5
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

বিশ্বসেরা ৫টি Assault Rifle

Now Reading
বিশ্বসেরা ৫টি Assault Rifle

মূলত শত্রুকে ধংস করার জন্যই রাইফেল ব্যাবহার করা হয়। এসব মূলত যুদ্ধ তে ব্যবহার করা হয়। একটি অটোগান মুহূর্তেই একজনকে ছিন্ন-বিন্ন করে দিতে পারে। পৃথিবীতে এরুপ অনেক অটোগান আছে যা সব দিকে বিবেচনা করে তালিকা করা হয়েছে।

  1. AK-47

যখন আটো/এসল্ট রাইফেলের কথা চিন্তা করা হয়, AK-47 কে অন্য এক দৃষ্টিতে দেখি। বিশ্বের সবচেয়ে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে এই রাইফেল। এটি বাংলাদেশ সহ প্রায় ১৫০ টির ও বেশি দেশে এটি ব্যবহার করা হয়। এটি খুব জনপ্রিয় একটি রাইফেল। জনপ্রিয় কারণ এটি সস্তা এবং সারা বিশ্বে অবৈধ অস্ত্রের বাজারে এটি তুমুল ঝড় তুলেছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের এই অস্ত্রটি সারা বিশ্বে শীর্ষে। তাছাড়া  বড় ছোট অনেক যুদ্ধগুলোতে এটি অংশ নিয়েছে। ১৯৪৯সালে এটি তৈরি করেছিল রাশিয়ার এই Kalashnicov Concem. এটির ওজন ৩.৪৭ কেজি। এর দৈর্ঘ্য ৮৮০মিমি. যার মধ্যে ব্যরেলের দৈর্ঘ্য ৪১৫মিমি. এর ফায়ারিং রেঞ্জ ৩৫০মি.। এর ম্যাগাজিনে ৩০ রাউন্ড গুলি ধারণ করে। এমনকি ১০০রাউন্ড গুলিও ধারণ করার মত ম্যাগাজিন বক্স আছে।

  1. FN Scar

এই তালিকার দ্বিতীয় হল FN scar, যা বেলজিয়ামের তৈরি। এটি AK-47 এর চেয়ে কিছুটা কম নির্ভরযোগ্য। তবে, এটির কাস্টমাইজবিউটি কোনও রাইফেলের সাথে মেলে না। ২০০৯ সালে তৈরি করা হয়েছিল এই রাইফেল। আমেরিকার সোয়াট সহ আরো সেই কয়েকটি বাহিনী এই রাইফেল ব্যবহার করে। এর ওজন ৩.০৪ কেজি, দৈর্ঘ্য ৭৮৭মিমি, ব্যরেলের দীর্ঘ ২৫৪মিমি। এর গুলি হিসেবে 5.56X45mm ব্যবহার করা হয়। এর ফায়ারিং রেঞ্জ ৩০০মি. এর ম্যাগাজিন বক্সে ২০ রাউন্ড গুলির ধারণ ক্ষমতা আছে।

  1. ACR

এটি আমেরিকার Bushmaster দ্বারা তৈরি। ২০১০ সালে এটি তৈরি করে। এটা দীর্ঘ shootout এর জন্য অত্যন্ত দরকারী। যা নম্বর 3 অবস্থানে এনেছে। এটির ওজন 3.6-4.4 KG. এটিতে গুলি হিসেবে 5.56X45mm ব্যবহার করা হয়। একটি Magazine এ ৩০ রাউন্ড গুলির ধারণ ক্ষমতা আছে। ফায়ারিং রেঞ্জ 500m. এর মোট দৈর্ঘ্য 655.32mm. এবং ব্যরেল 267mm.

