ফেসবুক

Now Reading
ফেসবুক

পোষ্টটি শুরু করার আগে বলে নিচ্ছি এখানে কাউকে উদ্দেশ্য করে এ পোষ্টটি লেখা হয়নি। এ পোষ্টে বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরা হয়েছে। আসুন শুরু করা যাক।

আমরা ছোট বড় কম বেশি সবাই ফেসবুক সম্পর্কে জানি। হয়ত আমরা ফেসবুক সম্পর্কে সবাই ভাল  কিছু জানি আবার খারাপও। প্রত্যেকটা কর্মের দুটি দিক হয় ভাল খারাপ। ফেসবুকের ও এমন দুটি দিক রয়েছে আসুন তাহলে দেখি প্রথমে আমরা ফেসবুকের উপকারিতা  জেনে  নেয়।

ফেসবুক একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সত্যি ফেসবুক আমাদের যোগাযোগকে খুব সহজ করে তুলেছে। আমারা এ ফেসবুকের মাধ্যমে খুঁজে পায় আমাদের অনেক পুরানো বন্ধুদের এবং নতুন অনেক বন্ধু। আমরা মুহুর্তের মধ্যে সারা দেশে খবর ছড়িয়ে দিতে পারি। খুব কম খরচে আমরা সবার সাথে যোগাযোগ করতে পারি। ফেসবুকে অধিক মানুষ থাকায় বর্তমানে ভিবিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় এ ফেসবুকে আর অধিক হারে ক্রেতা পেয়ে থাকে সে প্রতিষ্ঠান। আর এভাবে একটি প্রতিষ্ঠান সবার কাছে পরিচিত হতে পারে। এখন বর্তমানে ফেসবুক দিয়ে মানুষ আয় করছে তারা ফেসবুকে বিজ্ঞাপন প্রচার করে আর এখন লাইভ ভিডিও এর মাধ্যমে ফেসবুক টাকা দিয়ে থাকে। আরও অনেক উপকারিতা আছে যা বলে শেষ হবে না। এক কথায় বলা যায় ফেসবুক আশায় সামাজিক যোগাযোগ আগের থেকে অনেক দ্রুত হয়ে ওঠেছে।

এবার আসুন দেখা যাক ফেসবুক মানুষকে কিভাবে ক্ষতি করেছে। আসলে বলতে গেলে ফেসবুক আপনাকে ক্ষতি করছে না। আপনি ফেসবুককে ব্যবহার করছেন এমন ভাবে যাতে আপনার ক্ষতি হচ্ছে। আগে ছোট বাচ্চারা সকালে ঘুম থেকে ওঠে আরবি পড়ত নাহলে বাংলা  পড়ত কিন্তু এখন সকালে ঘুম থেকে তারা আগে দেখে মোবাইলটা কোথায় আছে আর ছড়িয়ে স্ট্যাটাস  শুভ সকাল বন্ধুরা। আর ইনবক্স এ দেখে কয়টা এস এম এস আসছে। প্রতিটা কাজে বাধা হয়ে পরছে অনেকের এ ফেসবুক। এর জন্য কিন্তু ফেসবুক দায় নয়, আপনি নিজেই দায় আপনি যা করেন না কেন আপনাকে অবশ্যই সময়টা ভাগ করে নিতে হবে। আপনি দিনের ২৪ ঘণ্টা থেকে যদি ৯-১০ ঘণ্টা ফেসবুকে দেন তাহলে আপনার বাকি কাজ গুলো কোন সময়ে করবেন? আমাদের আশেপাশের অনেক বয়স্ক মানুষেরা বলে যে এ ছেলে/মেয়েটা ফেসবুক ব্যবহার করে খুব খারাপ। এ ধারনা সম্পুর্ন ভুল। আপনার ভুলের জন্য কেন একটি মাধ্যমকে দায়ী করবেন। মনে রাখবেন ফেসবুক আপনাকে ব্যবহার করছে না আপনি ফেসবুককে ব্যবহার করছেন। তাই বলছি ভাই প্রত্যেকটা জিনিসের সঠিক ব্যবহারই তার উপকারিতা এর বেশী হলে এটা বিপরীত হতে পারে।

আমরা সামাজিক মাধ্যমগুলো ব্যবহার করার জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিৎ আশা করি আমি নিচে আপনাদের সেগুলো দিতে পেরেছি।

১। প্রথমে আপনাকে যে আইডিটা খুলতে হবে অবশ্যই আপনি যেন আপানার জন্য রিয়েল একটা আইডি খুলেন।

২। প্রয়োজনীয় সকল তথ্য অবশ্যই যেন সঠিক তথ্য দেন। এতে আপনার আইডিটা নিরাপদ থাকবে।

৩।  আপনি যে ছবিটা দিবেন অবশ্যই যেন আপনার নিজের ছবি হয়। আর সচ্ছল ও পরিষ্কার যেন হয়।

৪। আপনার সকল সঠিক তথ্য দিয়ে আপনি আপনার আইডিটা খুলবেন।

সব কিছু মেনে আপনি যখন আইডিটা খুলবেন এতে আপানার এবং অন্য বন্ধুদের উপকারিতা হবে। আপনাকে চিনতে আপনার অন্য বন্ধুরা সক্ষম হবে।

আশা করছি আপনারা সবাই ফেসবুকের সঠিক ব্যবহার করবেন এবং আপনার আশেপাশের সকল ব্যবহারকারীদের ও সাবধান করে দিবেন যেন তারা অবশ্যই সকল সঠিক তথ্য দিয়ে একটি রিয়েল আইডি খুলে।

আর অবশ্যই আমরা যেন সকল সামাজিক মাধ্যমের সঠিক ব্যাবহার করি, আর দিনের সম্পূর্ন সময়টা সামাজিক মাধ্যমে না দিয়ে আমরা আমাদের কাজে সময়টা ব্যয় করি সেখান থেকে কিছু সময় খুঁজে নেওয়া উচিৎ সামাজিক মাধ্যমের জন্য। আর হ্যাঁ যদি এমন হয় যে আপনি সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে আয় করছেন আপনার কাজ হচ্ছে সামাজিক মাধ্যম থেকে আয় করা তাহলে আমি বলব তারা যেন ঐ মাধ্যমে জড়িয়ে থাকে কারন এটা আপনাকে সফল করছে। তবে আপনাকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যেন আপনার কোন ক্ষতি না হয়। সেভাবে আপনি সামাজিক মাধ্যমকে গুছিয়ে নিবেন। এতে করে সঠিক ব্যবহার হবে সামাজিক মাধ্যমগুলোর। অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যেন সামাজিক  মাধ্যম যেন আপনার কোন কাজে কোন সমস্যা না আনে। আপনি সেই সময়টা ব্যয় করুন যতটুকু আপনার দরকার হয়।

