অবশেষে বাংলাদেশে পর্যটকদের জন্য চালু হল কায়াকিং (Kayaking)

Now Reading
অবশেষে বাংলাদেশে পর্যটকদের জন্য চালু হল কায়াকিং (Kayaking)

এটি আমাদের জন্য খুবই আনন্দের খবর যে অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও বেশ কিছুদিন আগে চালু হয়েছে কায়াকিং (kayaking). যা কিনা বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পকে আরও বিকশিত করবে।

চলুন তার আগে জেনে আসি কায়াকিং( kayaking) সম্পর্কে কিছু সংক্ষিপ্ত আলোচনা। যাতে আপনি কায়াকিং (kayaking) সম্পর্কে কিছুটা হলেও বুঝতে পারবেন ।

কায়াক (kayak) শব্দটি অনেকের কাছে নতুন হতে পারে। কারণ কায়াক (kayak) আমাদের দেশের প্রচলিত কোন শব্দ না। কিন্তু ইদানীং বাংলাদেশে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং এর কল্যাণে কায়াকিং শব্দটি বেশ জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে।

কায়াক (kayak) আসলে কি?

কায়াক মূলত লগি বা বৈঠার সাহায্যে চালানো যায় এমন এক ধরনের ফাইবার গ্লাসের তৈরি দ্রুতগতির ছোট নৌকা। এটি নদী, সমুদ্র বা সমুদ্র উপকূলে প্রতিযোগিতামূলক খেলায় চালানো হয়।

একজন দ্বারা চালিত কায়াকগুলো লম্বায় ১০-১৫ ফুটের মত হতে পারে। আর বড় কায়াকগুলো ২৫-২৬ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। বড় কায়াকগুলোতে ২-৩ জন বসতে পারে। কায়াকগুলো তাদের আকৃতি এবং নকশার কারণে বেশ দ্রুতগতির হয়ে থাকে।

কায়াকের ইতিহাস:

কায়াকের ইতিহাস খুঁজলে জানা যায় যে, কানাডার আলেস্কোতে প্রথম কায়াকের ব্যবহার শুরু হয়। এছাড়া গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণ –পশ্চিম উপকূলে বসবাসরত এস্কিমোরা সিল মাছ শিকারের জন্য, হালকা কাঠের তক্তা এবং সিলের চামড়া দিয়ে তৈরি এক প্রকারের নৌকা ব্যবহার করত। এই নৌকাগুলোতে বলা হত (Ice kayak).

১৯৮৪ সালে প্রথম আধুনিক কায়াকের ব্যবহার শুরু হয়।

বাণিজ্যিকভাবে বাংলাদেশে কায়াকের প্রচলন:

সম্প্রতি কাপ্তাই কায়াকিং ক্লাব নামের একটি সংগঠন বাণিজ্যিকভাবে কর্ণফুলী নদীতে এই কায়াকিং এর প্রচলন শুরু করেছে। কাপ্তাই কায়াকিং ক্লাবটি এই নৌকার ব্যবহার আমাদের কাছে পরিচিত করে তুলছে।

কাপ্তাই কায়াকিং ক্লাবটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় এই বছরের ২৪ এ ফেব্রুয়ারি ।

বাংলাদেশের তাদের কায়াকগুলো মূলত ফাইবার, পাট এবং পাতলা কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। ক্লাবটিতে অবশ্য এখন ৮টি কায়াক নৌকা আছে। তবে ক্লাবের উদ্যোক্তারা জানালেন, যেহেতু পর্যটকদের কাছ থেকে তারা ভাল সাড়া পাচ্ছেন, তাই খুব শীঘ্রই আরও বেশ কিছু কায়াকের ব্যবস্থা করবেন।

সাধারণত এক একটি কায়াকে ২ জন করে বসতে পারবেন। তবে চাইলে আপনি একাও একটি কায়াক নিয়ে কর্ণফুলী নদীর বুকে ঘুরে বেড়াতে পারবেন।

