নেটফ্লিক্স এর আদি উপাখ্যান

Now Reading
নেটফ্লিক্স এর আদি উপাখ্যান

ওয়েব ভিডিও জগতে আধিপত্য বিস্তার করা নেটফ্লিক্সের কথা কে না জানে? সারা পৃথিবীতে ১০০ মিলিয়নের উপরে মানুষ নেটফ্লিক্স ব্যবহার করে। কিন্তু এটা তৈরি করার পেছনে যে গ্রাজুয়েট স্কুলের একটি গাণিতিক সমস্যা দায়ী ছিল সেটা কজনই বা জানে? গত বছরের প্রথমদিকে ফেব্রুয়ারি মাসে স্পেনের বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসের একটি সেশনে নেটফ্লিক্সের সহ-আবিষ্কারক রিড হেসটিংস এ কথা প্রথম সবার সামনে প্রকাশ করেন।

১৯৮০ সালের কথা, তখন হেসটিংস স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞানে পড়াশোনা করছিলেন। সে সময় আরেক বিখ্যাত কম্পিউটার বিজ্ঞানী এন্ড্রু তানেনবাম তাকে একটি গাণিতিক সমস্যার কথা বলেন। সমস্যাটি ছিল টেপ বহনকারী একটি স্টেশন ওয়াগনের ব্যান্ডউইথ বের করা। এর মানে দাঁড়ায় এমন, সর্বাধিক কতগুলো টেপ স্টেশন ওয়াগনের ভিতর ভরা যাবে, সেই টেপগুলো কতটুকু ডাটা সংরক্ষণ করতে পারবে এবং কত দ্রুত স্টেশন ওয়াগনটি টেপগুলো নিয়ে তার গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। এ সমস্যা দেখে তার মনে হয়েছিল এটা তখনকার সময়ে অনেক দ্রুতগতি সম্পন্ন নেটওয়ার্কের দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এ সমস্যা থেকে হেসটিংসের মাথায় আসে, টেপের বদলে তিনি ডিভিডি ব্যবহার করতে পারেন। তারা মনে করেন, নেটফ্লিক্সের শুরুটা তারা এমন ডিভিডি ব্যবহার করে শুরু করতে পারেন। পরবর্তীতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে তারা নেটফ্লিক্সকে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেন। মূলত সেই অংকের মাধ্যমেই তাদের নেটফ্লিক্স তৈরির চিন্তা মাথায় আসে। কোম্পানি হিসেবে নেটফ্লিক্স যাত্রা শুরু করে ১৯৯৭ সালে। তখন থেকে ডিভিডি ব্যবহার করেই তাদের যাত্রা শুরু। এরপর ২০০৭ সালে তারা ভিডিও স্ট্রিমিং শুরু করে। দেখতে দেখতে ২০১০ সালের মধ্যে গ্রাহক সংখ্যা ডিভিডি ব্যবহারকারীদেরকেও ছাড়িয়ে যায়। ১০০ মিলিয়ন ভিডিও গ্রাহকদের পাশাপাশি এখন ৫ মিলিয়ন ডিভিডি ব্যবহারকারীও আছে নেটফ্লিক্সের।

ইলেকট্রনিক কোনো তথ্যকে কোনো বস্তু, যেমন: পেনড্রাইভ দিয়ে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে পৌঁছে দিয়ে সেখানে পুনরায় ব্যবহার করার এই প্রক্রিয়াকে বলে স্নিকারনেট (Sneakernet)। এন্ড্রু তানেনবাম তার জনপ্রিয় বই “Computer Networks”-এ সমস্যাটির বর্ণনা দেন এভাবে-

এক কম্পিউটার থেকে আরেক কম্পিউটারে ডাটা বা তথ্য স্থানান্তর করার সবচেয়ে সহজ এবং জনপ্রিয় উপায় হচ্ছে প্রথমে তথ্যগুলোকে কোনো ম্যাগনেটিক টেপ বা ডিভিডি বা এরকম কোনো রিমুভাল ডিস্কে লিখে রাখা এবং সেগুলোকে অন্য কম্পিউটারে নিয়ে গিয়ে আবার পড়া। যদিও Geosynchronous Communication Satellite-এর যুগে ব্যবস্থাটি পুরনো মনে হতে পারে, কিন্তু তখন এটা খরচ সাপেক্ষ ছিল। একটি ছোট্ট অংক বিষয়টিকে পরিষ্কারভাবে বুঝতে সাহায্য করবে।

একটি আলট্রিয়াম টেপ (Ultrium Tape) ৮০০ গিগাবাইট পর্যন্ত ডাটা ধারণ করতে পারে। ৬০ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্য, ৬০ সেন্টিমিটার প্রস্থ ও ৬০ সেন্টিমিটার উচ্চতার একটি বাক্স এরকম ১ হাজার টেপ ধারণ করতে পারে। মোট ধারণক্ষমতা হয় ৮০০ টেরাবাইট বা ৬৪০০ টেরাবিট, অর্থাৎ প্রায় ৬.৪ পেটাবিট তথ্য ধারণে সক্ষম এই এক বাক্স টেপ। আমেরিকাতে তখন এ ধরনের টেপের বাক্স ফেডারেল এক্সপ্রেস বা অন্য কোনো কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের সাহায্যে যেকোনো স্থানে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাঠানো যেতো। ডাটা ট্রান্সমিশনের জন্য যতটুকু ব্যান্ডউইথের প্রয়োজন হতো তা হলো প্রতি সেকেন্ডে ৭০ গিগাবাইট। পথের দূরত্ব যদি ১ ঘণ্টা হয় তাহলে ব্যান্ডউইথ প্রতি সেকেন্ডে ১৭০০ গিগাবাইট পর্যন্ত বেড়ে যায়। এখান থেকে বোঝা যাচ্ছে, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বৃদ্ধির সাথে সাথে টেপ এর পরিমাণ এবং ঘনত্বও বেড়ে যাচ্ছে।

এখন খরচের দিকে আসা যাক। আলট্রিয়াম টেপ একসাথে অনেকখানি করে কিনলে প্রায় ৪০ ডলারের মতো খরচ পড়বে। এ ধরনের টেপ পুনরায় প্রায় ১০ বার পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। তাই টেপের দাম প্রতি বক্সে এবং প্রতি ব্যবহারে ৪,০০০ ডলারের মতো খরচ পড়বে। এর সাথে শিপিং এর জন্য ১,০০০ ডলারের মতো খরচ পড়বে। অর্থাৎ ৮০০ টেরাবাইট তথ্য স্থানান্তরের জন্য ৫,০০০ ডলারের মতো খরচ পড়বে। এটা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, ১ গিগাবাইট তথ্য পাঠাতে মোটামুটি এক সেন্টের অর্ধেকের মতো খরচ পড়ছে।

এন্ড্রু তানেনবাম

এন্ড্রু তানেনবামের জনপ্রিয় বই – Computer Networks;

এ কথাগুলো বইতে ব্যাখ্যা করার পরে নিচে এমন বক্তব্য আছে- “Never underestimate the bandwidth of a station wagon full of tapes hurtling down the highway.”

১৯৯১ সালে রিড হেসটিংস Pure Software নামে তার নিজের প্রথম কোম্পানি চালু করেন। এ কোম্পানি থেকে যে পরিমাণ আয় হয় সেটা দিয়ে খুব সহজেই নতুন প্রজেক্টে হাত দেয়া যেত। আর এই আয় করা লভ্যাংশ থেকেই নেটফ্লিক্সের জন্ম। নেটফ্লিক্সের সাফল্যের সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে এটি নতুন আরেকটি প্রযুক্তির সাথে যুক্ত হয়ে তাদের ব্যবসার আইডিয়া দাঁড় করায়। তখন ভিডিও দেখার জন্য VHS (Video Home System) ব্যবহার করা হতো যেটা দেখতে বড় ছিল। ৯০-এর দশকের শেষ দিকে যারা বাসায় ভিডিও ভাড়া করে এনে দেখতো তাদের কাছে VHS অপরিচিত মনে হবে না। নেটফ্লিক্সের প্রজেক্টে হাত দেবার সময় হেসটিংসের এক বন্ধু তাকে ডিভিডির কথা বলে যেটা দেখতে ছোট, হালকা এবং VHS যা কাজ করে এই ডিভিডিও একই কাজ করে। তাছাড়া VHS ব্যবহারে খরচও পড়তো বেশি। তাই হেসটিংসকে ফি দিতে হতো বেশি।

ভিএইচএস

২০০৭ সাল পর্যন্ত নেটফ্লিক্স প্রায় ১ বিলিয়নের মতো ডিভিডি ক্রেতাদের সরবরাহ করে। এরপর যখন ইউটিউব অনেক বেশি জনপ্রিয় হয় তখন হেসটিংস নতুন এই প্রযুক্তিগত ধারণাকেও তাদের ব্যবসার আইডিয়াতে পরিণত করেন এবং কাজে লাগান। এই অংশে তিনি গ্র্যাজুয়েট শ্রেণীতে থাকাকালীন সময়কার সেই অংককে কাজে লাগান।

হেসটিংসকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “When a friend told me about DVDs and I realized, well that’s 5GB of data, and you know you can mail that very inexpensively, I realized that is a digital-distribution network”

নেটফ্লিক্সের হলিউড অফিস

একটি মজার কথা হচ্ছে, হেসটিংস এবং রেন্ডলফ  দুজনেই নেটফ্লিক্সের আবিষ্কারের পরপর এর সাথে ইন্টারনেটকে যুক্ত করার বিষয়টি মাথায় এনেছিলেন। কিন্তু সে সময়ে ইন্টারনেটের বিপ্লব আজকের মতো শুরু হয়নি। তবে তারা ঠিকই বুঝতে পেরেছিলেন নেটফ্লিক্সকে তারবিহীন মাধ্যমের সাহায্যে প্রচার করতে পারলে সবদিক থেকে লাভবান হওয়া যাবে। শুধুমাত্র ডিভিডি নামক বস্তুর সাহায্যে ক্রেতাদের কাছে না গিয়ে নতুন নতুন মাধ্যম ব্যবহার করা যেতে পারে, যেটা ক্রেতাদের নেটফ্লিক্সের সাথে ধরে রাখতে পারবে। কিন্তু তারা জানতেন এ জিনিসটি রাতারাতি সম্ভব হবে না। এর জন্য অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। শেষপর্যন্ত পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং গ্রাজুয়েট স্কুলের একটি অংকের হিসাব তাদেরকে ওয়েব ভিডিও জগতের এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

