3
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

বৃত্ত

Now Reading
বৃত্ত

“বৃত্ত”
-চলে যাচ্ছেন?
-হুম দেখতেই তো পাচ্ছেন
-তা যাচ্ছেন কেনো?
-এখানে আর মন টানছেনা
-নাকি কেউ বিরক্ত করছে?
-হুম ঠিক ধরেছেন
-তাহলে আমার sorry বলা দরকার
-কেনো?
-আপনাকে তো আমি ছাড়া আর কেউ বিরক্ত বলে আমার জানা নেই
-সবই কি আপনার জানার মধ্যে থাকতে হবে?
-থাকলে কি সমস্যা আছে?
-সমস্যা না থাকলেও অভ্যাস নেই
-তা কোথায় যাচ্ছেন?
-বাধা পড়তে চাইনা
-বুঝলামনা
-তাহলে না বুঝার চেষ্টা করাটাই ভালো
-আপনার সব অভ্যাস আমার জানা তবুও আপনাকে বুঝতে পারিনা।আপনার কথাগুলো তারও আগে বুঝিনা
-বললামনা বুঝার চেষ্টাটা না করতে
-কেনো কি এমন রহস্য আপনার?
-আপনি কি আমাকে আটকাতে এসেছেন,তাহলে এই চেষ্টাটা করতে পারেন
-নাহ্ করবোনা
-কেনো?
-এতটুকু বুঝতে পারছি আপনি কোনো বৃত্তের মধ্যে থাকতে চাননা।আপনি অবাধ্য তবে দুষ্টু না।
-হে হে তা যা বলেছেন।
-আচ্ছা আসি।
-ভালো থাকতে বলবেন না?
-যে ভাল থাকতে চায়না তাকে বলতে নেই।আচ্ছা আমি যাই দেরী হয়ে যাচ্ছে।বিদায়।
বিদায় কথাটা আমার বলার ছিলো।কিন্তু তুমি বললে।চলে যাচ্ছি আমি কিন্তু তার আগেই চলে গেলে তুমি।আমি কোনো বৃত্তের মধ্যে থাকতে চাইনা আর তুমি বৃত্তটা ভেঙে দিলে।সবই তুমি করে দিলে আমার জন্যে কি বাকী রাখলে????
ঐ ছোট্ট একটা কুটিরে এসে উঠেছিলাম।বড়ই অগোছালো হয়ে থাকতাম।তুমি আস্তে আস্তে আমার দিকে এগোতে থাকলে।আস্তে আস্তে আমাকে পুরোটাই তোমার বৃত্তের মধ্যে পুরে নিয়েছো।
যে আমি শুধু চলা ছাড়া কিছু বুঝতামনা।আর মাঝে মাঝেই ডুব দেয়া আর কিছুদিন ডুব দিয়ে থেকে আবার চলা শুরু করা।তাই লুকিয়ে লুকিয়ে ঐখানে ডুব দিতে এসেছিলাম আবার লুকিয়ে লুকিয়েই পালাতে যাচ্ছিলাম।কিন্তু না তখন পেরেছি তোমার চোখ এড়াতে না এখন পারলম।
আমি সত্যিই তোমার বৃত্তের মধ্যে থাকতে পারবোনা।আমি এক বৃত্তের মধ্যে চলতে পারবোনা।এটা আমার সত্ত্বা চাইলেও আমি পারবোনা।তাই আজ তোমার বৃত্তের পরিধি পেড়োতে যাচ্ছিলাম।কিন্তু তার আগেই তুমি আমাকে মুক্ত করে দিলে।সত্যিই তুমি আমার থেকেও বেশী “রহস্যময়ী”।
ভালো থেকো আর পারলে কখনও অন্য কাউকে এই বৃত্তের পরিধির সীমানায় আসতে দিওনা।আমার চলা শেষ হলে আমি ফিরব এই বৃত্তের পরিধিতেই…………..