তবে সবচেয়ে আসল কথা হল আপনাকে কায়াকিং করার জন্য আগে থেকে বুকিং দিতে হবে।

আমাদের দেশে কায়াকিং খুব বেশিদিন আগে চালু না হলেও, এরই ভিতর অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে ক্লাবটির নাকি ২টি কায়াক রেস প্রতিযোগিতাও হয়ে গেছে।

প্রতি ঘণ্টা ৩০০ টাকা এবং আধা ঘণ্টা ১৫০ টাকা করে যে কেউ এখানে কায়াকিং করতে পারে। প্রতিদিনই কায়াকিং করা যায়। খোলা থাকে সকাল ৮ টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

নৌকাটি চালানো কিন্তু বেশ সহজ। প্রথম দিকে চালাতে একটু সমস্যা হবে অনভিজ্ঞতার জন্য। কিন্তু কিছুদূর যেতেই আপনি বুঝে ফেলবেন যে কিভাবে কায়াকটি চালাতে হয়। বেশ হালকা নৌকাটি। যখন নৌকা চালানো শিখে ফেলবেন , এরপর আস্তে আস্তে কর্ণফুলী নদীতে নৌকাটি নিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারবেন। আশেপাশের সবুজ পাহাড়, কর্ণফুলীর পানি, পাখির কলকাকলি আপনার মনটাকে অনেক সতেজ করে দিবে।

সব সময় তো লঞ্চ বা জাহাজে করে নদী, সমুদ্রে অনেক ঘুরে বেড়িয়েছেন। অথবা গ্রামবাংলার নৌকাগুলোতে পুকুর, খাল, বিলে চষে বেড়িয়েছেন। কিন্তু এভাবে কর্ণফুলী নদীতে কায়াকের মত ছোট নৌকা নিয়ে বৈঠা হাতে কোন বিরক্তিকর শব্দ ছাড়াই আপনি ঘুরে বেড়াবেন, আর প্রকৃতিকে উপভোগ করতে থাকবেন। তখন উপলব্ধি করবেন যে আপনার বেঁচে থাকার ইচ্ছাটা আরও বহুগুণে বেড়ে গেছে।

তবে এই উদ্যোগটি যারা নিয়েছেন, সেই কাপ্তাই কায়াকিং ক্লাবের উদ্যোক্তারা অবশ্যই প্রশংসা পাওয়ার দাবিদার। কারণ এমন ব্যতিক্রমী কিছু আমাদের মত পর্যটকদের উপহার দেয়ার জন্য। এতে কাপ্তাইয়ের পর্যটক সংখ্যা যেমন বাড়বে, তেমনই বাইরের দেশগুলোতেও বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের পরিচিতি বেড়ে যাবে।

 কিভাবে আসবেন?

১। আপনি কায়াকিং করতে চাইলে প্রথমেই আপনাকে চট্টগ্রামের কাপ্তাইয়ে আসতে হবে। ঢাকা থেকে কাপ্তাই আসার জন্য বেশ কিছু ভাল বাস সার্ভিস রয়েছে।

এরপর কাপ্তাই এসে সেখান থেকে জুম রেস্তোরা নামে একটি রেস্তোরা আছে। সেখান থেকে হেঁটে কিছুটা সামনে গেলেই পেয়ে যাবেন কায়াকিং এর জেটির সিঁড়ি।  সিঁড়ি বেয়ে নেমে পড়ুন। দেখবেন আপনার জন্য অপেক্ষা করছে সেই কায়াক (kayak) নৌকা।

২। এছাড়া রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত ব্রিজ এসে সেখান থেকে CNG নিয়ে আপনি কাপ্তাই বনশ্রী পর্যটন কমপ্লেক্সে আসলেই জুম রেস্তোরা পেয়ে যাবেন।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা:

১। কায়াকিং করতে গেলে আপনাকে অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট পড়তে হবে। লাইফ জ্যাকেট ছাড়া আপনাকে বোটে উঠতে দেয়া হবে না। অনেক পর্যটক আছেন যারা তর্কাতর্কি করেন যে লাইফ জ্যাকেট পড়তে চান না। কিন্তু এটা বুঝেন না যে আপনার নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবেই লাইফ জ্যাকেট পড়া উচিত।

