আত্মকথা

Now Reading
আত্মকথা

“ছোটবেলা থেকে মাকে দেখতাম ঘরের সব কাজ করে একা নিজের রুমে বসে বসে কাঁদতেন। বুঝতামনা তখন। শুধু মায়ের চোখের জল মুছে গালে চুমু খেয়ে বলতাম আমি তোমার সব কাজ করে দেব মা কান্না করনা ! মা কিছু না বলেই শুধু আমাকে জড়িয়ে ধরে আরো কেঁদে ফেলতেন।

প্রায়ই স্কুল থেকে ঘরে ফিরে দেখতাম বাবা মাকে মেঝেতে ফেলে চড় লাথি মারছে, চুল ধরে মারছে ! আমি ভয়ে চিৎকার করে কাঁদতাম তখন বাবা আমাকে থামাতে মাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হত কারণ প্রতিবেশী জেনে যাবে বাবার অত্যাচারের কথা।

তবু মাকে দেখতাম বাবার মাথা টিপে দিতে, কখনও পাঁ টিপতে, কখনও বাবাকে মুখে তুলে খাইয়ে দিতে, বাবার পছন্দের খাবার বানাতে…। বাবাকে খুশি করতে, বাবার একটু ভালবাসা পেতে মায়ের কত প্রচেষ্টা ছিলো! কিন্তু বাবাকে মায়ের প্রতি ভালবাসাতো দূর একটু সদয় আচরণ করতেও সহজে দেখিনি। শুধু দুটি কারণে মায়ের প্রতি বাবার খুব সদয়ভাব বা আদিখ্যেতা দেখতাম। এক, যখন প্রতিবেশী বা আত্মীয় স্বজন নেমন্তন্নে আসতেন এবং দুই, যখন মা নিজের সমস্ত গয়না বাবার হাতে একটু একটু করে তুলে দিতেন।

এত অত্যাচারের পরেও মা কোনদিন বাবাকে বা আমাদের ছেড়ে যাননি ! বড় হবার পরে সহ্য হতনা মায়ের কষ্ট ! মাকে বলতাম , মা ঐ লোকটাকে সহ্য হয়না ! তুমি কিকরে সহ্য করো ? এই লোকটার থেকে দূরে কোথাও চলে যাই চল ! রোজ তোমার কষ্ট দেখতে আর ভাল্লাগেনা মা !

মা বলতেন, কিকরে ছেড়ে যাই ওকে ! ভালবেসে তার হাত ধরে চলে এসেছিলাম ! তাছাড়া সেই ছোটবেলায় বাবা মা মারা গেছেন। বড় ভাইয়ের সংসারে খুব কষ্ট আর নানা অবহেলায় ঘরের কোণে পড়েছিলাম। তবে কার কাছে যাই আর কিকরেই বা যাই রে মা ! বাবা মা যার ছোটবেলায় মারা যায় তাঁর সারাটা জীবনই দুঃখ, কষ্টে কাটে মা ! শুধু তোকে ভাল একটা বিয়ে দিতে পারলেই আমার সব কষ্ট মুছে যাবে।

এই বলেই মা আবার সেলাই মেশিনে বসে গেলেন। এই করেই মা আমাকে খুব যত্ন আদরে একটু একটু করে বড় করেছেন। নিজে ভাল কোন কাপড় পরেননি, ভাল খাবার খাননি সব আমার জন্য যোগাড় করে রেখে দিতেন। নিজ হাতে কত সুন্দর করে আমার জন্য জামা বানাতেন ! কত সাজিয়ে দিতেন ! আর সবসময় কপালে, মাথার শিথিতে চুমু খেতেন…। মায়ের কথা ভাবলে অন্যমনষ্ক হয়ে যাই বাকরুদ্ধ হয়ে খোলা আকাশে খুঁজে ফিরি মাকে ! কিন্তু চোখের কোণে জলের কোন অস্তিত্ব অনুভব করিনা !

স্পষ্ট মনে আছে এইতো সেদিন, তখন আমি সবে ক্লাস এইটে পড়ি। একদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে দেখি, মা মেঝেতে পড়ে আছেন ! মুখ থেকে কেমন ফ্যানা বের হচ্ছে ! মায়ের পাশে বাবা বসে কাঁদছে আর বলছে,

  • তোর মা বাথরুমে পড়ে গেছে আমি তাঁকে তুলে আনতেই দেখি অজ্ঞান হয়ে গেছে ! এত ডাকলাম সেবা করলাম কিন্তু আর চোখ খুলে তাঁকালোনা তোর মা !

বাবার কান্নায় ততোক্ষণে পাড়া প্রতিবেশীর ভিড় জমে গেছে বাড়িতে। আমি মাকে জড়িয়ে কত ডাকলাম কত চেষ্টা করলাম মাকে সজাগ করতে কিন্তু মা আর সজাগ হননি ! আমাকে জড়িয়েও আর ধরেননি !

মায়ের শেষ গোসলের সময় শুনছিলাম কানাকানি করছিলো মহিলারা ! বলছিলো মায়ের গলায় কালো দাগ আর গলাটাও বেশ ফোলা ! আর মায়ের তলপেটে ক্ষতচিহ্ন ছিলো !

