“পাহাড়ের কান্না” এই সংকট নিরসনে আমাদের করণীয় কি ?

Now Reading
“পাহাড়ের কান্না” এই সংকট নিরসনে আমাদের করণীয় কি ?

প্রাকৃতিকভাবে অপরুপ গঠনশৈলী রয়েছে আমাদের দেশের।এখানে রয়েছে ষড়ঋতুর বৈচিত্র্যময় একটা মেলবন্ধন। ঋতুর পালাবদলের সাথে সাথে তাল মিলিয়ে পাল্টে চলে তার প্রকৃতির আচরণ। এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার মূলত বিস্তৃত নদী,পাহাড় আর সুবিশাল সাগর সব মিলিয়ে একটা অপরুপ সৌন্দর্যের চিত্র যেন তৈরী করা হয়েছে। অনেককাল আগে থেকে এই দেশের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যতার গুণগান করেছে ভ্রমণকারীরা।সবমিলিয়ে দেশ ও বিদেশের ভ্রমণপিয়াসীদের কাছে একটা ভাল বিকল্প এই বাংলাদেশ। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে মূলত পাহাড় আর নদীর এক অপূর্ব সম্মিলন রয়েছে। এই যেমন কক্সবাজারে রয়েছে দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত আর বৃহত্তম চট্টগ্রামে রয়েছে এক বিশাল অংশ যা কিনা পার্বত্য চট্টগ্রাম বলে পরিচিত। এই চট্টগ্রামের পাঁচ পার্বত্য জেলায় রয়েছে বিশাল এক নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস। যারা কিনা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসলেও একটা সময় সরকারের আলাদা আইনের বলে আদিবাসী জনগণ হিসেবে পাহাড়ে বাস করে আসছে। মূলত স্বাধীনতার পর তাদের স্থায়ীভাবে বসবাসের এক ধরণের নিশ্চয়তা পেয়ে আসছে। বর্তমানে দেশের যাবতীয় প্রেক্ষাপটে তাদের আনুপাতিক হারে উপস্থিতি অন্তত তাই বলে। দেশের শিক্ষা সহ নানাক্ষেত্রে তাদের আলাদা সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। এটা অবশ্যই একটা কল্যাণকর রাষ্ট্র হিসেবে গৃহীত পদক্ষেপের জন্য সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্যতা রাখে। তবে স্থানীয় কিছু বিষয় নিয়ে বিবাদমান একটা ইস্যু যেন সবসময় অদৃশ্য বা আড়ালে থেকে একটা বিদ্বেষ বা উৎকন্ঠাকে বারবার জাগিয়ে দেয়। এই বিষয়ে সর্বোচ্চ মহলের তৎপরতা বা হস্তক্ষেপ জরুরী। একটা সময়ে পাহাড়ে সমতলের লোকজনের বসবাস যারা ‍কিনা পাহাড়ীদের কাছে বাঙ্গালি বলে পরিচিত। অথচ ঐ পাহাড়ের লোকজন বাংলাদেশের সমস্ত সুযোগ সুবিধা নিয়েও তারা পাহাড়ী পরিচয় দিতেই যেন স্বস্তিবোধ করে। বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে ঘটিত কোন ইস্যুকে হাতিয়ার বানিয়ে একে অপরের প্রতি দোষারোপ বা বিদ্বেষ ছড়ানোর যে সংস্কৃতি তা হতে বেরিয়ে আসার সময় এসেছে। কোন কল্যাণকর রাষ্ট্র বা সমাজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এই ধরনের বিবাদমান কোন ইস্যু সার্বিক অর্থে হানিকর বটে। পাহাড়ের জনগণকে এগিয়ে নিয়ে আসার লক্ষ্য নিয়ে সরকার শিক্ষা সহ চাকরির বিভিন্ন নিয়োগে আনুপাতিক হারে তাদের জন্য সুবিধা বরাদ্দ করে দিয়েছে। তাছাড়া পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত বাঙ্গালি জনগণ আর বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে একটা সুসম্পর্ক রয়েছে। পাহাড়ে নিয়োজিত সেনাবাহিনিসহ স্থানীয় প্রশাসনের সুষ্ঠু তদারকি কেবলই পারে পাহাড়ে একটা শান্তিময় পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে। একটা দেশকে কল্যাণকর রাষ্ট্র হিসেবে গঠন করতে এই বিষয়ে তৎপর হবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।এমনটাই আশাবাদ ব্যক্ত করা যায়।

সম্প্রতি লংগদুতে ঘটে যাওয়া আগ্রাসন আর বিভিন্ন সময়ে ঘটা নানান অপ্রীতিকর ঘটনা অবশ্যই একজন বিবেকবানকে নাড়া দিবে। কেননা একটা কল্যাণকর রাষ্ট্রের স্বার্থে কখনো এই ধরনের ঘটনা কাম্য নয়। এই তো গেল পাহাড়ে বসবাসরত মানুষের মানবিক কারণ আর তার কারণে সৃষ্ট নানান সমস্যার আলোকপাত যার নেপথ্যে রয়েছে অনেক লম্বা ইতিহাস।তাছাড়া বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে আমাদের উচিত কোন অর্ন্তসংঘাতে না গিয়ে একটা সমৃদ্ধ দেশ গড়তে সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া। যেখানটায় কেবল সবাই মানুষের মর্যাদা পাবে।

প্রেক্ষাপটঃ২

বর্তমানে প্রকৃতির বিরুপ পরিবেশের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগের কারণে দেশে একটা সমস্যা প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। এটা হল মানবসৃষ্ট দুর্যোগ যা কিনা পাহাড়ধস বলে পরিচিত। দেশে বর্তমানে বর্ষার স্থায়ীত্ব বেড়েছে সংগত কারণে পাহাড়ী অঞ্চলে অতিবৃষ্টির ফলে পাহাড়ের গাঁথুনী ঢিলে হয়ে পড়ে। এটা স্বাভাবিক। আমাদের দেশীয় পাহাড়ের গঠন মূলত বালি যুক্ত মাটি বা দোঁ-আশ মাটির দ্বারা।তাই বৃষ্টির প্রভাবে এই মাটি সহজে ভিজে যায় এবং পাহাড় ভেঙ্গে পড়ার ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। দেশের পাহাড়গুলো মূলত টারশিয়ারী যুগের পাহাড় আর এগুলোর গঠন তেমন সুগঠিত না হওয়ায় এমন ঘটনা হচ্ছে।আমাদের দেশে এই সমস্যা একটা মানবসৃষ্ট দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কিছু কারণ রয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আবদুল হকের উদ্ধৃতির বরাতে বলা যায়—অল্প সময়ে একটানা বৃষ্টি বা মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে। তাছাড়া কোন সময় যদি খরা জনিত সমস্যার কবলে পড়ে পাহাড়গুলো তখন পাহাড়ের মাটি ফেঁপে উঠে আর মাটি আলগা হয়ে যায়। এই দুটো সমস্যা প্রাকৃতিক ছিল তার বাইরেও পাহাড় ধসের জন্য মনুষ্য সৃষ্ট কিছু কারণ রয়েছে যার মধ্যে অন্যতম হল অপরিকল্পিত ভাবে পাহাড়ের পাদদেশ হতে নির্বিচারে মাটি কাটা যার কারণে পাহাড়ের মাটি সহজে অতি বর্ষণে ভেঙ্গে পড়ে। সংশ্লিষ্ট পাহাড়গুলোতে যদি অতি হারে বৃক্ষ নিধন করা হয় তবে তা মাটির উপর ধারণক্ষমতা হারিয়ে যায়। এই কারণে পাহাড়ি অঞ্চলে অতি মাত্রায় বৃক্ষ নিধন আরো একটা কারণ যা কিনা পাহাড় ধসের নেপথ্যে বলে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশে ২০০৭ সাল থেকে শুরু করে ২০১৭ সালে পাহাড়ধসের মতো ঘটনার জন্য প্রায়ই ৫০০ লোকের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। পাহাড় বা তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরিচালিত একটা গবেষণায় দেখা গেছে এই যে সম্প্রতি পাহাড়ে কৃষি জমি বেড়েছে প্রায়ই ২৫ শতাংশের বেশি যা কিনা পাহাড়কে ধ্বংস করে করা হয়েছে। এমনকি পাহাড়ি ঝরণার প্রায়ই ৬০ শতাংশের মতো ঝরণা শুকিয়ে গেছে যার কারণে পাহাড়ের যে স্বাভাবিকতা নষ্ট হয়ে পড়ছে।বিগত এক যুগে এসব অঞ্চলে পাহাড়ি বনাঞ্চল ধ্বংসের ঘটনাও ঘটেছে যা চোখে পড়ার  মতো এই হার হবে প্রায় ৩০ শতাংশের কাছাকাছি। এই ঘটনার জন্য প্রশাসন যেমন দায়ী তেমনি দায়ী ক্ষতিগ্রস্থ মানুষগুলো। কেননা ইদানীং দেখা যায় পাহাড় কেটে নেয়ার পর যে খালি জায়গা তৈরি হয় সেখানটায় গিয়ে বসত তৈরি করে কিছু মানুষ। তাদের অবশ্য আশ্রয় বা থাকার ব্যবস্থা করে দেয়ার বদৌলতে স্থানীয় প্রভাবশালীরা সুযোগ সুবিধা নেয়। এই সব পাহাড়ের ভাসমান জমিদার হয়ে যায় অনেকে। এই সমস্যা বিশেষত বৃহত্তর চট্টগ্রামসহ দেশের সব পাহাড়ি অঞ্চলেও; সিলেটের পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে মৌলভীবাজারের পাহাড় ধসের ঘটনায় ও প্রাণহানি ঘটেছে যেখানটায় অবৈধ বসতির কারণে লোকের মৃত্যু হয়েছে।

আপনি খেয়াল করে দেখবেন চট্টগ্রাম নগরীতে রেলওয়ের অধীন যে পাহাড়ী এলাকাগুলো আছে যার অনেকটায় নির্বিচারে গড়ে উঠেছে অবৈধ বসতি।এই যেমন সিআরবির পাহাড়,আমবাগান,পাহাড়তলীর বেশ কিছু বসতি যা কিনা পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে আছে। নগরের পাহাড় ধসের বিষয়টা সামনে আসে মূলত ২০০৭ সালে। তাছাড়া এবারের পাহাড় ধসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে রাঙ্গামাটি আর বান্দরবান জেলায়। এখানে ব্যাপক প্রাণহানির সাথে যে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে আনতে প্রশাসনের রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছে। দুর্যোগ মনিটরিং সেলের হিসাব অনুযায়ী ধারণা করা হয় এসব এলাকায় প্রায় ৫০০ এর অধিক বাড়ি আছে যা কিনা ঝুঁকির আওতায়। নগরীর বাইরে এই ঝুঁকির আওতায় থাকা লোকের সংখ্যা নেহায়েৎ কম নয় কেননা তা মোটের উপর গিয়ে দাঁড়াবে ২০০০০ এর উপরে। এই লোকগুলোর শতকরা ৫০ ভাগও যদি ক্ষতিগ্রস্থ হয় তা রীতিমতো একটা দুর্যোগে পরিণত হবে।

আমাদের করণীয় কি হতে পারে এই পাহাড়ের সমস্যা নিরসনে…….

