বন্ধুত্ব শুধু মানুষে মানুষেই হয় না

Now Reading
বন্ধুত্ব শুধু মানুষে মানুষেই হয় না

আর কি বলব।

কখনো কি ভাবে দেখেছেন ? আমরাও যদি এমন হতাম তাহলে কত ভালোই না হত। বন্ধুত্ব থাকত নিঃস্বার্থ ভাবে , ভাগল্পটা বন্ধুত্বের

ছবিটা দেখে মনে হতে পারে এখানে বন্ধুত্বটা কোথায়?
বন্ধুত্ব আছে এখানেই, সম্পর্ক, ভালোবাসা, বন্ধন। ছবিটা সেন্টমার্টিন এর পথে তোলা ,যখন আমরা জাহাজে ছিলাম। জাহাজটা ছাড়ার সময়টা সঠিক মনে নাই,তবে মিষ্টি রোদের অসাধারণ অনুভূতির কথাটা মনে আছে। আমরা গিয়েছিলাম সর্বমোট ৮জন বন্ধু । একসাথে কত মজা আরো কত কি । জাহাজটা ছেড়ে দিল সময় মত। আমরা জাহাজের ভিতরে জায়গা না পাওয়ায়,বাইরে দাড়াতে হয়েছিল। জাহাজটা ধীরে ধীরে সামনে যাচ্ছিল। অসাধারণ সেই সময়। সাগরের পানি ছিল মন কেড়ে নেবার মত। জাহাজটা কিছু দূর যেতেই খেয়াল করলাম এক ঝাঁক পাখি। এগুলো কোন জাতের পাখি জানা ছিল না । এখনও জানা নেই যদিও। তবে যে পাখিই হোক না কেন ,তারা খুবই সুন্দর ও অসাধারণ। আমরাও যাচ্ছি সামনের দিকে ওরাও আসছে আমাদের সাথে সাথে। আমরা তাদেরকে খাবার দিচ্ছি ,তারাও খাচ্ছে ,কাছে আসছে । আমরা ভেবেছিলাম যে ,ওরা সম্ভবত খাবারের লোভেই আমাদের সাথে আছে তথা জাহাজের সাথে আছে ,মাঝপথে আসলে ফিরে যাবে আবার । কিন্তু অবাক করা কথা হল ওরা পুরোটা পথ জাহাজের সাথে ছিল। আমাদের যেতে দেড় ঘন্টার বেশি লেগেছিল,ওরা আমাদের সাথেই ছিল । এবার আসি বন্ধুত্বের কথায়।

বন্ধুত্বটা হল এক নিঃস্বার্থ বন্ধন। যেটা ছিল ওই পাখিগুলো আর জাহাজের ভিতর। ভাবতে পারেন এটা আবার কেমন বন্ধুত্ব ।আমি বলবো এটাই বন্ধুত্ব। এরা একে অন্যের পরিপূরক। জাহাজ চলে সাগরের বুকে নিজ গতিতে আর পাখি চলে তারই সাথে তালে তাল মিলিয়ে। এখানে কেউ একা নয়। পাখি যেন জাহাজের শোভা হাজার হাজার গুণ বাড়িয়ে দেয় তাদের বিচরণের মাধ্যমে। এই বন্ধনকে বন্ধুত্ব ছাড়া লোবাসা থাকত ,থাকত সম্পর্কের টান। যেমনটা আমি দেখেছি এই পাখি আর জাহাজের মাঝে। বন্ধুত্ব শুধু মানুষে মানুষেই হয় না । এমন বন্ধুত্বও আছে যেগুলো হয়ত আমাদের চোখ এড়িয়ে যায় অবিরত। কিন্তু একটু ভালোভাবে খেয়াল করলে হয়ত সবার চোখেই পড়বে এমন আরো অনেক দৃষ্টান্ত। এটাই হয়ত বন্ধুত্ব যেটা হয়ত চোখ এড়িয়ে যাবে,জানি না ।

এখানে বন্ধুত্বের দৃষ্টান্ত আছে আরো। দূরে দেখা যাচ্ছে দিগন্ত ,না ভালোভাবে দেখলে দেখবেন এখানে কোনো বিশেষ দিগন্ত নাই কারণ সাগরের দিগন্ত সাগর নিজেই । নীল রং এর এই সাগর, সাথে দেখা যাচ্ছে আকাশ। সেও নীল বর্ণেরই অধিকারী। কিন্তু কোথায় এখানে বন্ধুত্ব? আছে ,এখানেও বন্ধুত্ব বিরাজমান। সাগর যেন আকাশের সাথে মিশে গেছে, আলাদা করাটা কঠিন । একে অন্যের সাথে এমন মিশে একাকার হওয়াটা কি তাদের মাঝের বন্ধুত্বের পরিচয় বহন করে না? আমার মনে হয় করে ,এটা তাদের বন্ধুত্বেরই পরিচয় দেয়। তারা কোনো বাধা নিষেধ না মেনে একে অপরের সাথে মিশে গিয়েছে অকাতরে।

অবশ্যই এই বিষয় গুলোকে আমি বন্ধুত্বই বলব। মানুষ তাদের বন্ধু বানায় তাদের নিজেদের দরকারে তাই , এই মানুষই বন্ধুত্বের বিবরণটা নিজের মত করেই সাজিয়েছে। এর বাইরেও যে বন্ধুত্ব থাকতে পারে সেটা হয়ত আমাদের ধারণার বাইরে, তাই এই বন্ধুত্ব গুলো আমাদের চোখ এড়িয়ে যায় অবিরত। প্রকৃতি আমাদেরকে শিক্ষা দেয় বিভিন্ন দিক থেকে , সেটা হোক না পরোক্ষ ভাবে ,তাতে দোষ কি?

সেন্টমার্টিনের ভ্রমণটা আমার জীবনের সেরা ছিল, যেখানে আমি শিক্ষা নিয়েছি প্রকৃতি থেকে। আমরা ছিলাম প্রায় ২ দিন ,কিন্তু মনে হয়েছিল ২ বছর ছিলাম । এই সেন্টমার্টিন আমাদের দেশের গর্ব, যেখানে আমাদের একবার হলেও যাওয়া দরকার ,যেটা আমাদের শিক্ষাকে হাজার হাজার গুণ বাড়িয়ে দিবে।

ফেরার বেলা চলে এলো। ফিরে তো যেতে হবেই , তবে যেতে মন চাইছিল না ,কারণ যায়গাটা এতটাই সুন্দর ছিল যে ছেড়ে যেতে কারোরই মন চাইবে না। আমরা তৈরী হলাম ফিরে যাবার জন্য। সময় মত পৌছে গেলাম সাগরের পাড়ে । বন্ধুরা সবাই অনেক মজা করলাম , সাথে অনেক সামুদ্রিক মাছ আর শামুকও কিনলাম। যথা সময়ে আমাদের জাহাজটাও চলে এল। জাহাজ সময় মত ছেড়ে দিল। আমরা এবারও আগের বারের মত ভিতরে যায়গা না পাওয়াতে বাইরে দাড়াতে হল। তবে এবার আর আবাক হলাম না । কারণ আমার জানা ছিল যে বন্ধুত্বের পরিচয় তারা দিবেই। আমি পাখির কথা বলছি। পাখিগুলো আবার আমাদের পিছু নিল। জাহাজকে কখন একা ফেলে গেলনা তারা। তারা সব একসাথে ছিল , কলতানে মুখরিত করে রেখেছিল । মনে হয়েছিল এক অনন্য পরিবেশে এসে পড়েছিলাম। ২ ঘন্টা কখন চলে গেল বুঝতেই পারলাম না। এখানে না আসলে বুঝতেই পারতাম না বন্ধুত্ব কাকে বলে। এক অনন্য বন্ধুত্বের উধাহরণ দিয়ে গেল তারা আর বলে গেল আমাকে যে তোমরা যাকে বন্ধুত্ব বলো আমরা তাকে বন্ধুত্ব বলি না আমরা তাকে স্বার্থপরতা বলি । যাকে অন্য কোনো ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না।

ছবিও কথা বলে । তবে ছবি তখনই কথা বলে যখন জানা থাকে ছবির ঘটনাবলি। তবে বিভিন্ন ভাবে একটা ছবিকে কথা বলানো যায় তার জন্য জানা থাকা লাগবে প্রেক্ষাপট।

অবশেষে চলে এলাম টেকনাফ । এবার বাড়ি ফেরার পালা । বাড়ি যাব ঠিকই কিন্তু এই ভ্রমণ অর্থহীন নয় । নিয়ে যাচ্ছি অনেক কিছু নিজের সাথে । প্রাপ্তি ছিল অনেক বেশি । আফসোস ছিল এটাই ,হয়ত আর কয়টা দিন জীবন থেকে খরচ করে ,কর্মব্যস্ততাকে ভুলে , এখানে থাকলে আরো কিছু পেতাম। শিক্ষা নিয়ে যেতাম আরো কিছু প্রকৃতি থেকে যেটা কখনই পাওয়া সম্ভব না এই কর্মব্যস্ততার মাঝে। যেটা শুধু মাত্র পাওয়া সম্ভব প্রকৃতি থেকে। বন্ধুত্ব যে এমন একটা বিষয় যেটা অনেক বেশি পবিত্র কিন্তু আমাদের সমাজে অন্য ভাবে ব্যবহার করা হয় । প্রকৃতি আমাদেরকে প্রতিনিয়ত শিক্ষা দেয় বিভিন্ন ভাবে , বিভিন্ন উপায়ে। কিন্তু যখনই সেটা আমরা সেটাকে নিতে না পারি সেটা তার গুণ হারায় । আমাদের জীবনের চলার পথে এমন অনেক কিছু হয়ে থাকে যেগুলা সহসা আমাদের চোখ এড়িয়ে যায় । যেগুলা আমাদের চোখ না এড়ালে আমরা জীবনের বিভিন্ন যায়গায় এগুলা প্রয়োগ করতে পারি আর জীবনকে আরো সুন্দর করতে পারি।

অবশেষে চলে এসেছি লেখার শেষ প্রান্তে। বন্ধুত্বের সাথে আরো অনেক কথাই বলে ফেললাম এখানে , আশা করি সকল কথা সবার মতামতের সাথে না মিলতে পারে তবুও কিছু শিক্ষার কথা সবার সাথে ভাগ করে নিলাম না হয়।

গিফট

Now Reading
গিফট

গিফট
.
চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছি। কি করব ভাবছি। দোকানে এসে কেনাকাটা করা উচিত। কোন কিছু পছন্দ করা উচিত। তারপরে কেনা উচিত। কিন্তু কোনটা কিনব সেটাই বুঝতে পারছি না। দোকানে আসলেই আমার এমন হয়। কোনটা রেখে কোনটা কিনব সেটা বুঝতে পারিনা। এক পাশ থেকে একটা পছন্দ করলে পরে মনেহয় এটার চেয়ে অন্যটা ভাল। এই নিয়ে এক সমস্যা!
প্রতিবারে আমার সাথে নাইম অথবা সজিব আসে। কিন্তু এবারে কেউ আসেনি. ওদের নাকি কাজ আছে! ওদের কোন কাজে আমি ফ্রি থাকি। কিন্তু আমার কাজের সময় তারা বিজি!

