এসেছে উবুন্টু ১৭.১০ ,রিভিউ

Now Reading
এসেছে উবুন্টু ১৭.১০ ,রিভিউ

 

উবুন্টু অত্যন্ত ক্যানোনিকালের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি অপারেটিং সিস্টেম। এবার এক ঘোষণা দিয়ে উবুন্টু বেশ হইচই ফেলে দিয়েছিল, উবুন্টুর ডিফল্ট ডেস্কটপ ইউনিটির ডেভলপমেন্ট বন্ধ হয়ে যাবে। নতুন অপারেটিং সিস্টেমটিতে ব্যবহার হয়েছে গ্নোম শেল। ১৭.১০ ভার্সনটির কোডনেম Artful Aardvark, Artful একটা বিশেষণ, অর্থ দক্ষ আর Aardvark হল আফ্রিকান পিঁপড়াখেকো। এই ভার্সনটি স্ট্যাবল না, অর্থাৎ ৯ মাস সাপোর্ট পাওয়া যাবে এবং বাগ থাকার সম্ভাবনা বেশি। পরবর্তী স্ট্যাবল ভার্সন হবে ১৮.০৪, যা আসবে ২০১৮ সালের ৪র্থ অর্থাৎ এপ্রিল মাসে।

ইউনিটির তুলনায় এটাকে খারাপ মনে হয়নি। ইউনিটির তুলনায় অনেক আধুনিক মনে হয়েছে। বর্তমান যুগোপোযোগী ফ্ল্যাট ডিজাইন রয়েছে। তবে আরো ইউজার ফ্রেন্ডলি হবে বলে আশা করেছিলাম। যেহেতু পূর্বে গ্নোম ডেস্কটপ ব্যবহারের অভিজ্ঞতা ছিল না, তাই একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা পেলাম। কাস্টমাইজেবিলিটি ইউনিটির চেয়ে কিছুটা বেশি হলেও আমার আশানুরুপ ছিল না। বেশি খারাপ লেগেছে আগের মতই ডিফল্টলি কোন টুইক টুল বা সেটিংসে যথেষ্ট অপশন নেই। ভবিষ্যৎ ভার্সনগুলোতে আরো কিছু অ্যাপ যেমন, Gdebi, Gnome Tweak প্রভৃতি যোগ করে দেওয়া উচিৎ বলে মনে করি।

উইন্ডোজ, ম্যাক এবং বেশিরভাগ লিনাক্স ডিস্ট্রো উইন্ডো বাটন (ক্লোজ, মিনিমাইজ, রিস্টোর/ম্যাক্সিমাইজ) ডান সাইডে রাখলেও উবুন্টু সম্ভবত ১১.০৪ থেকে ১৬.০৪ ভার্সন পর্যন্ত বাম সাইডে রেখেছিল, এবার তারা পুনরায় ডান সাইডে নিয়ে আসছে। আমি এটাকে পজিটিভলি দেখি, তবে সেটিংসে ডান-বাম সুইচ করার অপশন রাখাটাই সবচেয়ে ভাল হত মনে করি। তবে যেটা খারাপ লেগেছে, ক্লোজ বাটনকে প্যানেল (টপবার) এর নিচে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেটা কাজের গতি কমিয়ে দিচ্ছে। মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য উবুন্টু ১৭.১০ খুবই চমৎকার। ডেস্কটপ সুইচের অপশন এখানে অনেক এডভান্সড।

ভাল লেগেছে যে, ইউনিটির স্বাদ ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। ইউনিটি ডেস্কটপের মতই উপরে একটা প্যানেল আর ডানে একটা ডক, হ্যাঁ, লঞ্চার এখন থেকে ডক বলে অবিহিত হবে। থিম ও অন্যান্য দিক দিয়েও এটা ইউনিটির মতই করা হয়েছে, মানিয়ে নিতে কোন অসুবিধাই হবে না! আর পুরনো ভার্সন থেকেও নতুন ভার্সনে আপগ্রেড করে নেওয়া যাবে।

ফিচার

১. ইউনিটির বদলে ব্যবহার হচ্ছে গ্নোম! পূর্বেও উবুন্টু গ্নোম ফ্লেভারে গ্নোম ডেস্কটপ পাওয়া যেত। তবে এখন গ্নোম হবে ডিফল্ট ফ্লেভার। আর এটা বেশ কাস্টমাইজডও বটে।

২. ডিসপ্লে সার্ভার এখন হবে ওয়েল্যান্ড। বাই দ্য ওয়ে, এসব আমি বুঝি না।

৩. এসেছে নতুন অন স্ক্রিন কিবোর্ড! উইন্ডোজের অন স্ক্রিন কিবোর্ডের তুলনায় অনেক সুবিধাজনক মনে হয়েছে।

৪. ইউনিটির অভিজ্ঞতা ধরে রাখা হয়েছে।

৫. পূর্বের ন্যায় থাকছে উপরে প্যানেল ও ডানে ডক(লাঞ্চার), তবে আরো আধুনিক এবং সহজে বামে বা নিচে নামানো যাবে।

৬. আগের চেয়ে বেশি কাস্টমাইজেবল, তবে আমার মনে হয়েছে আরো কাস্টমাইজের সুযোগ থাকা দরকার ছিল।

৭. কার্নেল হিসেবে রয়েছে লিনাক্স কার্নেল ৪.১৩।

৮. ঝামেলাহীনভাবে পুরনো ভার্সন থেকে আপগ্রেড করা যাবে।

৯. আলাদা সয়াপ পার্টিশনের প্রয়োজন নেই। সয়াপ এখন একটি ফাইল হিসেবে থাকবে!

ডাউনলোড

উবুন্টুর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকেই ডাউনলোড করতে পারবেন বিনামূল্যে! এসময় আপনি কোন কন্ট্রিবিউট করার পেজ আসতো পারে। বিনামূল্যে ডাউনলোড করতে চাইলে Not now, take me to the download › বাটনে ক্লিক করলে বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যাবে।

পারফিউমঃ একজন খুনির গল্প

Now Reading
পারফিউমঃ একজন খুনির গল্প

কখনও কখনও সিনেমা আমাদেরকে আবেগতাড়িত করে। কখনও বা ভাবিয়ে তোলে নিজেদের সমাজ কিংবা পর্দার রহস্যময় চরিত্রগুলো সম্পর্কে।

তেমনই এক সিনেমার নাম “Perfume: The Story of a Murderer” টম টাইকার পরিচালিত প্রখর ইন্দ্রিয় অনুভূতির গল্প নিয়ে বানানো এই মুভিটির মূলভিত্তি ১৯৮৫ সালে পাবলিশ হওয়া প্যাট্রিক সাসকিন্ড এর বিখ্যাত জার্মান উপন্যাস Das Parfum; যা এ পর্যন্ত ৪৯ টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

সিরিয়াল কিলারদের গল্প কিংবা সিনেমা সবসময়ই আলাদা একটা উত্তেজনা সৃষ্টি করে পাঠক অথবা দর্শকদের মাঝে। কিন্তু পারফিউম মুভিটি একটু অন্যরকম সিরিয়াল কিলারের গল্প।

1st.jpg

সিনেমার উপর এক নজরঃ

জন ব্যাপিস্ট গ্র্যানুইলি নামের এক অতিমানবীয় ঘ্রাণশক্তি সম্পন্ন যুবককে নিয়েই পুরোটা সিনেমা আবর্তিত হয়। প্রেক্ষাপট হিসেবে প্যাট্রিক সাসকিন্ড এর মূল উপন্যাস অনুসারে, ১৭৩৮ এর ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে জন্ম নেয় এক বিরল ক্ষমতাসম্পন্ন শিশু। তখনকার প্যারিস আর এখনকার প্যারিসের মধ্যে ছিল আকাশ-পাতাল তফাৎ। নোংরা-আবর্জনায় ভরপুর ছিল পারফিউম এর এই নগরী!

শিশুটি এই দুর্গন্ধময় নগরীতে বেড়ে ওঠার সাথে সাথে বেড়ে ওঠে তার সেই শক্তি। সেরা এবং সুন্দর সব ঘ্রাণ তার নাকে ধরা পড়ে যেত সহজেই। বহু দূর থেকেও সে খুঁজে বের করে ফেলতো ঘ্রাণের উৎস। ঘটনাক্রমে গ্র্যানুইলি, শহরে মাল ডেলিভারির সুযোগ পেল। তাও আবার পারফিউমেরই এক দোকানে! সিনেমার শুরুটা মূলত এখান থেকেই।

3rdjpg.jpg

ক্ষমতা মানুষকে অন্ধ এবং অমানুষও করে তোলে। পারফিউম এর এই গল্পটি তার অনন্য এক উদাহরণ।

সব ঘ্রাণকে আলাদা আলাদা করে অনুভব করার ক্ষমতাসম্পন্ন গ্র্যানুইলি শহরে এসে সুন্দরী এক তরুণীর হাতে থাকা তাজা ফলের ঘ্রাণের পিছু নেয়। বিধাবাম! তার অতিমানবীয় ইন্দ্রিয়শক্তি মস্তিষ্কে আরো উৎকৃষ্ট কিছুর খবর জানিয়ে দেয়! গ্র্যানুইলি করে ফেলে তার প্রথম ভুল!