এতে কিন্তু আপনার কোন ক্ষতি হবে না। আমি আগেও বলেছি যে সব কিছুর সঠিক ব্যবহার আপনাকে সফলতা এনে দিতে পারে। মনে রাখবেন ফেসবুক আমাদের ব্যবহার করছে না, আমরা ফেসবুক ব্যবহার করছি। তাই ফেসবুককে সঠিক ব্যবহার করা আমাদের উচিৎ। আর আমাদের পরিবারের ছোট বাচ্চারা যারা এখনো স্কুলে পড়ছে তারা যেন এখন এসব সামাজিক মাধ্যমে জড়িয়ে না পরে, এতে তাদের লেখাপড়ার কোন ক্ষতি হতে পারে । যদি তারা একবার সামাজিক মাধ্যমে প্রবেশ করে তখন আর আপনি তাদের আপনার আওতায় আনতে পারবেন না। তাই আমাদের উচিৎ নজর রাখা যেন স্কুলে থাকা অবস্থায় যেন কেউ সামাজিক মাধ্যম না ব্যবহার করে।

আমার এ পোষ্টটি কারও যদি খারাপ লাগে মার্জনার চোখে দেখবেন। আসলে একটু ভেবে দেখেন আমাদের সমাজে এমনি কিছু ঘটনা ঘটছে।

ধন্যবাদ আপনাকে আমার পোষ্টটি পড়ার জন্য।

প্রতিশোধ -পর্বঃ ৪

Now Reading
প্রতিশোধ -পর্বঃ ৪

 

বাসায় যাওয়ার পর সবাই হেমাকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরলেন।এত দিন কোথায় ছিলো,কি ঘটেছে সব জিজ্ঞেস করছে।হেমা বাসায় সব কিছু খোলে বলল। হেমার বাবা তামিমের নামে থানায় কমপ্লেন করলো।
হেমাকে কিডন্যাপ করার অপরাধে তামিমকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেলো।
হেমার বাবা মা হেমার কথা বিশ্বাস করলেও সমাজের মানুষগুলা হেমার কথা বিশ্বাস করেনি। সবাই হেমার পিছনে খারাপ কথা বলে।
সমাজের শিক্ষিত এক শ্রেণীর মানুষ হেমা যে পবিত্র তার প্রমাণ দেওয়ার জন্য মেডিকেল টেস্ট করাতে বলল।
হেমার বাবা আর ভাই বাহিরে বের হলেই নানা কথা শুনে।সবাই তাদের উদ্দেশ্য করে নানা কথা বলে।লোকের এত বাজে কথা শুনতে শুনতে তারা বিরক্ত হয়ে গেলো।তাই তারা হেমার মেডিকেল টেস্ট করানোর কথা চিন্তা করল ।
কিন্তু হেমা রাজি হলো না।হেমা ভালো করেই জানে মেডিকেল টেস্ট করানো মানেই তার সম্মানের বলি দান।আর মেডিকেল টেস্ট এর রিপোর্ট সমাজের কয়েকজন ছাড়া অন্যান্যরা বিশ্বাস করবেনা।

অনেকদিন পর হেমা কলেজে গেলো।কলেজের সবাই কেমন একটা আচরণ করছে।
যে আকাশ বলেছিলো হেমাকে সে ভালোবাসে সে আজ হেমার দিকে কেমন করে তাকাচ্ছে। হেমা আকাশের কাছে গেলো।আকাশ চুপ করে আছে।হেমা আকাশের চোখের দিকে তাকিয়ে আছে।
হেমার মনে হচ্ছে আর সবার মত আকাশের চোখ কিছু জানতে চাচ্ছে।
হেমা আকাশের সাথে কথা না বলেই চলে গেলো।
এমন করে আর চলা যাচ্ছে না।
বাসার সবাই কেমন জানি অদ্ভুদ একটা আচরণ করছে। চলার পথে হেমাকে সাপোর্ট করার মত এখন আর কেউ নেই।
হেমা কয়েকবার আত্নহত্যা করার চেষ্টা করলো।কিন্তু পারল না।আত্মহত্যা করার মত এতটা সাহস হেমার নেই।
জীবনের কাছে,সমাজের কাছে হেমা হেরে যেতে চায়না।তাই নতুন করে জীবন শুরু করার কথা চিন্তা করল।
হেমা ভাবল কলেজ থেকে ট্রান্সফার হয়ে অন্য কলেজে চলে যাবে।যেখানে কেউ হেমাকে চিনবেনা।হেমাকে নিয়ে বাজে কথা বলবে না।
বাসায় এ কথা জানানোর পর বাসার সবাই রাজি হয়।কারণ হেমা এখানে থাকলে সবাই কথা শুনাবে। আর এ অবস্থায় হেমাকে বিয়ে দেওয়া যাবে না।সব কিছু ভেবে হেমার বাবা রাজি হয়ে গেলো।
ঢাকার বাইরে হেমার এক ফুফু থাকে।হেমা সেই ফুফুর কাছে চলে যাবে এবং সেখানকার কলেজ থেকে অনার্সটা শেষ করবে বাসা থেকে এমনটা ঠিক হলো।
হেমার ভাই কলেজ ট্রান্সফার এর সব ব্যবস্থা করে দিলো।হেমাকে ফুফুর বাসায় দিয়ে আসলেন।

হেমা আস্তে আস্তে নিজেকে নতুন কলেজে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।এখন আর আগের মত হাসেনা।আগের মত আর এতটা চঞ্চল নেই।কলেজের কারো সাথে মেশে না।
বন্ধুত্ব করতেও এখন হেমা ভয় পায়।এমন করেই কাটছে। দুই ঈদ ছাড়া বাড়িতেও যায় না।বাড়িতে যাওয়ার পর কয়েকটা বিয়ের প্রোপোজাল আসে।আবার তা ফিরেও যায়।অন্যের কথা শুনে কেউ আর ২য় বার আসে না।