২। সাতার না জানলেও আপনি কায়াকিং করতে পারবেন কারণ তারা আপনাকে লাইফ জ্যাকেট দিবে। আর প্রতিটি কায়াক নজরে রাখা হয়, তাই ভয় পাবার কোন কারণ নেই।

৩। আর নিরাপত্তার খাতিরে বেশ কিছু বিধি নিষেধ আছে, সেগুলো মেনে চলা উচিত। যেমন একটা নির্দিষ্ট এলাকার ভিতর থাকতে হবে।

৪। এরপর যখন তখন যেকোনো যায়গায় কায়াক থামানো যাবে না। অনেকে নাকি যেকোনো স্থানে কায়াক থামিয়ে ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এসব দিকে একটু সতর্ক থাকা উচিত আমাদের।

৫। আর অবশ্যই আগে থেকে বুকিং দিয়ে আসবেন। নাহলে পরে ভগ্নহৃদয় নিয়ে ফেরত যেতে হতে পারে।

 

তাহলে আর দেরি কেন। সময় সুযোগ পেলে, হাতে কিছুটা সময় নিয়ে ঘুরে আসুন কাপ্তাই থেকে। আর কায়াক (kayak) নামক ছোট নৌকাটি নিয়ে কর্ণফুলী নদীতে প্রকৃতিকে উপভোগের পাশাপাশি দুরন্তপনায় মেতে উঠুন।

 

রেফারেন্স লিঙ্ক:

১। https://bn.wikipedia.org/wiki/

২। http://www.banglatribune.com

৩। http://www.kalerkantho.com/feature/a2z/2017/05/22/500030

বাংলাদেশের নদীঃ তিস্তা নদী না মরুভূমি (শেষপর্ব)

Now Reading
বাংলাদেশের নদীঃ তিস্তা নদী না মরুভূমি (শেষপর্ব)

আগামী ২০-৩০ বছর পর বাংলাদেশকে আপনি হয়তো মানচিত্রে আর সহজে খুঁজে পাবেন না, কেনো জানেন? আগামী ২০-৩০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের দক্ষিন অঞ্চল ডুবে যাবে সাগরের অতল গভীরে আর অন্য একটি অঞ্চল অর্থাৎ উত্তর অঞ্চল পানি শূন্যতার কারণে সম্পূর্ণ মরুভূমি হয়ে যাবে। যে বাংলাদেশের মানুষের হাজার হাজার বছর ধরে বেড়ে উঠা নদীর সাথে, পানির সাথে সেই পানির কারণে অস্তিত্ব সংকটে আমরা। হারিয়ে যাচ্ছি আমরা, হারিয়ে যাচ্ছে দেশ, আমাদের বাংলাদেশ।

আগের দুটি পর্বে তুলে ধরেছিলাম কিভাবে ভারত আমাদের দেশে আসা প্রধান আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোতে বাঁধ দিয়ে আমাদের অস্তিত্ব সংকটের মধ্যে ফেলেছে। গঙ্গা নদীর উপর ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে ধ্বংস করছে আমাদের সুন্দরবন, তৈরি করছে নতুন মরুভূমি। অন্যদিকে তিস্তা নদীতে গজলডোবা বাঁধ দিয়ে তিস্তার পানি আটকিয়ে নদীকে রূপান্তরিত করছে মরুভূমিতে। আজ আপনাদের কাছে তুলে ধরছি কিভাবে ভারত আমাদেরকে পঙ্গু করে দিয়ে তিস্তাকে মরুভূমি বানাচ্ছে।19867.jpg

