ভূতুড়ে গ্রাম

Now Reading
ভূতুড়ে গ্রাম

আজব এক গ্রাম ! চারিদিকে শুধু গাঢ় সবুজের ঘন বন ! গা ছমছমে শুনশান পরিবেশ। মনে হয় এ গ্রামে কোন মানুষ নেই, আবার কদাচিৎ দু চারজনকে চোখেও পড়ে যায় ! তবে দিনের আলো থাকতেই যে যার ঘরে ফিরে আসে এবং ভুল করেও আর কেউ দরজা খুলে বাইরে বের হয়না। কেমন যেন আতঙ্কে বসবাস করে এখানকার মানুষজন। তাদের সেই অজানা আতঙ্ক ভেদ করে আদিখ্যেতার সম্পর্ক গড়ে তোলা অসম্ভব। তবুও নিজেদের প্রয়োজনেই আগ বাড়িয়ে সম্পর্ক তৈরী করার চেষ্টা !

পাহাড়ের গা ঘেঁষে ছোট্ট গ্রামটি। লোকসংখ্যাও কম এবং শান্ত পরিবেশ। সন্ধ্যার পরে যেন আরো ভয়ঙ্কর‌ শান্ত থাকে গ্রামটি। কখনও থেকে থেকে শেয়ালের ডাক আর বন্য কুকুরের কখনও ডাকাডাকি আবার কখনও একদমই নীরবতাকে ভেদ করে কুকুরের অস্বাভাবিক কান্না !

আর মাঝে মাঝে দূর জঙ্গল থেকে কেমন এক অচেনা কোন পশুর ডাকের আওয়াজ ভেসে আসে। কিন্তু খেয়াল করতে গেলেই থেমে যায় ডাকটি ! সত্যিই কেমন যেন অস্বাভাবিক লাগে পরিবেশ। তবে খুব একটা গুরুত্ব না দেয়ার চেষ্টা করে নতুন আসা দম্পতি। মানুষগুলোও তেমন আগ্রহী নয় কেউ কারো সাথে আলাপচারিতায়। সব যেন নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত। সন্ধ্যাটা জানালা খুলে দেখছিলো নীলা আর স্বামী ফেরার অপেক্ষা করছিলো।খেয়াল করল একঝাক মানুষ এলো এবং নিজেদের ঘরে ঢুকেই দরজা বন্ধ করে দিলো কিন্তু মুখে কোন কথা নেই। আশ্চর্যের কথা হল, এত তাড়া কিসের সবার ঘরে ফেরার !

নীলার স্বামী ফিরলে নীলাও যেন নিশ্চিন্ত হল ! নীলার স্বামী রাজু জানায়, বাড়ি ফিরতে যেদিন ভরা সন্ধ্যা হয়ে যায় সেদিন জঙ্গলের পাশ থেকে যে রাস্তা ধরেই আসতে হয়, ঐ পথ দিয়ে হাঁটার সময় মনে হয় কিছু একটা পেছনে ফিরতে বাধ্য করে আর পেছনে ফিরলেই একটা অদ্ভূত মায়ার সৃষ্টি হয় ! যেন জঙ্গলটি কাছে ডাকছে !

একদিন নিকটবর্তী প্রতিবেশীর কাছ থেকে অদ্ভূতুড়ে রহস্যের জাল ভেদ করার চেষ্টা করে নীলা ও তার স্বামী ! কুশল বিনিময় শেষে জানতে চাইলে অপ্রস্তুত হয়ে গেলেও আরো কিছু রহস্যে ঘেরা ঘটনা শুনে হতবাক হয়ে যায় ওরা !

ঘটনাগুলো এমন যে,

– সন্ধ্যার পরে যারাই একাকী বের হয় তারা আর জীবিত ফেরেনা। অদ্ভূত অঙ্গভঙ্গী এবং রক্তশূণ্য মৃতদেহ পাওয়া যায় বনের ভেতরে অথবা পাহাড়ের চূড়ায় ! আবার কাউকে আর খুঁজেই পাওয়া যায়না কোনদিন। অনেকে অন্ধকারে দূর জঙ্গলে এক প্রকারের অশরীরি পশুর মতন কিছু দেখতে পেয়েছে কিন্তু দিনের বেলায় হাজার চষেও এমন কিছু দেখা যায়নি। এগুলো কি এবং কোথায় থাকে কেউ জানেনা। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছে ওরাও দলবদ্ধ থাকে। এমনকি পোষা প্রাণীও যদি বাইরে বের হয় তবে পরদিন মৃত পাওয়া যায়। আর প্রায়ই অদ্ভূত অচেনা কোন প্রাণীর ডাক শোনা যায়। ডাকটি খেয়াল করে শুনলে কেমন যেন ঝিম ধরে যায় ! আর নিজের অজান্তেই অনেকে ভুল করে বাইরে বের হলে সে আর ফেরেনা ! আবার কখনও হঠাৎ করে থেমে যায় ডাকটি !

বনবিভাগকে জানানো হয়েছিলো। তারপর তারা একটি টিম এবং সাহসী কিছু গ্রামবাসী সারাদিন, রাত এক করে খুঁজেছে কিন্তু কোন পশু, প্রাণী কোন কিছুরই অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তারপর সবাই বেশ নিশ্চিন্তে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও আমোদফূর্তিতে দিন যাপন করতে লাগলো। সব ভয় যেন মিলিয়ে গেছে এবং হঠাৎ একদিন আবার রহস্যজনকভাবে একের পর এক হারিয়ে যেতে লাগলো, অনেকের মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া গেলেও অনেকের মৃতদেহ আর খুঁজেও পাওয়া গেলনা। তখন সবাই নিশ্চিত হল যে কোন রাক্ষস অথবা অশরীরি কিছইু হবে। ওরা রাতের অন্ধকারে শিকারে বের হয় !

