অপেক্ষা

Now Reading
অপেক্ষা

“অপেক্ষা”
 
তোমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ল্যাপটপ,ইন্টারনেট,মোবাইল এগুলা ব্যবহার করা একদম প্রায় ছেড়েই দিয়েছি।এগুলোর সবগুলোই ছিল তোমার সাথে যোগাযোগ করার মাধ্যম।এখন তুমিই নাই এগুলো সব অর্থহীন আমার কাছে।কিন্তু আজকের দিনে না এসে পারিনা।এই দিনটাতে আমি তোমাকে হারিয়েছি তাই ভাবি যদি এই দিনেই তোমাকে আবার ফিরে পাই।
 
আজ আমার বিয়ে।অনেক ব্যস্ততম একটা দিন।তবুও হাজার ব্যস্ততার মধ্যেও আজ একটু ইন্টারনেট ব্যবহার করছি।জানিনা তোমাকে পাব কিনা।কিন্তু প্রতিবার যা করি তাই করছি।তোমার সাথে হওয়া চ্যাট গুলো দেখছি
 
-ঐ তেলচুরা(আমায় ও এইটাই ডাকত)
-কি গুবরে পোকা(আমি এইটাই ডাকতাম)
-খাইবার দিছে আজ?
-দিবেনা কেন?
-দিবে কোন দুঃখে?
-কেন আমি কি করছি?
-তেল চুরি করছ
-চুপ গুবরে পোকা আর গন্ধ ছড়াইয়ো না
-হুরর গরু
-ঐ গরু তুমি আমি কেমনে?
-আমার Doubt আছে তুমি আসলেই মেয়ে কিনা
-হাট এখান থেকে
-ওরে আমার সোনা আর রাগ করেনা
-ঐ মেজাজ খারাপ করবানা
-ওকে sweetheart আর বলবনা
-এখন এই ফাউল কথাগুলো বলছো কেনো?
-এগুলো বললে কি হইছে?এগুলা তো দুষ্টামি
-না এগুলা বলবানা
-না আমি এরকম দুষ্টামি মাঝে মাঝে করব।তোমার কি?
-আমার না তো কার?
-হুহ!
-আচ্ছা ঠিকাছে কইরো
 
এরকম দুষ্টুমি হাসি মান অভিমানের মধ্যে দিয়েই আমরা থাকতাম।আর তুমিই ছিলে আমার জীবনের একমাত্র মানুষ যে আমার সবথেকে কাছের এবং সবথেকে বেশি প্রিয়।অথচ তুমিই সবথেকে বেশী দূরে থাকতে।সীমানার ওপারে।মানে আমার পাশের দেশে।কিন্তু কয়েক মাস এভাবে চলার পর বুঝতে পারলাম আমি তোমাকে ভালবেসে ফেলেছি।আমি জানতাম তুমিও আমাকে ভালবাসো কিন্তু বিভিন্ন ধরনের সংকোচ থাকত মনের ভিতর।তাই সরাসরি বলতে পারতামনা।বিভিন্ন ধরনের রূপক করে বলতাম।হয়ত এটাই আমার জীবনের সবথেকে বড় ভুল ছিল।যদিও তোমার সাথে আমার মিলন অনেকটা অসম্ভবই ছিল।কারন দূরত্বটা অনেক ছিল।তবুও এটাকে আমি আমার জীবনের সবথেকে বড় ভুলই বলি।কারন যদি আমি সরাসরি বলতাম তাহলে তুমি কিছু হলেও করতে।কি করব বলো আমিও বোকা আর তুমি আমাকে বুঝতে পারতেনা।
 
-এই গুবরে পোকা জানো আমি একজনকে ভালবাসি।তার সাথে আমার সারাদিন কথা হয়।খুব বেশীদিন হয়নি তার সাথে পরিচিয় হয়েছে।কেমন জানি একটা আবেশে জড়িয়ে গেছি।কিন্তু তার আর আমার মাঝে অনেক দূরত্ব।
 
এই সহজ কথাগুলো তুমি বুঝতে পারলেনা।এগুলার সবকিছুই তো তোমাকে ঘিরে ছিল।আর তুমি কি করলে….
 