প্রথমত প্রশাসনকে একটা দক্ষ কমিটি গঠন করে যাবতীয় বিষয়ের সুষ্ঠু তদারকির ব্যবস্থা করতে হবে।তাছাড়া পাহাড়ি অঞ্চলে ট্যুরিস্ট স্পটগুলোর কারণে যে অপরিকল্পিত অবকাঠামো গড়ে উঠেছে সে বিষয়ে একটা নির্ভরযোগ্য সমাধান জরুরী। এই সবকিছুর মধ্যে রয়েছে পাহাড় কেটে রাস্তা বির্নিমাণ বা বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলা।এইসব বিষয়ে যদি আমরা একটু সচেতন হয় তবে ভবিষ্যতে অনেক ক্ষতির হাত থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব বলে মনে হয়।

সর্বোপরি পাহাড়ে বসবাসরত সচেতন জনগণ আর সর্বস্তরের জনগণের নিজের নিরাপত্তার বিষয়টা নিজেদের সর্বাগ্রে খেয়াল করতে হবে ।কেননা আপনার বিপদ তো আপনাকে এই বিষয়ে সচেতন হতে হবে। ব্যবসায়ী বা সুবিধাভোগীরা যদি একটু মানবিকভাবে নিজেদের অবস্থান থেকে সচেতন হয় তবে এত দুর্যোগ আর বিপত্তি তো আমাদের সামনে আসে না।

পুনশ্চ পাহাড় যদি এভাবে অস্থিতিশীল বা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে যায় নগরমুখী মানুষগুলোর একটু প্রকৃতির সান্নিধ্য কিভাবে পাবে ? এই বিষয়ে আমরা সবাই নিজের অবস্থান হতে একটুখানি সোচ্চার হয় তবে দেখা যাবে সমস্যা অনেকাংশে মিটে গেছে।

সমস্যা আর সমাধান কিন্তু সবসময় পাশাপাশি অবস্থান করে।

এখানে ব্যবহৃত যাবতীয় তথ্য জাতীয় দৈনিক থেকে নেওয়া।

image from google;info about survey from national dailies.

“ঈদে আপনার ভ্রমণ কতটুকু নিরাপদ হচ্ছে তার দায়িত্ব আপনার হাতে”

Now Reading
“ঈদে আপনার ভ্রমণ কতটুকু নিরাপদ হচ্ছে তার দায়িত্ব আপনার হাতে”

প্রায় দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর বহু প্রতীক্ষিত রমযানের শেষে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দেশের প্রায় সব প্রান্তে মানুষের আনাগোনা হবে।এই আনাগোনা সংখ্যার অনুপাতে দেশের বৃহত্তম দুই শহর ঢাকা এবং চট্টগ্রাম ছাঁড়বে প্রায় ৫০ লক্ষেরও অধিক মানুষ।এই সপ্তাহে রাস্তায় ঘরমুখো মানুষের প্রচন্ড ভীড় থাকে।তাই আমাদের বাড়তি সতর্কতা আমাদেরকে দিতে পারে বাড়তি নিরাপদ আর স্বাচ্ছ্যন্দময় একটা ভ্রমণ।ইতিমধ্যে গ্রামমুখী মানুষের যাত্রা শুরু হয়ে গেছে।আপনজনের সান্নিধ্যে যেতে আর প্রিয়জনের মুখ দেখার জন্য কত বিড়ম্বনা আর কষ্টই না সহ্য করতে হয় এই মানুষগুলোকে ।সমস্ত কষ্ট আর দুঃখ এক নিমিষেই মুছে যায় যখন প্রিয়জন তার পথ পানে চেয়ে থাকে আর পরম মমতায় মা-বাবা তার সন্তানকে,সন্তান তার বাবাকেু,ভাই-বোন একে অপরকে ,স্ত্রী তার স্বামীকে কাছে পাই।

এবারের ঈদ যেহেতু এই বর্ষা মৌসুমে পড়েছে তাই প্রতিকূল আবহাওয়া থাকবে এমনটা স্বাভাবিক ।এই প্রতিকূল পরিস্থিতি মেনে আমাদের নিজেদের কিছু প্রস্তুতি নিতে হবে। যা কিনা আমাদেরকে দিতে পারে একটা নিরাপদ ভ্রমন আর প্রিয়জনের কাছে পৌঁছানোর একটা নিশ্চয়তা।এই যাত্রাপথে আপনার আমার সবার যে সকল সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরী যা কিনা আপনার জন্য বা দেশের জন্য প্রকরান্তরে লাভজনক হবে।

আপনি যদি ঢাকা বা চট্টগ্রামের মতো বড় শহর হতে রাতের দুরপাল্লার ভ্রমণে যাবেন তবে আপনার বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন জরুরী।

প্রথমত আপনার নির্দিষ্ট বাস,ট্রেন,লঞ্চের টিকিট নিয়েছেন কিনা সাথে করে তা দেখে নেয়া জরুরী।কেননা এই ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে দেখা যায় অনেককে।তাই শত ব্যস্ততার মাঝে একবার দেখে নিন কেননা এটা আপনাকে মানসিকভাবে এগিয়ে রাখবে।

দ্বিতীয়ত আপনি যদি দীর্ঘ এক সপ্তাহ বাড়িতে থাকবেন তবে আপনি বাসা ছাড়ার আগে দেখে নিন আপনার বাসার বৈদ্যুতিক লাইন,গ্যাসের লাইন এবং পানির লাইন সবগুলো বন্ধ করা আছে কিনা। এই কাজটা করা আপনার দেশের এবং দেশের সম্পদের অপচয় রোধে একটা দায়িত্ববোধের প্রকাশ যেমন ঘটবে তেমনি আপনার নিজের বা প্রতিবেশির কোন বিপদ না ঘটার ক্ষেত্রে একটা বাড়তি সতর্কতা বলা যায়।

তৃতীয়ত আপনারা যারা ছোট শিশু বা বয়স্কদের সাথে নিয়ে যাবেন তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ঔষুধ বা ব্যবস্থাপত্র সাথে নিয়ে যাওয়া জরুরী কেননা এই একটু বাড়তি সতর্কতা আপনাকে অনেকখানি বিড়ম্বনা থেকে রেহাই দিবে বলে মনে করি।

চতুর্থত আপনি যখন জনবহুল কোন স্টেশনে হাঁটবেন বা গাড়ির জন্য যাবেন তখন আপনি যদি একা হোন তবে আপনার জন্য অনাকাঙ্খিত অনেক বিপদ আসবে এটা স্বাভাবিক। এই যেমন নিজের ছোট বাচ্চাকে সামলে রাখবেন । রেল স্টেশন বা লঞ্চ ঘাটগুলোতে এই ধরনের ঘটনা হারহামেশাই ঘটে। তাই সন্তানের প্রতি খেয়াল রাখুন যেন হাত ফসকে না যায়। তাছাড়া এই সব স্টেশনে অজ্ঞান পার্টির কবল বা পকেটমার, ছিনতাইকারীর যে অত্যাচার তা তো আছেই।এইসব ঘটনা এড়াতে আপনাকে অবশ্যই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আপনার টাকা বা মুল্যবান অলংকারের ব্যাগগুলো নিরাপদে রাখা দরকার। কাউকে যদি আপনার সন্দেহ হয় বা কারো গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে সাথে থাকা কাউকে বলুন নয়তো স্টেশনে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনির লোকজনকে জানান। এতে করে আপনার বিপদ অনেকটা কমে যেতে পারে।

পঞ্চমত আপনি রাতে যদি যাত্রা করেন অবশ্য একজন সচেতন যাত্রী হিসেবে নিজের জানমালের নিরাপত্তা আপনার তার পাশাপাশি পাশের সিটের যাত্রীর সাথে কি ধরনের সম্পর্ক রাখবেন তা অবস্থানুযায়ী  বিবেচনা করুন। বিশেষভাবে যেসকল মেয়েরা একা ভ্রমণ করবেন তাদের এই বিষয়টা খেয়াল রাখা জরুরী।

আপনি কোনভাবেই রাতের ট্রেনে ছাদে চড়ে যেতে পারেন না।এখানে একটা বিপদের সম্ভাবনায় কেবল জোরদার হয়।এই ধরনের যাত্রা কোনভাবে কাম্য নয়।আপনার একটু অসর্তকতা বা খামখেয়ালীপনা আপনাকে মৃত্যুমুখে টেলে দিতে পারে। তাই হয়তো আপনার গন্তব্যস্থানে পৌঁছাতে দেরী হবে,এই ধরনের কোন পদক্ষেপ কাম্য নয়।

রাতের বাস যাত্রায় আপনি সচেতন যাত্রী হিসেবে ড্রাইভারকে বলে রাখুন প্রতিকূল পরিস্থিতি বা দুযোর্গপূর্ণ আবহাওয়ায় যাতে নিরাপদে ড্রাইভ করে। এতে আপনার ভ্রমণ হবে নিরাপদ আর নিশ্চিন্তময়। দুরপাল্লার বাসের এখন দুর্ঘটনা যেন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।

দেশের দক্ষিণাঞ্চলে যেসকল যাত্রী নৌ-রুটে চলাচল করেন তাদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন জরুরী কেননা এখন আবহাওয়া যেকোন সময় বিরুপ পরিবেশ ধারণ করে। আপনি নিজে সজ্ঞানে কোনভাবেই অতিরিক্তি যাত্রী হয়ে উঠবেন না,দেখবেন কোন বিপদের সম্ভাবনায় রইল না। আমাদের একটু একটু অসর্তকতাই যেন কোন বিপদের পুঁজি। রাতের বেলায় লঞ্চগুলোতে যেসকল ডুবির ঘটনা বা বিপদ হয় তার অধিকাংশের নেপথ্যে অতিরিক্ত যাত্রী। তাই একজন সচেতন যাত্রীর অবস্থান হতে এই বিপদ এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব। এছাড়াও ফেরিঘাট দিয়ে বা দ্রুত যাতায়াতের জন্য স্পীডবোটে করে যাত্রী পার হয়।এইসব ক্ষেত্রে ফেরিতে উঠার ক্ষেত্রে বাস চালক বা যাত্রী উভয়ের সতর্ক থাকা জরুরী।কেননা এখানে অনেক অনাকাঙ্খিত ঘটনা যা কেবল রোধ করতে পারে আমাদের বাড়তি সতর্কতা। আপনি যদি স্পীডবোটে করে যাতায়াত করেন তবে আপনাকে লাইফ জ্যাকেট পরিধান করতে হবে এবং অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে কখনো উঠবেন না। আপনার একজনের জন্য হয়তো অন্য অনেকের বিপদের কারণ হয়ে যেতে পারে।

আমাদের সড়ক পথে আরেক দুশ্চিন্তার নাম হলো বেপোরোয়া ড্রাইভিং ।আপনি যদি দক্ষ না হোন তবে দুরপাল্লার কোন পথে আপনার ভ্রমণ করাটা ঝুঁকি।অনেকে বাড়তি উৎসাহের কারণে নিজস্ব গাড়ি ড্রাইভ করে।অনেককে দেখা যায় অতি উৎসাহী হয়ে বেপোরোয়া গতিতে ড্রাইভ করে।আপনার বেপোরোয়া গতি বা কৌতুহল অন্য অনেকের বিপদের কারণ হতে পারে। এক্ষেত্রে অভিভাবকদের বাড়তি সতর্কতা নেয়া জরুরী আপনার সন্তানকে দক্ষ না হলে এই সময়ে অন্তত ড্রাইভ করতে দিবেন না। মোটরসাইকেল আরোহীরাও বাড়তি সতর্কতা নিতে পারেন। কেননা দুরপাল্লার কোন যাত্রায় আপনি দুয়ের অধিক যাত্রী হয়ে ভ্রমণ করবেন না। এটা ‍খুবই বিপদজনক একটা পদক্ষেপ।তাছাড়া আমাদের সকল পেশাদার ড্রাইভার বা নিজস্ব গাড়ির চালকের একটা বিষয় মাথায় রাখা জরুরী তা হলো আমাদেরকে অবশ্য ওভারটেকিং করার মানসিকতা এড়িয়ে চলতে হবে। দেশের অধিকাংশ দুর্ঘটনা কিন্তু এই ওভারটেকিং বা সিগন্যাল ও গতিবিধি না মেনে চলার জন্য হয়।

আপনার সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি কথাটা সবাই শুনেছি।একটু ধীরস্থির হয়ে যাত্রা করুন হয়তো একটু পরে পৌঁছাবেন তাও অন্ততপক্ষে নিরাপদে পৌঁছাবেন এটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আপনার।

আপনার ঈদ যাত্রা শুভ হোক।

 

সৃজনশীল শিক্ষাপদ্ধতি কতখানি সৃজনশীল করেছে আমাদের ?

Now Reading
সৃজনশীল শিক্ষাপদ্ধতি কতখানি সৃজনশীল করেছে আমাদের ?