তারপরে অনেকেই গ্রাম ছেড়ে চলে গেছে কিন্তু নিতান্ত নিরুপায় যারা বা পৈতৃক সম্পত্তির টান যারা উপেক্ষা করতে পারেনি তারাই থেকে গেছে এ গ্রামে। কিন্তু কেউ জীবনের ভয়ে সন্ধ্যার পরে একা বের হয়না।

আজকাল দলবদ্ধভাবেও তেমন কেউ বের হয়না। সবাই বিকেলেই কাজ শেষ করে ঘরে ফিরে দরজা জানালা বন্ধ করে দেয়। হাজার কান্না বা শব্দেও বের হয়না কেউ। ভয় কাটানোর জন্য সন্ধ্যা রাতেই ঘুমিয়ে পড়ে আবার কেউ কেই ধর্ম কর্ম নিয়েই ব্যস্ত থাকে আবার কেউ কেউ বিনোদনের ব্যবস্থা করে নিজের ঘরে। যেন ঐ ঝিম ধরা আওয়াজ বা ডাক শুনতে কেউ না পায় !

একদিন সকালে প্রতিবেশীর থেকে বিদায় নিয়ে নতুন আসা দম্পতি চলে যায় ভূতুরে গ্রাম ছেড়ে! তবে যাবার আগে আরেকটি ঘটনা বলে যায় আর সাবধান করে দিয়ে যায় !

ঘটনাটি হল, আগের রাতে সেই ঝিম ধরা ডাক শুনে তাদের পোষা কুকুরটি জানালা দিয়ে বাইরে চলে যায় ! কুকুরটির খোঁজে নীলাও দরজা খুলে বাইরে এক পাঁ রাখতেই স্বামী তাকে আটকায় ! সেই মুহূর্তে তারা দুজনেই তাদের বাড়ির আশে পাশে কোন কিছুর অস্তিত্ব অনুভব করে। তারপর দরজা বন্ধ করে দিয়ে ভয় সংশয় নিয়ে সারারাত পোষা কুকুরটির ভাবনায় বসে থাকে। কিন্তু খুব সকালে তারা কুকুরটির খোঁজে বের হলে কুকুরটির অর্ধেক অংশ খুঁজে পায় পেছনের দিকটায় ! এই ঘটনার পরে তারা গ্রাম ছেড়ে যাবার সিদ্ধান্ত নেয় এবং চলেও যায় চিরদিনের জন্য…।

একটি রুপকথার গল্প

Now Reading
একটি রুপকথার গল্প

খুব ছোটবেলায় দাদার থেকে শোনা একটি গল্প।

একদেশে এক সুখী রাজা ছিলেন আর ছিলো তাঁর অপরুপ সুন্দরী , গুণবতী প্রাণপ্রিয় রাণী। রাণীর রুপ আর গুণের চর্চা পুরো রাজ্য জুড়ে ছিলো। তবে রাণী তাঁর সুশ্রী চেহারা সবসময় পর্দার আড়ালে রাখতেন। কারণ যে তাঁকে দেখতো সে আর চোখ ফেরাতে পারতো না। আর সুখী রাজা রাণীর ছিলো দুটি ফুটফুটে সন্তান। সুখী রাজার দেশে প্রজারাও বেশ সুখ শান্তিতে বসবাস করতো।

