3
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

বিবেকহীন বোধ, ক্ষত-বিক্ষত দেহ

Now Reading
বিবেকহীন বোধ, ক্ষত-বিক্ষত দেহ

সত্যি বলতে কি এমন একটা বিষয় নিয়ে লিখছি যেটা কখনই ভাবিনি এমনটার অবতারণা হতে পারে।

ইদানিং কালে সমাজে যৌনতার প্রকোপ এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে যা  অন্যসময়ের চেয়ে তা মাত্রারিক্ত। তবে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে পূর্বের যেকোন সময়ের চেয়ে এর ভয়াবহতা বেড়েছে বহুগুণ। চারিদিকে যেন নরপশুদের উন্মত্ত প্রতিযোগিতা! কিশোরী থেকে বাচ্চা পর্যন্ত কেউ যেন এই ভয়াল থাবা থেকে নিস্তার পাচ্ছে না। অনেকক্ষণ ঘুরে ফিরে একটা শব্দ লিখতে চাচ্ছি কিন্তু কেন জানি সাহস পাচ্ছিনা। সত্যি বলতে কি এত কঠিন এবং খারাপ শব্দ ব্যাবহার করে লিখতে মন সায় দিচ্ছিলনা, কিন্তু সামাজিক দায়বদ্ধতা উপলব্দি থেকে লিখছি।

সামাজিক  যোগাযোগ মাধ্যম এবং দেশের অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমে এই জঘন্য বিষয়টি বারবার ঘুরে ফিরে আসছে। আর তা হল ধর্ষণ। মানুষের বিবেক বুদ্ধি ও জ্ঞান যখন লোপ পায় তখন সে অদমের চাইতেও খারাপ। আর এই অদম অমানুষ গুলি সমাজের রন্দ্রে রন্দ্রে তাদের বিষ বাস্প ছড়িয়ে সমাজকে কলঙ্কিত করতে কুণ্ঠাবোধ করছেনা ইদানীং। ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন অসহায় নারী কিংবা শিশুকে জোড় পূর্বক যৌন নির্যাতন করাকেই আমরা ধর্ষণ বলে থাকি। এখনতো ধর্ষণ এর সাথে আরেকটি বাস্তবতার রুপ দিয়েছে পাষণ্ড নরপশুরা, আর তা হল হত্যা। ধর্ষণ পরবর্তী প্রমাণ মুছে দিতে হয়ত তাদের এই হিংস্রতা।

দিনদিন  আমরা কিসের দিকে ধাবিত হচ্ছি? বাংলাদেশ যখন মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নীত হয়ে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে, তখন সমাজের কিছু হীন মানুষ এখনো আইয়ামে জাহেলিয়ার মতাদর্শে নিজেদের সীমাবদ্ধ রেখেছে। আইয়ামে জাহেলিয়ার অর্থ হচ্ছে অন্ধকার যুগ বা কুসংস্কারাচ্ছন্ন যুগ। এ যুগে সাধারণত আরবগণ স্বভাব ও চরিত্রের দিক থেকে অজ্ঞতা ও মূর্খতার চরম অন্ধকারে নিমজ্জিত থেকে যথেষ্ট বর্বর ছিল। কিন্তু এখনতো সেসময় আর নেই? তবে কেন এই নর পশুদের তাণ্ডব ও পাশবিকতা সে সময়কার মত?  

এমনি কিছু ঘটনার মধ্যে কিছু কিছু ঘটনা মানুষের মনকে মারাত্মক নাড়া দিয়েছে। জাগ্রত করেছে বিবেক এর কাছে প্রশ্ন। প্রকাশ্য বা  অপ্রকাশ্য অসংখ্য ঘটনার মাঝে সাম্প্রতিক দু-একটি ঘটনা পূর্বের অনেক ঘটনাকে ছাপিয়ে গেছে। তেমনি কয়েকটির মধ্যে- গত ১৭ই মার্চ হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার একটা হাওরে এক কিশোরীর ক্ষত-বিক্ষত নিথরদেহ সবুজ ঘাসের উপর পড়ে থাকার ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। চারিদিকে উঠেছে নিন্দার ঝড়, সকলেই পুলিশের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করছেনা তারা। ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করার পর হত্যা করা হয়েছে। কিশোরীর বাবা সায়েদ আলীর বক্তব্য, সপ্তাহ দুয়েক আগে ৪ঠা মার্চ আদালতে মামলা করেছিলেন।  সেই মামলায় তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ মহিলা সদস্য কলম চাঁন বিবির পুত্র বাবুল মিয়াকে প্রধান অভিযুক্ত করে তাঁর মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ আনেন। মামলা পরবর্তীতে অভিযুক্ত যুবকের হুমকির কারণে তিনি মেয়েকে নানার বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন কিন্তু বাঁচাতে আর পারেননি। মার্চের শুরুতে ধর্ষণের অভিযোগে কিশোরীর বাবা যে মামলা করেন, তার এজাহারে বলা হয়- গত ২১শে জানুয়ারি তার ১৬ বছরের মেয়ে বিউটি আক্তারকে প্রতিবেশী যুবক বাবুল মিয়া অপহরণ করে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ করে। ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে সালিশ সহ বিভিন্নভাবে সমাধানের চেষ্টা করে সময়-ক্ষেপণ করা হয়েছে। মামলা করলেও গ্রামে এই মেম্বারের প্রভাবের কারণে প্রথমে তাদের সাহায্যে কেউ এগিয়ে আসেনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ধর্ষণের মামলার পর পুলিশ সেভাবে তৎপর ছিল না। মেয়েটির বাবা সায়েদ আলী ঠেলাগাড়ি চালিয়ে সংসার চালান অন্যদিকে অভিযুক্ত যুবকের মা ইউপি সদস্য হওয়ায় কিশোরীর পরিবারটি তুলনামূলক অসহায়। তাই তারা সঠিক বিচার পায়নি, এদিকে সেই হতভাগা তরুণীর ক্ষত-বিক্ষত মৃতদেহের সেই ছবি সোশ্যাল নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় প্রশাসন নরেচড়ে বসে। তবে হবিগঞ্জ পুলিশ সুপারের বক্তব্য, ধর্ষণ মামলা সরাসরি পুলিশের কাছে হয়নি, এ বিষয়ে মামলা হয়েছে আদালতে। আদালত থেকে মামলা থানায় আসার পরই তারা তৎপর থেকে অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্তের মা সেই ইউপি মেম্বার সহ দু’জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে কিন্তু প্রধান অভিযুক্ত বাবুল মিয়া পলাতক রয়েছে। বাবুল মিয়াকে গ্রেফতারের জন্য ডিবিসহ পুলিশে সব ইউনিট কাজ করছে। এদিকে ধর্ষণের অভিযোগের ব্যাপারে ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছিল, মেয়েটির মৃতদেহ পওয়ার পরদিন ১৮ই মার্চ। হতভাগ্য মেয়েটির বাবা তাঁর মেয়েকে ধর্ষণ এবং হত্যার ঘটনার দ্রুত বিচার দাবী করেন।

এদিকে এই ঘটনার কিছুদিন পূর্বের আরেকটি জঘন্য ঘটনাতেও  হতবাক হয়েছে সকলে। গত ৫মার্চ জন্মদাতা বাবা কর্তৃক ঔরসজাত মেয়ে ধর্ষণ হয়েছে কক্সবাজার জেলার মহেশখালীতে। মা মারা যাওয়া ১৪ বছর বয়সী মেয়েকে স্থানীয় এক ব্যক্তির সাথে বিয়ে দিলেও স্বামীর সাথে তার সংসার করতে বাঁধা দেয়। ঔরসজাত মেয়েকে নিজের বাড়িতে রেখে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন মিলনে লিপ্ত হয়। এমনকি কক্সবাজার শহরে বেড়াতে নিয়ে গিয়েও রাতে বোর্ডিঙয়ে তাকে জোড়পূর্বক এই জঘন্য কর্মকাণ্ডটি করে। কক্সবাজার থেকে বাড়ি ফিরে মেয়েটি স্থানীয় লোকজন ও প্রতিবেশী নারীদের  বিষয়টি জানায়। পুলিশের কাছে নির্যাতিত মেয়েটির অভিযোগ, তার বুকে চুরি ধরে, ভয় দেখিয়ে নিয়মিত যৌন নির্যাতন করত তার বাবা। কখনো পানের বরজে, কখনোবা গরুর গোয়াল ঘরে, কখনো নিজ বাড়িতেই তাকে ধর্ষণ করত তার বাবা। ধর্ষিত মেয়েটির একটি কন্যা সন্তানও আছে যাকে ভরণ পোষণের অভাবে সে অন্যের কাছে দত্তক দেয়। পূর্বের ন্যায় শারীরিক নির্যাতনের চেষ্টা করলে মেয়েটির শোর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তার লম্পট পিতাকে আটক করে স্থানীয় মেম্বারের কাছে হাজির করে এবং পরবর্তীতে মহেশখালী থানার কাছে সোপর্দ করে।