আমি বুঝতে পারিনি তবে এখন বুঝেছি। মাকে খুব কষ্ট আঘাত দিয়ে মারা হয়েছিলো।

কিন্তু মাতো বলেছিলো তাঁর নামে যে কোটি টাকার সম্পদ নানাভাই রেখে গিয়েছেন সেই সম্পদের কিছু অংশ বাবাকে দিয়ে দেবেন তবে কেন মাকে মেরে ফেললো বাবা ? কত কেঁদেছি, না খেয়ে তবু কাউকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে পারিনি ! কত প্রশ্ন ছিলো কঁচি মনে কিন্তু জবাব খুঁজে পাইনি !

জীবনের বাঁকে বাঁকে এমন কিছু অভিজ্ঞতা হল যাতে আরো অনেক কিছু বুঝে গেছি। বাবা যখন সুন্দরী এক বড় লোকের মেয়েকে বিয়ে করে ঘরে এনে তুললো আর আমাকে হোস্টেলে থেকে পড়াশুনা করার সব ব্যবস্থাও করে ফেললো !

প্রথমে বাবা পড়াশুনার খরচ পাঠাতো কিন্তু পরে আস্তে আস্তে কমে গেল টাকার পরিমাণ ! কিকরব ভয়ে টাকা চাইতে সাহস পেতামনা ! কারণ কেউ না জানলেও আমি জানি আমার মাকে বাবা অত্যাচার করে মেরে ফেলেছে ! তারপর টিউশনি করে পড়ার খরচ চালাতে লাগলাম। কলেজ ছুটিতে বাড়ি যেতাম কিন্তু জলদি চলে আসতাম ! বান্ধবীদের বাড়ি প্রায়ই গিয়ে থাকতাম !

আমার মামা খুব বড়লোক। কিন্তু কোনদিন মায়ের খোঁজ নেননি ! আমিও তাঁকে কোনদিন দেখিনি। তাঁকে মায়ের মৃত্যু সংবাদ পাঠানো হয়েছিলো কিন্তু সে নাকি তখন দেশের বাইরে ছিলো তাই আসতে পারেননি শুনেছি ! কিন্তু আর কোনদিনই সে আসেননি। মা হারা অসহায় আমার খোঁজও কোনদিন নিতে চেষ্টা করেননি। হয়তো দায় এড়িয়ে গেলেন !

অনেক কেঁদেছি মাকে ভেবে ! মায়ের ঘরে মায়ের গন্ধ শুকেছি, মায়ের আদর খুঁজেছি কিন্তু কোথাও পাইনি … হায় পোড়া কপাল ! এখন চোখের সব জল শুকিয়ে গেছে। অন্তরের দহনে পুড়ে খাঁক হয়ে গেছে সমস্ত মায়া, ভালবাসা ! চোখে জল নেই শুধু পুরুষ নামের এই কাপুরুষ পশুদের জন্য ঘৃণা আছে !

খুব অল্প বয়সেই জীবন যুদ্ধ শুরু করলাম ! এ যেন বাঁচার কঠিণ এক লড়াই ! টিকে থাকার লড়াই ! এই লড়াইয়ে হয় জিতবো নয় হারবো !জিতলে বাঁচার মতন বাঁচবো আর হারলে একবারে মরে যাবো সিদ্ধান্ত নিলাম ! তাছাড়া ঐটুকু বয়সে মা হারিয়েছি, বাবার অবজ্ঞা অবহেলা আর স্বার্থপরতা দেখেছি ! আমার আর কে আছে ? জীবনের প্রতি মায়া করার তেমন কোন পিছুটানও নেই ! কারো প্রতি কোন মায়া টান অনুভব করিনা !

আমার এতিম মা টা বড্ড বেশী লক্ষী আর বোকা মেয়ে ছিলো তাই অত্যাচার সহ্য করতে করতে মরেই গেলো ! কিন্তু আমি ঐ নোংরা নিষ্ঠুর কাপুরুষদের হাত, পাঁ ভেঙে দেব ! পঙ্গু করে দেব ঐ পশুদের !”

মা হারা এক মেয়ের আত্মকথা ছিলো এগুলো।

কোন এতিম সন্তানের আহাজারি আর আক্ষেপ কান পেতে কখনও কি শুনেছি ? কেন তাঁর চোখে কখনও এত মায়া আবার কখনও এত তীব্র জ্বালা?

তাঁর কন্ঠে কখনও করুণ আর্তনাদ কখনও বেরসিক কর্কশ আওয়াজ !

পুরানো তিমির [১ম পর্ব]

Now Reading
পুরানো তিমির [১ম পর্ব]

রাত একটার দিকে হঠাৎ হৈ চৈ শুনে আমার ঘুম ভাঙলো।ভীষণ কড়া শব্দ।কোথাও যেন ভাংচুর হচ্ছে।কাঁচ ভাঙার শব্দ,আসবাব ভাঙার শব্দ, আরও কত আহাজারী হট্টগোল।বিছানার পাশে টেবিল হাতড়ে সুইচটা খুঁজে নিলাম।টেবিল ল্যাম্পটা জ্বালিয়ে উঠে বসলাম বিছানায়।

জানালার পাশে দাঁড়িয়ে কোথায় কি হচ্ছে বুঝার চেষ্টা করছি।কিছুই বুঝতে পারছি না।ঘুম জড়ানো মস্তিষ্ক জেগে উঠতে সময় লাগছে।

এক আহত নারীর কান্না,ভীষণ করুণ।এমন কান্না,শুনলেই বুকটা হু হু  করে উঠে।

কান্নার আওয়াজটা ধীরেধীরে আরও বাড়ছে।এই মধ্যরাতে,তীক্ষ্ণ সুরের কান্না ভেসে আসছে অজানা নিকট কোন স্থান হতে।

    “আহাদ……শুনছিস?”

