পড়াশুনার মতিভ্রম – ৩ { বর্তমানের ভয়াবহ পরিস্থিতি ঃব্রান্ডিং-এ টালমাটাল }

Now Reading
পড়াশুনার মতিভ্রম – ৩ { বর্তমানের ভয়াবহ পরিস্থিতি ঃব্রান্ডিং-এ টালমাটাল }

tomasz-zaborek-tomasz-zaborek-mag-render.jpg

 

 

 

 

আমরা শুধু আমাদের সোনামণিগুলোকে মানুষের মত মানুষ দেখতে চাই। কিন্তু কতজন বাবা মা আছেন তাদের ছেলে মেয়েদের ব্যাপারে শত ভাগ না হলেও ৮০ ভাগ নিশ্চয়তা সহকারে খবর রাখেন । তারা কোথায় বেশী মনোযোগ দেয় কোথায় দেয়না , সারাদিনে কতক্ষণ পড়াশুনা করে ? স্কুল কলেজে ঠিক মত যায় কিনা ? কাদের সাথে দিনের অধিকাংশ সময় কাটায় ?   ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ায় কিনা , তা  আমাদের একবার ভেবে দেখা দরকার ।   আরেফিন রুমি দুইটা বিয়ে করলো না চারটা করলো তাসকিন সাব্বির কাকে বিয়ে করবে , বিয়ের জন্য বাংলাদেশে এখন হট ফেভারিট কে ? এগুলার পিছনেই সময় নষ্ট করবেন ?  আপনার কি খেয়ে দেয়ে আর কাজ নেই ? সারাদিন ফেসবুক, হোয়াটসাপ আর ইউটিউব নিয়ে বসে থাকলে সমাজের কথা তো বাদই দিলাম বন্ধু মহলেই তো আপনি আর দাম পাবেননা , এই কথা কি কখনও ভেবে দেখেছেন ?

 

এবার আসুন সমস্যা কোথায় তৈরি হয়েছে তাতে একটু নজর বুলিয়ে আসি , আশা করি আপনাদের সবার সময় হবে । তো আসল এবং সবচাইতে বড় সমস্যা সবার আগে বলি যাতে আপনাদের ব্রেন হ্যাং হয়ে যাওয়ার আগে ক্যাচ করতে পারে , তার নাম হচ্ছে ব্রান্ড ।

 

জি ঠিক শুনেছেন , এই ব্রান্ডিং মেনটালিটি দেশের বারটা বাজিয়েছে । মোবাইল ,টিভি,ফ্রিজ,গাড়ি,প্লেন এগুলো না হয় ঠিক ছিল কিন্তু যখনি এটা আস্তে আস্তে কাপড় চোপড়ে ঢোকা শুরু করলো তখন থেকেই শুরু হল যত গণ্ডগোল । এই ব্রান্ডিং এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এখন তো আন্ডার গার্মেন্টস আর চুরিওব্রান্ডের চাই। ব্রান্ডিং-এর কল্যাণে ৭০০ টাকার জিন্স ৫০০০,৫০ টাকা উৎপাদন মূল্যের টিশার্ট হাতে আর কলারে সামান্য একটা লোগো নিয়ে হয়ে যায় ১০০০ টাকা,চায়না থেকে আনা ১৫০ টাকার কেডস ১২০০ ,২০ টাকার হেডফোন ৫০০,২০০ টাকার শার্ট ৩০০০, ১০০০ টাকার ব্লেজার ১০,০০০ টাকা । আর বাইরে থেকে কিছু আনলে তো কথাই নেই ৫০০০ টাকার জিনিসও ৫০,০০০ টাকার সমাদর পায় । এবার আসি মেয়েদের কাপর চোপড়ে । সেগুলোর দাম না বলে বলা উচিৎ এই যে কিরণমালা পাখি ড্রেসের জেদ করে কিছু অবুঝ মা বোন আত্মহত্যা করলো তার দায়ভার কারা নেবে ?

 

অবশ্যই যারা এই দেশে ভারতীও সিরিয়াল প্রদর্শন করে নিঃসন্দেহে তাদেরকেই এর দায়ভার নিতে হবে এবং নিতে হবে যে সকল মায়েরা না বুঝে প্রশ্রয় দিয়ে তাদের আদরের সন্তানদের মাথায় তুলে একসঙ্গে ভারতীও সিরিয়াল দেখায় মজেছে তাদেরকে । অনেক মায়েরা তো নিজেরাই এসব ড্রেসের বায়না ধরে বসে কি তাজ্জব ব্যাপার !!