তিস্তা, পাহাড়ি সুন্দরি কন্যা নামে পরিচিতি আন্তর্জাতিক একটি নদী। এক সময়ের স্রোতস্বিনী নদী এখন বাংলাদেশের কোটি মানুষের দুঃখ। তিস্তার উজানে বাঁধ দিয়ে বছরের পর বছর এর পানি প্রত্যাহার ও এর দিক পরিবর্তন করে এই নদীকে ধু ধু বালিময় প্রান্তরে পরিনত করেছে। এই নদীতে বাঁধ দিয়ে নদীর পানিপ্রবাহ বন্ধ করে এর উপর যে অন্যায় অত্যাচার করা হচ্ছে তা হয়তো পৃথিবীর অন্য কোন দেশের অন্য নদীর সাথে এই দুঃসাহস করে দেখাতে পারেনি। বন্ধু বেশে এমন ক্ষতি কেউ হয়তো কেউ করতে পারে না যেমনটি ভারত বাংলাদেশের সাথে করছে।

হিমালয়ের বরফগলা পাদদেশ ভারতের সিকিম রাজ্যের চিতামু হ্রদ থেকে তিস্তা নদীর সৃষ্টি হয়েছে। দার্জিলিং এর বিভিন্ন পাহাড়, গিরি খাদের ভেতর দিয়ে নীলফামারী জেলা হয়ে তিস্তা প্রবেশ করেছে বাংলাদেশে। এই খরস্রোতা নদীর বুকে ভারত সুবিশাল বাঁধ বসিয়ে আমাদেরকে পানি শুন্যতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। তিস্তা নদীতে ভারত কর্তৃক ৬টি বাঁধ বসেছে। এসব বাঁধগুলো তিস্তার পানিকে তার মূল স্রোত থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। এসব বাঁধগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে কাছে ভারতের অভ্যন্তরে জলপাইগুড়ির গজলডোবা নামক স্থানে গজলডোবা বাঁধ স্থাপন করেছে। গজলডোবা বাঁধটি পুরো তিস্তার পানিকে আটকিয়ে রাখতে সক্ষম। তিস্তা নদীর উপর বাঁধ দিয়ে ভারত প্রায় ৩০টির মতো জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনা করছে। তাছাড়া বিভিন্ন সেচ প্রকল্পের নামে এর উপনদীগুলোর পানিও সরিয়ে ফেলছে যাতে করে আর এই নদীতে সহজে আর কোন পানি না আসতে পারে। ভারত বাংলাদেশে তিস্তা নদী দিয়ে সামান্য টুকু পানি আসার পথ পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছে। তিস্তার এখন যা পানি আছে তা গজলডোবা ব্যারেজের ভাটির উপনদী থেকে আসছে। অনেকে মনে করে ভারত তিস্তায় শুষ্ক মৌসুমে পানি কিছুটা হয়তো ছাড়ে কিন্তু যারা তিস্তার ভাটিতে থাকেন তারাই জানেন এই পানি মূলত তিস্তার পানি নয় ব্যারেজে জমাকৃত পানিগুলো ছেড়ে দেয়া পানি। ১৯৯৯ সালে জানুয়ারিতে গজলডোবা বাঁধ থেকে আসা তিস্তার পানি প্রবাহ বাংলাদেশের অংশে ডালিয়া পয়েন্টে ছিল ১০৩৩ কিউসেক, ২০০৭ সালে ৬২৫ কিউসেক, ২০০৮ সালে ৫০০ কিউসেক আর ২০০৯ সালে শুধু মাত্র ৫০ কিউসেক। যা তিস্তাকে পুরো মরুভূমি রূপ দিতে সাহায্য করেছে।