মায়ের কণ্ঠ শুনে পিছনে তাকালাম।দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি।এই হট্টগোল চিৎকার,চ্যাঁচামেচিতে তাঁর ঘুম ভেঙে গেছে।বাবাও নিশ্চয় জেগে গেছেন।বৃদ্ধ বয়সে মাঝরাতে আচমকা ঘুম ভেঙে যাওয়া সহজ কথা নয়।এই বয়সে সামান্য অনিয়ম হলেই শরীর হেলে পড়ে।মা’র দিকে তাকিয়ে বিনয় সুরে জানতে চাইলাম,”কি হয়েছে মা?এত রাতে জেগে উঠলে কেন?”

“শুনতে পাচ্ছিস,জানোয়ারটা আজও মেয়েটাকে মারছে।“

“কোন মেয়ে মা?কে কাকে মারছে?”

মা’র মুখটা মলিন হল।দুঃখ ভারাক্রান্ত মানুষের চোখ থেকে যেমন মায়া ঝরে তেমনি মা’র দুটো চোখও অনুশোচনার কথা বলছে।আমার বিছানার এক কোণায় এসে মা বসলেন।

“মেয়েটা ছোট।বয়স কম।কি সুন্দর ফুটফুটে চেহারা!……দেখলেই মায়া লাগে।আর কসাইটা প্রতিদিন মারে!“

“কোন মেয়ের কথা বলছ মা?”

“শুনতে পাচ্ছিস না?” মা বিরিক্ত হলেন, “ঐ যে রাস্তার পাশের বাড়িটার নীচ তলায় ভাড়া থাকে।কি জানি ব্যাংকে চাকরী করে বদমাশটা।রোজই মারে মেয়েটাকে।“

মা একটু থামলেন।গভীর করে একটা নিশ্বাস ছেড়ে চাপা কষ্টের গরম বাতাস বের করলেন নাসা-রন্ধ্র পথে।

“হায়রে বেচারি! বাঘের থাবায় পড়া হরিণের মত প্রতিরাতে এমন চি চি করে কাঁদে।আমি শুনি তো আহাদ।আমি রোজ শুনি।“

 

মায়ের শেষ বাক্যটা শুনে আমার ভেতরটা কেমন ধুক করে উঠলো।মা প্রতিরাতে এভাবে রাত জাগেন? কি সর্বনাশ!

বয়স হয়েছে।তাঁর শরীরটা খুব বেশি ভালো যাচ্ছে না।এই বয়সে কারো শরীরই ভালো যায় না।তার উপর এভাবে নিদ্রাহীন রাত কাটান ভয়াবহ আতঙ্কের বিষয়।চাকরীর টানে ঢাকায় থাকি।এই মফস্বল শহরতলিতে বাবা মাকে একা ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করে না।তবু যাই,যেতে হয়।সপ্তাহান্তে একবার এসে দেখে যাই।শেফা এসেও মাঝেমাঝে দেখাশুনা করতো এতদিন।আজকাল সেও আসা যাওয়া কমিয়ে দিয়েছে।স্বামী সংসার,বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে তারও দম ফেলার সুযোগ নেই।এটাই নিয়ম।বিয়ে হয়ে গেলে মেয়েরা বাবার বাড়ি আসতে পারে না খেয়াল খুশি মত।নানান ঝামেলা সামনে এসে পড়ে।পড়ুক,আমিও সব মেনে নিয়ে বাবা মাকে আমার কাছে নিয়ে গিয়েছিলাম।বেশিদিন রাখতে পারি নি।শহরের ইট পাথরের গোলক ধাঁধাঁ আর কোলাহলে তাদের নাকি দম বন্ধ হয়ে আসে।বারবার চিরচেনা আপন ভুবন খুঁজে বেড়ায়।

আমি বললাম,”এই শহরতলি তো আমাদের স্থায়ী ঠিকানা না মা।বাবার চাকরীর সুবাদে এখানে এসেছ।গ্রামের বাড়ির প্রতি টান দেখালে না হয় মেনে নিতাম।এখানে তোমার কি?”

উত্তরে মা গভীর দম ফেলেন।ভাবনায় ডুবে যান।

“তুই এসবের কি বুঝবি?তোর বাবার সাথে কবে এখানে এসেছি! তখন আমাদের সবে বিয়ে হয়।এতদিনের আবাস ছেড়ে চলে যাব! কেমন মায়া বসে গেছে আমার।এই শহরের পরিচিত বাতাস,এই পরিবেশের স্পর্শ ছাড়া আমি বাঁচব কি করে?আর কয়দিনই বা বাঁচব বল?বাকি কয়টা দিন আমরা এখানে কাটিয়ে দিলে তোর তাতে ক্ষতি কি?”