বাংলা সাহিত্যের রহস্য-রোমাঞ্চ সিরিজ – ষষ্ঠ পর্ব (ফেলুদা)

Now Reading
বাংলা সাহিত্যের রহস্য-রোমাঞ্চ সিরিজ – ষষ্ঠ পর্ব (ফেলুদা)

ফেলুদা। বাংলা সাহিত্যের রহস্য-রোমাঞ্চ উপন্যাসের ইতিহাসে সর্বাধিক পরিচিত একটি নাম। প্রকাশের দিক দিয়ে অর্ধশত বছর পার করার পরও ফেলুদা আর তার অভিযানের আকর্ষণ পাঠকের কাছে আজও কমে নি। মূলত গোয়েন্দা কাহিনী হলেও ফেলুদার প্রতিটি কাহিনীতে একটা ভ্রমণ কাহিনীর নির্যাস সবসময় মিশে আছে। সে ভূস্বর্গ কাশ্মীর হোক বা রাজেস্থানের সোনালী বালির মরুভূমি।

সত্যজিত রায়ের লেখালেখির হাতেখড়ি অনেক আগে হলেও, মূলত তিনি বিজ্ঞাপন চিত্রের ছবি আঁকা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে নিজের লেখাকে পাঠকদের কাছে আরও জীবন্ত করে তুলতে বইয়ের জন্যেও ছবি এঁকেছেন তিনি। ফেলুদা সিরিজের লেখা শুরুর আগেই একজন বিখ্যাত পরিচালক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেন সত্যজিৎ রায়। তাঁর অমর সৃষ্টি ‘পথের পাঁচালীর’ মাধ্যমে। ১৯৬৫ সালে প্রথম বছর লিখতে শুরু করেন ফেলুদাকে নিয়ে। প্রথম বইয়ে একেবারে তরুণ ফেলুদা আর সদ্য কৈশোরে পরা তপসে কে নিয়ে লেখা গল্পের নাম ‘ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি’। এরপর ফেলুদাকে নিয়ে একে একে লিখে ফেলেন ৩৫টি কাহিনী। লিখতে ভালবাসতেন তিনি। ফেলুদা সিরিজের কোন কোন উপন্যাস মাত্র দুই কি তিন দিনেও লিখে শেষ করেছেন সত্যজিৎ রায়। কেবল গুণী লেখকই না, সেই সাথে তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠিত একজন চিত্রশিল্পী, অসাধারণ মানের একজন পরিচালক। এমন কি চলচ্চিত্র আর টেলিভিশনের জন্যে চিত্রনাট্য, সংলাপ, সঙ্গীত পরিচালনা করেও নিজের গুনের সাক্ষর রেখেছেন তিনি। উপমহাদেশের একমাত্র অস্কার আসে তারই হাত ধরে ১৯৯২ সালে।

সত্যজিত রায় ছিলেন একজন প্রতিভাশালী শিল্পী এবং পরিচালক। কাজের জন্যে দেশের নানান প্রান্তে ঘুরে বেড়াতেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতার ছাপ দেখা যায় ফেলুদা সিরিজের গল্প গুলোতে। স্থান-কাল পাত্রের এমন সুন্দর আর সূক্ষ্ম বিবরণ দেয়ার ক্ষমতা বাংলায় খুব কম লেখকরই আছে বলে আমার বিশ্বাস। ফেলুদার কাহিনী বাংলা ভাষার বাইরে নানান ভাষায় অনূদিত এবং সমাদৃতও হয়েছে ব্যাপক ভাবে। একেবারেই মৌলিক ধারার সিরিজ এই ফেলুদা। বিদেশী গল্পের কোন রকম ছায়া এতে চোখে পড়ে না।