amibangalidalal_1398843956_1-tista2.jpg
তিস্তা নদীর সর্বমোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৩১৫ কিলোমিটার যার ২০০ কি.মি ভারতে এবং বাকি ১১৫ কি.মি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত নদীর সংখ্যা ৫৪ টি যার মধ্যে আমাদের বন্ধু রূপী দেশ ৪৩ টি নদীর পানি আটকে রেখে তাদের বন্ধুত্ব রক্ষা করছে। ২০০৮ সালে বর্তমানে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল তাদের নির্বাচনী ইশতিহারে অঙ্গীকার করেছিল ভারতে সাথে তিস্তা চুক্তি করা হবে কিন্তু ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই চুক্তি এখন কোন আলোর মুখ দেখেনি। আর এই ৯ বছরে তিস্তা তার নদীর নাম থেকে খালে নাম লেখিয়েছে। অদূর ভবিষতে তা খুব শীঘ্রই মরুভূমিতে রূপ নিবে। কেননা ৯ বছর আগে তিস্তা থেকে বাংলাদেশ অংশে পানি আসতো ২৫০০ কিউসেক সেখানে আজ পাওয়া যায় মাত্র ৩০০ কিউসেক পানি। ১৯৮৩ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশ-ভারত মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে তিস্তার পানি বন্টনে শতাংক ভিক্তিতে চুক্তি হয়েছিল। সেই চুক্তি অনুযায়ী তিস্তার পানির শতকরা ৩৯ ভাগ পাবে ভারত, ৩৬ ভাগ ভাগ পাবে বাংলাদেশ এবং বাকি ২৫ ভাগ নদীর নাব্যতা ঠিক রাখতে সংরক্ষিত থাকবে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সেচ প্রকল্প “তিস্তা সেচ প্রকল্প” প্রায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। পানি শূন্য হয়ে পড়ছে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল। পানির অভাবে ঠিকমত চাষাবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। ১৯৮৩ সালে তিস্তার পানি চুক্তির পরপরই ভারত সরকার এই সর্ববৃহৎ প্রকল্পটি দ্বারা সেচ প্রদান অকার্যকর করে তুলতে উঠে পড়ে লেগে যায়।

ভারত তিস্তা নদীর বুকে বাঁধ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলের প্রায় ১০ টি জেলার ৯.২২ লাখ হেক্টর জমিতে সেচ প্রকল্প চালাচ্ছে। আরো শোনা যাচ্ছে কৃষকদের দাবির মুখে আরও বড় একটি সেচ প্রকল্প চালু করতে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলছে তিস্তায় পানি নেই কিন্তু তিস্তার পানি দিয়েই চলছে তাদের দেশের মানুষের সব কাজ। নিজ দেশের মানবাধিকার রক্ষা করতে গিয়ে অন্য দেশের অস্তিত্বকে বিলীন করে দিতেও তার কোন আপত্তি নেই। ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশের রংপুর, দিনাজপুর ও বগুরা জেলার ৬.৩২ লাখ হেক্টর জমিতে ঠিক মতো চাষাবাদ করা যাচ্ছে না। চাষাবাদের জন্য পর্যাপ্ত পানি কোন পানি নেই, শুষ্ক মৌসুমে পানির জন্য কৃষকের মুখে শুধু হাহাকার দেখা যাচ্ছে।

তিস্তার পানি সংকটের কারণে উত্তর বঙ্গের বড়াল, ইছামতি, মাথাভাঙ্গা সহ ছোট বড় প্রায় ৩০ টি নদী আজ শুকিয়ে গেছে। প্রমোদ তিস্তার বুকে এখন পানির বদলে চলে ক্রিকেট খেলা। ভারত তার দেশে সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে পানি ব্যবহার করে আমাদের অংশের তিস্তাকে মেরে ফেলছে। বাংলাদেশের লাখ লাখ কৃষক হয়ে পড়ছে বেকার, দেখা দিচ্ছে খাদ্য সংকটের। তিস্তার পানি প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশের জীব বৈচিত্র্য ও পরিবেশ মারাত্বক ক্ষতি সাধন হচ্ছে। অর্থনৈতিক ভাবে বছরে প্রায় ১৩৫ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হচ্ছে।

বাংলাদেশের তিস্তা সহ অন্যান্য যেসব নদীগুলোতে ভারত যে সব বাঁধ দিয়েছে সেগুলো আন্তর্জাতিক নদী। ভারত আন্তর্জাতিক নদীতে এভাবে বাঁধ দিয়ে অন্য দেশের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে না। তারা কোনভাবেই আন্তর্জাতিক রীতিনীতি লঙ্ঘন করতে পারে না। এজন্য আমাদের দেশের সরকারের উচিত এর বিপক্ষে সুষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহন করা।