একটা টিশার্ট দেখছি। এটা নিলে কেমন হবে! নাহ এটা নিব না। সামনের কালো রঙের টা ভাল। নাকি সাদা রঙের টা নিব!
.
-এক্সকিউজ মি স্যার। ক্যান আই হেল্প ইউ?
পিছনে ঘুরে তাকালাম। একটা মিষ্টিভাষি মেয়ে আমার পিছনে দাঁড়িয়ে আছে! মুখে মুচকি হাসি। তার কন্ঠ যেমন মিষ্টি! দেখতেও তেমন সুন্দর । মেয়েটা সেলসগার্ল। এখানেই চাকরি করে!
-স্যার। কোন সমস্যা!
মুচকি হাসি দেওয়ার চেষ্টা করলাম। কিন্তু হাসি আসল না! শুকনো হাসি দিয়ে বললাম
-জ্বি একটু সমস্যা।
-কি সমস্যা স্যার! আমাকে বলুন।
-আমি এখান থেকে কিছুই পছন্দ করতে পারছি না।
-তবে আপনি এদিকের কালেকশনগুলো দেখুন। পছন্দ হবে।
-না সেটা না। আমি কনফিউজড হয়ে যাচ্ছি কোনটা রেখে কোনটা পছন্দ করব!
.
মেয়েটা এবারে চোখ বড় বড় করে তাকাল। পরক্ষণেই স্বাভাবিক হয়ে মুচকি হাসল। অবাক হওয়ার মত বিষয়। আগে বোধহয় এমন কাস্টমার দেখেনি! তাই এভাবে তাকাচ্ছে।
-আমি আপনাকে সাহায্য হেল্প করব?
মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে উত্তরের আশা করছে। আমি ঝটপট বললাম
-জ্বি। হেল্প করলে ভাল হয়। আপনি যদি চুজ করে দিতেন।
.
মেয়েটা আমার সামনের দিক থেকে একটা হালকা নীল রঙের টিশার্ট বের করে বলল
-এটা নিবেন?
-হ্যা। এটা প্যাক করে দিন।
-আর কিছু লাগবে স্যার?
-না।
একটা টি-শার্ট প্যাক করে দিল। আমি প্যাকেটটা হাতে নিয়ে বেড়িয়ে এলাম।
.
-আরে আপনি!
পিছনে কালকের সেই মেয়েটি দাঁড়িয়ে আছে। আমি অবাক হয়ে বললাম
-আমাকে মনে রেখেছেন?
-কেন রাখব না বলুন। চাকুরি জীবনে আপনিই প্রথম কাস্টমার। যে আমার পছন্দের ড্রেস কিনেছেন!
-বলেন কি! তাই মনে রেখেছেন?
-বলতে পারেন। আজকেও কিছু কিনবেন নাকি?
-না, অফিসে যাচ্ছি। আপনাদের দোকানের দুই তলা উপরে আমাদের অফিস।
-তাই! চলুন তবে।
মেয়েটার সাথে হাটতে হাটতে ভেতরে ঢুকলাম। আমি সিড়ি দিয়ে উপরে উঠলাম। সে তার মত চলে গেল।
.
আজকেও দোকানে এসেছি! কিছু কেনার ইচ্ছা নেই। ভেতরে ঢুকলাম।
মেয়েটার সাথে দেখা করতে এসেছি। কিন্তু মেয়েটা কোথায়! তাকে দেখছিনা! অফিস ফাকি দিয়ে এসে কি ভুল করলাম!
.
দেখা হল না! মেয়েটা গেল কোথায়!
হেট দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছি। অন্যপাশের গেটে চোখ পরতেই দাঁড়িয়ে গেলাম। মেয়েটা অন্য গেট দিয়ে ঢুকছে!
বের হওয়ার বদলে ভেতরে ঢুকলাম।
মেয়েটার হাতে একটা কাগজ। কিসের কাগজ সেটা জানিনা। মেয়েটির কাছে দাঁড়ালাম। মেয়েটি বলল
-আপনি!
-হ্যা। আমি। আপনাকে বিরক্ত করতে এলাম।
-বিরক্ত! কিরকম বিরক্ত!
-আমার একটা উপকার করতে হবে।
-কি করতে পারি আপনার জন্য?
আমার জন্য! ফোন নাম্বার দিতে পারেন। প্রতিদিন রাতে ফোন দিয়ে কথা বলতে পারেন। আর চুটিয়ে প্রেম করতে পারেন।
কথাগুলো মনে মনেই বললাম। তার জিজ্ঞাসাসূচক চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম
-আমার সাথে এক জায়গায় যেতে হবে।
-কোথায়?
-আমার একটা গিফট কিনতে হবে। আপনার পছন্দ অনেক ভাল। তাই আপনাকে আমার সাথে যেতে হবে।
-এখন তো যেতে পারব না। তিনটায় আমার অফিস শেষ হবে।
-আচ্ছা তিনটায় আমি অপেক্ষা করব।
-আপনি বরং আমার ফোন নাম্বার নিয়ে যান।
ফোন নাম্বার! এ তো মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি! আমি এটাই চাইছিলাম। ফোন বের করে বললাম
-জ্বি বলুন।
-০১৭৫৬৮৮****
-কি নামে সেইভ করব?
-দোলা।
-আচ্ছা আমি আসি।
.
ফোন নাম্বার সেভ করেই বেড়িয়ে এলাম। ভাবিনি এত সহজে ফোন নাম্বার পেয়ে যাব! ভাবতেই যেন অন্যরকম লাগছে। খুশিতে নাচতে ইচ্ছা করছে। কিন্তু নাচার কোন পরিবেশ নেই। এখানে নাচানাচি করলে মানুষ পাগল বলবে। অবশ্য প্রেমে পরলে মানুষের হিতহিত জ্ঞান কমে যায়।
.
তিনটা বাজে। রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু দোলা এখনো আসল না! ফোন বের করে দোলার নাম্বারে ফোন দিলাম। কিন্তু রিসিভ করছে না! অন্য কারো নাম্বার দেয়নি তো!
এর আগে একবার এমন হয়েছিল। আমার বন্ধু একটা মেয়ের প্রেমে পরেছিল। একটা ছুতোয় মেয়েটার কাছ থেকে ফোন নাম্বার চেয়েছিল। মেয়টা বুঝতে পেরে একজন পুলিশের বউ এর নাম্বার দিয়েছিল। পরে সেটা নিয়ে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়েছিল।
দোলাও কি তেমন করল! আমি তার প্রেমে পরেছি সেটা বুঝে গেল!
.
-চলে এসেছি। চলুন।
দোলা আমার সাথে হাটতে শুরু করল। আমি ফোন নাম্বারের ব্যাপারটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য বললাম
-আপনাকে ফোন দিয়েছিলাম। রিসিভ করেন নি।
-ওহ। আমি আপনাকে দুর থেকেই দেখেছিলাম। তাই রিসিভ করিনি।
-আপনি বুঝলেন কিভাবে আমি ফোন দিয়েছি?
-এটা তো সিম্পল। দুর থেকে দেখলাম আপনি ফোন কানের কাছে ধরে রেখেছেন। তাই বুঝে গেলাম।
ফোন নাম্বার পেয়ে তাকে যত বোকা ভেবেছিলাম। মেয়েটা তত বোকা নয়! সাবধানে এগোতে হবে। নাহলে ধরা খেয়ে যাব।
.
দোলার সাথে হাটতে হাটতে একটা গিফটের দোকানে ঢুকলাম। সে বলল
-আপনার নামটাই জানা হল না!
-আমি রাব্বি।
-কোন অনুষ্ঠানের জন্য গিফট কিনবেন?
-না।
-বন্ধুর জন্মদিন?
-না।
-তাহলে নিশ্চয় গার্লফ্রেন্ড এর জন্য?
গার্লফ্রেন্ড! আমি গার্লফ্রেন্ড কোথায় পাব! সিঙ্গেল একটা ছেলে তার সাথে লাইন মারার চেষ্টা করছি। আর এমন কথা!
আমাকে চুপ থাকতে দেখে দোলা বলল
-গার্লফ্রেন্ড এর জন্য হলে নিয়মিত আপনার সাথে আসতে পারি। গার্লফ্রেন্ডকে গিফট দিয়ে খুশি রাখা বয়ফ্রেন্ড এর দায়িত্ব। অবশ্য আমার পছন্দ করা গিফট তার পছন্দ হবে নাকি!
-আরে নাহ। আমার গার্লফ্রেন্ড তেমন না।
-তাহলে ঠিক আছে।
দোলা গিফট দেখছে। আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে আছি। নিজেকে সিঙ্গেল থেকে ডাবলে পরিণত করলাম! প্রেমের আগেই ভবিষ্যৎ প্রেমিকা জানল আমার গার্লফ্রেন্ড আছে!
ধুর অত ভেবে কি হবে! গিফট কেনার ছুতোয় পাশে থাকা যাবে তো!
.
আমার হাতে গিফটের প্যাক। দোলার সাথে রাস্তায় হাটছি। দুজনেই চুপচাপ। নীরবতা ভেঙে বললাম
-আপনার পছন্দ করা টি-শার্টটা অনেক সুন্দর হয়েছে। আমার বন্ধুরাও দেখে অনেক পছন্দ করেছে।
-তাই!
-হুম।
সেদিন টি-শার্ট কিনে রুমে নিয়ে ফেলে রেখেছি। দোলাকে দেখার পরে ওসব নিয়ে ভাবার সময়ই হয়নি।
-তো রাব্বি সাহেব! হেটেই বাসায় যাবেন নাকি?
হাটতে হাটতে অনেক পথ চলে এসেছি। তার সাথে হাটতে একটা ঘোরের মধ্যে ঢুকে গিয়েছি। বুঝতেই পারিনি এত পথ চলে এলাম!
আমি বললাম
-আরে না! চলুন রিক্সায় করে দুজন একসাথে যাই।
-না। সেটা হবে না।
তাকে রিক্সায় চড়ার অফার দিলাম। না করে দিল! প্রেমের অফার দিলে কি হবে!
আমাকে বোকার মত তাকিয়ে থাকতে দেখে বলল
-আমার বাসা তো সোজা রাস্তায়। আর আপনারটা বাম দিকে।
-আপনি কি করে জানলেন!
-সকালে আসতে দেখেছিলাম।
তার মানে দোলা আমাকে দেখেছে! আমার মত একটা ছেলেকে দেখেছে! ভাবতেই অন্যরকম লাগছে।
-আপনি এখন গার্লফ্রেন্ড এর সাথে দেখা করতে যাবেন?
দোলার কথায় ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলাম। আরে গার্লফ্রেন্ড থাকলে কি এখন এভাবে ঘুরতাম! এক মিথ্যা কথা এভাবে বারবার শুনতে হচ্ছে! কোন উপায় না দেখে বললাম
-হ্যা।
-তবে আমি বাসায় যাই। আপনি দেখা করতে যান।
.
দোলা রিক্সায় উঠে চলে গেল। যাওয়ার আগে বলল
-বাসায় গিয়ে আপনাকে ফোন দিব।
বাসায় গিয়ে ফোন দিবে! তবে তো বেশ ভাল। আমার মত ছেলেগুলো এমনই। কোন মেয়ের সাথে ভালভাবে কথা বলে কাছে আসার সুযোগ পেলেই ভেবে নেই তার সাথে প্রেম হয়ে গিয়েছে!
.
বাসায় এসেছি কয়েক ঘন্টা হল। কিন্তু দোলা ফোন করেনি! মেয়েটা কি জানেনা আমি তার ফোনের আশায় বসে আছি।
নিজেই ফোন দিব! কিন্তু বেহায়ার মত এভাবে ফোন দেওয়া ঠিক হবে! প্রেমে পরলে বেহায়া হতে হয়।
.
ফোন দেওয়ার সাথে সাথে দোলা রিসিভ করে বলল
-কি খবর?
-এইত বেশ।
-গিফটা আপনার গার্লফ্রেন্ডকে দিয়েছেন?
-টেবিলের উপর রাখা গিফটের দিকে তাকিয়ে বললাম
-হ্যা!
-কি বলল?
-তার খুব পছন্দ হয়েছে।
.
কথা বলতে বলতে আধা ঘন্টার বেশি সময় পার হয়ে গিয়েছে। দোলা কথা বলে যাচ্ছে। আমি অল্প অল্প কথা বলছি। মেয়েটা মিশুক প্রকৃতির। সহজেই কারো সাথে ভাল সম্পর্ক হয়ে যায়।
দোলা বলল
-এই যাহ। আমি তো আপনার সমস্যা করছি।
-কেন বলুন তো!
-আমার সাথে এভাবে কথা বলছেন। আপনার গার্লফ্রেন্ড যদি ওয়েটিং পায়!
আবারো! মেয়েটাকে কেন যে তখন গার্লফ্রেন্ড এর কথা বলেছিলাম! এছাড়া উপায় ও ছিল না।
আমি বললাম
-না, সমস্যা নাই।
-আমি রাখছি।
ফোন কেটে দিল! কি আর করা!
.
টেবিলে রাখা গিফটগুলোর দিকে তাকিয়ে আছি। একমাসে পুরো টেবিলটা গিফটে ভর্তি করে ফেলেছি। এগুলো সব দোলার পছন্দে কেনা। এতদিনে আমাদের সম্পর্কটা আপনি থেকে তুমিতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু আগ বাড়িয়ে কিছু বলার সুযোগ পাচ্ছিনা। প্রতিদিন অফিস শেষে তার সাথে বের হই। আসার আগে একটা গিফট কিনে আনি। গিফটের ছুতোয় নিয়মিত তার সাথে দেখা হয়, কথা হয়। বাসায় এসে নিয়মিত বানিয়ে বানিয়ে গল্প বলতে হয়। গার্লফ্রেন্ড গিফট পেয়ে কি বলল সেই গল্প বলি।
.
দোলাকে ফোন দিলাম। এতক্ষণ ধরে গল্প তৈরি করলাম। আজ গিফট দেখে গার্লফ্রেন্ড এর রিএ্যকশন কি ছিল সেটা বলতে হবে।
দোলা রিসিভ করেই বলল
-হ্যা বল।
-আজকে..
দোলা আমাকে থামিয়ে দিয়ে বলল
-আজ কোন গল্প শুনব না। আমি তোমার গার্লফ্রেন্ড এর সাথে পরিচিত হব। তুমি তার সাথে আমাকে কথা বলিয়ে দিবে।
এই সেরেছে! গার্লফ্রেন্ড এর সাথে কথা বলাব কিভাবে! গার্লফ্রেন্ড থাকলে তো কথা বলাব। এবারে কি তবে ধরা খেয়ে যাব!
ভাবতে ভাবতে বললাম
-কথা না বললে হয় না!
-কেন?
-না মানে ফোনে ও কারো সাথে কথা বলেনা।
-আচ্ছা! তাহলে কালকে দেখা করাও।
দেখা করাব! কিভাবে দেখা করাব! কোথায় পাব তাকে!
.
দোলা বলল
-দেখা করাবে না!
-না মানে…
-কোন মানে নয়। কালকে আমার অফিস ছুটি। কালকে তুমি আমার সাথে হাতিরঝিল দেখা করবে। সাথে যেন তোমার গার্লফ্রেন্ড থাকে।
-দোলা..
-কোন কথা শুনতে চাইনা।
দোলা ফোন কেটে দিল! আমি এখন গার্লফ্রেন্ড পাব কোথায়! কালকে দেখা করতে গেলে ধরা খেয়ে যাব। কি করা যায়!
কিছুই মাথায় আসছেনা। বিছানায় শুয়ে ভাবছি আর ভাবছি।
.
হাতিরঝিল দাঁড়িয়ে আছি। একা একাই দাঁড়িয়ে আছি। গার্লফ্রেন্ড হিসেবে কাউকে ভাড়া করে আনতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেটাও হয়নি।
একটু পরেই দোলা আসবে। তাকে কি বলব সেটাই চিন্তা করছি।
.
দোলা এসে আমার পাশে বসল। আমি চুপ করে বসে আছি। আগ বাড়িয়ে কিছু বলতে গেলেই ধরা খেয়ে যাব।
দোলা বলল
-তোমার গার্লফ্রেন্ড কোথায়?
-আসেনি। ওর একটা কাজ পরে গিয়েছে।
-আমাকে তোমার গাধী মনেহয়!
-মানে!
-যা বুঝাবে তাই বুঝব! গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে বানিয়ে গল্প বলবে সেটা আমি বুঝব না!
-মানে কি এসবের!
-তোমার কোন গার্লফ্রেন্ড নেই। আমাকে মিথ্যা বলেছ।
আমি চুপ করে থাকলাম।
দোলা বলল
-গার্লফ্রেন্ড থাকলে প্রতিদিন গিফট নিয়ে বাসায় যেতে না। বাসায় গিয়ে সাথে সাথে ফোন দিতে না। বানিয়ে মিথ্যা গল্প বলতে না।
-না মানে..
-এই এক মাসে তোমাকে ভালভাবে চিনেছি। তোমার মিথ্যা কথা আমি ঠিক ধরতে পারি। কেন করলে এমন! প্রতিদিন আমার কাছে আসার জন্য এমন মিথ্যা বললে!
.
দোলা রেগে গিয়েছে। আমি তাকে মিথা বলে ভুল করেছি। কাউকে মিথ্যা বলে এমন করা হয়ত ঠিক হয়নি। কিন্তু কি করব! ভালবাসার মানুষটার কাছে আসার জন্য উপায় তো লাগবেই!
দোলা উঠে চলে যাচ্ছে। আজকের পর থেকে মনেহয় কথা হবেনা। ওর সাথে রিক্সায় চড়ে বেড়ানো হবেনা। ধুর!
ভেবেছিলাম এভাবে চলতে চলতে একদিন সব বলব। কিন্তু…
.
আমি দোলার উল্টো দিকে হাটছি। দোলা যাওয়ার পরে একবারও তাকাইনি। ওর দিকে তাকালে আরো কষ্ট লাগবে। তারচেয়ে নীরবে চলে যাওয়াই ভাল।
.
-রাব্বি।
পিছনে তাকালাম। দোলা আমার পিছন পিছন আসছে! নতুন করে আবার কিছু বলবে বোধহয়। নিজেকে তার জন্য প্রস্তুত করলাম। দোলা আমার কাছে এসে বলল
-এতদিনে কেনা গিফটগুলো আমাকে দিয়ে দিবা।
-কেন!
-ওগুলো তো আমার জন্য কেনা। আজ বিকেল থেকে তোমার পছন্দমত গিফট কিনে আমাকে দিবা।
-মানে কি!
-আরে হাদারাম। সারারাত রামায়ণ পড়ে সকালে বলছ গীতা কার বাপ!
আমি হাসলাম। বোকার মত হাসি দিয়ে দোলার দিকে তাকালাম। আজ থেকে দোলার জন্য গিফট কিনব! বানিয়ে বানিয়ে গার্লফ্রেন্ড এর গল্প বলতে হবে না। আজ থেকে দুজন মিলে গল্প তৈরি করব!
.