ফুফুর বাসা থেকেই হেমা ২য় বর্ষের ফাইনাল দিলো

হেমার ফুফু কিভাবে জানি হেমার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাটা জেনে যায়।
ফুুফুঃ আমার কাছে এসব বলিসনি কেন?
হেমাঃ ফুফু আপনি যা ভাবসেন তা না।আমার সাথে এমন কিছু ঘটেনি।
ফুফুঃ সবাইকি তাহলে মিথ্যে বলছে?আমি তোকে আর বাসায় রাখতে পারব না।তুই তোর ব্যবস্থা করে নে।
হেমাঃ ফুফু আমার এখন ও ২ বছর বাকি অনার্স শেষ করতে। এখন আমি কোথায় যাব?
ফুফুঃ তুই এখানে থাকলে আমার মেয়ে বিয়ে দিতে পারব না।
এ কথা বলে ফুফু চলে গেলো।
হেমা বাসায় ফোন করে সবটা জানানোর পর হেমার বাবা হেমাকে বাসায় চলে যাওয়ার কথা বলে।
হেমা রাজি হয় না।
হেমার বাসা থেকে বলে অন্য জায়গায় থাকলে তারা পড়ার খরচ চালাতে পারবে না।
হেমা ফুফুকে অনেক বলে ফুফুর বাসায় কিছুদিন থাকার অনুমতি পায়।
এখন হেমার একটাই কাজ।একটা জব খোঁজা।
কয়েকদিন খোঁজ করার পর একটা পার্টটাইম জব পেল।তাও যে কোন সময় চলে যেতে পারে।
এক ক্লাসমেট এর সাহায্যে লেডিস হোস্টেল এ থাকার মত একটা ব্যবস্থা ও করল।রুমটাতে হেমা ছাড়া ৩ জন মেয়ে আছে।
ফুফুর বাসা থেকে সব কিছু গুছিয়ে নিয়ে চলে আসার সময় ফুফু হেমাকে জিজ্ঞেস করল কোথায় থাকবে?
হেমাঃ চলে যাওয়ার কথা বলার সময় একবার ও ভাবেননি কোথায় থাকব। এখন জেনে কি করবেন?
এ কথা বলে হেমা বের হয়ে গেল।

হোস্টেলে এসে সব কিছু আবার নতুন করে গুছিয়ে নিচ্ছে।

নতুন জবে জয়েন করেছে।তাছাড়া হোস্টেলের কাছে ২ টা বাচ্চাকে পড়ায়।জবটা যে কোন সময় চলে যাবে।তাই নতুন জবের ও খোঁজ রাখছে।
বাড়িতে ফিরে না যাওয়ায় বাসা থেকে হেমাকে কোন খরচ দেয়না।বাসা থেকে কেউ খোঁজও নেয়না।হেমা ফোন করলেও সবাই খারাপ ব্যবহার করে।
হেমা এখন কলেজের কারো সাথে তেমন কথা না বললেও রুমমেটদের সাথে টুকটাক কথা বলে।
হেমার রুমমেটরা প্রায়ই জানতে চায় হেমা এমন চুপচাপ থাকে কেন?
হেমা তখন এড়িয়ে যায়।

হেমার থার্ড ইয়ার ফাইনালের আগে জবটা চলে যায়।
সামনে পরীক্ষা এমন সময় জব চলে যাওয়ায় হেমা সবকিছু অন্ধকার দেখে।এখন জব খোঁজবে কি করে?

 

চলবে….

প্রতিশোধ – পর্ব ৩

Now Reading
প্রতিশোধ – পর্ব ৩

হেমা তামিমের কথা কিছুই বুঝতে পারছে না।
হেমাঃভাইয়া আমি বাসায় যাবো
তামিমঃতোমাকে তো এখন বাসায় যেতে দেওয়া যাবে না।
হেমাঃভাইয়া আমি বাসায় না গেলে কি হবে আপনি বুঝতে পারছেন?
তামিমঃআমি জানি কি হবে।তোমাকে কিডন্যাপ করা হয়েছে। আর সমাজ এবং পরিবার কিডন্যাপ হওয়া একটা মেয়ে কে খুব ভালো ভাবে গ্রহন করে না।
হেমাঃভাইয়া আমি আপনার ছোট বোনের মত।তন্নি আমার খুব ভালো বন্ধু ছিলো।আমি জানি না ও কেন আত্মহত্যা করেছে।
প্লিজ আমাকে যেতে দিন।
তামিমঃহুম তুমি আমার ছোট বোন এর ফ্রেন্ড ছিলে।কিন্তু এখন আমার বোন বেঁচে নেই।তাই আমি এখন আর তার কোন ফ্রেন্ডকে চিনি না। এ কথা বলে তামিম হেমার কাছে গেলো।
হেমা তামিম কে কাছে আসতে দেখে ভয় পেয়ে গেলো।
তামিমঃভয় পেও না।আমি তোমার কোন ক্ষতি করবো না।তবে তোমাকে এখানে কিছু দিন বন্দী থাকতে হবে।
হেমাঃভাইয়া আমি একটা মেয়ে।এখানে আমি আটকে থাকার পর বাসায় ফিরে গেলে সবাই আমার দিকে আঙুল তোলবে।আমার জীবনটা নষ্ট হয়ে যাবে।
তামিমঃতোমার জন্য আমার বোন কে আমি হারিয়েছি।তোমাকে তো আমি সুন্দর ভাবে বাঁচতে দিব না।
হেমাঃভাইয়া তন্নি কেন আত্মহত্যা করেছে?
তামিমঃতন্নি আকাশ কে ভালোবাসতো
হেমাঃতাহলে আমি কিভাবে দায়ী?আর আকাশ কে ভালোবাসতো তা তো কখনো বলেনি।
তামিমঃআকাশ তোমাকে ভালোবাসতো
হেমাঃমানে?…..