 

বুড়ো বয়সে ভীমরতি আরকি । এ আর এমন কি মেয়েরা বায়না ধরবে স্বামী আর বাবারা কিনে দিবে এটাই তো স্বাভাবিক । হ্যাঁ অবশ্যই স্বাভাবিক থাকত যদি বাংলার ডাকাতরা থুক্কু যে সব দোকানদার রুপী ডাকাতেরা এসব মেয়েদের ড্রেস বিক্রি করেন তারা যদি সেগুলো সাধারণ জনগণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখত ?

 

তাহলে স্বাভাবিক ভাবেই কথা এসে যায় যাদের সামর্থ্য নেই তারা কিনবেনা । কিন্তু আমাদের এই সামর্থ্য অসামর্থ্যের ব্যবধান বোঝার সক্ষমতা আমাদের সিরিয়াল দেখা মায়েদেরই হয়নি তো তাদের মেয়েদের কি হবে ? প্রত্যেক ব্যাচের ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উচ্চবিত্ত থাকে ।

আর এই উচ্চবিত্ত শ্রেণির মধ্যে কিছু থাকে লাফাঙ্গা টাইপের যাদের গার্ডিয়ানও সেই টাইপ। এরা তাদের ছেলে মেয়েদের যখন যা খুশী কিনে দেন । এসব দেখে সেইসব ছেলে মেয়েদের ব্যাচের অন্য মধ্যবিত্ত  শ্রেণীর ছেলেমেয়েদের হতাশা তীব্রতর হয় । তারাও ভাবতে থাকে কবে যে এরা এদের সহপাঠীদের মত অবিরত ধারায় অর্থের অপচয় করতে পারবে , আর তখন তাদের সামনে সবেধন নীলমণি হিসেবে প্রকাশ পেতে থাকে সালমান মুক্তাদিরের সেই ওমর বাণী ” ইউটিউব থেকে ইনকাম করতে শুধু একটা জিমেইল অ্যাকাউন্টই যথেষ্ট” যেটা এক প্রাইভেট টেলিভিশনে আউটসোর্সিং এর সাক্ষাতকারে দিয়েছিলেন ।

ব্যাস আর পায়কে — এবার ফেরারি কিনেই ছাড়বে জনার্দন । তো ভিডিও কিভাবে বানাবে ? এটাও আবার শিখিয়ে দিতে হবে ? সালমান মুক্তাদিরের প্র‍্যাঙ্ক ভিডিও দেখে নিজেদের মত করে আপলোড করলেই হল , ইউটিউব জামাই আদর করতে এদেশে এসে যাবে। সালমানের একটা ভিডিওতে দেখা যায় সে এবং তার বন্ধুরা রাস্তায় চলাচল-রত গাড়িগুলোকে থামিয়ে বিভিন্ন ভাবে বিরক্ত করতে থাকে , এভাবে যদি সারা দেশের পোলাপান সবাই রাস্তার গাড়িগুলির সাথে এই আচরণ করে তাহলে জ্যামের শহর গুলিতে কি অবস্থা হবে ভেবে দেখেছেন ? ডেমো দেখুন তাহলেই বুঝতে পারবেন ।

 

 

 

 

মেকআপ খরচ, পার্লার খরচ, ফাস্ট ফুডের খরচ, মোবাইল খরচ, রেস্টুরেন্টের খরচ,কিরণমালা পাখি ড্রেস এগুলোর জন্য আর কত মায়ের কাছ থেকে টাকা নেয়া যায় তাই শর্টকাটে সেলিব্রিটি হওয়ার জন্য ফেসবুক লাইভ । আর পায়কে — যা ইচ্ছা তাই দেখাও যা ইচ্ছা তাই কর আর মানুষের কাছ থেকে বিকাশে টাকা নেও। ইচ্ছা করলে সেই ভিডিও শেয়ার করতে পারতাম কিন্তু কারা বিকাশে মানুষের কাছে টাকা চায় আর কারা ছ্যাঁচড়া বিনোদনের নামে মানুষকে দেশী মুরগির ভিডিও বানিয়ে নিজেরাই দেশী মুরগি হয় তা হয়তো এখন কারোরই অজানা নেই।

 

যত যাহাই করিও একটু ভাবিয়া চিন্তা করিও কেমন ।

মানুষ চিনে গেলে বিয়ে করার সময় ছেলের জন্য মেয়ে আর মেয়ের জন্য ছেলে পাওয়া বড় দুষ্কর হয়ে যাবে যে ।