রহস্য গল্প: কেওক্রাডংয়ের দেশে। ভুতের আবার খুন!

Now Reading
রহস্য গল্প: কেওক্রাডংয়ের দেশে। ভুতের আবার খুন!

ছোটখাটো ছিমছাম হোটেল কাম কুঁড়ে ঘরটায় ঢুকেই অন্যরকম একটা ভালো লাগা কাজ করলো মনে। এয়ারকুলারের মৃদু শব্দটা ছাড়া চারপাশ চুপচুপে নিরব! ঠিক এমনটাই চেয়েছিলাম আমি।
সকালটা হবে নিরব আলোয় আলোকিত, সন্ধ্যেটা নামবে ঝিঁঝিঁর ডাকের সাথে তাল মিলিয়ে ঝুপ করে,টুপ করে ওঠে পড়বে মস্ত থালার মতো একটা চাঁদ!
একজন লেখকের জীবনে আর কি চাই?
ওহো! একটু ভুল হলো।
 সাগরিকা পাশে থাকলে মন্দ হতোনা অবশ্য। মৃদু বাতাসে ওর আঁচল উড়ে যেতো পতপত করে, আমি সেই শব্দে গল্পের লাইন খুজে বেড়াতাম নিরবে!
অফিসের চাপ সামলাতে সামলাতে মনটা আকুপাকু করছিলো গত কয়টা মাস। তিনদিনের ছুটি পেতেই তাই দৌড়ে পালালাম ঢাকা থেকে। পুরোটা রাত বাসে ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে সাত সকালে এসে পৌছুলাম বান্দরবান শহরে।
 তারপর সারাটা দিন চাঁন্দের গাড়ির লক্কর ঢক্কর সেরে বগা লেকের এই কুঁড়েতে এসে ঠাই নিয়ে তবেই শান্তি!
     দুদিন দুরাতের জন্য গুনতে হয়েছে হাজার খানেক টাকা! তাতে কি?
এমন প্রাকৃতিক শান্তির জন্য লাখ খানেক ঢালতেও আমার হাতে আটকাতো না।
ভরপেট খেয়ে অনেক দিন পর এমন নরম ঘুম দিলাম। বয়স কম তারপরও এই বয়সেই গ্যাস্ট্রিক বাঁধিয়ে বসেছি আমি, প্রতি রাতেই ব্যাথা ওঠে।
  তাইতো আমার বালিশের তলায় একপাতা করে সারজেল, রেনিটেড থাকাটা বিচিত্র কিছু নয় আজকাল। অথচ আজ রাতে ঘুমই ভাঙলোনা একবারের জন্যও!
এজন্যই বোধহয় ডাক্তাররা পথ্যের সাথে সাথে মানসিক ব্যাপারটায়ও জোর দেন!
খুব ভোরে গাইড নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম বগা লেকের পথে। ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা সাতটা। আজ একটু লেখালেখি করবো ভেবে জলদি শুয়ে পড়লাম।
মাঝ রাতে ঘুমটা ভেঙে গেলো!
বাইরে ক্রমাগত ঠুন ঠুন করে বিশ্রী একটা শব্দ হচ্ছে! এত রাতে এ কেমন বিরক্ত বাপু!!
ছিটকিনি খুলে বেরিয়ে এসেই থমকে গেলাম আমি।
আকাশে মস্ত একটা রূপালি থালা, চারদিকে যেনো স্বর্গীয় সোনালি আভা ছড়িয়ে আছে!
ঠুন ঠুন ঠুন..!
একটু থেমেছিলো,এখন বিরক্তিকর শব্দটা আবার শুরু হলো।
    “এমন সৌন্দর্য্য ফেলে কোন বেরসিক করছে এই কাজ?” চোখ কুঁচকে সামনে তাকালাম। সবই আলোকিত কিন্তু পরিষ্কার নয়। মোলায়েম চাঁদের আলোয় সবটুকু ঢাকা।
কুঁড়ে থেকে চাদরটা এনে গায়ে জড়িয়ে সামনে এগুলাম। শব্দটার কোন বিরামই নেই। হচ্ছেটা কি এত রাতে!
সামনে এগুলাম। আস্তে আস্তে তীব্রতর হচ্ছে শব্দটা।
   “ওইতো, একটা বড় জারুল গাছ দেখা যাচ্ছে।
ঠুন ঠুন ঠুন…..
শব্দের তালে তালে নড়ছে গাছটাও!”
“এত রাতে গাছ কাটছে! চোরাকারবারি নয়তো?”
      ভাবনাটা মাথায় আসতেই দমে গেলাম একটু। পাহাড়ি এলাকার এসব চোরাকারবারিরা খুব ডেঞ্জারাস হয় শুনেছি!
     “দেখে ফেললে আবার প্রমান লুকোবার জন্য খুনখারাবি করে ফেলবেনা তো!”
সাহস সঞ্চয় করে আর একটু এগুলাম। গাছের গোড়ায় মানুষের অবয়বটা এখন স্পষ্ট প্রায়। চিৎকার করে জিজ্ঞেস করলাম,
– “এই কে ওখানে অত রাতে? কি হচ্ছেটা কি এখানে!”
শব্দটা থেমে গেলো। ছায়া টা হাতের কুঠার চালানো থামিয়ে আমার দিক পেছন ফিরে এক হাত কোমরে রেখে সোজা হয়ে দাড়িয়েছে!