হঠাৎ করেই যেন হিংস্র মানুষরুপী জানোয়ারের সংখ্যা বেড়ে গেছে দেশে।মাত্র ২২ মাস বয়সী একটি শিশুকেও অমানবিকভাবে ধর্ষন করা হয়েছে। ২২ মাস বয়সী একটি অবুজ বাচ্চার কি দোষ ছিল? সমাজের কাছে এর সদুত্তর নেই। এসব ঘটনা লিখতেও ভাল লাগছেনা। শুধু একটাই দাবী এসব মানুষরুপী জানোয়ার লম্পটদের সরাসরি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হউক। অন্যথা সমাজের এই বিষ বাস্প আরো অধিকতরভাবে সংক্রমিত হতে পারে। ধর্ষকরা ছাড় পেয়ে যাচ্ছে বলেই, আরো অনেকেই উৎসাহিত হচ্ছে আর চারিদিকে ঘটছে ধর্ষনের নানান ঘটনা। এমনও হতে পারে অনেক নির্যাতিত আছে যারা লোকচক্ষু ও সামাজের ভয়ে তাদের সাথে ঘটা অমানবিক ঘটনাকে আড়াল করে রাখে। নিরবে নিভৃতে তাদের চোখের জল রক্ত হয়ে বয়।

এখনি সময় প্রতিরোধের। ধর্ষকদের যথাযথ বিচারপূর্বক এমন নজির স্থাপন প্রয়োজন যেন উৎসাহীরা বুঝে এর পরিণতি।

ধর্ষন প্রতিরোধে সমাজে  নানান উদ্যেগ গ্রহন করা যায়ঃ পাড়ায় পাড়ায় স্থানীয় জনগনের সমন্বয়ে টাস্কফোর্স বা মহল্লা কমিটি গঠন করে ধর্ষণসহ নানান অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধ করা। ইভ-টিজিং এ সম্পৃক্তদের সামাজিকভাবে বয়কট ও আইনানুগ শাস্তি নিশ্চিত করা। নারী নির্যাতনের উপযুক্ত প্রমাণ সাপেক্ষে কঠিন সাজার ব্যাবস্থা করা। স্কুল পর্যায় থেকে নারীদের আত্মরক্ষার কৌশন শেখানোর ব্যাবস্থা করাসহ ইত্যাদির মাধ্যমে সামাজিক এই ব্যাধি প্রতিরোধে সকলকে ঐক্যমতের  ভিত্তিতে এগিয়ে এসে সমাধানের পথ বের করা অতীব জরুরী।

জীবনের কালবৈশাখ

Now Reading
জীবনের কালবৈশাখ

#ঝড়

পশ্চিম আকাশটা ঘন কালো রঙের জমাট পিন্ড হতে দেখেই হাতের গতি বেড়ে গেলো ফাহিমার। ঝড় শুরু হওয়ার আগেই পাতাগুলো বস্তায় ভরে শুকনো জায়গা খুজে পৌছুতে হবে নাহলে সারাদিনের এত খাটুনি সব বৃথা!

পাতাগুলো জমানো শেষ, বস্তাটাও প্রায় ভরে এসেছে এমন সময় হাঁপাতে হাঁপাতে দৌড়ে এলো রুহুল। ফাহিমার ছোট সৎ ভাই।

-আফা, মাও জলদি বুলায়। মোক্ পাঠালো, যা তো বুইনা কট্টুক আগালে দ্যাখে আয় গিয়ে। মুই হাঁপাতি হাঁপাতি এলুম,মাগো! কিমুন হাঝ জমি আসিছে আকাশত! জলদি জলদি চলেক্।
দ্রুত শ্বাস নেয়ার ফাঁকে এতগুলো কথা বলে রুহুল আবার হাঁপাতে লাগলো।

ভাইয়ের কথা শুনে ফাহিমা আরো জলদি পাতা ভরা শুরু করলো।

– মরন আমার। মুই যেন বসি বসি ঘাস চিবুচ্চি! এত মুখ না চালাই হাত চালাই সায়াইয্য কর দিকিনি মুর সাথ্।
রুহুলকে কষে একটা ধমক লাগালো ফাহিমা।

মনে মনে গজ গজ করছে ও।
ইহ! নিজে করবার পারলোনা আবার জলদি করি যাবার জন্য তাড়া দেয়া কিসের জন্যি! মুক্ যেনো চাকরানী পেইয়ে গ্যাছেনে তিনি। সৎ মেয়ে বলি এত আলগা দরদ বেইয়ে পরিছে একেবারে।হুহ!

গজ গজ করতে করতে বস্তা ভরা শেষ হলো ফাহিমার। রুহুলকে নিয়ে বস্তাটা মাথায় নিয়ে হাটছে যত দ্রুত সম্ভব। হাটছে আর বার বার আকাশের দিকে সভয়ে দেখছে দুজনেই,না জানি কখন কাল বৈশাখি তার তান্ডব শুরু করে দেয়!

-“জলদি পা চালা ছ্যামড়া।”
রুহুলকে ধমক দিলো ফাহিমা। নিজেও পা দ্রুত করলো। গ্রামের কাঁচা রাস্তায় চলে এসেছে ওরা।
মোয়াজ্জিনকে দেখা যাচ্ছে মসজিদের চালা বাঁধছে গুনা দিয়ে। আগের বারের ঝড়ে চালা উড়ে চলে গিয়েছিলো বল্লা পাড়া গ্রামের আম গাছের উপর! এইবার আবার চালা হারানো চলবেনা মুয়াজ্জিনের।

উঠানে বস্তাটা রাখতেই মুরগীর বাচ্চাগুলো হাতে নিয়ে মা এগিয়ে এলো।

-মাইও রে, গরুডা ছুটি গ্যাছে, ধরি আনতো জলদি করে।

-হ যাচ্চি। কোন দিক গ্যালো?

-পুব দিক।

হনহন করে পুব দিকে হেটে চলেছে ফাহিমা। মার উপর রাগ করেছে। সামান্য একটা গরু ঠিক মতো বেঁধে রাখতে পারলোনা।

-হ সৎ মেইয়ে তো, তাই আবার পাঠালে!

হাটতে হাটতে কলুদের আম বাগানে চলে এসেছে ফাহিমা। গরুটার দেখা নেই এখনো। আকাশটা এখন একদম ঘন কালো কালির রূপ ধরেছে, চারদিক রাতের মতোই আঁধার,বাতাসও থেমে আছে সেই কখন। ভয়ঙ্কর ঝড় আসবে, তারই লক্ষণ।

হঠাৎ ঝড়টা শুরু হলে কি করবে ভেবে চিন্তিত হয়ে বিপন্ন, উদভ্রান্ত চোখে গরুটাকে খুজতে শুরু লাগলো আবার। সামনে আবছা আলোয় একটা ঝোপ নড়ে উঠতে দেখে আস্তে এগিয়ে গেলো ফাহিমা। গরুটা নয়তো? কিছুতেই ভয় পাওয়ানো চলবেনা ওটাকে এখন নয়তো আবার ছুট লাগাবে।

ঝোপটার আরেকটু কাছে যেতেই ওপাশে একটা ছায়া নড়ে ওঠলো। না না, একটা না! তিনটা ছায়া! পেছন থেকেও একটা ছায়া এগিয়ে এসে জাপটে ধরলো ফাহিমার মুখ!
তখনই বিকট শব্দে বাজ পড়লো কাছেই কোথাও।

শো শো শব্দে বাতাস শুরু হলো।
কাল বৈশাখি!
ছিন্ন ভিন্ন করে দিয়ে গেলো সব।
সেই সাথে ফাহিমার জীবনটাও!

সুজাতারা আর ঘরে ফিরবে না…..

Now Reading
সুজাতারা আর ঘরে ফিরবে না…..

-আপু একটা মালা নিবেন? বেলী ফুলের মালা?

মিষ্টি কন্ঠস্বরটায় সামনে তাকিয়ে দেখি দুহাত ভর্তি ফুলের মালা হাতে সামনে একটা মিষ্টি মেয়ে।

-কিরে কি নাম তোর?
-সুজাতা!

মিষ্টি একটা হাসির সাথে জবাব পেয়ে চমকে গেলাম।

-এত সুন্দর নাম কে রাখলো তোর? জানতে চাইলাম আমি।

– “আমার মায় রাকছে।
এক বাড়িত কাম করতো মায়,তার মাইয়ার নাম আছিলো সুজাতা। মায়ে তারে বেবাক আদর করতো। একদিন মায়েরে পিডাইয়া তারা বাগাইয়া দিলো! হের কয়দিন পর আমি আইলাম দুনিয়ায়,মায় নাম রাকলো সুজাতা।”
বিরাট কাহিনী শেষে আবারো সুন্দর একটা মিষ্টি হাসির ঝলক।

 

মেয়েটাকে বেশ ভালো লাগলো। জ্যামে বসে বসে গল্প করে বেশ ভালোই সময়টা কাটলো। জ্যাম ছেড়ে দিলে মালাটা নিয়ে হাতে কিছু নোট গুজে দিলাম। মেয়েটা হাসিমুখে বিদায় দিলো একদম অনেকদিনের চেনা কেও যেনো!

জীবন চলে জীবনের গতিতে। মাঝে মাঝে পিছু থেকে হাতছানি দিয়ে অতীত স্মরন করিয়ে দিয়ে যায় শুধু।

এই জীবন বড্ড বিচিত্র!
প্রচন্ড শীতেও কোম্পানির প্রচারের চিন্তা করতে হয় কর্পোরেট জগতে! শীতের পোশাক বিতরন হবে এয়ারপোর্ট,শেওরা বাজার এলাকায়। মোট কতঘর বিতরন করবো হিসেবের দ্বায়িত্ব এসেছে আমার উপর। দুজনকে সাথে নিয়ে ভর দুপুরে গেলাম শেওড়া বাজারের পাশের বস্তিতে।

হটাৎ একটা পরিচিত মুখ যেনো চোখে পড়লো।

-এই মেয়ে শুনো! কি নাম তোমার? এখানেই থাকো?