একদিন রাণীর খুব মন খারাপ। অনেকদিন হয়ে গেলো রানী বাবার বাড়ি যায়নি। রাণী বাবার বাড়ি যাবার আবদার করলো রাজার কাছে। কিন্তু রাজা তো রাণীকে ছাড়া একমুহূর্তও থাকতে পারেনা সে রাজিও হল না। সে বললো, “এইতো সেদিন নেমন্তন্নে সবাই এখানে এসেছিলেন। সবাই বেশ ভালো আছে। সেদিন সবার সাথে দেখাতো হয়েছেই, এখন যেতে দেব না ক’দিন পরে আমি যাওয়ার বন্দোবস্ত করে দেব ! ”
আরো কিছুদিন পরে যেতে বললেন রাজা। রাণী রাজাকেও সাথে যাবার অনুরোধ করলো কিন্তু রাজা রাজ্যের কাজে ব্যস্ত বলে সে যেতে পারবেনা জানালো। রাণী আবার মন খারাপ করে রাজার প্রতি অভিমান করে বসে রইলো। রাণীর অভিমান রাজা সইতে পারেনা। তাই সে রাজি হয়ে গেলেন। কিন্তু তাদের এই বিচ্ছেদ যে খুব লোমহর্ষক খুব বেদনার জন্ম দেবে তা কেউ বুঝতে পারেনি !
তারপর নির্দিষ্ট দিনে রাজা অনেক পাহারাদার এবং পালকী ঠিক করলেন রাণীর যাবার জন্য। রাণীর সাথে দুজন দাসীও ছিলো। অবশেষে তিনদিনের জন্য বিদায় নিয়ে চললেন কিন্ত সন্তানদের সাথে নিলেন না। অনেক দূরের পথ আর প্রচন্ড খরার দিন। বাচ্চাদের কষ্ট হবে ! তাছাড়া এইতো তিনদিন পরেই তো ফিরে আসবেন রানী।
রাণী বিদায় হয়ে গেলেন, তাঁর সুখের রাজ্য, সুখের সংসার, তাঁর প্রাণপ্রিয় রাজা আর ফুটফুটে বাচ্চাদের রেখে বিদায় হলেন চিরতরে ! তবে যাবার মুহূর্তে রাজা এবং রাণী অজানা কারণে কেঁদে বিদায় দিলেন একে অপর থেকে….!
যাত্রাপথে চলতে চলতে সবাই ক্ষুধা তৃষ্ণায় ক্লান্ত হয়ে পড়লো ! তখন সবাই পালকী রেখে একটু বিশ্রাম নিতে গাছতলায় বসলো। রাণীও বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। হঠাৎ অদূরে একটি পরিত্যক্ত দিঘী দেখতে পেলেন। স্বচ্ছ টলমলে জল দেখে রাণীর খুব লোভ হল সেই জলে পাঁ ভেজাতে, সেই স্বচ্ছ জল পান করতে। সে পেয়াদাদের বললেন, তাঁকে ঐ জলে কাছে নিয়ে যেতে ! নিয়ে গেলো তারা আর তাঁর সাথে দাসী দুজনও । রাণী তাদের সবাইকে দিঘীর পাশে অপেক্ষা করতে বলে দিঘীর জলে নামলেন। অসম্ভব সুন্দর মনোরম পরিবেশ আর দিঘীর লোভনীয় টলমলে জল। তিনি পানি পান করলেন এবং পাঁ ভিজিয়ে একটু আরাম করলেন। তারপর যখন উঠে আসবেন তখন হঠাৎ দেখলেন তাঁর পাঁয়ের কাছে কালো চুলের মতন কিছুতে পাঁ জড়িয়ে আটকে গেছে। রাণী অনেক চেষ্টা করেও পাঁ ছাড়াতে পারলেন না ! রাণীর পাঁ তুলতে সবাই চেষ্টা করলো কিন্তু কেউ পারলো না। যতই পাঁ ছাড়াতে চেষ্টা করছে ততোই পাঁ আরো আটকে যাচ্ছে। রীতিমত কান্নাকাটির রোল পড়ে গেল ! কয়েকজন পাহারাদার জলদি রাজাকে আনতে গেলো। খবর শুনে রাজা পাগলপ্রায় ছুটে আসলো। তিনদিন চেষ্টা করতে‌ লাগলো সবাই কিন্তু কেউই রাণীর পাঁয়ে জড়ানো চুল কেটে পাঁ তুলতে পারলোনা। আস্তে আস্তে রাণীকে জলের দিকে আরো টেনে নিয়ে যাচ্ছে যেন কোন শক্তি ! সবাই দেখছে কিন্তু কেউ কিছুই করতে পারছে না ! রাণী ক্লান্ত হয়ে রাজাকে জড়িয়ে একটু ঘুমিয়ে পড়লেন। তখন রাণী স্বপ্নে দেখতে পেলেন যে, কেউ তাঁকে অভিশাপ দিয়ে বলছে, ” এই জলে কেন পাঁ রেখেছিস ! আমাদের বিরক্ত কেন করলি ? জলে আলোড়ন করে আমাদের বিরক্ত করেছিস তুই ! তোকে এখন জলের গভীরে আমাদের অন্ধকার রাজ্যে আসতে হবে , আর কোনদিন তুই ফিরে যেতে পারবি না !”

রাণীর ঘুম ভেঙে গেলো। রাণী ভয়ে, রাজা আর সন্তানদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্টে অঝরে কাঁদতে লাগলেন রাজাকে জড়িয়ে। আর বিদায় নিয়ে অনিচ্ছা সত্বেও একটু এজটু দিঘীর জলে তলিয়ে গেলেন……শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত একে অপরের হাত ধরে রাখলেন..‌ কিন্তু একসময় আর রাণীকে খুঁজে পাওয়া গেলনা।
আর কোনদিন রাণী উঠে আসলেন না জল থেকে। আর রাজা রাজ্য ছেড়ে দিঘীর পাশে অপেক্ষা করতে করতে একদিন মৃত্যুবরণ করলেন। তারপর রাজাকে ঐ দিঘীর পাড়ে সমাধি করা হল। তাদের সন্তান একদিন বড় হয়ে রাজ্যের সব দায়িত্ব বুঝে নিলো। রাজ্যের সবাই আবার আগের মত সুখী হল কিন্তু রাজা আর রাণীকে আজও রাজ্যের মানুষ স্মরণ করে চোখের জল ফেলে…।

 

এরকম কত গল্প হয়তো ছোটবেলায় অনেকেই শুনেছি। আরো কিছু গল্প সামনে লিখব যদি ভালো লাগে পাঠকদের…।

ভয়ঙ্কর সুন্দর গ্রাম ! শুধু গল্প নয় বাস্তবতাও বটে !

Now Reading
ভয়ঙ্কর সুন্দর গ্রাম ! শুধু গল্প নয় বাস্তবতাও বটে !

পাহাড়ের পাদদেশে আজব এক গ্রাম ! চারিদিকে শুধু গাঢ় সবুজের ঘন বন ! অসম্ভব সুন্দর আবার বলা যায় ভয়ঙ্কর সুন্দর গ্রাম ! এত সুন্দর গ্রাম ছবিতেও দেখা যায়না অথচ গা ছমছমে শুনশান পরিবেশ! মনে হয় এ গ্রামে কোন মানুষ নেই, আবার কদাচিৎ দু চারজনকে চোখেও পড়ে যায় ! কিন্তু দিনের আলো থাকতেই যে যার ঘরে ফিরে আসে এবং ভুল করেও কেউ দরজা খুলে বাইরে বের হয়না। কেমন যেন আতঙ্কে বসবাস করে এখানকার মানুষজন। কিন্তু কেন !?