 আবারো চিৎকার দেবো কিনা ভাবছি, পেছনে পায়ের শব্দ পেয়ে সাই করে ঘুরলাম। আমার কুঁড়ের ম্যানেজার ঘুসং চাকমা হেটে আসছে দ্রুত।
-“ছ্যার! কি করছিন কি আপনি? এত রাতে বাইরি আসিছেন কেনো?”
জবাব দিতে যাবো এমন সময় পেছনে উত্তপ্ত ধমক শুনতে পেলাম! জারুল তলায় এখন দুজনের মানুষের আবছা ছায়া! “পাশের লোকটা কোথা দিয়ে এলো দেখলামনা তো!”
“এ্য গনশা, তুলি লে যা এরে এহানথুন। সূয্যি আওয়ার আগি ফিনিশ করি দে। বড় বেশি বারিছে।”
      আমার পাশ থেকে ঘুসং জোর গলায় বলে ওঠলো ওদের লক্ষ্য করে। বিড়বিড় করে ওদের নিজস্ব ভাষায় কিছু বললো,গালি দিলো সম্ভবত।
আমার দিকে তাকালো ম্যানেজার। দুহাত কঁচলাচ্ছে, মুখে তেলতেলে শীতল হাসি একটা!
– “ছ্যার এই শীতে বেশিক্ষন থাকতি নেইকো, যান ঘুমানগে, আর অন্ধকারে কি দিখতে কি দিখিলেন কারোক বলিয়েননা।”
         লোকটার চোখের দিকে তাকিয়ে কি যেনো ঝিলিক মেরে ওঠতে দেখলাম আমি। অজানা একটা ভয় ঢুকি ঢুকি করছে ভেতরে। লোকটা কি কিছু ইঙ্গিত করতে চাইলো? খারাপ কিছু কি ঘটতে চলেছে…..!
পেছনে চিৎকার শুনতে পেলাম তখনই। একজন অন্যজনকে মাটিতে চেপে ধরে রেখেছে!
      চাঁদের আলোয় স্পষ্ট ঝিলিক মারতে দেখলাম ওপর দিকে তোলা দুহাত লম্বা চাপাতি টা! এক হাতে দুহাত চেপে ধরে রেখে,চাপাতি সহ হাতটা ঝপ করে নিচে নামিয়ে আনলো লোকটা!!
    মুখ ফসকে চিৎকারটা বেরিয়ে এলো আমার। ছুটতে শুরু করলাম…
চিৎকার করতে করতে কোনদিকে যাচ্ছিলাম জানিনা, একটা কুঁড়ের দরজায় সজোরে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গিয়েই কুঁকড়ে গেলাম আমি। তারপর আর কিছুই মনে নেই।
সকালে ঘুম ভাঙতেই দেখি মস্তবড় একটা জাদরেল চেহারা ঝুকে আছে আমার উপর! গায়ে পুলিশের পোশাক!
বুকের একপাশে লিখা, ক্যাপ্টেন ইয়ান চাকমা!
আমাকে চোখ খুলতে দেখেই লোকটা কথা বলে ওঠলো,
– মশায় তো তাজ্জব করে দিলেন! তিন বছর আগের খুনিকে ধরিয়ে দিলেন,তাও সজ্ঞানে না অজ্ঞানে! কি করে করলেন বলুনতো?
সিআইডির কোন ডিপার্টমেন্টে আছেন?”
অবাক আমি চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছি। কি বলছে কিছুই বুঝতে পারছিনা!
আশপাশের অনেকজনের কথা থেকে যা বুঝলাম,
   “প্রায় তিন বছর আগে ঘুরতে এসে এক পর্যটক আততায়ীর হাতে খুন হয়। অনেক খুজেও পুলিশ কোনো হদিস করতে পারেনি। গত রাতে চিৎকার করতে করতে আমি পাশের পুলিশ ক্যাম্পে ঢুকে পড়েছিলাম।
বার বার করে খুন, ঘুসং, গনশা আরো কি কি নাকি বলছিলাম!
তা থেকেই ম্যানেজারকে জিজ্ঞেস করতে গিয়ে নতুন করে পুলিশের সন্দেহ হয়।
খানিক জেরা করতেই ঘুসং হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে! গত তিন বছর ধরে অজানা এক ঠুন ঠুন শব্দে লোকটার নার্ভ নাকি এমনিতেই শেষ! সে এসব থেকে মুক্তি চায়!
কিন্তু রহস্যের ব্যাপার হলো, ওর হাট ভাড়া নেয়া বাদে আমাদের আর কথাই হয়নি,তাছাড়া ঘুসং হলফ করে বলেছে গত রাতে সে বাইরে বের ই নাকি হয়নি! আমি তবে এত কিছু কি করে বললাম?
পরদিনই তল্পতল্পা গুটিয়ে প্রায় ভুতে তাড়া খাওয়া মানুষের মতো ঢাকায় পালিয়ে এলাম।
রহস্যটা রহস্যই রয়ে গেলো আমার কাছে!
থাকুক, ওটা নিয়ে আর ভাবতেও চাইনা আমি।
প্রকৃতি রহস্যময়।
সে তার চারপাশে ঘটনা ঘটায়,
 আবার অদৃশ্য একটা চাদরে তা জড়িয়ে রাখে!
 আমরা তো নগন্য সন্তান তার। প্রকৃতি নিজে না চাইলে প্রকৃতির রহস্য উদঘাটন যে নগন্য মানুষের সাধ্যের বাইরে!