পারফিউমঃ একজন খুনির গল্প

Now Reading
পারফিউমঃ একজন খুনির গল্প

কখনও কখনও সিনেমা আমাদেরকে আবেগতাড়িত করে। কখনও বা ভাবিয়ে তোলে নিজেদের সমাজ কিংবা পর্দার রহস্যময় চরিত্রগুলো সম্পর্কে।

তেমনই এক সিনেমার নাম “Perfume: The Story of a Murderer” টম টাইকার পরিচালিত প্রখর ইন্দ্রিয় অনুভূতির গল্প নিয়ে বানানো এই মুভিটির মূলভিত্তি ১৯৮৫ সালে পাবলিশ হওয়া প্যাট্রিক সাসকিন্ড এর বিখ্যাত জার্মান উপন্যাস Das Parfum; যা এ পর্যন্ত ৪৯ টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

সিরিয়াল কিলারদের গল্প কিংবা সিনেমা সবসময়ই আলাদা একটা উত্তেজনা সৃষ্টি করে পাঠক অথবা দর্শকদের মাঝে। কিন্তু পারফিউম মুভিটি একটু অন্যরকম সিরিয়াল কিলারের গল্প।

1st.jpg

সিনেমার উপর এক নজরঃ

জন ব্যাপিস্ট গ্র্যানুইলি নামের এক অতিমানবীয় ঘ্রাণশক্তি সম্পন্ন যুবককে নিয়েই পুরোটা সিনেমা আবর্তিত হয়। প্রেক্ষাপট হিসেবে প্যাট্রিক সাসকিন্ড এর মূল উপন্যাস অনুসারে, ১৭৩৮ এর ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে জন্ম নেয় এক বিরল ক্ষমতাসম্পন্ন শিশু। তখনকার প্যারিস আর এখনকার প্যারিসের মধ্যে ছিল আকাশ-পাতাল তফাৎ। নোংরা-আবর্জনায় ভরপুর ছিল পারফিউম এর এই নগরী!

শিশুটি এই দুর্গন্ধময় নগরীতে বেড়ে ওঠার সাথে সাথে বেড়ে ওঠে তার সেই শক্তি। সেরা এবং সুন্দর সব ঘ্রাণ তার নাকে ধরা পড়ে যেত সহজেই। বহু দূর থেকেও সে খুঁজে বের করে ফেলতো ঘ্রাণের উৎস। ঘটনাক্রমে গ্র্যানুইলি, শহরে মাল ডেলিভারির সুযোগ পেল। তাও আবার পারফিউমেরই এক দোকানে! সিনেমার শুরুটা মূলত এখান থেকেই।

3rdjpg.jpg

ক্ষমতা মানুষকে অন্ধ এবং অমানুষও করে তোলে। পারফিউম এর এই গল্পটি তার অনন্য এক উদাহরণ।

সব ঘ্রাণকে আলাদা আলাদা করে অনুভব করার ক্ষমতাসম্পন্ন গ্র্যানুইলি শহরে এসে সুন্দরী এক তরুণীর হাতে থাকা তাজা ফলের ঘ্রাণের পিছু নেয়। বিধাবাম! তার অতিমানবীয় ইন্দ্রিয়শক্তি মস্তিষ্কে আরো উৎকৃষ্ট কিছুর খবর জানিয়ে দেয়! গ্র্যানুইলি করে ফেলে তার প্রথম ভুল!

আর ভুল থেকেই শুরু হয় তার অসীম সেই শক্তির প্রতি অনুভব আর ভয়ংকর এক আকর্ষণ!

 

ব্যবচ্ছেদ ও সমালোচনাঃ

সিনেমার গল্প বলার ভঙ্গি অসাধারণ। দর্শকদের আঠার মত লাগিয়ে রাখার জন্য চেষ্টার ত্রুটি করেননি পরিচালক। তাই উপন্যাসের সাথে হুবহু মিল না থাকলেও সিনেমাটি দর্শকদের কাছে উপভোগ্য হয়েছে। ১৫টি এওয়ার্ড ঝুলিতে পুরে নেয়া মুভিটি পেয়েছে এ পর্যন্ত ১৮টি নমিনেশন।

মূল চরিত্রে অভিনয় করা Ben Whishaw তার অসামান্য অভিনয় দক্ষতা দিয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য করেছেন পুরো মুভিতে। স্বাভাবিক! কারণ এ তো “এক নায়কেরই গল্প!” এছাড়াও ৮ টি বিভিন্ন এওয়ার্ড ও ১৫ টি নমিনেশন পাওয়া এই ইংলিশ অভিনেতা জেমস বন্ড সিরিজের “Q” চরিত্রেও এসেছিলেন দর্শকদের সামনে।

 

সমালোচকদের চোখে “পারফিউম”-

IMDB তে ক্রাইম, ড্রামা, ফ্যান্টাসি Genre এ থাকা এই সিনেমা  201,276 মানুষের রেটিং পেয়েছে; যার গড় ৭.৫।

ওদিকে Rotten Tomatoes এ ৫৮% ভোট পেয়েছে। যার মধ্যে ৫৩ জন ক্রিটিক সমালোচনা করেছেন মুভিটির। ওদিকে দর্শকদের ৭২% ভোট বলে অন্যকথা! ক্রিটিকদের কঠোর সমালোচনার পরেও দর্শকদের ভালোভাবেই যেন টানতে পেরেছে এই অতিমানবীয় সিরিয়াল কিলার!

 

 

১৩টি খুন এবং শ্রেষ্ঠ সুগন্ধিঃ

পাঠকদের আকৃষ্ট করতে সিনেমার একটু ভিতরে যাওয়া যাক। গ্র্যানুইলি প্রথম শিক্ষা লাভ করে বালদিনি নামে এক পারফিউম প্রস্তুতকারক এর কাছে। প্রতিদন্দ্বীদের সেরা পারফিউম এর রহস্য উদঘাটন করতে হিমশিম খাওয়া বালদিনির কাছে যেন আশীর্বাদ হয়ে আসে গ্র্যানুইলি!

ধীরে ধীরে বালদিনির সব জটিল সমস্যার সমাধান দেয়ার মাধ্যমে প্রিয় হয়ে ওঠে সে। সেই সাথে শিখে নেয় পারফিউম তৈরির প্রাথমিক সব বিষয় এবং কোনো বস্তু থেকে ঘ্রাণ আলাদা করার পদ্ধতি।

নানারকম ছোটখাট টুইস্ট এর মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়া সিনেমার একপর্যায়ে ক্ষমতা কিংবা প্রতিভার অতিরিক্ত প্রভাবে গ্র্যানুইলির ভেতর এক নিষিদ্ধ নেশা চেপে বসে।

2nd.jpg

শহরে আসা প্রথম ভুলের মাধ্যমে সে খুঁজে পায় নারীদেহের ঘ্রাণ। তার নাকে ধরা পড়া শ্রেষ্ঠ ঘ্রাণ! সে চেষ্টা চালায় সেসব ঘ্রাণ সংগ্রহে। একে একে সফল হতে থাকা গ্র্যানুইলির কাজে প্রচুর বাঁধা বিপত্তি আসে।

তারপরেও অতিমানবীয় ক্ষমতা আর নিষিদ্ধের প্রতি প্রবল আকর্ষণ তাকে অন্ধ এবং মনুষ্যত্বহীন বানিয়ে দেয়। ঈশ্বর প্রদত্ত শক্তি থাকা সত্ত্বেও গ্র্যানুইলি তা ভালো কাজে ব্যবহার করতে পারেনা। ধীরে ধীরে সে পরিণত হয় একজন সিরিয়াল কিলারে।

4.jpg

পাপ বাপকেও ছাড়েনা। গ্র্যানুইলিও এক পর্যায়ে ধরা পড়ে যায়। কিন্তু তার আগেই সে তার জীবনের লক্ষ্য; যার জন্য সে সব বিসর্জন দিলো, সেটা সে পূরণ করে নেয়। নিজেকে পরিণত করে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ সুগন্ধী প্রস্তুতকারক। তৈরি করে দুনিয়ার সেরা সুগন্ধী। যাতে মিশে আছে ১৩ টি নারীদেহের নির্যাস!

 

শেষকথাঃ

Perfume: The Story of a Murderer একটি অন্য ধাঁচের সিনেমা। সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, ক্রাইম থ্রিলার কিংবা ফ্যান্টাসি মুভি, যাই বলি না কেন; যেকোনো সিনেমাই আমাদেরকে বিনোদিত করার পাশাপাশি সুক্ষ্ম কোনো মেসেজ দেয়।

সেই মেসেজটা কি? সেটা একেকজনের কাছে একেক রকম হতেই পারে। আমার কাছে অবশ্যই “পারফিউম” একজন খুনির গল্প। সেইসাথে এটা এক অতিমানবীয় ক্ষমতার অভিশাপের গল্প। ক্ষমতা সবসময় আশীর্বাদ হয়ে আসেনা অথবা আমরা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারিনা।

যে ক্ষমতা আমাদের প্রেম-ভালোবাসা,কামনা-বাসনা,আশা-আকাঙ্খা কিংবা মনুষ্যত্বকে বিলীন করে দেয়, সে ক্ষমতা কখনই আমাদের কাম্য নয়!

