মঙ্গলে ভবিষ্যৎ সভ্যতার পরিকল্পনাকারী এলন মাস্ক

Now Reading
মঙ্গলে ভবিষ্যৎ সভ্যতার পরিকল্পনাকারী এলন মাস্ক

২০ বছর আগে কেউ যদি বলত যে মঙ্গলে সভ্যতার গোড়াপত্তন করতে চায় তাহলে সেটা নিতান্তই হাস্যকর হিসেবে গন্য হত ,কারন তখন সেটা অসম্ভব ছিল। এমনকি আজো অনেকের মানুষের চাদে বা অন্য কোন গ্রহে যাওয়ার সিদ্ধান্তে একটা প্রশ্নবোধক চাহুনি ছুড়ে দেয়। টেসলা, স্পেস এক্স এবং নিউরোলিংক এর মত নামী কোম্পানির চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার এলন মাস্ক সেই প্রশ্নবোধক চাহুনি ছুড়ে দেয়া মানুষগুলোকে ভুল প্রমান করে বিশ্বকে এটা দেখিতে দিতে চান যে অন্য গ্রহে মানুষের মাইগ্রেশন মানব সভ্যতার বিস্ফোরনকে বাচাতে পারবে।

যদি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় তাহলে পৃথিবী এবং মানব সত্যতা , দুটোই বিলীন হতে যাবে। মঙ্গল কে প্রস্তাবিত ব্যাক আপ প্ল্যান হিসেবে ধরে রাখা হচ্ছে সেই সময়ের জন্য যখন আমাদের পৃথিবী আর বসবার যোগ্য থাকবে না। এলন মাস্ক ইতিমধ্যে তার মিশন শুরু করেছেন এবং জনসমক্ষে তার এই মিশনের বাসবায়নের পক্ষে প্রতিটি পদক্ষেপ শেয়ার করছেন। আসুন , এই মঙ্গলে ভবিষ্যৎ সভ্যতার কিছু ব্যপারে জানি।

 “মিশন টু মারস” এর ঘোষনা

২০১৬ এর সেপ্টেম্বরে, এলন মাস্ক প্রথম ঘোষনা দেন যে তিনি মঙ্গলকে মানুষের বসবাসের জন্য গ্রহনযোগ্য করে তুলতে চান। তিনি মানব সভ্যতাকে interplanetary species বা আন্তগ্রহ প্রজাতি হিসেবে দেখতে চান এবং সেই লক্ষ্যে লাল মাটির গ্রহ মঙ্গলকে তিনি বেছে নিয়েছেন। এই স্বপ্ন পুরনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে অর্থনৈতিক বিষয়।  অস্ট্রেলিয়ার এডিলেইড এ অনুষ্ঠিত হওয়া ইন্টারন্যাশনাল এস্ট্রোনটিক্যাল কংগ্রেসে তিনি পুরো পরিকল্পনার কথা জানান।

মিশন টু মারস এর প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় একটু পরিবর্তন এসেছে সেটা হলো যাত্রা সময় কয়েকবছর পিছিয়েছে এবং রকেটের আকার ছোট হয়েছে। এলন মাস্ক এখনো পরিষ্কার করেননি তিনি কিভাবে এই বিশাল খরচ বহন করবেন কিন্তু এখন সফল এবং দুরদৃষ্টিসম্পন্ন স্বনির্ভর উদ্দোক্তা এর মত তিনি উপস্থিত সবাইকে রকেট তৈরী খাতে বিনিয়োগের জন্য আহ্বান করেছেন।২০২২ সালে প্রথম যাত্রা শুরু হবার কথা এবং পরবর্তী যাত্রা হবার কথা আছে ২০২৪  সালে।

 

 বি এফ আর

[youtube https://www.youtube.com/watch?v=UAkmP00QPJg]

BFR হলো Falcon 9, Falcon Heavy এর উন্নত ভার্সন যা মিশনের খরচ অনেকাংশে কমিয়ে দিচ্ছে ।এটি মঙ্গলের গরম বায়ুমন্ডলে প্রতি সেকেন্ডে ৭.৫ কিলোমিটার গতিতে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে এবং সেই গরম কে প্রতিহত করতে পারবে। এর যাত্রাপথ হবে পৃথিবী – চাঁদ -মঙ্গল এবং এটি সকল প্রকার সৌড় ঝড় প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুত।

এই মহাকাশ যান একের অধিকবার ব্যাবহার করা যাবে  এর মহাকাশে আজ পর্যন্ত ভ্রমনকৃত সকল মহাকাশ যানের চেয়ে এর খরচ কম। একসাথে এতে ১০ যাত্রী উঠতে পারবে। এছাড়াও এটি ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন এ পন্য আদান প্রদান, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ, গ্রহের ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার সহ নানা কাজ করতে পারবে। আমরা হয়ত ভবিষ্যতে কমার্শিয়াল ফ্লাইট এর পরিবর্তে BFR এর ব্যাবহার দেখতে পারি।