নকল করে পাশ করার যে একটা খারাপ প্রথার প্রচলন ছিল তার গন্ডি থেকে বেরিয়ে এলেও বর্তমান সময়ে ভিন্ন সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা।বর্তমান সময়ে এই সমস্যা তেমন দৃশ্যত কোন প্রভাব তৈরি না করলেও দীর্ঘমেয়াদে তা অনেকাংশে নেতিবাচক প্রভাবই তৈরি করবে। দেশের প্রচলিত শিক্ষাপদ্ধতির আলোকে যেকোন শিক্ষার্থীর একটা ভাল ভিত্তি তৈরি হয় মূলত মাধ্যমিকে পড়াকালীন সময়ে। মাধ্যমিক আর উচ্চ মাধ্যমিকের গন্ডি পেরিয়ে যখন কোন শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষার দ্বারে প্রবেশ করে তখন তার জ্ঞানার্জনের পরিধি যে অনুযায়ী বিস্তৃত হওয়া দরকার,আমাদের দেশে সে অনুপাতে হচ্ছে বলে মনে হয় না।

প্রায়শই দেশের জাতীয় দৈনিকসহ সংবাদ মাধ্যম গুলোতে ব্যাপক সমালোচনা হয় প্রচলিত শিক্ষাপদ্ধতি নিয়ে। এই আলোচনা আর সমালোচনার বিশাল একটা অংশ জুড়ে ছিল বর্তমানে শিক্ষার্থীদের উপর আরোপিত শিক্ষাপদ্ধতি নিয়ে।

প্রতিবেদনসূত্রে দেখা যায় পরীক্ষার প্রশ্নে শিক্ষার্থীকে যখন প্রশ্ন করা হয় কুনোব্যাঙ বা ‍উভচর প্রাণীর  বৈশিষ্ট্য নিয়ে লিখতে।এ বিষয়টা অনুতাপের বটে শিক্ষার্থী উত্তরপত্রে যা লিখেছে তাতে প্রশ্ন অনুযায়ী উত্তর না হলেও যা লিখা হয়েছে তা যেন প্রশাসনকে নড়েচড়ে বসার যথেষ্ট সুযোগ দিয়েছে।

দেশের প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতিকে সংস্কার করার প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষা পদ্ধতিতে শিক্ষা ব্যবস্থার যে প্রচলন করে তাও প্রায় অর্ধযুগ পেরিয়েছে। এখনো কি আমরা এই পদ্ধতির সুফল পেয়েছি ? এমন প্রশ্নের জবাবে অনেকে দ্বিমত পোষণ করবে;এটাই স্বাভাবিক বরং আমাদের আরো কৌশলী হয়ে চিন্তা করা উচিত যে কিভাবে এই জিনিসটাকে সার্বিকভাবে ফলপ্রসু করা যায়। একটা পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে কয়েকটা ব্যাচ যাচ্ছে তাদের সামনে প্রতিনিয়ত নতুন কিছু নিয়ে আসা হয় যা রপ্ত করতে না করতে আরো একটা নতুন ধারণা সংযোজন যার ফলে মোটের উপর একটা স্থিতি অবস্থা না হয়ে বরং তটস্থ হয়ে আছে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকেরা। এই বিষয়গুলো খুবই গৌণ হলেও কর্তৃপক্ষের সুষ্টু নজরদারির মাধ্যমে একটা গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করা উচিত। যা কিনা এখন সময়ের দাবী। যখন কোন নতুন একটা পদ্ধতির অবতারণা করা হয় দেখা যায় বির্তকের পাশাপাশি সেটা নিয়ে শিক্ষার্থী মহলে ব্যাপক আলোড়ন এবং উৎকন্ঠা বিরাজ করে। শিক্ষাপদ্ধতির সংস্কার কিংবা বহাল রাখার জন্য কেন শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন বা প্রতিবাদের ভাষা বাছাই করে নিতে হয় ? এই পদ্ধতি কি তাদের জন্য হিতকর নয়? এই শিক্ষা ব্যবস্থা কাদের জন্য কারা এর সুফল ভোগ করবে ?

এই ধরনের পদ্ধতি পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করার আগে যাচাই বাছাই করা প্রয়োজন। এই নীতিটা গ্রহণ করার জন্য আসলে তৃণমূলসহ সর্বস্তরে শিক্ষার্থীরা তৈরি কিনা হোক সেটা মানসিক বা অবকাঠামোগত দুটোই।

সৃজনশীল পদ্ধতিগৃহীত পদক্ষেপ হিসেবে কতখানি উপযুক্ত ?

শিক্ষার্থীদের নোট কিংবা গাইড বইয়ের উপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য নিয়ে এই পদ্ধতির প্রচলন। এমন একটা  প্রচেষ্টা অবশ্যই সাধুবাদ পাওয়ার দাবিদার, উন্নত বিশ্বে যেখানে লেখাপড়ার বিষয়টাকে ফলিত পদ্ধতি বলে বিবেচনা করা হয়,সেখানে এই ধরনের বিষয় সংযোজন অবশ্য নতুন মাত্রা যোগ করবে। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে এই পদ্ধতি যুগোপযোগী যেখানে বিশ্বে প্রতিনিয়ত একটা ক্রমপরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় এগিয়ে যাচ্ছে সেখানটায় তাল মিলিয়ে চলতে এমন কিছুই মূলত দরকারী বটে।

সৃজনশীল  শিক্ষা পদ্ধতি   তৃণমূলে কতটা প্রভাব সৃষ্টি করেছে?

শিক্ষার প্রসার বা প্রচলন কেবল নগরকেন্দ্রিক নয়। আমরা যদি কেবল নগর বা জেলা পর্যায়ের স্কুল ও কলেজগুলোকে আর্দশের মানদন্ড বলে ধরে নিই, তবে তা মূলত বিস্তর পার্থক্য দেখাবে সমীক্ষা আর বাস্তবতায়। আমাদের দেশে প্রতিটা উপজেলা পর্যায়ে অবকাঠামোগত অবস্থার উন্নয়ন তেমনভাবে না হওয়ায় এই সৃজনশীল শিক্ষা ব্যবস্থার প্রভাব তেমনভাবে চোখে পড়ে না । দেশের পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে এইসব আধুনিক ব্যবস্থা বা পন্থা যাওয়ার গতি খুবই শ্লথ যার কারণে উন্নয়নের কথা বলা হলেও তা দৃশ্যমান নয়। চট্টগ্রাম বিভাগের কথাই যদি বিবেচনা করি প্রতি বছর এস.এস.সি কিংবা এইচ.এস.সি পরীক্ষায় পার্বত্য অঞ্চলগুলোর ফলাফলের কারণে মোটের উপর চট্টগ্রাম বোর্ড বরাবর সমীক্ষায় পিছিয়ে থাকে। এই সমস্যার আশু কোন সমাধান থাকে না।

আমরা খবর পড়ে বা দেখে অবাক হই কেননা এখনো এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুঁজে পাওয়া যায় যেখানে কেউই উর্ত্তীণ হতে পারে না। এই বিষয়টা পরিস্কার ধারণা দেয় সৃজনশীলতার প্রভাব অবশ্যই সবখানে সমানভাবে পড়ে নি।

শিক্ষকদের কতখানি অংশীদারীত্ব বা দায়বদ্ধতা রয়েছে ? এই প্রশ্নটা এখন কোটি টাকার ?

সৃজনশীল বা যেকোন শিক্ষাব্যবস্থায় সবার অংশগ্রহণ জরুরী হোক সেটা শিক্ষার্থী বা শিক্ষকমন্ডলী। শিক্ষাব্যবস্থায় সৃজনশীলতার মতো পদ্ধতি নিয়ে আসার পূর্বে জরুরী ছিল কাঠামোগত পরিবর্তন নিয়ে আসা। এই যেমন উপযুক্ত বা দক্ষ শিক্ষক প্যানেল তৈরি করা । তাদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা । এই বিষয়টা করে আসছে তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলা যায়। এক্ষেত্রে শিক্ষকদের উদাসীনতা বরং লক্ষণীয়,নয়তো এতদিনে এই ব্যবস্থার সার্বিক একটা প্রভাব কেন সৃষ্টি হবে না ? এমন অনেক শিক্ষক আছে যারা কিনা কেবল নির্দিষ্ট কিছু সুযোগ সুবিধার লোভে কেবল প্রশিক্ষণ গুলোতে অংশগ্রহণ করে তাদের উদ্দেশ্য বা এখতিয়ার অতটুকুই। প্রশিক্ষণে কি শিখল তার কোন ফলপ্রসু প্রয়োগ করতে দেখা যায় না।

এখনো গ্রামাঞ্চলে দেখা যায় ক্লাসগুলোতে যথেষ্ট শিক্ষক সংকট তাছাড়া শিক্ষকেরা কোচিং নির্ভর হয়ে ক্লাসে তেমন কোন পাঠদান করানোর চিন্তাই করে না। এখনো গাইড, শীট বা কথিত সাপ্লিমেন্ট না হলে যেন শিক্ষার্থীদের পোষায় না। পরীক্ষায় নির্ধারিত কিছু পূর্ব বছরের প্রশ্নের আলোকে প্রশ্নপত্র প্রণয়ণ যেন শিক্ষার্থীদের কূপমন্ডুক করে রেখেছে। এবারের এইচ.এস.সি পরীক্ষায় বিশেষভাবে চট্টগ্রাম বোর্ডের ইংরেজী ২য় পত্রের পরীক্ষায় গ্রামার পার্টে কনটেন্টগুলো সমসাময়িক বিষয়ের আলোকে দেওয়াতে অনেক শিক্ষার্থী প্রশ্ন ভালভাবে বুঝে উঠতে পারে নি। ঐ যে তাদের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে তেমন চর্চা নেই বললে চলে। ধরা যাক আমাদের বর্তমান রাষ্ট্রপতির নাম তথা ব্যবহারিক নাম কি ?

আবদুল হামিদ এডভোকেট নাকি এডভোকেট আবদুল হামিদ এমন প্রশ্নের জবাবে অনেকে ভুল করবে।এইসব বিষয় নিয়ে আমাদের চর্চা থাকে না।আমরা সাহিত্য বিচারে রবীন্দ্রনাথ নজরুল নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত হয় আসলে কোনটা উপযুক্ত তা নিয়ে চিন্তা করি। এটাতো সৃজনশীলতার গন্ডিতে পড়ে না।

একজন বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হয়ে তাকে পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি পদার্থ,রসায়ন বা জীববিজ্ঞানের বইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি সমসাময়িক আবিস্কার বা গবেষণা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকা চাই। এই যেমন ব্ল্যাকহোল কি বা স্টিফেন হকিং কে এসব বিষয়ে জ্ঞান থাকা চাই। তেমনি ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীর জানা উচিত স্টক মার্কেট কি ? শেয়ার বাজার আর নিত্যনৈমিত্তিক বাজারের পার্থক্যটা কোথায় ? মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী যদি অর্থনীতি পড়তে গিয়ে অভাবের প্রায়োগিক সংজ্ঞা বা অর্থ দাঁড় করাতে না পারে,ভূগোল পড়তে গিয়ে দ্রাঘিমা বা অক্ষাংশ কি তার কোন সুস্পষ্ট সংজ্ঞা দিতে পারে না তখন বুঝে নিতে হয় সৃজনশীলতা এখনো আমাদের আঁকড়ে ধরতে পারে নি।

লেখাপড়ায় কতখানি সৃজনশীলতার প্রভাব বিদ্যমান ?