গল্পটা বন্ধুত্বের

Now Reading
গল্পটা বন্ধুত্বের

ছবিটা দেখে মনে হতে পারে এখানে বন্ধুত্বটা কোথায়?
বন্ধুত্ব আছে এখানেই, সম্পর্ক, ভালোবাসা, বন্ধন। ছবিটা সেন্টমার্টিন এর পথে তোলা ,যখন আমরা জাহাজে ছিলাম। জাহাজটা ছাড়ার সময়টা সঠিক মনে নাই,তবে মিষ্টি রোদের অসাধারণ অনুভূতির কথাটা মনে আছে। আমরা গিয়েছিলাম সর্বমোট ৮জন বন্ধু । একসাথে কত মজা আরো কত কি । জাহাজটা ছেড়ে দিল সময় মত। আমরা জাহাজের ভিতরে জায়গা না পাওয়ায়,বাইরে দাড়াতে হয়েছিল। জাহাজটা ধীরে ধীরে সামনে যাচ্ছিল। অসাধারণ সেই সময়। সাগরের পানি ছিল মন কেড়ে নেবার মত। জাহাজটা কিছু দূর যেতেই খেয়াল করলাম এক ঝাঁক পাখি। এগুলো কোন জাতের পাখি জানা ছিল না । এখনও জানা নেই যদিও। তবে যে পাখিই হোক না কেন ,তারা খুবই সুন্দর ও অসাধারণ। আমরাও যাচ্ছি সামনের দিকে ওরাও আসছে আমাদের সাথে সাথে। আমরা তাদেরকে খাবার দিচ্ছি ,তারাও খাচ্ছে ,কাছে আসছে । আমরা ভেবেছিলাম যে ,ওরা সম্ভবত খাবারের লোভেই আমাদের সাথে আছে তথা জাহাজের সাথে আছে ,মাঝপথে আসলে ফিরে যাবে আবার । কিন্তু অবাক করা কথা হল ওরা পুরোটা পথ জাহাজের সাথে ছিল। আমাদের যেতে দেড় ঘন্টার বেশি লেগেছিল,ওরা আমাদের সাথেই ছিল । এবার আসি বন্ধুত্বের কথায়।

বন্ধুত্বটা হল এক নিঃস্বার্থ বন্ধন। যেটা ছিল ওই পাখিগুলো আর জাহাজের ভিতর। ভাবতে পারেন এটা আবার কেমন বন্ধুত্ব । আমি বলবো এটাই বন্ধুত্ব। এরা একে অন্যের পরিপূরক। জাহাজ চলে সাগরের বুকে নিজ গতিতে আর পাখি চলে তারই সাথে তালে তাল মিলিয়ে। এখানে কেউ একা নয়। পাখি যেন জাহাজের শোভা হাজার হাজার গুণ বাড়িয়ে দেয় তাদের বিচরণের মাধ্যমে। এই বন্ধনকে বন্ধুত্ব ছাড়া লোবাসা থাকত ,থাকত সম্পর্কের টান। যেমনটা আমি দেখেছি এই পাখি আর জাহাজের মাঝে। বন্ধুত্ব শুধু মানুষে মানুষেই হয় না । এমন বন্ধুত্বও আছে যেগুলো হয়ত আমাদের চোখ এড়িয়ে যায় অবিরত। কিন্তু একটু ভালোভাবে খেয়াল করলে হয়ত সবার চোখেই পড়বে এমন আরো অনেক দৃষ্টান্ত। এটাই হয়ত বন্ধুত্ব যেটা হয়ত চোখ এড়িয়ে যাবে,জানি না ।

এখানে বন্ধুত্বের দৃষ্টান্ত আছে আরো। দূরে দেখা যাচ্ছে দিগন্ত ,না ভালোভাবে দেখলে দেখবেন এখানে কোনো বিশেষ দিগন্ত নাই কারণ সাগরের দিগন্ত সাগর নিজেই । নীল রং এর এই সাগর, সাথে দেখা যাচ্ছে আকাশ। সেও নীল বর্ণেরই অধিকারী। কিন্তু কোথায় এখানে বন্ধুত্ব? আছে ,এখানেও বন্ধুত্ব বিরাজমান। সাগর যেন আকাশের সাথে মিশে গেছে, আলাদা করাটা কঠিন । একে অন্যের সাথে এমন মিশে একাকার হওয়াটা কি তাদের মাঝের বন্ধুত্বের পরিচয় বহন করে না? আমার মনে হয় করে ,এটা তাদের বন্ধুত্বেরই পরিচয় দেয়। তারা কোনো বাধা নিষেধ না মেনে একে অপরের সাথে মিশে গিয়েছে অকাতরে।

অবশ্যই এই বিষয় গুলোকে আমি বন্ধুত্বই বলব। মানুষ তাদের বন্ধু বানায় তাদের নিজেদের দরকারে তাই , এই মানুষই বন্ধুত্বের বিবরণটা নিজের মত করেই সাজিয়েছে। এর বাইরেও যে বন্ধুত্ব থাকতে পারে সেটা হয়ত আমাদের ধারণার বাইরে, তাই এই বন্ধুত্ব গুলো আমাদের চোখ এড়িয়ে যায় অবিরত। প্রকৃতি আমাদেরকে শিক্ষা দেয় বিভিন্ন দিক থেকে , সেটা হোক না পরোক্ষ ভাবে ,তাতে দোষ কি?

সেন্টমার্টিনের ভ্রমণটা আমার জীবনের সেরা ছিল, যেখানে আমি শিক্ষা নিয়েছি প্রকৃতি থেকে। আমরা ছিলাম প্রায় ২ দিন ,কিন্তু মনে হয়েছিল ২ বছর ছিলাম । এই সেন্টমার্টিন আমাদের দেশের গর্ব, যেখানে আমাদের একবার হলেও যাওয়া দরকার ,যেটা আমাদের শিক্ষাকে হাজার হাজার গুণ বাড়িয়ে দিবে।

ফেরার বেলা চলে এলো। ফিরে তো যেতে হবেই , তবে যেতে মন চাইছিল না ,কারণ যায়গাটা এতটাই সুন্দর ছিল যে ছেড়ে যেতে কারোরই মন চাইবে না। আমরা তৈরী হলাম ফিরে যাবার জন্য। সময় মত পৌছে গেলাম সাগরের পাড়ে । বন্ধুরা সবাই অনেক মজা করলাম , সাথে অনেক সামুদ্রিক মাছ আর শামুকও কিনলাম। যথা সময়ে আমাদের জাহাজটাও চলে এল। জাহাজ সময় মত ছেড়ে দিল। আমরা এবারও আগের বারের মত ভিতরে যায়গা না পাওয়াতে বাইরে দাড়াতে হল। তবে এবার আর আবাক হলাম না । কারণ আমার জানা ছিল যে বন্ধুত্বের পরিচয় তারা দিবেই। আমি পাখির কথা বলছি। পাখিগুলো আবার আমাদের পিছু নিল। জাহাজকে কখন একা ফেলে গেলনা তারা। তারা সব একসাথে ছিল , কলতানে মুখরিত করে রেখেছিল । মনে হয়েছিল এক অনন্য পরিবেশে এসে পড়েছিলাম। ২ ঘন্টা কখন চলে গেল বুঝতেই পারলাম না। এখানে না আসলে বুঝতেই পারতাম না বন্ধুত্ব কাকে বলে। এক অনন্য বন্ধুত্বের উধাহরণ দিয়ে গেল তারা আর বলে গেল আমাকে যে তোমরা যাকে বন্ধুত্ব বলো আমরা তাকে বন্ধুত্ব বলি না আমরা তাকে স্বার্থপরতা বলি । যাকে অন্য কোনো ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না।