একবার মাত্র ঘাড় ফিরিয়ে তাকালো আমার দিকে ও। চোখ বড় বড় করে আমার সাথের দুজনকে দেখলো তারপরই পড়িমরি করে দৌড়! আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি।

পাশের এক মহিলা ফ্যাক ফ্যাক করে হেসে এতক্ষনে কথা বললো!

-আফা, আপনের লগের স্যারগো রে দেইক্ক্যা ডড়াইছে হেল্লাইগ্গ্যা এমনে দৌড়পারছে। বেডা মাইনষেরে ডড়ায়।

-কেনো! কি হয়েছে ওর! কে মেয়েটা?

– “অয় আমগো পারুলের মাইয়্যা সুজাতা। বড় রাস্তায় মালা বেঁচে। গত মাসে একদিন গেলো সকালে ওইট্টা, সারাদিন আর খবর নাই মাইয়্যার!
মাইঝ রাইতে চাইর স্যার আইয়া গাড়িত্তে ফালাই থুইয়া গেলো। সেই থাইক্কা কোনো স্যার ডাকলেই খালি দৌড়পারে।”

সম্পূর্ণ উত্তাপবিহীন কন্ঠে যেনো সংবাদ পাঠ করে গেলো মহিলা! আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম তার দিকে।

– “লোকগুলোকে পুলিসে দিলেননা কেনো ধরে! মেয়েটাকে ডাক্তার ও দেখায়নি ওর মা?”

-“কি কন আফা! ওগোরে পুলিশে দিলে আমরা আর বাইচ্যা থাকুম? এইরকম তো পেরতিক রাইতেই অয়।
আর ডাক্তরে কি করবো? যার যাওয়ার হেয় তো যাইবোই। মাইন্না লওয়া ছাড়া উপায় নাইগো আফা।”

 

যার যাওয়ার সে যাবেই! কি ভয়ানক সহজ সরল স্বীকারোক্তি এদের মুখে!

বেঁচে থাকার জন্য স্বতীত্বের বলী দেয়াটা এতই সহজে মেনে নেয়া!

নাকি রাতের আধারে নিজের সন্তানের জন্যও গুমরে গুমরে কাঁদেন এই উত্তাপহীন কন্ঠেই???

প্রতিদিনের সংবাদে ধর্ষণ : নিয়মিত শিরোনাম

Now Reading
প্রতিদিনের সংবাদে ধর্ষণ : নিয়মিত শিরোনাম

ধর্ষণ। কথাটা আজকাল আমাদের সবার কানে লাগতে লাগতে কান ঝালাপালা হয়ে গেছে। ধর্ষণ কি সেটা হয়তো আমাদের মতো পূর্ণবয়স্কদের বারংবার বলার দরকার নেই। তবুও আরেকবার পরিষ্কার করার জন্য বলি, আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে ধর্ষণ হলো কোনো মেয়ের সম্মতির বিরুদ্ধে জোর করে তার উপর যৌনাচারই হলো ধর্ষণ। ধর্ষণ শুধু একটি অপরাধই নয়, এটি জঘন্য থেকে জঘন্যতর একটি অপরাধ। অন্তত আমার চোখে এটা সবচেয়ে গুরুতর অপরাধ। একটা মেয়ের জীবনের সবচেয়ে বড় কালের নাম এই ধর্ষণ। একটা মেয়ে ছোটবেলা থেকেই কিছু ছোট বড় স্বপ্ন নিয়ে জীবন অতিবাহিত করতে থাকে। তার পরিবারেরও তাকে ঘিরে অনেক স্বপ্ন থাকে। সে বড় হয়ে তার পরিবারের মুখ উঁচু করবে। আর এসব স্বপ্ন ভেস্তে দেওয়ার জন্য এই ভয়ংকর অপরাধ ধর্ষণ যথেষ্ট।
আজকাল টেলিভিশনে কোনো সংবাদের চ্যানেলের শিরোনামে চোখ রাখলেই বিশ শতাংশ শিরোনাম যৌন হয়রানি বা ধর্ষণের। বাকি আশি শতাংশ অন্যান্য। দেখা যায়, এক স্থানে গৃহবধূকে গণধর্ষণ, কোনো স্থানে আবার ছাত্রীকে ধর্ষণ, শিক্ষিকা ধর্ষণ, কিশোরীকে ধর্ষণ, এমনকি দেখা যায়, বৃধাও এরকম পৈশাচিক আচারণের হাত থেকে রক্ষা পায় না। বৃদ্ধার কথা না হয় একটু কম হাইলাইট করছি। কিন্তু সবচেয়ে হতবাক হয়ে যেতে হয় তখন যখন শোনা যায়, দশ বছরের নিচের শিশুদেরও ধর্ষণের শিকার হতে হয়। মুখের ভাষা তখন চোখের পানিতে পরিণত হয়।

আর এখনতো কমবেশি এটাই শুনতে হয় যে নাটোরে বা সিরাজগঞ্জে (কোনো স্থানকে ছোট করার উদ্দেশ্যে বলা হয়নি। উদাহরণ স্বরূপ বলা হয়েছে।) বা যেকোনো স্থানে তিন বছরের শিশু ধর্ষণের শিকার। কিছুদিন আগেই টেলিভিশনে সংবাদে দেখলাম, সাড়ে তিন বছর বয়সের এক বাচ্চাও ধর্ষণের শিকার! তাও ধর্ষকের বয়স আটত্রিশ বছর! তার মেয়ের বয়সের থেকেও কম! কি দোষ ছিলো বাচ্চাটার? কি বোঝে ও? হয়তো কেবল একটু আধটু কথা বলা শিখছে। তাহলে এটাই কি দোষ যে ও মেয়ে হয়ে জন্মগ্রহন করেছে? তাই ওকে ভোগ করতে হবে? সামান্য যৌন ক্ষুধা মেটানোর জন্য এসব জানোয়ারেরা নিজের বাচ্চার বয়সী মেয়েকেও ছাড় দেয় না? এদেরকে তাজা কবর দিলেও গায়ের জ্বালা মিটবে না। বাচ্চাটা হয়তো কিছুই বুঝেনা। এখনো হয়তো উঠানে দৌড়াদৌড়ি, লাফালাফি করে আনন্দ করে বেড়ায়। কিন্তু তার পরিবার জানে যে তার জীবন এখন কতটা কঠিন। সমাজে তাদের হয়তো নানা কটু কথাও শুনতে হয় এর জন্য। কারণ এটা আমাদের সমাজ। এ সমাজে সমালোচকের অভাব নেই। তার পরিবার এখন তার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করলে সামনে কালো অন্ধকার দেখে। এক হিংস্র পশুর থাবায় তছনছ হয়ে গেলো এক কোমলমতী শিশুর। এদেরকে মানুষরূপী জানোয়ার বললেও জানোয়ারদের অপমান করা হবে। কারণ, জানোয়ারেরাও এতটা নিকৃষ্ট হতে পারে না। সদ্য একটা ধর্ষণের সংবাদ সম্ভবত সবারই জানার কথা। বরগুনাতে এক স্কুল শিক্ষিকাকে গণ ধর্ষণ! একজন শিক্ষিকা, যে কিনা দেশের সবচেয়ে মূল্যবান, মানবসম্পদ তৈরীর কারিগর, তাকেও আজ ধর্ষণের মতো ভয়াবহ ত্রাসের শিকার হতে হচ্ছে। তাহলে আজ এই জাতি গড়ে তুলবে কে? হয়তো আর কোনোদিন ঐ শিক্ষক লজ্জায় মানবসমাজে মুখ দেখাতে পারবেনা। নিজ হাতে গড়ে তুলতে পারবেনা দেশের অমূল্য রত্ন গুলো। এক ধর্ষণ নামক কুৎসিত অপরাধের ফলে জাতি হারালো এক দেশ গড়ার কারিগর। এ সকল জানোয়ারের রুচি আজ কোথায় গিয়ে দাড়িয়েছে শুধু চিন্তা করুন। শিক্ষিকার তথা একজন দেশ গঠনের কারিগরকে যদি ধর্ষণের শিকার হতে হয়, তাহলে অন্য সব সেক্টরে যেসব মেয়ে মানুষ নিয়োজিত, তাদের তো নিরাপত্তা নেই বললেই চলে। সংবাদে দেখলাম, এ নিয়ে বরগুনার সকল বিদ্যালয়ের কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। তার ধর্ষণের জন্য উপযুক্ত শাস্তির জন্য বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি করা হচ্ছে। কয়েকদিন আগে আবার দেখলাম, এক প্রবাসী ভদ্রলোক তার স্ত্রীকে দেশে রেখে যায়। এই সুযোগে তার পূর্ব শত্রুরা তার স্ত্রীর উপর বারংবার গণধর্ষণ চালায়। তার দুইটা সন্তানও আছে। এখন সে তার সন্তানদের সামনে মুখ দেখাতেও চরম লজ্জা বোধ করছে। বারবার তার মাথায় আত্মহত্যার কথা ঘুরপাক খাচ্ছে। অর্থাৎ, ধর্ষণ এখন প্রতিশোধেরও হাতিয়ার হয়ে গেছে। এসকল মানুষের চিন্তা ভাবনা এতটাই নিচে চলে গেছে যে, কোনো কিছু হলেই তাদের মাথায় ধর্ষণের ব্যাপারটা চলে আসে। এখন কেউ তার স্ত্রীকে দেশে রেখে গেলে অনেকটা শিয়ালের আস্তানায় মুরগি রেখে চলে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয় দুজনকেই। ধর্ষণের শিকার হয়ে হাজার হাজার মেয়ে আত্মহত্যা করছে। কারণ তারা সমাজে আর মুখ দেখানোর সাহসটুকু পায়না। একটা পরিবারের সব সুখ-শান্তি পুরো ভেঙ্গে তছনছ করে দেয় ধর্ষণ। পরিবারের সম্মানহানির জন্য অনেক কথা শুনতে হয় ধর্ষিতাকে। ফলে সে বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ। নিমিষেই শেষ হয়ে যায় স্বপ্নে ভরা এক জীবন।

