সদিচ্ছা থাকলে বাংলাদেশ পুলিশ পারবে না এমন কিছু নেই !

Now Reading
সদিচ্ছা থাকলে বাংলাদেশ পুলিশ পারবে না এমন কিছু নেই !

বর্তমানে আলোচিত এক নাম শাহনাজ আক্তার পুতুল। রাফিউজ্জামান নামে একজন ১১ জানুয়ারি অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট শাহনাজকে নিয়ে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘উবারে কল দিলাম। ওপাশে রাইডার ফোন ধরে প্রথমেই বললেন, “ভাইয়া, আমি মহিলা ড্রাইভার, আমার বাইকে চড়তে আপনার আপত্তি নাই তো?” আপত্তি নেই শুনে শাহনাজ বলেন, “আমি আসছি ভাইয়া”। রাফিউজ্জামানের এই পোষ্টটি খুবই দ্রুত ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। শাহনাজের সাহসীকতার কথা সবার কাছে পরিচিতি পায়। তারপর দেশি বিভিন্ন প্ত্র-পত্রিকাসহ অনলাইন মিডিয়া পোর্টালে শাহনাজ আক্তার পুতুল এর সাহসীকতার গল্প ছাপা হয় এবং প্রতিবেদন করা হয়।
ঠিক ১৫ই জানুয়ারি শাহনাজের স্কুটিটি চুরি হয়ে যায়। তারপর শাহনাজ ওই ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন । জিডি নম্বর ৯১১।
শাহনাজ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। শাহনাজ বলেন ধার করে স্কুটিটি কিনেছিলেন, এখনো সেই ঋণের এক লাখ টাকা বাকি। এই দিকে শাহনাজের স্কুটিটি পুলিশ
উদ্ধারের জন্য তাদের পুলিশই অভিযান চালাতে থাকে।
পুলিশের তেজগাঁও জোনের সদস্যদের তৎপরতায় ১৬ জানুয়ারি দুপুরের মধ্যেই চুরি হওয়া শাহনাজের স্কুটিটি উদ্ধারে সফল হয়। এবং শাহনাজের হাতে তুলে দেওয়া হয়। শুধু তা–ই নয়, শাহনাজের দুই মেয়ের জন্য পুলিশের তেজগাঁও জোনের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকাও তুলে দেওয়া হয়।

স্কুটিটি ফেরত পাওয়ার পর শাহনাজ বলেন আমি অনেক খুশি। সর্বপ্রথম এজন্য সাংবাদিক ভাইদের ধন্যবাদ জানাই, দ্বিতীয়ত আইনের ভাইদের ধন্যবাদ জানাই। পুলিশ যে এত পরিশ্রম করে এত কম সময়ে বাইকটা উদ্ধার করবে, সেটা আমার ভাবনার বাইরে ছিল। আজ আবারও মনে হচ্ছে, পুলিশ চেষ্টা করলে সব পারে।

আমার কাছে মনে হলো ইন্ডিয়ান ক্রাইম পেট্রোল সিরিয়ালের পুলিশদের মতো এ দেশের পুলিশরা গেল, বাইকটা উদ্ধার করল আর নিয়ে এলো।
তিনি বলেন, চুরি হওয়ার পর থেকে পরিবার ও স্বজনরা বলেছে, ওটার আশা আর কইরো না। পুলিশ ওই বাইক বের করতে করতে চোর বিক্রি করে খেয়ে ফেলবে। বাইকটা উদ্ধার করে দিয়ে পুলিশ যে উপকার করল তা বলে বোঝাতে পারব না।

তাছাড়া এই ঘটনায় পুলিশ জনি (২৭) নামে একজনকে আটক করে এবং পুলিশ জানায়, সে আর কোনো চুরির সঙ্গে জড়িত কি না তা রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বিস্তারিত জানা যাবে।