১৯৬৫ সালে যখন লেখা শুরু হয় তখন ফেলুদার বয়স ছিল মাত্র ২৬ আর একেবারে শেষের দিকে এসে ফেলুদার বয়স বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫। ফেলুদার চরিত্রটি মোটেও অন্যসব খামখেয়ালী গোছের গোয়েন্দাদের মত নয়। সূক্ষ্ম বুদ্ধির জোরে রহস্য সমাধানে তার জুড়ি মেলা ভার। পুরো নাম প্রদোষ চন্দ্র মিত্র। এককালে ভালো ক্রিকেট খেলতো এ বিষয়ে জানা যায় তার অতীতের গল্প থেকে। পড়ালেখা শেষ করে চাকুরীতেও যোগ দিয়েছিল সে। কিন্তু সারাক্ষণ মাথার মধ্যে ঘুরতে থাকা রহস্যের পোকা আর গোয়েন্দাগিরির নেশা তাকে একসময় পুর-দুস্থ গোয়েন্দা বানিয়ে ফেলে। রোজ সকালে যোগ ব্যায়াম করা ফেলুদার অভ্যাস। আর বদ অভ্যাস বলতে কেবল ঘন ঘন চারমিনার ধরানো। বিশ্লেষণী ক্ষমতার ঝলক শার্লক হোমস শুরু করে দিয়ে যাবার পর থেকে অনেক গোয়েন্দাই সে পথ অনুসরণ গেলেও, এর বাস্তবিক ব্যাবহারের চমৎকার বিবরণ পাওয়া যায়  ফেলুদার কাহিনী গুলোতে।

প্রায় সব গল্পের শুরুতে দেখা যায় ফেলুদাকে নানান ধরনের বই পড়তে। সব বিষয়ে কিছু না কিছু জেনে রাখবার জন্যে এই প্রয়াস। আজকের গুগল, ইউটিউবের যুগে ফেলুদা কি করত তা জানি না, তবে মনে হয় বই পড়া ফেলুদাকেই যেন বেশি মানাত এ যুগেও। বিপদের মুখে দুর্ধর্ষ সব খুনে বদমাশের সাথে হাতাহাতি করতেও দেখা যায় তাকে। এ বিষয়েও তার যোগ্যতার প্রমাণ দেখা যায় সিরিজের বই গুলোতে। বুদ্ধিমত্তা, বিশ্লেষণ আর তদন্ত সব মিলিয়ে রহস্যের সমাধান করার যে প্রতিভা লেখক তাকে দিয়েছেন, সেগুলো যেন নেহায়েত কল্পনা নয় বরং বাস্তবের সাথে কল্পনার এক উৎকৃষ্ট মিশেল।

গোয়েন্দা থাকবে আর তার সহকারী থাকবে না, সে তো হয় না। ফেলুদার কাহিনীতে সেই চরিত্রের নাম তপসে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ফেলুদার সব অভিযান যত্ন করে যে পাঠকদের কাছে তুলে ধরেছে বলে লেখকের দাবি সেই হচ্ছে তপসে। পুরো নাম তপেস রঞ্জন মিত্র। বয়সে ফেলুদার অর্ধেক সম্পর্কে খুড়তুতো ভাই। ছোট বেলা থেকে ফেলুদার সাথে থেকে থেকে গোয়েন্দাগিরির কাজে বেশ অভিজ্ঞ। বিপদে আপদে আর রহস্য সমাধানে সবসময়ই ফেলুদার ছায়া সঙ্গী হিসেবে দেখা যায় তাকে।

থ্রি মাস্কেটিয়ার্স এর তৃতীয় জনের নাম লালমোহন গাঙ্গুলি ওরফে জটায়ু। ছোটখাটো চেহারার টাক পরা এই ভদ্রলোক পেশায় একজন লেখক। ‘জটায়ু’ ছদ্ম নামে বই লেখেন। ‘সোনার কেল্লা’ গল্পে ফেলুদা আর তপসের সাথে তার পরিচয় হয়। সেই বইয়ের নাম আর কাহিনীর বিবরণের মাধ্যমে সত্যজিৎ রায় যে হাস্যরসাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি করছেন তা সত্যি অসাধারণ। নানান মজাদার কাণ্ড আর কথার মাধ্যমে রহস্য ঘেরা গল্প গুলোকে গতিশীল করে তোলার পেছনে এই জটায়ুর অবদান বিশাল।