প্রতিদিন এরকম অনেক রকম ধর্ষণের নিউজ দেখতে হচ্ছে আমাদের। এটা দিন যত যাচ্ছে, ততই সাধারণ একটা ব্যাপারে পরিণত হচ্ছে। ধর্ষণের আক্রমণ দিনের পর দিন বাড়ছেই। কারণ ধর্ষকরা তাদের উপযুক্ত শাস্তি পাচ্ছেনা। এর ফলে কিছু কুলাঙ্গার উৎসাহিত হচ্ছে। এমনকি যৌন ক্ষুধা মেটাতে যাকে যেখানে পাচ্ছে, সেখানেই ধর্ষণ করছে। ধর্ষণের পর শাস্তির ভয়ে ধর্ষিতাকে খুন পর্যন্ত করছে। কেন আমাদের প্রতিনিয়ত সংবাদের শিরোনামে ধর্ষণের সংবাদ শুনতে হবে? এ সব কুলাঙ্গারদের কারণে কেন আমাদের মা-বোনের ইজ্জতভ্রষ্ট হবে? এদেশের আইন ক্ষমতা রাখে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধকে নিশ্চিহ্ন করতে। কিন্তু আইনি ক্ষেত্রেও কিছু অমানুষ থাকে যারা টাকার বিনিময়ে পুরো বিষয়টা ধামাচাপা দিয়ে দেয়। এসব কুলাঙ্গারদের ইসলামিক বিধি অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া অতি আবশ্যক। ইসলামে ব্যভিচারের শাস্তি অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হলে এ সমস্ত কুলাঙ্গার অচিরেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে এবং আমাদের মা-বোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। শুনতে হবে না আর যে ঐ স্থানে এক মেয়ে ধর্ষিত।

অনিশ্চয়তা

Now Reading
অনিশ্চয়তা


বৃষ্টি পড়া শুরু করেছে। বেশ মোটা মোটা ফোটা। ছাতাটা সাথে আনা উচিৎ ছিল। অবশ্য ঝুম বৃষ্টিতে ভিজতেও মন্দ লাগেনা। কিন্তু অসুখ টসুখ বাধিয়ে বসলে তো সমস্যা। আমি অসুস্থ হয়ে গেলে, সংসার চলবে কেমনে? আল্লাহ ব্যবস্থা একটা করবেন ইনশাআল্লাহ। বিপদ কখন আসে তো ঠিক নেই। তাছাড়া বিপদ মহাশয় নাকি মাঝে মাঝে আসলে তার মা-বাবা, দাদা-দাদি সহ পুরো পরিবারকে সাথে করে নিয়ে আসেন। এরকম পরিস্থিতিতে অবশ্য একবারো পড়তে হয়নি। তবু কিছু টাকা জমিয়ে রাখা ভালো। এমুহূর্তে আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে সংসার চলার কোন উপায় নেই। আমার অবশ্য তাতে খুব একটা সমস্যা হবে না। ২৫ বছরের জীবনের অর্ধেকই তো কাটিয়ে দিলাম মুড়ি, বাদাম, শসা এসব খেয়ে। ক্ষিদা নষ্ট করতে বেশ ভালো কাজ দেয় এসব। কিন্তু ইরিনার একদিনও খালি পেটে দিন কাটাতে হলে আমি তা সহ্য করবো কীভাবে? আমার কিছু নেই জানার পরও সে বিয়ে করেছে আমাকে। আমার ভালোবাসার মূল্য দিয়েছে। তাকে কীভাবে আমি অসুখী রাখি?

বৃষ্টি পড়লেই দেখি ইরিনার কথা মনে পড়ে। আরো কিসব ভাবতে ভাবতে একটা দোকানে ঢুকে পড়লাম। এখন বৃষ্টিতে ভেজা যাবে না। কোন একদিন ভিজবো। ইরিনার সাথে। যখন আমার অনেক টাকা হবে। বৃষ্টিতে ভিজে অসুখ বাধিয়ে ফেললেও সংসার চালাতে সমস্যা হবে না। জীবনে আনন্দ করতে হলে একটু অসুখ বিসুখ হলে সমস্যা নেই।

দোকানদার উদাস মনে বৃষ্টি পড়া দেখছেন। একজন লোক তার দোকানে এসে দাঁড়িয়ে আছে যেন তার খবরই নেই। বুঝতে পেরেছে বোধহয় বৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ক্ষণিকের আশ্রয় পাওার আশায় আসা। এরকম নির্বিকার ভঙ্গির মানুষ হতাশাগ্রস্ত হয়েই জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়ে দেয়। কথাবার্তাও বলে খুব কম। তারা ভাবে বললেই কী, না বললেই বা কী। আসলে ব্যাপারটা কিন্তু এরকম না। জীবনের কাছে আমরা ঠিক ততটুকুই পাই যতটুকু দেই। একটি ‘কেমন আছেন?’ও মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে অনেকখানি।

ঘড়ির দিকে তাকালাম। বিকেল ৫ টা। আমি প্রায় ১৫ মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে আছি একটি মিষ্টির দোকানে। দোকানদারের ভাবভঙ্গির কোন ভাবান্তর নেই এখনো। ঝপঝপ করে বৃষ্টি পড়ছে। ধীরে ধীরে অন্ধকার হয়ে আসছে। আমি এক এক করে নানা পদের মিষ্টি দেখতে লাগলাম। ইরিনার জন্য এক কেজি মিষ্টি নিয়ে গেলে কেমন হয়? সে কালো জাম খুব পছন্দ করে। আজকে টিউশনির বেতনও পাওয়া গেছে।

যেদিন ভয়ে ভয়ে প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলাম ইরিনার বাবার কাছে, ভরাট কন্ঠে তিনি কথা বলে আমাকে কী ভয়টাই না লাগিয়েছিলেন! উনার সাথে আমার কথাবার্তা অনেকটা এরকম ছিল-
‘কি করো তুমি?’
আমি আমতা আমতা করে বললাম, ‘টিউশনি।’
তিনি রেগে মেগে হড়বড় করে বলতে লাগলো, ‘ফাইজলামি করতে এসেছো এখানে! তোমার ধারণা হল কেমনে শুধুই টিউশনি করাবে এরকমন একজন হারামজাদাকে আমি আমার মেয়ে দিব!’
‘জ্বি, আমি আসলে বুঝতে ভুল করেছি। কি করে আসলাম জিজ্ঞেস করেছেন মনে হল। আসলে মাথা ঘুড়ছে তো।’
‘এখন বের হও বাসা থেকে। ইউ যাস্ট গেট আউট। রাইট নাও!’
‘জ্বি, গাড়ি তো মা বাবাকে আনতে আমাদের বাড়িধারার ফ্ল্যাটে গেছে। গাড়ি আসা পর্যন্ত একটু বসতে দিলে ভালো হয়।’
এবার ইরিনার বাবার মুখে কিছুটা বিভ্রান্তির ছাপ ফুটে উঠল। সে আগের কর্কশ কন্ঠ বদলে বললো, তুমি টিউশনি করিয়েই গাড়ি বাড়ি সব কিনে ফেলেছো?…

কথার এক পর্যায়ে ইরিনাকে ডেকে আনা হলো। সে মাথা নিচু করে আসলো রুমে। পরনে একটা হালকা নীল রঙের শাড়ি। মাথার চুল খোলা। কোন সাজগোজ নেই। এত সাধারণের মধ্যে তাকে যেন আরো বেশি অসাধারণ লাগছে। ঠোটে লিপিস্টিক, কানে কানেরদোল, মুখে মেকআপ এসব থাকলেই যেন তাকে মানাতো না। আমি খুব বেশিক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে ছিলাম না। এক পলক দেখেই মাথা নিচু করে ফেলেছিলাম। তার বাবা কোন ভাবে যাতে সন্দেহও না করে আমাদের আগে থেকে পরিচয় আছে।


বৃষ্টি পড়া বন্ধ হয়েছে। আজকে আর রামিজদের বাসায় যাওয়া হলো না। এখন বাসায় ফিরছি। হাতে এক কেজি কালো জামের প্যাকেট। ইরিনা দেখে নিশ্চয় খুশি হবে।

সন্ধ্যা হয়ে এলো বাসার কাছাকাছি আসতে আসতে। চারদিকে ভীষণ নির্জন। জায়গাটা ভালো না। সন্ধ্যা হতে হতে সকলে এই রাস্তায় চলাচল বন্ধ করে দেয়ার চেষ্টা করে। ডাস্টবিন থেকে ময়লার দুর্গন্ধ আসছে। পকেট থেকে রুমাল বেড় করে নাকে চাপলাম। একটা ভালো চাকরি পেলে প্রথম কাজ হবে একটা ভালো জায়গায় বাসা নেয়া।