শাহনাজের এই ঘটনার মাধ্যমে আমরা একটা জিনিস বুঝতে পারি বাংলাদেশের পুলিশের কাজের তৎপরতা অনেক উন্নতি হয়েছে। আমাদের দেশের পুলিশ চাইলে অনেক কিছুই করতে পারে। এর আগেও আমাদের দেশের পুলিশ তাদের নিজেদের কাজের দক্ষতার পরিচয়, বিভিন্ন ভাবে দিখিয়েছে।
আমাদের দেশের পুলিশরা জনগণের জন্যই প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। পুলিশের মূল কাজ হচ্ছে দেশের অভ্যন্তরে আইন-কানুন এর মাধ্যমে জনগণকে নিরাপত্তা দেওয়া। যেই কাজটি বর্তমানে পুলিশ খুব সফলতার সাথেই করে যাচ্ছে।

কিন্তু খুব দুঃখের সাথে বলতে হয়, আমাদের দেশের কিছু মানুষ বর্তমান পুলিশের এই উন্নতি এবং কাজের
তৎপরতা কথা মানতে চায় না। দেখেন একটা দেশের জনগণ যদি আইন অমান্য না করে, তাহলে সেই দেশের পুলিশের দরকার হয় না। বর্তমান পৃথিবীতে এমন কিছু দেশ আছে, যেই দেশগুলো তাদের দেশের জেলখানাগুলো বন্ধ করে দিচ্ছে, কারন তাদের দেশের জনগণ আইন অমান্য করা বা অপরাধ করা বন্ধ করে দিয়েছে।
আসলে আমরা জনগণ যদি অপরাধ করা বন্ধ করে দেই, তাহলে পুলিশের দরকার হয় না।
আমরা ঐ জনগণ, রাস্তায় যখন ৫/৭ জন মানুষ কোন একটা অন্যায় বা আইন অমান্য করছে, তখন আমরা শত শত জনগণ তাকিয়ে তাকিয়ে শুধু দেখি, প্রতিবাদ করতে পারি না। শুধু আমরা পুলিশের দোষ দিতে পারি। আর বলতে পারি পুলিশ ঘুষ খায় ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি একটা প্রশ্ন করি, পুলিশকে ঘুষ দেয় কে? উত্তরটাও আমি দিচ্ছি, আমরা জনগণই।

তবে বর্তমানে সবাইকে স্বীকার করতে হবে আমাদের দেশের পুলিশরা, জনগণের জন্য অনেক কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের নিরাপত্তায় অনেক পরিশ্রম করে যাচ্ছে। একটা সময় হয়তো প্রশ্ন ছিল, পুলিশের কাজের দক্ষতা বা তৎপরতা নিয়ে, কিন্তু এখন আমাদের পুলিশ বাহিনী অনেক উন্নত এবং কাজের দক্ষতা ও তৎপরতা অনেক বেড়ে গেছে। আমাদের জনগণের উচিত আমাদের পুলিশ বাহিনীকে তাদের ভাল কাজগুলোর জন্য তাদের বাহ বাহ দেওয়া। এতে আমাদের পুলিশ বাহিনী কাজ করার জন্য আরও উৎসাহিত হবে।

পুরানো তিমির [১১তম পর্ব]

Now Reading
পুরানো তিমির [১১তম পর্ব]

সকালে ঘুম থেকে উঠেই এমন একটা খবর শুনলাম যে আমার শিরদাঁড়া সোজা হয়ে গেল।গায়ের লোম গুলো কাঁটা দিয়ে উঠলো মুহূর্তে।আজিজুর রহমান মারা গেলেন।খবরটা পেলাম মায়ের মুখে।তিনি নাকি স্ট্রোক করেছেন।শুনে কেমন যেন মানতে পারছিলাম না কথাটা।মস্তিষ্ক যেন এমন একটা অনাকাঙ্ক্ষিত সংবাদ গ্রহন করতে চাইছে না। কাল রাতেই আমি তার সাথে কথা বলেছি।হ্যাঁ, খুব সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের মতই তিনি সুন্দর ভাবে কথা বলেছিলেন।দেখে একটুও অসুস্থ মনে হয় নি।আমার মনে আছে,তিনি বলেছিলেন____হয়ত আর দেখাই হবে না।কোনদিন আর দেখা হবে না।চাইলেও না।মানুষটা কি জানতেন আজ তিনি চলে যাবেন? অদ্ভুত!