  1. AK-74

নির্ভুল নিশানা যা এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে AK-74। তবে এই রাইফেল একটি AK-47 এর তুলনায় কম ক্ষতি করে। এটি তার ওজন অনুসারে তেমন ভালো না। AK-74 এর 300 রাউন্ডগুলির সমান AK-47 এর 180 রাউন্ড। এদিকে শুধু এদিকে পিছিয়ে। বরাবরের মত এটিও রাশিয়ার তৈরি। ১৯৭৪ সালে এটি তৈরি করে। এর ওজন 3.07 কেজি। ফায়ারিং রেঞ্জ 300-400m. এটিরও ৩০ রাউন্ড গুলি ধারণ করে একটি ম্যাগাজিনে। তবে ম্যাগাজিন বক্স দ্বারা ৬০ রাউন্ড পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।

5. Hackler & Koch G36

1990 সালে হেকলার ও কোচ দ্বারা এটি জার্মানিতে ডিজাইন করা হয়েছিল। মূলত G3 প্রতিস্থাপন করার জন্য এটি ডিজাইন করা হয়েছে। এটি AK-47 এর চেয়ে কম নির্ভরযোগ্য কিন্তু এটি স্পষ্টতা এবং নিখুঁত নিশানার জন্ তৈরি করেছে। ১৯৯৭ সাল থেকে এটি এখন চলছে। এর ওজন 3.63 কেজি। দৈর্ঘ্য ৯৯৯মি. গুলি হিসেবে ৫.৫৬X৪৫মিমি ব্যবহার করা হয়। এর ম্যাগাজিনে ৩০রাউন্ড গুলি ধারণ করে। চাইলে ম্যাগাজিন দিয়ে ১০০ রাউন্ড পর্যন্ত বাড়ানো যায়।

সিরিয়ায় খেল দেখাল আমেরিকা

Now Reading
সিরিয়ায় খেল দেখাল আমেরিকা

সিরিয়ার সামরিক স্থাপনায় একযোগে হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট আসাদ ও তার পরম মিত্র রাশিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দিল আমেরিকা। যে বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে মিসাইল হামলা হয়েছে সেখান থেকেই গত সপ্তাহে ডুমায় রাসায়নিক হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে আমেরিকার সাথে তার মিত্র ব্রিটেন-ফ্রান্সও এই হামলায় অংশ নিয়েছে। মিসাইল হামলার পর সকালে দামেস্কের রাস্তা অন্যান্য দিনের মতোই ব্যস্ত ছিল। তবে আপাতদৃষ্টিতে দেখা যাচ্ছে পশ্চিমা মিসাইল হামলা সিরিয়ায় বিশেষ কোনও প্রভাব ফেলতে পারে নি। এদিকে প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে একটি ছোট্ট ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট আসাদ কালো স্যুট পরিহিত অবস্থায় প্রেসিডেন্ট একটি বড় কক্ষে প্রবেশ করছেন। সেটিকে প্রেসিডেন্টের অফিস হিসেবে সিরিয়ার প্রচার মাধ্যম দাবী করছে আর তারা বলছে আসাদ এখনো অক্ষত আছেন। এদিকে হামলার পর সিরিয়ার বেসামরিক লোকজন রাস্তায় নেমে সেনাবাহিনী এবং প্রেসিডেন্ট আসাদের পক্ষে শ্লোগান দিয়েছে। তারা বলেছে, এই হামলার ভয়ে তারা মোটেই ভীত নন এবং কোন অবস্থাতে সিরিয়ার সেনাবাহিনী এবং বাশার আল আসাদের প্রতি তাদের সমর্থন হারাবেনা। তবে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিরাশ হয়েছে প্রেসিডেন্ট আসাদ এর প্রতিপক্ষ সিরিয়ান বিদ্রোহীরা। তারা আশা করেছিল, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সিরিয়ার সরকারী বাহিনী যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা সিরিয়ায় পশ্চিমা ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে গুরুত্ব দিতেই নারাজ।  সিরিয়ার আসাদ বিরোধী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলি আশা করেছিল, মিসাইলগুলো অপরাধের সরঞ্জামের ওপরে আঘাত হানার পাশাপাশি পেছনে থাকা অপরাধীকেও ঘায়েল করবে।


এই হামলার কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেন-ফ্রান্স এর যুক্তি, রাসায়নিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে সিরিয়াকে বাধ্য করতে তাদের এই পদক্ষেপ। তাদের দাবী হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের কথিত সেই ‘রাসায়নিক অস্ত্র গবেষণা কেন্দ্র।

সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের এ হামলাকে ‘নৃশংস এবং জঘন্য’ আখ্যা দিয়ে তার নিন্দা জানিয়েছে। মিসাইল হামলার পরে প্রথম প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই হামলার ফলে সিরিয়ার মানুষ সন্ত্রাসবাদ শেষ করতে এখন আরও বদ্ধপরিকর হয়ে উঠবে। মি. আসাদ অভিযোগ করে বলেন, পশ্চিমা দেশগুলি সিরিয়াতে সন্ত্রাসবাদকে ক্রমান্বয়ে সমর্থন যোগাচ্ছে।

হামলার নির্দিষ্ট লক্ষ্য বাছাইয়ে আমেরিকা ও তার মিত্রদের মাথায় রাখতে হয়েছিল রাশিয়ার কথাটাও । রাশিয়া যেন প্রতিশোধ নিতে পাল্টা হামলা না চালায় সেই ঝুঁকি কমাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বেই সতর্ক করে দিয়েছেন এবং সিরিয়ায় রাশিয়ার সৈন্যদের অবস্থান করা এলাকাসমূহ হামলা চালানো থেকে এড়িয়ে গেছেন।

এদিকে আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে এই হামলা চালানোতে এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বৈশ্বিক অঙ্গনে। হামলাকারী তিনটি দেশ যুক্তি দেখাচ্ছে, তা হচ্ছে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে সিরিয়ায় তাদের এই পদক্ষেপ এবং এই হামলার লক্ষ্য প্রেসিডেন্ট আসাদের রাসায়নিক অস্ত্রের মওজুদ পুরোপুরি ধ্বংস করা এবং সিরিয়ায় বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে এরকম আরো রাসায়নিক হামলা প্রতিরোধ করা। আমেরিকা ও তার মিত্র দেশসমূহের অভিযোগ, ২০১৩ সালে সিরিয়া রাসায়নিক নিরস্ত্রীকরণ সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সনদে সাইন করা সত্ত্বেও সিরিয়া তা লঙ্ঘন করে চলেছে।

অন্যদিকে আমেরিকা-ব্রিটেন-ফ্রান্স সিরিয়ার বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নিয়েছে, তাকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলছে রাশিয়া। প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছেন, ” যে দেশটিকে সন্ত্রাসবাদের বিপক্ষে লড়াই করছে তাদের সার্বভৌমত্বের উপর এ হামলা চালানো হয়েছে।” তিনি মনে করেন, আমেরিকা এবং তাদের মিত্রদের এই হামলার ফলে সিরিয়ায় কেবল উদ্বাস্তু বাড়বে যেটি পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যাবে। রাশিয়া দাবী করছে আমেরিকা, ব্রিটেন এবং ফ্রান্স সিরিয়ায় যতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে তার অধিকাংশই ধ্বংস করতে সমর্থ হয়েছে সিরিয়ান বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। রাশিয়ার বলছে, একশোর বেশি ক্রুজ মিসাইল ছুঁড়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্ররা যেগুলোর কোনটিই রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষার ব্যবস্থার ভেতরে আসেনি। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত বলেছেন, পশ্চিমাদের এ হামলার পরিণাম ভালো হবে না। সময়ে এ হামলার পাল্টা জবাব দেবার হুমকিও দিয়েছে রাশিয়া। আমেরিকার নেতৃত্বে সিরিয়ার উপর যে বহুজাতিক হামলা হয়েছে তা  নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়াই। জাতিসংঘ মহাসচিবও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে নিরাপত্তা পরিষদের মূখ্য ভূমিকাকে সবার উচিৎ শ্রদ্ধা জানানো।

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সঙ্গে এক টেলিফোন-বার্তার সুত্র ধরে বাশার আল আসাদ তাঁর দপ্তরের টুইট অ্যাকাউন্ট থেকে জানিয়েছেন, “এই হামলার পরে সিরিয়া এবং সেখানকার নাগরিকরা দেশের প্রতিটি ইঞ্চি থেকে সন্ত্রাসবাদকে ধ্বংস করতে আরও বদ্ধপরিকর হয়ে উঠবে।” অন্যদিকে, মি. রুহানি ওই টেলিফোন বার্তার সময়েই সিরিয়ার প্রতি আবারও ইরানের পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়েছেন বলে দাবী করা হয়েছে ওই টুইট বার্তায়। শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি তাঁর দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা খামেনির সঙ্গে এক বৈঠকে সিরিয়ার উপড় এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, “মৃত্যু আর ধ্বংস ছাড়া মধ্য প্রাচ্যে মার্কিন হামলার অন্য কোনও ফল হবে না।