বাসায় পৌছে গেলাম। একটু পরেই আবার ইরিনাকে দেখতে পাবো, ভাবতেও মন ভালো হয়ে যায়। অথচ আজকে সকালেও দেখলাম, প্রতিদিনই দেখছি। কয়েক বছর পর পর আমাদের দেখা হচ্ছে এমন কিছু না, তবু অনুভূতিটা যেন এমনই। ইরিনা এখন শুধুই আমার, অন্যকারো নয়- এই বোধের সংস্পর্শে আসলে, এত দুঃখের মাঝেও মনে হয় জীবনটা খারাপ না।

প্রায় ১০ মিনিট পর্যন্ত টোকা দেয়ার পরও কেউ দরজা খুলছে না। আমি চিৎকার করে ইরিনাকে ডাকতে লাগলাম। কোন সাড়াশব্দ নেই। বাসার ভেতর থেকে কোন শব্দও আসছে না। শুনশান নীরবতা। রুমাল দিয়ে কপালের ঘাম মুছে প্রস্তুতি নিলাম দরজা ভাঙ্গার। এক লাথিতেই দরজাটা বিকট শব্দ করে পড়ে গেলো। ধীরে ধীরে কয়েক পা আগালাম সামনে। সবকিছু কেমন এলোমেলো, অগোছালো। চেয়ারটা উল্টানো। বাথরুমের দরজা খোলা। টেপ বন্ধ করা হয়নি। পানি পড়ছে তো পড়ছেই। বেডরুমে যেয়ে চোখে পড়লো রুমের একটা কোণে পড়ে আছে ইরিনার শাড়ি। ঠিক তার পাশে… আমার বুক  উঠল। ধপধপ করছে ভেতরটা। কী হয়েছে না হয়েছে তা ভাবারও বোধশক্তি হারিয়ে ফেললাম।

আপনি কি ধর্ষণ করতে চান?

Now Reading
আপনি কি ধর্ষণ করতে চান?

কিছু দিন আগে বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই মেয়েকে আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে ও তার বন্ধুরা মিলে ধর্ষণ করে। আপনার কি মনে হয়নি ঐ মেয়ে দুইটির পোষাক ঠিক ছিল না? তাদের এতো রাতে বাহিরে যাওয়া উচিত হয়নি? আপনার যদি এই দুইটি প্রশ্নের উত্তর না হয়ে থাকে তাহলে আপনি সফল ভাবে ধর্ষণ করলেন এবং ধর্ষক হিসেবে এখন থেকে আপনি পরিচিতি পাবেন। ধর্ষক পরিচয় পাওয়া তো আবার অনেক বড় ব্যাপার আপনাকে নিয়ে অনেক লেখা লেখি হবে,পুলিশ এর অনেক আদর আপ্যায়ন পাবেন, আপনাকে নিয়ে অনেকেই তাদের বক্তব্য প্রকাশ করবেন আপনার চরিত্র ফুলের মত পবিত্র। কিন্তু আপনি এমন এক ধর্ষণ করলেন যার কোন প্রমাণ নেই, আপনার আশে পাশের কেউ কিছু জানলো না, আপনার জন্য কেউ একটু তো লেখা লেখি করলো না। আপনি একজন  ধর্ষককে সমর্থন করার মাধ্যমে, ঐ মেয়ে দুটিকে আপনি নিজেও ধর্ষণ করেছেন। আপনি একজন ধর্ষক।
গতকাল (১১ ই জুন) ফেসবুকের নিউজ ফিডটা দেখছিলাম হঠাৎ করে চোখের সামনে ভেসে উঠল ইফতারে ডেকে নিয়ে ৮ বছরের একটি নিষ্পাপ মেয়েকে  ধর্ষণ করার একটা খবর। মুহূর্তের মধ্যে নিজের শরীরটা কেমন যেন শিউরে উঠল। এই ছোট বাচ্চা মেয়েটির শরীর কি ভেবে একজন পঞ্চাশোর্ধ্ব নরপশু তার যৌন ক্ষুধা মেটানোর জন্য এই কাজ করল? একবারও কি তার ভিতরে মনুষ্যত্ব বোধ জাগলো না? আসলে তারই বা কি দোষ? প্রতিদিন এভাবে হাজারো মেয়েকে ধর্ষণ করা হচ্ছে কারোরই তো বিচার হয় না তাছাড়া আপনাদের মতো অনেকেই রয়েছে যারা এই ধর্ষকদের সমর্থন করে যাচ্ছেন। আপনি যদি এই ঘৃণিত কাজের ভিক্টিমকে দোষারোপ করার জন্য নানা অজুহাত দেখান তাহলে আপনি এই বাচ্চা মেয়েটিরও দোষ খোজা শুরু করবেন। সে কেন গিয়েছিল অন্যের বাসায় ইফতার করতে? তার বাবা মা কেন সেখানে পাঠিয়েছিল? এই সব প্রশ্ন করতে  আপনি হয়তো দ্বিধা বোধও করবেন না।
ইফতার প্রত্যেক মুসলিমদের কাছে অতি প্রিয় একটি মুহূর্ত। মহান আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি লাভের আশায় সারাদিন রোজা রেখে, নিজেকে সংযম রেখে অতি আগ্রহের সাথে আমরা অপেক্ষা করি ইফতার করার জন্য। কিন্তু এক পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়স্ক মুসলিম নামধারী পশু এই ইফতার এর মতো পবিত্র জিনিস কে কলঙ্কিত করে ফেলেছে। আপনি একজন মুসলিম হিসেবে ভাবুনতো এটা আপনার কাছে কেমন লেগেছে? ইফতার করার কথা বলে, একটি নিষ্পাপ শিশুকে ধর্ষণ করার মত আর ঘৃণিত কাজ আর কি হতে পারে?

আমাদের সমাজে আবার এইসব কুলাঙ্গার, নিকৃষ্ট ধর্ষকদের দ্বারা যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয় তাদেরকে এমন একটি শব্দে সংজ্ঞায়িত করে যার মাধ্যমে তাদের মনে করিয়ে দেই সে একজন ধর্ষিতা । তাকে বার বার ধর্ষিতা বলে আমরা তাকে কি মনে করিয়ে দিতে চাই? কিভাবে সেই নরপশুরা তার উপর বর্বর অত্যাচার করেছিল? কিভাবে সে চিৎকার করে সেই পশুদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য? তারা একটি ঘটনার “ভিক্টিম”, একটি নিকৃষ্ট ঘটনার “ভিক্টিম”। তাকে বার বার ধর্ষিতা বলে হেয় করার অধিকার আমাদের নেই।

আমাদের সমাজে একদল মানুষ অন্য কেউ ধর্ষণ করেছে এটা জেনেও তাকে নগ্ন ভাবে সমর্থন করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যায়। যেই মেয়েকে ধর্ষণ করা হয় তার কি ভুল ত্রুটি ছিল, সে কোন ধরণের কাপড় পড়েছিল? তার সাথে কে ছিল? সে কি করে না করে সব কিছুতে আঙুল দিয়ে তার উপর দোষ চাপিয়ে দিতে সামান্যতম দ্বিধা বোধ করি না। তাকে সবার সামনে তুলে ধরি “ বেশ্যা” চরিত্রের কোন নারী।  ছি! এটা লেখতেও নিজের উপর ঘৃণা চলে আসে। সমাজের এই সব লোকগুলো ঐ মেয়েকে তার দোষ গুলো ধরিয়ে দিয়ে  সেই মেয়েকে ধর্ষণ করা জায়েজ বানিয়ে দেয়। ধর্ষকদের চরিত্র গুলোকে মহান বানিয়ে তোলে। তাদের সভ্য আচরণ কে খণ্ডনের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। একবারও কি তারা যাদের পক্ষ নিয়ে কথা বলছে তাদের কথা চিন্তা করে না যে তারা কত জঘন্য কাজের সমর্থন করে যাচ্ছে? আজ আপনি হয়তো এইসব ধর্ষক দের খুব সুন্দর ভাবে সমর্থন করে যাচ্ছেন কিন্তু আপনি হয়তো খেয়াল করছেন না আপনার সন্তানরা বড় হচ্ছে। আপনার একটি সুন্দর কোমল মেয়ে সন্তান রয়েছে যাকে আপনি অনেক ভালোবাসেন। ঐ নরপশু দের সমর্থন করার আগে আপনার মেয়ের কথা একবার অন্তত চিন্তা করেন। ভবিষতে কোন এক জরুরী কাজে আপনার মেয়ে রাস্তায় বের হয়েছে কিন্তু কিছু বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষের হাতে  পড়ে তখন কি করবেন আপনি? তখন ও কি আপনি ওইসব পশুদের পক্ষ নিবেন? আপনার মেয়ে যেন আগামীকাল সুস্থ সুন্দর ভাবে বাসায় ফেরত আসতে পারে তার জন্য এই সব পশুদের বিপক্ষে অবস্থান গ্রহন করুন। ধর্ষকদের প্রতি আপনার সমর্থন যেন রাস্তায় হাঁটার সময় কোন মেয়ে আমার দিকে সন্দেহের সৃষ্টি না করে সেই অনুরোধ রইল।