আর ভুল থেকেই শুরু হয় তার অসীম সেই শক্তির প্রতি অনুভব আর ভয়ংকর এক আকর্ষণ!

 

ব্যবচ্ছেদ ও সমালোচনাঃ

সিনেমার গল্প বলার ভঙ্গি অসাধারণ। দর্শকদের আঠার মত লাগিয়ে রাখার জন্য চেষ্টার ত্রুটি করেননি পরিচালক। তাই উপন্যাসের সাথে হুবহু মিল না থাকলেও সিনেমাটি দর্শকদের কাছে উপভোগ্য হয়েছে। ১৫টি এওয়ার্ড ঝুলিতে পুরে নেয়া মুভিটি পেয়েছে এ পর্যন্ত ১৮টি নমিনেশন।

মূল চরিত্রে অভিনয় করা Ben Whishaw তার অসামান্য অভিনয় দক্ষতা দিয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য করেছেন পুরো মুভিতে। স্বাভাবিক! কারণ এ তো “এক নায়কেরই গল্প!” এছাড়াও ৮ টি বিভিন্ন এওয়ার্ড ও ১৫ টি নমিনেশন পাওয়া এই ইংলিশ অভিনেতা জেমস বন্ড সিরিজের “Q” চরিত্রেও এসেছিলেন দর্শকদের সামনে।

 

সমালোচকদের চোখে “পারফিউম”-

IMDB তে ক্রাইম, ড্রামা, ফ্যান্টাসি Genre এ থাকা এই সিনেমা  201,276 মানুষের রেটিং পেয়েছে; যার গড় ৭.৫।

ওদিকে Rotten Tomatoes এ ৫৮% ভোট পেয়েছে। যার মধ্যে ৫৩ জন ক্রিটিক সমালোচনা করেছেন মুভিটির। ওদিকে দর্শকদের ৭২% ভোট বলে অন্যকথা! ক্রিটিকদের কঠোর সমালোচনার পরেও দর্শকদের ভালোভাবেই যেন টানতে পেরেছে এই অতিমানবীয় সিরিয়াল কিলার!

 

 

১৩টি খুন এবং শ্রেষ্ঠ সুগন্ধিঃ

পাঠকদের আকৃষ্ট করতে সিনেমার একটু ভিতরে যাওয়া যাক। গ্র্যানুইলি প্রথম শিক্ষা লাভ করে বালদিনি নামে এক পারফিউম প্রস্তুতকারক এর কাছে। প্রতিদন্দ্বীদের সেরা পারফিউম এর রহস্য উদঘাটন করতে হিমশিম খাওয়া বালদিনির কাছে যেন আশীর্বাদ হয়ে আসে গ্র্যানুইলি!

ধীরে ধীরে বালদিনির সব জটিল সমস্যার সমাধান দেয়ার মাধ্যমে প্রিয় হয়ে ওঠে সে। সেই সাথে শিখে নেয় পারফিউম তৈরির প্রাথমিক সব বিষয় এবং কোনো বস্তু থেকে ঘ্রাণ আলাদা করার পদ্ধতি।

নানারকম ছোটখাট টুইস্ট এর মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়া সিনেমার একপর্যায়ে ক্ষমতা কিংবা প্রতিভার অতিরিক্ত প্রভাবে গ্র্যানুইলির ভেতর এক নিষিদ্ধ নেশা চেপে বসে।

2nd.jpg

শহরে আসা প্রথম ভুলের মাধ্যমে সে খুঁজে পায় নারীদেহের ঘ্রাণ। তার নাকে ধরা পড়া শ্রেষ্ঠ ঘ্রাণ! সে চেষ্টা চালায় সেসব ঘ্রাণ সংগ্রহে। একে একে সফল হতে থাকা গ্র্যানুইলির কাজে প্রচুর বাঁধা বিপত্তি আসে।

তারপরেও অতিমানবীয় ক্ষমতা আর নিষিদ্ধের প্রতি প্রবল আকর্ষণ তাকে অন্ধ এবং মনুষ্যত্বহীন বানিয়ে দেয়। ঈশ্বর প্রদত্ত শক্তি থাকা সত্ত্বেও গ্র্যানুইলি তা ভালো কাজে ব্যবহার করতে পারেনা। ধীরে ধীরে সে পরিণত হয় একজন সিরিয়াল কিলারে।

4.jpg

পাপ বাপকেও ছাড়েনা। গ্র্যানুইলিও এক পর্যায়ে ধরা পড়ে যায়। কিন্তু তার আগেই সে তার জীবনের লক্ষ্য; যার জন্য সে সব বিসর্জন দিলো, সেটা সে পূরণ করে নেয়। নিজেকে পরিণত করে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ সুগন্ধী প্রস্তুতকারক। তৈরি করে দুনিয়ার সেরা সুগন্ধী। যাতে মিশে আছে ১৩ টি নারীদেহের নির্যাস!

 

শেষকথাঃ

Perfume: The Story of a Murderer একটি অন্য ধাঁচের সিনেমা। সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, ক্রাইম থ্রিলার কিংবা ফ্যান্টাসি মুভি, যাই বলি না কেন; যেকোনো সিনেমাই আমাদেরকে বিনোদিত করার পাশাপাশি সুক্ষ্ম কোনো মেসেজ দেয়।

সেই মেসেজটা কি? সেটা একেকজনের কাছে একেক রকম হতেই পারে। আমার কাছে অবশ্যই “পারফিউম” একজন খুনির গল্প। সেইসাথে এটা এক অতিমানবীয় ক্ষমতার অভিশাপের গল্প। ক্ষমতা সবসময় আশীর্বাদ হয়ে আসেনা অথবা আমরা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারিনা।

যে ক্ষমতা আমাদের প্রেম-ভালোবাসা,কামনা-বাসনা,আশা-আকাঙ্খা কিংবা মনুষ্যত্বকে বিলীন করে দেয়, সে ক্ষমতা কখনই আমাদের কাম্য নয়!

সবশেষে কথা না বাড়িয়ে ছোট করে বলতে হয় একটা কথাই, ভালো সিনেমা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রসারিত করতে সাহায্য করে।

আর “Perfume: The Story of a Murderer” এর শেষ দৃশ্যে আপনার জন্য রাখা হয়েছে চমৎকার এক টুইস্ট! এখনো না দেখে থাকলে দেখে নিতে পারেন ইউটিউব ঘেঁটে। আশাকরি উপভোগ্য হবে আপনার সময়টা।

 

সতর্কতাঃ

R-rated (Restricted) হওয়ায় অপ্রাপ্তবয়স্ক কিংবা পরিবারের সাথে সিনেমাটি দেখার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করার অনুরোধ থাকলো।

 

ছবিসূত্রঃ IMDB,Google

মুভি রিভিউঃ Dead Poets Society

Now Reading
মুভি রিভিউঃ Dead Poets Society

কিছু মুভি আমরা সযত্নে এড়িয়ে যাই। পছন্দের তালিকায় আমাদের সবসময় থাকে সাই-ফাই,থ্রিলার,একশন,এডভেঞ্চার কিংবা রোম্যান্স।

বায়োগ্রাফি কিংবা ড্রামা ক্যাটাগরির মুভি মানেই যেন কিছুটা ঘুম ঘুম ভাব! তবে বেশিরভাগ মাস্টারপিস গুলো এসব Genres থেকেই বের হয়ে আসে।

তেমনই একটি মুভি রিভিউ এবং প্রাসঙ্গিক আলোচনা দিয়ে লেখার সূচনা।

upload.png

 

 

 

৮০’র দশকের শেষ দিকে মুক্তি পাওয়া  “Dead Poets Society” IMDB তে ৮.০ এবং Rotten Tomatos এ ক্রিটিকদের ৮৫% ভোটসহ বাগিয়ে নিয়েছিল অস্কার। সেরা চিত্রনাট্য লেখক হিসেবে এটি জমা পড়ে Tom Schulman এর ঝুলিতে।

মুভির কাহিনী আবর্তিত হয় আমেরিকার নামকরা স্কুলের কিছু ছাত্র এবং একজন শিক্ষককে নিয়ে। ঐতিহ্যবাহী Welton একাডেমীর ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম থেকে নবীন ছাত্ররা জানতে পারলো সফলতার মূলমন্ত্র,  “Tradition, Honor, Discipline, Excellence.”