তাদের সেই অজানা আতঙ্ক ভেদ করে আদিখ্যেতার সম্পর্ক গড়ে তোলা অসম্ভব। তবুও নিজেদের প্রয়োজনেই আগ বাড়িয়ে সম্পর্ক তৈরি করার চেষ্টা নতুন আসা এক দম্পতির।

এত সুন্দর গ্রাম তবু কেন জানি থাকতে মন সায় দিচ্ছে না ! ছোট্ট গ্রামটিতে সন্ধ্যার পরে ভয়ঙ্কর‌ নীরবতা নেমে আসে। কখনও থেকে থেকে শেয়ালের ডাক আর বন্য কুকুরের কখনও ডাকাডাকি আবার কখনও একদমই নীরবতাকে ভেদ করে কুকুরের অস্বাভাবিক কান্না চলে সারারাত !

আরেকটি বিষয় খুব অদ্ভূত আর অস্বাভাবিক ! এখানে মাঝে মাঝে দূর জঙ্গল থেকে অচেনা কিছুর ডাক শুনতে পাওয়া যায়। কিন্তু খেয়াল করতে গেলেই থেমে যায় ডাকটি ! আবার কেমন যেন অস্বাভাবিক অনুভূতি হয় ! সত্যিই অস্বাভাবিক এই যায়গাটা।

তবে খুব একটা গুরুত্ব না দেয়ার চেষ্টা করে নতুন আসা ভিনদেশী দম্পতি। এ গ্রামের মানুষগুলোও তাদের প্রতি তেমন আগ্রহী নয় আলাপচারিতায়। সব যেন নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত। সন্ধ্যাটা জানালার পাশে বসে উপভোগ করছিল এ্যানা আর স্বামী ফেরার অপেক্ষা করছিল। হঠাৎ খেয়াল করল সবাই যে যার ঘরে ঢুকে দরজা, জানালা বন্ধ করে দিলো আর সবার যেন একটি তাড়া ছিল এবং আতঙ্কিত। কিন্তু কেন?

এ্যানার স্বামীও ফিরল। কিছুটা যেন নিশ্চিন্ত হল এ্যানা। স্বামী রকি ফিরে এসে আরেকটি অদ্ভূত কথা বলল ! বাড়ি ফিরতে যেদিন ভরা সন্ধ্যা হয়ে যায় রকির, সেদিন জঙ্গলের পাশ থেকে যে রাস্তা ধরেই আসতে হয়, ঐ পথ দিয়ে হাঁটার সময় মনে হয় কিছু একটা পেছনে ফিরতে বাধ্য করে আর পেছনে ফিরলেই একটা অদ্ভূত মায়ার সৃষ্টি হয় জঙ্গলের প্রতি ! যেন জঙ্গলটি কাছে ডাকছে !

একদিন নিকটবর্তী প্রতিবেশীর কাছ থেকে অদ্ভূতুড়ে রহস্যের জাল ভেদ করার চেষ্টা করে ওরা ! কুশল বিনিময় শেষে জানতে চাইলে অপ্রস্তুত হয়ে গেলেও পরে তাঁরা কিছু রহস্যে ঘেরা ঘটনার বর্ণনা দেয় যা শুনে হতবাক হয়ে যায় ওরা ! ঘটনাগুলো এমন যে,

” সন্ধ্যার পরে যারাই একাকী বের হয় তাদের অধিকাংশই আর জীবিত ফেরেনা। অদ্ভূত অঙ্গভঙ্গি এবং রক্তশূণ্য মৃতদেহ পাওয়া যায় বনের ভেতরে অথবা পাহাড়ের চূড়ায় ! আবার কাউকে আর খুঁজেই পাওয়া যায়না কোনদিন। অনেকে অন্ধকারে দূর জঙ্গলে এক প্রকারের অশরীরী পশুর মতন কিছু দেখতে পেয়েছে কিন্তু দিনের বেলায় হাজার চষেও এমন কিছু দেখা যায়নি। এগুলো কি এবং কোথায় থাকে কেউ জানেনা। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছে ওরাও দলবদ্ধ থাকে। এমনকি পোষা প্রাণীও যদি বাইরে বের হয় তবে পরদিন মৃত পাওয়া যায়। আর প্রায়ই অদ্ভূত অচেনা কোন প্রাণীর ডাক শোনা যায়। ডাকটি খেয়াল করে শুনলে কেমন যেন ঝিম ধরে যায় ! আর নিজের অজান্তেই অনেকে ভুল করে বাইরে বের হলে সে আর ফেরেনা ! আবার কখনও হঠাৎ করে থেমেও যায় ডাকটি !

বনবিভাগকে জানানো হয়েছিলো। তারপর তারা একটি টিম এবং সাহসী কিছু গ্রামবাসী সারাদিন, রাত এক করে খুঁজেছে কিন্তু কোন পশু, প্রাণী বা অদ্ভূত কোন কিছুরই অস্তিত্ব পায়নি। তারপর সবাই বেশ নিশ্চিন্তে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও আমোদফূর্তিতে দিন যাপন করতে লাগলো। সব ভয় যেন মিলিয়ে গেছে ! কিন্তু হঠাৎ একদিন আবার রহস্যজনকভাবে একের পর এক হারিয়ে যেতে লাগলো মানুষ, গৃহপালিত পশু ! অনেকের মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া গেলেও কারো কারো কোন অস্তিত্বই আর খুঁজে পাওয়া গেলনা। তখন সবাই নিশ্চিত হল যে কোন রাক্ষস অথবা অশরীরী কিছুই হবে। ওরা রাতের অন্ধকারে শিকারে বের হয় !