আসলে কোথায় যাচ্ছি আমরা?  আমরা কি আদৌতে সভ্য হচ্ছি? আজ ৮ বছরের বাচ্চাটি ধর্ষণ হল এর আগে তনু ধর্ষিত হল, গাজীপুরে ১১ বছরের মেয়েটি যার বাবা বিচার এর জন্য ১০০০ টাকা না দিতে পেরে মেয়েকে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিলো, অথবা আগামীকাল অন্য কেউ ধর্ষণ  হবে। কবে দেখবো এই এই জঘন্য ধর্ষণ এর উপযুক্ত শাস্তি? কবে পাবো এদের বিচার? আর কত ধর্ষণ হলে টনক নড়বে প্রশাসনের? আমাদের স্বাধীন সোনার বাংলাদেশে একদিন কোন মেয়ে এই নরপশুদের ভয়ে রাস্তায় বের হতে ভয় পাবে না, এটাই আমার বিশ্বাস।

 

বি.দ্রঃ এই লেখা সেই সকল মানুষদের জন্য যারা ধর্ষকদের পক্ষে কথা বলে এবং আমাদের ওই সকল বোনদের পোশাক নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে

ধর্ষণ ও আমাদের সমাজের চালচিত্র

Now Reading
ধর্ষণ ও আমাদের সমাজের চালচিত্র

ধর্ষণ…!!
শব্দটা যেন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে একেবারে মিশে গেছে।
পত্রিকা, টিভি চ্যানেল, ব্লগ সাইট, ফেসবুক সহ সকল পাবলিক প্লেসে, এমনকি বন্ধুদের আড্ডাতেও এই শব্দটি বহুল ব্যবহৃত।
শব্দটা আমরা যত সহজে উচ্চারণ করি, ভিকটিমেরা তার চেয়েও অনেক বেশি যন্ত্রণার সাথে শব্দটা সহ্য করে থাকে। যে যন্ত্রণা হয়তো অনুধাবন করার ক্ষমতাটুকু আমাদের কারো নেই।
যন্ত্রণার তীব্রতা যে কতখানি, তা আমরা সাম্প্রতিক একটা ঘটনার দিকে চোখ রাখলেই বুঝতে পারি। ছোট্ট মেয়েটার ধর্ষণের বিচার না পেয়ে বাবা আর মেয়ে মিলে একসাথে আত্মহনন করেছিল রেললাইনে মাথা পেতে। তাদের কাছে এই শব্দের যন্ত্রণা মৃত্যুর থেকেও অনেক ভারী।
যে উদাহরণটা দিলাম, এটা খুবই ক্ষুদ্র একটা অংশ। প্রতিদিনই বহু ধর্ষণের ঘটনা ঘটে আর মিডিয়ায় আসে তার তলানি স্বরূপ ক্ষুদ্র একটা অংশ। আর সেটা নিয়ে আমরা অনলাইনে কয়েকদিন লাফালাফি করি। অবশেষে কোন সমাধান ছাড়াই নতুন নতুন ঘটনার নিচে চাপা পড়ে যায় সেই লাফালাফি। এদিকে ধর্ষিতারপরিবারের যন্ত্রণা, যন্ত্রণার যায়গাতেই রয়ে যায়। সমাধান না পেয়ে সেই যন্ত্রণা চেপে তারা সমাজে বেঁচে থাকে নিচু হয়ে। নিচুর কথা বললাম কেন, তার পুরোটা বলতে গেলে আমার লেখা কখনোই থামবে না। তবুও সংক্ষেপে বলি।

আমরা তথা আমাদের সমাজই ধর্ষিতাকে নিচু করে রাখে। ধর্ষণের বিচার না করে বরং ধর্ষিতাকে ও ধর্ষিতার পরিবারকে ছোট করে দেখে। দোষ না করেও, নির্যাতিত হয়েও তারা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না, কথা বলতে পারে না। অথচ, ধর্ষক ঠিকই বীর-দর্পে চলাফেরা করে। মাথা উঁচু করে চলে। একই চায়ের টেবিলে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে চায়ের কাপে চুমু খায়। আমাদের সমাজটাই এমন। নারী জাতির সম্মানটা কেবল নিজের “মা” আর “বোন” নামক শব্দের মাঝে সীমাবদ্ধ। বাকি সব নারী “মাল” আর ভোগের পণ্য। রাস্তাঘাট, যানবাহন থেকে শুরু করে যেখানেই কোন নারী দেখা যায়, তারা সবাই “মাল”। লোলুপ দৃষ্টি তাদের পিছু ছাড়েনা কখনোই। এমনকি ফেসবুকে কোন মেয়ে ছবি আপলোড দিলেও তার মাঝে মানুষ যৌনতা খোঁজে। হোক সে ক্লাসমেট, কাজিন অথবা এলাকার কোন মেয়ে। আপনার আশেপাশের পাবলিক প্লেস গুলোয় চোখ-কান খোলা রাখলেই একথার সত্যতা খুঁজে পাবেন। দূরে যেতে হবেনা। আমাদের তথা আমাদের সমাজের মনোভাবটাই এমন। যৌনাকাঙ্ক্ষা এতোই বেশি যে, আমরা তা রগে রগে ধারণ করে পথ চলি আর নিজের ব্যক্তিসত্তা ভুলে গিয়ে নির্লজ্জের মতো তা নারীদের দিকে ছুঁড়ে মারি।
যাক এসব কথা। ধর্ষণের কথায় আসি…

সম্প্রতি আলোচিত এক ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত সাদাতের বাবা বলেছে, “আমার ছেলে অন্যায় করেছে তো কি হয়েছে, আমিও করি”। বেহায়া, নির্লজ্জ কোথাকার। কোন বাবা তার ধর্ষক ছেলেকে নিয়ে স্ব-গর্বে এমন কথা বলতে পারে, সে ধারণা আমার ছিল না। তার উচিত ছিল, জাতির কাছে তার ছেলের কুকীর্তির জন্য ক্ষমা চাওয়া। ক্ষমা না চেয়ে বরং তার ছেলের বাজে কর্ম ঢাকতে নিজেকেও সেই পর্যায়ে নিয়ে গেছে। একটা মানুষ আদব-কায়দা শেখে তার পরিবার থেকে। যে পরিবারে এমন বাবা আছে সে পরিবারের ছেলে আদব-কায়দা হীন ধর্ষক হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু না। কুলাঙ্গার ছেলেকে বাঁচাতে কোন কাণ্ডজ্ঞানহীন বাবা যদি এমন কথা বলতে পারে, সম্ভ্রম হারা কোন মেয়ের বাবাও ওইসব ধর্ষকের কাণ্ডজ্ঞানহীন বাবাকে রাজপথে ফেলে জুতাপেটা করতে করতে মেরে ফেলার অধিকার রাখে। যদিও অধিকার নামক শব্দটা এদেশের প্রশাসকদের দলিলে নেই বলেই চলে।
ধর্ষণের সঠিক বিচার না থাকার কারণে আমাদের সমাজের চিত্রটা এমন। সঠিক বিচার সমাজের অপরাধ কমিয়ে আনতে সক্ষম। আফসোস, আমাদের এই জিনিসটার বড় অভাব। যদি এসব অপরাধের সঠিক বিচার হতো, ধর্ষক সমাজ তাদের কার্য সম্পাদনে একটু হলেও ভয় পেতো আর অপরাধ কমতো। এই বিচার নিয়ে কথা বললে আবার বিশাল রচনা হবার সম্ভাবনা আছে। তবুও ছোট করে বলি…

বিচারকের আসনে তথা প্রশাসনে যারা আছে তাদের জগতটা সম্পূর্ণ আলাদা। এদের পিছনের দিনগুলোতে তাকালে দেখা যাবে, কারো কারো জীবনে এরকম কার্যের অভিজ্ঞতা বেশ কয়েকটা রয়েছে। লোকসমাজে প্রচলিত আছে, “কচু গাছ কাটতে কাটতে নাকি ডাকাত হয়”। কথাটার সত্যতা প্রমাণে প্রশাসনের লোকগুলো বেশ পটু। ছোটবেলা থেকে যারা অনিয়ম দুর্নীতি করে আসছে, তারাই একসময় ক্ষমতায় বসছে। এদের থেকে সুবিচার পাওয়াটা অমাবস্যার চাঁদের মতো। অন্ধকারে থেকে থেকে অন্ধকারের কাজগুলোই তাদের বেশি আপন। যদিও মাঝে মাঝে দু একটা বিচার দেখা যায়, সেগুলো হয় তাদের গদি পাকা-পোক্ত করার জন্য অথবা লোক দেখানো।

তনুর জন্য আমাদের আন্দোলন কতখানি জোরালো ছিল… টিকেছে? টিকেনি…!! বিচার এখনো প্রক্রিয়াধীন। কবে শেষ হবে, আদৌ হবে কিনা, তা কেবল তারাই জানে। জোর যার, মুল্লুক তার। অথচ, এই তনুরা যদি প্রশাসকের পরিবারের কেউ হতো, ধর্ষককে গ্রেফতার থেকে শুরু করে বিচার কার্য শেষ হতে সময় লাগতো হাতে গোনা কয়েকটা দিন। আমরা কেউ প্রশাসক পরিবারের না, সবাই তনুর পরিবারের, তাই সুবিচার হয়তো আমাদের প্রাপ্য না।