তামিমঃহুম।তন্নি চায়নি তোমাদের মধ্যে থাকতে।আবার আকাশ কে ছাড়তে ও পারবে না।তাই ও মৃত্যুটা বেছে নিয়েছে।
হেমাঃকিন্তু ভাইয়া আমিতো আকাশকে ভালোবাসি না।আর তন্নি আকাশ কে এবং আকাশ আমাকে ভালোবাসে এই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।তাহলে আপনি আমাকে কেন শাস্তি দিচ্ছেন?তন্নি যদি আমাকে বলতো তাহলে আমি আকাশকে বুঝিয়ে বলতাম।আমাকে ভুলে যেনো তন্নিকে মেনে নেয়।

তামিমঃকলেজের অনেকেই তোমার জন্য পাগল।আকাশ ও তোমাকে ভালোবাসে।আমি দেখতে চাই এখান থেকে যাওয়ার পর আকাশ তোমাকে মেনে নেয় কিনা।তোমাকে তো আমি সুন্দরভাবে বাঁচতে দিব না।
সমাজ তোমার দিকে বাঁকা চোখে তাকাবে।কলেজের সবাই তোমার দিকে বাঁকা চোখে তাকাবে।সবাই তোমার দিকে আঙুল তোলবে। তোমার সাথে কিছু হয়নি তা শুধু তুমি আর আমি জানবো।আর সবাই জানবে তুমি একটা খারাপ মেয়ে।
এ কথাগুলা বলতে বলতে তামিম হেসে দিলো।
হেমা কি করবে বুঝতে পারছে না।কোন কারন ছাড়াই এমন করে ফেঁসে যাবে কখনো ভাবে নি সে।
ওর এখন চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে।তন্নি আর আাকাশের উপর খুব রাগ হচ্ছে ওর।

রাত এ তামিম হেমা কে একটা প্যাকেট এনে দিয়ে বললো এটাটে খাবার আছে খেয়ে নাও।
এ বলে হেমার হাতের বাধন খোলে দিলো।
হেমাঃ আমি খাবো না।আমি বাড়ি যাবো।
তামিমঃতোমাকে যেতে দিবো না তা তোমাকে একবার বলা হয়েছে। খেয়ে নাও।
হেমা খাবারের প্যাকেট টা ফেলে দিলো।
তামিমঃআমার সাথে জিদ দেখিও না।আমি তোমার সাথে খারাপ কিছু করতে চাই না।আমাকে রাগালে কিন্তু এর ফল তোমাকেই ভোগ করতে হবে।আমার মাথা গরম হয়ে গেলে কখন কি করে ফেলবো তার ঠিক নেই।

হেমা তামিমের এ কথা শুনে ভয় পেয়ে গেলো।তাই আর কথা বাড়ালো না।চুপ করে এক কোনে বসে রইলো।
তামিম খেয়ে শুয়ে পরলো।
কখন যে হেমা ও ঘুমিয়ে পরেছে তা হেমা বুঝতে পারে নি।

ঘুম থেকে জেগে দেখে তামিম ঘুমাচ্ছে।
হেমার বাঁধনটা খোলাই ছিলো। হেমা সুযোগ বোঝে পালালো।কিন্তু কিছু দূর যাওয়ার পর আবার তামিমের সামনে এসে পরলো।
তামিম হেমাকে ধরে নিয়ে আসলো।
তামিমঃতুমি কি ভেবেছিলে আমার থেকে পালাতে পারবে?তুমি পালানোর চেষ্টা করে অনেক বড় ভুল করেছো।
এ কথা বলে তামিম হেমার গালে একটা চড় বসিয়ে দিলো।
চড় খেয়ে হেমা পরে গেলো।
তামিম হেমাকে একটা গাছের সাথে বেঁধে দিলো। তারপর গাছ এর একটা মোটা ঢাল নিলো।
আর হেমার পায়ের তালুতে কয়েকটা আঘাত করলো।ঢালের আঘাতে পায়ের তালু কেটে রক্ত বের হয়ে গেলো।
তামিমঃ নেক্সট টাইম যাতে আর পালাতে না পারো সে ব্যবস্থা করলাম।
আর আজ থেকে তোমার হাত আর খোলা হবে না।হাত সবসময় বাঁধাই থাকবে।

দুপুরে তামিম খাবার কিনে এনে হেমা কে খাইয়ে দিতে গেলো।
কিন্তু হেমা খেলো না।
তামিম দেখলো হেমার গায়ে জ্বর।
তামিম কিছু বললো না।নিজেই খেয়ে নিলো।

রাতের বেলা হেমার জ্বরটা বেরে গেলো।
কিন্তু তামিমের সে দিকে খেয়াল নেই।তার মনে শুধু বোন এর মৃত্যুর প্রতিশোধ ছাড়া আর কিছুই কাজ করছে না।
হেমার পা ফোলে গেছে।ব্যাথায় হাটটে পারছে না।
এত কিছুর পর ও তামিমের মনে হেমার জন্য একটু ও মায়া জন্মায় নি।
হেমা ও তামিমকে আর বাড়ি যাওয়ার কথা বলেনি।
হেমা বুঝতে পেরে গেছে যে তন্নির মৃত্যুর পর ওর ভাই একটা অমানুষে পরিনত হয়েছে।
যার মনে কোন মায়া দয়া নেই।যে মানুষের কথা বুঝতে পারে না।আর যা করছে তা কতটা ঠিক তার ও কোন ভাবনা নেই।

 

৫ দিন পর একটা গাড়ি হেমাকে তার বাড়ির সামনে ফেলে দিয়ে আসলো।
হেমার পায়ে ব্যাথা এবং শরীর দূর্বল থাকায় অনেক কষ্টে বাড়ি পৌছালো।.

চলবে….

বাংলাদেশিজম থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি কবিতা ।

Now Reading
বাংলাদেশিজম থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি কবিতা ।

2_17.jpg

বাংলাদেশিজম এর লিখনি অনেক আগে থেকেই নিয়মিত পড়ি। সব থেকে ভাল একটা পোস্ট ছিল বিভিন্ন ধর্ম ও তাদের শ্রেনীবিভাগ নিয়ে। বাংলাদেশিজম শেখানে দেখিয়েছিল অনেক কিছুর সংমিশ্রন ।হয়ত বাংলাদেশিজম এরই মনে নেই এই পোস্ট এর কথা। আমি ভাল লিখনি গল্প মনে রাখার জন্য একটা পদ্ধতি অবলম্বন করি তা হল ঐ লিখনিকে একটা কবিতার আকারে নিজের কাছে সংরক্ষন করে রাখি। বাংলাদেশিজম এর সেই পোস্ট টা আমার কবিতাটা পরলেই বুজতে পারবেন।জানি না আমার এই আজীব পোস্ট টা থাকে নাকি বাদ হয়ে যাবে। তবুও বাংলাদেশিজম এর প্রতি ভালবাসা থেকেই লিখা।

 