এসব ঘটনার পরে অনেকেই গ্রাম ছেড়ে চলে গেছে কিন্তু নিতান্ত নিরুপায় যারা বা পৈতৃক সম্পত্তির টান যারা উপেক্ষা করতে পারেনি তারাই থেকে গেছে এ গ্রামে। কিন্তু কেউ জীবনের ভয়ে সন্ধ্যার পরে একা বের হয়না।

আজকাল দলবদ্ধভাবেও তেমন কেউ বের হয়না। সবাই বিকেলেই কাজ শেষ করে ঘরে ফিরে দরজা জানালা বন্ধ করে দেয়। হাজার কান্না বা শব্দেও বের হয়না। ভয় কাটানোর জন্য সন্ধ্যা রাতেই ঘুমিয়ে পড়ে আবার কেউ কেউ ধর্ম কর্ম নিয়েই ব্যস্ত থাকে আবার কেউ কেউ বিনোদনের ব্যবস্থা করে নিজের ঘরে। যেন ঐ ঝিম ধরা আওয়াজ বা ডাক শুনতে কেউ না পায় !”

একদিন সকালে প্রতিবেশীর থেকে বিদায় নিয়ে নতুন আসা দম্পতি চলে যায় ভূতুরে গ্রাম ছেড়ে! তবে যাবার আগে আরেকটি ঘটনা বলে যায় আর সাবধান করে দিয়ে যায় প্রতিবেশীদেরকে !

ঘটনাটি হল, আগের রাতে ভয়ঙ্কর সেই ঝিম ধরা ডাক শুনে তাদের পোষা কুকুরটি জানালা দিয়ে বাইরে চলে যায় ! কুকুরটির খোঁজে এ্যানাও দরজা খুলে বাইরে এক পাঁ রাখতেই স্বামী তাকে ফেরায় ! সেই মুহূর্তে তারা দুজনেই তাদের বাড়ির আশে পাশে কোন কিছুর অস্তিত্ব অনুভব করে। তারপর ভেতরে এসে দরজা বন্ধ করে দেয় ! সারারাত পার হয় ভয়, সংশয় নিয়ে আর পোষা কুকুরটির অপেক্ষায় বসে থেকে। কিন্তু খুব সকালে তারা কুকুরটির খোঁজে বের হলে কুকুরটির শুধু অর্ধেক অংশ খুঁজে পায় পেছনের দিকটায় ! আর এই ঘটনার পরেই তাঁরা গ্রাম ছেড়ে যাবার সিদ্ধান্ত নেয় !

চলে যায় তাঁরা ভূতুড়ে গ্রাম ছেড়ে ! এভাবে আরো অনেক পরিবারই চেলে যেতে থাকে গ্রাম ছেড়ে ! এ রহস্যের কোনদিন উন্মোচন করা সম্ভব হয়নি বরং দিনে দিনে গ্রামটি আরো ভয়ঙ্কর সুন্দর এবং নীরব হতে থাকে ! হয়ত একদিন পুরো গ্রামটি সম্পূর্ণ গ্রাস হয়ে যায় ভয়ঙ্কর সুন্দর এবং নীরবতার কাছে।

 

এটি একটি গল্প তবে এমন রহস্যময় স্থান পৃথিবীর বিভিন্ন যায়গা দখল করে আছে যেখানে মানুষের দখল অসম্ভব !

লোমহর্ষক ঘটনার সাক্ষী ভাসছে যে হ্রদে !

Now Reading
লোমহর্ষক ঘটনার সাক্ষী ভাসছে যে হ্রদে !

রহস্যময় পৃথিবীর অন্যতম ব্যাখ্যাতীত একটি লোমহর্ষক ঘটনা। যার ফসিলগুলো আজো ভাসছে। আসলে কি ঘটেছিল তাদের সাথে !?

১৯৪২ সালে অবিভক্ত ভারতের ব্রিটিশ গার্ডরা ভারতের রুপকুন্ডে ঠান্ডায় জমে থাকা একটি হ্রদ দেখতে পায়। অতিরিক্ত ঠান্ডায় আরো জমে যাওয়ার মতন অবস্থা হয় তাদের, যখন তারা দেখল হ্রদের আশেপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে শতশত কঙ্কাল ! এই হ্রদ আরো ভয়াবহ রুপ নেয় যখন গ্রীষ্মের গরমে হ্রদের বরফ ক্রমশ গলে যেতে লাগল ! আরো কয়েক’শ ছিন্নবিচ্ছিন্ন কঙ্কাল ভেসে উঠতে লাগলো এবং হ্রদের তীরে জমতে থাকল !

অনেকেই এতশত কঙ্কাল একসাথে দেখে ভাবলো, হয়তো এগুলো ২য় বিশ্ব যুদ্ধের জাপানি সৈন্য যারা লুকিয়ে ভারতে এসেছিল যেহেতু ১৯৪২ সালে ২য় বিশ্ব যুদ্ধ হয়েছিল।

ব্রিটিশ সরকার একটি প্রতিনিধি দল পাঠান এই সত্য উদ্ঘাটনের বা রহস্য উন্মোচনের জন্য। তাতে প্রমাণ হল এগুলো জাপানি সৈন্যদের নয় বরং আরো অনেক আগের সময়কার মনে হচ্ছিল। সেই থেকে এই হ্রদের নাম দেয়া হয় কঙ্কাল হ্রদ।

তবে রহস্য রহস্যই রয়ে গেল। এত কঙ্কাল একসাথে এখানে কিকরে এলো বা কি হয়েছিলো এতগুলো মানুষের একসাথে এ নিয়ে মানুষের জল্পনা কল্পনার শেষ ছিলোনা। কারো মতে ভূমিধ্বস, কারো মহামারি, কারো মতে আত্মহুতির কারণে হয়তো এই বিভৎসতা !