সবশেষে কথা না বাড়িয়ে ছোট করে বলতে হয় একটা কথাই, ভালো সিনেমা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রসারিত করতে সাহায্য করে।

আর “Perfume: The Story of a Murderer” এর শেষ দৃশ্যে আপনার জন্য রাখা হয়েছে চমৎকার এক টুইস্ট! এখনো না দেখে থাকলে দেখে নিতে পারেন ইউটিউব ঘেঁটে। আশাকরি উপভোগ্য হবে আপনার সময়টা।

 

সতর্কতাঃ

R-rated (Restricted) হওয়ায় অপ্রাপ্তবয়স্ক কিংবা পরিবারের সাথে সিনেমাটি দেখার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করার অনুরোধ থাকলো।

 

ছবিসূত্রঃ IMDB,Google

মুভি রিভিউঃ Dead Poets Society

Now Reading
মুভি রিভিউঃ Dead Poets Society

কিছু মুভি আমরা সযত্নে এড়িয়ে যাই। পছন্দের তালিকায় আমাদের সবসময় থাকে সাই-ফাই,থ্রিলার,একশন,এডভেঞ্চার কিংবা রোম্যান্স।

বায়োগ্রাফি কিংবা ড্রামা ক্যাটাগরির মুভি মানেই যেন কিছুটা ঘুম ঘুম ভাব! তবে বেশিরভাগ মাস্টারপিস গুলো এসব Genres থেকেই বের হয়ে আসে।

তেমনই একটি মুভি রিভিউ এবং প্রাসঙ্গিক আলোচনা দিয়ে লেখার সূচনা।

upload.png

 

 

 

৮০’র দশকের শেষ দিকে মুক্তি পাওয়া  “Dead Poets Society” IMDB তে ৮.০ এবং Rotten Tomatos এ ক্রিটিকদের ৮৫% ভোটসহ বাগিয়ে নিয়েছিল অস্কার। সেরা চিত্রনাট্য লেখক হিসেবে এটি জমা পড়ে Tom Schulman এর ঝুলিতে।

মুভির কাহিনী আবর্তিত হয় আমেরিকার নামকরা স্কুলের কিছু ছাত্র এবং একজন শিক্ষককে নিয়ে। ঐতিহ্যবাহী Welton একাডেমীর ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম থেকে নবীন ছাত্ররা জানতে পারলো সফলতার মূলমন্ত্র,  “Tradition, Honor, Discipline, Excellence.”

গুরুগম্ভীর প্রিন্সিপ্যাল এর মাধ্যমে ছাত্ররা পরিচিত হয় তাদের সাহিত্যের নতুন শিক্ষক “মিঃ কিটিং” এর সাথে। মূলত এখান থেকেই মুভির সূত্রপাত।

আবাসিক এ থাকা ছাত্রদের একেকজনের একেকরকম স্বপ্ন। কেউ চঞ্চল, কেউ চুপচাপ, কেউ বাচাল কেউবা দুষ্টু স্বভাবের। ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন এই ছাত্রদের দলটা সাহিত্যের ক্লাসের শুরুতে আবিষ্কার করে, অন্যান্য ক্লাসের মত এই ক্লাসটা গতানুগতিক নয়! সাহিত্যের শিক্ষক একেবারেই অন্যরকম একজন মানুষ।

প্রথম দিনই সে অভিনব কায়দায় ছাত্রদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। শিষ বাজানোর পর তার ক্লাসের প্রথম বাক্যটি ছিলো রবার্ট হুইটম্যান এর বিখ্যাত কবিতার প্রথম লাইন, “ও ক্যাপ্টেন, মাই ক্যাপ্টেন” কিছুটা হতবাক ছেলেরা ধীরে ধীরে আবিস্কার করে, সাহিত্যের ক্লাসটা একঘেয়ে হওয়ার কথা থাকলেও সেটা হচ্ছেনা!

মিঃ কিটিং প্রথম ক্লাসে ছাত্রদেরকে উপলব্ধি করায়, “Seize The Day”।

এটি কিছু ল্যাটিন উক্তির অন্তর্গত একটি উক্তি যা Carpe Diem নামে পরিচিত। এর মর্মার্থ অনেকটা দাঁড়ায়,

“আজকের দিনটাকে উপভোগ করো। বেঁচে থাকো। জীবনটাকে অনুভব করো। ভবিষ্যৎ এ কি হবে তা ভেবে চিন্তিত হয়ে বেঁচে থাকার স্বাদ থেকে বঞ্চিত হয়ো না।”

এছাড়াও মিঃ কিটিং প্রতি ক্লাসেই ছাত্রদের জন্য নিয়ে আসতো সম্পূর্ণ নতুন কোনো দৃষ্টিভঙ্গি!

MV5BMTgzODEzMjQyMV5BMl5BanBnXkFtZTcwOTM3NjAyNw@@._V1_SX1510_CR0,0,1510,999_AL_.jpg

“ক্যাপ্টেন” খ্যাত এই অভিনেতা সম্পর্কে কিছু না বললেই নয়। হলিউডে বেশ কিছু শক্তিমান অভিনেতা; যারা তাদের অনবদ্য অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের হৃদয়ে দাগ কেটেছেন তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। Robin Williams তার অভিনয় জীবনে ৮০ টি নমিনেশন এবং ৬৩ টি এওয়ার্ড ছাড়াও চারবারের জন্য মনোনীত হন অস্কারের জন্য। এর মধ্যে Dead Poets Society তে সেরা অভিনেতার মনোনয়ন থাকলেও তিনি মূলত অস্কার পান Good Will Hunting ছবিতে সেরা পার্শ্ব অভিনেতার  ক্যাটাগরিতে।

আবার ফিরে যাওয়া যাক “মৃত কবিদের দলে!”।

সংক্ষিপ্ত কাহিনীর নামে মুভির কিছু অসাধারণ দৃশ্যের বর্ণনা দিয়ে দেয়ার পক্ষে আমি নেই। তাই সম্পূর্ণ মুভির স্ক্রিন প্লে নিয়ে কিছু কথা বলি।

ডেড পোয়েটস সোসাইটিতে দারুন এক শিক্ষা ব্যবস্থা তুলে ধরা হয়েছে। আমাদের সাথে যা বেমানান বটে। কিন্তু এরকম হলে আসলেই কেমন হতো!

সাহিত্য বই এর ভূমিকায় কবিতাকে সঠিকভাবে বুঝানোর জন্য গ্রাফ তুলে ধরা হয়েছে। কি ভয়াবহ এক অবস্থা! শিক্ষক হঠাৎ আমাদেরকে বললেন, “কবিতা, সাহিত্য গ্রাফ দিয়ে বুঝানো যায়না। এটাকে অনুভব করতে হয়, শব্দ দিয়ে-ভাষা দিয়ে বুঝতে হয়। ছিঁড়ে ফেলো ভূমিকার পেজটা। ছিঁড়ো, ছিঁড়ে ফেলো!”

কিছুটা হাস্যকর হলেও দৃশ্যটা গোগ্রাসে গেলার মত। শিক্ষক চিৎকার করে বলছেন, Rip it out! Rip it out!

অথবা শিক্ষক ডেস্ক এর উপর দাঁড়িয়ে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করার উপর লেকচার দিলেন। এরপর একে একে ছাত্ররাও তার ডেস্ক এর উপর উঠে হাতে-কলমে উপলব্ধি করলো ব্যাপারটা! এ যেন ক্লাসের লেকচার ক্লাসেই কমপ্লিট করে দেয়া! এরপর তা শুধু সময়ের প্রয়োজনে নিজের জীবনে প্রয়োগ হবে!

 

MV5BNjI1NTMwODY5OF5BMl5BanBnXkFtZTcwMTQ3NjAyNw@@._V1_SY1000_CR0,0,707,1000_AL_.jpg

মিঃ কিটিং যখন বলেন, “Words and ideas can change the world” তখন শরীরে একটা শিহরণ বয়ে যায়। শব্দের,কবিতার,সাহিত্যের অসীম শক্তি অনুভবে চলে আসে। বইয়ের জ্ঞান ছাড়াও জীবনে চলার জন্য কিছু উপকরণ লাগে। সেগুলোর খোঁজ দিতে পারে একজন শিক্ষক।

এসব উপলব্ধি আমাদের শিক্ষাঙ্গনে বেশ অপ্রচলিত বটে। হাতেগোনা কিছু শিক্ষক ছাড়া সবাই শুধু বইয়ের পাতায় মশগুল হয়ে থাকছেন। বই এর মত জড় একটা বস্তুকে জীবন্ত করে তোলার মন্ত্র কিংবা জীবন যে শুধুই একটা যন্ত্র নয় মিঃ কিটিং আমাদেরকে তা জানিয়ে গেছেন। তিনি দেখিয়ে গেছেন, জড়তায় ভোগা ছাত্রের ভেতর থেকে কিভাবে প্রাণশক্তির সঞ্চার ঘটানো যায়।

সিনেমায় সাহিত্যের ব্যাপারটা গাঢ় করে দেখালেও যেকোনো বিষয়কেই ভালোবেসে, অনুভব করে পড়লে বোঝা যায়। ফিজিক্স এর মত একটা বিষয়কেও অনেক শিক্ষক গাছ থেকে আপেল পড়ার মত সহজ করে বোঝাতে পারেন। এজন্য বইকে জীবন্ত করে তুলতে হয় একজন শিক্ষকের।

মুভিতে আরো একটি বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। তা হচ্ছে, অভিভাবকদের ইচ্ছা পূরণের জন্য কোমল কোনো হৃদয়কে বলির পাঠা বানানো।

যে ছেলেটা অভিনয়কে ভালোবেসে ফেলেছে তাকে হতে হবে ডাক্তার! যে ছেলেটা দেশ সেরা ক্রিকেটারদের একজন হতে চায় তাকে হতে হবে ইঞ্জিনিয়ার! এভাবেই স্বপ্ন গুলোকে খুন করা হবে খুবই নীরবে। কোনো কূল-কিনারা হবেনা এই খুনের। কারণ তারা অভিভাবক।

 

Dead Poets Society ২ ঘন্টা ১০ মিনিটের মধ্যে আমাদের মাথায় তুলে দেয় এক জীবন ভাবনার উপকরণ। এই মুভি দেখার পর খুব নিরস মানুষটারও ইচ্ছা হবে একটা কবিতা পড়ে দেখতে, ইচ্ছা হবে দুইটা লাইন লিখতে। কেউ হয়তো খুঁজতে বসবে তার জীবনে মিঃ কিটিং এর মত কেউ এসেছিল কিনা। কারো কারো আফসোস হবে এমন কোনো শিক্ষকের সান্নিধ্যে আসতে না পারার। তবে এমনটা না হলেও খুব নিশ্চিতভাবে বলা যায়, মিঃ কিটিং এর প্রতিটা ক্লাসই দর্শকদের কাছে সেরা ক্লাস হিসেবে বিবেচিত হবে।

ব্যতিক্রম সবকিছুকেই সংগ্রামের মুখে পড়তে হয়। অন্যরকম শিক্ষক মিঃ কিটিংকেও ভুল বোঝে কর্তৃপক্ষ। তাকে চলে যেতে হয় প্রিয় ছাত্রদেরকে ছেড়ে। কিন্তু প্রিয় শিক্ষকের বিদায় মুহূর্ত কতটা বেদনাদায়ক সেটা তার ছাত্ররাই বোঝে। ক্লাসের সবচে চুপচাপ,সহজ-সরল কিংবা ভীতু ছেলেটারও আবেগের বাঁধ ভেঙে যায় হুড়মুড় করে। সর্বোচ্চ সাহসিকতা প্রদর্শন করে তারা প্রিয় শিক্ষককে প্রিয় নামে ডেকে ওঠে। এ যেন এক অন্যরকম গার্ড অব অনার!