ধর্মযুদ্ধ

ধর্ম,ধর্ম, ধর্ম বলে কর্ম থেকেই দূরে,
জানিনা কবে মানবতার কথা বলব সব্বাই এক সুরে ।
কেউ করে নিখুত কূটনীতি,কেউ দেয় বালি গুঁড়ে,
জানি সবাই এক হবই হয়ত কিয়ামতের আগে নইলে পরে ।
কিকরেছে মহানবী কি করেছে কৃষ্ণ,
কখনও কি করেছি নিজের কাছে প্রশ্ন ।
সত্যের সন্ধান না করেই করি সত্যের বরাই,
এই থেকেই জন্ম নেয় নির্ঘাত বাক কিংবা হস্থ লড়াই ।
একটা প্রথা খুব বেশি, না পারলে দেই গালি,
ও… গালি টাও তো তেমন কিছু না আমাদের নিত্যদিনেরই বুলি।
সাবধান,কারে দেও গালি বুজে শুনে দিও,
অন্যরে গালি দাও না নিজ কে, সেটা একবার যাচাই করে নিও।
দুনিয়ায় কত যুগে কত কালে আসল কত পয়গম্বর আর নবি,
না জানি সব নাম,না জানি দেখেছি ছবি।
ধর্ম বলে পয়গম্বর ছিল লক্ষের অধিক,
মতান্তরে সংখ্যা দেওয়া নয় ঠিক সঠিক।
বি,পয়গম্বর পাব,
বাকি লক্ষ লক্ষ আল্লাহর দূত কোথায় খুজে পাব?
কে জানে কোন ধর্মের কোনায় আসেন আমার কোন নবী?
আমি জানিনা আল্লাহ জানেন সবই।
কালের বিবর্তনে কোন পয়গম্বর কোন ধর্মের দূত,
হিন্দু, বৌদ্দ,খ্রিস্টান,শিক্ নাকি শুত?
অন্য ধর্ম কে গালি দেওয়ার আগে তাদের স্মরণ করে নিও,
সাবধান,কারে দেও গালি বুজে শুনে দিও,
মোসলমানের সন্তান আমি কে আমারে ঠেকায়?
বিদায় হাজ্জ এ নবি আমার, বংশ অহংকারকে করে গেছেন বিদায় ।
ব্রাম্নন আমি, কে আমার সমতুল্য ?
জাত পাত নিয়ে ব্যাবসা করলে নরকে দিতে হবেই মূল্য ।
খ্রিস্টের পুত্র আমি স্বয়ং ঈশ্বর আমার বাবা, আমার তো জান্নাত আছেই কিছু করি আর না করি,
না ছুয়ে কাদা আর পানি, মৎস্য আমি ধরি।
আমাকে একটা ধর্ম দেখাও যেখানে আছে কিছু বৈরি,
তবে কেন কথায় কথায় আমরা মরনাস্ত্র করি তৈরি?
কেন আমাদের এমন এই দশা?
এক বাক্যেই বলতে  পারব না সহসা।
আল্লাহ দেখছে,ঈশ্বর দেখছে তাই করি ভাল?
ধরি, কেউ দেখসে না কোন শাস্তি নেই,তাহলেই কি আমদের রুপ হবে কালো
?
জান্নাতের লোভে কর্ম আর জাহান্নের ভয়ে ধর্ম যদি ঘটে,
কিয়ামত এর আর বাকি নাই,খুব ই সন্নিকটে ।
নেকি কামাও একদিন উঠতে হবে মরার খাটে,
এত ধর্ম নয় ধর্ম ব্যাবসা হল বটে।
প্রতিবেশি না খেয়ে মরে, আমরা ঈদে পরি নতুন জামা আর কোরবানিতে গরু কিংবা খাসী,
আমদের অবস্থা এমন আল্লাহ কে শুধু ভয় পাই, না ওনার মত চলি না ভালবাসি ।
সত্য জানতে রাসুল আমার করেসেন ৪০ বছর সাধন,
আর সাড়া জীবন করে গেছেন উম্মতের জন্য ক্রন্দন ।
৪০ বছর পর নবী আমার হয়েছেন উন্মুক্ত মহাজ্ঞানী,
আজ দু এক পাতা বই পড়ে কে কোদ্যুর জাণে তাও আমি জানি।
হানাহানি ছেড়ে চল একে অপরের হাত ধরি,

সব্বাই মিলে সুস্থ,সুন্দর একটা পৃথিবী গড়ি।

(ফাহাদ বিন হুসনে আলি)

 

উপহার যখন গলার কাঁটা হয়ে বিধে

Now Reading
উপহার যখন গলার কাঁটা হয়ে বিধে

সামাজিক প্রেক্ষাপটে আমরা পরিবারতন্ত্রের বেড়াজালে বেড়ে উঠছি। পরিবারের বাইরে গিয়ে মানুষের শিক্ষণীয় প্রতিটি কৃষ্টি কালচার আমরা সমাজ আর বাস্তবতা হতে শিখছি। উপনিবেশ কালে যখন সামাজিক প্রেক্ষাপট আজকের মত বন্ধুর ছিল না, তখন মানুষের কাছে সম্পদ আর প্রাচুর্যে ভরপুর ছিল।একে অপরকে খুশি বা আনন্দের ছলে উপহার দেয়ার রেওয়াজ মূলত তখন থেকেই চর্চা হয়ে আসছে। এই যে পারিবারিক চর্চা বা প্রথা তা একটা সময় সামাজিক রীতি হয়ে যায়। সমাজ বা রাষ্ট্রের অধীন নীতিনির্ধারকরা  নিয়মকে পরিমার্জিত করে সময়ের সাথে এইসব পদ্ধতিকে করেছে বহুমাত্রিক। উপহার বা উপটৌকনের যে সংস্কৃতি তার সাথে ধর্মীয় প্রেক্ষাপট আর মানবিক মুল্যবোধ গুলো জড়িয়ে বিষয়টা যেন আরো জটিল হয়ে পড়েছে। এই পরিচালিত সংস্কৃতি আর কার্যাবলির প্রেক্ষাপট হিসেবে দাঁড়ায় পৌরণিক বিশ্বাস আর ভাবধারাগুলো।

পরবর্তিত ভাবধারা আর সমাজ ব্যবস্থার আলোকে এখন এই উপহারের যে সংস্কৃতি তাই যেন সমাজের জন্য অলিখিত নিয়ম হয়ে দাড়িয়েছে। অর্থনৈতিক অবকাঠামোর প্রেক্ষিতে সমাজে মোটামুটি তিনস্তরের মানুষের বসবাস আছে।