ভালোবেসে প্রেম

Now Reading
ভালোবেসে প্রেম

নিঝুম প্রহরের স্বভাব অনেকটা সিক্ত মনের মত। দুটই ক্ষনিকের। কেউ একা থাকতে পারে না। নিঝুমকে যখন ঝুমিয়ে দিয়ে এমন এক সময় আসে। এমন কাল। এমন ক্ষণ। তখন ভালোবাসার মানুষী প্রেম না করে কি থাকতে পারে? বল? কিন্তু তিক্ত হলেও অসীমতাময় বাস্তবতা এই যে,
শুধু প্রেম যারা বুঝে ফেলে তাদের কপালে আর প্রেম জোটে না।
আমি বলব কি, ভালোবাসতে হয়। ভালোবাসলে ভালোলাগা শুরু হয়। ভালোলেগে ভালোবাসা হয়ে যায়।
আর ভালোবাসাই এক পর্যায় প্রেম করতে বাধ্য করে।
প্রেম ছাড়া ভালোবাসা যে অমরত্ব লাভ করতে পারে না।

যেমন একটি ছোট্ট শিশির বিন্দু সারাজীবন প্রেমি হয়ে থাকল। সে তার প্রেমে দুর্বাকে পাগল করে দেয়। তাদের ছোট্ট সময়ের ভাব অসীমে চলে যায়। তাদের সারা অঙ্গ প্রেমে কাতর হয়ে থাকে। তারা তাদের মন দুজনকে বিলিয়ে দেয়।

আমাদের দেহে দুটি স্থানে প্রেম বা ভালোবাসা হয়ে থাকে। দুটোই একসাথে থাকতে পারে না। আমি তাদের শত্রু বলি না। তারা সহযোগী। কারন, একটি ছাড়া অপরটি অস্থায়ী।

তাই শিশির-দুর্বা শুধু প্রেম করতে জানে। তাদের প্রেমকে রক্ষাকারী বিনয়ী ভালোবাসা নেই। তাদের চোখে আর মনে প্রেম জায়গা করে নিয়েছে। তারা ভালোবাসার স্থান রাখতে পারেনি। ফলে কারোর পায়ে ঝাপ্টা তাদের প্রেমকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়। তাদের জীবনপাতা থেকে সব প্রেম মুছে যায়। ফলে তারা কেউ থাকতে পারে না। একপর্যায় তাদের রিক্ত মনে হারিয়ে যায় বাস্তবতা থেকে। কল্পনাই এখন ভরসা। তাদের কি কোনো ভূল ছিল? তারা ভালোবাসাকে ভালোবাসেনি। যদি বাসত, তাহলে শিশির বিন্দু দূর্বার শিকড় সিক্ত করে তার মনে চলে যেত। আর মনে ভালোবাসা ছাড়া আর কিছু থাকতে পারে না।

তাই,
প্রেম চোখে থাকুক আর মনে থাকুক ভালোবাসা।

আবার ভালোবাসায় মনটাও ভারি অদ্ভুত হয়ে ওঠে। হঠাৎ ভালোবেসেই ভালোবাসতে চায় না। ঠিক তখনই সজীব মনে প্রেম পোকা কুড়তে থাকে আর চোখদুটো হয়ে ওঠে প্রেমময়। ভালোবেসেই প্রেম করতে ইচ্ছে হয়। সব স্বপ্ন নিয়ে মন ডানামেলা পরীর মত উড়তে থাকে। কিন্তু স্বপ্নগুলোও হয় আবার স্বপ্নকেই নিয়ে। কি জানি, হয়ত স্বপ্নগুলো একদিন সত্যি হবে!