গুরুগম্ভীর প্রিন্সিপ্যাল এর মাধ্যমে ছাত্ররা পরিচিত হয় তাদের সাহিত্যের নতুন শিক্ষক “মিঃ কিটিং” এর সাথে। মূলত এখান থেকেই মুভির সূত্রপাত।

আবাসিক এ থাকা ছাত্রদের একেকজনের একেকরকম স্বপ্ন। কেউ চঞ্চল, কেউ চুপচাপ, কেউ বাচাল কেউবা দুষ্টু স্বভাবের। ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন এই ছাত্রদের দলটা সাহিত্যের ক্লাসের শুরুতে আবিষ্কার করে, অন্যান্য ক্লাসের মত এই ক্লাসটা গতানুগতিক নয়! সাহিত্যের শিক্ষক একেবারেই অন্যরকম একজন মানুষ।

প্রথম দিনই সে অভিনব কায়দায় ছাত্রদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। শিষ বাজানোর পর তার ক্লাসের প্রথম বাক্যটি ছিলো রবার্ট হুইটম্যান এর বিখ্যাত কবিতার প্রথম লাইন, “ও ক্যাপ্টেন, মাই ক্যাপ্টেন” কিছুটা হতবাক ছেলেরা ধীরে ধীরে আবিস্কার করে, সাহিত্যের ক্লাসটা একঘেয়ে হওয়ার কথা থাকলেও সেটা হচ্ছেনা!

মিঃ কিটিং প্রথম ক্লাসে ছাত্রদেরকে উপলব্ধি করায়, “Seize The Day”।

এটি কিছু ল্যাটিন উক্তির অন্তর্গত একটি উক্তি যা Carpe Diem নামে পরিচিত। এর মর্মার্থ অনেকটা দাঁড়ায়,

“আজকের দিনটাকে উপভোগ করো। বেঁচে থাকো। জীবনটাকে অনুভব করো। ভবিষ্যৎ এ কি হবে তা ভেবে চিন্তিত হয়ে বেঁচে থাকার স্বাদ থেকে বঞ্চিত হয়ো না।”

এছাড়াও মিঃ কিটিং প্রতি ক্লাসেই ছাত্রদের জন্য নিয়ে আসতো সম্পূর্ণ নতুন কোনো দৃষ্টিভঙ্গি!

MV5BMTgzODEzMjQyMV5BMl5BanBnXkFtZTcwOTM3NjAyNw@@._V1_SX1510_CR0,0,1510,999_AL_.jpg

“ক্যাপ্টেন” খ্যাত এই অভিনেতা সম্পর্কে কিছু না বললেই নয়। হলিউডে বেশ কিছু শক্তিমান অভিনেতা; যারা তাদের অনবদ্য অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের হৃদয়ে দাগ কেটেছেন তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। Robin Williams তার অভিনয় জীবনে ৮০ টি নমিনেশন এবং ৬৩ টি এওয়ার্ড ছাড়াও চারবারের জন্য মনোনীত হন অস্কারের জন্য। এর মধ্যে Dead Poets Society তে সেরা অভিনেতার মনোনয়ন থাকলেও তিনি মূলত অস্কার পান Good Will Hunting ছবিতে সেরা পার্শ্ব অভিনেতার  ক্যাটাগরিতে।

আবার ফিরে যাওয়া যাক “মৃত কবিদের দলে!”।

সংক্ষিপ্ত কাহিনীর নামে মুভির কিছু অসাধারণ দৃশ্যের বর্ণনা দিয়ে দেয়ার পক্ষে আমি নেই। তাই সম্পূর্ণ মুভির স্ক্রিন প্লে নিয়ে কিছু কথা বলি।

ডেড পোয়েটস সোসাইটিতে দারুন এক শিক্ষা ব্যবস্থা তুলে ধরা হয়েছে। আমাদের সাথে যা বেমানান বটে। কিন্তু এরকম হলে আসলেই কেমন হতো!

সাহিত্য বই এর ভূমিকায় কবিতাকে সঠিকভাবে বুঝানোর জন্য গ্রাফ তুলে ধরা হয়েছে। কি ভয়াবহ এক অবস্থা! শিক্ষক হঠাৎ আমাদেরকে বললেন, “কবিতা, সাহিত্য গ্রাফ দিয়ে বুঝানো যায়না। এটাকে অনুভব করতে হয়, শব্দ দিয়ে-ভাষা দিয়ে বুঝতে হয়। ছিঁড়ে ফেলো ভূমিকার পেজটা। ছিঁড়ো, ছিঁড়ে ফেলো!”

কিছুটা হাস্যকর হলেও দৃশ্যটা গোগ্রাসে গেলার মত। শিক্ষক চিৎকার করে বলছেন, Rip it out! Rip it out!

অথবা শিক্ষক ডেস্ক এর উপর দাঁড়িয়ে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করার উপর লেকচার দিলেন। এরপর একে একে ছাত্ররাও তার ডেস্ক এর উপর উঠে হাতে-কলমে উপলব্ধি করলো ব্যাপারটা! এ যেন ক্লাসের লেকচার ক্লাসেই কমপ্লিট করে দেয়া! এরপর তা শুধু সময়ের প্রয়োজনে নিজের জীবনে প্রয়োগ হবে!

 

MV5BNjI1NTMwODY5OF5BMl5BanBnXkFtZTcwMTQ3NjAyNw@@._V1_SY1000_CR0,0,707,1000_AL_.jpg

মিঃ কিটিং যখন বলেন, “Words and ideas can change the world” তখন শরীরে একটা শিহরণ বয়ে যায়। শব্দের,কবিতার,সাহিত্যের অসীম শক্তি অনুভবে চলে আসে। বইয়ের জ্ঞান ছাড়াও জীবনে চলার জন্য কিছু উপকরণ লাগে। সেগুলোর খোঁজ দিতে পারে একজন শিক্ষক।

এসব উপলব্ধি আমাদের শিক্ষাঙ্গনে বেশ অপ্রচলিত বটে। হাতেগোনা কিছু শিক্ষক ছাড়া সবাই শুধু বইয়ের পাতায় মশগুল হয়ে থাকছেন। বই এর মত জড় একটা বস্তুকে জীবন্ত করে তোলার মন্ত্র কিংবা জীবন যে শুধুই একটা যন্ত্র নয় মিঃ কিটিং আমাদেরকে তা জানিয়ে গেছেন। তিনি দেখিয়ে গেছেন, জড়তায় ভোগা ছাত্রের ভেতর থেকে কিভাবে প্রাণশক্তির সঞ্চার ঘটানো যায়।

সিনেমায় সাহিত্যের ব্যাপারটা গাঢ় করে দেখালেও যেকোনো বিষয়কেই ভালোবেসে, অনুভব করে পড়লে বোঝা যায়। ফিজিক্স এর মত একটা বিষয়কেও অনেক শিক্ষক গাছ থেকে আপেল পড়ার মত সহজ করে বোঝাতে পারেন। এজন্য বইকে জীবন্ত করে তুলতে হয় একজন শিক্ষকের।

মুভিতে আরো একটি বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। তা হচ্ছে, অভিভাবকদের ইচ্ছা পূরণের জন্য কোমল কোনো হৃদয়কে বলির পাঠা বানানো।

যে ছেলেটা অভিনয়কে ভালোবেসে ফেলেছে তাকে হতে হবে ডাক্তার! যে ছেলেটা দেশ সেরা ক্রিকেটারদের একজন হতে চায় তাকে হতে হবে ইঞ্জিনিয়ার! এভাবেই স্বপ্ন গুলোকে খুন করা হবে খুবই নীরবে। কোনো কূল-কিনারা হবেনা এই খুনের। কারণ তারা অভিভাবক।

 

Dead Poets Society ২ ঘন্টা ১০ মিনিটের মধ্যে আমাদের মাথায় তুলে দেয় এক জীবন ভাবনার উপকরণ। এই মুভি দেখার পর খুব নিরস মানুষটারও ইচ্ছা হবে একটা কবিতা পড়ে দেখতে, ইচ্ছা হবে দুইটা লাইন লিখতে। কেউ হয়তো খুঁজতে বসবে তার জীবনে মিঃ কিটিং এর মত কেউ এসেছিল কিনা। কারো কারো আফসোস হবে এমন কোনো শিক্ষকের সান্নিধ্যে আসতে না পারার। তবে এমনটা না হলেও খুব নিশ্চিতভাবে বলা যায়, মিঃ কিটিং এর প্রতিটা ক্লাসই দর্শকদের কাছে সেরা ক্লাস হিসেবে বিবেচিত হবে।

ব্যতিক্রম সবকিছুকেই সংগ্রামের মুখে পড়তে হয়। অন্যরকম শিক্ষক মিঃ কিটিংকেও ভুল বোঝে কর্তৃপক্ষ। তাকে চলে যেতে হয় প্রিয় ছাত্রদেরকে ছেড়ে। কিন্তু প্রিয় শিক্ষকের বিদায় মুহূর্ত কতটা বেদনাদায়ক সেটা তার ছাত্ররাই বোঝে। ক্লাসের সবচে চুপচাপ,সহজ-সরল কিংবা ভীতু ছেলেটারও আবেগের বাঁধ ভেঙে যায় হুড়মুড় করে। সর্বোচ্চ সাহসিকতা প্রদর্শন করে তারা প্রিয় শিক্ষককে প্রিয় নামে ডেকে ওঠে। এ যেন এক অন্যরকম গার্ড অব অনার!