সামাজিক কার্যাবলির অংশ হিসেবে বিয়ে একটি সামাজিক চুক্তি বলা যায়।এখানে নরনারী একে অপরের সাথে সর্বসম্মতভাবে বৈধ উপায়ে বসবাসের অধিকার লাভ করে।সমাজে বসবাসরত মানুষ এই প্রথাকে একসময়ে একে অপরকে কাবু করার হাতিয়ার করে নিয়েছে। ইসলাম ধর্মের পাশাপাশি প্রচলিত অন্য ধর্মব্যবস্থায় সমাজ সংস্কারকরা সময়ের সাথে উপটৌকন দেয়ার প্রথাকে মিলিয়ে নিয়েছে। এই যৌতুকের প্রথাই যেন এখন বিয়ের একটা সম্পূরক অংশ বলে বিবেচিত হয়।

রাষ্ট্র এবং সমাজের প্রেক্ষাপটে আমরা এই যৌতুকের ভিন্ন দৃশ্যপট দেখতে পাই। রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে অঞ্চলভেদে তা আবার বহুমাত্রিক।এই বহুমাত্রিক ঘটনার প্রতিক্রিয়াও  বেশ জটিল বলা চলে।আমরা প্রতিদিনকার পত্রিকায় অন্তত একটা না একটা নৃশংসতার খবর ছাপতে দেখি যেখানে নেপথ্যে ছিল যৌতুকের মত অভিশপ্ত প্রথা।সমাজে প্রচলিত ধারার মধ্যে বহুল প্রচলিত বিয়ের রীতি বা প্রথা হল সর্বসম্মতভাবে বিয়ের আয়োজন বা এ্যারেঞ্জ ম্যারেজ। এই সর্বসম্মত পদ্ধতিতে কোন অংশে কনে পক্ষকে ছাড় দেয়া হয় বলে মনে হয় না। এখনও মানুষ এই যৌতুককে নিজের প্রাপ্য অধিকার বলে মনে করে। ধর্মীয় প্রেক্ষাপটে বিয়ের রীতিতে নারীর সুরক্ষা বা নিশ্চয়তা বিধানের জন্য কাবিন করার যে পন্থা তার সাথে আলাদাভাবে যৌতুককে মিলিয়ে বিষয়টাকে জটিল করে রেখেছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে একজন নিম্নবিত্ত পরিবারের প্রতিনিধির তার সামাজিক অবস্থান হতে বিয়ের জন্য যে খরচ পড়ে তা আনুমানিক ২-৩ লাখ পড়বে। তবে এই খরচ নিতান্তপক্ষে বলা হয়েছে। একইভাবে মধ্যবিত্ত কোন পরিবার তার বিয়ের জন্য সর্বোচ্চ খরচ করার যে গন্ডি তা ৫ লাখের উর্ধ্বে যায়। সমাজে উচ্চবিত্তদের এই খরচের যে বাহার তা তার ইচ্ছানুযায়ী করে থাকে কেননা তা অবশ্য ১০ লাখের উর্ধ্বে চলে যায়।এখন দেশের যে অবকাঠামো সে অনুযায়ী এই ক্যাটাগরিতে অর্থ খরচ করার সামর্থ্য কয়জনের আছে তা দেখার বিষয়। আপনি এই যে খরচের কাঠামো দেখছেন তা বরাবরই অনুমেয় কিন্তু এই খরচ যদি চট্টগ্রামের প্রেক্ষিতে চিন্তা করেন তা অবশ্যই দ্বিগুণ করে ধরতে হবে।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটা অভিজ্ঞতা শেয়ার করি একজন আত্মীয়ের মেয়ের বিয়ে বরপক্ষের ফরমায়েশ তিনি পূরণ করতে সমর্থ নন।অপরদিকে ছেলে নাকি ভাল তাই মেয়েকে তার হাতে দিতে চাই যেন একটু নির্ভার থাকা যায়। এখানে প্রশ্ন আসে যে ছেলে বাবা-মায়ের সিদ্ধান্তের বাইরে এসে যৌতুক নিবে না এমন সাহসী একটা পদক্ষেপ নিতে পারে না সে কোন অর্থে ভাল তা যাচাইযোগ্য। এখনো আমরা মেয়েদের স্বাবলম্বী করার চেয়ে বরং অন্যের কাছে গছিয়ে দেয়ার মানসিকতা পোষণ করি। এটা চরম ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছু নয় । আত্মীয়ের সেই বিয়েতে যথারীতি সাহায্য করতে হল এখানে হাত-পা বাঁধা।

একই দিকে এক বড়লোক বাবার আহ্লাদী কান্ড দেখলাম উনি ঘোষণা দিয়ে অযাচিত খরচ করেছেন কেননা উনার মেয়েকে উচ্চশিক্ষিত করেছেন। তারপরও তিনি কোন ছেলে যদি ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার পেশার লোক পান তবে যথেচ্ছভাবে খরচ করবেন।যথারীতি করেছেন।পাশাপাশি অন্যদেরও দেখিয়েছেন যে কিভাবে স্বাভাবিক খরচকে অস্বাভাবিক করে এটাকে গলার কাঁটা বানানো যায়। এই ধরনের ঘটনা হারহামেশাই ঘটছে সমাজে । এই কাজগুলোর বেসামাল গতি থামানোর জন্য কোর সীমারেখা না থাকায় তা দিনেদিনে লাগামহীন হয়ে যাচ্ছে।আপনি ক্ষুদ্র পরিসরে সংস্কারী হওয়ার চিন্তা করলেন তবে সমাজ বা বাস্তবতা আপনাকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিবে ওটা ছিল নাকি আপনার অপরাগতা।

সেদিন আমার একবন্ধু গলা ফাটিয়ে বলল সে নাকি বিয়ের সময় একটা অতিরিক্ত জিনিস নেয় নি যাকে যৌতুক বলা যাবে। এটাকে শাবাসী দেয়া যায়।

মূলত প্রচলিত মতবাদের অপব্যাখায় এখনকার সমাজে যৌতুককে একটা ভিন্ন মাত্রার প্রথা বানিয়েছে যা কিনা কোন ক্ষেত্রে বিলাসীতার পর্যায়ে পড়ে আবার কোথাও তা চরম মাত্রায় প্রহসনের পর্যায়ে পড়ে।