খেলবে আলো
স্বপ্ন বল
সব পাতারই শেষে
শব্দ কেমন
সপ্ন দেখে
সত্যি হবে
ভোরের আলো
শিশির ভেজা বিনে।

আবার আমি
থমকে চলা
সাঝের বেলা
ঠান্ডা লাগে
সপ্নচূড়া গল্পজোটে
ঊষার বেলা
দরমরিয়ে
ঘাসে গায়ে বিছে।

সপ্ন আমার
একলা ডাকে
চুপটি বলে
দেখব তারে
ভাগ্য রেখা
সাঁতরে চলে
লাম্বা কথার ভিড়ে।

যাই হোক প্রেমিক এবং অপ্রেমিক দুটো আলাদা অর্থ হলেও উৎস একই। তা হল মানুষ। । এখনে মানুষ বলে চোখকে বুঝাই। কারন মানুষ চোখকেই সবথেকে বেশি বিশ্বাস করে। ফলে মানুষের স্বভাব চোখকে ঘিরেই তৈরী হয়। যার চোখ যত সিক্ত তার মন ততটাই পিয়াসী। তাই বাঙালির রসসিক্ত মন বার বার প্রেমে পড়ে। আর প্রেমের প্রধান বৈশিষ্ট হল যখন-তখন ঘটান যায়। প্রেমে পড়া সহজ কিন্তু সফলতা খুব কঠিন। প্রেমে সফল হওয়ার শুধুমাত্র একটি মন্ত্র,

নিজেকে বিলিয়ে দাও।

এই মন্ত্রে সিদ্ধ হয়ে মানুষ ভালোবাসতে শেখে।
আর ভালোবাসা শুধুমাত্র হয় মনে। না ভাবতে চাইলেও ভাবতে থাকার নাম ভালোবাসা। যত দূরেই থাকুক না কেন আবার ফিরে আসার নাম ভালোবাসা। ভালোবাসা হঠাৎ করেই বাসা যায় না। ভালোবাসা হয়ে যায়, ঘটে যায় না বোঝার আগে। তাই শুধু প্রেম বা ভালোবাসা হয় না। প্রেমের পরেই ভালোবাসা আসে। তারপর সারাজীবন একসাথে থাকা। ভালোবাসা। যা একটি পবিত্র সম্পর্ক গড়ে তোলে। কোনো পোষ্যকে চিনতে বা কাছে নিতে প্রেম করতে হয় না। তাকে শুধু একটু ভালোবাসতে হয়। একসময় হয়ত পোষ্য ও আপনার প্রেমে পড়তে পারে। খুজে পেতে পারে অভুতপূর্ব আনন্দ, সাথে অসীম ভালোবাসা।

এভাবেই ভালোবাসা হয়ে ওঠে সবচেয়ে মর্যাদাবান শব্দ। আর প্রেম এই মর্যাদার মৃত্যুঞ্জয়ী মুকুট।

sunset_love.jpgআবার প্রেম-পাগলা মনভাব আমাদের জীবনকে প্রিয় করে তোলে। অন্যদিকে প্রেমের পোকা ভালোবাসা অর্থকে আঁকড়ে ধরে ভালোলাগারকে প্রেমে করে বসে। ফলে ভালোবাসা তার সর্বস্বকে প্রেমের কাছে বিলিয়ে দিয়ে মনে স্থান করে নেয়। এটা ভালোবাসার ধর্ম। এতে ভালোবাসাই হয়ে ওঠে প্রেমের ফল। তাই ভালোবাসা প্রেম না করে থাকতে পারে না আর প্রেম ভালোবেসেই প্রেমময় হয়ে ওঠে।

অন্যদিক দিয়ে বলতে গেলে প্রেম অশালীন, ভালোবাসা শালীন। কিন্তু দুই প্রেমির কাছে প্রেমের শালীনতা কোনো একসময় ভালোবাসা থেকে উর্ধে উঠে যায়। তখন মন ভালোবাসায় আপ্লুত হয়ে তৃপ্তার শিখড়ে পৌছায়। আর ঠিক তখনই ভালোবাসার সত্যিকারের মর্মকে আপন করে নেওয়া যায়। পরক্ষণেই প্রেম হয়ে ওঠে স্বার্থপর। কারন, ভালোবাসা তৃপ্ততার সাগরে অতলে ডুবে প্রেমকে সার্থক করে তোলে। যা প্রেমকে নিঃস্ব করে দেয়। আর প্রেম একা থাকতে পারে না। ফলে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে সে নিজের কথা ভাবতে শুরু করে। এই ভাবনাই একসময় প্রেমকে জয়ী করে তোলে ধ্বংসের মুখে নিয়ে যায় । প্রেমের এই বিলুপ্তির পথে ভালোবাসা আবার হাল ধরে। প্রেমকে আবার নতুন করে ভালোবাসতে শিখায়। ভালোবাসার এই মনভাব তার মর্যাদাকে অমর করে রাখে। এই ক্রিয়ার মাঝে ভালোবাসাই আবার ভালোবাসতে শেখে। তাই ভালোবাসা পিয়াসী ভালোবাসাকেই ভালোবাসতে শুরু করে। যা আবার তাদের প্রেম করতে বাধ্য করে। এইভাবেই চলে সারা জীবন। এই প্রেম-ভালোবাসা একসময় মিলিত হয়ে অধিকারবোধের জন্ম দেয়। তাই অধিকারবোধ, প্রেম-ভালোবাসার সূর্য সন্তান।