সিরিয়ায় অর্গেনাইজেশন ফর দ্য প্রহিবিশন অব কেমিক্যাল উইপনস (ওপিসিডাব্লিউ) কিভাবে তদন্ত করবে, এ বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর বিরোধ দেখা দেয়। তদন্তের ব্যাপারে রাশিয়ার প্রস্তাবনায় আপত্তি জানায় পশ্চিমা দেশগুলি, আর অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলির প্রস্তাবে ভেটো দেয় রাশিয়া। যার ফলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটা অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

এই অবস্থা যখন বিরাজ করছে ঠিক এমনি একটা সময় নিরাপত্তা পরিষদের তিন সদস্য, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং ফ্রান্স ক্রুস ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে সিরিয়ার সামরিক স্থাপনায়। তারা যুক্তি দিচ্ছে যে, রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের কারণে সিরিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রে বাস্তব কোন সম্ভাবনা না থাকায় কেবল আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সিরিয়ায় হামলা চালিয়ে তারা রাসায়নিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞাটি কার্যকর করছেন।

যুদ্ধে রাশিয়াকে প্রস্তুত থাকার চ্যালেঞ্জ আমেরিকার

Now Reading
যুদ্ধে রাশিয়াকে প্রস্তুত থাকার চ্যালেঞ্জ আমেরিকার

গতকয়েকদিনের বিশ্ব পরিস্থিতি  বেশ উত্তাপ ছড়িয়েছে। সিরিয়ার বর্তমান গৃহযুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অস্থিরতা ক্রমশই জোরালো হচ্ছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে সমর্থন দিয়ে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে রাশিয়া। অন্যদিকে আসাদ বিরোধী গ্রুপকে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এমন প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে – তবে কি পৃথিবী তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে? এমন ভাবাটা অমূলক  নয়। বিগত বিশ্ব যুদ্ধগুলির প্রেক্ষাপট খেয়াল করলেই এ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বৃহৎ শক্তিগুলো পরস্পরের প্রতি বৈরিভাব এবং ক্ষমতার ধন্ধে নানা ধরনের হুমকি থেকেই যুদ্ধের উৎপত্তি। ঠিক তেমনি এক পরিস্থিতি বিরাজ করছে বর্তমান সময়। পৃথিবীতে এখন নানা ধরনের দ্বন্দ্ব কিংবা সংঘাত চলছে এবং এর সাথে নানা দেশ জড়িত। পৃথিবীর রাজনৈতিক শক্তি বলয় কার্যত এখন দুইভাগে বিভক্ত। এক পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং আরেক পক্ষের নেতৃত্বে রাশিয়া। এ পর্যন্ত এমন কোন উল্ল্যেখযোগ্য কিছুই উদাহরণ হয়ে দাঁড়াতে পারেনি যেখানে এই দুই পক্ষই একই সুরে কথা বলেছেন কিংবা কাজ করেছেন। বরং এর উল্টোটাই দেখেছি আর তা হল যেখানে আমেরিকা কোন পক্ষকে সমর্থন বা সহযোগিতা করেছে ঠিক তার বিপরীত পক্ষকে সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়ে শক্তিশালী করেছে রাশিয়া।