ছবিও কথা বলে । তবে ছবি তখনই কথা বলে যখন জানা থাকে ছবির ঘটনাবলি। তবে বিভিন্ন ভাবে একটা ছবিকে কথা বলানো যায় তার জন্য জানা থাকা লাগবে প্রেক্ষাপট।

অবশেষে চলে এলাম টেকনাফ । এবার বাড়ি ফেরার পালা । বাড়ি যাব ঠিকই কিন্তু এই ভ্রমণ অর্থহীন নয় । নিয়ে যাচ্ছি অনেক কিছু নিজের সাথে । প্রাপ্তি ছিল অনেক বেশি । আফসোস ছিল এটাই ,হয়ত আর কয়টা দিন জীবন থেকে খরচ করে ,কর্মব্যস্ততাকে ভুলে , এখানে থাকলে আরো কিছু পেতাম। শিক্ষা নিয়ে যেতাম আরো কিছু প্রকৃতি থেকে যেটা কখনই পাওয়া সম্ভব না এই কর্মব্যস্ততার মাঝে। যেটা শুধু মাত্র পাওয়া সম্ভব প্রকৃতি থেকে। বন্ধুত্ব যে এমন একটা বিষয় যেটা অনেক বেশি পবিত্র কিন্তু আমাদের সমাজে অন্য ভাবে ব্যবহার করা হয় । প্রকৃতি আমাদেরকে প্রতিনিয়ত শিক্ষা দেয় বিভিন্ন ভাবে , বিভিন্ন উপায়ে। কিন্তু যখনই সেটা আমরা সেটাকে নিতে না পারি সেটা তার গুণ হারায় । আমাদের জীবনের চলার পথে এমন অনেক কিছু হয়ে থাকে যেগুলা সহসা আমাদের চোখ এড়িয়ে যায় । যেগুলা আমাদের চোখ না এড়ালে আমরা জীবনের বিভিন্ন যায়গায় এগুলা প্রয়োগ করতে পারি আর জীবনকে আরো সুন্দর করতে পারি।

অবশেষে চলে এসেছি লেখার শেষ প্রান্তে। বন্ধুত্বের সাথে আরো অনেক কথাই বলে ফেললাম এখানে , আশা করি সকল কথা সবার মতামতের সাথে না মিলতে পারে তবুও কিছু শিক্ষার কথা সবার সাথে ভাগ করে নিলাম না হয়

যুবসমাজ জুড়ে চলছে ভার্চুয়াল সম্পর্কের আগ্রাসন

Now Reading
যুবসমাজ জুড়ে চলছে ভার্চুয়াল সম্পর্কের আগ্রাসন

বর্তমানে ভার্চুয়াল জীবনের একটা কমন বিষয় হলো প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে যাওয়া। স্বভাবগত কারণেই আমাদের বিপরীত লিঙ্গের দিকে আকর্ষণ কাজ করে। তাদের সাথে চ্যাট করতে ভালো লাগে।ভালো  একটা বন্ধুত্তের সম্পর্ক গড়ে উঠে। চ্যাট করতে করতে একটা সময় সম্পর্কে জড়িয়ে যায়। কিন্তু এ সম্পর্কে জড়িয়ে আমরা কি পেয়েছি এবং কি হারিয়েছি তা কি আমরা একবারও ভেবে দেখেছি?

আমাদের যুবসমাজ কি এতটা বোকা?

আমরা যদি একটু খেয়াল করি তাহলে দেখতে পারবো এই ভার্চুয়াল জীবনের সাথে জড়িয়ে অনেক মেয়েই তাদের সবটা হারিয়েছে। অনেক সময় ছেলেরাও। তাও আমরা ভূল করি। ভার্চুয়াল জগতের আবেগ গুলো বড়ই অদ্ভুত। কত সহজে একটা মানুষকে মনের উচ্চ স্থানে জায়গা দেই আবার  ঠুনকো কোন কারণে একমিনিটেই ছুড়ে ফেলে দেই। কারো সাথে সম্পর্ক গড়তে যেমন সময় লাগে না, ঠিক তেমনি ঠুনকো আঘাতে সম্পর্ক গুলো ভেঙে চুরমার হতেও সময় লাগে না। যে মানুষ টি আজ আমাদের ক্লোজ লিষ্টে আছে, দু’দিন পর সেই মানুষটিই চলে যায় আমাদের ব্লক লিষ্টে অথবা আমাদের আইডির ঠিকানা হয় তাদের ব্লক লিষ্টে ; নাহয় হয়ে যাই দুজনের দু’চোখের বিষ !

কেউ দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করতে থাকলেও খুব তুচ্ছ একটা কারণে ঘৃণার সম্পর্ক শুরু হয়। বিশ্বাস কেমন জানি ঠোনকো একটা বিষয় হয়ে গেছে। কত সহজে একটা মানুষকে বিশ্বাস করে,কথা বলে,একজন অন্যজনকে নিজেদের গোপন কথা শেয়ার করে। অনেক সময় ব্যক্তিগত  ছবি ও আদান প্রদান করে। আবার ঠিক তাকেই কোন একটা কারণে অবিশ্বাস করে। ভেঙ্গে যায় বিশ্বাস নামক ভিত্তিটা।

সম্পর্ক ভেঙ্গে দেওয়ায় মেয়েদের থেকে পাওয়া ব্যক্তিগত ছবিগুলা আবার ভার্চুয়াল সাইডে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এমন ধাক্কা খেয়ে মেয়েদের বিপরীত লিঙ্গের প্রতি একটা ঘৃণা শুরু হয়। অনেক মেয়ে আবার আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। আবার ছেলেরা ও মেয়েদের কাছ থেকে প্রতারিত হয়ে নানান অনৈতিক কাজে জড়ায়। আবার স্বভাবগত কারণে মেয়েটা কোন ছেলের প্রতি এবং ছেলেটা কোন মেয়ের প্রতি আকৃষ্ট হয়। আবার ভূল করে।

তবে হ্যাঁ এটা শুধু ভার্চুয়াল জীবনেই হয় না। বাস্তব জীবনেও হয়। তাই বলছি বাস্তব জীবনে যেখানে মানুষ প্রতারিত হচ্ছে সেখানে ভার্চুয়াল জীবন কতটা বিশ্বাসযোগ্য?

তবে একটা কথা না বললেই নয়। তা হলো ভার্চুয়াল জীবনের সবটাই যে মিথ্যে তা বলা যাবেনা। মানুষ ভার্চুয়াল জীবন থেকেও সত্যিকারের মানুষ খুঁজে পেয়েছে। এমন মানুষ যার কাছে চোখ বন্ধ করে নিজেকে তোলে দেওয়া যায়। তবে তা খুবই কম। যেমন কিছুদিন আগে একটা নিউজ পড়েছিলাম। “ছেলেটা এবং মেয়েটার ফেইসবুকে পরিচয় তারপর বন্ধুত্ব। পরিচয়ের পরই মেয়েটা জানতে পারে যে ছেলেটার দুইটা কিডনি নষ্ট। মেয়েটা চাইলেই ছেলেটাকে ছেড়ে চলে যেতে পারতো।  কিন্তু যায়নি। ছেলেটাকে একটা কিডনি দান করবে বলেছে এবং বিয়ে করে ছেলেটার পাশে দাঁড়িয়েছে।”

ভার্চুয়াল জীবনে এমন আরো কিছু ভালোবাসার নিদর্শন আমরা দেখতে পারলেও তা খুবই কম।

একেবারে অবিশ্বাস করে জীবন চলে না। সব মানুষ খারাপ হয়না। তবে অনেক খারাপের ভিতর থেকে বা কারো কাছ থেকে ধোঁকা খাওয়ার পর কাওকে খুব সহজে বিশ্বাস করা যায় না বা উচিৎ না। মনে রাখবেন অতিরিক্ত কোন কিছুই ভালো না। কাওকে অতিরিক্ত বিশ্বাস করা ও উচিৎ না। ভার্চুয়াল জীবনে হোক অথবা বাস্তব জীবনে কাওকেই অতিরিক্ত ভালবাসবেন না,কাওকে এতটা বিশ্বাস করবেন না যার কারণে আপনাকে সব হারিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হয় বা খারাপ পথে পা এগিয়ে দিতে হয় অথবা বিপরীত লিঙ্গের প্রতি বিশ্বাস নষ্ট হয়ে যায়।

আমরা সৃষ্টির শ্রেষ্ট জীব। আমাদের ভালো মন্দ বিচার করার ক্ষমতা আছে। আমরা জানি আমরা কিভাবে নিজেদের নিরাপদ রাখতে পারবো।আর কোন কাজটা করলে আমরা ভালো থাকবো। ভালো থাকা মানে এই না যে কোন একজনকে বিশ্বাস করে নিজের সবটা বিলিয়ে দিব। এবং তার থেকে প্রতারিত হয়ে আবার নিজেকে শেষ করে দিব। ভার্চুয়াল লাইফে নিজেকে জড়ান। তবে লিমিট মেনে।  মনে রাখবেন মাত্রারিক্ত কোন কিছুই ভালো না। বর্তমান যুবসমাজ ভার্চুয়াল লাইফে একটু বেশি জড়িয়ে যাচ্ছে। ভার্চুয়াল লাইফ যুবসমাজের কাছে এক ধরণের নেশায় পরিণত হয়েছে। যে নেশা থেকে বের হয়ে আসা সত্যিই খুব কষ্টের।

আমি নেশা বলেছি এবং এর জন্য যঠেষ্ট কারণ আছে।একটা মানুষ যখন নেশাগ্রস্থ হয় আমরা তাদের ভিতর কি কি অনিয়ম দেখতে পাই?

১.ইনসমনিয়া(নিদ্রা রোগ)

২.খাবারে অনিয়ম।

৩.পরিবার থেকে দূরে থাকা।

৪.বাস্তব জীবন থেকে কিছুটা দূরে চলে যাওয়া।

ভার্চুয়াল জীবনে জড়ানোর পরেও যুবসমাজের ৬০% এ সব অনিয়মে জড়িয়ে যাচ্ছে। আমরা যুবসমাজ ভার্চুয়াল জীবনে জড়িয়ে যাওয়ার পর নিজেদের পরিবারকে কতটা সময় দেই? ভার্চুয়াল জীবনে জড়ানোর পর আমরা অনেকে ভূলে যাই যে আমাদের একটা পরিবার আছে। অনেক সময় ভার্চুয়াল কাওকে সময় দিতে গিয়ে নিজের পরিবারের কারো না কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করছি।

আমার লেখা কথাগুলো কতটা সত্যি তা যে বা যারা আমার লেখাটা পড়ছেন তারা একবার ভেবে দেখেন।

যুবসমাজের কাছে একটাই অনুরোধ, ভার্চুয়াল লাইফ আমাদের সব কিছুনা। নিজের বাস্তব মানুষদের সময় দিন। পরিবার,আত্মীয়দের সময় দিন। তাহলে হয়তো আমরা ভার্চুয়াল লাইফে ভূলটা কম করবো। লিমিট রেখে চলুন।

প্রতিশোধ – পর্ব ৫

Now Reading
প্রতিশোধ – পর্ব ৫

 

হেমা রুমমেটদের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে এবং ২ টা স্টুডেন্ট পড়িয়ে যে টাকা পেত তা দিয়ে পরীক্ষা পর্যন্ত চলে।
পরীক্ষা শেষ হওয়ার সাথে সাথে আবার জব খুঁজা শুরু করে।
একটা জব পেয়েও যায়।
নতুন জব এ ঢুকার পর একটা ছেলের সাথে পরিচয় হয়। ছেলেটার নাম হিমেল।হেমা ছেলেটাকে এড়িয়ে চলে। নতুন কোন ঝামেলায় আর নিজেকে জড়াতে চায় না।
একদিন হিমেল হেমার সামনে এসে দাঁড়ায়।