গত ৬ দশক ধরে এই বিভৎস কঙ্কাল হ্রদ রহস্যই রয়ে গিয়েছিলো।

২০০৪ সালে একদল গবেষক ন্যাশনাল জিওগ্রাফি থেকে এই রহস্য উন্মোচনের জন্য অভিযান চালালেন। তাঁরা প্রায় ৩০ কঙ্কাল উদ্ধার করলেন যার কয়েকটিতে তখনও কিছু মাংস, চুল অবশিষ্ট ছিলো যা নিয়ে গবেষনা শুরু করলেন। আর তা থেকে প্রাপ্ত তথ্য সবাইকে আরো হতবাক করে দিলো ! হিসেব করে জানা গেলো এই কঙ্কালগুলো তারও আগেকার। প্রায় ৮৫০ সালের ! তাদের DNA পরিক্ষা করে জানা গেলো তাঁরা কোন দুই দলে ছিলো। একদল কোন পরিবার বা উপজাতীয় গোত্র হবে আর আরেক দল ছিলো বাইরের লোকজন। কঙ্কালের আংটি, কাঠের তৈরী জিনিসপত্র, চামড়ার জুতো, লোহার তৈরী বর্শার ফলক ইত্যাদি দেখে বিশেষজ্ঞ দল ধারণা করল এই কঙ্কালগুলো কোন তীর্থ যাত্রীর। যারা উপত্যকার উপরে উঠেছিল আর তাঁদেরকে সহযোগীতা করেছিলো স্থানীয় কুলি বা মাল বহনকারী।

এই রুপকুন্ড এলাকাটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পাথর আর বরফের বিশাল স্তুপ, যেখানে গরুর গাড়িই একটা ভালো মাধ্যম ছিলো এই এলাকা পাড়ি দেবার জন্য। স্থানীয় কিংবদন্তী অনুযায়ী কনৌজের রাজা চষদভাল ও তাঁর রাণী এবং তাঁর পরিষদবর্গ নন্দাদেবীর/ নন্দীদেবীর মন্দিরে তীর্থ যাত্রার উদ্দেশ্যে রুপকুন্ডে গিয়েছিলেন। আর আজও প্রতি ১২ বছর পর পর এই তীর্থযাত্রার আয়োজন করা হয়।

এদিকে ন্যাশনাল জিওগ্রাফি গবেষকরা কঙ্কালগুলোর খুলি পরিক্ষা করে দেখেন তাঁরা সবাই একইভাবে মারা গিয়েছে। সবার মাথায়ই ভারী কোন বস্তুর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। আর সেই ক্ষত পরিক্ষা করে আরো উদ্ভট এক তথ্য দিল ! তাঁদের মৃত্যু কোন অস্ত্রের আঘাতে হয়নি বরং কোন গোলাকার ভারী বস্তুর আঘাতেই হয়েছে ! খুলি এবং কাঁধ পরিক্ষা করে জানা গেল আঘাতগুলো উপর থেকে এসেছিলো ! এরপর সব পরিক্ষার শেষে তাঁরা একটি অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন, তীর্থযাত্রীরা সবাই শিলাবৃষ্টিতে মারা গিয়েছিলো যাদের কাছে রক্ষা পাওয়ার কোন ছাউনি ছিলোনা !!

যদি ও শিলাবৃষ্টি সাধারণত প্রাণঘাতী হয়না কিন্তু বিজ্ঞানীদের মতে সেদিন হয়ত অদ্ভূত অজানা কোন প্রাকৃতিক নিয়মে এমন এক বিপর্যয় ঘটে যার পরিণাম বিভৎস লোমহর্ষক এই মৃত্যু !!

 

কিন্তু প্রশ্ন কিন্তু মনে থেকেই যায় , আসলেই কি ভয়ঙ্কর শিলাবৃষ্টিতেই মৃত্যু হয় তাঁদের?

আর স্বাভাবিক শিলাবৃষ্টির বদলে ঐদিন কেন ভয়াবহ শিলাবৃষ্টি হল?

প্রকৃতির এমন কি অজানা নিয়মে এমনটি ঘটতে পারে যার উত্তর আধুনিক বিজ্ঞানের কাছে নেই !!

আজো কঙ্কাল হ্রদের কঙ্কালগুলো রহস্যই থেকে গেল !

 

তথ্যসুত্র: অনলাইন

মিশরের ঐতিহ্য, সাজসজ্জা এবং সৌন্দর্য

Now Reading
মিশরের ঐতিহ্য, সাজসজ্জা এবং সৌন্দর্য

মিশরের সৌন্দর্য এবং ঐতিহ্য :-

মিশর প্রাচীন সভ্যতার দেশ। বিশ্বের সমুন্নত ইতিহাস ঐতিহ্যের অন্যতম দেশ মিশর। যুগ যুগ ধরে মিশর ভিন্ন রকম রহস্যের শোভা ছড়াচ্ছে। যার প্রতি মানুষ সবসময়ই আকৃষ্ট। বিশ্ববাসীর মিশর সম্পর্কে কৌতুহল এবং আগ্রহের শেষ নেই। বর্তমান বিশ্বের মানুষ আরো বেশী কৌতুহলী এবং আকর্ষিত মিশরীয় অপরুপ সুন্দরী রাণীদের নিয়ে, তাদের অসাধারণ রুপ সৌন্দর্য এবং জীবনযাপন নিয়ে। ক্লিওপেট্রা থেকে শুরু করে নেফারতিতি, হাটেম্পশুট, কিংবা প্রথম রাজবংশীয় রাণী মারনেইথ- এরা সবাই বিশ্বের অগণিত মানুষের আগ্রহ আর আকর্ষণের শীর্ষে থেকেছেন আজ অবদি।

সব আকর্ষণীয় রাণীদের সৌন্দর্য চর্চা ও তাদের ব্যবহৃত বিভিন্ন শিল্পকর্ম নিয়ে ব্রিটিশ দাতব্য প্রতিষ্ঠান চ্যারিটেবল ট্রাস্ট চলতি বছর আয়োজন করে বেয়ন্ড বিউটি নামের এক শিল্প প্রদর্শনী। সেন্ট্রাল লন্ডনের টু টেম্পল পেলেসে আয়োজন করা হয় ওই অনুষ্ঠান। এখানে প্রকাশ পায় প্রাচীন মিশরীয় রাণীদের সৌন্দর্য সচেতনতা, আভিজাত্য এবং তাদের বিলাসবহুল জীবনযাত্রা সম্পর্কে।