 

আমি আর কিছু বলি নি।এমন মর্মস্পর্শী কথা শোনার পর কি বলতে আমার জানা নেই।হয়ত আর কিছু বলার নেইও।

প্রথম যৌবনের সময়টা মানুষের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়।একটা যুবক আর একটা যুবতী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পবীত্রতার হাত ধরে নতুন জীবন শুরু করে।একসাথে পথ চলা শুরু।চেনা নেই জানা নেই,ধীরেধীরে একে অপরের কত আপন হয়ে যায়।একে অপরের স্পর্শে ভালোবাসায় সিক্ত হয়।কত স্বপ্ন,কত আশা আখাঙ্ক্ষার সমাহার চোখে।প্রথম যৌবনের রোমান্টিক মিষ্টি দিন গুলো কখনো ভোলার নয়।মাও হয়ত ভুলতে পারছেন না।বৃদ্ধ বয়সে মানুষ মনে হয় স্মৃতি আগলে ধরেই বেঁচে থাকে।যৌবনে বন্ধুবান্ধব,সমাজ-সংসার,কত শত কর্ম ব্যস্ততা।বার্ধক্যের বিস্তীর্ণ অবসরে এসব কিছুই থাকে না।সময় কাটানোর জন্যে মানুষ তখন স্মৃতি নিয়ে ভাবে।আমিও কি বৃদ্ধ হলে এমন স্মৃতি হাতড়ে বেড়াব?

 

বাতাসে ভেসে আসা করুণ কান্নার আওয়াজটা ততক্ষণে মিহি,প্রাণহীন ভোঁতা হয়ে এসেছে।মনে হয় দাঙ্গা হাঙ্গামা আজকের মত এখানেই সমাপ্ত।কান্নাটা প্রায় থেমে এসেছে।কিন্তু মা এখনো থামেন নি।তিনি আনমনে বকে যাচ্ছেন।

“মেয়েটা খুব ভালো রে আহাদ।অনেক আহ্লাদী।হেলেদুলে কি সুন্দর করে কথা বলে!অথচ কপালটা কি বিশ্রী দেখেছিস!”

“মেয়েটাকে চিনলে কেমন করে?পরিচয় কিভাবে হল?”

“অনেক আগের কথা।মাস দুয়েক হবে।একদিন ঝুম বৃষ্টি হচ্ছিল।আমি বাজার করে ফিরছিলাম।হাতে তিনটা ব্যাগ নিয়ে হাঁটতে কষ্ট,বৃষ্টিতে ভিজে কাদায় মাখামাখি,সে কি আমার অবস্থা! মেয়েটা থাকে রাস্তার পাশের বাড়িটাতে।জানালার ফাঁকে আমার নাজেহাল অবস্থা দেখে বেরিয়ে আসলো।জানতে চাইলো কোথায় থাকি।হাতের ইশারায় বাসাটা দেখিয়ে দিলাম।মেয়েটা বলল,চলুন আপনাকে পৌঁছে দি।আমার হাত থেকে দুটা ব্যাগ নিয়ে নিজের হাতে নিল।যত্ন করে বাসা পর্যন্ত এনে দিল।সেদিন থেকে চেনাজানা।মাঝেমাঝে আসে,কথা হয়,সময় কাটাই।বড় ভালো মেয়ে,লক্ষ্মী।কি মিষ্টি চোখ!”

 

বকতে বকতে মা কেঁদে দিলেন।আমি হতভম্ভ দৃষ্টিতে চেয়ে রইলাম।বাইরে থেকে ভেসে আসা ওপাশের কান্নাটা এখন থেমে গেছে।ঘড়িতে রাত চারটার মত বাজে।গভীর রাত্রি,অন্ধকার কালো আঁধার কণার ফাঁকে নিরব নিস্তব্ধ পরিবেশ ঘুমিয়ে পড়েছে আবার।

মায়ের দিকে তাকিয়ে বললাম, “কান্না থেমে গেছে।ঝামেলা শেষ।এবার ঘুমাতে যাও মা।”

মা একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন।এখনো তার মনে আক্ষেপ।কোথাকার কোন মেয়ে তার জন্যে তার দরদের সীমা নেই।বৃদ্ধ বয়সে সারাদিন অবসর পেয়ে দেশ দশের দুঃখ নিয়ে চিন্তা করা মা’র অহেতুক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

মাকে বিছানায় নিয়ে শুইয়ে দিলাম।নিজের ঘরে ফিরে নতুন করে ঘুমানোর আয়োজন করছি।বাতিটা নিভিয়ে সবে বিছানায় শুতে যাব,মায়ের ডাক শুনে পুনরায় উঠে বসলাম।দরজার কাছে তিনি আবছা অন্ধকারে দাঁড়িয়ে আছেন।

“আহাদ…ঘুমিয়ে পরেছিস?”

“কি ব্যাপার মা?ঘুমাও নি?আবার উঠে এলে কেন,কি হয়েছে?”