-তেলচুরা আমি তোমাকে খুব ভালবাসি।তাই তোমার সাথে ঐরকম দুষ্টামি করতে চাইতাম।কিন্তু তুমি এখন অন্য কাউকে ভালবাস।তাই কোনো মানেই হয়না তোমাকে আর বিরক্ত করার।তুমি ভাল থেকে।আমি সরে গেলাম চিরতরে।তবে তোমার জন্যই অপেক্ষা করব।যদি জীবনের কোন গলিতে দেখা হয়ে যায়।বিদায়!
 
পরের দিন এই মেসেজটা দিয়ে তুমি আমার সাথে সবরকম যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিলে।আর সেটা আজকের এইদিন।জানিনা তুমি আসলেই অপেক্ষা করছ কিনা।হয়ত তুমি করবেও।কারন তুমি অনেক মহান।আমি বোধ হয় তোমার মত মহান হতে পারবোনা।আমি এই ৬ বছর করেছি।অনন্ত কাল পর্যন্ত করতাম।কিন্তু বাবা-মা কে কি বলব।তাই পরাজিত হয়ে গেছি।
 
আমি সামিরা এখন বিয়ের পিড়ির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।এখনও একটা আশা করছি।যদি বরটা তুমি হও তাহলে হয়ত কাঁদতাম আর বলতাম আগে বলতে পারলেনা তাহলে একটু ভাল করে সেজে আসতাম।
 
কিন্তু সব আশা পূরন হয়না।তাই আমার অপেক্ষা এখানেই সমাপ্তি হল………….

বৃত্ত

Now Reading
বৃত্ত

“বৃত্ত”
-চলে যাচ্ছেন?
-হুম দেখতেই তো পাচ্ছেন
-তা যাচ্ছেন কেনো?
-এখানে আর মন টানছেনা
-নাকি কেউ বিরক্ত করছে?
-হুম ঠিক ধরেছেন
-তাহলে আমার sorry বলা দরকার
-কেনো?
-আপনাকে তো আমি ছাড়া আর কেউ বিরক্ত বলে আমার জানা নেই
-সবই কি আপনার জানার মধ্যে থাকতে হবে?
-থাকলে কি সমস্যা আছে?
-সমস্যা না থাকলেও অভ্যাস নেই
-তা কোথায় যাচ্ছেন?
-বাধা পড়তে চাইনা
-বুঝলামনা
-তাহলে না বুঝার চেষ্টা করাটাই ভালো
-আপনার সব অভ্যাস আমার জানা তবুও আপনাকে বুঝতে পারিনা।আপনার কথাগুলো তারও আগে বুঝিনা
-বললামনা বুঝার চেষ্টাটা না করতে
-কেনো কি এমন রহস্য আপনার?
-আপনি কি আমাকে আটকাতে এসেছেন,তাহলে এই চেষ্টাটা করতে পারেন
-নাহ্ করবোনা
-কেনো?
-এতটুকু বুঝতে পারছি আপনি কোনো বৃত্তের মধ্যে থাকতে চাননা।আপনি অবাধ্য তবে দুষ্টু না।
-হে হে তা যা বলেছেন।
-আচ্ছা আসি।
-ভালো থাকতে বলবেন না?
-যে ভাল থাকতে চায়না তাকে বলতে নেই।আচ্ছা আমি যাই দেরী হয়ে যাচ্ছে।বিদায়।
বিদায় কথাটা আমার বলার ছিলো।কিন্তু তুমি বললে।চলে যাচ্ছি আমি কিন্তু তার আগেই চলে গেলে তুমি।আমি কোনো বৃত্তের মধ্যে থাকতে চাইনা আর তুমি বৃত্তটা ভেঙে দিলে।সবই তুমি করে দিলে আমার জন্যে কি বাকী রাখলে????
ঐ ছোট্ট একটা কুটিরে এসে উঠেছিলাম।বড়ই অগোছালো হয়ে থাকতাম।তুমি আস্তে আস্তে আমার দিকে এগোতে থাকলে।আস্তে আস্তে আমাকে পুরোটাই তোমার বৃত্তের মধ্যে পুরে নিয়েছো।
যে আমি শুধু চলা ছাড়া কিছু বুঝতামনা।আর মাঝে মাঝেই ডুব দেয়া আর কিছুদিন ডুব দিয়ে থেকে আবার চলা শুরু করা।তাই লুকিয়ে লুকিয়ে ঐখানে ডুব দিতে এসেছিলাম আবার লুকিয়ে লুকিয়েই পালাতে যাচ্ছিলাম।কিন্তু না তখন পেরেছি তোমার চোখ এড়াতে না এখন পারলম।
আমি সত্যিই তোমার বৃত্তের মধ্যে থাকতে পারবোনা।আমি এক বৃত্তের মধ্যে চলতে পারবোনা।এটা আমার সত্ত্বা চাইলেও আমি পারবোনা।তাই আজ তোমার বৃত্তের পরিধি পেড়োতে যাচ্ছিলাম।কিন্তু তার আগেই তুমি আমাকে মুক্ত করে দিলে।সত্যিই তুমি আমার থেকেও বেশী “রহস্যময়ী”।
ভালো থেকো আর পারলে কখনও অন্য কাউকে এই বৃত্তের পরিধির সীমানায় আসতে দিওনা।আমার চলা শেষ হলে আমি ফিরব এই বৃত্তের পরিধিতেই…………..