প্রতিদিন কত মেয়ে যে ধর্ষিতা হয় তার শেষ নেই। কেউ সামনে এসে বিচার চায়, কেউ গোপনে যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকে লোকসমাজে টিকে থাকার তাগিদে। গতকালও একটা খবর পেলাম, প্রায় বছর-খানেক সময় ধরে মা-খালা সহ এক মেয়েকে ধর্ষণ করে আসছে। কতটা জঘন্য একটা খবর। একবার ভাবুন। লোক-লজ্জার ভয়ে অথবা ভিডিও ফ্ল্যাশ হয়ে যাবার ভয়ে টানা এক বছর ধরে নীরবে ধর্ষণের যন্ত্রণা সয়ে আসছে। ভিডিও শব্দটা উচ্চারণ করতেই অনেকগুলো খবর চোখের সামনে ভেসে উঠলো। যাক, বাদ দিলাম এসব ভিডিওর কথা। যারা এইসব কাজগুলো করে, তাদের যদি বিচার হতো, পুরোপুরি না হোক, অপরাধ কিছুটা হলেও কমতো। মাথাব্যথা নেই আমাদের প্রশাসনের। সমস্যা কি !! তার মেয়ে তো নিরাপদেই আছে। একবার আপনার মেয়েকে ঠেলে দিন না কোন এক ধর্ষকের হাতে। খুব সহজেই বুঝবেন এসবের যন্ত্রণা কতখানি। ধর্ষিতাকে কোন এক মেয়েকে নিজের মেয়ের জায়গায় বসান না একবার। দেখেন, যন্ত্রণা কতখানি। আপনাদের কাছে আমাদের প্রাপ্যতা তো এটুকুই। আর এই প্রাপ্যটা যদি না’ই মিটাতে পারেন, তবে ছেড়ে দিন আপনার গদি। আপনার মত কাণ্ডজ্ঞানহীনের আসন বিচারকের আসনে শোভা পায় না। তেলে মাথায় তেল দিয়ে তথা ক্ষমতাবানদের পা চাটাই যদি হয় আপনার কাজ, তবে ওইসব ক্ষমতাবান ধর্ষকদের “দণ্ডটা” মুখে নিয়ে চোখ বুজে চুষতে থাকেন; আরাম পাবেন। অর্থলোভ আর ক্ষমতা আপনাদের মানসিকতাকে কুকুরের চেয়েও নিকৃষ্টতম পর্যায়ে নিয়ে গেছে। কুকুরের সাথে তুলনা করেও ভুল করলাম। কুকুর অন্তত মনিবের নুন খেয়ে মনিবের কাজ করে। ধর্ষিতার পরিবারের সমর্থনেই হয়তো আপনি আপনার গদিতে বসতে পেরেছেন। কিন্তু তার জীবনের কঠিন-তম অবস্থায় আপনার লেজ গুটিয়ে ক্ষমতাবান ধর্ষকের দণ্ডে তেল মেজে দিচ্ছেন। শত ধিক আপনাদের। শত শত ধিক…!!!

সম্প্রীতি ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা এবং আমাদের দায়বদ্ধতা

Now Reading
সম্প্রীতি ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা এবং আমাদের দায়বদ্ধতা

প্রেক্ষাপট ও সমসাময়িক চিন্তা!!!

দেশে এই মূহর্তে ঠিক কি চলছে তা আমরা সবাই কম বেশি জানি। তবে কেন চলছে তার ধারণা আমরা কমই রাখি। যেমন কয়েকদিন আগে বনানিতে একটি ঘটনা ঘটেছিল। যা নিশ্চয় ন্যাক্কারজনক ও সবচেয়ে বেশি আলোচিত ঘটনার মধ্য একটি। এখানে ধর্ষকদের বিচার চেয়ে আমরা যতটা সোচ্চার হয়েছি লেগেছি তার প্রতিকার চেয়ে এক ভাগ ও  সোচ্চার হয়নি। ধর্ষন এর ঘটনায় ধর্ষক নিশ্চয় শাস্তি প্রাপ্য। তবে আসলে  কি ধর্ষকের উপযুক্ত শাস্তি হচ্ছে?  বা আদো কি বিচার হচ্ছে ? আমরা এইসব বিষয় নিয়ে সাধারণত ভাবিনা। বা ভাবতেও চাইনা। আমরা মনে করি বিচার চাওয়াতেই আমাদের দায়বদ্ধতা শেষ। এক বছর আগে তনু হত্যার বিচার চেয়ে আমরা ফুসে উঠছিলাম। এক কথায় পুরো দেশ কাঁপিয়ে দিয়েছিলাম। পরে তদন্ত কমিটি ও গঠন হল। আমরা দুই মাস  Justice For Tanu বলে বলে চিল্লাইতে থাকলাম । কিন্তু দুইমাস পর আমাদের কাছ থেকে তনু নামক শব্দটা যেন এক প্রকার হারিয়ে গিয়েছে। আমরা এখন আর খোঁজ ও রাখিনা তনুর মামলার বর্তমান অবস্থা। আমরা খোঁজ রাখিনা আদৌ কি মামলা টা আছে নাকি হারিয়ে গেছে আদালতের নথির তলায়।

এইভাবে প্রতি বছর নতুন নতুন ঘটনা ঘটে যাচ্ছে । আমরা ও বিচার চেয়ে যাচ্ছি দুই থেকে ৩ মাস। এর পর আমরা ভুলেই যায় যে দুইমাস আগে এইরকম একটা ঘটনা ঘটেছিল। এর পর ঘটনার শিকার পরিবার গুলো তাকিয়ে থাকে ন্যায় বিচারের আশায়। কিন্তু দেশের মানুষের অগোচরে বিত্তশালী বা ক্ষমতাশালী অপরাধীরা পার পেয়ে যায় । কারণ দেশের মানুষ যদিও মামলার শুরু করে দিয়েছিল তবে শেষ দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেনি।  যার কারণে শেষটা হয় তাদেরই (অপরাধীর) ইচ্ছে মত।

এখন দেশের মানুষ বনানীর ঘটনাটির মাঝে গভীর ভাবে ডুবে আছে । যার মেয়াদ হয়ত আর এক মাস। তার পর আমরা ভুলেই যাব এইরকম কিছু একটা আমাদের দেশে ঘটেছিল । তারপর ধর্ষকেরা বাবা বা  মামার জোরে বের হয়ে যাবে।  এরপর তারা  আবার এমন ঘটনার জন্ম দিবে। আবার আমরা ফুসে উঠব  কয়েকদিনের জন্য আবার হারিয়ে যাবে সময়ের গভীরে।

আর যদি এইভাবে আমরা শুধু বিচার চাইতে থাকি আর তারা পার পেতে থাকে তাহলে কিন্তু ধর্ষন সহ অন্যন্য অপরাধের শাস্তি কখনোই হবেনা। আর শাস্তি কিন্ত কোন অপরাধের শেষ করতে পারেনা। হয়ত ১০০ জনে ৫ জনের শাস্তি হবে বাকি ৯৫ জন আবার বের হয়ে অপরাধ করেযাবে এইসব সমস্যা  প্রতিরোধের জন্য আমাদের স্ব স্ব অবস্থান থেকে গর্জে উঠা উচিত । তাহলে এইসব সমস্যা কিছুটা কম্বে বলে আমি মনে করি।

আমাদের ধর্ষণ এর মত হাজারো সমস্যা বা অপরাধ রয়েছে। যা প্রতিনিয়ত আমাদের স্বাভাবিক জীবন যাপন কে ব্যাহত করে তুলছে। আমরা মাঝে মাঝে এসব সমস্যা থেকে সামাধানের জন্য আন্দোলন করি রাস্তায় নামি গাড়ি ভাঙ্গি। এইসব সমস্যা সামাধানের জন্য নিজেরা কখনো উদ্যোগি হয়না। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে যেন নিজের দায়টুকু থেকে মুক্ত হয়ে যায়। কিন্ত না এইভাবে আসলে দায় থেকে মুক্ত হওয়ান যায়না। একটা সমস্যা বা অপরাধ সরকারের ছেয়ে কিন্ত আমাকে বেশি ক্ষতি করে যাচ্ছে।  এই সমাজের কাছে সরকার যতটা না দায়বদ্ধ তার ছেয়ে বেশি দায়বদ্ধ আপনি নিজে। সুতারাং সরকারের দিকে না তাকিয়ে নিজের মত করে প্রতিরোধ গড়ে তোলা উচিত।

এইভাবে এগিয়ে না  আসলে আমাদের এই সমসাময়িক সমস্যার সামাধান হবেনা। আমাদের চাইতে হবে এর প্রতিকার। নিজের মধ্য অপ্রাধ প্রতিরোধের শক্তি গড়ে তোলতে হবে।  আমাদের বুঝা উচিত শুধু বিচার চাইলেই সমস্যার সামাধান  হয়না।  আমাদের বিচার এর সাথে সাথে যাতে ভবিষ্যতে এইরকম ঘটনা না ঘটে সেই বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

আমাদের সমাজে যেসব সমস্যা প্রকট আকারে বিস্তার করে আছে সেগুলা নিয়ে আমাদের বসে থাকা উচিত নয়। আমাদের উচিত এসব সমস্যার মূল ধংস করা।

একটি গাছের যেমন ঢাল ছিড়লে আবার সেই গাছে পুনরায় ঢাল জম্মায়  । তেমনি আমরা সারা বছর আন্দোলন করে যতই সমস্যার ঢাল কাটিনা কেন এর সামাধান হবেনা । আমাদের উচিত এসব সমস্যার মূল খুজে বের করা।