সিরিয়ার গৃহ যুদ্ধ তেমনি একটি প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে যার সংঘাত এরই মধ্যে বৈশ্বিক রূপ লাভ করেছে। বাশার আল আসাদের সামরিক ক্ষমতার পেছনে রাশিয়া ও ইরানের ভুমিকাকে যুক্তরাষ্ট্র কোনভাবেই উপেক্ষা করতে পারে না। তাই প্রেসিডেন্ট আসাদ এর বিরোধীদের নানাভাবে সমর্থন ও অস্ত্র দিয়ে শক্তিশালী করছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট আসাদকে সমর্থন দিয়ে তার বিরোধীদের ঘাঁটিতে রাশিয়া নিজেই আক্রমণ চালিয়েছে। এসব কিছু আমেরিকা ভালভাবে নেয়নি তারা সুযোগ এর অপেক্ষা করছিল কিভাবে প্রেসিডেন্ট আসাদকে ঘায়েল করা যায় এবং রাশিয়াকে উচিৎ জবাব দেয়া যায়। সেই সুযোগটি সম্ভবত পেয়ে গেছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাশিয়া এবং আমেরিকা পরস্পর সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের দলটি চেষ্টা চালাচ্ছে একটি আন্তর্জাতিক টিম গঠনের যারা রাসায়নিক অস্ত্র আক্রমণের বিষয়ে তদন্ত করবেন। তবে শঙ্কা দেখা দিয়েছে রাশিয়া এরকম সকল প্রস্তাব আটকে দেবে। তারা চাইবেনা এই প্যানেল কাউকে দোষী বলে চিহ্নিত করুক। রাশিয়ার বক্তব্য হচ্ছে, তাদের সামরিক বিশেষজ্ঞরা দুমায় বেসামরিক লোকদের ওপর কোন ক্লোরিন বা রাসায়নিক অস্ত্র হামলার প্রমাণ এখনো পর্যন্ত পায়নি। এদিকে নিরাপত্তা পরিষদ এর বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, তদন্তকারীরা যদি সিরিয়ান শাসকদের রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েও থাকেন তবে আদৌ তারা কোন কিছু করতে পারবে বলে মনে হচ্ছেনা। এরপরও যুক্তরাষ্ট্র সবকিছু একা সামলে নেয়ার প্রতিজ্ঞা ব্যাক্ত করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন যে, তিনি এ বিষয়ে সামরিক বাহিনীর সাথে কথা বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্র হুঁশিয়ারি দিয়েছে, রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করার জন্য সিরিয়াকে কড়া জবাব দেয়া হবে। সাথে সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার সর্বশেষ টুইটারে উস্কানি মূলক টুইট করে বলেছে-  ‘রাশিয়া প্রস্তুত হও’ – কারণ যে মিসাইল আসবে আসবে তা হবে ‘সুন্দর, নতুন এবং বুদ্ধিমান।”

সুতরাং ধরেই নেয়া যায় যে, এক ধরনের শীতল যুদ্ধ এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। অনেকে বলছে সংঘাতে জড়ানো ছাড়াও যদি যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের মতো কোন পদক্ষেপ যদি নেয় তাহলে শুধু সিরিয়া নয় রাশিয়া ও ইরানও এর আওতায় পড়তে পারে। অন্যদিকে আমেরিকার কাছে একটি বড় মাথা ব্যাথার কারণ হচ্ছে উত্তর কোরিয়া। কেননা উত্তর কোরিয়া পারমানবিক সক্ষমতা অর্জনের বেশ কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ইতিমধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন উত্তর কোরিয়াকে শান্ত রাখতে নতুন কৌশল হিসেবে আলোচনার দিকে এগুচ্ছেন। কিন্তু অনেক বিশেষজ্ঞদের মতে উত্তর কোরিয়ার দাবীর প্রেক্ষিতে আমেরিকা যদি কোরিয়া উপদ্বীপ থেকে তাদের সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয় তাহলে সেটা হবে খুবই ভয়ঙ্কর একটি বার্তা। ফলশ্রুতিতে সে অঞ্চলে একটি যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার  সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। সবমিলিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষরা পূর্বের চেয়ে বেশ শক্তিশালী হয়ে নিজেদের সংগঠিত করেছে। রাশিয়া সেই বলয়টাকে প্রতিনিয়ত সাহায্য সহযোগিতা দিয়ে শক্তিশালী করেছে তাই সেসব দেশ তাদের শতভাগ নিয়ন্ত্রণে আছে।