অতৃপ্ত ভালোবাসা

Now Reading
অতৃপ্ত ভালোবাসা

*আরো কিছু শুনার ছিলো!

 

মোবাইলটা ভাইব্রেট করতেই নিশা বিরক্তমুখে সামিরের দিকে তাকালো। সামির নিশার রাগী চেহারা দেখে ফোনটা ধরবে নাকি ধরবেনা ভাবতে ভাবতেই নিশা সামিরের পাশ থেকে উঠে পাশের রুমে চলে গেল।
রিশা ফোন করেছে। ফোনটা ধরতেই সামির রিশার ব্যস্ত গলা শুনতে পেল।
– তুমি কি আজকে একটু তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে পারবে?
সামির বিরক্ত গলায় বলল,
– আপনাকে কতবার বলেছি, আমাকে তুমি করে বলবেন না?
– স্যরি, আর বলবো না। আপনি একটু তাড়াতাড়ি ফিরতে পারবেন?
– না।
– কেন, নিশা আপু কি আসতে দিবেনা?
সামিরের মনে হল কথা বলার সময় সে রিশার হাসি শুনতে পেল।
নিজেকে কোনরকমে সামলে বললো,
– নিশার ব্যাপার তো আপনার জানা দরকার নেই, তাই না?
– ওকে বাবা আর বলবো না।
– আমাকে আসতে হবে কেন?
– বাসা থেকে মা ফোন করেছিল, বাবার শরীরটা বেশি ভালো না। আমাকে দেখতে চেয়েছে।
– তো, আমাকে কেন যেতে হবে?বলেছি না, ঐ বাসার সঙ্গে আমার কোন সম্পর্ক নেই?
.
রিশা বিস্মিত গলায় বললো,
– বাবার এমন অবস্থা জেনেও আপনি একথা বলছেন? বাবা তো সবারই বাবা, তাই না! এখানে আমাদের বিয়েটাকে ইস্যু না করলে কি চলতো না?
রিশার কথা শুনে সামির বিব্রতভাবে বলল,
– আমি আসছি।
.
নিশাকে সামির ব্যাপারটা খুলে বলতেই নিশা গম্ভীর হয়ে গেল। আধা ঘণ্টা ধরে চেষ্টা করেও তার মুখ থেকে কথা বের করা যাচ্ছেনা। সামির বিরক্ত হয়ে বারবার ঘড়ি দেখছে। রিশা মেয়েটার কি কোন কমন সেন্স নেই? জানে সামির আজ রাতে নিশার সঙ্গে থাকবে তবু ফোন করা চাই।
সামিরের ব্যস্ততা দেখে নিশা মুখ খুললো,
– তুমি কি বুঝতে পারছ, এই মেয়েটা আস্তে আস্তে তোমাকে নিজের কব্জায় নিয়ে যেতে চাচ্ছে?
– আসলে ওর বাবা অসুস্থ তো, তাই যেতে বলেছিল।
– ওটা যে স্রেফ একটা অযুহাত সেটা বুঝতে পারছ না? আজকে বাবার অসুখ কালকে নিজের পিরিয়ড এইসব বলেই তো তোমাকে লোভ দেখাবে, তাই না!
– এইসব কি বল? ও এতটা খারাপ না।
– ও! এখনি দরদ শুরু হয়ে গেছে! এতোই যখন ভালো তাহলে ডিভোর্সটা দিচ্ছে না কেন?
নিশার কথা শুনে সামির চুপ হয়ে গেল। রিশা মেয়েটা এই একটা ব্যাপারে যে কত কঠিন, সেটা যদি নিশাকে দেখাতে পারতো?
..
..
রিশার বাবার বাড়ি থেকে বেরিয়ে গাড়িতে উঠে সামির গম্ভীর হয়ে রিশাকে বলে,
– আমি এভাবে আর সম্পর্কটাকে চালিয়ে নিতে পারবো না।
রিশা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো,
– তাহলে ডিভোর্স দিয়ে দিন।
সামির উত্তেজিত গলায় বললো,