সারা বছর লোক দেখানো আন্দোলন না করে যদি আমরা অপরাধ প্রতিরোধে মাসে একদিন করে ও সময় দিয় তাহলে আর ৫ বছর পর আমাদের প্রেসক্লাবের সামনে প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়াতে হবেনা । আর এর জন্য প্রয়োজন আমাদের নিজস্ব চেতনাবোধ । আমি যদি নিজে গর্জে উঠি তাহলে আমার কাছে দেখে আরেকজন গর্জে উঠবে এই ভাবেই সবাই একদিন সোচ্চার অপরাধের  বিরুদ্ধে।

একটা জিনিস খেয়াল করছেন কিনা জানিনা আমাই কিন্ত এইখানে অপরাধের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে বলছি অপরাধীর নয়। কারন অপরাধ ই অপরাধীর জম্ম দেই। তাই অপরাধ যদি নির্মুল করতে পারি তবে  অপরাধী আর জন্ম নিবেনা ইনশাল্লাহ।

তাই আসুন সবাই আজ থেকে অপরাধের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করি

বাড়ছে ধর্ষণ, আতঙ্কে আমাদেরই মা-বোন

Now Reading
বাড়ছে ধর্ষণ, আতঙ্কে আমাদেরই মা-বোন

বর্তমান সময়ে যে ভয়ংকর ইস্যু সমাজে রূপ নিয়েছে তা হচ্ছে ধর্ষণ। আমার এই আর্টিকেলটি ধর্ষণ নিয়ে লিখা।

ধর্ষণ কি?

-কোনো নারী বা কিশোরীর উপর জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করার চেষ্টা করা বা শারীরিক নির্যাতন করা কিংবা যেকোন ধরণের মানষিক চাপ সৃষ্টি করা ধর্ষণ হিসেবে ধরা হয়।

আমাদের দেশে দিনকে দিন ধর্ষণের হার বেড়েই চলছে। যে বিষয়টি এখন বলতে গেলে সামাজিকতার চরম ঊর্ধে চলে এসেছে। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে এটি এখন চরম আকারে ভাইরাসের রূপ ধারণ করেছে। আর মানুষগুলো হায়েনার মতো করে এই অভিশপ্ত ভাইরাসের দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে। মানুষগুলো তাদের বিবেককে বর্জন করে এই পাপ কর্মে লিপ্ত হচ্ছে দ্বিধাহীন ভাবে।দেশের দৈনিক পত্রিকা গুলো খুললেই প্রথমে চোখে পড়ে বড় শিরোনাম হওয়া ধর্ষণের খবর এটাই কি সভ্যতা!!!  এই সভ্য জগতে আজ আমাদের দিন যাপন করতে হচ্ছে আমাদের প্রত্যেকের মা-বোন গুলো এর মধ্যেই অত্যন্ত ভয় সাথে নিয়ে বাইরের পরিবেশে চলা ফেরা করে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের যেখানে উচিত মা-বোন দের নিরাপত্তা দেয়া , আমরা সেটা দিতে পারতেছি না। আমাদের , সমাজের সকলের উচিত আমাদের প্রত্যেকের মা-বোনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

আমাদের দেশে ধর্ষণের রূপ খুবই ভয়াবহ। আর বিগত কয়েক বছরে এটি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। দেশের প্রথম সারির দৈনিক পত্রিকা গুলোর ঘাটাঘাটি করলে বুঝা যায় যে দেশে এই হিংস্র ভাইরাস কিভাবে আসন পেতে বসেছে।সবগুলো ধর্ষণকারী যেন ধর্ষণের নেশায় মাতাল ধর্ষণকে তারা ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করেছে প্রতিটি মানুষের বিবেক আজ যেন দাঁড়িপাল্লায় মাপতে হবে কেমন মনুষ্যত্ব!!! আমি অবাক হই এইসব ধর্ষণকারীদের দেখে পৃথিবীতে জন্মগ্রহণের উদ্দেশ্য কি তাদের?  এখনই সময় মানুষকে সচেতন করার, সচেতন হওয়ার।

আমাদের দেশে ধর্ষণের রূপ ঠিক কতটা ভয়াবহ তা কিছুটা তুলে ধরার চেষ্টা করছি। আমাদের দেশে ধর্ষণের পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ তুলে ধরার চেষ্টা করছি।সারাদেশে প্রতিদিন অসংখ্য ধর্ষণের ঘটনা ঘটে চলেছে কিন্তু আমরা সাধারণ মানুষ জানতে পারি সেগুলো যা মিডিয়া আমাদের সামনে তুলে ধরে কিন্তু মিডিয়ার খবরের বাইরেও অনেক ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে এবং তা সমাজের মানুষের জানার অগোচরেই রয়ে যাচ্ছে যার ফলে কোন রকম সুষ্ঠু বিচার পাচ্ছে না ধর্ষকগোষ্ঠী তাই তাদের সাহস দিন দিন বেড়েই চলেছে সাথে সাথে বাড়ছে ধর্ষণের হারও

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধর্ষণের শিকার নারী সঠিক বিচার পাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় পুলিশি সহায়তা না পাওয়ায় ভিকটিমদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার আতঙ্ক তাড়া করে বেড়ায়। এতে করে আসামিরাও উক্ত কাজে লিপ্ত হতে সাহস পাচ্ছে। জনগণ, সমাজ, সবাইকে একসঙ্গে এটি সমাধানে কাজ করতে হবে। ধর্ষণকারী অপরাধী যেন কোনোভাবেই শাস্তির আওতার বাইরে না থাকে সে বিষয়ে সোচ্চার হতে হবে।সমাজের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের উচিত এইসব ধর্ষণকারীদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা আর তাই সমাজের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে ধর্ষণকারীদের বিরূদ্ধে রূখে দাঁড়াতে হবে

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৫ সালে সারা দেশে ৮৪৬ নারী-শিশু ধর্ষণের শিকার হন। এর মধ্যে ধর্ষণ-পরবর্তী সময়ে ৬০ জনকে হত্যা করা হয়। আত্মহত্যা করেন ২ জন। এর ঠিক আগের বছর ২০১৪ সালে ৭০৭ জন ধর্ষণের শিকার হন।বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৫ সালে সারা দেশে ১ হাজার ৯২ জন নারী-শিশু ধর্ষণের শিকার হন। এর আগের বছর যে সংখ্যা ছিল মাত্র ৬৬৬ জনে। এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৩৫ শতাংশ ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে। আর ২০১৬ সালের শুধু ফেব্রুয়ারি মাসে ৬৮টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গণধর্ষণ শিকার হন ৭ জন। ১৩ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়।

পরিসংখ্যান সবসময় সব সত্য প্রকাশ করে না।সমাজের সব অপরাধ পুলিশের খাতায় লিপিবদ্ধ হয় না সবসময়। তাই লিপিবদ্ধ তথ্যের আড়ালে রয়ে যায় আরো অজানা অনেক তথ্য। ধর্ষণের শিকারী মানুষগুলো অনেক সময় ভয়ে তাদের উপর ঘটে যাওয়া ঘটনা মিডিয়া বা পুলিশ কে জানাতে চায় না তারা অনেক সময় ভেঙ্গে পড়ে এমনটা ভেবে যে সমাজের সামনে তারা মুখ দেখাতে পারবে না তাই সমাজের মানুষের উচিত তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়ানো

আমাদের সমাজ ও সমাজের মানুষকে এই বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হতে হবে। সবার ঘরেই মা-বোন রয়েছেন। তাদের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব সমাজের সবার। দেশের প্রত্যেক নাগরিকের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র ভাবে রূখে দাঁড়াতে হবে।ধর্ষণের শিকার মানুষগুলোর পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে কারন তাদের সমাজে সুষ্ঠুভাবে ফিরে আনার দায়িত্ব আমাদের সকলের তাদের মনোবল বাড়ানোর দায়িত্ব আমাদের সবার

 

           ধর্ষণ মামলার বাৎসরিক গড়

 

   বছর-            ২০০৯     ২০১০    ২০১১     ২০১২     ২০১৩      ২০১৪

 

.গড়               ২৪৮       ২৭৯      ৩১২       ৩০২       ৩০৪        ৩০৮

এতো ২০১৪ সাল পর্যন্ত ঘটনাএখন ঘটনাগুলো আরো তীব্র হচ্ছে বীভৎস হচ্ছেকঠিন শাস্তির বিধান না থাকায় ধর্ষকগোষ্ঠী আরো বেশি পরিমাণে অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে আমাদের প্রশাসনের উচিত এই বিষয়টিকে যত দ্রুত সম্ভব আমলে আনা কঠিন উপযুক্ত শাস্তির সংবিধান তৈরি করা এবং ধর্ষকগোষ্ঠী কে উপযুক্ত শাস্তির আমলে আনা প্রশাসনের আরও সজাগ হওয়ার সময় হয়েছে এখনই।এমন সব শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত যাতে করে এই ঘৃণ্য অপরাধে মানুষ লিপ্ত হতে ভয় পায়আর সমাজের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার চেষ্টা করাকারণ সমাজে সব মানুষ যদি ঐক্যবদ্ধ সচেতন থাকে তাহলে আমাদের মা-বোন গুলো সমাজে নিরাপদে স্বাধীন ভাবে চলাফেরা করতে পারবেআমাদের মা-বোন দের নিরাপদে রাখার দায়িত্ব আমাদের, সমাজের সকলের

Page Sidebar