এদিকে যদি যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার মত কোন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় তবে বৃহৎ শক্তিগুলোর পরস্পরের মাঝে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং পরস্পরের স্যাটেলাইটে সাইবার আক্রমণের মত সম্ভাবনা কেউ উড়িয়ে দিচ্ছেন না। মধ্য প্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে যদিও উত্তেজনা বাড়ছে কিন্তু একই সাথে উত্তেজনা প্রশমনের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে অনেকেই কাজ শুরু করেছেন। আর এ পরিস্থিতিতে যে কোন ধরনের বড় যুদ্ধ থামাতে হাতিয়ার হিসেবে জাতিসংঘ একটি বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।

আমেরিকাকেও চ্যালেঞ্জ জানাল রাশিয়া

Now Reading
আমেরিকাকেও চ্যালেঞ্জ জানাল রাশিয়া

আমেরিকায় রুশ কূটনীতিকদের বহিষ্কারের প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়াও যুক্তরাষ্ট্রের সম সংখ্যক কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে তার দেশ থেকে। ৬০জন কূটনীতিক বহিস্কারসহ সেন্ট পিটার্সবার্গে আমেরিকান কনসুলেট বন্ধ করে দিয়েছে তারা। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বৃহস্পতিবার এ ঘোষণা দেন। গত ৪ মার্চ ব্রিটেনের সেলসব্যারীর উইল্টশায়ারে সাবেক রুশ গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল এবং তার মেয়ে ইউলিয়াকে নোভিচক গ্রুপের একটি নার্ভ এজেন্ট দিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ আনে ব্রিটেন। এবং তারা ২৩জন রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করে, আর তাদের সমর্থন ও  সংহতি জানিয়ে আমেরিকাসহ ২০টিরও অধিক দেশ রুশ কুটনিতিকদের বহিষ্কার করে তাদের দেশ থেকে। গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক আদেশে ৬০ জন রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করার পাশাপাশি সিয়াটলে রাশিয়ার কনসুলেট বন্ধের নির্দেশ দেন।

কয়েকদিনের ব্যবধানেই এর পাল্টা জবাব হিসেবে রাশিয়াও সমসংখ্যক যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের বহিষ্কার করে তার দেশ থেকে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এই সংক্রান্ত এক আদেশ ইউএস কনস্যুলেটে পৌঁছে দিয়ে তা বন্ধের ও নির্দেশ দেন। তিনি জানান- সমান সংখ্যক কূটনীতিক বহিষ্কার এবং সেন্ট পিটার্সবার্গে ইউএস কনস্যুলেট জেনারেলের কার্যক্রমের অনুমতি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ। এর পূর্বে রাশিয়া থেকে ব্রিটিশ কূটনীতিকদেরও বের করে দেয় রুশ প্রশাসন।

পুতিন কোন অবস্থাতেই ছেড়ে কথা বলছেন না। যদিও তারা মারাত্মক এই নার্ভ এজেন্ট দিয়ে সের্গেই স্ক্রিপালকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ শুরু থেকেই প্রত্যাখ্যান করে এসেছে।  কিন্তু যুক্তরাজ্য সহ তাদের মিত্র অন্যান্য দেশ এর অনুমান সত্তর ও আশির দশকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন এর আমলে এ সিরিজের নার্ভ এজেন্টগুলো তৈরি করেছে রাশিয়া যা অতিমাত্রায় উচ্চক্ষমতা  সম্পন্ন বিষাক্ত রাসায়নিক। যেহেতু এমন নমুনা কেবল তাদের সংগ্রহে আছে আর এতেই প্রমাণ মেলে তাদের সম্পৃক্ততার।

বিশ্বের অনেক দেশ মনে করেছে যুক্তরাজ্যকে সমর্থন দিয়ে আমেরিকা যেহেতু একই পথ অবলম্বন করেছে সুতরাং রাশিয়া কোণঠাসা হবেই। কিন্তু সকলকে হতবাক করে তাদের সেই ধারণাকে মিথ্যে প্রমাণ করে দিয়েছেন পুতিন। তিনি পাল্টা ব্যাবস্থা নিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন তাঁকে ঘাঁটাঘাঁটি করাটা মোটেও শুভ হবেনা। এখন দেখার বাকি অন্য  দেশগুলোর প্রতি কি ব্যাবস্থা নেন পুতিন যারা রাশিয়ার কূটনীতিক বহিষ্কার করেছে তাদের দেশ থেকে।

Page Sidebar