হিমেলঃ আমি জানি তুমি কেন আমাকে এড়িয়ে চলো।
হেমা ভয় পেয়ে যায়। যে ঘটনা থেকে দূরে থাকার জন্য এত দূর আসা তা এখানে ও তাকে তাড়া করছে!
হেমাঃ কি জানেন আপনি?
হিমেলঃ তুমি কেন ছেলেদের এড়িয়ে চলো তা।
হেমা চুপ করে আছে।
হিমেলঃ তোমার জীবনে এমন কিছু ঘটে গেছে যার জন্য তুমি দায়ী না। কোন অপরাধ না করেই তুমি শাস্তি পেয়েছিলে।
হেমাঃ আপনি কি করে জানলেন?
হিমেলঃ তুমি যেদিন এখানে জয়েন করেছো সেদিন তোমাকে দেখেই আমার ভালো লেগে যায়।তোমার সাথে কথা বলার চেষ্টা করেছি।কিন্তু তুমি আমাকে এড়িয়ে গেছো।

তোমার সিভি থেকে তোমার বাড়ির ঠিকানা যোগার করে তোমাদের গ্রামে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে সবটা জানতে পারি।
ভেবেছিলাম তোমার বাসায় যাবো।কিন্তু পরে আর সাহস পাইনি।
হেমাঃ সবটাই তো জেনে গেছেন।এখনো আমার পিছনে পরে আছেন কেন?
হিমেলঃহুম সবটা জেনেছি।আর আমি জানি এতে তোমার কোন দোষ ছিলো না।তুমি শুধু শুধু নিজেকে এভাবে সব কিছু থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছো।

হেমাঃ মানে?
হিমেলঃ দেখো আমি সবটা জেনেছি এবং সত্যিটা জেনেছি।যে সত্যিটা তুমি সবাইকে বলেছো কিন্তু কিছু লোক ছাড়া আর কেও বিশ্বাস করেনি।আর আমি তোমার বলা সত্যিটা বিশ্বাস করেছি।
হেমা চুপ করে আছে।

হিমেলঃহেমা আমি আমার মা কে তোমার কথা বলেছি।তোমার সাথে যা যা ঘটেছে সবটা বলেছি।আমার মা বলেছে তোমাকে মেনে নিতে তার কোন সমস্যা নেই।তুমি চাইলে মা তোমার বাসায় বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যাবে বলেছে।
হেমাঃ এসব জেনে ও তিনি রাজি হলেন?
হিমেলঃ হুম। মা শুধু একটা কথাই বলেছে,এর থেকে বেশি কিছু হলে ও মা তোমাকে মেনে নিতো।যে অন্যায় তুমি করোনি তার শাস্তি ও তুমি প্রাপ্য না।
হেমা হিমেলের দিকে তাকিয়ে আছে।
হিমেলঃতুমি ভাবার জন্য সময় নাও।ভেবে আমাকে জানিও।
এ কথা বলে হিমেল চলে গেলো।

 

হেমা কি করবে বুঝতে পারছেনা।নতুন কোন আঘাত হেমা সামলাতে পারবে না।হিমেলের বলা কথাগুলা বিশ্বাস করবে কিনা তাও বুঝতে পারছে না।এ ব্যাপারে কথা বলবে এমন কেউই নেই।

অনেক দিন হয়ে গেলো।হেমা হিমেলকে কিছু জানায়নি।
হিমেল ছেলে হিসেবে ভালো।কিন্তু হেমা ভয়ে হিমেলের সাথে কোন সম্পর্কে জড়াতে চায় না।
একদিন হিমেল হেমাকে বললো…

হিমেলঃহেমা তুমিতো আমাকে কিছু জানালে না।
হেমা হিমেলকে কি বলবে তা ভেবে পাচ্ছে না।
হিমেল হেমাকে অনেক বুঝানোর পর হেমা রাজি হলো।
হেমা হিমেলকে বললো ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষা শেষ হলে তারপর হেমার বাসায় বিয়ের প্রস্তাব পাঠাতে।
হিমেল ও রাজি হলো।
হেমা আর হিমেল এর জীবন ভালোই কাটছে।
হঠাৎ করে এলোমেলো হয়ে যাওয়া হেমার জীবন নতুন করে রং খুজে পেয়েছে।

ফাইনাল ইয়ার এর পরীক্ষা চলে আসলো।
হেমা আর হিমেল খুব খুশি।পরীক্ষা শেষ হলেই হিমেল ওর মা কে নিয়ে হেমার বাসায় যাবে।

হেমার পরীক্ষা শেষ হয়ে গেলো।
হেমার বাসা থেকে হেমাকে কল করে বলল যেনো ঐ দিনই হেমা বাড়ি আসে।

হেমা বাসায় জানালো ভাইবা পরীক্ষার পর বাসায় আসবে।কিন্তু হেমার বাবা কিছুতেই রাজি হলো না।ঐ দিনই বাসায় যেতে বললো।
বাবা অনেক জোর করার পর হেমা বাসায় যেতে রাজি হলো।
হেমা ভাবলো এখন তাদের কথা না শুনলে বাসা থেকে হিমেল কে সহজে মেনে নিবে না।

তাই ব্যাগ গুছিয়ে বাসার দিকে রওনা হলো।
বাসায় গিয়ে যা শুনলো তাতে হেমা নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না।হেমাকে না জানিয়েই বিয়ের সব আয়োজন করে ফেলেছে।
হেমা কিছুতেই বিয়ে করতে রাজি হলো না।
বাবাঃএই বিয়েটা তোকে করতেই হবে।সমাজে মুখ দেখাতে পারছিনা।আর কোন ছেলেই তোকে বিয়ে করতে রাজি হয় না।ছেলেটা ভালো তাই তোকে বিয়ে করবে বলেছে।
হেমাঃকিন্তু বাবা আমাকে একবার জিজ্ঞেস ও করলে না? চিনি না জানিনা একজন কে কিভাবে বিয়ে করবো?
আর তাছাড়া আমি একজনকে পছন্দ করি।ও আমার সবটা জানে।আর জেনেই আমাকে বিয়ে করতে চেয়েছে।কিছুদিন এর মধ্যে আমাদের বাসায় আসবে বলেছে।বাবা তুমি বিয়েটা না করে দাও।এই বিয়েটা করা আমার পক্ষে সম্ভব না।

বাবাঃআমি ছেলেটা কে কথা দিয়েছি।বিয়েটা তোকে করতেই হবে।এমতেই তোর জন্য আমরা সমাজে মুখ দেখাতে পারছি না।তোর জন্য নতুন করে আমি আর কারো কাছে অপমানিত হতে পারবো না।বিয়েটা না করলে এ বাড়ির কারো সাথে আর তোর সম্পর্ক থাকবে না।
হেমা সবাইকে বুঝাতে চেষ্টা করলো।কিন্তু কেও হেমার কথা শুনলো না।
বাধ্য হয়ে হেমা বিয়ে করতে রাজি হলো।
বিয়ে পড়ানোর সময় বর এর নাম শুনে হেমা চমকে গেলো।
হেমা দ্বিতীয় বারের মত ধাক্কা খেলো।হেমার সাথে এসব কি হচ্ছে?

 

চলবে….

প্রেমের একটু গভীরে!

Now Reading
প্রেমের একটু গভীরে!

 

রাত ২ টা।

বৃষ্টি ঘুমহীন চোখে  বিছানায় গা-দুলিয়ে বসে আছে। অপেক্ষা শব্দটা তার মাইগ্রেনের ব্যাথা বাড়িয়ে দিচ্ছে। চয়নের ফোন ওয়েটিং। সকাল ৮টায় ক্লাস করবে বলে বৃষ্টি আজ ১২টার মধ্যেই ঘুমাবে এই পণ সে সেই সন্ধ্যা বেলাতেই করে রেখেছিলো। সময়ের সাথে সেই পণ হেরে গিয়ে এখন অসহ্য যন্ত্রনার মাথা ব্যাথার সাথে হাত মিলিয়েছে। তাদের নতুন আরেকটা পণ, আজ তাকে ঘুমোতে দিবেনা! বৃষ্টিও তাদের যৌথ মিশনের কাছে তাকে জিতাতে চায়না, বরং হেরে গিয়ে অসহ্য যন্ত্রনা কে সহ্য ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত করাতে চায়। কারন এটাও যে তার একটা বড় পণ, সে প্রতিরাতে চয়নকে শুভ রাত্রি বলেই ঘুমোতে যায়!

শেষবারের মতো কলটাও তাকে নিরাশ করলো। ওয়েটিং। ব্যার্থ প্রচেষ্টায় অপেক্ষার কাছেই সে হেরে গেলো । কাঙ্ক্ষিত জয়ের পথে পরাজয় বরন করে নেওয়ার একটা সুফলও রয়েছে বটে। অবাঞ্ছিত চোখের পানি। যা কষ্টগুলোর গভীরতা নির্নয় করে উত্তপ্ত নিউরন গুলোকে ঠান্ডা করে দিয়ে বিশ্রামে পাঠায়। বৃষ্টিও বিশ্রামে। তবে ঘুমের ফাকেও  তার অজান্তে অনুমতিহীন চোখের পানি গুলো গালের উপর সরলরেখা একে যাচ্ছে অনবরত!

রুপবতী মেয়েদের কান্নার পর রুপে এক ধরনের সরলতা চলে আসে। অবিরাম বৃষ্টির পর মেঘ মুছে আকাশের বুকে নিখাদ সরলতার যে নীল রেখা ফুটে উঠে একরকম ঠিক সেই সরলতা। এই সরলতা চোখের তৃপ্ততা বাড়ায়। আপাতত আয়না ছাড়া এ তৃপ্ততার ভাষা বুঝার মত বৃষ্টির আশেপাশে কেউ নেই। বৃষ্টির হয়তো ভালো লাগতো যদি আয়না মুখ ফুটে বলতে পারতো “বৃষ্টি তুমি খুব সুন্দর”! গ্রহের সবচেয়ে সুন্দরী মেয়েটাকে প্রতিনিয়ত আমার মধ্যে ধারন করতে পারায় আয়না সমাজ আজ আমাকে নিয়ে গর্বিত। আমাদের সমাজে সুযোগ পেলেই সকল আয়নারা আমাকে নিয়ে যার যার অবস্থান থেকে আনন্দ মিছিল করে, উচ্ছ্বাসের বৃষ্টি নামায়! মিছিলের স্লোগান হয় “ধন্য মোরা ধন্য, বৃষ্টি তোমার জন্য”! বৃষ্টি চুপচাপ। বোবা আয়নায় নিজের প্রতিবিম্ব দেখে ৮ টায় ক্লাস মিস করার ব্যর্থতার বেদনায় কেমন ঘাবড়ে যাচ্ছে। কতদিন ক্লাস করা হয়না!

আজ তার একটা বড় কাজ। চয়ন শেষ রাতে মেসেজ দিয়ে রেখেছে। সে আজ দেখা করতে চায়। তাই সে আজ সাজবে। ঠিক চয়নের পছন্দের সাজে। নীল শাড়ীতে ঠোটে হালকা লাল রঙের লিপস্টিক। কপালে একটা মৃদু টিপ। চুল গুলোকে খোলা রেখে হাতে নীল রঙের চুড়ি। কানে ছোট করে ইচ্ছে রঙের এক জোড়া দুল। তাদের প্রথম দেখায় বৃষ্টি ঠিক এভাবেই সেজে গিয়েছিলো। চয়ন সেদিন কোন কথা না বলে টানা ৩০ মিনিট বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে ছিলো। বৃষ্টিকে অবাক করে দিয়ে ৩০ মিনিট পর চয়ন কথা বলেছিলো তাও আবার রবি ঠাকুরের কবিতা দিয়ে,

“তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি

শত রূপে শত বার

জনমে জনমে, যুগে যুগে অনিবার।

চিরকাল ধরে মুগ্ধ হৃদয়

গাঁথিয়াছে গীতহার,

কত রূপ ধরে পরেছ গলায়,

নিয়েছ সে উপহার

জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার”।

কবিতাটা এখনও তার মনে গেঁথে আছে। সাথে সাজটাও!

বর্ষার আকাশে ঘন কালো মেঘ। ঘন মেঘের মিছিলের ভীরে সূর্যটাও যেন হারিয়ে গেছে কোথায়। তাই বাধ্য হয়ে বিকালটা আলো হারানোর পথে। আঁধার অনেকটা ছেয়েছেয়ে ঝেঁকে বসেছে সবকিছুতে। বিকেলের আবছা অন্ধকারে বৃষ্টি ও চয়ন দুজন মুখোমুখি দাড়িয়ে। দেখে বুঝার উপায় নেই তারা একে অপরকে চিনে অনেকদিন। প্রায় ৭২২ দিন! মনে হচ্ছে আচমকা রাস্তায় ধাক্কা খেয়ে অপরিচিত দুইটা মানুষ প্রবল বিরক্তি নিয়ে একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছে। যেকোন মুহূর্তে কেউ একজন অন্যজনের দিকে দোষের আঙুল তুলে প্রবল জোড়ে একটা ধমক দিবে!