একক বই, সমগ্র আর অনুবাদের বাইরে ফেলুদা সিরিজের বেশ কিছু কাহিনী পরবর্তীতে কমিক্স আকারেও প্রকাশ করা হয়। রুপালী পর্দায় ১৯৭৪ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মোট নয়বার নিজের কেরামতি দেখিয়েছে ফেলুদা। এর মাঝে ছয় বারই ফেলুদা চরিত্রে দেখা গেছে সব্যসাচী চক্রবর্তীকে। হিন্দি এবং বাংলা টেলিভিশন ধারাবাহিক হিসেবেও ফেলুদা সিরিজ প্রচার হয়েছে বহুবার। ফেলুদা ৩০ নামের বিখ্যাত ধারাবাহিকটি ছোট বেলায় টিভিতে দেখেনি এমন মানুষ কমই পাওয়া যাবে। এমনকি আধুনিক যুগের এনিমেটেড সিরিজ হিসেবেও ফেলুদাকে পর্দায় নিয়ে আশা হয়েছে। কানাঘুষা শোনা যায় এ বছরের শেষ নাগাদ হিন্দি ছবির পর্দায়ও অভিষেক ঘটতে পারে ফেলুদার।

সত্যজিৎ রায়ের মৃত্যুর সাথে ফেলুদার কিন্তু মৃত্যু ঘটেনি। যদিও তাঁর লিখে যাওয়া ফেলুদা সিরিজের অসম্পূর্ণ উপন্যাস গুলো কেউ শেষ করেন নি। কিন্তু তার সুপুত্র সন্দীপ রায়ের হাত ধরে টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে সবাইকে মুগ্ধ করে চলেছে ফেলুদা। সময়ের সাথে সবকিছুতে যত পরিবর্তনই আসুক গোয়েন্দা কাহিনী ভক্ত পাঠকদের কাছে ফেলুদার আবেদন আজও একই রকম রয়েছে আর থাকবে আজীবন।

Slender Man সম্পর্কে জানুন

Now Reading
Slender Man সম্পর্কে জানুন

Slender Man

আমরা অনেকেই হয়ত এই Slender Man নামটা কোথাও না কোথাও দেখেছি | হয়ত সেইটা হতে পারে কোনো মুভিতে, কেউবা গল্পের বইয়ে, কিংবা কোনো কার্টুনে, কেউ হয়তবা কম্পিউটার গেমস এ ,আবার কেউবা এন্ড্রয়েড এপস হিসেবে | আসলে এসবগুলোই “Slender Man” এর উত্সস্থল | তবে, যারা আরো একধাপ এগিয়ে তারা হয়ত এই মানুষটাকে বাস্তবেই স্বচক্ষে দেখতে পেয়েছে !

Slender Man কে ?

Slender Man হলো একটা প্যারানরমাল ক্যারেক্টার | এই ক্যারেক্টারটা কয়েক সেঞ্চুরি ধরে বিভিন্ন ভৌগলিক অঞ্চলের মধ্যে বিদ্যমান | Creepypasta যাকে প্যারানরমাল উইকিপেডিয়া বলা হয় তাদের তথ্য অনুসারে এই ক্যারেক্টারটা ৫০০০ হাজার বছর আগের ইজিপশিয়ান হায়ারোগ্লাফিক কিংবা ১৯ শতকের জার্মান উডকাট গুলোতে এই ক্যারেক্টারটার উত্স সম্পর্কে জানা যায় | তবে, বিশ্বাসীদের মতে বিভিন্ন লিজেন্ডের মাধ্যমে এই ক্যারেক্টারটা নিজের এপিয়ারেন্স বজায় রেখেছে | এর মধ্যে- Fear Dubh (The Dark Man) , Takkenmann (Branch Man) অথবা Der Grosse Mann (The Tall Man) উল্লেখযোগ্য |

Slender Man বর্ণনা

প্রশ্ন আসতে পারে Slender Man নামক এই ক্যারেক্টারটা দেখতে কেমন ? এইটা মূলত, পুরুষ হিসেবে আবির্ভাব হয় যার হাত এবং পা অস্বাভাবিক রকমের বিশাল | আর শরীরের পিছন (পিঠ) থেকে ৪-৮ টা বিশাল বিশাল কালো টেনট্যাকেল রয়েছে | আর তার পরিধেয় বস্ত্র হলো একটা কালো স্যুট এবং মাথায় হ্যাট | আর মুখমন্ডল বলতে আসলে তার কিছু নেই কারণ, তার পুরোটাই সাদা ব্যান্ডেজ বা কাপড় দিয়ে মোড়ানো থাকে |