এমন প্রশ্নের জবাবে কেবল বলা যায় গ্রাম আর শহরকে আলাদা করলে গ্রাম অনেকখানি পিছিয়ে। এই পিছিয়ে পড়াটা আমাদেরকে একটা সময় ভোগান্তির মধ্যে ফেলবে এটা নিশ্চিত। তথ্য প্রযুক্তি বা আইটি শিক্ষার লক্ষ্যে যে প্রচলন তা এখনো খাতা কলমে রয়ে গেছে কেননা এই বিষয়ে যে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেয়া হয় তা মূলত হাস্যকর বলা চলে। আইটি বা তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষার সময় মৌখিক প্রশ্ন করে ছেড়ে দেয়া হয় তা অবশ্যই ভাবনার বিষয়। আমরা কি শিখছি ইনপুট কি নিচ্ছি বা আউটপুট কি দিবো  তা সময়ের কাছে তোলা রইল।

এত বাধা বিপত্তি থাকা স্বত্তেও যেসব শিক্ষার্থী উঠে আসছে তার পেছনে কিছু শিক্ষক আর প্রাইভেট টিউটরের অবদান বলা যায়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এই পদ্ধতির আলোকে উপযুক্ত বা দক্ষ শিক্ষকের অনুপাতিক হার নগণ্য। শহর বা মফস্বলগুলোতে কলেজ পড়ুয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিউশন পেশায় মূলত একটা ভারসাম্য রেখেছে। এই সময়ে টিউশনটা যেন একটা আশীর্বাদপুষ্ট পেশা।

শিক্ষাব্যবস্থার এমন দুর্দশার জন্য সর্বোচ্চ স্তরের উদাসীনতা যেমন দায়ী তেমনি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অভাব লক্ষ্য করা যায়। বর্তমানে নিযুক্ত শিক্ষকের প্রায়ই ৬০ শতাংশ আছে যারা সৃজনশীল পদ্ধতি বা সে অনুযায়ী বিষয়াদি নিয়ে ওয়াকিবহাল নয়। আইটি কিংবা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তৃণমূলে শিক্ষকের রয়েছে যথেষ্ট জড়তা। সৃজনশীল শিক্ষাপদ্ধতিকে সুচারুরুপে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে দরকার গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ।বর্তমানে শিক্ষাপেশায় নিয়োজিত অধিকাংশ শিক্ষকই নতুন পদ্ধতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে না পারায় এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়ছে।আমাদের উচিত যুগোপযোগি শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে আধুনিক তরুণ-তরুণীদের শিক্ষকতা পেশায় উৎসাহী করা।সর্বোপরি একটা ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষক প্যানেল গড়ে তোলা যা দ্বারা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাছে আমরা পৌঁছে দিতে পারব এই সৃজনশীলতার সর্বোচ্চ উপযোগিতা।ভবিষ্যতে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে আর এই পরিবর্তনের নেতৃত্বদান করবে বর্তমানের নবপ্রজন্ম এমনই প্রত্যাশা রইল।সৃজনশীলতার বিকাশে আলোকিত হোক জ্ঞানের প্রতিটা ধাপ,এই আলোর বিচ্ছুরণ হোক সমাজের প্রতিটি স্তরে।

 

“ড্রয়িংরুমে” বিদেশী চ্যানেলের দৌরাত্ম্য

Now Reading
“ড্রয়িংরুমে” বিদেশী চ্যানেলের দৌরাত্ম্য

আপনি কি কখনো হোমিওপ্যাথির চিকিৎসা নিয়েছেন ? এই চিকিৎসাটা খুবই ধীরগতির তাই না ? তবে কোন ক্ষতি তো আপনার চোখে পড়ে না,উন্নতি তেমন একটা দৃশ্যমান নয় তাই নয় কি ?প্রথমেই বলে রাখি কোন ভাল জিনিসের জন্য আহামরি কোন বিজ্ঞাপণ দিতে হয় না,খারাপ কিছুকে হজম করানোর জন্য যতটা না করতে হয়।

এখনকার ব্যস্ততম দুনিয়ায় মানুষের শত কাজের ব্যস্ততায়  নেই কোন ফুরসুত তার বিনোদনের জন্য।আগে গ্রামে-গঞ্জে পালাগানের আসর হতো নাটক হতো মঞ্চে এখন এসব ধূসর অতীত বলা চলে।

আমাদের দ্রুততম জীবন গতির সাথে তাল মিলিয়ে এখন আমরা বিনোদনের মাধ্যমকে যুগোপযোগী করে নিয়েছি। আমরা সবাই যাদুর বাক্সরুপী টেলিভিশনে আটকা পড়েছি। একটা সময় দেশে কেবল বিটিভির অনুষ্ঠানমালা ছিল তখন আপনার কাছে আর কোন অপশনই ছিল না,চাইলেই আপনি তা বদলাতে পারতেন না। যখন  দেশে স্যাটেলাইট চ্যানেলের সম্প্রচার শুরু হল তখন থেকে বিনোদন একটা বহুমাত্রিক ছোঁয়া পেল।এখন আমাদের রিমোট দ্বারা কন্ট্রোল করতে হয়,একই ঘরে সাতজন মানুষ হলে তাদের রুচিবোধের প্রকারভেদ হয় পাঁচ।

দেশের স্যাটেলাইট চ্যানেলের সাথে বিদেশী কিছু চ্যানেল যারা ধীরে ধীরে আমাদের অস্তিত্বকে গ্রাস করে চলছে। কিভাবে ? কোথায় ? এটা অনেকটা ক্যানসারের মতো ধীরে ধীরে হচ্ছে বিধায় তা বেমালুম ।

কয়েক বছর আগে  ডরিমন কার্টুন দেখে গিয়ে অনুপ্রাণিত হয়ে একটা ছোট ছেলে বিপদজনক স্টেপ নেওয়াতে কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে উঠে।যার ফলে দেশে কার্টুনের চ্যানেলটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।এখন একই কার্টুন দেশীয় চ্যানেলগুলো ডাবিং করে সম্প্রচার করছে। এটা কলা দেখিয়ে মুলা খাওয়ানোর মত হলো না ?

আমাদের দেশে এখন প্রায়ই ৫০ টারও অধিক বিদেশী চ্যানেল আছে যার অধিকাংশই ভারতীয়। ভারত এবং বাংলাদেশের আর্ন্ত-বাণিজ্যিক চুক্তিতে দেই দেশের বন্টনে সমান অধিকারের কথা বলা থাকলেও বাস্তবে তার কোথাও ছিটেফোঁটা নেই। বরং দেশীয় প্রতিনিধিরা এসব ব্যাপারে বেশ উদাসীন কেননা আমাদের দেশের কয়টা চ্যানেল ভারতে সম্প্রচার করে সে খবর আমাদের আছে ? সঠিক কোন খবর তো নেই বরং তার জন্য নেই কোন পদক্ষেপ।

এখন আপনি প্রতিটা ঘরে ঘরে গিয়ে দেখুন খোদ দেশীয় নামকরা সেলেব্রেটিদের বাসায় যান সকাল বা সন্ধ্যা যেকোন সময়ে ভারতীয় চ্যানেলের অনুষ্ঠানমালা দেখতে পাবেন। এমন না যে বিষয়টা নতুন অনেকে সরাসরি স্বীকার করেছে। এসব নিয়ে নিউজ রির্পোট হয়েছে একাধিকবার আমাদের সচেতনতার দৌড় ততটুকুই বলা যায়।

আমাদের দেশীয় মিডিয়ায় যে কয়টি চ্যানেল বেশ বিরুপ প্রভাব ফেলছে তার মধ্যে অন্যতম হল স্টার প্লাস,সনি টিভি,জি টিভি,লাইফ ওকে,সাব টিভি,জি-বাংলা ,স্টার জলসা,কালারস হিন্দি এবং কালারস বাংলা,ইটিভি বাংলা,স্যাট ম্যাক্স,এমটিভি ,বি4ইউ মিউজিক সহ আরো অনেক চ্যানেল। হলিউড কিংবা কোরিয়ান,জাপানি,চীনা এসব চ্যানেলের প্রকোপ টিভিতে নেই।

আমাদের জাতীয় দৈনিকগুলোতে দেখবেন তারা বিদেশী চ্যানেলগুলোকে প্রমোট করতে যেন এক ধাপ এগিয়ে তারা ঐসব চ্যানেলের বিভিন্ন্ প্রোগ্রামের সিনোপসিস লিখে দেয় পাঠকদের জন্য এটা প্রকরান্তরে নেতিবাচক একটা দিক।

ভারতীয় তথা বিদেশী চ্যানেলগুলোর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি পড়ছে আমাদের যুব সমাজের উপর কেননা তারা একটা নেতিবাচক মানসিকতা নিয়ে বড় হচ্ছে যা কিনা ভবিষ্যতে আমাদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। সৃজনশীল পরিভাষায় যাকে নাটক বলে এই লম্বা দৌড়ের সিরিয়াল গুলো দর্শক ধরে রাখার একটা বাজে দৌড়ে নেমে তার সংজ্ঞাটা পাল্টে দিছে। এই নাটকগুলো নাটকের নেতিবাচক অর্থই যেন দাঁড় করিয়েছে। নাটক!!

আপনি খেয়াল করবেন এখানে দেখানো হয় একটা পরিবার যা কিনা একদম প্রত্যন্ত অঞ্চলকে রিপ্রেজেন্ট করে কিন্তু আপনি সেট বা লোকেশন কোথাও পাবেন না প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছোঁয়া। এখানে প্রতিটা পরিবারের অবকাঠামো অদ্ভুত যেমনটা বাস্তবের সাথে কোন মিল নেই ।এখানে সম্পর্কের মূল্য একদম ঠুনকো করে দেখানো হয়। এই যেমন তারা সম্পর্ক বা রীতি রেওয়াজের ক্ষেত্রে এমন বেহায়াপনা করে খোদ যেটা তাদের সমাজে প্রচলিত নেই। আপনি খেয়াল করে দেখবেন এখানে কিছুদিন পর পর নায়িকা বা নায়কের বিয়ে দেয়া হয়। এমন অনেক নাটক গেছে যেখানে নায়িকার বিয়ে দেখতে দেখতে খোদ দর্শকও বিরক্ত হয়ে গেছে।এখানে বিয়ে বারংবার করানোর মাধ্যমে আসলে কি ম্যাসেজ দিতে চাই এটা বোধগম্য হওয়ার বিষয় না। যে কথা বলছিলাম সম্পর্কের টানাপোড়েন এটা এতটাই অদ্ভুত আপনি চিন্তা করতে গিয়ে বমিও করে দিতে পারেন হজম হবে না বলে দিলাম।

দুইবোনের সম্পর্ক বিয়ের কারণে বউ শ্বাশুড়ির সম্পর্ক বনে যায়। এটা আমরা অধীর আগ্রহে দেখছি কতটা খারাপ জিনিস খাওয়ানো হচ্ছে খেয়াল করছি একবারও! আমরা তো নাটকের পরের দৃশ্য কি হবে তা ভেবে অর্ন্তপ্রাণ আমাদের একটা মোহের মধ্যে রাখা হয়েছে। এখানে একজন স্বামীর দুটো স্ত্রী থাকা যাবে  তবে তারা একই সাথে কখনো স্বামীর দাবি নিয়ে আসে না,কোনক্ষেত্রে ডির্ভোস হয়ে গেলেও তাকে একই ছাদে নিয়ে আসার সুযোগ আছে। যেখানে এক শ্বাশুড়ি আর বউয়ের জ্বালায় টিকে থাকা দুস্কর সেখানে শ্বাশুড়ির লেয়ারটা তিন চার স্তরের হয়ে যায়। আমাদের ঘরে সাধারণত দেখা যায় বাবার সম্পর্কের লোকজন চাচা-চাচী এরা থাকতে দেখা যায়। এসব নাটকে আপনি দেখবেন মামা-মামী-খালা খালুর সম্পর্কের লোকজনও এসে গিজগিজ করে। এটা কেবল গল্পকে নানা নাটকীয় মোড় দেয়া ছাড়া আর কিছু না। এখানে কোন সৌহার্দ্য আর সম্প্রীতির বন্ধন আছে বলে মনে হয় না। আপনি যখন পরিবারের মেলোড্রামা দেখতে ক্লান্ত তখন আপনার সামনে নিয়ে এসেছে মাইথোলজিক্যাল কিছু কাহিনি আর হরর কিছু গল্প যেটা অন্তত আর কিছু না হোক বর্তমানের সাথে বেমানান । এই সব গল্পের প্লট আর থিম খুবই হাস্যরসময়।