অথচ এমনটা কখনো হয়নি। বৃষ্টি ও চয়নের দেখা করার একেকটা দিন ছিলো ডায়েরিতে লিখে রাখার মত বিশেষ দিন। বৃষ্টি লিখেছেও! প্রথম দেখার পর বৃষ্টি ডায়েরিতে কি যে সব হাবিজাবি লিখেছিলো। তার মনে হয়েছিলো হাবিজাবি। অবশ্য লেখার পর প্রতিটা লেখকেরই সে লেখাকে হাবিজাবি মনে হয়। তবে কি বৃষ্টি সেদিন দিন থেকেই লেখিকা হয়ে গিয়েছিলো? ডায়েরি লেখিকা বৃষ্টি সেদিন লিখে ছিলো, “ছেলেটা কেমন বোকার মত তাকিয়ে ছিলো! একনাগারে যেভাবে তাকিয়ে ছিলো আমিতো ভেবেছিলাম বোবা নাকি! তবে তার তাকিয়ে থাকার মধ্যে কি যেন একটা ছিলো। সে একটা কিছুর মধ্যে আমি নিজেকে খুজে পাচ্ছিলাম অদ্ভুত ভাবে। আমার প্রতিটা হার্টবিট যেন তীব্র আরাধনা আর সাধনায় খুজে পাওয়া ভালোবাসার গান করছিলো। আমার ধম বন্ধ হয়ে আসছিলো তার মুখ থেকে শুধু একটা শব্দ শোনার জন্য। অথচ ছেলেটা কেমন টপটপ করে আস্ত একটা কবিতা বলে ফেললো! আমারতো কবিতা পছন্দ নয়। তবে এ কবিতায় আমার শান্ত হৃদয়ে হঠাত যে অশান্ত ঝড় বয়ে এনে দিলো তার নামই কি তাহলে প্রেম? বুঝার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু ছেলেটা যখন আলতো করে আমার আঙুল ছুঁয়ে দিলো আমি যেন প্রবল ধাক্কায় কোন অতল সমুদ্রে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে আচমকা পড়ে গেলাম। মনে মনে প্রার্থনা করে নিলাম, আমি এই সমুদ্রটাকে চাই। এখানে ডুবে থাকতে চাই। তলিয়ে যেতে চাই ভালোবাসার ওজনে। ছেলেটা এইভাবে আঙুলে আঙুল চেপে ধরে রাখবে তো আমায়? সব সময়, সারাজীবন! আচ্ছা আমি ওকে বারবার ছেলে বলছিলো কেনো? তারতো একটা নাম আছে। আমি চয়ন নামের এই ছেলেটাকে ভালোবাসি!”

আরেকদিন কি হলো, এক টিপটিপ বৃষ্টির দিন বৃষ্টির খুব মন চাচ্ছিলো একটা কদম ফুল তার খোঁপায় গেঁথে রাখতে। চয়ন সেদিন সারাবেলা হন্য হয়ে শহর জুড়ে কদম ফুল খুজে বেড়িয়েছিলো। পায়নি। ভিজে ভিজে কাঁক ভেজা হয়ে কদম না নিয়ে এসেছিলো বৃষ্টির কাছে। তার চেহারায় সে যে কি ভয়! কদম না আনায় বৃষ্টি যদি রাগ করে কিংবা মন খারাপ কিংবা অভিমান করে তখন সে কি করবে? ভয় চেহারায় কাঁপা হাতে সে একটা কাগজ তুলে দিলো বৃষ্টির হাতে। পেন্সিল দিয়ে সেখানে আঁকা ছিলো একটা কদম ফুল! চয়ন চুপসে যাওয়া ভীতু কন্ঠে বলে উঠলো, প্লিজ রাখো? আমি গাছের কদম ফুল পাইনি। তাই তোমার জন্য হৃদয় দিয়ে কদম ফুল এঁকে এনেছি। এটা আমার হৃদয়ের কদম ফুল! বৃষ্টি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো চয়নের দিকে। বৃষ্টি ভাবে এই ছেলেটা এমন কেন? কেমন পাগল! সে রাতে সারারাত বৃষ্টি পেন্সিলে আঁকা কদম ফুল বুকে নিয়ে ঘুমিয়েছিলো। তারপর সেই তারিখের গল্পটার সাথে আঁকা কদম ফুলটাকেও ডায়েরিতে আটকে দিয়েছিলো খুব যত্ন করে।

ডায়েরিতে যায়গা পাওয়া এমন অসংখ্য গল্পের চিরচেনা সঙ্গী চয়নের সামনে বৃষ্টি দাড়িয়ে আছে এক অচেনা দৃশ্যপটে। নিরবতা ভেঙ্গে হঠাত চয়নের শব্দ!    

– আমাকে ক্ষমা করে দিও বৃষ্টি!

– তোমার অপরাধ?

– তুমি মনে হয় এতদিনে ধরতে পেরে গেছো!

– কিন্তু তোমার অপরাধ নিয়েতো আমার মনে কখনো কোন প্রশ্ন তুলিনি। তাহলে ক্ষমা শব্দটা কেনো আসবে?

– কারন তোমার এমন নির্লিপ্ততাও আজ আমার ভালো না লাগার অংশ।

বৃষ্টি হাসে। বৃষ্টি কিছু একটা বলতে গিয়েও থেমে চায়। ভালোবাসার দোহাই দিয়ে চয়ন যেদিন তার পুরো শরীর চষে বেড়িয়েছিলো ঠিক সেদিন থেকেই বৃষ্টি নির্লিপ্ত। সেদিনের পর থেকে চয়নকে আর আগের মতো করে এক মুহূর্তের জন্যেও সে পায়নি। ঠিক যে চয়নে সে অভ্যস্ত, যে ভালোবাসায় সে তটস্থ। তারপর থেকে যেনো চয়নের কাছে বৃষ্টি চরম এক অবহেলার নাম, অনাকাঙ্ক্ষিত কিছুর নাম। তবে কি নিজেকেই সপে দেওয়া ছিলো তার জীবনের সবচেয়ে বড় অপরাধ? চয়নের শারিরীক চাহিদার জোরাজুরিকে ভালোবাসার সাথে এক করে ফেলাই কি ছিলো তার জীবনের সবচেয়ে বড় অপরাধ? সেতো চয়নকে ভালোবেসেছিলো। একান্ত নিজের মনে করে ভালোবেসছিলো। তবে একান্ত নিজের ভেবে ভালোবাসাটাই কি জীবনের সবচেয়ে বড় অপরাধ? তার নিজের উপর প্রচন্ড ঘৃনা হয়। ঘৃনা আর ক্ষোভে ঝলসে যাওয়া বৃষ্টি শেষবারে মত আওয়াজ করে,

– সত্যিই চলে যেতে চাও?

– হ্যা। এখন, এই মুহূর্তে সব কিছু শেষ করতে চাই। পারলে ক্ষমা করো।

বৃষ্টি কি ক্ষমা করবে চয়নকে? অথবা নিজেকে? দুটি মানুষ দুটি পথের অভিমুখী। ফিরে তাকানোর তীব্র বাসনায় মন ছিঁড়ে গেলেও ইগোর স্বৈরশাসনে বৃষ্টি আপন পথে অনড়। আকাশটা কালো মেঘে ছেয়ে গেছে। এতক্ষনের একটু থাকা আলো গুলোও কেমন অন্ধকারে এক হয়ে যাচ্ছে। বজ্রপাতের উজ্জ্বলতা খানিকের জন্য চোখ ছুঁয়ে গেলেও সেই উজ্জ্বলতা মন অবধি পৌছায়না। বরং আঁধারের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়।  বৃষ্টি হচ্ছে। ঝুম বৃষ্টি। বৃষ্টিতে বৃষ্টি ভিজে যাচ্ছে। প্রকৃতির নিদারুন খেলায় এক বৃষ্টি মেঘ থেকে ঝরে পড়ার আনন্দে অশ্রু ঝরায় অন্য বৃষ্টি মন ভাঙ্গার বেদনায় অশ্রু লুকায়। মিতার বন্ধনে আবদ্ধ একমাত্র এ বৃষ্টিরাই জানে খবর, জগতের এ ভালোবাসার খেলায় কে কার কতটা আপন কিংবা পর!

*****************

 

“ভোগ করতে ভালোবাসি, বিয়ে করতে নয়” – বর্তমান সময়ের প্রেম এবং সামাজিক অবক্ষয় (শেষ পর্ব)

Now Reading
“ভোগ করতে ভালোবাসি, বিয়ে করতে নয়” – বর্তমান সময়ের প্রেম এবং সামাজিক অবক্ষয় (শেষ পর্ব)

প্রথম পর্বটি পাঠকপ্রিয়তা পাওয়ায় দ্বিতীয় এবং শেষ পর্ব লিখতে বেশি সময় নিলাম না।

প্রথম পর্বে বলেছিলাম রূপা আর মেহেদীর ঘটনা যেখানে মেহেদী রূপার সাথে প্রতারণা করে বসে এবং রূপাকে এমন কথাও বলেছিলঃ “ভোগ করতে ভালোবাসি, বিয়ে করতে নয়”। যাইহোক, গত পর্বের লেখার শেষের দিকে লিখেছিলাম, পরের পর্বে আসবো আপুদের চরিত্র নিয়ে লিখতে; কারণ এক হাতে তো তালি বাজেনা; তাইনা? তাই আজ আপুদের সম্পর্কে একটু লিখতে যাচ্ছি। দোষ পুরুষের একারই না।

আজকের ঘটনা রিনা এবং জাহিদের।

তারাও ঢাকা শহরের একটি নামকরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী। কিন্তু দুজনই এসেছিল ঢাকার বাইরে থেকে। রিনা আর জাহিদ একই ডিপার্টমেন্টে পড়াশুনা করতো। তাদের মাঝে প্রথম দিকে তেমন একটা ভাব না থাকলেও পরবর্তীতে একটা বিশেষ কারণে বন্ধুত্ব অনেক জোরালো হয়; আর সেই কারণটি হলো ঢাকা শহরের থাকার অসুবিধা কিংবা ভালো বাসা না পাওয়া অথবা হলে বা মেসে থাকার সমস্যা। তাদের দুজনার আসলে কি সমস্যা হয়েছিল সেটি আমি স্পষ্ট করে জানতে পারিনি। কিন্তু থাকা নিয়েই সমস্যা হয়েছিল এটা নিশ্চিত। যারা ঢাকার বাইরে থেকে পড়াশুনা করতে আসে, তাদের এই সমস্যা একবার হলেও মোকাবেলা করতে হবে এটাই স্বাভাবিক। যাইহোক, তারা দুজন সিদ্ধান্ত নিল একটি আলাদা বাসা নেয়ার। সেখানে শুধু দুজনই থাকবে। তাতে করে পড়াশুনাটাও ঠিক মত হবে; সাথে নিজের মত করে থাকা যাবে। ব্যস, যেই ভাবা সেই কাজ, প্রথম প্রথম বাসা ভাড়া না পেলেও কিছুদিন পর একটি বাসা পেয়েও যায়, যে বাসা কিনা একজন কেয়ারটেকার এর আওতাধীন ছিল। বাড়ির মালিক প্রবাসী বাংলাদেশি। খুব সিম্পল; স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে সেই বাসায় তারা লিভ-টুগেদার শুরু করে। কেয়ারটেকার খুব একটা শিক্ষিত আর বুদ্ধিমান না হওয়ায় জিজ্ঞেসও করেনি ম্যারেজ সার্টিফিকেট দেখাতে আর সময়টা ছিল এখন থেকে আরো দশ বছর আগের, তখন এগুলো সচরাচর নিউজ হতোনা বিধায় তাদের বাসা পেতেও বেগ পেতে হয়নি।