“O Captain! My Captain!” লাইনটি খুবই আবেগময় একটি লাইন। সিনেমা না দেখলে এটা কোনোভাবেই উপলব্ধি করা যাবেনা।

এখনো না দেখে থাকলে অবসরে দেখে ফেলুন সিনেমাটি। ইউটিউব ঘাটলেই পেয়ে যাবেন সম্পূর্ণ মুভি। আশাকরি আপনার সময়টা বৃথা যাবেনা।

ছবি সূত্রঃ IMDB

ফিচার ছবিঃ পোস্টার ক্রেডিট

ঈগলের চোখ!!

Now Reading
ঈগলের চোখ!!

 

 

আপনি কি কখনো নিজের Conscious & Sub-Conscious মাইন্ড নিয়ে ভেবেছেন? এটা আসলে কি ? দেখতেই বা কেমন তার আচরণটাই কেমন ? এই বিষয়গুলো একজন লেখকের লেখনীতে যেভাবে ফুটে উঠে তার চেয়ে দ্বিগুণ হয়ে ধরা দেয় একজন নির্মাতার চোখে বা ক্যামেরায়। আমাদের প্রত্যেকের আচরণে একটা দ্বিস্তরের পর্দা আছে যার একটার সাথে বাহ্যিকতায় সবাই পরিচিত অন্যটার সাথে কেবল নিজেই পরিচিত,অনেক সময় কেউ কেউ এটা ধরতে পারে না। আমরা নিজেই নিজের সাথে সংলাপ করি, প্রলাপ করি নিজেকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাই। এই বিষয়গুলো কেউ আমাদের দেখিয়ে দেয় নয়তো নিজেরা কখনো এর সম্মুখীন হয়।

সিনেমা গুলো হচ্ছে সভ্য সমাজে মানুষের আচরণের দর্পণ এই দর্পণে অনেক সময় নিজের অবিকল প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠে। আমরা সবাই কমবেশি সিনেমা দেখি নিজেদের সময় কাটানোর জন্য কিছু কিছু কালজয়ী সিনেমা আছে যা দেখার পর আমরা একটু নড়েচড়ে বসি। কিছু কিছু সিনেমা আছে যা আমরা বহুবার দেখি মনের খোরাক মেটানোর জন্য।

“আমাদের জীবনটা না খুবই কঠিন এর প্রতিটা বাঁকে বাঁকে রয়েছে রহস্যের মোড়, খুব কাছ থেকে দেখলে এর সবটা দেখা যায় না। একে যদি ভাল করে দেখতে হয় তবে অনেকটা উপর থেকে দেখতে হবে যেমন অনেকটা ঈগলের মত করে।”

ঈগল আকাশে উড়ছে ঠিকই কিন্তু তার শ্যোন দৃষ্টি কিন্তু রয়ে যায় নিচে যেখানে সবকিছু তার কাছে পরিস্কার।এমনই একটা সংলাপ ছিল ঈগলের চোখ ছবিতে। বর্তমানে ধুন্ধুমার এ্যাকশন আর বাহারি স্পটে গানের যুগে কিছু ছবি আছে যা আপনাকে পর্দার সামনে আটকে রাখবে করে রাখবে মন্ত্রমুগ্ধ। আপনি যদি  CRIME থ্রিলারের ভক্ত হন তবে এই ছবিটা একবার হলেও দেখবেন কেননা এখানে নায়কোচিত কোন হাবভাব নেই,নেই কোন আইটেম সং। এখানে  শক্তিশালী একটা গল্প আর সুন্দর নির্মাণশৈলী মূলত গল্পের প্রাণ বলা চলে।যা আপনাকে টেনে নিয়ে যাবে।

মূল গল্পটি প্রখ্যাত উপন্যাসিক শীর্ষেন্দু মুখোপধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মাণ করেছে অরিন্দম শীল। শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের ব্যানারে প্রযোজিত ছবিটি মূলত সিক্যুয়ালের ২য় ধাপ। আগের পর্বটি ছিল এবার শবর…..

এখানে অভিনয় করেছে শ্বাশত চ্যাটার্জী,জয়া আহসান,পায়েল সরকার,অর্নিবাণ ভট্টাচার্য্ সহ আরো অনেকে ছবির ছোট একটা চরিত্রে রয়েছে পরিচালক অরিন্দম শীল।

কাহিনিসূত্র…..

পেশায় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার বিষাণ (অনিবার্ণ) নিজের জীবনের প্রতি বেশ উদাসীন তার স্ত্রী শিবাঙ্গী (জয়া আহসান) নিজেও একজন ব্যবসায়ী। তাদের ঘরে আশ্রিত শিবাঙ্গীর বান্ধবী নন্দিনি (পায়েল সরকার) আর জাহ্নবী। সিনেমার প্রথম দৃশ্যতে দেখা যায় ঘরে ডাকাত ঢুকেছে আর ডাকাতের কবলে পড়ে মারা যায় আশ্রিত নন্দিনি,একই সাথে শিবাঙ্গী গুরুতর আহত হয়ে কোমায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই ঘটনার জেরে পুলিশ মামলার তদন্তে নেমেছে যেখানে তারা স্বামী বিষাণকে দোষী প্রমাণ করতে ব্যস্ত।

এই খুনটাকে ওপেন এন্ড শাট মার্ডার কেস বলে চালিয়ে দিলেও সামনে চলে আসে নানা তথ্য যেখানে শিবাঙ্গীর সাথে বিষাণের ডির্ভোস ফাইল করা ছিল।এখানে ডির্ভোসের ক্ষতিপূরণও ছিল বিশাল। এই ক্ষতিপূরণের ঝামেলা থেকে বাঁচতে বিষাণ তার স্ত্রীকে মেরে ফেলতে চাই নি তো! নন্দীনি আর শিবাঙ্গীকে সরিয়ে জাহ্নবীকে নিয়ে বিষাণ নতুন জীবন শুরু করতে চাই এমন বিষয় বা সন্দেহ সামনে চলে আসে।

এই মামলার তদন্তভার ছিল পুলিশের ধুরন্ধর গোয়েন্দা অফিসার শবরের (শাশ্বত চট্টোপধ্যায়) হাতে। নিজে তার পেশার প্রতি এতটা ডেডিকেটেড যে নিজের যে একটা স্বাভাবিক জীবন তা যেন হারাতে বসেছে । একটা সময় মনোবিদের শরণাপন্ন হলে নিজের সমস্যা কথা জানতে পারেন। গোয়েন্দা অফিসার শবরের সমস্যা হলো ওনি নিজের একটা প্রতিচ্ছবি সকল ক্রিমিনালের মাঝে দেখেন যেখানটায় তিনি একজন মানুষের পরিচয়কে বড় করে দেখেন।

এখন একজন পুলিশ যদি অপরাধীকে এভাবে দেখেন তবে তো অপরাধী পার পেয়ে যাবে,তাই না? তবে তিনি কি করে একজন গোয়েন্দা বিভাগের বড় অফিসার হলেন?

তদন্তের স্বার্থে তিনি জানতে পারলেন শিবাঙ্গীর স্বামী বিষাণ মূলত একটা সাব-কনসাস লাইফের মোড়ক নিয়ে বেঁচে আছেন। বিষাণ আসলে একটা উন্মাদ আর অস্বাভাবিক মানুষ যে কিনা নিজের জীবনের উপর কোন কন্ট্রোলই রাখতে পারে না। এক সময়ে নন্দীনির সাথে বিষাণের পরকীয়ার সম্পর্কটার জের ধরে শবরের চোখে শিবাঙ্গী আর জাহ্নবী খুনি। এতসব কিছুর পরও পুলিশ কূল কিনারা করতে পারছে না।

নিজের জীবনের একটা কালো অতীত অধ্যায় যা বিষাণকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে যেটার জের ধরে তার সাথে স্ত্রী শিবাঙ্গীর মনোমালিন্য চলছে বিয়ের পর থেকে ফলাফল ডির্ভোস আর বিশাল টাকার মামলা,মাঝখানে নন্দীনির সাথে এক্সট্রা ম্যারিটিয়াল এ্যাফেয়ার যার কারণে নন্দীনি তাকে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল। নিজের ঘরে একটা টিন-এজ মেয়ে জাহ্নবী যাকে কেন্দ্র করে একটা ত্রিমূখী মোড় পেল।ছবিতে বিরতির পূর্বে গল্পের গতি থেমে থেমে আপনাকে খুনীর কাছে নিয়ে যাবে।

এই গল্পে লেখক আর নির্মাতার ভাষা বুঝতে হলে আপনাকে শেষ অব্দি দেখে যেতে হবে। এখানে একটা ক্রাইম থিলারের আদলে পরিচালক মানুষের জীবনবোধের একটা গল্প বলতে চেয়েছেন তার ঢঙে। আমরা আমাদের নিজেদের পারিপার্শ্বিক যে মানুষ সবগুলোকে দেখি তবে তাদের কতটা অবলোকন করতে পারি?

মুখ দেখে যায় চেনা এই টাইপ কথাবার্তা বলি আসলে কি মুখ দেখে কাউকে চেনা যায় ?