সম্প্রতি দেখলাম যৌতুকের বলি যে হচ্ছে তাদের কোন গন্ডি নেই নিম্নবিত্তের মেয়ে যেমন শিকার হচ্ছে তেমনি উচ্চবিত্তের মেয়েরা এই ধরনের আক্রোশ থেকে রেহাই পাচ্ছে না। প্রাইভেট কার যৌতুক হিসেবে না পাওয়ায় মনীষা নামে এক মেয়ের জীবন নিতে কুন্ঠাবোধ করে নি পাষন্ড স্বামী। অথচ এই স্বামীর কাছে পরম বিশ্বাসে মেয়েকে দিয়েছিল বাবা-মা। উপহার বা যৌতুকের যে প্রথা তার প্রতি মানুষের প্রবণতা বেড়েই চলছে।লোভ বা কোন কিছু বাড়তি পাওয়ার যে আকাংখা তা স্বভাবজাত এই স্বাভাবিক চাহিদা যখন লিপ্সা হয়ে যায় তা সামাজিক অপরাধ হিসেবে পরিগণিত হয়।

সময় এসেছে সোচ্চার হওয়ার কেননা যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে আমাদের সামাজিক রীতিনীতিগুলো নিয়ে আরো বেশি ভাবা উচিত। এমন কোন প্রথা প্রচলিত থাকা উচিত না যেটা কিনা পরোক্ষভাবে মানব হন্তারক।গ্রাম বা শহরের প্রতিটি প্রত্যন্ত অঞ্চল হতে শুরু করে দালানকোঠায় এই যৌতুকের কালো থাবা বিস্তার করে আছে। এখন দেশের আনাচে কানাচে প্রতিনিয়ত হাজারো মেয়ে আড়ালে অগোচরে প্রতিনিয়ত এই যৌতুকের মত অভিশপ্ত কর্মকান্ডের প্রতিক্রিয়ার শিকার হচ্ছে। এইসব ঘটনার কয়টায় বড়জোর খবরের শিরোনাম হচ্ছে বা লোকচক্ষুর সামনে আসেছ।মূলত এই পন্থা বা রীতি সমাজকে অক্টোপাসের মতো করে ঘিরে রেখেছে আপনি চাইলেও সহসা বের হতে পারবেন না। আপনাকে এই বেড়াজাল ভাঙ্গার চেষ্টা তো করতে হবে।

এই অযাচিত একটা পদ্ধতি যার দ্বারা আমরা অকালে যেমন মায়ের কোল খালি হতে  দেখছি, তেমনি কারো আদরের বোনকে হারিয়ে বসছি,কোনক্ষেত্রে কোন শিশুর মাকে কেড়ে নিচ্ছে। এই প্রতিটা ঘটনার জন্য সামাজিক রীতির বেপোরোয়া আগ্রাসন দায়ী।

আসুন আমরা সবাই সোচ্চার হয় এই যৌতুকের বিরুদ্ধে। সামাজিক প্রথা হিসেবে চালু হওয়া এই উপহারের সংস্কৃতি যেন আমাদের গলার কাঁটা হয়ে না বিধে।

বিয়ে হোক কেবলই সামাজিক অধিকার যেখানে থাকবে না কোন দাসত্বের বেড়ি বা স্বার্থের শীতল যুদ্ধ। যা বাস্তবিক সামাজিক বা মানসিক অগ্রগতি দুটোর জন্য দায়ী বলা চলে।

সমাজ আমাদের কী? দিচ্ছে!!! আমরা সমাজকে কী? দিচ্ছি!!!!…

Now Reading
সমাজ আমাদের কী? দিচ্ছে!!! আমরা সমাজকে কী? দিচ্ছি!!!!…

আমরা প্রতিনিয়ত যা দেখছি, যা শুনছি এবং যাবতীর যা কিছুর মুখোমুখি হচ্ছি সব কিছু থেকে আমাদের শেখার আছে বা আমরা শিাখছি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমরা বা আমি যা প্রত্যক্ষ করছি তা তুলে ধরার চেষ্ট করলাম দয়া করে নেগেটিভ ভাবে নিবেন না:

১. আমার নামাজে মনোযোগ নেই কারণ আমার ঈমান নষ্ট হয়ে গেছে।

২. আমার পড়ালেখা করতে ইচ্ছা করে না কারণ প্রশ্নফাস দেখতে দেখতে আমি অতিষ্ট হয়ে গেছি।

৩. আমি নেতা হলে অবশ্যই মানুষের ক্ষতি করতাম তা না হলে আমি পত্রিকায়  ঢালাও ভাবে আসতে  পারতাম না। যেমন হাওড় এলাকার  দুর্গতি । এসব আমি সমাজ থেকে শিখছি।

৪. আমি মেয়ে হলে ধর্ষিত হতাম তবুও মা-বাবার কথায় বিয়ে করতাম না, বরং মা-বাবার নামে মামলা করতাম। তাহলে আমি আন্তর্জাতিক ভাবে সংবর্ধনা পেতাম। এসব আমি সমাজে হতে দেখছি।

৫. আমি কোটিপতি স্বর্ণ ব্যবসায়ীর ছেলে হলে সুযোগ পেলেই অসহায় নারীদের ধর্ষন করতাম। কিছু টাকা পয়সা গেলেও মা-বাবা আমাকে কিছুই বলতনা। কারণ আমি দেখছিতো চোখের সামনে।

৬. আমি নেতা হলে আমার জেল হলেও কিছু হতোনা কারণ আমি অসুস্থতার কথা বলে হাসপাতালে ভি. আই. পি. কেবিনে বসে রাজনীতি করতাম। এসব আমি সমাজ থেকে শিখছি।

৭. আমি র‌্যাব হলে কখনোই মদের বোতল খুজে পেতাম না কিন্তু শুল্ক গোয়েন্দা হলে পেতাম কার তাহাতে আমার কমিশন আছে।  এসব আমি সমাজে হতে দেখছি।

৮. আমি রাস্তা দিয়ে হাটলে গরিব, ফকির ও অসহায়দের দেখলে  দূরে সরে যাই কারণ আমি ছোট থেকে দেখে আসছি বড়রা  সেটাই করে।  এসব আমি সমাজ থেকে শিখছি।