লোকটার সাথে আমার পরিচিয় খুব অল্প দিনের।তেমন কোন ভাব জমে উঠে নি।সামান্য কথাবার্তায় আর ভদ্র লোকের অমায়িক ব্যবহারে কেমন যেন মায়া বসে গেছে।লোকটা খারাপ কি ভালো এতকিছু জানি না,শুধু বলতে পারি তাঁর মাঝে কোন মন্দ আচরণ দেখি নি।

 

সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই এমন একটা খবর পেয়ে মনটা বেশ খারাপ হল।তবে স্বস্তির কথা হচ্ছে মা অনেক সুস্থ আছেন।খবরটা মা জেনেছেন আশার কাছ থেকে।মেয়েটা ভোর বেলায় মায়ের কাছে এসে কান্নাকাটি করে গেছে কিছুক্ষণ।বাবাও ছিলেন।তখন আমি আর শেফা দুজনই ঘুমিয়ে ছিলাম।

 

হাতমুখ ধুয়ে ফ্রেস হলাম।নাস্তা সেরে বেরিয়ে পড়লাম আজিজুর রহমানের বাড়ির দিকে।লোকটাকে শেষবার একটু দেখে আসি।সেই সাথে আরো একটি কাজ হবে।আশা মেয়েটাকে আজ দেখতে পাব।

বাড়ির সামনে গিয়ে নিছক হতাশ হলাম।দরজায় তালা দেয়া।লোকমুখে জানলাম,খুব সকালে আজিজুর রহমানের লাশ পরিবার এসে দেশের বাড়ি নিয়ে গেছে।মনে মনে একটু দুঃখিত হলাম।একবার দেখতে পারলে ভালো হত।ভদ্রলোকের দেশের বাড়ি কোথায় আমি জানি না।জানলে যাওয়া যেত হয়ত।হতাশ মুখে ক্লিনিকে ফিরে এলাম।মা আজ এতটাই সুস্থ যে তাঁকে রিলিজ দেয়া হল।আশা মেয়েটার সাথে একবার দেখাই মাকে আমূলে বদলে দিল।অবাক হলাম।মানুষের মাঝে আত্মার বন্ধন কতটা সুদৃঢ় হতে পারে তা ভেবে আমাদের শুধু অবাক হতে হয়।

 

মাকে বিকেল বেলায় শেফার বাসায় পৌঁছে দিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।অনেকদিন পর মনটা একটু হালকা লাগছে।আজিজ সাহেবের জন্যে একটু খারাপ হয়ত লাগছে,তবে তা খুব বেশি জোরালো না।মৃত্যু আর নিয়তির উপর আমাদের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই।

 

ঢাকায় পৌঁছে বেশ ভালোই ছিলাম।একদিন শেফা জানালো,আশা মেয়েটা এবার তার বাড়িতে আসা যাওয়া শুরু করেছে।মার সাথে আবার তার ভাব জমে উঠেছে।আমি আশ্চর্য হলাম।বললাম, “মেয়েটা তোর ঠিকানা জানলো কি করে?”