অপার্থিব বান্দরবন – আমিয়াখুম

Now Reading
অপার্থিব বান্দরবন – আমিয়াখুম

আমার মতে বান্দরবন বাংলাদেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র।আমি এর আগে অনেকবার বান্দরবন গিয়েছি, দেখেছি এর অপরুপ চেহারা।বাংলাদেশের এক রূপসী কন্যা এই বান্দরবন।এখানে আসলে পাহাড় আর মেঘের খেলা দেখা যায়, দেখা যায় সাংগু নদীর অপরূপ বয়ে চলা।বৃষ্টির সময়ে বান্দরবন কেমন যেন এক রুপ ধারন করে, সেই রুপ এতটাই আকর্ষণীয় যা শুধু নিজের চোখ দিয়ে উপলব্ধি করা যায়।ক্যামেরার লেন্স সেখানে বড়ই বেমানান। যারা বৃষ্টির সময়ে বান্দরবনের রুপ দেখেছে আমার মনে হয় তারা আবারো সেই রুপের দেখা পাবার জন্নে বান্দরবন গিয়েছে।যাই হোক অনেক কথা বলে ফেল্লাম, কারন এর রুপের বর্ণনা দিলে কখনো তা শেষ হবেনা।শুরু করছি আমার ভ্রমন কাহিনী। এটা আমার প্রথম লিখা অনেক ভুল হতে পারে, হলে মাফ করবেন।
এইবারের গন্তব্য ছিল “আমিয়াখুম”। ট্যুর ছিল ৫দিনের, আমরা ছিলাম ৭জন।

(বান্দরবন > থাঞ্চি > পদ্মমুখ > থুইসাপাড়া > আমিয়াখুম – ভেলাখুম (তথাকথিত) – নাইক্ষ্যং > থুইসাপাড়া > জিন্নাপাড়া > নাফাকুম > রেমাক্রি > থাঞ্চি > বান্দরবন) ছিল আমাদের ঘুরার জায়গা।

 

দিন ০১ : বান্দরবন > থানাচি > পদ্মমুখ > থুইসাপাড়া

=> শুরুতেই দেরী, বান্দরবন সকাল ৬টায় পৌছার কথা থাক্লেও জ্যামের কারনে পৌছলাম ১০টায়। থাঞ্ছি যেতে যেতে বিকাল ৪টা। আমিয়াখুম যাওয়ার অফিসিয়ালি কোন পারমিশন নাই, যেতে হয় নিজেদের রিস্কে নাফাখুমের কথা বলে তাও সময় দেয় মাত্র ২দিনের। তাই বিজিবি ক্যাম্পে নাম এন্ট্রি না করেই চোরা পথে বোটে উঠে রউনা দিয়ে দিলাম পদ্মমুখের উদ্দেশে, পৌছালাম বিকাল ৫টায়। হাল্কা-পাতলা খানাপিনা করে শুরু হলো ট্র্যাকিং। ৫ঘন্টা রাতের অন্ধকারে পাহাড়-জঙ্গল-ঝিরি-গুহা পাড়ি দিয়ে থুইসাপাড়ায় “অং” দার ঘরে গিয়ে উঠলাম তখন রাত ১০ঃ৩০। এটাই আমাদের সবার প্রথম রাতের বেলা ট্র্যাকিং। যা ছিল খুবি রোমাঞ্চকর এবং ঝুঁকিপূর্ণ। অবস্থা তখন সবারই খারাপ, গোসল এবং ডিনার শেষ করতে রাত ১২টা, ডিনার শেষে কিছুক্ষন পাড়ার চায়ের দোকানে আড্ডা তারপরেই সবাই বিদায়, শুধু আমি আর আমার এক বন্ধু ভোর পর্যন্ত জেগে ছিলাম।কারন পাহাড়ের ভোর খুবই সুন্দর।

Day 01 (18).jpg                                           IMG_0637.JPG

 

 

Day 01 (57).jpg

*** রাতের ট্র্যাকিং এর কথা না বল্লেই নয়, অসাধারন। যা বলে বুঝানো সম্ভব না।

*** থুইসাপাড়ায় গিয়ে দেখি আমরা ছাড়া আরো কয়েক্টা গ্রুপ সব মিলায় ৪০-৫০ জনের মত আছে, সবাই সকালে আমিয়াখুম যাবে। খুবই বিরক্তিকর ছিল এত মানুষের ভিড়ে আমিয়াখুম দেখতে হবে ?? রাতেই ট্যুরের সময় ১দিন এক্সটেন্ড করে থুইসাপাড়ায় পরের দিন চিল করবো ঠিক করলাম।

কারণ এক্টাই কাউ-কাউ মুক্ত পরিবেশে আমিয়াখুমকে পাওয়া

দিন ০২ : থুইসাপাড়ায় সারাদিন

=> ঝামেলা না থাকায় সবার ঘুম থেকে উঠতে-উঠতে দুপুর ১টা। ফ্রেশ হয়ে পাড়া বেড়াতে বের হয়ে গেলাম, দুপুরে খেয়ে বিকালের দিকে থুইসা ঝিরিতে গেলাম ঝাপাঝাপি করতে। ব্যাপক চিল করলাম সারা দিন-রাত, ভালোই ছিল। রাতের খাবার শেষে একটু তাড়াতাড়ি শুয়ে পরলাম। মজার বেপার হল এ পাড়ায় কোনও মোবাইল নেটওয়ার্ক নাই কিন্তু একটি বট গাছ আছে যার নীচে বাশের খুঁটি গাড়া, সেই খুটির উপর মোবাইল রাখলে নেটওয়ার্ক চলে আসে। তা দিএই বাসায় ফোন দিয়ে কথা বললাম।
IMG_1069 - Copy.JPG