“বলি,মেয়েটাকে গিয়ে একটু দেখে আসবি?খুব মেরেছে বোধ হয়।যা না একটু দেখে আয় কি অবস্থা।’’

“এসব তুমি কি বলছ মা! এত রাতে আমি অন্যের ঝামেলায় নাক গলাতে যাব কেন! এসব তাদের পারিবারিক সমস্যা,আমরা সেখানে যেতে পারি না।“

“কেন পারি না?আমাদের প্রতিবেশী,ভালো-মন্দ,বিপদ আপদে আমরা এগিয়ে যাব না?”

“এটা তাদের পারিবারিক বিষয়।একান্তই ব্যক্তিগত।সব বিষয়ে প্রতিবেশীদের এগিয়ে আসতে হয় না।“

“তাই বলে এভাবে একটা মেয়ে মরে যাবে?আমাদের চোখের সামনে একটা মেয়ে….”

“মরবে কেন মা? সংসারে মাঝেমাঝে এমন একটু আধটু হয়।“

“মাঝেমাঝে না,রোজ মারে।প্রতিদিন।তুই থাকিস না।থাকলে শুনতি।“

 

মা কিছুতেই মানতে চাচ্ছেন না।নাছোড় বান্দার মত জিদ ধরেছেন।মেয়েটাকে হয়ত মায়ের খুব ভালো লেগে গেছে।মানুষের মন চমকপ্রদ অনুভূতির আশ্রয়স্থল।কখন কার উপর মায়া বসে যায় ঠিক নেই।

 

বৃদ্ধ বয়সে মানুষের মন অনেকটা শিশুদের মত অবুঝ হয়ে যায়।যেটা একবার মনে ধরে সেটাই করতে হবে।

একটা শিশু চকলেট খেতে চাইলো।তাকে ধমক দিয়ে কিংবা মারধর করে চকলেটের কথা ভোলান সম্ভব নয়।এমন করলে সে আরও ক্ষেপে যাবে।চ্যাঁচামেচি,কান্না শুরু করবে।তাকে বুঝিয়ে বলতে হবে চকলেট খেলে দাঁতে পোকা হয়।শিশুদের উপর জোর করতে নেই।আদর করে সযত্নে বুঝিয়ে বলতে হয়।আমিও মাকে শিশুর মত বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করছি।

“দেখো মা,আমি এখন সেখানে যাই,তাহলে সমস্যা আরও বাড়বে।“

“কেন? কিসের সমস্যা বাড়বে।“

“আমি গেলে ঐ বদলোকটা আরও ক্ষেপে যাবে।মেয়েটাকে বলবে,তুই এমন চিৎকার করে কেঁদেছিস বলেই পাড়ার লোকে জেনেছে।তুই ঢং করে সশব্দে কেঁদে আমাকে লজ্জায় ফেলেছিস।তখন লোকটা মেয়েটাকে আবার মারবে।“

মা কিছু বললেন না।চুপ করে দাঁড়িয়ে আছেন।মুখ গম্ভীর।মনে হচ্ছে চিন্তায় ডুবে গেলেন,কি করবেন,কি সিদ্ধান্ত নিবেন ভেবে পাচ্ছেন না।

আমি শান্ত স্বরে বললাম, “যাও মা,ঘুমাতে যাও।”

মা চলে গেলেন।সে দিন রাতে তিনি আর ঘুমালেন কি না জানি না।তবে আমি ঘুমাতে পারি নি।কোন বিশেষ কারণে নয়,সারারাত জেগে ছিলাম,বিছানায় যাওয়ার সাথে সাথে ফজরের আযান পড়লো।ভোর রাত পর্যন্ত জেগে ছিলাম বলেই বোধ হয় চোখ থেকে ঘুম উদাও হয়েছে।

সম্প্রীতি ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা এবং আমাদের দায়বদ্ধতা

Now Reading
সম্প্রীতি ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা এবং আমাদের দায়বদ্ধতা

প্রেক্ষাপট ও সমসাময়িক চিন্তা!!!

দেশে এই মূহর্তে ঠিক কি চলছে তা আমরা সবাই কম বেশি জানি। তবে কেন চলছে তার ধারণা আমরা কমই রাখি। যেমন কয়েকদিন আগে বনানিতে একটি ঘটনা ঘটেছিল। যা নিশ্চয় ন্যাক্কারজনক ও সবচেয়ে বেশি আলোচিত ঘটনার মধ্য একটি। এখানে ধর্ষকদের বিচার চেয়ে আমরা যতটা সোচ্চার হয়েছি লেগেছি তার প্রতিকার চেয়ে এক ভাগ ও  সোচ্চার হয়নি। ধর্ষন এর ঘটনায় ধর্ষক নিশ্চয় শাস্তি প্রাপ্য। তবে আসলে  কি ধর্ষকের উপযুক্ত শাস্তি হচ্ছে?  বা আদো কি বিচার হচ্ছে ? আমরা এইসব বিষয় নিয়ে সাধারণত ভাবিনা। বা ভাবতেও চাইনা। আমরা মনে করি বিচার চাওয়াতেই আমাদের দায়বদ্ধতা শেষ। এক বছর আগে তনু হত্যার বিচার চেয়ে আমরা ফুসে উঠছিলাম। এক কথায় পুরো দেশ কাঁপিয়ে দিয়েছিলাম। পরে তদন্ত কমিটি ও গঠন হল। আমরা দুই মাস  Justice For Tanu বলে বলে চিল্লাইতে থাকলাম । কিন্তু দুইমাস পর আমাদের কাছ থেকে তনু নামক শব্দটা যেন এক প্রকার হারিয়ে গিয়েছে। আমরা এখন আর খোঁজ ও রাখিনা তনুর মামলার বর্তমান অবস্থা। আমরা খোঁজ রাখিনা আদৌ কি মামলা টা আছে নাকি হারিয়ে গেছে আদালতের নথির তলায়।