আর তার শরীরের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট হলো সে তার শরীরের যেকোনো অংশকে যত ইচ্ছা স্ট্রেচ করে বড় করতে পারে | যার ফলে সে তার শিকারীকে ভয় দেখিয়ে থাকে | এছাড়া তার ভিকটিম ও এমনভাবে হিপনোটাইজ হয়ে পরে যে তা থেকে আর বের হয়ে আসতে পারেনা |

Slenderman-the-slender-man-39241853-500-303.jpg

Slender Man মানুষকে ২ ভাবে প্রভাবিত করতে | যার একটা হলো “Slender Sickness” এইটা হলে বমিবমি ভাব আসতে পারে এবং অনেকসময় রক্ত বমিও হয়ে থাকে | তার আরেকটা বৈশিষ্ট হলো “Scribbling in” এইটা হলে ভিকটিম মূলত দেয়ালে উল্টাপাল্টা লিখতে শুরু করে |

Slender Man আরো কিছু বৈশিষ্ঠের মধ্যে প্রচলিত একটা হলো সে যারা তাদের অস্তিত্ব নিয়ে অতিমাত্রায় আশংকায় থাকে তাদের সে ভয় দেখাতে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে | এছাড়াও মাঝেমধ্যে সে না হেটে অনেক শুন্যে ভোর করে ভেসে ভেসে সামনে এগিয়ে থাকে !

মূলত, Slender Man এই ক্যারেক্টারটা এতটাই জনপ্রিয় যে এইটা নিয়ে রীতিমত ডকুমেন্টারী পর্যন্ত করা হয়েছে | যাকে বলা হয় faux-documentary.

 

বাস্তবজগতে Slender Man এর ঘটনা

অনেক মানুষেরই ভাষ্যমতে তারা বাস্তব জীবনেই এই Slender Man কে দেখেছে| একটা ঘটনা যেইটা ঘটেছে শনিবার, মে ৩১, ২০১৪ সাল | যেইটা হয়েছে Milwaukee suburb of Waukesha, Wisconsin নামক জায়গায় | ৩ জন মেয়ে Bella ,Morgan এবং Anissa ঘুম থেকে উঠে সকালের নাস্তায় ডোনাট আর স্ট্রবেরি খেয়ে তাদের পাশের একটা পার্কে হাটতে বের হয় | এদের মধ্যে সবচেয়ে সোশ্যাল মেয়েটি হলো Bella যেকিনা সবার সামনে হাটছিল | আর Morgan এবং Anissa পিছনে একসাথে হাটছিল | তাদের হাতার ভঙ্গি ছিল খুবই সাধারণ ,যেন দেখে মনে হচ্ছিল তারা খুবই রিলাক্সড | এর মধ্যেই হলো কি Morgan নামের মেয়েটা Anissa কে একটা ছুরি দেখালো যেইটা কিনা সে তার জ্যাকেট এর পিছনে লুকিয়ে রেখেছিল | তাদের পরস্পরের মুখের চাহনি দেখে মনে হচ্ছিল তারা যেন একটা পরিকল্পনা করে রেখেছে ! যাইহোক, যখন তারা অবশেষে পাবলিক রেস্টরুম এ এসে পৌছালো তখনই তাদের পরিকল্পনার যেন পরিসমাপ্তি ঘটল কারণ, Anissa এবং Morgan উভয়ই Bella কে হটাত আক্রমন করে বসলো | এর মধ্যে Morgan মত ১৯ জায়গায় ছুরি দিয়ে Bella কে আক্রমন করে | তার হাত, পা, আর্টারি, প্যানক্রিয়াস, লিভার, স্টমাক সবকিছুই ক্ষতবিক্ষত হয় | এর মধ্যে তাদের জন্য চেতনা ফিরে আসলো তারা তখন Bella কে ধরে শুয়ে দিল এরপর তার রক্ত বন্ধ করার চেষ্টা করলো | কিন্তু, ইতিমধ্যেই যা ক্ষতি হবার ক্ষতিতো হয়েই গেছে | এরপরে তারা Bella কে সেই জায়গাতেই রেখে ওয়াশরুমে গেল রক্ত ধুয়ে আসতে | ঠিক সেইমুহুর্তে একজন সাইক্লিস্ট সেইখান দিয়ে যাচ্ছিল আর তার ফলেই Bella জীবন সে যাত্রা বেছে যায় |