 

দিন ০৩ : আমিয়াখুম – ভেলাখুম – নাইক্ষ্যংমুখ

=> সকাল ৬ঃ৩০টায় শুরু হল আমিয়াখুমের উদ্দেশে ট্র্যাকিং। এই গরমের সময়ে সকালে এই পাড়ায় তাপমাত্রা প্রায় ১০ ডিগ্রী নেমে এসেছে, পুরা হারকাপানো। এইদিন/ এইট্রিপের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ “দেবতার পাহাড়” (নামেই যার পরিচয় ) নামা+উঠা। “দেবতার পাহাড়” একটু বেশি-ই খাড়া & ডেঞ্জারাস ছিল, ১৮-২০ হলেই একদম নিচে। এই পাহাড় ৭০-৭৫ডিগ্রী খাড়া আর উচ্চতা প্রায় ১০০০-১২০০ফুট হবে (তথাকথিত), যাকে পাড়ি দিয়েই যেতে হবে আমিয়াখুম,ভেলাখুম ও নাইক্ষ্যং। তবে আমাদের তেমন একটা ঝামেলা হয় নাই “দেবতার পাহাড়” নিয়ে। যদি কেউ যান অবশ্যই নামার সময়ে প্রয়োজন হলে বশে বশে নামবেন এবং কোনও তাড়াহুড়া করবেননা। নামতে ৫০ থেকে ৬০ মিনিট লাগতে পারে কিনতু উঠার সময়ে ৩০ মিনিট লাগবে।
দেবতার পাহাড় থেকে নেমে বাম দিকে ১০ মিনিট হাঁটলেই দেখা মিলবে আমিয়াখুম জলপ্রপাতের। গর্জন করে বয়ে চলছে। প্রায় ১০ মিনিট ঠাণ্ডা পানিতে হাঁটু পর্যন্ত ডুবিয়ে বসেছিলাম আর এর রুপ দেকছিলাম। এবার গোসলের পালা, সবাই দাপাদাপি করলাম কিছু সময়। আমাদের গ্রুপের দুই জন সাঁতার জানত তারা ঝাপ দিল। যারা সাঁতার জানেনা দয়া করে দূরে থাকবেন কারন পানি অনেক গভীর। এর পর ১৫ মিনিট ডান দিকে হাঁটলাম পেয়ে গেলাম ভেলাখুম। ভেলা দিয়ে এই খুম পার হতে হবে তারপর নাইক্ষ্যং। কিন্তু ভেলা পেলামনা, কিন্তু যেতেতো হবেই তাই আমাদের গাইড ভেলা বানানো শুরু করল, সেই ভেলা দিয়ে আমরা পার হলাম। ভেলা থেকে নেমেই দুই বিশাল পাথরের মাঝখান দিয়ে ঢুকতে হল। আমি প্রথমে আটকে গেলাম, পরে একটু কায়দা করে ঢুকলাম। বিশাল বিশাল সব পাথর। সেখানে নুডুলস রান্না করে খেলাম। তারপর আবার আমিয়াখুমে ফিরলাম। শেষ ১ ঘণ্টা চোখ বন্ধ করে ঝর্নার পাশে শুয়ে ছিলাম।

IMG_1178 - Copy.JPGIMG_1284.JPG

 

IMG_1237.JPG

 

দিন ০৪ & ০৫ : থুইসাপাড়া > নাফাখুম > রেমাক্রি (নাইট ইস্টে) > থাঞ্চি > বান্দারবন > ঢাকা
পরের দিন ভোর বেলায় ঘুম থেকে উঠে নাফাকুমের দিকে রওনা দিলাম। অনেক্ষন ধরে হাটছিলাম, খারা পাহাড় নামছিলাম শুধু।দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা হাঁটার পর নাফাখুমের দেখা। খুমে অনেক্ষন মন ভরে গোসল তারপর সাতে করে আনা খিচুরি খেলাম। তারপর আবার রেমাক্রির দিকে হাঁটা।রেমাক্রি তে পৌঁছে কিছুখন বিশ্রাম নিয়ে আবার রেমাক্রি ঝিরিতে গোসল।রাতের বেলা খাবার খাওয়ার পর টং দোকানে আড্ডা।রাত তখন বারটার বেশী, রেমাক্রি খালে নৌকা বাঁধা ছিল, সবাই গিয়ে নৌকায় বসলাম, উপরের দিকে তাকাতেই চোখ বড় বড় হয়ে গেল কারন এতো তারা একসাথে আগে কখনোই দেখিনি। অপরূপ দৃশ্য।চারিদিক অন্ধকার উপরে তারা আর পানির শব্দ আপনাকে নিয়ে যাবে অন্য কোনো দুনিয়ায় যদি আপনি প্রকৃতি ভালোবাসেন।
পরের দিন সকালে হাল্কা খাবার খেয়ে নৌকায় করে রওনা দিলাম থাঞ্ছির দিকে।
থাঞ্ছি পৌঁছানোর পর দুপুর বেলা বান্দরবানের বাসে করে শহরে, আশতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল, রাতের বাসে ঢাকায় রউনা দেই।