এইভাবে প্রতি বছর নতুন নতুন ঘটনা ঘটে যাচ্ছে । আমরা ও বিচার চেয়ে যাচ্ছি দুই থেকে ৩ মাস। এর পর আমরা ভুলেই যায় যে দুইমাস আগে এইরকম একটা ঘটনা ঘটেছিল। এর পর ঘটনার শিকার পরিবার গুলো তাকিয়ে থাকে ন্যায় বিচারের আশায়। কিন্তু দেশের মানুষের অগোচরে বিত্তশালী বা ক্ষমতাশালী অপরাধীরা পার পেয়ে যায় । কারণ দেশের মানুষ যদিও মামলার শুরু করে দিয়েছিল তবে শেষ দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেনি।  যার কারণে শেষটা হয় তাদেরই (অপরাধীর) ইচ্ছে মত।

এখন দেশের মানুষ বনানীর ঘটনাটির মাঝে গভীর ভাবে ডুবে আছে । যার মেয়াদ হয়ত আর এক মাস। তার পর আমরা ভুলেই যাব এইরকম কিছু একটা আমাদের দেশে ঘটেছিল । তারপর ধর্ষকেরা বাবা বা  মামার জোরে বের হয়ে যাবে।  এরপর তারা  আবার এমন ঘটনার জন্ম দিবে। আবার আমরা ফুসে উঠব  কয়েকদিনের জন্য আবার হারিয়ে যাবে সময়ের গভীরে।

আর যদি এইভাবে আমরা শুধু বিচার চাইতে থাকি আর তারা পার পেতে থাকে তাহলে কিন্তু ধর্ষন সহ অন্যন্য অপরাধের শাস্তি কখনোই হবেনা। আর শাস্তি কিন্ত কোন অপরাধের শেষ করতে পারেনা। হয়ত ১০০ জনে ৫ জনের শাস্তি হবে বাকি ৯৫ জন আবার বের হয়ে অপরাধ করেযাবে এইসব সমস্যা  প্রতিরোধের জন্য আমাদের স্ব স্ব অবস্থান থেকে গর্জে উঠা উচিত । তাহলে এইসব সমস্যা কিছুটা কম্বে বলে আমি মনে করি।

আমাদের ধর্ষণ এর মত হাজারো সমস্যা বা অপরাধ রয়েছে। যা প্রতিনিয়ত আমাদের স্বাভাবিক জীবন যাপন কে ব্যাহত করে তুলছে। আমরা মাঝে মাঝে এসব সমস্যা থেকে সামাধানের জন্য আন্দোলন করি রাস্তায় নামি গাড়ি ভাঙ্গি। এইসব সমস্যা সামাধানের জন্য নিজেরা কখনো উদ্যোগি হয়না। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে যেন নিজের দায়টুকু থেকে মুক্ত হয়ে যায়। কিন্ত না এইভাবে আসলে দায় থেকে মুক্ত হওয়ান যায়না। একটা সমস্যা বা অপরাধ সরকারের ছেয়ে কিন্ত আমাকে বেশি ক্ষতি করে যাচ্ছে।  এই সমাজের কাছে সরকার যতটা না দায়বদ্ধ তার ছেয়ে বেশি দায়বদ্ধ আপনি নিজে। সুতারাং সরকারের দিকে না তাকিয়ে নিজের মত করে প্রতিরোধ গড়ে তোলা উচিত।

এইভাবে এগিয়ে না  আসলে আমাদের এই সমসাময়িক সমস্যার সামাধান হবেনা। আমাদের চাইতে হবে এর প্রতিকার। নিজের মধ্য অপ্রাধ প্রতিরোধের শক্তি গড়ে তোলতে হবে।  আমাদের বুঝা উচিত শুধু বিচার চাইলেই সমস্যার সামাধান  হয়না।  আমাদের বিচার এর সাথে সাথে যাতে ভবিষ্যতে এইরকম ঘটনা না ঘটে সেই বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

আমাদের সমাজে যেসব সমস্যা প্রকট আকারে বিস্তার করে আছে সেগুলা নিয়ে আমাদের বসে থাকা উচিত নয়। আমাদের উচিত এসব সমস্যার মূল ধংস করা।

একটি গাছের যেমন ঢাল ছিড়লে আবার সেই গাছে পুনরায় ঢাল জম্মায়  । তেমনি আমরা সারা বছর আন্দোলন করে যতই সমস্যার ঢাল কাটিনা কেন এর সামাধান হবেনা । আমাদের উচিত এসব সমস্যার মূল খুজে বের করা।