আপনার সামনে একটা বিরাট আলোকসজ্জায় ভরপুর একটা সেট,কস্টিউমে ভরপুর একেকটা ক্যারেক্টার তা দিয়ে আপনার সামনে ধুলো দিয়ে যাচ্ছে। এখানে নাটক যেখানে বিনোদনের পরিভাষা সেখানে এইসব নাটক যেন ব্যবসায়ীদের ঢাল নয়তো অনেকক্ষেত্রে অস্ত্রের ভূমিকা নিচ্ছে।

আমাদের পরিবার গুলোতে বউ-শ্বাশুড়ির দ্বন্ধ,স্বামী-স্ত্রীর দ্বন্ধ,হিংসা প্রতিহিংসা বা ক্ষোভ আর নানান বিদ্বেষপূর্ণ ঘটনার বীজ এসব নাটকগুলোর মধ্যে অর্ন্তনিহিত আছে।  ঈদের বাজারগুলোতে তো এখন এইসব চ্যানেলের প্রকোপ কেননা নাটকের ক্যারেক্টারগুলো এখন বাজারে নেমে এসেছে তাদের নামসংবলিত ড্রেস বাজারও দখল করছে। এইসব জিনিসের যথেষ্ট চাহিদা আছে ।খোদ চট্টগ্রামে স্টারপ্লাস নামে শাড়ীর দোকান আছে তাতে নারীদের বেশ উপচেপড়া ভীড় দেখা যায়। ফেসবুকে নারীদের গ্রুপ বা পেজে এসব নিয়ে চর্চা হয় বেশ তারা দেখে তো দেখে তা নিয়ে নানাভাবে মশগুলও করে যেমন কোন নাটকের কোন ক্যারেক্টারের কি হলো এটা এখন ভার্সিটি পড়ুয়া হতে শুরু করে স্কুল পড়ুয়া সকল মেয়ের আলাপের বিষয়বস্তু। এটা আমাদেরকে প্রতিনিয়ত দেশীয় সংস্কৃতির কাছ থেকে কোন এক অদৃশ্যে শক্তির আড়ালে যেন সরিয়ে নিচ্ছে।

দেশে নানান ফেসবুক পেইজ আর ট্রলগুলোতে এসব ক্যারেক্টার স্থান পাই যার কারণে বোঝা যায় কতটা বিরক্ত টিভি দর্শক।আমরা একটা সামাজিক অণুকরণের মধ্যে দিয়ে বড় হচ্ছি যেমন এখন একজন টিন এজ গার্ল এইসব নাটক বা সিরিয়ালে আকৃষ্ট হয়ে পড়লে স্বাভাবিক অর্থে তার মনোজাগিতক বিকাশটা হলো কোথায় ? এই মেয়ের স্বাভাবিক একটা কৈশোরের চঞ্চলতা আমাদের সামনে কেড়ে নিচ্ছে তা দেখেও আমরা নির্বিকার। এখানে নাটকগুলোতে কেবল ঘরের চৌকাঠের ভেতরকার গল্পকে হাইলাইট করা হয়।বাইরের দুনিয়ার সম্পর্কে তারা ওয়াকিবহাল না কেননা একটা নাটকে দেখা যায় ল্যাপটপ ওয়াশ করার অর্থ পানিতে চুবিয়ে শুকাতে দেয়া এমন কাজ করছে গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র সেই মেয়ে একবছর পর একটা প্রতিষ্ঠানের সিইও বনে যায়। একবছর আাগে যার কাছে কোন নুন্যতম ডিগ্রীটা ছিল না। এমন কাল্পনিক কনসেপ্ট কেবল টিভিতে সম্ভবপর। এগুলো আমাদেরকে সুন্দর মোড়কে করে খাওয়ানো হচ্ছে নয়তো গিলানো হচ্ছে।

এইসব নাটকে পুরুষের ক্ষমতা গৌণ কেবল নারীরাই সর্বেসর্বা।যেহেতু গল্পের গন্ডি ঘরের ভেতরকার তাই বোঝা যায় তাদের নির্দিষ্ট দর্শককে লক্ষ্য করে এগিয়ে যায় গল্প-কাহিনি। এছাড়াও নানানভাবে এসব বিষয় আমাদের তথা দেশীয় সমাজে বিরুপ প্রভাব ফেলছে। আমাদের এখানে নাই তেমন কিছু একটা প্রথা যা  নিয়ে আসার জন্য ভবিষ্যতে ঘরের মেয়েরা সোচ্চার হবে তেমনটা ভাবা অমূলক নয়।এটা যদি হয় তবে তা হবে এক ধরনের আগ্রাসন। এটা প্রকরান্তরে আমাদের সমাজে একটা আগ্রাসনই সৃষ্টি করছে। আগ্রাসনটা কোথায় ?

আমাদের তরুণীরা যারা এটা দেখে বড় হচ্ছে তারা একটা ভুল ধারণা নিয়ে বড় হচ্ছে যা তাকে বিপদে ফেলবে।এখানে গল্পকার যেভাবে একটা নায়িকা বা চরিত্রকে স্বাধীনতা দেয় তা আমরা বাস্তবে নাও পেতে পারি।পরিবারের ভেতরকার কাল্পনিক সমস্যা আর সমাধান কল্পে যে অভূতপূর্ব সমাধান যার সাথে বাস্তবতার ব্যবধান যোজন যোজন। এখানে ইচ্ছাকৃতভাবে একটা ঘটনা বা সমস্যাকে জটিল করে তোলা হয় যা বাস্তবে তেমনটা নাও হতে পারে আমি যদি ভেবে নিই তবে তো বিপদ।

আপনি আমি যদি একটা দ্বিধাবিভক্ত সমাজের মধ্যে বড় হচ্ছি,যেখানে আমার সামনে প্রর্দশিত টিভিতে এক আর বাস্তবে অন্যকিছু তখন তো নিজেকে মানিয়ে নিতে যে কারো কষ্ট হবে। এটাই স্বাভাবিক।

একটা ঘটনার কথা শেয়ার করি … একবার এক ফ্রেন্ডের লাইক বা শেয়ারের কল্যাণে আমার টাইমলাইনে চোখ ছানাবড়া করা একটা পোস্ট আসে।যেখানে তরুণীদের পেজে পোস্ট করা আছে  “ কোন এক সিরিয়ালে নায়ক-নায়িকার শয্যাদৃশ্য না দেখিয়ে তাকে গর্ভবতী দেখানো হয়েছে।” এটা নিয়ে গ্রুপ পোস্ট আর তুখোড় সমালোচনা।

তাবৎ দুনিয়ার হাজারো টপিক থাকতে আমরা আমাদের মানসিকতা নিয়ে কোথায় আটকে আছি। এভাবে প্রতিনিয়ত আমরা আধুনিক সমাজে বাস করে কুপমুন্ডুকের মতো জীবন যাপন করছি। এমটিভি রোডিস্ বা আরো যে কয়েকটা শো হারহামেশাই যেটা কিনা অনেকটা আমেরিকান শো এর আদলে তৈরি করা হয়েছে। এখানে যেভাবে তরুণ-তরুণীর বেহায়াপনা বা অবাধ মেলামেশাকে স্বীকৃতির মানদন্ডে বিচার করা হয় তা যারা পর্দার বাইরে দেখছে তাদের জন্য অমূলক বটে।আমাদের দেশীয় ব্যবস্থা বা সমাজের মান অতটা নিচে নামে নি। যেখানে এসব জিনিসকে প্রমোট করতে মিডিয়ার দ্বারস্থ হতে হবে।

আজকাল তো আপনি গাড়িতে বা পার্কে গেলে দেখবেন বয়স্করা তাদের আলোচনায় নিয়ে আসছে এই ছাইপাশ সিরিয়ালের রসালাপ।অনেক সময় তাদের আলাপচারিতা আর ভঙ্গিমায় আপনার মনে হবে ঘটনাটা আপনার পাশের বাড়িতে ঘটেছে।আসলে তা নয়।

আমাদের দর্শকগুলো বিপথে যাচ্ছে কেন ? এটা কি তাদের একার দোষ ? এই যে দেশের সীমানা পেরিয়ে একটা কুপ্রভাব তা ও আবার বিনোদন মাধ্যমের দ্বারা হচ্ছে তা দেখে কর্তৃপক্ষ অনেকটা চোখে হাত দিয়ে রেখেছে।

এই ক্ষেত্রে তো দর্শক চোখে হাত দিয়ে রাখবে না।একটা নীরব ঘাতকের মতো সামাজিক আগ্রাসন আমাদের পেঁচিয়ে ধরেছে আমাদের গলা অব্দি আসলে বোধহয় অনুভব হবে। যখন শ্বাস নিতে কষ্ট হবে…

সর্বোপরি আমাদের এই বিরুপ আর কুরুচিপুর্ণ অনুষ্ঠানগুলোকে বয়কট করতে হবে যেখানে আমরা চাইলে ভবিষ্যতের জন্য একটা সুন্দর বিনোদনের নির্মল পরিবেশ তৈরি করতে পারি।

আপনারা যারা আধুনিক সময়ে সন্তানের বাবা মা হতে যাচ্ছেন তারা একটা গঠনমূলক পদক্ষেপ নিন।আপনার ছোট একটা পদক্ষেপ একটা মহীরুহের ন্যায় বিবেচিত হবে….

 

পরের পর্বে দেশীয় টিভিগুলোর সমাচার থাকবে……

“ পেশাদারীত্ব যখন জনরোষের জন্য হুমকির মুখে ”

Now Reading
“ পেশাদারীত্ব যখন জনরোষের জন্য হুমকির মুখে ”

সাঁঝ সকালে আপনার বাসায় যে লোকটা নিয়ম করে খবরের কাগজ দিয়ে যায়,পাশাপাশি যে লোক সকালে দুধ দিয়ে যায় বেল বাজিয়ে,হাতে তাজা খবরের কাগজ আর চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে যখন দিন শুরু করেন,তখন কি আপনি একবারও ভেবে দেখেছেন ঐ লোকগুলোর পেশাদারীত্ব নিয়ে। ওদের কাজটা কতটা নিষ্ঠার সাথে করছে।

আমাদের রোজকার দিনলিপিতে সকাল হতে সন্ধ্যা পযর্ন্ত  সকল কাজ কোন না কোন লোকের  দ্বারা পরিচালিত হয়। এখানে একে অপরকে সাহায্যে করে নিজের কাজ যেমন করে যাচ্ছে,তেমনি একে অন্যের কাজের মধ্যে দিয়ে মূলত একটা সার্কেল তৈরি করে রেখেছে। যেখানে প্রতিনিয়ত আর্বতিত হয়ে আসছি।

রাষ্ট্র,সমাজ,পরিবার এমনকি নিজ ব্যক্তিস্বত্তাও কোন না কোনভাবে অন্য কারো পেশাদারীত্বের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আসছে। মহান মে দিবসের যে গুরুত্ব বা তাৎপর্য এখনো আমরা উপলব্ধি করতে পারি নি। এই মে দিবসের যে সংগ্রাম বা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তা বিশ্বব্যাপী খুবই গুরুত্ববহ। এবারের মে দিবসে আমার সৌভাগ্য হয়েছে এই দিবসের তাৎপর্য সম্পর্কে শোনার। রাস্তার পাশে এক রিকশাচালক কোনভাবে রহস্য উন্মোচন করতে পারছে না মে দিবসের দিন কেন অফিস-আদালত বন্ধ ?