IMG_1564 - Copy.JPGDay 05 (42) - Copy.jpg

 

 

 

প্রকৃতির সাথে মানুষের সংযোগ

Now Reading
প্রকৃতির সাথে মানুষের সংযোগ

সবুজ প্রকৃতিকে আমরা কে না ভালোবাসি? শহুরে জীবন যাপনে আমরা যখন অতিষ্ট হয়ে পড়ি তখন চলে যাই প্রকৃতির কাছে । তাকে দু হাতে একটু খানি আলিঙ্গন করার জন্য ব্যাকুল হয়ে যাই। পরিবেশ মানুষের জীবনী শক্তির প্রধান উৎস। সবুজ নির্মল পরিবেশ আমাদের এক নিমিষেই চাঙ্গা করে দেয়। এই পরিবেশের উপরই নির্ভর করছে আমাদের অস্তিত্ব। পরিবেশ প্রতিকূল হলে আমাদের ধ্বংস ও সর্বনাশ অবশ্যম্ভাবী। কিন্তু যখন আমরা নিজেরাই এই পরিবেশের ধ্বংস ডেকে নিয়ে আসছি তখন আমাদের নিজেদের কাণ্ডজ্ঞান কত খানি আছে তা বুঝার দরকার। আজ ৫ ই জুন, “বিশ্ব পরিবেশ দিবস” যা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সারা বছর পরিবেশ দূষণ করে, যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলে, অবিচারে বৃক্ষ নিধন করে এই একটি দিনে আসি পরিবেশের জন্য খুব দয়া দেখাতে। যাই হোক জাতিসংঘ এই দিনকে অর্থাৎ ৫ই জুনকে, ১৯৭২ সালে “বিশ্ব পরিবেশ দিবস” হিসেবে ঘোষণা করেছে।
একসময় মানুষ ধারণা করতো প্রকৃতির ওপর যে কোনো ভাবে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা সবচেয়ে জরুরী। এই আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য বন ধ্বংস করে, নদীর প্রবাহ বন্ধ করে, বিভিন্ন জীব জন্তু হত্যা করে , পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে মানুষ পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করেছে, ডেকে এনেছে নিজের বিপদ। পরিবেশের উপর এই মারাত্নক অত্যাচারের কারণে প্রকৃতি আজ আর আমাদের হাতে নেই, তাকে আমাদের বশে আনার আর ক্ষমতা নেই। মানুষকে আজ প্রকৃতির উপর আধিপত্য নয়, গড়ে তুলতে হবে প্রকৃতির সাথে বন্ধুর সম্পর্ক। একারণে এখন আমাদের খুব চিন্তা ভাবনা করে চলতে হবে কিভাবে এই বন্ধুত্ব গড়ে তোলা যায়। অনেক কষ্ট করে তা গড়ে তুলতে হবে কেননা সে এখন আর আমাদের কথা শুনবে না। জাতিসংঘ সবার মাঝে পরিবেশ কে ধ্বংস না করে তাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য বিভিন্ন আন্দোলন করে যাচ্ছে। তারই একটি হচ্ছে এই বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন। প্রতিবছর এই বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালনের জন্য তারা একটি স্লোগান তৈরি করে যাকে ঘিরে সেই বারের আন্দোলনটা রূপ পাবে। ২০১৭ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে এবারের স্লোগান “Connect People To Nature” বা “প্রকৃতির সাথে মানুষের সংযোগ” অর্থাৎ আমাদেরকে প্রকৃতির সাথে ওতপ্রোতভাবে মিশে যেতে হবে, প্রকৃতিকে ভালবাসতে হবে, ধারণ করতে হবে নিজের সাথে। এই স্লোগানের মাধ্যমে আমাদেরকে প্রকৃতির কাছে যাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং বৈচিত্র্য গুলো আমাদের চোখের সামনে দেখার কথা বলে হয়েছে। এছাড়া জাতিসংঘ খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করা এবং উন্নত স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা, বিভিন্ন প্রাকৃতিক উৎস থেকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহর ব্যবস্থা তৈরি করা এবং জলবায়ু স্থিতিশীলতার সুবিশাল সুবিধা গুলো তুলে ধরা সহ বিভিন্ন ধরণের সমস্যা থেকে পরিত্রানের উপায় এই আন্দোলনের মাধ্যমে তুলে ধরে ।pollution-620_620x350_81476701924.jpg