সারা বছর লোক দেখানো আন্দোলন না করে যদি আমরা অপরাধ প্রতিরোধে মাসে একদিন করে ও সময় দিয় তাহলে আর ৫ বছর পর আমাদের প্রেসক্লাবের সামনে প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়াতে হবেনা । আর এর জন্য প্রয়োজন আমাদের নিজস্ব চেতনাবোধ । আমি যদি নিজে গর্জে উঠি তাহলে আমার কাছে দেখে আরেকজন গর্জে উঠবে এই ভাবেই সবাই একদিন সোচ্চার অপরাধের  বিরুদ্ধে।

একটা জিনিস খেয়াল করছেন কিনা জানিনা আমাই কিন্ত এইখানে অপরাধের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে বলছি অপরাধীর নয়। কারন অপরাধ ই অপরাধীর জম্ম দেই। তাই অপরাধ যদি নির্মুল করতে পারি তবে  অপরাধী আর জন্ম নিবেনা ইনশাল্লাহ।

তাই আসুন সবাই আজ থেকে অপরাধের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করি

সমাজ আমাদের কী? দিচ্ছে!!! আমরা সমাজকে কী? দিচ্ছি!!!!…

Now Reading
সমাজ আমাদের কী? দিচ্ছে!!! আমরা সমাজকে কী? দিচ্ছি!!!!…

আমরা প্রতিনিয়ত যা দেখছি, যা শুনছি এবং যাবতীর যা কিছুর মুখোমুখি হচ্ছি সব কিছু থেকে আমাদের শেখার আছে বা আমরা শিাখছি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমরা বা আমি যা প্রত্যক্ষ করছি তা তুলে ধরার চেষ্ট করলাম দয়া করে নেগেটিভ ভাবে নিবেন না:

১. আমার নামাজে মনোযোগ নেই কারণ আমার ঈমান নষ্ট হয়ে গেছে।

২. আমার পড়ালেখা করতে ইচ্ছা করে না কারণ প্রশ্নফাস দেখতে দেখতে আমি অতিষ্ট হয়ে গেছি।

৩. আমি নেতা হলে অবশ্যই মানুষের ক্ষতি করতাম তা না হলে আমি পত্রিকায়  ঢালাও ভাবে আসতে  পারতাম না। যেমন হাওড় এলাকার  দুর্গতি । এসব আমি সমাজ থেকে শিখছি।

৪. আমি মেয়ে হলে ধর্ষিত হতাম তবুও মা-বাবার কথায় বিয়ে করতাম না, বরং মা-বাবার নামে মামলা করতাম। তাহলে আমি আন্তর্জাতিক ভাবে সংবর্ধনা পেতাম। এসব আমি সমাজে হতে দেখছি।

৫. আমি কোটিপতি স্বর্ণ ব্যবসায়ীর ছেলে হলে সুযোগ পেলেই অসহায় নারীদের ধর্ষন করতাম। কিছু টাকা পয়সা গেলেও মা-বাবা আমাকে কিছুই বলতনা। কারণ আমি দেখছিতো চোখের সামনে।

৬. আমি নেতা হলে আমার জেল হলেও কিছু হতোনা কারণ আমি অসুস্থতার কথা বলে হাসপাতালে ভি. আই. পি. কেবিনে বসে রাজনীতি করতাম। এসব আমি সমাজ থেকে শিখছি।

৭. আমি র‌্যাব হলে কখনোই মদের বোতল খুজে পেতাম না কিন্তু শুল্ক গোয়েন্দা হলে পেতাম কার তাহাতে আমার কমিশন আছে।  এসব আমি সমাজে হতে দেখছি।

৮. আমি রাস্তা দিয়ে হাটলে গরিব, ফকির ও অসহায়দের দেখলে  দূরে সরে যাই কারণ আমি ছোট থেকে দেখে আসছি বড়রা  সেটাই করে।  এসব আমি সমাজ থেকে শিখছি।

৯. আমাকে একটা বা একাধিক রিলেশন করতে হবে নইতো আমি বোকা আর আনস্মার্ট থেকে যাব। কারণ সবাই এটা ভাবে।

১০. রাস্তায় চলাচলের সময় পাশ দিয়ে বিপরীত লিঙ্গের কেহ হেটে গেলে আমাকে তাকাতে হবে এবং আমার এলাকা হলে বিরক্ত করতে হবে। কারণ সবাই এটা করে আর এটা আমাকে সমাজ শিখিয়েছে । আমি ওটা না করলে আমি পুরুষ নয়।

১১. পুলিশ হলে আমাকে অবশ্যই ঘুষ নিতে হবে নয়তো আমি পুলিশ নামে কলঙ্ক। এমন কি আমার পরিচিত সবাই মুখের উপরেই বলবে।

১২. আমার চাকুরির বিষয় কল্পনা করা সম্পূর্ণ নিষেধ। যদি আমার ঘুষ দেওয়ার ক্ষমতা না থাকে।

১৩. আপনি এস. এস. সি পাশ করলেই আপনার পুলিশে চাকুরী কনফর্ম। কিন্তু শর্ত হলো আমনার বাবার অবশ্যই কয়েক শতক জমি থাকতে হবে এবং তাহা বেচে ৮-১০ লাখ টাকা জোগাড় করে রাখতে হবে।