নদী দূষণ

Now Reading
নদী দূষণ

ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানি । এই শহরে বসবাস করে প্রায় ১৫ মিলিয়ন মাণুষ এবং প্রতিদিন পানি লাগে প্রায় ২.২ বিলিয়ন লিটার । কিন্তু আমাদের ই পানি আসে কোথা থেকে? যদি আপনার মনে এই প্রশ্ন আসে তার উত্তর হচ্ছে ভূগর্ভস্থ এবং নদী থেকে । ঢাকার পাশে দিয়ে চলে গেছি কিছু বড় নদী সেগুলো হচ্ছে: তুরাগ, বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, লখনিয়া এবং টঙ্গী খাল । কিন্তু মজার বেপার কি জানেন আমারা প্রতিদিন যেই ভাবে নদী দূষণ করছি একদিন দেখা যাবে আমাদের দেশে নদী আছে ঠিকি কিন্তু নদীর পানি নাই আছে শুধু ময়লা আর রাসায়নিক আর কিছু পাওয়া যাবে না । এক সময় আমাদের এক মাএ চলাচলের ব্যবস্থা ছিল নদী পথ আর আমাদের দেশের প্রথম দিকের বাণিজ্য গুলিও হয়েছে এই নদীর উপর দিয়েই । আর আজ আমরা আমাদের এই নদী কে দূষিত করে ময়লার আর রাসায়নিক দিয়ে শেষ করে দিচ্ছি । এই নদী দূষণের ফলে দূষিত হচ্ছে আমাদের ভূগর্ভস্থ এর পানি আর সেই দূসিত পানি পান করছি আমরা । আমি যদি ঢাকার সেই চিরচেনা নদী বুড়িগঙ্গার কথাবলি তাহলে আমি শুনতে পাই সেই দিন গুলির কথা,যেই দিনে বুড়িগঙ্গা ছিল এক মাএ জায়গা যা আমাদের এই রাজধানির সাথে জুরে রাখত দেশের প্রতিটি প্রান্তকে। আর এখন এমন এক অবস্থা হয়েছে যে “বুড়িগঙ্গার পানি এখন এত দূষিত যে সমস্ত মাছ মারা গিয়েছে, মানুষের বর্জ্য বর্ধন করে এটি একটি কালো পানিতে পরিণত হয়েছে। সুতরাং এই সমস্যাটি বাংলাদেশের এখন একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এটি সমাধান করা উচিত। না হলে দেখা যাবে এক সময় ভুলেই যাব আমাদের দেশটি নদীমাতৃক দেশ ছিল । বিশ্বজুড়ে যখন পানি বাচাও আন্দোলন চলছে তখন আমরা পানি দূষণ করেই যাচ্ছি । যাইহোক, বাংলাদেশের রাজধানী হচ্ছে – বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্রতম এবং কম উন্নত দেশগুলির মধ্যে একটি – এটির শারীরিক ও সামাজিক অবনতির কথা বিবেচনা করে শহরটি কে উন্নত করা কাজ হয়েছে। ফলস্বরূপ, জনসংখ্যার দ্রুত বর্ধন এবং শিল্প থেকে দূষণকারীর বৃদ্ধি, এবং পৌরসম্পর্কিত বর্জ্যসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে সৃষ্ট পরিবেশগত পরিণতিগুলি ঢাকা শহরের চারপাশের নদীগুলির ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

River Pollution-59.jpg

চলুন তাহলে জেনে নেই কি ভাবে নদীর পানি দূষণ হচ্ছে এবং এর প্রভাব।

নদী দূষণ :

বাংলাদেশের নদী দূষণের শিকার, বিশেষতঃ ঢাকার আশেপাশের নদীগুলি দূষিত হয়ে পড়েছে।

কারণ সমূহ:

১.দ্রুত ও অনির্বাচিত নগরায়ণ ও শিল্পায়ন, ইটভাটা উন্নয়ন, ডাইনিং কারখানা, ট্যানারিরী ও নদী দখল ।

২.অপ্রয়োজনীয় বর্জ্যগুলি নদীতে ফেলে দেওয়া হয় কারণ বেশীরভাগ শিল্পেরই কোনো শোধানাগার নেই ।