“O Captain! My Captain!” লাইনটি খুবই আবেগময় একটি লাইন। সিনেমা না দেখলে এটা কোনোভাবেই উপলব্ধি করা যাবেনা।

এখনো না দেখে থাকলে অবসরে দেখে ফেলুন সিনেমাটি। ইউটিউব ঘাটলেই পেয়ে যাবেন সম্পূর্ণ মুভি। আশাকরি আপনার সময়টা বৃথা যাবেনা।

ছবি সূত্রঃ IMDB

ফিচার ছবিঃ পোস্টার ক্রেডিট

গেম অফ থ্রোনসঃ S07E01 Review

Now Reading
গেম অফ থ্রোনসঃ S07E01 Review

মারাত্মক হইচই নিয়ে গতকাল রিলিজ হলো গেইম অফ থ্রোন্স সিজন ৭ এর প্রথম এপিসোড।

প্রায় ১ ঘন্টার ছিলো সিরিজ টা।

মনে রাখতে হবে এই সিজন এ কিন্তু ১০ এর পরিবর্তে এপিসোডে ৭ টা।

সুতরাং ঘটনার গতিও অনেক বেশী।

প্রথম এপিসোড একেবারেই সাদামাটা ছিলোনা, অসাধারন স্ক্রিনপ্লে এবং ভালো কিছু টুইস্ট এর কারনে কখন ১ ঘন্টা পার হয়ে গেলো টের পাওয়া যায়নি..

শুরু করি

দ্যা টুইন্স এর ওয়াল্ডার ফ্রে এর কাহীনি দিয়ে।

 

সেই হল যেখানে পুরো স্টার্ক ফেমিলি স্লটার করা হয়েছিলো..

যার রিভেঞ্জ নিয়েছিলো আরিয়া ওয়াল্ডার ফ্রে কে তার নিজের ২ ছেলের মাংস দিয়ে পাই বানিয়ে খাইয়ে..

এবং শেষে তার গলা কেটে।

আচ্ছা এপিসোড শুরু হলো, আবার দেখি ওয়াল্ডার ফ্রে কে দেখাচ্ছে..

সে সবাই কে অভিনন্দন জানাচ্ছে,স্টার্ক পরিবার শেষ করার আনন্দে, বাহ..

সবার জন্য ভোজের আয়োজন করা হয়েছে, দামি মদ ঢেলে দেয়া হলো সবার গ্লাসে..

সবাই চুমুক দিলো, ফ্রে ছাড়া..

তখন ই খটকা টা লাগলো..

সমস্যা কি?

 

আরে!!

আরিয়া এর কথা কি ভুলে গেলাম?

মেনি ফেসড গড এর কথা?

এ গার্ল ইস ফাইনালি নো ওয়ান??

 

হ্যা আরিয়া, ফ্রে এর মুখোশ পরে সবাইকে সুন্দর ভাবে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলে, এবং যাওয়ার সময় তার পাশে দারানো বুড়ো ফ্রে এর কিশোরী বউ কে বলে যায়,

“When people ask you what happened here, tell them The North remembers, tell them, Winter came to House Frey”

মুচকি হাসি দিয়ে প্রস্থান আরিয়ার..

এর চেয়ে আত্মতৃপ্তি জনক অপেনিং আর কি হতে পারতো??

আর সবাইকে বিষ খাওয়ানোর আগে ডায়লগ গুলো কি মনে আছে সবার??

 

“Leave one wolf alive and the sheep are never safe.”

হ্যা এই উলফ পরিবারের সবচেয়ে বুদ্ধিমতী, ধৈর্যশীল এবং ঠান্ডামাথার মেয়ে হলো আরিয়া।

ব্যক্তিগত ভাবে ও আমার প্রিয় চরিত্র।

তার কারন একটাই, ওর এই ক্ষমতা গুলো একদিনে বা জন্মগত ভাবে পাওয়া নয়..

প্রতিটি পদে পদে অভিজ্ঞতা এবং তা থেকে পাওয়া শিক্ষার মাধ্যমে সে এই ক্ষমতা অর্জন করেছে।

1.jpg

 

এখন আসি দ্যা ওয়াল এর কাহীনি তে..

 

সিজন ৬ এ আমরা দেখেছিলাম থ্রী আইড রেভেন এর কেইভ টা ম্যাজিক করা থাকে যেখানে হোয়াইট ওয়াকার রা ঢুকতে পারেনা..

কিন্তু ব্র‍্যান এর অজ্ঞতা এবং বোকামির কারনে স্পেল টা ভেংগে যায় এবং ওয়াকার রা ঢুকে পরে.

সেই ব্র‍্যান আবার ওয়াল পার হলো, আমরা শুনেছি ওয়াল ও স্ট্রং ম্যাজিক দিয়ে বানানো যা হোয়াইট ওয়াকার রা পার হতে পারেনা..

তাহলে আবারো কি ব্র‍্যান এর অজ্ঞতার কারনে হোয়াইট ওয়াকার রা ওয়াল পার হয়ে যাবে?

নিশ্চিত বলা যাচ্ছেনা,কারন লর্ড অফ ফায়ার কিছুটা ভিন্ন ঘটনা দেখিয়েছে হাউন্ড কে,সে কথায় পরে আসছি..

কিন্তু এটা নিশ্চিত যে সব স্টার্ক দের মত ব্র‍্যান এর ও বুদ্ধি কিছুটা ভোতা, ওর ক্ষমতা তো জন্মগত ভাবে, তাছাড়া থ্রী আইড রেভেন এর ট্রেইনিং ও পূর্ন হয়নি, তো সে বড় ধরনের ঝামেলা পাকাবে বলেই মনে হচ্ছে।

2.jpg

 

 

ওয়াল থেকে উইন্টারফেলে যাত্রা করি.

 

এখানে জন স্নো তার লিডারশীপ এর ভালো কিছু দক্ষতা দেখিয়েছে.. সানসা আপুর বরাবরের মত সারভাইভ এর জন্য আজাইরা প্রস্তাব সে গুরুত্ব দেয়নি।

প্রথমেই জন টরমুন্ড সহ অন্যান্য ওয়াইল্ডলিং দের ওয়াল পাহাড়া দেয়ার দায়িত্ব দেয় এবং সানসার প্রস্তাব মত উম্বার ও কারস্টার্ক দের প্রাসাদ ছিনিয়ে না নিয়ে বরং তাদের কাছে লয়ালিটি আবদার করে, ক্ষমার কারনে এরা অবশ্যই কঠিন সময়ে স্টার্ক দের হয়েই যুদ্ধ করবে।

 

অনেকে ধারনা করছে সানসা আর জন এর মধ্যে ঝামেলা বাধতে পারে,কিন্তু আমার তা মনে হয়না, তাহলে দুজনের ভাই-বোন এর বন্ডিং টা এত সুন্দর করে দেখাতো না।

সানসা মারা যাওয়ার সম্ভাবনা আছে খুব বেশী.

 

অথবা টরমুন্ড বা হাউন্ড..

বলা যাচ্ছেনা এখনো।

দেখা যাক।

3.jpg

 

কিংসল্যান্ডিং এ সার্সি আন্টির কাছে যাওয়া যাক যিনি নিজেকে আপু মনে করেন..

তিনি ম্যাপ আঁকাচ্ছেন, সবাই তার কাছে ট্রেইটর, সবাইকে ধরে উনি পিট্টি দিতে চান।

তার মাথায় কোনো লজিক কাজ করছে না,কোনো আবেগ কাজ করছেনা, করবে কিভাবে??

তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন ছিলো তার সন্তান, যারা উইচ এর ভবিষ্যৎ বানী মত সবাই শেষ হয়ে গেছে।

হয়তোবা ম্যাড কিং এর পরে সেই আমাদের ম্যাড কুইন।

ইউরিন গ্রেজয় কে আনার সিদ্ধান্ত তার খারাপ ছিলো বলতে পারিনা, তাদের পাশেতো কাউকে দরকার..

ইউরন এর ডায়লগ গুলাও মজার ছিলো, আমার ব্যক্তিগত ভাবে পছন্দ..

Cersei: You killed your own brother.

Euron: You should try it sometimes,feels wonderful!!

4.jpg

 

এখন একটু ধারাবাহিকতা থেকে সরে এসে হাউন্ড এর ঘটনায় যাই, যেখানে লর্ড অফ লাইট তাকে কিছু vision দেখায়..

সে হোয়াইট ওয়াকার দের একটা দল দেখতে পায় এবং ওয়ালের সাথে লাগোয়া সমুদ্রের সাথে একটা বিশাল পর্বত দেখতে পায়,যার মাথা চোখা।

আচ্ছা মনে পরে?

হোয়াইট ওয়াকার রা যে ক্রাস্টার এর বাচ্চাগুলাকে একটা মাউন্টেন এ নিয়ে তাকে পরিনত করছিলো তাদের একজন হিসেবে,সেই মাউন্টেইন টা যে আছে তা কেউ জানে কিনা জানা যায়নি..

এমনো হতে পারে এবার হোয়াইট ওয়াকার রা আসলেই ওয়াল পার হতে পারবেনা, বরং তারা পাশ কেটে মাউন্টেন দিয়ে অপর পাশে পৌছাবে..

নিশ্চিত না বলতে পারলেও, লর্ড অফ লাইট এর দেখানো vision ছোট কোনো ঘটনা হবেনা,তাও আবার হাউন্ড কে দেখানো..