– আপনি জানেন, আমি নিজ থেকে আপনাকে ডিভোর্স দিলে বাবা আমাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেবে। আপনার দিক থেকে তো ডিভোর্স দিতে কোন সমস্যা নেই, তাই না?
রিশা তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বললো,
– প্রেমের জন্য নাহয় সিংহাসন ছেড়েই দিলেন!
কিছুক্ষণ চুপ করে আবার বলল,
– আমি আমার ফ্যামিলিকে কি করে বোঝাবো আপনিই আমার কাছে ডিভোর্স চেয়েছেন, আমি নিজ থেকে দেইনি?
সামির রেগে গিয়ে চিৎকার করে বলল,
– আপনি আমাকে ছাড়তে চাননা কেন? বারবার শুধু বাবার বাড়ির দোহাই দিয়ে চলেছেন। অথচ আমাদের মধ্যে রিলেশনশিপটা যে যাচ্ছেনা সেটা তারা ভালো করেই জানে। এমনকি নিশার ব্যাপারটাও জানে। তাহলে আপনার প্রবলেমটা কোথায়??
.
রিশা আস্তে করে বললো,
– আই লাভ ইউ।
সামির চমকে উঠে বলল,
– হোয়াট!!!
– যেটা সত্যি সেটাই তো বললাম। আমাকে প্রথম যেদিন হুট করে আপনার ছবি দেখিয়ে বলল, এই ছেলেটার সঙ্গে আগামী সপ্তাহে তোর বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে তখনই চমকে গিয়েছিলাম। কোনদিন প্রেম নিয়ে ভাবিনি তো, তাই বুঝতে পারিনি, কেউ আমাকে একটা ছবি দেখিয়ে বলবে এটা তোমার বর আর আমি সেটা সঙ্গে সঙ্গে মেনে নেব। কিন্তু সেটাই ঘটে গিয়েছিল।
.
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে রিশা আবার বলতে শুরু করলো,
– বাসর রাতে প্রথম গিয়ে না বুঝতে পারলাম, সব বিয়ে পুতুলের বিয়ে না! সবাই সব ভাগ্য নিয়ে জন্মায় না। আমারো সেই কপালটা নেই। কিন্তু আমি যে কখনো আপনাকে ছাড়া বাঁচতে পারব না সেটা খুব ভালো করেই জানি।
সামির শক্ত গলায় বললো,
– আমিও নিশাকে ছাড়তে পারবো না। ওকে পাওয়ার জন্য যদি কখনো আপনাকে খুন করতে হয় তবে তাই করবো।
রিশা সামান্য হেসে সায় দিয়ে বললো,
– সেটাই বোধহয় আমাদের সবার জন্য ভালো হবে।
..
চারমাস পর…..
..
অফিসে যাওয়ার পথে ভুল করে সামির একটা ফাইল রেখে এসেছে দেখে আবার বাসায় ব্যাক করল।
বারবার কলিং বেল বাজানোর পরও রিশা দরজা খুলছে না। বিরক্ত হয়ে রিশার মোবাইলে কল করতে যেয়ে সামির দেখল রিশার কাছ থেকে একটা মেসেজ এসেছে।
” তুমি তো আর আমাকে উইশ করবে না, তাই আমিই তোমাকে করলাম, হ্যাপি ম্যারিজ অ্যানিভার্সারি। ফর ইয়োর কাইন্ড ইনফরমেশন, আজকে আমাদের প্রথম বিবাহ বার্ষিকী ছিল। রফিকের কাছে চাবি দিয়ে গেলাম। আমি চলে যাচ্ছি, যেখান থেকে এসেছিলাম সেখানে। বাবা মা হয়তো আমার কথা বুঝতে পারবে, তোমাকে কোন দায় নিতে হবেনা। আমি নিজ থেকেই তোমাকে ছাড়ে যাচ্ছি। আর একটা কথা শেষবারের মত শোনো, আই লাভ ইউ।”
..
মেসেজটা পড়ে সামির বিশ্বাস করতে পারছে না। সত্যিই তাহলে রিশা অবশেষে বুঝতে পেরেছে, সামিরকে কাছে টানার চেষ্টা করে কোন লাভ নেই! নিশ্চিত হওয়ার জন্য সে নিশার ছোট ভাই আদনানকে ফোন করল,