ঈগলের চোখ ছবিটি মুক্তি পেয়েছে ২০১৬ সালে আপনি যদি এখনো না দেখে থাকেন তবে অবশ্যই আপনার মাস্ট ওয়াচ লিস্টে রাখতে পারেন। এইটুকু বলতে পারি আইটেম গানের রমরমা এই  ‍যুগে আবহ সঙ্গীতের মূর্ছনায় আপনি গল্পের গতিতে এগিয়ে যাবেন।যা দ্বারা নিজের মানসিক স্বত্তাকে না হয় একটু যাচাই করে নিলেন।

হ্যাভ এ গুড টাইম উইথ মুভি।

 

ইনসেপশন বিশ্লেষণ (পর্ব ১)

Now Reading
ইনসেপশন বিশ্লেষণ (পর্ব ১)

এই মুভিটা বানানো হয়েছে পুরোপুরি ড্রিমবেসড আইডিয়া দিয়ে। আমি ইন্টারস্টেলার নিয়ে লিখার পর, এই মুভি বিশ্লেষণ এর জন্য রিকুয়েস্ট এসেছে, আমি যতটুকু পারছি আমার জ্ঞান থেকে এবং বিভিন্ন ইনফরমেশন থেকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছি। এক্সেক্টলি রেফারেন্স দিতে পারছিনা কারন একেক সময় একেক বই থেকে তথ্য গুলো পড়েছিলাম। কোনো ভুল তথ্য দিয়ে ফেললে ক্ষমা সুন্দর দৃস্টি তে দেখবেন আশা করি, তবে অবান্তর তথ্য দেয়া থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করবো। ধন্যবাদ। শুরু করি..

 

স্বপ্ন জিনিস টা আসলে কি? স্বপ্ন নিয়ে বিজ্ঞানীরা কম ঘাটাঘাটি করেন নি,কিন্তু এর একেবারে পারফেক্ট ব্যাখ্যা এই পর্যন্ত কেউ দিতে পারেন নি। স্বপ্নের অদ্ভুত কিছু উদাহরণ আছে যেমন অনেকে দাবি করে সে স্বপ্নে যা দেখে তাই হয়..তা কিন্তু সবসময় মিথ্যা না,

আবার, অনেক ছোট বাচ্চারা এক্সিডেন্টাল ভাবে বিছানা ভিজিয়ে ফেললে তারা অজুহাত দেয় সে স্বপ্নে দেখেছে সে বাথরুম এ গেছে। কথাটা কিন্তু মিথ্যা না,অনেকের এই ধরনের অভিজ্ঞতা আছে।

কিছুটা অবাক করা হলেও সত্যি স্বপ্নের সাথে আমাদের বাস্তব জীবনের স্মৃতি গুলোর সম্পর্ক থাকে। যাবতীয় স্মৃতি গুলো আমরা স্বপ্নে দেখি, অনেক সময় আবার আমাদের কোনো কিছুর প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকলে তা আমরা স্বপ্নে দেখি। কোনো ব্যাপারে ভীত থাকলেও আমরা স্বপ্নে দেখি। যেমন, অনেক মানুষ এর কমন একটা স্বপ্ন হচ্ছে অঙ্ক পরীক্ষা দিচ্ছে কিন্তু কিছু পারছে না, আবার আরেকটা কমন স্বপ্ন হচ্ছে খুব উপর থেকে কেউ পরে যাচ্ছে। এ ধরনের অনেক অদ্ভুত ব্যাপারের মধ্যে আরেকটি হলো অনেক সময় এমন হতে পারে, স্বপ্নে আমরা দেখলাম কেউ খুচিয়ে খুচিয়ে আমাদের হাতের আংগুল ফুটো করছে,ঘুম থেকে ওঠার পর হাতে খোচা খোচা দাগ পাওয়া যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা এর ব্যাখ্যা টা এভাবে দেয় যে, আমাদের শরীর এর কোনো অংশে আমরা ব্যাথা পেলে সেটি স্নায়ুর মাধ্যমে আমাদের মস্তিষ্কে যায়,তারপর ব্যাথার অনুভূতি আমরা পাই, এখন স্বপ্নের পুরো ব্যাপার টা ঘটে আমাদের মস্তিষ্কে,তাহলে সেখান থেকে ব্যথার অনুভূতি রিভার্স করে শরীরেও আসতে পারে।

স্বপ্নের দৈর্ঘ্য কিন্তু খুব বেশী হয়না, সাধারনত এর সময় থাকে ৩-৪ সেকেন্ড। কিন্তু আমাদের কাছে কিন্তু মনে হয় স্বপ্নে আমরা বিরাট বিরাট সিনেমা সমান কাহীনি দেখে ফেলি।

 

এগুলো শুধু স্বপ্নের বেসিক কিছু ধারনা,পুরোটাই থিওরিটিকাল। এখন মুভির অংশে আসি..

 

মুভিতে আরো বেসিক এবং ডিপ কিছু ধারনা ক্রিস্টোফার নোলান ব্যবহার করেছেন।

 

আগে একটু মূল কাহীনি টা বলে নেই, তারপর ব্যাখ্যায় যাবো, এখানে একদল ড্রিম ইঞ্জিনিয়ার থাকে,এরা স্বপ্ন বা চিন্তা চূরি করে। এখানেই খটকা লাগলো তাইনা? স্বপ্ন বা চিন্তা আবার কিভাবে চুরি করে? হ্যা ব্যাখ্যায় আসছি একটু পর। (১)

 

তাদের এই কাজ টা লিগাল না। তাদের দলে একজন থাকে আর্কিটেক্ট (লিওনার্দো ডিক্যপ্রিও) যে স্বপ্ন টা গোছাবে,বিল্ডিং,রাস্তা,সব কিছু। (২)

 

একজন এর দায়িত্ব থাকে যার স্বপ্নে তারা প্রবেশ করেছে তার ভেতরের গোপন তথ্য গুলো বের করে আনা। (৩)

 

একজন থাকে কেমিস্ট, যে ঠিক করবে যে ধাপে ধাপে স্বপ্নের কতটা গভীরে তারা যাবে? (৪)

 

ব্যাখ্যা ১ : স্বপ্ন চুরি করা বা চিন্তা চুরি করা: একজন মানুষ যখন স্বপ্ন দেখে সে কিন্তু স্বপ্নের ভেতর জানেনা যে সে স্বপ্ন দেখছে, সে তখন সবাইকে বিশ্বাস করে, তার সবচেয়ে গোপন থেকে গোপন কথা গুলো সে বলে দেয়। আর সেগুলি কি হতে পারে? হতে পারে তার ব্যাংক একাউন্ট এর পাসওয়ার্ড, হতে পারে তার গোপন ভল্ট এর পিন নাম্বার, হতে পারে এমন কোনো তথ্য যা তার প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যবসায়ীর কাছে মারাত্মক মূল্যবান।

 

ব্যাখা ২ : স্বপ্নের আর্কিটেকচার এর কাজ কি? সে স্বপ্ন টা এমন ভাবে গোছাবে যেনো তারা সবাই জানে কোথায় কোন রাস্তা টা আছে, যার স্বপ্নে তারা প্রবেশ করছে সে সন্দেহ জনক কিছু টের পেলে তারা পালাবে কোনদিক দিয়ে,অর্থাৎ তারা “কিক” টা স্বপ্নের ঠিক কোথায় রাখবে?

 

এখন প্রশ্ন আসে “কিক” কি?

আচ্ছা আমরা যখন স্বপ্ন দেখি তখন আমরা ধরমর করে ঘুম থেকে উঠি কখন? কোনো এক্সিডেন্ট হলে, ওপর থেকে ধপ করে পড়লে, বা স্বপ্নে মারা গেলে। আর্কিটেক্ট স্বপ্নে “কিক” এর ব্যাবস্থা রাখবে যেনো তারা জরুরি মুহুর্তে বের হয়ে যেতে পারে।

 

এখন আসি ব্যাখ্যা ৩ এ: গোপন তথ্য এক্সট্রাক্ট করবে কিভাবে? মানুষ কাকে তার সব গোপন কথা বলে দেয়? যাকে সে সবচেয়ে বিশ্বাস করে। আমি যদি কারো স্বপ্নে প্রবেশ করি বা তার চিন্তায় প্রবেশ করি, তাহলে আমার নিজেকে এমন একজনের পরিচয়ে উপস্থাপন করতে হবে যাকে সে বিশ্বাস করে। এবং অভিনয় এর মাধ্যমে তার ভেতরের কথা বের করতে হবে, এই দায়িত্ব পালন করে তৃতীয় জন।

 

এখন আসি ব্যাখ্যা ৪ এ, কেমিস্ট এর দায়িত্ব কি: এই অংশ টা হচ্ছে সবচেয়ে কমপ্লেক্স অংশ। ইনসেপশন মুভিতে এই দল টা শুধু একটা স্বপ্নে প্রবেশ করেই তথ্য পেয়ে যায়না, তারা স্বপ্নের ভেতর স্বপ্নে প্রবেশ করে। সময় এর ধীরতা বাড়তে থাকে। প্রথমে তারা একজন কে ঘুম পাড়িয়ে তার সাথে ইনসেপশন কানেক্ট করে স্বপ্নে প্রবেশ করে। ওই স্বপ্নে আর্কিটেক্ট “কিক” রেখে স্বপ্নের ভেতর সবাই আবার ঘুমায়, এবং দ্বিতীয় লেয়ার এ প্রবেশ করে, সেখান থেকে তারা প্রয়োজন মত তথ্য সংগ্রহ করে।

 

কিন্তু তারা যদি যার মাথায় তথ্য নিতে ঢুকছে শুধু তথ্য নিয়েই ক্ষান্ত না হয়? তারা যদি তার মাথায় কোনো আইডিয়া প্ল্যান্ট করে আসতে চায়? তখন কি করতে হবে?

আরো গভীরে যেতে হবে, তৃতীয় লেয়ার থেকে চতুর্থ লেয়ার। আর সে লেয়ার থেকে ধপ করে তারা জেগে উঠতে পারবেনা, প্রতি লেয়ার এ তাদের নির্দিষ্ট একটি “কিক” স্থাপন করে যেতে হবে, এবং লেয়ার বাই লেয়ার জেগে উঠতে উঠতে তারা রিয়েলিটি তে পৌছাবে। এবং কোন লেয়ারে ঘুমের গভীরতা কতটা হবে, তা নির্ধারন করে হচ্ছে কেমিস্ট..