যে সম্পুর্ন ভাবে নন বিলিভার।

আজকে এতটুকুই থাকুক, পরের পর্বে সিটিডেল,রিভারল্যান্ডস,

ড্রাগনস্টোন এবং এর সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন ফ্যান থিওরি নিয়ে কথা বলবো..

 

5.jpg

ঈগলের চোখ!!

Now Reading
ঈগলের চোখ!!

 

 

আপনি কি কখনো নিজের Conscious & Sub-Conscious মাইন্ড নিয়ে ভেবেছেন? এটা আসলে কি ? দেখতেই বা কেমন তার আচরণটাই কেমন ? এই বিষয়গুলো একজন লেখকের লেখনীতে যেভাবে ফুটে উঠে তার চেয়ে দ্বিগুণ হয়ে ধরা দেয় একজন নির্মাতার চোখে বা ক্যামেরায়। আমাদের প্রত্যেকের আচরণে একটা দ্বিস্তরের পর্দা আছে যার একটার সাথে বাহ্যিকতায় সবাই পরিচিত অন্যটার সাথে কেবল নিজেই পরিচিত,অনেক সময় কেউ কেউ এটা ধরতে পারে না। আমরা নিজেই নিজের সাথে সংলাপ করি, প্রলাপ করি নিজেকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাই। এই বিষয়গুলো কেউ আমাদের দেখিয়ে দেয় নয়তো নিজেরা কখনো এর সম্মুখীন হয়।

সিনেমা গুলো হচ্ছে সভ্য সমাজে মানুষের আচরণের দর্পণ এই দর্পণে অনেক সময় নিজের অবিকল প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠে। আমরা সবাই কমবেশি সিনেমা দেখি নিজেদের সময় কাটানোর জন্য কিছু কিছু কালজয়ী সিনেমা আছে যা দেখার পর আমরা একটু নড়েচড়ে বসি। কিছু কিছু সিনেমা আছে যা আমরা বহুবার দেখি মনের খোরাক মেটানোর জন্য।

“আমাদের জীবনটা না খুবই কঠিন এর প্রতিটা বাঁকে বাঁকে রয়েছে রহস্যের মোড়, খুব কাছ থেকে দেখলে এর সবটা দেখা যায় না। একে যদি ভাল করে দেখতে হয় তবে অনেকটা উপর থেকে দেখতে হবে যেমন অনেকটা ঈগলের মত করে।”

ঈগল আকাশে উড়ছে ঠিকই কিন্তু তার শ্যোন দৃষ্টি কিন্তু রয়ে যায় নিচে যেখানে সবকিছু তার কাছে পরিস্কার।এমনই একটা সংলাপ ছিল ঈগলের চোখ ছবিতে। বর্তমানে ধুন্ধুমার এ্যাকশন আর বাহারি স্পটে গানের যুগে কিছু ছবি আছে যা আপনাকে পর্দার সামনে আটকে রাখবে করে রাখবে মন্ত্রমুগ্ধ। আপনি যদি  CRIME থ্রিলারের ভক্ত হন তবে এই ছবিটা একবার হলেও দেখবেন কেননা এখানে নায়কোচিত কোন হাবভাব নেই,নেই কোন আইটেম সং। এখানে  শক্তিশালী একটা গল্প আর সুন্দর নির্মাণশৈলী মূলত গল্পের প্রাণ বলা চলে।যা আপনাকে টেনে নিয়ে যাবে।

মূল গল্পটি প্রখ্যাত উপন্যাসিক শীর্ষেন্দু মুখোপধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মাণ করেছে অরিন্দম শীল। শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের ব্যানারে প্রযোজিত ছবিটি মূলত সিক্যুয়ালের ২য় ধাপ। আগের পর্বটি ছিল এবার শবর…..

এখানে অভিনয় করেছে শ্বাশত চ্যাটার্জী,জয়া আহসান,পায়েল সরকার,অর্নিবাণ ভট্টাচার্য্ সহ আরো অনেকে ছবির ছোট একটা চরিত্রে রয়েছে পরিচালক অরিন্দম শীল।

কাহিনিসূত্র…..

পেশায় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার বিষাণ (অনিবার্ণ) নিজের জীবনের প্রতি বেশ উদাসীন তার স্ত্রী শিবাঙ্গী (জয়া আহসান) নিজেও একজন ব্যবসায়ী। তাদের ঘরে আশ্রিত শিবাঙ্গীর বান্ধবী নন্দিনি (পায়েল সরকার) আর জাহ্নবী। সিনেমার প্রথম দৃশ্যতে দেখা যায় ঘরে ডাকাত ঢুকেছে আর ডাকাতের কবলে পড়ে মারা যায় আশ্রিত নন্দিনি,একই সাথে শিবাঙ্গী গুরুতর আহত হয়ে কোমায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই ঘটনার জেরে পুলিশ মামলার তদন্তে নেমেছে যেখানে তারা স্বামী বিষাণকে দোষী প্রমাণ করতে ব্যস্ত।

এই খুনটাকে ওপেন এন্ড শাট মার্ডার কেস বলে চালিয়ে দিলেও সামনে চলে আসে নানা তথ্য যেখানে শিবাঙ্গীর সাথে বিষাণের ডির্ভোস ফাইল করা ছিল।এখানে ডির্ভোসের ক্ষতিপূরণও ছিল বিশাল। এই ক্ষতিপূরণের ঝামেলা থেকে বাঁচতে বিষাণ তার স্ত্রীকে মেরে ফেলতে চাই নি তো! নন্দীনি আর শিবাঙ্গীকে সরিয়ে জাহ্নবীকে নিয়ে বিষাণ নতুন জীবন শুরু করতে চাই এমন বিষয় বা সন্দেহ সামনে চলে আসে।

এই মামলার তদন্তভার ছিল পুলিশের ধুরন্ধর গোয়েন্দা অফিসার শবরের (শাশ্বত চট্টোপধ্যায়) হাতে। নিজে তার পেশার প্রতি এতটা ডেডিকেটেড যে নিজের যে একটা স্বাভাবিক জীবন তা যেন হারাতে বসেছে । একটা সময় মনোবিদের শরণাপন্ন হলে নিজের সমস্যা কথা জানতে পারেন। গোয়েন্দা অফিসার শবরের সমস্যা হলো ওনি নিজের একটা প্রতিচ্ছবি সকল ক্রিমিনালের মাঝে দেখেন যেখানটায় তিনি একজন মানুষের পরিচয়কে বড় করে দেখেন।

এখন একজন পুলিশ যদি অপরাধীকে এভাবে দেখেন তবে তো অপরাধী পার পেয়ে যাবে,তাই না? তবে তিনি কি করে একজন গোয়েন্দা বিভাগের বড় অফিসার হলেন?

তদন্তের স্বার্থে তিনি জানতে পারলেন শিবাঙ্গীর স্বামী বিষাণ মূলত একটা সাব-কনসাস লাইফের মোড়ক নিয়ে বেঁচে আছেন। বিষাণ আসলে একটা উন্মাদ আর অস্বাভাবিক মানুষ যে কিনা নিজের জীবনের উপর কোন কন্ট্রোলই রাখতে পারে না। এক সময়ে নন্দীনির সাথে বিষাণের পরকীয়ার সম্পর্কটার জের ধরে শবরের চোখে শিবাঙ্গী আর জাহ্নবী খুনি। এতসব কিছুর পরও পুলিশ কূল কিনারা করতে পারছে না।

নিজের জীবনের একটা কালো অতীত অধ্যায় যা বিষাণকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে যেটার জের ধরে তার সাথে স্ত্রী শিবাঙ্গীর মনোমালিন্য চলছে বিয়ের পর থেকে ফলাফল ডির্ভোস আর বিশাল টাকার মামলা,মাঝখানে নন্দীনির সাথে এক্সট্রা ম্যারিটিয়াল এ্যাফেয়ার যার কারণে নন্দীনি তাকে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল। নিজের ঘরে একটা টিন-এজ মেয়ে জাহ্নবী যাকে কেন্দ্র করে একটা ত্রিমূখী মোড় পেল।ছবিতে বিরতির পূর্বে গল্পের গতি থেমে থেমে আপনাকে খুনীর কাছে নিয়ে যাবে।

এই গল্পে লেখক আর নির্মাতার ভাষা বুঝতে হলে আপনাকে শেষ অব্দি দেখে যেতে হবে। এখানে একটা ক্রাইম থিলারের আদলে পরিচালক মানুষের জীবনবোধের একটা গল্প বলতে চেয়েছেন তার ঢঙে। আমরা আমাদের নিজেদের পারিপার্শ্বিক যে মানুষ সবগুলোকে দেখি তবে তাদের কতটা অবলোকন করতে পারি?

মুখ দেখে যায় চেনা এই টাইপ কথাবার্তা বলি আসলে কি মুখ দেখে কাউকে চেনা যায় ?