পৃথিবীতে মানুষ টিকে থাকার জন্য কত কি করছে। পৃথিবী ধ্বংস হলে কোথায় থাকবে তার জন্য নতুন বাসস্থান খোঁজার জন্য বিশাল পরিমানে অর্থ খরচ করছে কিন্তু তার খুব সামান্য অংশই ব্যয় করছে পৃথিবীকে বাঁচানোর জন্য তার পরিবেশকে বাঁচানোর জন্য। পৃথিবীতে প্রায় ৮০% মানুষ পরিবেশ দূষণের জন্য মারাত্নক ক্ষতির মুখে পড়ছে। প্রতিবছরে সারা পৃথিবীতে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ফোম কাপ, ২২০ মিলিয়ন টায়ার এবং ১.৮ বিলিয়ন ডায়াপার পুড়ানো হয়। যার কারণে পরিবেশের মারাত্নক ক্ষতি হয়। পৃথিবীতে প্রতিবছর যে মানুষ মারা যায় তার ৬.৭% মানুষ মারা যায় বায়ু দূষণের কারণে। যে বিশাল পরিমাণে বায়ু দূষণ হচ্ছে তার প্রধান কারণ হচ্ছে মানুষের কর্মকান্ড। বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যানবাহন ও কলকারখানা ইটভাটার কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং পেট্রোলিয়াম পুড়ানোর কারণে বায়ু দূষণ হচ্ছে। পরিবেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধি হচ্ছে। পরিবেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে মানুষের অস্তিত্ব সংকটের মুখে পরেছে। পরিবেশ বাদীদের মতে আগামী ৩০ বছরের মধ্যেই তাপমাত্রা প্রায় ৪ ডিগ্রী করে বৃদ্ধি পাবে এর ফলে সাগরের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে ঝড় বৃষ্টি, সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস সহ বিভিন্ন ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিবে। আগামী ৫০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের প্রায় দু তৃতীয়াংশ জায়গা পানিতে ডুবে যাবে। হারিয়ে যাবো আমরা। এমনিতেই আমাদের প্রতিবেশী দেশ আমাদের ন্যায্য হিস্যার পানি না দিয়ে আমাদের দেশকে মরুভূমিতে রূপ দিতে বিরাট ভূমিকা রাখছে এভাবে চলতে থাকলে আমাদের কোন থাকার জায়গা থাকবে না। বিলীন হয়ে যাবে আমাদের অস্তিত্ব। এই পরিবেশকে রক্ষা করতে চাইলে আমাদেরকে সচেতন হতে হবে। এজন্য আমাদেরকে বিভিন্ন কাজ করতে হবে। এই পরিবেশকে রক্ষা করতে হলে আমাদেরকে নিম্নোক্ত উপদেশ গুলো পালন করতে হবে।

  • পৃথিবীতে আমরা প্রতিবছর প্রায় ৮০ ট্রিলিয়ন অ্যালুমিনিয়াম ক্যান বোতল ব্যবহার করি। এসব ক্যান বোতল গুলো আবার রিসাইকেলিং এর মাধ্যমে আবার ব্যবহার করা সম্ভব এইজন্য এর পরের বার আমরা যখন এই অ্যালুমিনিয়াম ক্যান বোতল ব্যবহার করব তখন আমরা তাকে যত্রতত্র ফেলি না দিয়ে রিসাইকেল ডাস্টবিনে তা ফেলি।
  • পৃথিবীতে ব্যবহার যোগ্য পানির পরিমাণ মাত্র ১% আর বাকি ৯৯% পানি লবণাক্ত ও বরফ। আমাদেরকে সবসময় এই পানি অপচয় রোধ করতে হবে। পানির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
  • আমাদেরকে পলিথিন ব্যাগ যথাসম্ভব বর্জন করতে হবে। পলিথিনের কারণে প্রতিবছর প্রায় ১০,০০,০০০ সামুদ্রিক প্রাণী মারা যায়। বাংলাদেশের সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপে এই পলিথিনের কারণে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে ।
  • কার্বন নিঃসরণ প্রবাহ কমাতে হবে একারণে আমাদেরকে যথাসম্ভব বাসার ফ্যান লাইট কম পরিমাণে ব্যবহার করতে হবে।
  • বেশি বেশি গাছ লাগানোর চেষ্টা করি আর যদি একটি গাছ লাগাতে নাও পারি অন্তত একটি গাছে পানি দিয়ে সেই গাছের বৃদ্ধি নিশ্চিত করি।
  • যথাসম্ভব গাড়ির ব্যবহার কম যেন কম করি এবং পায়ে হাটার অভ্যাস তৈরি করি।
  • খাবার বেশি নষ্ট না করি কেননা আপনার নষ্ট করা খাবারই হয়ত অন্য কারো খাবার ছিল। যা আপনি নষ্ট করে ফেললেন।
  • পুনরায় ব্যবহার যোগ্য শক্তি বেশি ব্যবহার করতে হবে।tree1.jpg

আমাদেরকে এই পৃথিবীতে টিকে থাকতে হলে পৃথিবীর সাথে কোমল হতে হবে।যদি পরিবেশ ভালো থাকে তাহলে আমরা ভালো থাকব আর আমরা ভালো থাকার মানেই হল পরিবেশের উপর আধিপত্য থাকা।