এরপর তারা সেই বাসায় পরের সাড়ে ৩বছর ঠিক স্বামী-স্ত্রীর মতই ছিল। শুনেছি, দুজন প্রথম দিকে ভালোই ছিল, নিজেদের মত করে; কিন্তু ধীরে ধীরে একই ছাদের নিচে থাকতে থাকতে দুজনই দুজনের প্রতি মায়ায় আটকে যায়। ফলে, যা হবার তাই হয়- পাশ্চাত্য স্টাইলে জীবনযাপন, আই মিন, বিয়ে না করেই সংসার করা! এই ব্যাপারটি অবশ্য জাহিদ ঠিক মেনে নিতে পারছিল না, সে বারবার চাইছিল বিয়ে করতে, কিন্তু রিনা বারবার বলতো, “বিয়ে তো জাষ্ট কাগুজে ব্যাপারস্যাপার। এভাবে আমরা তো ভালোই আছি, শোনো, সম্পর্কের সবচাইতে বড় ব্যাপার হলো বিশ্বাস……”- এই টাইপের বহু কথা। জাহিদ শুনতো আর অবাক হয়ে যেত এই ভেবে যে ছোট একটা শহর থেকে উঠে আসা মেয়ের মাথায় এমন চিন্তা আসে কি করে? বাকি ঘটনা সংক্ষেপে শেষ করি- সাড়ে ৩বছরের ৩বছর ভালোই কেটেছিল। কিন্তু শেষের দিকে জাহিদ জোর গলায় বলেছিলঃ “এভাবে কোনো সম্পর্ক চলতে পারেনা! বিয়ে না করে এভাবে থাকাটা স্বাভাবিক কিছুনা, আমরা ইউরোপিয়ান বা আমেরিকান না যে এভাবে থাকবো, একে তো বাংলাদেশী তারপর আবার মুসলমান” কিন্তু রিনা ততদিনে এক বদলে যাওয়া নারী; যে মেয়ে একই ছাদের নিচে বিয়ে না করে একজন পুরুষের সাথে বছরের পর বছর থাকতে পারে, সে অন্য পুরুষের সাথেও সময় কাটাতে পারে! আসলেই তাই, জাহিদ ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি যে তার ভালোবাসার মানুষটি ততদিনে একটা অমানুষ, ডাইনী হয়ে উঠেছে। ভার্সিটিরই একটা প্রজেক্টে কাজ করতে গিয়ে কর্পোরেট লেভেলের মানুষের সাথে রিনার সখ্যতা গড়ে উঠে। এরপর এক নামীদামী প্রতিষ্ঠানের মালিকের সাথে প্রেম, অতঃপর টাকার মোহে অন্ধ রিনা জাহিদকে ফেলে সেই বড়লোকের সাথে ঘর বাঁধে। হায়রে বিশ্বাস!!

সাবস্ক্রাইব করে রাখুব বাংলাদেশীজম প্রজেক্টের ইউটিউব চ্যানেলে এখানে ক্লিক করে নতুন সব আপডেটের জন্য! 

কি, কষ্টের একটা ঘটনা তাইনা? জাহিদ যে কষ্ট পেয়েছিল, সেই কষ্ট তো আর আমার আপনাকে অনুভব করতে হচ্ছেনা, তাইনা? নাকি, আপনার জীবনেও এমন ঘটনা রয়েছে? অনেক ভালোবাসার পরেও সেই নারী আপনাকে ছেড়ে চলে গেছে?

জাহিদ আর রিনার ঘটানার ইতি টানছি একটু পরে।

আমাদের সমাজে প্রেম খুব নরমাল একটা ব্যাপার, আগের পর্বেই এমন লিখেছিলাম। দশ বছর আগে যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, আজকের এই ডিজিটাল যুগে কি হচ্ছে ভেবে দেখেন তো? আপুদেরকে বলছি, আমার কথায় মাইন্ড করবেন না; কেমন? এটাও বলবেন না, আমি নারী বিদ্বেষী। কেননা, আগের পর্বে আমি পুরুষদের চরিত্র নিয়ে কথা বলেছি অলরেডি।

আমি অনেক ঘটনা দেখেছি, শুনেছি বন্ধুদের কাছ থেকে। আমার নিজের সাথেও ঘটতে গিয়েছিল কিন্তু ভাগ্য ভালো থাকায় রক্ষা পেয়েছিলাম। আপু, আপনারা আজকাল অনেক বেহায়া হয়ে উঠেছেন। নিজের পরিবারের অনেক থাকা স্বত্ত্বেও আপনারা আজকাল বয়ফ্রেন্ড ম্যানেজ করেন শুধু সেই বয়ফ্রেন্ডের পকেট ভাঙ্গানোর জন্য। আজ এই রেষ্টুরেন্টে খেতে নিয়ে যাও, কাল ঐটাতে ইত্যাদি ইত্যাদি বায়না আপনাদের। বান্ধবীর বয়ফ্রেন্ড এইটা দিয়েছে, সুতরাং আপনাকে তার থেকেও ভালো আর দামী কিছু দিতে হবে! জন্মদিন আসার আগেই নিজের থেকে বলে ফেলেন, জান, এইবার কি দিচ্ছো আমার জন্মদিনে? আবার অনেকেই নাকি একবারেই বলে ফেলেন, আমাকে এইটা দিতেই হবে; ডায়মন্ডের আংটিও নাকি থাকে সেই তালিকায়; আপু, আপনাদের ভেতরেই আবার অনেকেই আছেন, যাদের শারীরিক চাহিদাটাও একটু বেশি, খারাপ শোনাচ্ছে? নাহ, যেটা সত্যি সেটাও বলেছি, কেমন? শুধু পুরুষদেরই চাহিদা থাকে, আর আপনারা ধোঁয়া তুলসী পাতা? জ্বী না, আপনারাও সেই একই নদীর মাছ। আজ এই গিফট, কাল সেই গিফট- এগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ আপনাদের সম্পর্ক। আমি সবাইকে কিন্তু বলছিনা, একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর কথা বলছি কিন্তু দিনে দিনে এদের পাল্লাটা ভারী হচ্ছে। আর মানুষ তো অনুকরণপ্রিয়, তাই একজনের থেকে আরেকজনের ভেতরে এসব প্রশমিত হচ্ছে। আর কোনো কারণে যদি আপনার চাহিদার একটু এদিক সেদিক হয়েছে, ব্যস, কথায় কথায়ঃ “রাখলাম না তোর রিলেশন” আচ্ছা, আমি জানিনা রিলেশন বলতে আপনারা কি বোঝেন! জানিনা, এটি আপনাদের কাছে কি অর্থ প্রকাশ করে। রিলেশন ভাঙ্গা গড়া আজকাল আপনাদের কাছে মামুলি ব্যাপার। ইচ্ছা হলো তো সম্পর্ক রাখলাম, ভেঙ্গে ফেললাম, আবার নতুন একটা জুটিয়ে নিলাম, শেষমেষ পয়সাওয়ালা একটা ছেলে যার অনেক সম্পত্তি- এমন দেখে একটা বিয়ে করে ফেলেন। প্রেমিকের মনে কি কষ্ট দিলেন, সেটা কখনোই দেখার বিষয় না আপনার কাছে। আপনার ঐ প্রেমিক আপনাকে রেষ্টুরেন্টে ভালো খাওয়াতে গিয়ে, জন্মদিনে দামী গিফট দিতে গিয়ে কত কষ্ট করে টাকা ম্যানেজ করেছে, কত টিউশনি করেছে, সেই খবর কখনো রেখেছিলেন? কোনদিন জিজ্ঞেস করেছিলেন, এত টাকা তুমি কোথায় পাও? কে দেয়? নাহ! কখনোই প্রয়োজন মনে করেননি। স্বার্থপরের মত আপনারা শুধু নিয়েছেন, আর দিন শেষে প্রতারণা করেছেন। সামাজিক অবক্ষয় কিন্তু এভাবেই ছড়িয়ে পড়ছে সমাজের পরতে পরতে। থামানোর কোনো উপায় দেখছিনা। ধর্মীয় মূল্যবোধ হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের ভেতর থেকে। আর এই সামাজিক অবক্ষয়ের দায় কিন্তু আপনাদেরই বয়ে বেড়াতে হবে একদিন যেদিন আপনারাই বাবা-মা হবেন।

তো, জাহিদ আর রিনার শেষমেষ কি হয়েছিল? রিনা যে চরিত্রহীনা, জাহিদের সাথে একসাথে থাকতো, সেটি সেই স্বামীর কাছে প্রকাশ পেতে সময় নেয়নি, এক বছরের মধ্যেই তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়, জাহিদের কাছে নির্লজ্জের মত ফিরে এসেছিল কিন্তু জাহিদ কি আর তাকে মেনে নেয়? জানিনা এরপর রিনার কি হয়েছিল, জাহিদ মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে বিছানায় ছিল ৮ মাস, পরবর্তীতে সে এখন একটি মাল্টিন্যাশনাল প্রতিষ্ঠানের প্রধান, যে প্রতিষ্ঠানের নাম দেশের মানুষের কাছে খুব পরিচিত। বরাবরের মত এখানেও ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে।

ছেলে-মেয়ে উভয়কে বলছি, এইসব লুতুপুতু প্রেম বাদ দেন, মানুষের মত মানুষ হোন, বাবা-মা কে ভালোবাসুন যে বাবা-মা আপনাকে এত বড় করেছে, শরীরে যে জোর পান, তা কিন্তু আপনার গার্লফ্রেন্ড কিংবা বয়ফ্রেন্ডের ভালোবাসায় পাওয়া না, এটা আপনার বাবা কিংবা মায়ের রক্ত পানি করা পয়সায় খাবার খেয়ে পাওয়া। চেহারায় যে জৌলুস নিয়ে ঘুরে বেড়ান, সেটা কিন্তু বাবা-মা কষ্টে থেকে আপনাকে ভালো রেখেছে বলেই পেয়েছেন, বাবা-মা কে ভালো রাখার চেষ্টা করুন, গার্লফ্রেন্ড-বয়ফ্রেন্ড দিয়ে জীবন যাবেনা, যেদিন জীবনের পথে নামবেন সেদিন বুঝতে পারবেন; আর বিপদে পড়লে দেখবেন, বাবা-মা ছাড়া কেউ পাশে নেই।

তাই সবশেষে আবার বলছি, বাবা-মা কে ভালোবাসুন। এই সব প্রেম পিরিতি বাদ দিয়ে বিয়ে করুন।

জীবনটা অনেক সুন্দর, এই সুন্দর জীবনটা বাবা-মা, বৌ-বাচ্চা, ভাই-বোন আর কাছের মানুষগুলোর সাথে উপভোগ করুন।

“ পরকীয়া ” পরিবার ও ভালবাসার অন্তরায় !

Now Reading
“ পরকীয়া ” পরিবার ও ভালবাসার অন্তরায় !

একটা সমাজের ভিত্তি কি ? যদি আপনাকে প্রশ্ন করা হয় ? এই প্রশ্নের উত্তর মতভেদে নানান রকম পার্থক্য লক্ষণীয়। এটা স্বাভাবিকই বলা চলে। একই সমাজে বসবাস করা মানুষগুলোর মধ্যে নানান মতভেদের কারণেই তো আজ এতো এতো সামাজিক নিয়মকানুন বের হয়েছে। এই মতভেদ কেবল সমাজের মধ্যে নয় একটা পরিবারের মধ্যে হয়। আমরা শক্ত একটা পারিবারিক মুল্যবোধ আর বিশ্বাস নিয়ে বেড়ে উঠি। এই বিশ্বাসের রীতি রেওয়াজ আমরা কোন না কোনভাবে সমাজে বসবাসের সময় অণুকরণ করি। একটা ভাল পরিবারের সংজ্ঞা কি যদি বলতে যায় তবে বর্তমান অনুযায়ী তা ভিন্ন হবে অবশ্যই ।

পরিবারের শক্ত একটা গাঁথুনি থাকে স্বামী-স্ত্রীর বিশ্বাসের মধ্যে।এই পরিবারের গঠন বা কার্যাবলী একটা সমাজের বাহ্যিকতাকে পরিস্ফুটিত করে। বর্তমানে পরিবারের যে ভাঙ্গন তার পেছনে অনেকাংশে দায়ী আধুনিকতা আর নগর জীবনের প্রভাব। এখন গ্রামাঞ্চলেও শহরের মতো যৌথ পরিবার ভেঙ্গে একক পরিবার গড়ে উঠতে দেখা যায়।

সাবস্ক্রাইব করে রাখুব বাংলাদেশীজম প্রজেক্টের ইউটিউব চ্যানেলে এখানে ক্লিক করে নতুন সব আপডেটের জন্য! 