ঈগলের চোখ ছবিটি মুক্তি পেয়েছে ২০১৬ সালে আপনি যদি এখনো না দেখে থাকেন তবে অবশ্যই আপনার মাস্ট ওয়াচ লিস্টে রাখতে পারেন। এইটুকু বলতে পারি আইটেম গানের রমরমা এই  ‍যুগে আবহ সঙ্গীতের মূর্ছনায় আপনি গল্পের গতিতে এগিয়ে যাবেন।যা দ্বারা নিজের মানসিক স্বত্তাকে না হয় একটু যাচাই করে নিলেন।

হ্যাভ এ গুড টাইম উইথ মুভি।

 

Game of thrones (part 2) (আলোচনা: লর্ড ফ্রে,জফ্রি & সারসেই ল্যানিস্টার)

Now Reading
Game of thrones (part 2) (আলোচনা: লর্ড ফ্রে,জফ্রি & সারসেই ল্যানিস্টার)

এর আগে আমি লিখেছিলাম জনপ্রিয় ৩ টি ক্যারেক্টার আরিয়া,জন স্নো এবং খালেসি কে নিয়ে,

আজকে লিখবো অপ্রিয় ৩ টি ক্যারেক্টার নিয়ে..

তারা হলেন, জফরি বারাথিওন,

সারসেই ল্যানিস্টার

& লর্ড ফ্রে..

জফরি বারাথিওন : বারাথিওন টাইটেল পেলেও ইনি সারসেই এবং জেমি ল্যানিস্টার এর ইনসেস্ট। অর্থাৎ এক প্রকার বাস্টার্ড এবং বাজে ধরনের বাস্টার্ড। জেইমি ল্যানিস্টার এবং সারসেই ল্যানিস্টার এই ২ ভাই বোনের ভালোবাসার ফসল হলো এই জফরি। তার আসল বাবা হিসেবে সবাই যাকে চিনে রবার্ট বারাথিওন। রবার্ট বারাথিওন এর মৃত্যুর পর জফ্রি থ্রোনে বসে এবং মারাত্মক ভাবে তার স্টুপিডিটি প্রকাশ পেতে থাকে। সে মানুষ কে পশুর মত হত্যা করে আনন্দ পায়, ইচ্ছে হলেই কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া,তীর দিয়ে কাউকে মেরে ফেলা এগুলাই যেনো তার আনন্দ। একসময় রাজ্যের সবচেয়ে সুন্দরী মার্জারী টাইরেল এর সাথে তার বিয়ে ঠিক হয়, বিয়ের মধ্যেই কে বা কারা জফ্রির ওয়াইন এর মধ্যে বিষ দিয়ে তাকে মেরে ফেলে। এই ক্যারেকটার এর মৃত্যু তে দর্শক যে পরিমান আনন্দ পেয়েছে তা বলার বাইরে।

সারসেই ল্যানিস্টার : একটি কিশোরী মেয়ে বনে জংলের মধ্য দিয়ে হাঠছেন, তার গন্তব্য একটি কুঁড়েঘর। যেখানে একজন গণক থাকে,সে ভবিষ্যৎ বলতে পারে,মেয়েটি তাকে জিজ্ঞাসা করলো তার ভবিষ্যৎ বলতে,..

গণক বলতে চাইলো না.. কিশোরী টি চিতকার করে উঠলো, বলল, তোমাকে বলতেই হবে, আমি প্রিন্সেস সারসেই ল্যানিস্টার আমি যা বলি তা মানতে হয়.. গনক কিছুটা হাসলো,তারপরে বলল.. “Everyone one wants to know their future, until they know it”

সে ভবিষ্যৎ বানী করলো :- সারসেই ল্যানিস্টার এর ৩ টি সন্তান হবে এবং কেউ বেচে থাকবেনা,তাদের মৃত্যু হবে খুব কম বয়সে।

ভবিষ্যৎ বানী টি সত্য হয়েছিলো। সারসেই এর প্রথম সন্তান জফ্রি বিষ প্রয়োগে মারা যায়, দ্বিতীয় সন্তান ও বিষের প্রভাবে মারা যায় এবং তৃতীয় সন্তান আত্মহত্যা করে,কারন তার ভালোবাসার মানুষ টিকে সারসেই ধ্বংস করে।

কিভাবে প্রতিটি ঘটনা ঘটে তা দেখতে হলে দেখতে হবে সিরিজ টি…

লর্ড ফ্রে: লর্ড ফ্রে ছোট খাটো একটি ক্যারেক্টার হলেও দর্শক দের চোখে সবচেয়ে ঘৃনার একটি নাম।

স্টার্ক পরিবার এর সবচেয়ে বড় ছেলে রব স্টার্ক যুদ্ধের মাঝখানে একটি ব্রিজ পাড় হয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয়, ব্রিজ টি ছিলো লর্ড ফ্রে এর দখলে। তার কাছে ব্রিজ পাড় হয়ার অনুমতি চাইলে সে রব স্টার্ক কে শর্ত দেয় তার ২০ জন মেয়ের মধ্যে যেকোনো একটা মেয়েকে বিয়ে করতে হবে, কিন্তু রব আগেই একজন কে ভালোবেসেছিলো,তাই সে শপথ রাখতে পারেনা,সে তার ভালোবাসার মানুষ টিকে বিয়ে করে। এদিকে লর্ড ফ্রে বলে তার কাছে ক্ষমা চেয়ে রব স্টার্ক এর চাচার সাথে যদি তার মেয়েকে বিয়ে দেয় তাহলে সে ব্রিজ পাড় করার অনুমতি দিবে

কথামত সব চুক্তি সম্পন্ন হয়। বিয়ের বাদ্য বাজে অনুষ্ঠান চলছে। হঠাত করে বাদ্যবাজনা বন্ধ হয়ে যায়। বিয়ের অনুষ্ঠান এ স্লটার চলে,..

রব স্টার্ক এর স্ত্রী,রব স্টার্ক সবাইকে ছুরিকাঘাত এর মাধ্যমে হত্যা করে ওয়াল্টার ফ্রে..

রব স্টার্ক এর স্ত্রী ছিলো সন্তান সম্ভবা,তার পেতে ছুরি দিয়ে একবার নয় বারবার স্ট্যাব করতে থাকে তারা..

রব তখনো বেচে আছে, হতভম্ব হয়ে সে তাকিয়ে আছে তার স্ত্রীর দিকে…

রব স্টার্ক এর মা কেটলিন স্টার্ক তখন ওয়াল্টার ফ্রে এর ওয়াইফ কে ধরে ফেলে, বলে কসম লাগে তার ছেলেকে ছেড়ে দিতে নাহয় সে ওয়াল্টার ফ্রে এর ওয়াইফ কে খুন করবে… ওয়াল্টার ফ্রে উত্তর দেয়- “I’ll Find Another!!!”” এবং রব ও তার মা কে গলা কেটে হত্যা করে।

গেম অফ থ্রোন্স এর একটা সিনে একবার ব্র‍্যান্ডন স্টার্ক বলে, গড সবকিছু ক্ষমা করতে পারে, কিন্তু অতিথি কে আপ্যায়ন করে এনে তার ছাদের নিচে খুন করা গড কখনো সহ্য করেনা। তেমনি ভাবে লর্ড ফ্রে এর পরিনতি টা হয় রব স্টার্ক এর ই বোন আরিয়া স্টার্ক এর হাতে। সে ম্যানি ফেসড গড এর প্রশিক্ষণ পূর্ন করে, ভিন্ন চেহারা নিয়ে দাসী সেজে ঘরে ঢুকে। এবং লর্ড ফ্রে এর সন্তান কে সে মেরে কেটে কুচি কুচি করে কাবাব বানিয়ে লর্ড ফ্রে কে খাইয়ে দেয়.. খাওয়ার সময় যখন ফ্রে কাবাব এর মধ্যে একটি আংগুল পায়, তখন আরিয়া তার মুখোশ খুলে ফেলে এবং বলে- ” I am Ariya Stark of winterfell, & I want you to see my face as you die” তারপর লর্ড ফ্রে এর গলা কেটে সে ঘটনার সমাপ্তি করে।

গেম অফ থ্রোন্স এমন একটি সিরিজ যেখানে কোন কিছু প্রেডিক্ট করা যায়না, আজকে যাকে মূল হিরো মনে হচ্ছে,কালকে সে মাটির সাথে মিশে যেতে পারে। ৬ টা সিজন এই পর্যন্ত শেষ হয়েছে, ঘটনা বিস্তৃত হয়েছে অনেক দূর। আরো ২ টা সিজন আসবে। কাহীনি কোন দিকে যে যাচ্ছে কেউ বলতে পারছেনা।

কে থ্রোন এ বসবে?

সারসেই?

খালেসি?

জন স্নো?

নাকি সানসা স্টার্ক: যে ভয়াবহ সব দুর্ঘটনা সারভাইভ করে এসেছে?

নাকি থ্রোন এর কোনো মূল্যই থাকবেনা যখন হোয়াইট ওয়াকার রা ওয়াল পার হয়ে যাবে? যথেষ্ট ভেলেরিয়ান স্টিল এবং ড্রাগন গ্লাস কি তারা যোগার করতে পারবে? হোয়াইট  ওয়াকার দের আগুন দিয়ে থামানো যায়, খালেসির ড্রাগন কি তাহলে ওদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে? নাকি সমস্ত জীবিত দের ধ্বংস করে দিয়ে থ্রোন এ বসবে একজন হোয়াইট ওয়াকার???