পাশে আরেক জন লোক তাকে খুব সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দিল এই বলে– শ্রমিকের উপর আজকের দিনে মালিকরা হামলা করেছিল যার কারণে শ্রমিক মারা যায়। তাই ঐ সব শ্রমিকের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আজকের অর্থাৎ মে দিবসের বন্ধ রাখা হয়েছে। যার কারণে সারা বিশ্বের শ্রমিকদের আজকের দিনে ছুটি।

ঐ দুজনের কথোপকথনে একটা জিনিস পরিস্কার হল কাউকে যদি সঠিকভাবে সম্মানটা দেয়া হয় তা আসলে সর্বজনস্বীকৃত হয়। এই বিষয়ে তারা দুজনে খুব খুশি ছিল কেননা এখানে শ্রমজীবিদের একটা মর্যাদা যে নিহিত রয়েছে। নুন্যতম  এই বিবরণ শুনে রিকশাচালক বেশ সন্তুষ্ট হল।আমাদের পারিপার্শ্বিক অবস্থায় আমাদেরকে চেষ্টা করতে হবে প্রত্যেক পেশার মানুষকে সম্মান করতে যাতে করে তার কাছ থেকে সেরাটুকু বেরিয়ে আসে।

সমসাময়িক কিছু ঘটনার প্রেক্ষিতে আমরা অবলোকন করতে পারি পেশাদারীত্বের খাতিরে চিকিৎসক সহ নানান পেশার লোককে আমরা অবলীলায় হেনস্তা করছি।

রোগবালাইয়ের একমাত্র উপশম হলো চিকিৎসালয় গুলো এখানে আপনি একবার দ্বারস্থ হওযার মানে এই নয় যে সমস্ত দায়বদ্ধতা চিকিৎসকের উপর ঘাড়ে পড়বে। আপনি আমি যেই ভিক্টিম হয় না কেন যারা আমাদের সেবা দেয়ার মহান ব্রত নিয়ে বসে আছে তাদের নিষ্ঠা বা ডেডিকেশনের জায়গায় আপনি নিজেকে নিয়ে চিন্তা করলে নিশ্চিত ঘাবড়ে যাবেন। কেবলমাত্র পড়াশোনা করে যে ডাক্তার হওয়া যায় না তা আপনি ইন্টার্নী চিকিৎসকদের পরিশ্রম আর নিষ্ঠার বিষয়ে খেয়াল করলে অবশ্য বুঝবেন। এখানে নিজেকে একজন চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলতে কতখানি ছাড় দিতে হয় একজন মেডিকেল পড়ুয়ার সাথে কথা বললে বুঝতে পারবেন। চিকিৎসক বা চিকিৎসা পেশা নিয়ে বলছি এই কারণে বর্তমানে এই বিষয়টা একটা আলোচ্য ইস্যু কেননা কিছুদিন পূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যুর পর গুজবে কান দিয়ে যে হামলা চালানো হয় তাতে করে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসকদের মনে একটা বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। কেননা পরবর্তীতে এই ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোন শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা দেয়ার ক্ষেত্রে তারা উদাসীন হতে পারে নতুবা এড়িয়ে যেতে পারে। অনাকাঙ্খিত কিছু এড়ানোর জন্য নিরাপদ দুরত্বে থাকাটা শ্রেয় মনে করতে পারে।এক্ষেত্রে আমরাই বেশ অসুবিধার সম্মুখীন হব।তাই ক্রোধের বশে অজান্তে নিজের ক্ষতি করে ফেলছি না তো ? এটা এখন বিবেচ্য বিষয় বৈকি ?

গ্রামাঞ্চলে বা মফস্বল শহরগুলোতে চিকিৎসকের সাথে রোগী বা আত্মীয়ের একটা শ্রদ্ধাস্পদ সম্পর্ক লক্ষ্য করা যায়।যেহেতু চিকিৎসার সাথে বাঁচা মরার একটা সম্পর্ক আছে তাই এখানটায়  আমাদের আবেগ আর অনুভূতি বেশ সোচ্চার হই।

আমার একটা অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করি একবার মাঝবয়সী ভদ্র মহিলা সন্তানসম্ভাবা হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়।ওনাকে যখন নির্দিষ্ট সময়ে লেবার রুমে নেয়া হল উনি ওখানকার পরিবেশ দেখে খুব সম্ভবত স্ট্রোক করে বসেন।এটা স্বাভাবিক যেহেতু এর আগে কখনো অস্ত্রোপচারের সম্মুখীন হয় নি। অপরিকল্পিত গর্ভধারণ,শারীরিক বা মানসিক দুর্বলতার মতো অনেক কারণ থাকতে পারে যা কিনা একজন মহিলা ঐ সময়ে স্ট্রোক করতে পারেন। এই কেসে ডাক্তারের সমস্যাটা কি বলুন তো ?

এমন অনেক নজির আছে যেখানে সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মা মারা যাওয়ায় নবজাতককে বুকের দুধ খাওয়াতে এগিয়ে এসেছেন চিকিৎসক বা নার্স। এই ঘটনায় তো আপনি বলতে পারবেন না তাঁরা তাদের পেশাদারীত্বের জায়গায় কোন কমতি রেখেছে ।তাই সবসময় উভয় দিক থেকে বিচার করা বাঞ্চনীয়।

কিচুদিন আগে এক হাসপাতালে ইন্টার্নী ডাক্তারের প্রতি রোগীর আত্মীয় কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করায় সহকর্মী প্রতিবাদ করে। এই ঘটনায় রোগী ও স্থানীয় ক্ষমতাসীন জনগণ ক্ষমতার জেরে বিষয়টা প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। এই যে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে আমাদের এই ধরনের কর্মকান্ড প্রমাণ করে আমাদের নৈতিকতা কোথায় গিয়ে ঠেকেছে। এই মানসিক বিকৃতির গন্ডি থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। পরবর্তীতে অনাকঙ্খিত হলেও পত্রিকার মারফতে আমরা জানতে পারি শাস্তির খড়গ ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ঘাড়ে পড়েছিল।

সব ডাক্তার কমিশন যেমন নেয় না,তেমনি সব শিক্ষকও আবার প্রশ্ন ফাঁসের সাথে জড়িত না। অপরদিকে প্রশাসনের সকল কর্মচারী বা কর্মকর্তা যদি অসাধু হতো আপনার আমার অস্তিত্ব থাকত না।

তবে এই সকল ক্ষেত্রে আমরা অনেকটা অযাচিতভাবে তির্যক মন্তব্য করে বসি। এক কথায় বলি সবাই খারাপ আসলেই কি সবাই খারাপ ?

আপনি নিজেকে প্রতিদিন রাতে একাকী শহরে ঘোরাফেরা করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে পারবেন ? জানি হয়তো অনেকে পারবেন কিন্তু কষ্ট হবে। এই কাজটা অনেকটা অনায়াসে করে যায় আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকেরা।

এইক্ষেত্রে পান থেকে চুর খসলে আমরা বলে বসি ওরা ভাল না।

প্রতিটি শ্রমজীবি বা পেশাজীবি তার পেশার প্রতি অবিচল বাইরে থেকে যে কেউ তার প্রতি কটু কথা বললে তার আস্থায় এতটুকুও ব্যাঘাত ঘটে না। তারা হয়তো সমায়িক কষ্ট পাই কিন্তু আবার ঘুরে দাঁড়ায়।

ধরুন…..

আপনি কোন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গেলেন রির্পোট আনতে, আপনার সাথে আরো ৯৯ জন আছে।আপনারা সবাই রির্পোট নিবেন কিন্তু দিবে একজন। এই সময় যদি ৬০ জন লোক চেঁচামেচি করে তবে যে লোকটা আপনাদের সেবার জন্য বসছে উনি অবশ্যই বিরক্ত হবেন। ফলে কোন কিছু উল্টাপাল্টা হলে ওনার যেমন কষ্ট আপনারও বাড়তি ভোগান্তি।

আমরা হাসপাতালে গেলে আবেগের বশবর্তী হয়ে যা মন চাই তাই করতে চাই। একবার ভাবুন আপনার মতো সবাই যদি মনের খায়েশ মতো যা ইচ্ছা তা করতে চাই তবে হাসপাতালের পরিবেশটা কেমন হবে?

এইক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা আসলে দিনের শেষে ঐ লোকটা আপনার জন্য খারাপ যে কিনা ওখানে শৃঙ্খলা রক্ষার দাযিত্বে আছে। আপনি আপনার ভালোর চিন্তা করছেন। লোকটাকে তার পেশাদারীত্বের শতভাগ দেয়ার চিন্তা করতে হচ্ছে হোক সেটা ওয়াচম্যানের কাজ।

এই যে আবেগের বশবর্তী হয়ে নানান অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে তাতে দোষত্রুটি বিচারের জন্য কোন নিয়ম তো নেই।এইক্ষেত্রে আইন বা প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সবসময় জনসমর্থন বা শক্তিমত্তার বিষয়টা নিয়ে ধাবিত হই।

তাছাড়া দিনশেষে পেশাদারীত্বের দোষ-ত্রুটি বা একটা ভিক্টিমের পরিণতি যা হওয়ার তা হলেও একটা অপরাধপ্রবণতার চর্চা নিয়ত চর্চাধীন রয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থী হওয়ায় বিষয়টা নিয়ে মিডিয়ায় বেশ তোলপাড় হয়েছে। এইক্ষেত্রে প্রশাসনের তো কোন সুনির্দিষ্ট হস্তক্ষেপের সংস্কৃতি আমাদের দেশে হলো না। এ ঘটনাগুলো ভাসমান মেঘের মতো হারিয়ে যায়।

এখন সময় হয়েছে সুনির্দিষ্ট তত্ত্বাবধানের আলোকে এই বিষয় বা ঘটনার প্রেক্ষিতে একটা যুগোপযোগী আইন প্রণয়ণ ও তার বাস্তবায়ন করা । এতে করে প্রশাসনসহ সর্বস্তরের লোকের টনক নড়বে যাতে করে বারবার কোন অপ্রীতিকর ঘটনা পেশাদার লোকগুলোর মাঝে কোন উৎকন্ঠা যেমন তৈরি করবে না তেমনি জবাবদিহিতার একটা সংস্কৃতি তৈরি হবে। এতে উভয়পক্ষ সোচ্চার হবে।

আমরা দিনদিন আত্মস্বার্থবাদী হয়ে যাচ্ছি। সবসময়ই নিজের বিষয়টাকে প্রাধান্য দিয়ে ‍আসছি। এটা অনুধাবনের বিষয় আপনি যখন অনুধাবন করবেন পরে ধীরে ধীরে চর্চাও করবেন।

একটা বিষয় শেয়ার করি প্রতিদিন নিজের কাজে শহরে লেগুনায় করে যাতায়াত করি। এখনকার বেশির ভাগ লেগুনাতে হেলপার থাকে না,যাত্রীদের ভাড়া নেয়ার কাজটা ড্রাইভার করে।এই সময়টুকুতে যাত্রীরা চিৎকার চেঁচামেছি করে তাকে শাসায়। ভাড়া আদায়ের সময়টুকুন দিতে রাজি নয়। সারাদিনের পরিশ্রমের সকল উপযোগিতা যেমন ভাল-মন্দ ড্রাইভারকে ভোগ করতে হবে। এটা আমাদের আত্মস্বার্থবাদী হওয়ার সামান্য নমুনামাত্র।

আসুন আমরা সকাল পেশাজীবির প্রতি সম্মানটুকু দেয়ার চেষ্টা করি।যেখানটায় হয়তো ভাল কিছুর শুরু হবে।একটা সময় সেবাপ্রদানকারী আর গ্রহণকারীর মধ্যে দুরত্বটুকু কমে যাবে।এমনই আশাবাদ ব্যক্ত করতে পারি।

উপহার যখন গলার কাঁটা হয়ে বিধে

Now Reading
উপহার যখন গলার কাঁটা হয়ে বিধে

সামাজিক প্রেক্ষাপটে আমরা পরিবারতন্ত্রের বেড়াজালে বেড়ে উঠছি। পরিবারের বাইরে গিয়ে মানুষের শিক্ষণীয় প্রতিটি কৃষ্টি কালচার আমরা সমাজ আর বাস্তবতা হতে শিখছি। উপনিবেশ কালে যখন সামাজিক প্রেক্ষাপট আজকের মত বন্ধুর ছিল না, তখন মানুষের কাছে সম্পদ আর প্রাচুর্যে ভরপুর ছিল।একে অপরকে খুশি বা আনন্দের ছলে উপহার দেয়ার রেওয়াজ মূলত তখন থেকেই চর্চা হয়ে আসছে। এই যে পারিবারিক চর্চা বা প্রথা তা একটা সময় সামাজিক রীতি হয়ে যায়। সমাজ বা রাষ্ট্রের অধীন নীতিনির্ধারকরা  নিয়মকে পরিমার্জিত করে সময়ের সাথে এইসব পদ্ধতিকে করেছে বহুমাত্রিক। উপহার বা উপটৌকনের যে সংস্কৃতি তার সাথে ধর্মীয় প্রেক্ষাপট আর মানবিক মুল্যবোধ গুলো জড়িয়ে বিষয়টা যেন আরো জটিল হয়ে পড়েছে। এই পরিচালিত সংস্কৃতি আর কার্যাবলির প্রেক্ষাপট হিসেবে দাঁড়ায় পৌরণিক বিশ্বাস আর ভাবধারাগুলো।

