, কোনো না কোনো কারণে যে আপনিও যেখানে দায়ী না, সেটা আপনি নিশ্চিত তো?

‘Thirteen Reasons Why’ আপনাকে ভাবাবে, জানাবে যে আপনার উচিৎ আরো একটু যত্নবান হওয়া। আপনার পাশেই আছে- এমন কোন বিপদগামী মানুষকে সব কিছু ছেড়ে একটুখানি সময় দেওয়া, আর নিজের অজান্তে বা জেনেশুনেই যে ছোট ছোট ভুলগুলো আমরা কিছু না বুঝেই করছি, তা অন্যের জীবনে সাইক্লোনের আঘাত হতে পারে- সেটাও খেয়াল রাখা। আর যে মানুষগুলো ভাবছে যে ‘আপনি একা’, ‘আপনি আনওয়ান্টেড’- আপনি আসলে একা না, আপনার মতো, আপনার পরিস্থিতিতে অনেকে আছে, অনেক বেশিই খারাপ আছে। নিজেকে সাহায্য করার ক্ষমতা শুধুই আপনার নিজের।

এই সিরিজ টা একেক জনের কাছে একেক রকমের লাগবে,কারো কারো মনে হবে অনেক কিছু অতিরঞ্জিত। কিন্তু আসলে বুঝতে হবে পরিচালক এভারেজ মানুষ এর দৃস্টিকোণ থেকে ঘটনা টি দেখান নি, বরং ১৭ বছরের তরুনী হ্যানা বেকার এর দৃস্টিকোণ থেকেই দেখিয়েছেন। সবার কাছে যেটা স্বাভাবিক, উঠতি বয়সি একজিন তরুনীর কাছে তা স্বাভাবিক নাও হতে পারে। হয়তো ছোট কিছু সাপোর্ট ও তার কাছে অনেক, আবার অনেক ছোট অবহেলাপূর্ণ ব্যাবহার ও তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে। সিরিজ টার ১৩ টি পর্বের ১৩ টা ঘন্টা যেনো শুধু বিষন্নতায় কেটেছে আমার।

IMDB রেটিং: ৮.৭/১০

আমার রেটিং : ৯/১০

বি.দ্র. : মুভিতে হ্যানাহ চরিত্রে অভিনয় করেন ক্যাথারিন ল্যংফোর্ড। এবং ক্লে চরিত্রে ডিলান মিনেট। ক্যাথারিন অভিনয়ে আসেন ইউটিউব এ গান গেয়ে জনপ্রিয়তা পাবার পরে।

ফুটপ্রিন্ট লেখক লগিন