গেম অফ থ্রোন্স নিয়ে আরো অনেক আলোচনা করতে চাই আমি, কিন্তু পাঠক যদি রিকুয়েস্ট করে তাহলে, ঘটনার কোনো অংশে কারো কনফিউশন থাকলে অথবা বিভিন্ন ফ্যান থিওরি নিয়ে আলোচনা করতে চাই ভবিষ্যৎ এ।

IMDB RATING: 9.5/10

আমার রেটিং: 9.8/10

রেটিং ১০ দিবো মূল এন্ডিং দেখার পর।

Game Of thrones (খালেসি,আরিয়া ও জন স্নো)

Now Reading
Game Of thrones (খালেসি,আরিয়া ও জন স্নো)

আলোচনা হবে আজকে প্রিয় গেম অফ থ্রোন্স এর প্রিয় ক্যারেক্টার গুলি নিয়ে।

গেম অফ থ্রোন্স মুলত ৯ টি রাজ্য নিয়ে কাহীনি..

৯ টি রাজ্য একে অপরের সাথে দন্দ্ব কোলাহলে ব্যস্ত।

অত গভীর এ না যাই, স্টোরিটা মুলত মিথিক্যাল। এর মধ্যে বেশীর ভাগ দর্শক এর ই প্রিয় চরিত্র খালেসি ( যে ড্রাগিন নিয়ে লাফালাফি করে) হলেও আমার প্রিয় ক্যারেক্টার টিরিয়ন ল্যানিস্টার এবং আরিয়া স্টার্ক ও জন স্নো। সিরিজ টাতে যে থ্রোন নিয়ে কাড়াকাড়ি তার যোগ্য উত্তরাধিকারী খালেসি হলেও, যোগ্যতার দিক দিয়ে আমি জন স্নো কে বেশী ঠিকঠাক মনে করি।

এখন প্রিয় চরিত্র গুলো নিয়ে কিছুটা বিশ্লেষণ এ আসি।

খালেসি: খালেসির ভাই ছিলো শয়তানের হাড্ডি, থ্রোন পাওয়ার জন্য সে তার বোন কেও বেচে দিতে রাজি ছিলো, তো কর্মের ফল অনুযায়ী বোনের সামনেই জঘন্য ভাবে মৃত্যু হয় তার। খালেসির কাছে ছিলো হাজার বছর পুরানো ৩ টা ড্রাগনের ডিম যা থেকে বাচ্চা বের হয়া প্রায় অসম্ভব ছিলো। কারন ডিম গুলোর কার্যকারিতা শেষ হয়ে গিয়েছিলো,এগুলো পরিনত হয়েছিলো পাথর এ.. কিন্তু মিরাকল ঘটে, ৩ ট ডিম ফুটে বাচ্চা হয় ৩ টি.. খালেসি কে মা ভাবে ড্রাগন গুলো,ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে,খালেসি ছোট ছোট শহর জয় করতে করতে ওয়েস্টেরস ( যেখানে সেই থ্রোন মানে সিংহাসন আছে) এর দিকে এগিয়ে আসতে থাকে, হাজার হাজার আর্মি যোগার করতে থাকে খালেসি ওরফে ডেনেরিস টারগেরিয়ান।

আরিয়া: আরিয়া স্টার্ক থাকে স্টার্ক পরিবার এর একজন সম্মানিত লেডি,কিন্তু লেডি হয়ে কোনো প্রিন্স কে বিয়ে করে বাচ্চা পয়দা করার কোনো শখ তার নেই, সে ফাইট শিখতে চায়। আর্মর পরে সে যুদ্ধ করতে চায়। তার চোখের সামনে যারা তার বাবার গর্দান নিয়েছে তাদের একটি একটি করে খুন করতে চায়। আরিয়া এখানে প্রতিশোধ এর একটি প্রতীক। তার চোখ দিয়ে পানি পরতে দেখা যায়না কখনো, শুধু প্রতিশোধ এর জন্য চোখ জ্বলজ্বল করতে থাকে তার। সে মোটেও অহংকারী না,যখন সে যার সাথে থাকে তাকেই সে মাস্টার মনে করে এবং চলার পথে কিছু না কিছু সে শিখতে থাকে, একসময় সে দেখা পায় “ম্যানি ফেসড গড” এর যে কিনা মুহুর্তে চেহারা বদলাতে পারে, আরিয়া হতে চায় একজন ম্যানি ফেসড গড। প্রশিক্ষন নেয়া শুরু করে সে।

জন স্নো: যে একজন বাস্টার্ড নামে সবার কাছে পরিচিত। কিন্তু আসলেই কি সে বাস্টার্ড নাকি কোনো হাইবর্ন পরিবারে প্রিন্স হয়ে তার জন্ম এ রহস্য অজানা। জন স্নো নাইট ওয়াচ এর একজন ব্রাদার, যারা মানুষ এবং হোয়াইট ওয়াকার দের মাঝে যে ওয়াল আছে তা রক্ষা করে।

সবসময় তারা বলতে থাকে “WINTER IS COMING” ..

কি হবে উইন্টার আসলে? মিথ আছে উইন্টার আসলে হোয়াইট ওয়াকার রা মানুষ দের ওপর আক্রমন করে। তাদের কাছে উচ্চ বংশ নিম্ন বংশ বলতে কিছু নেই, হোয়াইট ওয়াকার দের কাছে মানুষ শুধু ডিনার এবং ফ্লেশ।

হোয়াইট ওয়াকার দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য অস্ত্র আছে খুব সামান্য, কারন সাধারন তলোয়ার দিয়ে তাদের কিছুই করা যায়না, তাদের মারতে প্রয়োজন হয় ড্রাগনগ্লাস দিয়ে বানানো সোর্ড এবং ভেলেরিয়ান সোর্ড, যা শুধু এসোস মহাদেশে পাওয়া যায়। এবং এসোস মহাদেশে কোন মানুষ বসবাস করে কিনা তারা জানেনা। হোয়াইট ওয়াকার দের প্রথম তৈরী করেছিলো চিল্ড্রেন অব ফরেস্ট। তাদের উদ্দেশ্যে ছিলো মানুষ এর হাত থেকে বাচার জন্য তারা আর্মি তৈরী করবে। মানুষ এর হাত থেকে তো তারা বেচে গেলো, কিন্তু যে পারপোস দিয়ে সেই হোয়াইট ওয়াকার দের তৈরী করা হয়েছিলো, সেই পারপোস তারা পালন করেই যাচ্ছে।

শুধু জন স্নো ই জানে কে তাদের আসল শত্রু.. লড়াই মানুষ এর সাথে মানুষ এর নয়.. লড়াই মৃত এবং জীবিত দের মধ্যে. জন স্নো জীবিত দের জড়ো করছে,যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করছে,

জন স্নো যখন বুঝতে পারে যুদ্ধ তারা নিজেরা করাটা বোকামি হচ্ছে, তখন সে তাদের শত্রু পক্ষের সাথে হাত মিলায় এবং সবাইকে এক করে, হোয়াইট ওয়াকার দের বিরুদ্ধে একসাথে যুদ্ধ করার জন্য। কিন্তু কিছু মানুষ নির্বুদ্ধিতার কারনে জন স্নো কে ভুল বোঝে এবং তাকে কুপিয়ে মেরে ফেলে। এই এপিসোড এর পর দর্শকমহল এ জন স্নো এর জন্য শোক নেমে আসে। এর পর রেড গড নামক এক গড এর অনুসারী বা প্রিস্ট জন স্নো কে মৃত থেকে আবার জীবিত করে। ঘটনা গুলো এভাবে শুনতে অবাক লাগলেও সিরিজ দেখার সময় অন্যরকম থ্রিল পাওয়া যায়..

আরেক দিকে ডেনেরিস টারগেরিয়ান তার আকাশ সমান ৩ টি ড্রাগন নিয়ে রওনা হচ্ছে ওয়েস্টেরস এর দিকে, আরিয়া মেনি ফেসড গড এর প্রশিক্ষন নিচ্ছে.. আর থ্রোনে যারা বসে আছে তারা কি করছে? তারা ল্যানিস্টার। তারা এখনো বিশ্বাস ই করেনা ওয়াল এর ওপারে কি আছে.. তারা একে ভাবছে সামান্য গল্প। কি হবে তাদের পরিনতি? “Battle of Alive vs Dead” কে জিতবে এই লড়াই? গেম অফ থ্রোন্স কে ধরা হয় সর্বকালের সেরা সিরিজ।

এই সব গুলো ঘটনা মিথিক্যাল হলেও, পরিচালক ঐতিহাসিক বিভিন্ন ঘটনা থেকে স্টোরিলাইন সংগ্রহ করে সিরিজ টি তৈরী করেন। এই সিরিজ এর ভক্ত সংখ্যা ছড়িয়ে আছে পুরো বিশ্ব জুড়ে। যারা ইংলিশ মুভি বা সিরিয়াল দেখতে পছন্দ করেন তাদের জন্য এটা ১ নাম্বার পছন্দ।

IMDB রেটিং: ৯.৫/১০

আমার রেটিং: ৯.৮/১০

A must watch Tv series

 

13 Reasons Why Review.

Now Reading
13 Reasons Why Review.