আমাদের দেশে বিবাহ প্রথার মাধ্যমে একটা পরিবারের সূচনা হয় ।এই বিবাহ প্রথার মধ্যে আবার রয়েছে নানান প্রথা যেখানে পরিবারের সম্মতিতে কেউ বিয়ে করে ,আবার কেউ কেউ একে অপরকে ভালবেসে বিয়ে করতে দেখা যায়। রাজধানীসহ দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে লিভ-টুগেদারের মতো রিলেশনশীপের অস্তিত্ব লক্ষণীয় যদিও তা যৎসামান্য হারে।এই তো গেল কিভাবে একটা পরিবার গঠন হয় তার নমুনা ।রোজকার দিনে চলাফেরা বা নানান আনুষাঙ্গিক কারণে এই ভালবাসা বা বিয়ের মাধ্যমে গড়ে উঠা সম্পর্কগুলোতে একটা আস্থাহীনতা বা অবিশ্বাসের আস্তরণ জমে। এই আস্তরণ গাঢ় হয়ে মূলত সমস্যাটা দেখা দেয়।

সম্প্রতি আমাদের সমাজে বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ক বা অনৈতিক কোন সম্পর্কের জেরে নারী পুরুষ একে অপরের সাথে বসবাস করার প্রবণতা লক্ষণীয়।এটা সামগ্রিক অর্থে সামাজিক নীতি বিরুদ্ধ একটা কর্মকান্ড।সমাজ বিশ্লেষক বা বিশারদরা এটা নিয়ে  বেশ উদ্বিগ্ন বলা যায়। একটা পরিসংখ্যানে দেখা গেছে দেশের রাজধানী সহ বিভাগীয় শহরগুলোতে স্বামী-স্ত্রী একে অন্যকে ডির্ভোস দেয়ার যে হার তা আশংকাজনক হারে বাড়ছে। এই যে একে অপরকে ছেড়ে যাওয়ার মানসিকতা বা তাড়না তার পেছনে মুখ্য কারণ হলো স্বামী-স্ত্রীর বোঝাপড়ার অভাব।

আমরা দৈনিক পত্রিকা বা অনলাইন নিউজের বদৌলতে এই ধরনের খবর অহরহ পড়ছি। তাই সার্বিক অর্থে বলতে পারি পরকীয়া বা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ইদানীংকালে পরিবার প্রথার জন্য ক্যান্সার বনে গেছে। এই সমস্যাটা একদিনে বা হুট করে হই নি। এই যে বাজে একটা চর্চা বা প্রথা তা ক্রমশ আমাদের মাঝে এসে যেন ঝেঁকে বসেছে।

এই যে পরকীয়া বা তদসংশ্লিষ্ট ঘটনার বহুবিধ নেপথ্য কারণ থাকতে পারে যার মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য………..

স্বামী স্ত্রীর মতের অমিলঃ

দেশের অধিকাংশ বিয়ে হয় পরিবারের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে তাই এখানে স্বামী স্ত্রী একে অপরকে জানার বা বোঝার সময় কোনটা পাই না। একটা সম্পর্কে থাকতে যেখানে মানসিক সমোঝতার দরকার সেখানে কোন কোন ক্ষেত্রে মানসিক অপরিপক্কতা বা বোধগম্যহীনতার কল্যাণে একটা বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

মনের বিরুদ্ধ আচরণ বা পরিবেশ নিজের স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য হুমকি। তাই একই সাথে থাকলেও দুজনে দুজনের সাথে দ্বিমুখী আচরণ করে।ফলাফল পারিবারিক অশান্তি আর অন্যকোন দিকে ধাবিত হওয়ার একটা সুযোগ থেকে যায়।

অর্থনৈতিক সমস্যাঃ

বর্তমান সময়ে অর্থনৈতিক মুক্তি হল পরম মুক্তি। আপনি আর্থিকভাবে স্বচ্ছলতায় আছেন সুখপাখি আপনার কাছে এসে ধরা দিবে। যেখানে বলা হয় টাকায় নাকি বাঘের চোখ মেলে সেখানে আপনি আস্ত একটা বাঘও তো কিনে আনতে পারেন। পরিবার গুলো যেমন হোক না কেন প্রত্যেক পরিবারের একটা সীমাবদ্ধতা থাকে সেটা যদি আমরা আর্থিক মানদন্ডে মাপতে যায় তবে তা খুবই জটিল একটা বিষয়। মানুষের চাহিদা সবসময় সীমাহীন একটা রেখা ধরে ধাবিত হয়। তাই বাস্তবিক অর্থে আপনি পরিবারের রক্ষক হয়ে যদি আপনার অধীনস্ত সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান তবে আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। এই আর্থিক জটিলতা বা দোটানা অনেকাংশে পারিবারিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য দায়ী। স্বামী যদি স্ত্রীর ভরণপোষণ বা নানাবিধ চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয় তবে পারিবারিক শৃঙ্খল ভেঙ্গে যাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু না। এই ধরনের ঘটনা হারহামেশাই ঘটছে আমাদের চারপাশে। এটা ঘর ভাঙ্গার কারণ যেমন তেমনি আবার পরকীয়ায় আসক্ত হওয়ার নিমিত্ত হতে পারে।

 

স্বাধীনতার কমতিঃ

নারীর উপর কর্তৃত্ব দেখানো বা প্রভাব খাটানোর যে মানসিকতা তা পুরুষের একটা সহজাত অভ্যাস। যদিও এই অভ্যাসটা ইদানীং পরিবর্তন হচ্ছে।

স্বামী-স্ত্রী একে অপরের সাথে বসবাসের সে সামাজিক চুক্তি তাতে উভয়ের সমান অধিকার পাওয়াটা জরুরী। এক্ষেত্রে কোনভাবে যদি স্বামী বা কর্তার পক্ষ হতে নারী বা স্ত্রীর প্রতি একটা হস্তক্ষেপ বা নজরদারী যদি বেড়ে যায় তবে তা অনাকাঙ্খিত বটে। বনের পাখি যেমন খাঁচায় টিকবে না তেমনি মানব শিশু ও বনে টিকতে পারে না।

আমাদের পরিবারগুলোতে নজরদারীর বিষয়টা কোন কোন ক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপের আওতায় পড়ে। এই আধুনিক যুগে বা সমাজে বসবাস করে আপনি একজন মানুষের অধিকার নিয়ে খেলতে পারেন না। তাই স্বামী-স্ত্রীর গন্ডি বা পরিবারের গন্ডি যেখানেই হোক না কেন কোন বাধা আসলে তা ভেঙ্গে বেড়িয়ে যাওয়ার মানসিকতা সবাই দেখাবে।

পারিবারিক মুল্যবোধ বা বিশ্বাস অটুট রেখে পর্যাপ্ত স্বাধীনতা নারী পুরুষ উভয়ের জন্য বহাল রাখা জরুরী।

 

পারিপার্শ্বিক পরিবেশঃ

আমরা একটা অণুকরণের রীতি বা সংস্কৃতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। আমদের দেশীয় কৃষ্টি কালচারের বাইরে গিয়ে ইউরোপীয় বা আমেরিকান ঘরানার যে মুল্যবোধ তা রপ্ত করাতে যেন আমরা তৎপর। এই বিষয়টা এখন আমাদের জন্য গলার কাঁটার মত বিঁধেছে। আমাদের আর্দশিক ভাবধারার সাথে সাংঘর্ষিক কিছু বিষয় যা পাশ্চাত্য হতে ধার করা তা মোটের উপর আমাদের সমাজ ব্যবস্থার মজ্জাটাই ভেঙ্গে দিচ্ছে। এইসব ওয়েস্টার্ন কালচারের চর্চার ফলে মানসিক যে বিকারগ্রস্থতা তা ধীরে ধীরে অস্তিত্বের জন্য হন্তারক। এই যেমন লেট নাইট পার্টি করা ,লীভ টুগেদারের মতো বিষয়গুলো সামাজিক ভাবধারার সাথে যায় না বললে চলে।

জৈবিক জীবনঃ

বিয়ে সামাজিক চুক্তি হলেও তার পরবর্তী শর্ত দাড়ায় জৈবিক চাহিদার বিনিময়ে সন্তান জন্ম দেয়া। এটা একটা অলিখিত শর্ত বলা চলে। মানুষের সুখের কোন মানদন্ড নেই তবে বিবাহ পরবর্তী জীবনে কে কতখানি সাবলীল তার পরিচয় বহন করে তাদের সুখী দাম্পত্য জীবন। অধিকাংশ সময়ে ফ্যান্টাসি বা মোহাচ্ছন্ন হয়ে কেউ অতিমাত্রায় উৎসাহী হয় বা কেউ কেউ নিরাসক্ত হয়ে জীবন যাপন করে। এক্ষেত্রে উপরিক্ত উপাদানগুলিও প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।

আমাদের দেশে অন্য অনেক কারণের মতো এই যে জৈবিক জীবন বা সেক্স লাইফ সম্পর্কিত সমস্যার ঘটনা নিয়ে ডির্ভোস বা বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা আলোচনায় আসে না। তবে এই বিষয়টা কোন না কোনভাবে নেপথ্য কারণ বলে বিবেচিত হতে পারে।

মোহাবেশঃ

চাকচিক্যময় জীবনের হাতছানি আর কৌতুহলের বশে অনেক সময় সুস্থ স্বাভাবিক জীবনকে কঠিন আর দুর্বোধ্য মনে হয়। বিদেশী সংস্কৃতির অন্ধ অণুকরণ বা গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসানো যেমন আছে তেমনি মাদকাসক্তি,স্টারডম,স্বেচ্ছাচারিতার মত বিষয়ও কারণ বনে যেতে পারে স্বামী বা স্ত্রী যে কারোর পরকীয়ায় জড়িয়ে যাওয়ার।

 

জীবনের অর্থ উপলব্ধীতে ব্যর্থঃ

অনেকসময় দেখা যায় সন্তানের মা-বাবা হওয়ার পরও কোন নারী বা পুরুষ ভিন্ন জনের সাথে সম্পর্কে জড়ায়। এটা নিজের কামনা বাসনাকে প্রাধান্য দেয়ার জন্য হলেও প্রকরান্তরে তা দ্বারা নিজের দায়িত্ব হতে সরে আসাকে ইঙ্গিত করে। যে সন্তানের বাবা-মা হয়ে একটা অনৈতিক সম্পর্কের জেরে নিজের সন্তানকে বিপদগ্রস্থ করে তোলে সে আর যাই হোক নিদানপক্ষে মনুষ্যত্ব অর্জন করতে পারে নি।

সম্প্রতি দেখেছি পরকীয়ার জেরে নিজের কোলের শিশুকে বলিদান করেছে নিষ্ঠুর মা-বাবা। ক্ষণস্থায়ী জীবনে নিছক একটা কামনার তৃপ্তির লক্ষ্যে নবজাতককে খুন করার মতো ঘটনা ঘটছে। অপরদিকে ভালবাসার মানুষের সাথে প্রতারণা ও পরিবার পরিজন সবার বিরুদ্ধে গিয়ে একটা ভিন্ন পরিস্থিতিতে নিয়ে যায় নিজের জীবনকে।এখানে অনেক সময় কাঙ্খিত সুখ অর্জিত হয় না বরং মেনে নিতে হয় অযাচিত দুঃখ কষ্টকে।

সর্বোপরি একটা ভালবাসা বা বিশ্বাসের মোড়কে যে পথচলা তাতে যদি কোনভাবে অবিশ্বাসের মতো ঘুণেপোঁকা বাসা বাঁধে তা মুহর্তেই ভেস্তে যায়। পরকীয়া মূলত স্বামী স্ত্রীর একে অপরের প্রতি অবিশ্বাসের দেয়ালে জন্ম নেয়া ভাইরাসসম কিছু। এই যে বোঝাপড়া বা অবিশ্বাসের রীতি তা বন্ধ করতে হবে প্রতিটা সৃষ্ট সমস্যা নিজেদের একটা স্বাভাবিক গন্ডিতে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। কোন কাঙ্খিত বা অলক্ষ্যের কিছুর জন্য তো আমরা পারিপার্শ্বিকতাকে নিয়ত কলুষিত করতে পারি না।

সম্প্রতি পরকীয়ার জেরে ঘটে যাওয়া ন্যাক্কারজনক কোন ঘটনা আমাদের বিবেককে একটু হলেও নাড়া দিয়েছে। কোন সন্তানের কাছে বাবা-মা যেন মূর্তিমান আতংকের প্রতিচ্ছবি বনে না যায়।

তাই পরকীয়ার জেরে প্রতিনিয়ত আপনি আপনার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটা খারাপ শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমান সময়ে আমাদের সচেতন ও আধুনিক নারী পুরুষ সকলকে সোচ্চার হতে হবে। আগামীর সুন্দর পথচলায় সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে আপনার আমার সকলের যেন সম্পুরক  অবদান থাকে।