– রিশা কি তোমাদের বাসায়?
আদনান বিরক্ত গলায় বলল,
– আমাদের বাসা হবে কেন? এটা রিশারও বাসা। ভার্সিটিতে আসার সময় দেখলাম ওর মুখ শুকিয়ে গেছে। আপনি কি ওকে একটু সুখে থাকতে দেবেন না? বিয়ের আগে যদি জানতাম আমার বোনটাকে এমন…..
.
পুরোটা না শুনেই সামির ফোনটা কেটে দিল। যাদের সঙ্গে আর কোন সম্পর্কই নেই তাদের সঙ্গে ভদ্রতার খাতির দেখানোর কোন মানে হয়না।
বাসার পাশে মালির জন্য বানানো কোয়ার্টারে গিয়ে সামির রফিকের কাছ থেকে চাবি নিয়ে আসার সময় দেখলো সামনের ঝোপে একটা বস্তা পরে আছে। সামনে গিয়ে টের পেল ওটা রিশা। ওর চারপাশের পুরো জায়গা রক্তে ভিজে গেছে। সামিরের মাথায় কেবল ঘুরতে লাগলো, মানুষের শরীরে এত রক্ত হয়??
..
দুই বছর পর…
..
– হ্যালো সামির, তুমি কি আজকে একটু আমার এখানে আসতে পারবে?
– স্যরি নিশা, আজকে পারছি না।
নিশা হালকা হেসে বললো,
– কেন, তোমার বউ আসতে দেবে না?
– যদি আসতে দিতে না চাইতো তাহলেই হয়তো বেশি খুশি হতাম।
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার বললো,
– তুমি তো জানোই ও একা একা কিছুই করতে পারে না। সবসময় ভয়ের মধ্যে থাকি আবার কি দুর্ঘটনা ঘটে যায়।
– আসলে আমি তোমাদেরকে একটা উপহার দিতে চেয়েছিলাম। এখন আসতে পারছ না যখন, তখন মুখেই বলে দেই, হ্যাপি ম্যারিজ অ্যানিভার্সারি। রিশাকে আমার পক্ষ থেকে উইশটা জানিয়ে দিও।
– হুম, বলব। বুঝতে পারবে কিনা জানিনা, তবু বলব।
..
..
কথা শেষ করে সামির রিশার ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকাল, খুব পবিত্র লাগছে রিশাকে। সামিরের খুব কষ্ট হচ্ছে। সামিরকে বলা ওর শেষ কথাটা ছিল, আই লাভ ইউ। এটাই হয়তো ওর জীবনের শেষ কথা হয়ে থাকবে। ডাক্তার তো বলেই দিয়েছে, ও আর কখনো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে না।
কি অদ্ভুত! এত অপমানের পরও বাবা মায়ের সঙ্গে শেষবারের মত দেখা করে এসে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে চাওয়ার সময় সে নিজের স্বামীর বাসাটাকেই শেষ ঠিকানা ভেবে নিয়েছিল।
.
সামির আস্তে করে বললো,
– মানুষের জীবনটা সত্যিই গল্পের চেয়ে বেশি কিছু। একদিন বাবা মাকে বলেও নিশাকে পাইনি, এখন তারা বারবার বলার পরও আমি আর নিশা কেউই বিয়ে করতে রাজি না। একসময় তুমি আমাকে চেয়েও পাওনি, আর এখন আমি লক্ষবার চেয়েও তোমাকে পাইনা।
.
বলতে বলতে সামিরের চোখে পানি চলে এলো। এই অভাগা চোখ এত অশ্রু কোত্থেকে পায় কে জানে! সামির চোখ মুছে ফেললো, ছেলেদের কাউকে চোখের পানি দেখাতে নেই।

ফুটপ্রিন্ট লেখক লগিন