৩৫০টির বেশি শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয় এখানে। যাতে দেখানো হয়, প্রাচীন মিশরীয়দের সাজসজ্জার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী। আজকের দিনে যাকে আমরা বলি ‘বিউটি প্রোডাক্ট’ বা সৌন্দর্য পণ্য। তৎকালীন সময়ে মিশরের এসব রাণীদের দ্বারা প্রভাবিত সাধারণ নারীরাও রাণীদের অনুসরণ করে ব্যবহার করতেন বিভিন্ন প্রসাধনী।

মিশরীয় রাণীদের ব্যবহৃত সামগ্রীর মধ্যে চিরুনি, তামা বা রুপার তৈরি আয়না, পাললিক শিলা থেকে তৈরি চিত্র অঙ্কনের কাজে ব্যবহৃত প্যালেট, সাজসজ্জার বিভিন্ন বস্তু এবং সুগন্ধি সংরক্ষণের পাত্রসহ সৌন্দর্য চর্চার অনেক বস্তুই প্রদর্শন  করা হয় লন্ডনের অনুষ্ঠানে।

সে সময়ের নারী এবং পুরুষ- উভয়েই সৌন্দর্যের ব্যাপারে ছিলেন অত্যন্ত সচেতন। সাজসজ্জা এবং ব্যবহারিক উদ্দেশ্যে পরচুলা ব্যবহার করত প্রাচীন মিশরীয়রা। মৃত্যুর পরেও মৃতদেহের সৌন্দর্যের ব্যাপারে সচেতন থাকতেন মিশরবাসী। মৃতদেহগুলোর ত্বকের স্নিগ্ধতা, শান্ত চেহারা, তাদের চোখে লাগানো সুরমা, তাদের মমি করা লাশের ওপরে লাগানো মুখোশ এবং কাঠের কফিন দেখেই বোঝা যায় তাদের সৌন্দর্য সচেতনতা সম্পর্কে। আধুনিক নৃবিজ্ঞানীরা জানান, প্রাচীন মিশরীয়দের সৌন্দর্য সামগ্রী ব্যবহারের সর্বব্যাপিতা দেখলে চোখে ধাঁধা লেগে যায়। প্রাচীন ‍মিশরীয়রা তাদের বাহ্যিক সৌন্দর্য বর্ধনে আজকের দিনের মানুষের চেয়েও অনেক বেশি বুঁদ হয়ে থাকতেন। এমনকি সৌন্দর্য পরিমাপের জন্য তাদের ছিল বিশেষ মানদণ্ড। সেসব নিয়ে ভাবতে গেলে আমাদের আত্মভোলা হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি আছে! আজকের দিনের যেকোনো ধরনের প্রসাধনীর চেয়ে উন্নত মানের প্রসাধনী ব্যবহার করতেন মিশরের রাণীরা।

নিজেদের আবেদনময়ী করার ব্যাপারে খুবই সচেতন ছিলেন তারা। আজকের দিনের নারীরা নিজেদের চোখকে আকর্ষণীয় (স্মোকি আই) করার জন্য যে রকম সাজসজ্জা করে, প্রাচীন মিশরীয় রাণীরাও নিজেদের চোখকে আকর্ষণীয় করতে সুরমা ব্যবহার করতেন। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা যায়, চোখের চারপাশে ব্যবহৃত ভারী সুরমা তাদের চোখকে সূর্যের তীব্রতা থেকেও রক্ষা করতো। অর্থাৎ, সৌন্দর্য বর্ধন ছাড়া ব্যবহারিক কারণেও চোখে সুরমা ব্যবহার করতেন মিশরিয়রা।

শুধু সুরমা নয়, সব সৌন্দর্য সামগ্রী ব্যবহারের পেছনেই একটি ব্যবহারিক উদ্দেশ্য থাকতো তাদের। তাদের ব্যবহৃত মণি মুক্তাগুলোও ছিল শক্তি ও ধর্মীয় তাৎপর্যের প্রতীক। আবেদনময়ী ভঙ্গিতে থাকা মাটির একটি নারীমূর্তি থেকে বোঝা যায় গায়ে উল্কি আঁকতো প্রাচীন মিশরের নারীরা। নিজের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্যই এ ধরনের উল্কি আঁকতেন তারা।

 

জগৎবিখ্যাত পরমাসুন্দরী মিশরীয় দুই রাণী:-

 

প্রাচীন মিশরীয় সুন্দরীদের দুই বিখ্যাত রাণী ক্লিওপেট্রা এবং নেফারতিতি। এদেরকে বলা হয় ‘কুইন অব নীল’ বা নীল নদের রানী। আদিকাল থেকে আজ পর্যন্ত রাণী ক্লিওপেট্রা হয়ে আছেন ‘সুন্দরীদের আদর্শ’।

১৯১২ সালে রাণী নেফারতিতির একটি চিত্রকর্ম আবিষ্কৃত হওয়ার পর সৌন্দর্যের দিক দিয়ে এটি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। বর্তমানে জার্মানির রাজধানী বার্লিনের একটি জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে ওই চিত্রকর্ম। ধারণা করা হয়, ফারাও আখেনাতেনের স্ত্রী ছিল নেফারতিতি।