পরবর্তিত ভাবধারা আর সমাজ ব্যবস্থার আলোকে এখন এই উপহারের যে সংস্কৃতি তাই যেন সমাজের জন্য অলিখিত নিয়ম হয়ে দাড়িয়েছে। অর্থনৈতিক অবকাঠামোর প্রেক্ষিতে সমাজে মোটামুটি তিনস্তরের মানুষের বসবাস আছে।

সামাজিক কার্যাবলির অংশ হিসেবে বিয়ে একটি সামাজিক চুক্তি বলা যায়।এখানে নরনারী একে অপরের সাথে সর্বসম্মতভাবে বৈধ উপায়ে বসবাসের অধিকার লাভ করে।সমাজে বসবাসরত মানুষ এই প্রথাকে একসময়ে একে অপরকে কাবু করার হাতিয়ার করে নিয়েছে। ইসলাম ধর্মের পাশাপাশি প্রচলিত অন্য ধর্মব্যবস্থায় সমাজ সংস্কারকরা সময়ের সাথে উপটৌকন দেয়ার প্রথাকে মিলিয়ে নিয়েছে। এই যৌতুকের প্রথাই যেন এখন বিয়ের একটা সম্পূরক অংশ বলে বিবেচিত হয়।

রাষ্ট্র এবং সমাজের প্রেক্ষাপটে আমরা এই যৌতুকের ভিন্ন দৃশ্যপট দেখতে পাই। রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে অঞ্চলভেদে তা আবার বহুমাত্রিক।এই বহুমাত্রিক ঘটনার প্রতিক্রিয়াও  বেশ জটিল বলা চলে।আমরা প্রতিদিনকার পত্রিকায় অন্তত একটা না একটা নৃশংসতার খবর ছাপতে দেখি যেখানে নেপথ্যে ছিল যৌতুকের মত অভিশপ্ত প্রথা।সমাজে প্রচলিত ধারার মধ্যে বহুল প্রচলিত বিয়ের রীতি বা প্রথা হল সর্বসম্মতভাবে বিয়ের আয়োজন বা এ্যারেঞ্জ ম্যারেজ। এই সর্বসম্মত পদ্ধতিতে কোন অংশে কনে পক্ষকে ছাড় দেয়া হয় বলে মনে হয় না। এখনও মানুষ এই যৌতুককে নিজের প্রাপ্য অধিকার বলে মনে করে। ধর্মীয় প্রেক্ষাপটে বিয়ের রীতিতে নারীর সুরক্ষা বা নিশ্চয়তা বিধানের জন্য কাবিন করার যে পন্থা তার সাথে আলাদাভাবে যৌতুককে মিলিয়ে বিষয়টাকে জটিল করে রেখেছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে একজন নিম্নবিত্ত পরিবারের প্রতিনিধির তার সামাজিক অবস্থান হতে বিয়ের জন্য যে খরচ পড়ে তা আনুমানিক ২-৩ লাখ পড়বে। তবে এই খরচ নিতান্তপক্ষে বলা হয়েছে। একইভাবে মধ্যবিত্ত কোন পরিবার তার বিয়ের জন্য সর্বোচ্চ খরচ করার যে গন্ডি তা ৫ লাখের উর্ধ্বে যায়। সমাজে উচ্চবিত্তদের এই খরচের যে বাহার তা তার ইচ্ছানুযায়ী করে থাকে কেননা তা অবশ্য ১০ লাখের উর্ধ্বে চলে যায়।এখন দেশের যে অবকাঠামো সে অনুযায়ী এই ক্যাটাগরিতে অর্থ খরচ করার সামর্থ্য কয়জনের আছে তা দেখার বিষয়। আপনি এই যে খরচের কাঠামো দেখছেন তা বরাবরই অনুমেয় কিন্তু এই খরচ যদি চট্টগ্রামের প্রেক্ষিতে চিন্তা করেন তা অবশ্যই দ্বিগুণ করে ধরতে হবে।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটা অভিজ্ঞতা শেয়ার করি একজন আত্মীয়ের মেয়ের বিয়ে বরপক্ষের ফরমায়েশ তিনি পূরণ করতে সমর্থ নন।অপরদিকে ছেলে নাকি ভাল তাই মেয়েকে তার হাতে দিতে চাই যেন একটু নির্ভার থাকা যায়। এখানে প্রশ্ন আসে যে ছেলে বাবা-মায়ের সিদ্ধান্তের বাইরে এসে যৌতুক নিবে না এমন সাহসী একটা পদক্ষেপ নিতে পারে না সে কোন অর্থে ভাল তা যাচাইযোগ্য। এখনো আমরা মেয়েদের স্বাবলম্বী করার চেয়ে বরং অন্যের কাছে গছিয়ে দেয়ার মানসিকতা পোষণ করি। এটা চরম ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছু নয় । আত্মীয়ের সেই বিয়েতে যথারীতি সাহায্য করতে হল এখানে হাত-পা বাঁধা।

একই দিকে এক বড়লোক বাবার আহ্লাদী কান্ড দেখলাম উনি ঘোষণা দিয়ে অযাচিত খরচ করেছেন কেননা উনার মেয়েকে উচ্চশিক্ষিত করেছেন। তারপরও তিনি কোন ছেলে যদি ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার পেশার লোক পান তবে যথেচ্ছভাবে খরচ করবেন।যথারীতি করেছেন।পাশাপাশি অন্যদেরও দেখিয়েছেন যে কিভাবে স্বাভাবিক খরচকে অস্বাভাবিক করে এটাকে গলার কাঁটা বানানো যায়। এই ধরনের ঘটনা হারহামেশাই ঘটছে সমাজে । এই কাজগুলোর বেসামাল গতি থামানোর জন্য কোর সীমারেখা না থাকায় তা দিনেদিনে লাগামহীন হয়ে যাচ্ছে।আপনি ক্ষুদ্র পরিসরে সংস্কারী হওয়ার চিন্তা করলেন তবে সমাজ বা বাস্তবতা আপনাকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিবে ওটা ছিল নাকি আপনার অপরাগতা।

সেদিন আমার একবন্ধু গলা ফাটিয়ে বলল সে নাকি বিয়ের সময় একটা অতিরিক্ত জিনিস নেয় নি যাকে যৌতুক বলা যাবে। এটাকে শাবাসী দেয়া যায়।

মূলত প্রচলিত মতবাদের অপব্যাখায় এখনকার সমাজে যৌতুককে একটা ভিন্ন মাত্রার প্রথা বানিয়েছে যা কিনা কোন ক্ষেত্রে বিলাসীতার পর্যায়ে পড়ে আবার কোথাও তা চরম মাত্রায় প্রহসনের পর্যায়ে পড়ে।

সম্প্রতি দেখলাম যৌতুকের বলি যে হচ্ছে তাদের কোন গন্ডি নেই নিম্নবিত্তের মেয়ে যেমন শিকার হচ্ছে তেমনি উচ্চবিত্তের মেয়েরা এই ধরনের আক্রোশ থেকে রেহাই পাচ্ছে না। প্রাইভেট কার যৌতুক হিসেবে না পাওয়ায় মনীষা নামে এক মেয়ের জীবন নিতে কুন্ঠাবোধ করে নি পাষন্ড স্বামী। অথচ এই স্বামীর কাছে পরম বিশ্বাসে মেয়েকে দিয়েছিল বাবা-মা। উপহার বা যৌতুকের যে প্রথা তার প্রতি মানুষের প্রবণতা বেড়েই চলছে।লোভ বা কোন কিছু বাড়তি পাওয়ার যে আকাংখা তা স্বভাবজাত এই স্বাভাবিক চাহিদা যখন লিপ্সা হয়ে যায় তা সামাজিক অপরাধ হিসেবে পরিগণিত হয়।

সময় এসেছে সোচ্চার হওয়ার কেননা যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে আমাদের সামাজিক রীতিনীতিগুলো নিয়ে আরো বেশি ভাবা উচিত। এমন কোন প্রথা প্রচলিত থাকা উচিত না যেটা কিনা পরোক্ষভাবে মানব হন্তারক।গ্রাম বা শহরের প্রতিটি প্রত্যন্ত অঞ্চল হতে শুরু করে দালানকোঠায় এই যৌতুকের কালো থাবা বিস্তার করে আছে। এখন দেশের আনাচে কানাচে প্রতিনিয়ত হাজারো মেয়ে আড়ালে অগোচরে প্রতিনিয়ত এই যৌতুকের মত অভিশপ্ত কর্মকান্ডের প্রতিক্রিয়ার শিকার হচ্ছে। এইসব ঘটনার কয়টায় বড়জোর খবরের শিরোনাম হচ্ছে বা লোকচক্ষুর সামনে আসেছ।মূলত এই পন্থা বা রীতি সমাজকে অক্টোপাসের মতো করে ঘিরে রেখেছে আপনি চাইলেও সহসা বের হতে পারবেন না। আপনাকে এই বেড়াজাল ভাঙ্গার চেষ্টা তো করতে হবে।

এই অযাচিত একটা পদ্ধতি যার দ্বারা আমরা অকালে যেমন মায়ের কোল খালি হতে  দেখছি, তেমনি কারো আদরের বোনকে হারিয়ে বসছি,কোনক্ষেত্রে কোন শিশুর মাকে কেড়ে নিচ্ছে। এই প্রতিটা ঘটনার জন্য সামাজিক রীতির বেপোরোয়া আগ্রাসন দায়ী।

আসুন আমরা সবাই সোচ্চার হয় এই যৌতুকের বিরুদ্ধে। সামাজিক প্রথা হিসেবে চালু হওয়া এই উপহারের সংস্কৃতি যেন আমাদের গলার কাঁটা হয়ে না বিধে।

বিয়ে হোক কেবলই সামাজিক অধিকার যেখানে থাকবে না কোন দাসত্বের বেড়ি বা স্বার্থের শীতল যুদ্ধ। যা বাস্তবিক সামাজিক বা মানসিক অগ্রগতি দুটোর জন্য দায়ী বলা চলে।

A Race To GPA5

Now Reading
A Race To GPA5

একবিংশ শতাব্দীর এসময়ে এসে একটা দেশ ও জাতির কল্যাণের অন্যতম মাধ্যম যেমন শিক্ষা তেমনি উন্নতির অন্তরায় এই শিক্ষার স্বল্পতা।কোন দেশের ধারণক্ষমতার বাইরের জনগণ যখন তার উপযোগিতা দেশ বা সমাজের কল্যাণে দিতে পারেনা,তখনই এই জনসমষ্টি উপযোগহীন বোঝা বনে যায়।আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটে সভ্যতার উন্নয়নের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের চলতে হলে অবশ্যই যুগোপযোগী শিক্ষাপদ্ধতি দরকার।নেপোলিয়নের এক বিখ্যাত উক্তি আছে যেখানে আমরা উপজীব্য হিসেবে পাই —একজন শিক্ষিত মা শিক্ষিত জাতি গঠনের রুপকার হতে পারেন।এই পদ্ধতির সফল বাস্তবায়ন বা তার উপযোগিতা পেতে একটা দীর্ঘমেয়াদী শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ জরুরী নারীদের জন্য যারা কিনা ভবিষ্যতে আগত প্রজন্মের ধারক হিসেবে বিবেচ্য হবে।সরকার বা তৎসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই কাজে যথেষ্ট অগ্রগতি সাধন করেছে কেননা এখন আমরা প্রতিটা ঘরে একজন স্বশিক্ষিত মায়ের ‍উপস্থিতি লক্ষ্য করতে পারছি।এই বিষয়টা আমাদের উন্নয়ন ধাপে এগিয় যাওয়ার একটা সবুজ সংকেত বটে।আমাদের সময়ে মায়েদের গন্ডি অনেক সীমাবদ্ধ ছিল কেননা চাইলেও তাঁরা আমাদেরকে শিক্ষা বিষয়ে উপযুক্ত নির্দেশনা দিতে পারতো না,এই বিষয়টা অধিকাংশ ক্ষেত্রে হতো কেননা আমাদের মায়েরা সময়ের পরিবর্তনের সাথে নিজেদের তেমনভাবে মেলে ধরতে পারে নি।