২০০৯ সালে বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ (বিসিএএস) কর্তৃক পরিচালিত একটি শিল্প জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৪০% শিল্পই ইপিএস রয়েছে। ১০% শিল্পের মধ্যে, ইপিএস নির্মাণাধীন রয়েছে এবং প্রায় ৫০% শিল্পের কোন ইপিএস নেই। তাই আমাদের শিল্পের ৫০% বর্জ্যগুলি নদীতে চলে যাচ্ছে ।

৪. কিছু নদী কৃষকদের দ্বারা পাট গাছ পচা ব্যবহার করা হয় যার ফলে দূষিত হচ্ছে নদী ।

৫.নৌকা এবং বিভিন্ন জলবাহী জাহাজের তেল ছিটকে দূষিত হচ্ছে নদী ।

৬.কৃষি জমিতে কৃষি রাসায়নিক ব্যবহারে দূষিত হচ্ছে নদী ।

75507.story_x_large.jpg

নদী দূষণের প্রভাব:

১.অনেকগুলি নদীর পানি ভর্তি অক্সিজেন স্তর মারাত্মক খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে যার ফলে কোনো জীব বসবাস করতে পারছে না ।

২.বর্ষা মৌসুমে দূষিত পানি ছড়িয়ে পড়ার কারণে কৃষিজমি দূষিত হয় এবং তার ফলে ফসল উৎপাদন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে ।

৩. কখনও কখনও দূষিত পানি খাদ্য শৃঙ্খলে প্রবেশ করে অবশেষে পাখি, মাছ এবং স্তন্যপায়ী প্রাণনাশ করে।

৪.কর্ণফুলীতে সাম্প্রতিক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা মাটির উপর ‘ঝুঁকি স্তরের খুব কাছাকাছি’ তেজস্ক্রিয়তা খুঁজে পেয়েছে। যদি নদীর তীরে তেজস্ক্রিয়তা বৃদ্ধি পায় তবে এটি মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন এবং মাছের বৃদ্ধি হ্রাস করবে। যদি লোকেরা ক্ষতিগ্রস্ত মাছ খায় তাহলে পারে তাদের দেহে ছড়িয়ে পড়তে পারে এই তেজস্ক্রিয়তা । ২০০০ সালের পারমাণবিক বিকিরণের প্রভাব সম্পর্কে জাতিসংঘের বৈজ্ঞানিক কমিটির মতে, তেজস্ক্রিয়তার কারণে রেডিয়েশন বিপদের মাত্রা ০.৫। তাদের গবেষণা বিজ্ঞানীদের অভ্যন্তরীণ বিকিরণ বিপত্তি যেখানে ঝুঁকি স্তর ১ এবং বাহ্যিক বিকিরণ বিপত্তি জন্য ০.৬৫০৭ এবং ০.৮২ পেয়েছেন ।

৫.নদীতে পাট জমতে থাকার কারণেই নদীর পানির গুণমান খারাপ হচ্ছে এই অবস্থার থাকে কারণ জলজ প্রাণী অক্সিজেনের অভাবে মারা যাচ্ছে।

৬.দূষণ এত তীব্র যে খুব কমই জল-জীবগুলি তা সহ্য করতে পারে এবং অবশেষে, অনেক প্রজাতির মাছ নদীতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এই মৃত মাছ ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায় এবং নদীর পানি আরও দূষিত করে তোলে ।

৭.নদী দূষণের ফলে স্থানীয় জেলেদেরও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। তারা তাদের আয় উৎস হারিয়ে ফেলছে এবং তাদের জীবন আরো কঠিন হয়ে উঠছে ।

৮.এটি ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যগুলির পরিবর্তনও করে যার ফলে নদী চ্যানেল, বন্যা, সমভূমি বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করতে পারে।

৯. লিড, ক্যাডমিয়াম, লোহা, তামা ও জৈবিক বর্জ্য দূষণ করে নদী কে।

এই নদী দূষণ থেকে নদী কে রকা করতে বাংলাদেশ সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়। তার মাঝে উল্লেখযোগ একটি হল: হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি শিল্প স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত ।

আসুন আমরা সচেতন হই এবং অন্য কেউ সচেতন করে তুলি।