কথায় আছে বিন্দু বিন্দু জল মিলে একটি সাগর গড়ে তুলতে পারে।

তেমনি অনেক বড় বড় ঘটনার পেছনেও ছোট ছোট অনেক গুলি কারন থাকে। এরকম আরেকটা টার্ম আছে, তা হচ্ছে “বাটারফ্লাই ইফেক্ট ”

‘বাটারফ্লাই ইফেক্ট’ টার্মটির সাথে আমাদের অনেকেরই পরিচয় আছে।

যাদের নেই, তাদেরও পরিচয় এই লেখাটি পড়তে শুরু করলে হয়ে যাবে।

বাটারফ্লাই অর্থাৎ প্রজাপতি, আর ইফেক্টের অর্থ প্রভাব। বিজ্ঞান বলে, মহাকাশের কোথাও একটা প্রজাপতি যদি ডানা ঝাপটায় তবে অন্য কোন কক্ষপথে তার প্রভাবে তুমুল সাইক্লোনও আঘাত আনতে পারে আর এই ব্যাপারটিকেই বৈজ্ঞানিক টার্মে বলে ‘বাটারফ্লাই ইফেক্ট’। অর্থাৎ প্রত্যেকটি ক্রিয়ার একটি বিপরীত প্রক্রিয়া আছে, যা মাঝে মাঝেই এমন কোন রুপ ধারন করে ফেলে যা আমরা হয়তো ক্ষুদ্র জ্ঞানে বা অজ্ঞানে জানতে পারি না।

এই যে আপনি নিছক আনন্দের জন্য বাসে একটি মেয়ের শরীরের ব্যক্তিগত কোন অংশ স্পর্শ করে হেঁটে চলে গেলেন, আপনার সেই আনন্দটিই এই মেয়েটির জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণার কারন হয়ে যেতে পারে?

ক্লাসে কোনো একটি মেয়ের নামে বাজে গুজব শুনলেন আপনি,অথচ আপনি হয়তো জানেন ই না কথাটা আদৌ সত্য কিনা। কিন্তু আপনি ঠিক ই মেয়েটাকে জাজ করে ফেললেন? মেয়েটা খারাপ মেয়ে নামে পরিচিত হয়ে গেলো.. কি হবে তখন মেয়েটার অবস্থা? তার জীবন টা উলট পালট হয়ে যাবে নাতো?

এমন ই এক হাইস্কুল পড়ুয়া ১৭ বছরের একটি মেয়ের জীবন এর ঘটনা দেখানো হয় “13 Reasons Why” সিরিজ টিতে।

হ্যানা বেকার নামে একটি মেয়ে হঠাত তার বাসার বাথটাব এ হাত কেটে সুইসাইড করে এবং এই ভয়ানক ডিসিশান নেয়ার কারন হিসেবে সে ১৩ জন মানুষ কে দায়ী করে কিছু ক্যাসেট রেকর্ড করে যায়.. হ্যানার মৃত্যুর এক সপ্তাহ পরে তার বন্ধু ক্লে জেনসন তার বাসার নিচে এই ১৩টা ক্যাসেট আবিষ্কার করে এবং পরবর্তীতে বিস্ময়ের সাথে সে বের করে, এই ১৩টি কারণের মধ্যে সে নিজেও একটি কারন! এরপর থেকেই ক্লে’র জীবন হুট করে বদলে যায়। তারই সহপাঠীদের এমন সব রূপ তার চোখে ধরা পড়ে যা হয়তোবা তারা নিজেরাও কখনো আবিষ্কার করেনি। একটি আত্মহত্যা বদলে দেয় অনেকগুলো জীবন।

এই সিরিজটি দেখতে যেয়ে আপনার প্রথমেই মনে হবে ‘এত ছোট ঘটনায় কেউ আত্নহত্যা করে? মেয়েটা নিশ্চয়ই খালি অন্যের দৃষ্টি আকর্ষন করতে চায়! কিন্তু ধীরে ধীরে পরিষ্কার হবে যে, যেটি এই মুহূর্তে সামান্য একটি ঘটনা, সেটা হয়তো কোনো জীবনের সবচাইতে বড় দুর্ঘটনার শুরু। ‘তোমার তো সবার সাথেই সমস্যা। কেউই তো তোমাকে পছন্দ করে না। সমস্যাটি তোমার ভিতরেই’- কয়েক মাস আগেই আমি আমার এক পরিচিত সিনিয়রের কাছ থেকে এমন একটি মন্তব্য শুনে প্রায় বিশ্বাস করে বসেছিলাম যে সমস্যা আমার,আমি ‘আনওয়ান্টেড’। আমি জানি, এই ছোট তিনটা লাইন যে বলেছে, তা তার কাছে কিছুই না। কিন্তু যাকে বলা হয়েছে, তার গোছানো ভেতরের দুনিয়াটা উল্টে-পাল্টে দিতে সক্ষম।

এই সিরিজে হ্যানা ব্যাকারের সাথেও প্রতি মুহূর্তেই ছোট থেকে বড় ঘটনা ঘটছে এবং প্রতিবারই হ্যানা চেষ্টা করেছে সেগুলো থেকে বেরিয়ে নতুন করে শুরু করার এবং আবারো তার সাথে খুব ছোট থেকে বড় কিছু ঘটেছে। সোশাল মিডিয়া, পার্টি, চেক-ইন আর ক্যুল সাজার চেষ্টায় আমরা যার সাথে ইচ্ছা তার সাথেই কোন একটা প্র্যাঙ্ক বা বিচ্ছিরি মজা করে বসছি…

পাশের মানুষটাই হয়তো জীবনের কোন একটি বা অনেকগুলো ঘটনায় অনেক বেশী কষ্ট পাচ্ছে, কিন্তু এত কোলাহলে আমরা সবচাইতে কাছের শব্দটিও শুনতে পারছি না। যেটা হয়তো আমার কাছে বা আপনার কাছে নিতান্তই “ফান”, সেটাই হয়তো কারো কাছে লজ্জা, ভয়, ইনসিকিরিটির কারণ। যে মানুষটি সুইসাইডের মত এত বড় একটি দুর্ঘটনা, ভয়াবহ কাজটি নিজের সাথে করতে যাচ্ছে- কোথাও না কোথাও, কোনো না কোনো কারণে যে আপনিও যেখানে দায়ী না, সেটা আপনি নিশ্চিত তো?

‘Thirteen Reasons Why’ আপনাকে ভাবাবে, জানাবে যে আপনার উচিৎ আরো একটু যত্নবান হওয়া। আপনার পাশেই আছে- এমন কোন বিপদগামী মানুষকে সব কিছু ছেড়ে একটুখানি সময় দেওয়া, আর নিজের অজান্তে বা জেনেশুনেই যে ছোট ছোট ভুলগুলো আমরা কিছু না বুঝেই করছি, তা অন্যের জীবনে সাইক্লোনের আঘাত হতে পারে- সেটাও খেয়াল রাখা। আর যে মানুষগুলো ভাবছে যে ‘আপনি একা’, ‘আপনি আনওয়ান্টেড’- আপনি আসলে একা না, আপনার মতো, আপনার পরিস্থিতিতে অনেকে আছে, অনেক বেশিই খারাপ আছে। নিজেকে সাহায্য করার ক্ষমতা শুধুই আপনার নিজের।

এই সিরিজ টা একেক জনের কাছে একেক রকমের লাগবে,কারো কারো মনে হবে অনেক কিছু অতিরঞ্জিত। কিন্তু আসলে বুঝতে হবে পরিচালক এভারেজ মানুষ এর দৃস্টিকোণ থেকে ঘটনা টি দেখান নি, বরং ১৭ বছরের তরুনী হ্যানা বেকার এর দৃস্টিকোণ থেকেই দেখিয়েছেন। সবার কাছে যেটা স্বাভাবিক, উঠতি বয়সি একজিন তরুনীর কাছে তা স্বাভাবিক নাও হতে পারে। হয়তো ছোট কিছু সাপোর্ট ও তার কাছে অনেক, আবার অনেক ছোট অবহেলাপূর্ণ ব্যাবহার ও তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে। সিরিজ টার ১৩ টি পর্বের ১৩ টা ঘন্টা যেনো শুধু বিষন্নতায় কেটেছে আমার।

IMDB রেটিং: ৮.৭/১০

আমার রেটিং : ৯/১০

বি.দ্র. : মুভিতে হ্যানাহ চরিত্রে অভিনয় করেন ক্যাথারিন ল্যংফোর্ড। এবং ক্লে চরিত্রে ডিলান মিনেট। ক্যাথারিন অভিনয়ে আসেন ইউটিউব এ গান গেয়ে জনপ্রিয়তা পাবার পরে।

Page Sidebar