৯. আমাকে একটা বা একাধিক রিলেশন করতে হবে নইতো আমি বোকা আর আনস্মার্ট থেকে যাব। কারণ সবাই এটা ভাবে।

১০. রাস্তায় চলাচলের সময় পাশ দিয়ে বিপরীত লিঙ্গের কেহ হেটে গেলে আমাকে তাকাতে হবে এবং আমার এলাকা হলে বিরক্ত করতে হবে। কারণ সবাই এটা করে আর এটা আমাকে সমাজ শিখিয়েছে । আমি ওটা না করলে আমি পুরুষ নয়।

১১. পুলিশ হলে আমাকে অবশ্যই ঘুষ নিতে হবে নয়তো আমি পুলিশ নামে কলঙ্ক। এমন কি আমার পরিচিত সবাই মুখের উপরেই বলবে।

১২. আমার চাকুরির বিষয় কল্পনা করা সম্পূর্ণ নিষেধ। যদি আমার ঘুষ দেওয়ার ক্ষমতা না থাকে।

১৩. আপনি এস. এস. সি পাশ করলেই আপনার পুলিশে চাকুরী কনফর্ম। কিন্তু শর্ত হলো আমনার বাবার অবশ্যই কয়েক শতক জমি থাকতে হবে এবং তাহা বেচে ৮-১০ লাখ টাকা জোগাড় করে রাখতে হবে।

১৪. বাসে চলার সময় আমি সিটে বসা থাকলে কখনোই উঠবো না যদি আমার পাশে ৭০ বছরের কেহ দাড়ানো থাকে।  কারন আমাকে তো কেহ উঠে দাড়ানোর শিক্ষা দেয়নি। আর কেহ তো এটা করে না তাহলে আমি কেন। দোষটা আমার না সমাজেরা।

১৫. আমি কোন রকম নেতা হলেই রাস্তা ঘাটে রিক্সা চালকেদের কষে থাপ্পড় দিতাম। সামান্য কারণ বা অকারণে । আমি এটা গত রাত্রেও দেখেছি এবং শিখেছি। এটা আমাকে কে শিক্ষা দিল। এটা শেখানোর দায়িত্ব কি মা-বাবার না সমাজের মানুষের।

১৬. আমাকে নেতা হতে হলে অবশ্যই আমাকে নেশা করতে হবে। আমাকে তো একজন নেতা বললোই নেশা না করলে কিসের বালের নেতা যে নেশা করে না সে রাজনীতি বুঝেনা। প্রতিষ্ঠিত হতে হলে আমাকে তাদের সঙ্গ দিতে হবে। নয়তো দু-পায়ে দাড়ানো যাবে না। এমনকি পা ভেঙ্গেও দিতে পারে। সমাজ আমাকে নেশা করতে বাধ্য করতে চাইছে।

১৭. আমি প্রতিদিন খাবার ৩০% নষ্ট করবো। কিন্তু যে ডাস্টবিন থেকে কুড়িয়ে খায় তাকে দিবোনা। কেহ তো দেয় না। আমি দিতে গেলে সবাই আমাকে পাগল বলবো। তাহলে আমার কী করা উচিত!!!

১৮. সবাই বলে গাজা খাইলে নাকি অন্তর চক্ষু খোলে, বুদ্ধি বাড়ে। তার মানে আমি এখনো অন্ধ এবং  বোকা, সমাজ তো তাই বলে। আমার কি করা উচিত।

১৯. আমি ছেলে হই বা মেয়ে হই উলঙ্গ হতে পারলেই আমি স্টার। আর এটা ঢালাই ভাবে প্রচার করলে আমি পর্ণস্টার।  সেইরকম দাম। হিরো আলম বা সানি লিওন দুটির যে কোনটিই  চলবে। কারণ সমাজ তো এদের কে দাম দেয়। আমি প্রতিনিয়ত সমাজ থেকে এগুলোই শিখছি।

২০. আমি মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও ভয় পায়, আমার ঈমান দুর্বল, এমনকি আমি দাড়ি রাখতেও ভয় পায়। কারণ দাড়ি রাখলে আপনার প্রশাসনের চোখে পড়ার সম্ভাবনা বেশি। আর একবার ধরা পড়লে ফাঁকা কোন বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে স্যুটিং শুরু হবে। ভয়ে কিছু একটা করলে জঙ্গি হয়ে যাব। এক অদ্ভুদ নিয়ম শিখলাম সমাজ থেকে।

২১. আমি হস্তমৌথুন করতে বাধ্য হয় কারণ এটা আমার অভ্যাস হয়ে গেছে। আমি ছোটবেলা থেকে বয়সে বড় বন্ধুদের কাছ থেকে এগুলোর ট্রেনিং পেয়েছি কেহ তো বাধা দেয়নি। পরিবার তো আমাকে কু-কর্মে লিপ্ত হওয়া  শেখাই নি। তাহলে কোথা থেকে শিখলাম আমি অশালীনতা। নিশ্চয় পরিবেশ বা সমাজ থেকে।

২২. বিয়ের পরে মা-বাবাকে ফেলে আমাকে আলাদা সংসার তৈরি করতে হবে এবং এর যথেষ্ট স্বীকৃতি এবং সম্মান রয়েছে। এর কারনে মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাতে পারলেও সমস্যা নেই, তাহলে আমি আরো সংসারী এবং আরো ব্যাক্তিত্তবান। যারা বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে তারা তো এগুলোই করছে। সমাজে তো অহর অহর এগুলো হচ্ছে।

 

পরিশেষে, আরো অনেক কিছু বলার ছিল কিন্তু পারলাম না বা সাহস হলোনা।  এগিয়ে আসুন এগুলোকে আমরা সমাধান করি। সুন্দর সমাজ গঠনের লক্ষ্যে হাতে হাত রেখে কাজ করি। যে আমাদের পরবর্তি প্রজন্ম আমাদের থেকে শালীন হয়। আমাদের সঠিক গাইডলাইন হতে পারে কোরআনের শিক্ষা। কোরআন-এর শিক্ষা ব্যাতিত এগুলোকে পরিবর্তন করা সম্ভব ন।

বি:দ্র: উদ্দিপকে আমি আমাকে নিয়ে তুলনা করেছি বা বর্ণনা করেছি। মূলত  আমি এগুলোর পরিবর্তন চাই। সুন্দর একটি সমাজ চাই। ধন্যাবাদ ভালো থাকবেন সবাই।