ক্লিওপেট্রার জীবনীকার এবং নেফারতিতির ওপর একটি গবেষণামূলক বইয়ের লেখক জয়সি টিলডেলস্লে জানান, প্রাচীন মিশরের ওই দুই রাণীকেই বর্তমানে আবেদনময়তার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ক্লিওপেট্রার চিত্র প্রমাণ করে, প্রাচীন মিশরের সব রাণীই ছিলেন অনন্য সুন্দরী। তবে ক্লিওপেট্রা ছিলেন এদের চেয়ে ব্যতিক্রম।

নেফারতিতি সম্পর্কে টিলডেলস্লে মনে করেন, তার বক্ষটি আর পাঁচটি মিশরীয় শিল্পকর্মের মতো নয়। এটা সম্পূর্ণ আলাদা। আর এ কারণে ১৯২৩ সালে যখন নেফারতিতির মূর্তিটি জার্মানিতে উন্মুক্ত করা হয়, তখন এটি হৈ চৈ ফেলে দেয়। নেফারতিতির বক্ষের সৌন্দর্যের কারণে বিশ শতকে গণমাধ্যমগুলোতে তিনি একজন তারকায় পরিণত হন।

 

ক্লিওপেট্রা:

প্রাচীন মিশরীয় টলেমিক বংশের এক কিংবদন্তি ছিলেন ক্লিওপেট্রা। দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগতে হয় ক্লিওপেট্রার অসাধারণ রুপ সৌন্দর্য নিয়ে আসলে কি সে? মানবী নাকি দেবী? তাঁকে নিয়ে ইতিহাস লিখতে গিয়ে কল্পনা বিলাসিতাও করেছেন অনেকেই। তাঁর জীবন ছিল বৈচিত্র্যময়, বিলাসিতাপূর্ণ এবং মৃত্যু রহস্যে ঘেরা।

তাঁর জীবনীকাররা বলেন, ক্লিওপেট্রা ছিলেন নজরকাড়া  সুন্দরী। তাঁর ঠোঁট ছিল গোলাপের পাঁপড়ির ন্যায়,নাক ছিল সুউন্নত,আর চোখজোড়া ছিল অত্যন্ত মায়াময়। তাঁর কণ্ঠস্বর ছিল বীণার তারের ধ্বনির মতন।জীবনীকাররা আরও বলেন,স্বর্গের দেবতা প্লেটোর ছিল মাত্র চারধরণের তোষামোদকারী কিন্তু ক্লিওপেট্রার ছিল হাজারো ধরণের তোষামোদকারী। ক্লিওপেট্রা বিলাসবহুল জীবন যাপন করতেন। সেটা তাঁর চিত্রকর্ম এবং জীবনী পর্যালোচনা করলে প্রমাণ পাওয়া যায়।

 

নেফারতিতি:

বিভিন্ন কবি সাহিত্যিকেরা অধিকাংশ সময়েই নারীকে রহস্যময়ী বা ছলনাময়ী হিসেবে অভিহিত করে থাকেন।  তেমনি কিছু কিছু নারীর বিভিন্ন কর্মকান্ড, জীবনযাপন যেন তাদেরকে আরো বেশি রহস্যময় করে তোলে। পৃথিবীর বাঘা বাঘা সব ঈজিপ্টোলজিস্টদের ঘুম হারাম করা এমনি এক রহস্যময়ী রমণী হলেন নেফারতিতি।

তাঁর পুরো নাম নেফার নেফারুআতেন নেফারতিতি। ইতিহাসের ভাষ্যমতে, তিনি ইতিহাসের এমনি এক রহস্যময়ী সুন্দরী এবং ব্যক্তিত্বসম্পন্ন রমণী যে এর আগে তাঁর মত সুন্দরীর আগমন মিশরে ঘটেনি। নেফারতিতি শব্দের অর্থ হলো “সবচেয়ে সুন্দর ব্যাক্তির আগমন” ইংরেজিতে “The beautiful one has come” তাঁর আগমন থেকে শুরু করে প্রস্থান পর্যন্ত সম্পূর্ণ জীবনটাই রহস্যময়তার আচ্ছাদনে ঢাকা। মিশরীয় ইতিহাসে তাঁকে বলা হয় “Most important queen in the History of Egypt.”

মিশরীয় সভ্যতা ও অনিন্দ্য সুন্দরী [রয়েল ব্লাড আর অপরূপা ছিল বলে আজও তাঁর এত অহংবোধ!] পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় সভ্যতা হচ্ছে মিশরীয় সভ্যতা। আর সেই রহস্যঘেরা সভ্যতার সবচেয়ে সুন্দরী রাণী মনে করা হয় নেফারতিতিকে। বলা হয় জগদ্বিখ্যাত ক্লিওপেট্রার চেয়েও সুন্দরী ছিলেন তিনি। আখেনাতেনের সঙ্গে নেফারতিতির প্রেম, তার সমাজ ও ধর্ম সংস্কার সর্বোপরি তার সৌন্দর্য এখনো অনেক রহস্যের কারণ। মিশর তো বটেই, গোটা পৃথিবীর সর্বকালের সেরা সুন্দরীদের একজন মানা হয় নেফারতিতিকে। আর মিশরীয় সভ্যতার ‘সিগনেচার’ বা চিহ্ন হিসেবে পিরামিড আর মমির পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় এই সুন্দরীর আবক্ষমূর্তির ছবি বা প্রতিলিপি। এই ফারাও সম্রাজ্ঞীর প্রহলিকাময় আবক্ষমূর্তিটি সারাবিশ্বে প্রচণ্ড জনপ্রিয় এবং আগ্রহের বিষয়। মিশরের ফারাও সম্রাজ্ঞীদের মধ্যে এমনকি তখনকার মিশরবাসীদের মধ্যেও তাঁর রূপ ছিল কিংবদন্তির মত।

তথ্যসুত্র : অনলাইন