 

আজকে বেসিক ধারনা গুলো দিয়ে শেষ করছি, পর্ব ২ এ মুভির বিস্তারিত আলোচনায় যাবো ইনশাল্লাহ।

 

ইন্টারস্টেলার বিশ্লেষণ (শেষ পর্ব)

Now Reading
ইন্টারস্টেলার বিশ্লেষণ (শেষ পর্ব)

এই পর্ব পড়ার আগে ইন্টারস্টেলার বিশ্লেষণ পর্ব ১ ও ২ পড়া থাকতে হবে।

শুরু করি তৃতীয় পর্ব।

তারা ম্যান’স প্লেনেট এ গিয়ে ম্যান কে জাগিয়ে তুলল, সে এই গ্রহের আবহাওয়া বোঝাতে লাগলো তাদের। বলতে লাগলো এখানে ৬ মাস দিন, ৬ মাস রাত থাকে। প্রয়োজনীয় অক্সিজেন আছে। কিন্তু এক পর্যায়ে কুপার বুঝতে পারে এ সব মিথ্যা। ম্যান একা একা এই গ্রহে মারা যাওয়ার সাহস পায়নি, তাই সে সিগনাল দিয়েছিলো নিজে বাচার জন্য, সে কুপার দের একটা শিপ নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে মারা পড়লো.. কুপার রা হারালো আরো কিছু সময়।

শিপে ফিরে গেলো তারা, এর মধ্যে তারা দেখলো মার্ফ এর মেসেজ এসেছে।

ড. ব্রান্ড হাসপাতাল এ অসুস্থ হয়ে মারা গেছে। এমিলিয়া মেসেজ পেয়ে কাদতে কাদতে যেই মেসেজ বক্স বন্ধ করতে যাচ্ছিলো, তখন মার্ফ বলল, তুমি কি জানতে? এমিলিয়া? তুমি জানতে সব মিথ্যা? তোমার বাবা কোনোদিন চতুর্থ মাত্রার সমীকরণ সমাধান করার চেষ্টা করেনি। সে জানতো না কিভাবে করতে হবে? সে মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছে, আর তোমরা পৃথিবীতে আমাদের কে মারা যাওয়ার জন্য ফেলে রেখে চলে গেছো.. তোমরা ভ্রুন নিয়ে গেছো নতুন মানবজাতি জন্ম দেয়ার জন্য, আমাদের কে বাচানোর কোনো উদ্দেশ্য তোমাদের ছিলোনা। আমার বাবা কি জানতো? Did he abandon me? I just want to know this.. Did my father abandon me?

কিন্তু ততক্ষনে তাদের যোগাযোগ মাধ্যম একপক্ষীয় হয়ে গিয়েছিলো। পৃথিবী থেকে মেসেজ আসছিলো কিন্তু মহাকাশ থেকে মেসেজ যাচ্ছিলো না। কুপার এবং এমিলি মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লো.. তাদের কে মিথ্যা আশ্বাস দেয়া হয়েছিলো যে পৃথিবীর মানুষ কে বাঁচানো যাবে..

আসলে ড. ব্রান্ড এর শুধু একটা প্ল্যান ই ছিলো, ভ্রুন গুলো অন্য গ্রহে স্থাপন করে মানবজাতি টিকিয়ে রাখা। পৃথিবীর মানুষ দের বাচানো নয়..

মার্ফ হাল ছাড়েনা, সে চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে। সে তার বয়ফ্রেন্ড কে নিয়ে তার পুরানা বাসায় ফিরে যায়,যেখানে ছোটবেলায় সে থাকতো, যে রুমের বুকশেলফ এ কেউ তাকে মোর্সকোড এর মাধ্যমে কথা বলতো। মার্ফ একটা আশা নিয়ে যায়,তার রুমের সেউ ভুত যদি তাকে কোনো সমাধান দেয়? কুপার রাও এডমুন্ড গ্রহ পায় যা মানুবজাতির বসবাস যোগ্য। তারা ব্ল্যাকহোল এর চারিদিকে পরিভ্রমন করে এডমুন্ড গ্রহে পৌছাতে হবে,কিন্তু ব্ল্যাকহোল তাদের শিপের ভর অনেক বেশী হয়াতে তাদের টানতে থাকে এবং তাদের গতি কমে যেতে থাকে, তখন কুপার সিদ্ধান্ত নেয় তার যা হারানোর হারিয়ে গেছে সে এখন রিস্ক নিয়ে হলেও সিংগুলারিটির সমাধান ব্ল্যাকহোল থেকে সংগ্রহ করবে। সে তার শিপ টি এমিলিয়ার শিপ থেকে ডিটাচ করে ফেলে। কুপার জানে ব্ল্যাকহোল এর যাত্রা তার কাছ থেকে পৃথিবীর হিসাবে ৫১ বছর নিয়ে নিবে, তা জেনেও কুপার ব্ল্যাকহোল এ পরে যায় এবং এমিলিয়ার শিপ এডমুন্ড গ্রহের দিকে যাত্রা করে……..

ব্ল্যাকহোল এ পরার সময় কুপার তার শিপ থেকে ইজেক্ট হয়ে যায় এবং ইনফিনিটি গর্রতে পড়তে থাকে.. তার মনে হচ্ছিলো সে মারা যাচ্ছে, এটা কি আফটারলাইফ? সে প্রশ্ন করতে থাকে নিজেকে..

তার সাথে তার সংগি রোবট টারস ও ব্ল্যাকহোল এ পরে গেছে.. কুপার চারিদিক তাকায় বোঝার চেষ্টা করে সে কি দেখছে? কোনো শেষ প্রান্ত নেই, সে হঠাত লক্ষ্য করে এখানে অসীম সংখ্যার বই স্তরে স্তরে সাজানো.. অনেক অনেক বই, বই এর মধ্য দিয়ে সে হাওয়ায় হাওয়ায় ভেসে বেড়াতে পারছে.. হঠাত কুপার একটি বইয়ের ফাকে মার্ফ কে দেখতে পায়,সেই ছোট্ট মার্ফ.. কুপার চিতকার করে ডাকতে থাকে.. মার্ফ তার ডাক শোনেনা..;

কুপার চিতকার করতে করতে কয়েকটা বই ধাক্কা দেয়,শেল্ফ থেকে পরে যায় বইগুলো.. মার্ফ অবাক হয়ে পেছন ফিরে তাকায়

কুপার ও অবাক!! এই ছোট্ট মার্ফ কে সে বুকশেলফ এর মধ্য দিয়ে কিভাবে দেখছে? কিছুক্ষন এর মধ্যে কুপারের আর বুঝতে বাকি রইলো না সে ৫ম ডাইমেনশন এর মধ্যে আটকা পরে আছে, যা হচ্ছে “সময়”। কে বা কারা সময় কে ফিসিক্যাল রুপ দিয়েছে, আর তা করার জন্য তারা ব্যাবহার করেছে মার্ফ এর রুম টিকে। মার্ফ এর রুমের অসংখ্য ইনফিনিটি মুহুর্ত কে এক করেছে ব্ল্যাকহোল এর ভেতরে। যেখানে কুপার ভেসে বেড়াচ্ছে মার্ফ এর অতীত থেকে বর্তমানের প্রতিটি মুহুর্তে..

এদিকে মার্ফ তার রুমে এসে দাড়িয়ে আছে,তার রুমের সেই ভুত কি তাকে গ্র‍্যাভিটি এর সমাধান দিবে? কিন্তু ইতিমধ্যে গ্র‍্যাভিটি এর সমাধান কুপারের হাতে,কারন সে অলরেডি ৫ম ডাইমেনশন এ আছে, চতুর্থ ডাইমেনশন তার কাছে এখন মোর্সকোড মাত্র। কিন্তু কুপার মার্ফ কে সেই তথ্য কিভাবে পাঠাবে?

হ্যা তার এই ইনফিনিটি ফিসিক্যাল টাইম ডাইমেনশন এর মধ্যে সঠিক মুহুর্ত টা খুজে বের করতে হবে.. মনে আছে কুপার মার্ফ কে একটি ঘড়ি দিয়েছিলো? সেই ঘড়ি ই হতে পারে তাদের সমীকরণ আদান প্রদান এর মাধ্যম। মার্ফ তার রুমে দাড়িয়ে আছে, ঘড়িটি শেল্ফ এ রাখা, হঠাত মার্ফ দেখলো তার ঘড়ির কাটা কোনো একটি মোর্সকোড দেখাচ্ছে.. মার্ফ চিতকার করে উঠলো.. চিতকার করে বলতে লাগলো ” Dad didn’t abandon us!! He saved us!! he was my ghost!! all this time!! he was my ghost!! ” মার্ফ গ্র‍্যাভিটি এর সমীকরণ পেয়ে গেলো। তারপর?? কুপারের কি হলো? যে বা যারা এই ৫ম ডাইমেনশন টি শুধু কুপারের জন্য তৈরী করেছিলো তারা এর ফিসিক্যাল রুপের কাজ শেষ হয়ার পর সব ধ্বংস করে ফেলল, এবং একটি মহাকাশ স্ট্যাশন কুপার কে পেলো। স্ট্যাশন এর নাম ছিলো ” কুপার স্ট্যাশন ” নামকরণ হয়েছে মার্ফ কুপার এর নামে, কারন সে চতুর্থ মাত্রার সমীকরণ সমাধান করেছিলো।

কুপার কে স্ট্যাশন এর তারা জানালো মার্ফ বারবার বলতো সমীকরণ টি সে তার বাবার কাছে পেয়েছে, কিন্তু কেউ বিশ্বাস করেনি.. কুপার তাকিয়ে আছে লোকটির দিকে! কত বছর পার হয়েছে পৃথিবীতে? -৯০ বছর।

মার্ফ? সে কি বেচে আছে?

হ্যা, সে হিমাগারে থেকে অপেক্ষা করেছে আপনার জন্য, সে বলত আপনি তাকে প্রমিস করেছিলেন আপনি ফিরে আসবেন..