Slender man -2.jpg

কিন্তু, ঘটনা এখানেই শেষ নয় পরবর্তিতে Anissa  এবং Morgan পুলিশের হাতে ধরা খায় এবং তাদের তখন জিজ্ঞেস করা হয় তারা কেন এই কাজটা করলো ? তাদের খুব সোজাসাপ্টা উত্তর– তারা Bella কে মারতে চেয়েছিল কারণ এর ফলে তারা Slender Man এর আনুগত্য অর্জন করে তার সার্কেল এ আসতে পারবে | Bella র যেই রক্ত তারা উত্সর্গ করছে এর ফলে তারা সেই Slender Man এর মিনীয়ন হয়ে তার সাথে তার গভীর জঙ্গলের সেই প্রাসাদে থাকতে পারবে | নিঃসন্দেহে সেই ঘটনার পর পুলিশ খুবই হতবম্ব হয়েছিল | কিন্তু, এরপর থেকেই Slender Man পুরো ইন্টারন্যাশনাল নিউস হিসেবে ব্রডকাস্ট হতে থাকলো | আর সেই ঘটনার পর থেকেই সেই পুলিশরা বুঝতে পারল এই Slender Man এর মিথটা কতখানি ভয়ংকর হতে পারে |

কিন্তু, এরকম ঘটনার জন্য যে শুধু এই এক Slender Man কেই দায়ী করা যায় বিষয়টা কিন্তু সেরকম না কারণ, ১৯৮১ সালে ঠিক এরকম একটা ঘটনা ঘটে যেখানে John Hinckley Jr. নামক একজন ব্যক্তি “Taxi Driver” নামক মুভিটা দেখে এতই উদ্বুদ্ধ হয় যে সে সেই সময়ের প্রেসিডেন্ট Ronald Regan কে পর্যন্ত হত্যার চেষ্টা করে |

এছাড়াও, James Holmes নামক আরেক ব্যক্তি মত ১২ জন মানুষকে হত্যা করে এবং প্রায় ৭০ জনকে আহত করে ! তার দাবি অনুসারে সে নাকি ব্যাটম্যান এর সেই নেমেসিস জোকার ক্যারেক্টার থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে এই কাজটা করেছিল |

এছাড়াও, ২০০৯ এর দিকে Anthony Conley নামক আরেক ব্যক্তি Dexter টিভি সিরিয়াল দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে তার আপন ভাই কে পর্যন্ত শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে !

যাইহোক, আবার সেই মূল ঘটনায় ফিরে যাই, এই হত্যাকান্ডের পরে Anissa কে যখন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তখন সে Slender Man এর উপর তার অগাধ বিশ্বাসের কথা জানায় ! যদিও হত্যাকান্ডটি Anissa করেনি, করেছিল Morgan ,পরবর্তিতে তাকে ডায়াগনোস করে দেখা যায় তার রেয়ার টাইপ এর একটা স্কীতজোফেনিয়া রয়েছে |

কাজেই, এসব ঘটনা দেখে একটা বিষয় ভালই বোঝা যাচ্ছে যে এসব টিভি সিরিয়াল কিংবা বিভিন্ন ক্যারেক্টারগুলো আমাদের লাইফের জন্য একটা বিশাল ইনফ্লুয়েন্স হিসেবে কাজ করে থাকে | সেইটা ভালো হয়ত আছে তবে, খারাপগুলো নিঃসন্দেহে বেশি ভয়ংকর |

যাইহোক, আজকে এই পর্যন্তই আশা করি সবার ভালো লেগেছে | ধন্যবাদ |

 

Sources:

  1. http://creepypasta.wikia.com/wiki/The_Slender_Man
  2. http://people.howstuffworks.com/slender-man2.htm
Page Sidebar