আশা জানালো,”মায়ের কাছে মেয়েটার মোবাইল নাম্বার আছে।“

খবরটা শুনে নিজেকে কেমন বোকা বোকা মনে হচ্ছে।এতদিন মেয়েটাকে খুঁজে বেড়াচ্ছি আর একবারের জন্যেও মার কাছে জানতে চাইলাম না মেয়েটা কে খুঁজে বের করার কোন উপায় আছে কি না।অবশ্য আমি নিজেই মাকে জানাতে চাই নি খবরটা।আমার পক্ষ থেকে সাপোর্ট পেয়ে গেলে পরে মেয়েটাকে আর আলাদা করতেই পারব না।

আমি শেফাকে বললাম,”থাক না,মেয়েটা যদি মায়ের সাথে একটু কথাবার্তা বললে মা একটু সুস্থ থাকেন তবে ক্ষতি কি! তোর যদি কোন অসুবিধে না হয় তাহলে আসুক।“

 

কিছুদিন পর আরেকটা খবর শুনে আমি আরও বেশি অবাক হলাম।শেফা ফোন করে আচমকা আশা মেয়েটার প্রশংসা শুরু করলো।মেয়েটা খুব ভালো,মায়াবী,মানুষকে খুব সহজে আপন করে নিতে পারে……হেনতেন।

আমি নড়েচড়ে বসলাম, “তুইও মেয়েটার খপ্পরে পড়ে গেলি!”

“আরে দূর……খপ্পরে পড়তে যাব কেন?মেয়েটার মনে কোন খারাপি নেই।“

শেফার সাথে তর্কে গেলাম না।সেও মেয়েটার কাছে কাবু হয়ে গেছে।আমার ভয়টা পুনরায় বাড়তে লাগলো।এতদিন নিশ্চিন্তে ছিলাম এই ভেবে যে,মা বাবা দুজনেই এখন শেফার কাছে আছেন।আশা মেয়েটার মনে কোন দুষ্ট বুদ্ধি থাকলেও শেফা সামলে নিবে।সুবিধা করতে পারবে না।কিন্তু এখন দেখছি শেফা নিজেই বদলে গেছে।

 

এমন দুশ্চিন্তায় যখন আমার সময় কাটছে,তার কিছুদিন পর এমন ভয়াবহ একটা খবর পেলাম যা শুনে আমার টনক নড়ে উঠলো।আমার বিয়ে।আমাকে জানানো ছাড়াই আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।শেফা এক সন্ধ্যায় ফোন করে বলল,”আশার সাথে মা তোর বিয়ে ঠিক করেছেন।“ তার কথা বলার ভঙ্গি আর হাস্যজ্জল অভিব্যক্তি দেখে বুঝতে পারলাম নাটের গুরু হিসেবে সেও বেশ খুশি।সবকিছু এতদিন পরিবার আর সবার সুখের জন্যে মেনে নিয়েছি।এমন একটা কাজ আর কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না।পিতামাতা তাঁর সন্তান কে নিজের পছন্দ অনুযায়ী বিয়ে করাতেই পারেন।হোক না মেয়েটার কোন রূপ-গুণ নেই।তাই বলে একটা বিধবাকে পছন্দ করবেন?সব পুরুষের মত আমারও কুমারী মেয়ে ঘরে আনার স্বপ্ন থাকাটা খুব বেশি অন্যায় নয়।

 

অফিস থেকে ছুটি নিয়ে আবার বাড়ি গেলাম।স্পষ্ট করে বাবা মাকে বললাম আমি এই বিয়েতে রাজি না।অনেক তর্ক বিতর্ক হল।পিতামাতার সাথে এমন বিশ্রি ভাবে ঝগড়া আমার এর আগে আর হয় নি।দফায় দফায় সকাল বিকাল এ নিয়ে ঘরের ভিতর ঝামেলা লেগেই আছে।শেষে আর কিছু করতে না পেরে রাগ দেখিয়ে ঢাকায় চলে আসলাম।আসার সময় শেফার সাহায্যে মায়ের মোবাইল থেকে আশার মোবাইল নাম্বারটা চুরি করে আনলাম।মেয়েটার সাথে কথা বলে সবকিছু শেষ করতে হবে।

Page Sidebar