কুপার মার্ফ কে দেখতে গেলো.. মার্ফ মৃত্যু পথ যাত্রী। থুরথুরে বুড়ি, কুপার ৩৩ বছরের যুবক।

মার্ফ এর হাতে তার বাবার দেয়া ঘড়িটি। মার্ফ কাদতে লাগলো, “বাবা আমি জানতাম তুমি আসবে.. কিন্তু সন্তানের মৃত্যু কোনো বাবার দেখা উচিত না,তুমি চলে যাও.. –

Cooper- কোথায় যাবো আমি?

Murf- ব্রান্ড এর কাছে, যে একা কোনো এক নির্জন গ্রহে বসতি গড়ছে..”

মানববসতি আবার নতুন করে যাত্রা করছে। স্পেস স্ট্যাশনে গ্র‍্যাভিটি বলতে কিছু নেই, বাড়িঘর গুলো বৃত্তাকারে বানানো, ঠিক যেভাবে তারা কল্পনা করেছিলো।

ইন্টারস্টেলার মুভিটা শুধু সায়েন্স ফিকশন না, এটি মানবিক।

বাবা-মেয়ের মধ্যে যে সুন্দর সম্পর্ক টা দেখিয়েছে তা বলার বাহিরে, ঠিক যে সময় কুপার গ্র‍্যাভিটি এর মোর্সকোড পেয়েছে ঠিক তখন ই মার্ফ তার সেই রুমে উপস্থিত হয়েছে, কারন তাদের বন্ডিং।

মুভিটি নিয়ে আমি একবার ক্লাসে লেকচার দিয়েছিলাম, হাতে কলমে বোঝাতে পাড়লে হয়তো আরো মজার কিছু ইনফরমেশন দিতে পারতাম। এরকম মুভি শুধু এন্টারটেইনমেন্ট ই নয়, অনেক বেশী কিছু শেখা যায় এসব মুভি থেকে। এবং মুভিটি পুরোপুরি ফ্যামিলি মুভি।

IMDB রেটিং : ৮.৬/১০

আমার রেটিং: ১০/১০

অতিমাত্রায় ভক্ত আমি এই মুভিটির। সামনে আরো মুভি নিয়ে আলোচনা করতে চাই, পাঠক যদি নির্দিষ্ট কোনো মুভি নিয়ে আলোচনা করার জন্য রিকুয়েস্ট করেন, অবশ্যই চেষ্টা করবো ইনশাল্লাহ।

ইন্টারস্টেলার বিশ্লেষণ (পর্ব ২)

Now Reading
ইন্টারস্টেলার বিশ্লেষণ (পর্ব ২)

আজকে আলোচনা হবে ইন্টারস্টেলার বিশ্লেষণ পর্ব ২ যারা ১ পড়েন নি তারা ট্র‍্যাক রাখতে পারবেন না, তাই এটা পড়ার আগে ১ পরে আসুন।

 

কুপার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে রেস্কিউ মিশন এ যাওয়ার।

নাসা বেসে কুপার কে বোঝায় তারা চতুর্থ মাত্রা (ডাইমেনশন) নিয়ে কাজ করছে যা হচ্ছে গ্র‍্যাভিটি। কিন্তু পৃথিবী যেভাবে বিষাক্ত হয়ে যাচ্ছে তাতে করে পৃথিবীতে এর বাস্তবায়ন সম্ভব না। মুভিতে দেখিয়েছে অভিকর্ষজ ত্বরন যদি মানুষ সলভ করে ফেলতে পারে তাহলে একটা গ্রহের পুরো ভূপৃষ্ঠ জুড়ে মানুষ থাকতে পারবে। রাস্তা বাড়ি গাড়ি শুধু সমান ভাবে থাকতে হবেনা, তা হতে পারে গোলাকৃতির, এভাবেই কুপার কে বোঝালো নাসা বেসে। এবং সেখানের জন ব্রান্ড তাকে আরো জানায় ১০ বছর আগে ১২ জন স্বেচ্ছাসেবন বিজ্ঞানী ১২ টি আলাদা শিপে করে ওয়ার্মহোল এ যাত্রা করে ১২ টি গ্রহ খোজার সুইসাইড মিশনে যায়। কিন্তু তাদের মধ্যে শুধু ৩ টি গ্রহ থেকে তারা সিগনাল পাঠায় যে ৩ টি গ্রহ প্রানী বসবাসের জন্য যোগ্য। সেই ৩ জন বিজ্ঞানী হলেন মিলার,ম্যান,এডমন্ড। কিন্তু এই মুহুর্তে যাত্রা করার জন্য তাদের কুপারের মত দক্ষ পাইলট লাগবে এবং শুধু মাত্র কুপার রাজী হলেই তাদের রকেট ছেড়ে যাবে। তারা কুপার এর উত্তর এর অপেক্ষা করছে

 

এই রেস্কিউ মিশন এর ২ টি প্ল্যান ছিলো। প্ল্যান A হলো তারা এমন একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ স্পেস স্ট্যাশন বানাবে,যেখানে তারা পৃথিবীর প্রায় সব মানুষ নিয়ে যাবে,কিন্তু এই প্ল্যান A সম্পুর্ন করতে তাদের গ্র‍্যাভিটি এর ইকুয়েশন সলভ করতে হবে যা ইতিমধ্যে ড. ব্রান্ড বলেছেন তিনি এগিয়ে গেছেন অনেকটা। আর প্ল্যান B হচ্ছে ওই ৩ টি গ্রহের মধ্যে মানব বসতি স্থাপন করতে হবে,এতে করে তারা যাত্রা করার সময় হিমায়িত কিছু ভ্রুন সংগে করে নিয়ে যাবে। কুপার কে ড. ব্রান্ড নিশ্চিত করলো তোমার সন্তান দের প্রজন্মের জন্য এই পৃথিবীতে আর কিছু নেই..

 

 

কুপার মহাকাশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো,মার্ফ প্রচন্ড রকম আপসেট। সে চাচ্ছেনা তার বাবা তাকে ছেড়ে যাক। মার্ফ দরজা বন্ধ করে বসে আছে তার রুমে। একা একা। হঠাত সে আবার লক্ষ্য করলো তার বুকশেলফ এর বইগুলো আবার সুবিন্যস্ত ভাবে একটা একটা করে পরে যাচ্ছে, এবার মার্ফ বই থেকে মোর্সকোড বের করা শুরু করলো, ঠিক যেভাবে তার বাবা বালুরেখা থেকে মোর্সকোড বের করেছিলো। মোর্সকোড দিয়ে মার্ফ খাতায় লিখলো, উত্তর আসলো : STAY. মার্ফ চিতকার করে কুপার কে বলতে লাগলো, মার্ফ এর রুমের ভুত টা তাকে সতর্ক করছে যেনো কুপার না যায়। কুপার শুনলো না, সে মার্ফ কে একটা ঘড়ি দিলো। দিয়ে বলল, মার্ফ তোমার বয়স এখন ১০ বছর, আমার ৩৩. আমি শুনেছি অনেক গ্রহে নাকি সময় পৃথিবীর চেয়ে অনেক দ্রুত যায়,আচ্ছা এমন ও তো হতে পারে, যখন আমি ফিরে আসবো তখন তোমার আর আমার বয়স সমান থাকবে? মার্ফ চুপ করে রইল। সে মানতে চায়না। তার বাবা চলে যাচ্ছে আর কোনো দিন আসবে কিনা সে জানেনা.. আর কে বা কারা থাকে বুকশেলফ এর মাধ্যমে মোর্সকোড পাঠাচ্ছে? মার্ফ জানেনা। মার্ফ কিচ্ছু জানেনা।

 

যাওয়ার আগে এমিলিয়া ব্রান্ড যে কুপার এর মহাকাশ যাত্রায় সংগি হচ্ছে সে মার্ফ একটি টেপ রেকর্ড করার ক্যাসেট দিয়ে যায়, যার মাধ্যমে পৃথিবী থেকে মহাকাশে তারা যোগাযোগ করতে পারবে। টম টেপ টি নিয়ে যায়। মার্ফ কে কোথাও দেখা যায়না। চলে যায় কুপার।

 

২ বছর তারা ক্রায়োস্লিপ এ থাকার পর ঘুম থেকে ওঠে মেসেজ গুলো চেক করে, সে দেখে টম কথা বলছে,কিন্তু মার্ফ কে সে দেখতে পায়না..

তারা তাদের প্রথম মিশনে যায়, মিলারস প্লেনেট এ। যেখানে নামার সময় এমিলিয়া ফিল করে কোনো একটি হাত যেনো তাকে স্পর্শ করে গেলো। মিলারস প্লেনেট এর ১ ঘন্টা পৃথিবীর হিসাবে ৭ বছর। মিলারস প্লেনেটের গ্র‍্যাভিটি অতিমাত্রায় বেশী হয়ায় সময় খুব আস্তে ভ্রমন করে, কিন্তু এখানে ১ ঘন্টা যেতে যেতে পৃথিবীতে ৭ বছর অতিক্রান্ত হয়ে যায়।

দুর্ঘটনা বসত তারা মিলারস প্লেনেট এ ৩.২৪ ঘন্টা প্রায় পার করে ফেলে। শিপে ফিরে এসে তারা দেখে ২৩ বছর পার হয়ে গেছে.. সবাই হতভম্ব।

পৃথিবীতে এখন ২০৯০ সাল???? ভাবা যায়না।

কুপার দ্রুত এসে ভিডিও মেসেজ অন করে,সে দেখে টম বিয়ে করেছে, তার ছোট বাচ্চা হয়েছে, তার ফাদার ইন ল মারা গেছে.. কত পরিবর্তন!!! সে মেসেজ বক্স টি বন্ধ করতে নেয়,তখন ই সে দেখে মার্ফ কে.. মার্ফ…!! সে তরুনী!!

মার্ফ এর জন্মদিন আজকে,সে তার বাবাকে বলছে, বাবা আমার বয়স আজকে ৩৩। তোমার মনে আছে তুমি বলেছিলে তুমি যেদিন ফিরে আসবে সেদিন হয়তো আমাদের ২ জনের বয়স সমান হবে। তো, আমার মনে হয় আজকে ফিরে আসার জন্য খুব ভালো সময়, তাইনা বাবা???