এই যুগের মায়েরা তাদের কোমলমতি সন্তানের সাথে একটা অলিখিত যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে যায়।অনেকাংশে দেখা যায় সন্তানের চেয়ে মা-বাবারা আরো বেশি সোচ্চার।এই যত্নের বাহ্যিকতা তার কারণে কোমলমতি শিশুর সক্ষমতা অবশ্য ঢাকা পড়ে।

৯০দশকে বেড়ে উঠা শিক্ষার্থীরা অনেকটা ভাগ্যবান কেননা তাঁরা এই ধরনের প্রতিযোগিতার আঁছ গায়ে লাগার আগে নিজেকে অনেকটা গুছিয়ে নিয়েছে।

১৯৯১-২০০০ এইসময়  শিক্ষা ব্যবস্থায় অগ্রগতি বা শিক্ষার্থীর যে সফলতা তা নিছক তার একান্ত অভীষ্ট লক্ষ্য ছিল।এখানে বাবা-মা কেবল শুভাকাঙ্খী ছিল বটে।আধুনিকতার মোড়কে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার বাহন যখন একমাত্র শিক্ষা তখনই কোন এক অজানা কারণে এই লেখাপড়াসংক্রান্ত যাবতীয় সফলতার কৃতিত্ব আমাদের আধুনিক বাবা মায়েরা তাদের আত্মসম্মানের বাহন হিসেবে নিয়ে নিয়েছে। লেখাপড়ায় আমরা শিক্ষার্থীদের সক্ষমতাকে গৌণ করে দেখতে শুরু করলাম।এইসকল শিক্ষার্থীদের যাবতীয় সফলতার ছো্ট-বড় যেকোন পদক্ষেপ বাবা মায়ের আত্মমর্যাদার মুকুটে যুক্ত হওয়ার একেকটা পালক।

এবিষয়টা কারো ইচ্ছা বা অনিচ্ছাস্বত্ত্বে জনপ্রিয় হয়ে গেল।আমরা জাতি হিসেবে অণুকরণের সংস্কৃতির সুনিপুণ একটা গুণ আমাদের মধ্যে বিদ্যমান।আমাদের সন্তানের সামনে একটা লক্ষ্যমাত্রা দাঁড় করিয়ে দিয়ে তাদের একটা ম্যারাথনে নামিয়ে দিই।এই সময়ে ছেলেমেয়ের প্রতি ভালবাসার চেয়ে নিজের সমাজে ছেলেমেয়ের গুণকীর্তি নিয়ে দম্ভ করাই যেন মুখ্য হয়ে দাঁড়াই।

কোন কোন ক্ষেত্রে বাবা-মা ছেলের সক্ষমতার বাইরে গিয়ে ক্যারিয়ার নিয়ে এমন বিবেচকের মত সিদ্ধান্ত দেয় যা কিনা চরম বিব্রতকর।এই ক্ষেত্রে দেখা যায় শিক্ষার্থীরা যারপরণাই বিব্রত হয়,একটা সময় তারা নিজেদের ট্র্যাকে থাকতে পারে না ফলাফল ক্যারিয়ার নিয়ে একটা অগোছালো অবস্থার মধ্যে পড়ে।

বর্তমান সময়ে ছেলেমেয়ের উপর প্রথম তোপ শুরু হয় যখন সে কোন স্কুলে ভর্তি হবে তখনই তাকে একটা আর্দশ স্কুলে ভর্তি হতে হবে।শিক্ষার্থীর মানদন্ড নির্ধারণে স্কুল বড় একটা প্রভাবক! এটাই নীতিনির্ধারকরা আমাদের জন্য বেঁধে দিয়েছেন।এই স্নায়ুযুদ্ধের পরপরই যখনই একটু নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে প্রাথমিকের পাঠ শেষ করবে তখনই তার সামনে হাজির হয় যোগ্যতা প্রমাণের বিশাল মঞ্চ যা কিনা প্রাথমিক শিক্ষা সমাপণী পরীক্ষা নামে পরিচিত।এই পরীক্ষায় আপনি কোনভাবে উতরে গেলে চলবে না কেননা এখানে মার্কশীটের পাশে দেখতে চাই জিপিএ 5। অভিভাবক মহলে সব বিষয়ে আশির উপরে নম্বর নিয়ে আসা শিক্ষার্থীরা গোল্ডেন জিপিএ র সম্মানে ভূষিত হন।এই বিষয়ে খোদ কর্তৃপক্ষ অবগত নই এমনও একটা গ্রেডিং যে থাকতে পারে,ভাবা যায় প্রতিযোগিতা কোথায় গিয়ে ঠেকছে।

প্রচলিত আছে বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছেলেমেয়ে পূরণ করবে এটাই স্বাভাবিক তবে এই স্বপ্নে ছেলের সক্ষমতার বিষয়টা গৌণ করে দেখা কোন অংশে শোভা পায় না।বাবা-মা তাদের স্বপ্নযাত্রায় সফল হতে ঘোড়সওয়ারী করে তাদের সন্তানকে ক্ষেত্রবিশেষে একটা মানসিক চাপে পরিণত হয় সন্তানের জন্য।

এখন মানুষ সবকিছুতে দ্রুততার সাথে সফলতা চাই তাই কোন একটা পদক্ষেপ হেলায় ছাড়তে রাজি না।আধুনিক মায়েদের একটা প্রবণতা যা কিনা সন্তানকে সব্যসাচী হতে হবে এটা একটা মনস্তাত্বিক চাপ বলা যায়।

আমরা বলিউডের হিট ছবি রাজকুমার হিরানি পরিচালিত থ্রি-ইডিয়টস কম বেশি সবাই দেখেছি যেখানে জন্মের সাথে সাথে ছেলের ক্যারিয়ার নির্ধারণ করে দিচ্ছে এমনটাই হচ্ছে আমাদের সমাজে।পরিবারের বাইরে গিয়ে সমাজের লোকজনও একজন নিতান্ত পক্ষে উপযোগিতা খুঁজতে কুন্ঠাবোধ করেনা।আপনি যখন জেএসসির গন্ডি পেরিয়ে এসএসসিতে এসে ভর্তি হবেন তখন বিষয় বা গ্রুপ নির্ধারণে কৌশলী হতেই হবে।আপনি এই স্টেজে চাইলে বিজ্ঞান,ব্যবসায় শিক্ষা বা মানবিক বিষয়ে কোন উদ্দেশ্য ছাড়া পড়তে পারবেন না।প্রকৃতপক্ষে লেখাপড়ার উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন কেননা এখানে জানা বা নিজেকে প্রভাবিত করাটা মুখ্য না আপনি বিজ্ঞান বিষয়ে পড়ালেখা করবেন অদূর ভবিষ্যতে আপনাকে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতেই হবে।আবার ব্যবসায় শিক্ষা নিয়ে পড়লেন যেখানে বিবিএ বা এমবিএ পড়াটা মুখ্য উদ্দেশ্য নয়তো আপনি ব্যর্থ আবার মানবিকে পড়ে আপনি পিছিয়ে থাকবেন কেন আপনাকে এলএলবির মতো বিষয়ে পড়তে হবে।

আপনার সক্ষমতা অনুযায়ী গ্রুপ নির্ধারণ আপনাকে প্রকারান্তরে একটা লম্বা দৌড়ের ট্র্যাকে নিয়ে যাচ্ছে।

বলিউডের প্রখ্যাত নির্মাতা রাজকুমার হিরানী তাঁর এক সাক্ষাতকারে বলেছিল থ্রি-ইডিয়টসের সফলতার পর অনেক প্রতিষ্ঠিত লোক এসে তাঁর কাছে আবার পরামর্শ চেয়েছে যারা কিনা এখন যে স্টেজে সফল সেখানে তাঁরা তৃপ্ত না।একটা অতৃপ্তির ঢেঁকুর প্রতিনিয়ত তাঁদের গিলতে হচ্ছে কেননা যখন তাদের গতিপথ নির্ধারণ করছিল তখন তারা সুযোগটা পাই নি।আমাদের বর্তমান সময়ে তদ্রুপ ঘটনা বা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি প্রতিনিয়ত হচ্ছে।একটা উদাহরণ টানা যেতে পারে — সরকারের শীর্ষস্থানীয় একজন কর্মকর্তা যিনি সচিব পদমর্যাদার অধিকারী তিনি এই বয়সে এসে বইমেলায় বই প্রকাশের পর আত্মতৃপ্তিতে ভোগেন।এই যে সাহিত্যকর্ম এই বিষয়ে একটা অনুরাগ উনার ছিল তাই যতক্ষণ না তা সম্পন্ন করতে পারছে না ততক্ষণ নিজের সাথে একটা অর্ন্তদ্বন্ধ ছিল বটে।

উচ্চ মাধ্যমিকের পর উচ্চশিক্ষার জন্য অনেকে স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় নিজের স্বপ্নকে বলি দেয়,তাদের তখন সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ দেয়া হয় না বরং মতামতের কোন গুরুত্ব দেয়া হয় না অধিকাংশ ক্ষেত্রে।এই বিষয়টা দীর্ঘমেয়াদে একটা খারাপ পরিণতি ডেকে আনে। একজন ভাল শিল্পীসত্তার শিক্ষার্থী যদি কখনো প্রশাসনের কোন উচ্চপদে আসীন হয় তবে তার কাছে আমরা উপযোগিতার সর্বোচ্চ বিন্দু আশা করব সমীচিন নয়।

আমার এক পরিচিত এইচ.এস.সি পরীক্ষার্থী যে কিনা পরীক্ষা দেয়ার পর এখন প্রতিনিয়ত উৎকন্ঠায় ভুগছে কেননা তার সামনে দুটো লক্ষ্যমাত্রা ছুঁড়ে দেয়া হয়েছে কেননা তাকে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হবে।পাশাপাশি তার একাডেমিক লেখাপড়ার বাইরে একটা গুণ আছে যে কিনা ভাল আঁকতে পারে।অদূর ভবিষ্যতে এই বিষয়ে স্বতন্ত্র ক্যারিয়ার গড়তে চাই যেটা কিনা তার ভালবাসার জায়গা জুড়ে আছে।এই কাজটা করতে তার ভাল লাগে ।তাই এই শিল্পীসত্তাকে বাঁচিয়ে রাখা বা তার ভাললাগাকে প্রাধান্য দিয়ে তাঁকে একজন শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবারের এগিয়ে আসা উচিত।এই মুহুর্তে তার সবচেয়ে ভরসার মানুষ হবে তাঁরা।এই শিক্ষার্থী স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না,তার মনে শংকা ঢুকে গেছে যা তাকে রীতিমতো একটা দ্বন্ধের মধ্যে রেখেছে।পারিপার্শ্বিক লোকজন,আত্মীয় স্বজনের ভাষ্য ব্যবসায় শিক্ষায় পড়ালেখা করে তুমি যদি বিবিএ বা এমবিএ না কর তবে এই জীবন তো ষোলআনাই বৃথা।

এই চিত্র একটা পরিবারের হলেও সার্বিকভাবে এমন একটা অর্ন্তদ্বন্ধের মাঝে সবাইকে যেতে হই।অভিভাবকের অভীষ্ঠ লক্ষ্য সোনার হরিণ রুপী সেই জিপিএ 5 ।এই মানসিকতা বা প্রতিযোগিতা হতে সরে এসে নিজেদের স্বীয় গুণাবলির আলোকে একটা ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলা দরকার যা কিনা ভবিষ্যতের বুনিয়াদ হবে বর্তমানকে সমৃদ্ধ করবে।