১৪. বাসে চলার সময় আমি সিটে বসা থাকলে কখনোই উঠবো না যদি আমার পাশে ৭০ বছরের কেহ দাড়ানো থাকে।  কারন আমাকে তো কেহ উঠে দাড়ানোর শিক্ষা দেয়নি। আর কেহ তো এটা করে না তাহলে আমি কেন। দোষটা আমার না সমাজেরা।

১৫. আমি কোন রকম নেতা হলেই রাস্তা ঘাটে রিক্সা চালকেদের কষে থাপ্পড় দিতাম। সামান্য কারণ বা অকারণে । আমি এটা গত রাত্রেও দেখেছি এবং শিখেছি। এটা আমাকে কে শিক্ষা দিল। এটা শেখানোর দায়িত্ব কি মা-বাবার না সমাজের মানুষের।

১৬. আমাকে নেতা হতে হলে অবশ্যই আমাকে নেশা করতে হবে। আমাকে তো একজন নেতা বললোই নেশা না করলে কিসের বালের নেতা যে নেশা করে না সে রাজনীতি বুঝেনা। প্রতিষ্ঠিত হতে হলে আমাকে তাদের সঙ্গ দিতে হবে। নয়তো দু-পায়ে দাড়ানো যাবে না। এমনকি পা ভেঙ্গেও দিতে পারে। সমাজ আমাকে নেশা করতে বাধ্য করতে চাইছে।

১৭. আমি প্রতিদিন খাবার ৩০% নষ্ট করবো। কিন্তু যে ডাস্টবিন থেকে কুড়িয়ে খায় তাকে দিবোনা। কেহ তো দেয় না। আমি দিতে গেলে সবাই আমাকে পাগল বলবো। তাহলে আমার কী করা উচিত!!!

১৮. সবাই বলে গাজা খাইলে নাকি অন্তর চক্ষু খোলে, বুদ্ধি বাড়ে। তার মানে আমি এখনো অন্ধ এবং  বোকা, সমাজ তো তাই বলে। আমার কি করা উচিত।

১৯. আমি ছেলে হই বা মেয়ে হই উলঙ্গ হতে পারলেই আমি স্টার। আর এটা ঢালাই ভাবে প্রচার করলে আমি পর্ণস্টার।  সেইরকম দাম। হিরো আলম বা সানি লিওন দুটির যে কোনটিই  চলবে। কারণ সমাজ তো এদের কে দাম দেয়। আমি প্রতিনিয়ত সমাজ থেকে এগুলোই শিখছি।

২০. আমি মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও ভয় পায়, আমার ঈমান দুর্বল, এমনকি আমি দাড়ি রাখতেও ভয় পায়। কারণ দাড়ি রাখলে আপনার প্রশাসনের চোখে পড়ার সম্ভাবনা বেশি। আর একবার ধরা পড়লে ফাঁকা কোন বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে স্যুটিং শুরু হবে। ভয়ে কিছু একটা করলে জঙ্গি হয়ে যাব। এক অদ্ভুদ নিয়ম শিখলাম সমাজ থেকে।

২১. আমি হস্তমৌথুন করতে বাধ্য হয় কারণ এটা আমার অভ্যাস হয়ে গেছে। আমি ছোটবেলা থেকে বয়সে বড় বন্ধুদের কাছ থেকে এগুলোর ট্রেনিং পেয়েছি কেহ তো বাধা দেয়নি। পরিবার তো আমাকে কু-কর্মে লিপ্ত হওয়া  শেখাই নি। তাহলে কোথা থেকে শিখলাম আমি অশালীনতা। নিশ্চয় পরিবেশ বা সমাজ থেকে।

২২. বিয়ের পরে মা-বাবাকে ফেলে আমাকে আলাদা সংসার তৈরি করতে হবে এবং এর যথেষ্ট স্বীকৃতি এবং সম্মান রয়েছে। এর কারনে মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাতে পারলেও সমস্যা নেই, তাহলে আমি আরো সংসারী এবং আরো ব্যাক্তিত্তবান। যারা বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে তারা তো এগুলোই করছে। সমাজে তো অহর অহর এগুলো হচ্ছে।

 

পরিশেষে, আরো অনেক কিছু বলার ছিল কিন্তু পারলাম না বা সাহস হলোনা।  এগিয়ে আসুন এগুলোকে আমরা সমাধান করি। সুন্দর সমাজ গঠনের লক্ষ্যে হাতে হাত রেখে কাজ করি। যে আমাদের পরবর্তি প্রজন্ম আমাদের থেকে শালীন হয়। আমাদের সঠিক গাইডলাইন হতে পারে কোরআনের শিক্ষা। কোরআন-এর শিক্ষা ব্যাতিত এগুলোকে পরিবর্তন করা সম্ভব ন।

বি:দ্র: উদ্দিপকে আমি আমাকে নিয়ে তুলনা করেছি বা বর্ণনা করেছি। মূলত  আমি এগুলোর পরিবর্তন চাই। সুন্দর একটি সমাজ চাই। ধন্যাবাদ ভালো থাকবেন সবাই।