 

কুপার শক্ত হয়ে বসে আছে চেয়ারে। তার আর তার মেয়ের বয়স আজকে সমান। কুপার হোমে ফিরে যেতে চায়..শিপে আর যা কিছু আছে তা নিয়েই.. সে চিতকার করতে লাগলো.. সে বলল সময় কি পেছানো যায়না? এই ২৩ বছর হারিয়ে ফেলা সময় কি ফিরে পাওয়া যায়না?

এমিলিয়া ব্র‍্যান্ড তাকে বাধা দেয়। ফিরে গেলে চলবে না.. সময় বাকানো যায়, স্কুইজ করা যায়,সময় এর পাশ কেটে তার ফলাফল পরিবর্তন করা যায়,কিন্তু সময় পেছানো যাবেনা। বাকি প্ল্যানেট ২ টা আমাদের খোজ করতে হবে, প্রানের খোজ করতে হবে আমাদের.. এদিকে পৃথিবীতে ড. ব্রান্ড চতুর্থ মাত্রার সমীকরণ সমাধান এর চেষ্টা করছে,তাকে সাহায্য করছে মার্ফ। কিছুতেই তারা সমাধান করতে পারছেনা। কুপার রওনা হচ্ছে দ্বিতীয় গ্রহের উদ্দেশ্যে। ম্যান’স প্লেনেট, এই গ্রহ থেকেও সিগনাল এসেছে। এখানে প্রানের চিহ্ন আছে। প্রান খুজতে হবে।

 

বাকি অংশ আলোচনা হবে তৃতীয় পর্বে।

 

.

 

 

ইন্টারস্টেলার বিশ্লেষণ (পর্ব ১)

Now Reading
ইন্টারস্টেলার বিশ্লেষণ (পর্ব ১)

ইন্টারস্টেলার এমন এক মুভির নাম, যা বানাতে গিয়ে ৩ জন বিজ্ঞানী মহাকাশ নিয়ে গবেষনা করেন এবং মুভিতে যা যা দেখানো হয়েছে তার প্রায় ৯৫% বৈজ্ঞানিক ভাবে এবং থিওরিটিকাল ভাবে প্রুভ করা। বিশেষ করে সাইন্স এর স্টুডেন্টস দের জন্য এটি একটি ভালো লেসন, যা টাইম ট্রাভেলিং, থিওরি অব রিলেটিভিটি, ডাইমেনশন, প্যারালাল ইউনিভার্স, সিংগুলারিটি এবং মহাকাশ এর অন্যান্য বিষয় নিয়ে যথেষ্ট জ্ঞান দিতে সক্ষম। এই মুভি দেখার পর অনেকেই বলে ভালো লাগেনাই, এর মধ্যে প্রধান একটা কারন মুভিটি সঠিক ভাবে না বোঝা। মুভিটি যদি কেউ পুরোপুরি বুঝতে পারে & হিসেব গুলো মিলাতে পারে, তবে অবশ্যই এটি আনন্দ লাগবে।

এই মিশনে তাদের “Murphy’s law” মাথায় রাখতে হবে।

ল’ টি হচ্ছে “whatever can go wrong, will go wrong” অর্থাৎ যা কিছু পেচ লাগার সম্ভাবনা আছে তা পেচ লাগবেই,..

কথায় আছেনা আমরা কোনো বান্ডেল এর মধ্যে প্রয়োজন এর একটা কাগজ খোজার জন্য বান্ডেল এর ওপর থেকে খোজা শুরু করলে কাগজ টা থাকে ঠিক নিচে, আর নিচে থেকে খোজলে কাগজ টা থাকে ঠিক ওপরে..

আবার রাস্তায় যে সাইড দিয়ে আমরা যাই ওই সাইড এই খালি জ্যাম টা থাকে,অন্য সাইড কেনো ফাকা?

এই অদ্ভুত পরিস্থিতি ই হচ্ছে মারফি’স ল’। এই অবস্থায় মুভিতে মোট ৫ টি ডাইমেনশন দেখানো হয়েছে, এর মধ্যে ৩ টির সাথে আমরা পরিচিত। তা হলো দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতা..

চতুর্থ ডাইমেনশন এখানে দেখানো হয়েছে গ্র‍্যাভিটি অর্থাৎ অভিকর্ষজ ত্বরন এবং পঞ্চম দেখানো হয়েছে সময়। বিস্তারিত আলোচনা হবে দ্বিতীয় পর্বে।

এখন প্রথম পর্ব শুরু করি,

পৃথিবী ময়লা আবর্জনাপূর্ণ। প্রাকৃতিক দূর্যোগ,খরা,বালুঝড় ইত্যাদি ঘিরে ফেলেছে পৃথিবী কে.. মানবজাতির অস্ত্বিত্ত হুমকির মুখে। শুধু একটি পথ ই খোলা আছে এই হুমকির মুখ থেকে মানব জাতিকে রক্ষা করার… ইন্টারস্টেলার ট্রাভেল।

অর্থাৎ সৌরজগৎ ভ্রমন। নতুন একটি ওয়ার্মহোল আবিষ্কৃত হয়েছে,যার মধ্য দিয়ে মানুষ হয়তো নতুন কোনো গ্রহের সন্ধান পেতে পারে যেখানে মানুষ নতুন করে আবার জীবন শুরু করতে পারবে,আবার বুক ভরে শ্বাস নিতে পারবে ফসল ফলাতে পারবে। পৃথিবী ধ্বংসের মুখে। এই পৃথিবীতে ইঞ্জিনিয়ার এর কোনো মূল্য নেই, মূল্য আছে কৃষক এর, যে কিনা এক আনি ফসল ফলাতে পারবে.. বিষাক্ত এই পৃথিবীতে ধুলিঝর গ্রাস করে ফেলছে সব ফসল, দুর্ভিক্ষ হানা দিচ্ছে পৃথিবীতে.. এমন ই এক বিষাক্ত পৃথিবীতে বাস করে কুপার, তার একমাত্র ১০ বছরের মেয়ে মার্ফ এবং তার ছেলে টম কে নিয়ে। তাদের সাথে আছে কুপার এর ফাদার ইন ল।

একদিন সকালে মার্ফ ঘুম থেকে উঠে দেখলা তার বুক শেল্ফ এর বইগুলো মাটিতে পরে আছে। সব বই না, কিছু কিছু বই.. কেউ যেনো সতর্ক ভাবে বেছে বেছে তার সেল্ফ থেকে কয়েকটা বই ফেলে দিয়েছে.. মার্ফ বই গুলো উঠিয়ে রাখলো… ভুলে গেলো সেদিনের কথা। পরের দিন সকালে উঠে দেখে এক ই কান্ড, সেল্ফের বই গুলো মাটিতে পরে আছে। সে বুঝতে পারছে না ঘটনা কি। মার্ফ কুপার কে ডাকলো,ডেকে বলল সব কিছু.. কুপার বিশ্বাস করলো না,বলল হয়তো বা বাতাসে পড়ে গেছে বই। কিন্তু ঘটনা এখানেই থামলো না। একদিন মারাত্মক ধুলিঝর এ তাদের সারাঘর ধুলোয় ভরে গেলো। মার্ফ এবং কুপার মার্ফ এর রুমে গিয়ে অবাক হয়ে দেখলা রুমের এক কোনায় বালু গুলো আলাদা আলাদা গুচ্ছো আকারে পরছে, যেনো কেউ বালু গুলো কোথায় পড়বে তা সুবিন্যস্ত ভাবে সাজিয়ে রেখেছে.. মার্ফ কুপার কে বিজয়ীর ভংগিতে বলল, দেখলেতো? বললাম না আমার রুমে ভূত আছে?

কুপার একটা ছোট কয়েন এনে সুবিন্যস্ত বালুর দিকে লক্ষ্য করে সোজা ছুড়ে মারলো, সে দেখলো  যে অংশ টাতে বালু নেই সেদিক থেকে কয়েন টা চুম্বক এর মত সরে গিয়ে যেদিকে বালু পরছে সেদিকে গিয়ে পরলো..

কুপার হাসি দিয়ে বলল “Its not a ghost, its gravity ”

কেউ যেনো সুকৌশলে মার্ফ এর রুমের অভিকর্ষজ ত্বরন কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছিলো।

কুপার এবার এই বালুরেখার অর্থ বুঝতে বসলো, কিছুক্ষন লক্ষ্য করার পরে সে দেখতে পেলো বালুগুলো বাইনারী সংখ্যা অনুযায়ী পরছে। কুপার একটা মানচিত্র নিয়ে এর অর্থ বের করতে বসলো, সে অবাক হয়ে লক্ষ্য করলো বালুরেখাটি কোন একটি নির্দিষ্ট অক্ষরেখা & দ্রাঘিমারেখা নির্দেশ করছে.. কুপার দেরী না করে গাড়ি নিয়ে বালুরেখার গন্তব্যে রওনা হলো। অর্ধেক পথ গিয়ে সে দেখলো গাড়ির সিট এর নিচে মার্ফ লুকিয়ে আছে, তার আগ্রহের সীমা নেই। মার্ফ তার বাবার মত বাইনারী কোড এর অর্থ জানতে চায়..

গন্তব্যে পৌছে কুপার একটি নাসা(NASA) বেস দেখতে পেলো,যারা প্রস্তুতি নিচ্ছে নতুন গ্রহ খুজতে যাওয়ার জন্য এবং কুপারের পাইলট পেশনে যথেষ্ট দক্ষতা থাকায় কুপার কে তারা চাচ্ছে তাদের রকেট এর পাইলট হিসেবে রওনা দেয়ার জন্য। কুপার এর দিকে তারা ঠেলে দিলো বিশাল এক  চয়েস, হয় সে পৃথিবীতে তে থাকবে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মের ধীর মৃত্যু দেখবে, অথবা সে তার পরিবার আর কখনো না দেখার সম্ভাবনা নিয়ে সুইসাইড মিশনে পাড়ি জমাবে?

এমন এক ওয়ার্মহোল দিয়ে প্রবেশ করবে তারা যেখানে আগে কেউ যায়নি, কি আছে সেখানে?

যা আর কেউ জানেনা?

কি সিদ্ধান্ত নিবে কুপার?

মার্ফ কে কিভাবে বুঝাবে সে?

 

 

বিশ্লেষণ করবো  মুভি এর বাকি অংশ এরপরের লে