বিবিধ

BFR এর উন্নয়ন খরচ ধরা হয়ে প্রায় ১০ বিলিয়ন ইউএস ডলার। মঙ্গলে স্বনির্ভর সভ্যতা গড়ে তোলার জন্য মানুষ্য বাহিত প্রায় ১০০০০ ফ্লাইট এর কথা ভাবা হচ্ছে। এই বিশাল পরিমান খরচ স্পেস-এক্স এর পক্ষে একা বহন করা সম্ভব না তাই তারা বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে এবং সব কিছু ঠিক থাকলে ২০৬০ সাল নাগাদ মঙ্গলে মঙ্গলে প্রথম মানব সভ্যতা পরিপুর্ন ভাবে গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়েছে।

 

আপনিও যদি নিজের পরবর্তী আবাস মঙ্গলে দেখতে চান, যদি চান নিজেকে সেই ভাগ্যবান ১ লক্ষ মঙ্গলবাসীর মধ্যে দেখতে, এখন থেকেই সঞ্চ্য শুরু করে দিন।

ইন্টারস্টেলার বিশ্লেষণ (শেষ পর্ব)

Now Reading
ইন্টারস্টেলার বিশ্লেষণ (শেষ পর্ব)

এই পর্ব পড়ার আগে ইন্টারস্টেলার বিশ্লেষণ পর্ব ১ ও ২ পড়া থাকতে হবে।

শুরু করি তৃতীয় পর্ব।

তারা ম্যান’স প্লেনেট এ গিয়ে ম্যান কে জাগিয়ে তুলল, সে এই গ্রহের আবহাওয়া বোঝাতে লাগলো তাদের। বলতে লাগলো এখানে ৬ মাস দিন, ৬ মাস রাত থাকে। প্রয়োজনীয় অক্সিজেন আছে। কিন্তু এক পর্যায়ে কুপার বুঝতে পারে এ সব মিথ্যা। ম্যান একা একা এই গ্রহে মারা যাওয়ার সাহস পায়নি, তাই সে সিগনাল দিয়েছিলো নিজে বাচার জন্য, সে কুপার দের একটা শিপ নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে মারা পড়লো.. কুপার রা হারালো আরো কিছু সময়।

শিপে ফিরে গেলো তারা, এর মধ্যে তারা দেখলো মার্ফ এর মেসেজ এসেছে।

ড. ব্রান্ড হাসপাতাল এ অসুস্থ হয়ে মারা গেছে। এমিলিয়া মেসেজ পেয়ে কাদতে কাদতে যেই মেসেজ বক্স বন্ধ করতে যাচ্ছিলো, তখন মার্ফ বলল, তুমি কি জানতে? এমিলিয়া? তুমি জানতে সব মিথ্যা? তোমার বাবা কোনোদিন চতুর্থ মাত্রার সমীকরণ সমাধান করার চেষ্টা করেনি। সে জানতো না কিভাবে করতে হবে? সে মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছে, আর তোমরা পৃথিবীতে আমাদের কে মারা যাওয়ার জন্য ফেলে রেখে চলে গেছো.. তোমরা ভ্রুন নিয়ে গেছো নতুন মানবজাতি জন্ম দেয়ার জন্য, আমাদের কে বাচানোর কোনো উদ্দেশ্য তোমাদের ছিলোনা। আমার বাবা কি জানতো? Did he abandon me? I just want to know this.. Did my father abandon me?

কিন্তু ততক্ষনে তাদের যোগাযোগ মাধ্যম একপক্ষীয় হয়ে গিয়েছিলো। পৃথিবী থেকে মেসেজ আসছিলো কিন্তু মহাকাশ থেকে মেসেজ যাচ্ছিলো না। কুপার এবং এমিলি মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লো.. তাদের কে মিথ্যা আশ্বাস দেয়া হয়েছিলো যে পৃথিবীর মানুষ কে বাঁচানো যাবে..

আসলে ড. ব্রান্ড এর শুধু একটা প্ল্যান ই ছিলো, ভ্রুন গুলো অন্য গ্রহে স্থাপন করে মানবজাতি টিকিয়ে রাখা। পৃথিবীর মানুষ দের বাচানো নয়..

মার্ফ হাল ছাড়েনা, সে চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে। সে তার বয়ফ্রেন্ড কে নিয়ে তার পুরানা বাসায় ফিরে যায়,যেখানে ছোটবেলায় সে থাকতো, যে রুমের বুকশেলফ এ কেউ তাকে মোর্সকোড এর মাধ্যমে কথা বলতো। মার্ফ একটা আশা নিয়ে যায়,তার রুমের সেউ ভুত যদি তাকে কোনো সমাধান দেয়? কুপার রাও এডমুন্ড গ্রহ পায় যা মানুবজাতির বসবাস যোগ্য। তারা ব্ল্যাকহোল এর চারিদিকে পরিভ্রমন করে এডমুন্ড গ্রহে পৌছাতে হবে,কিন্তু ব্ল্যাকহোল তাদের শিপের ভর অনেক বেশী হয়াতে তাদের টানতে থাকে এবং তাদের গতি কমে যেতে থাকে, তখন কুপার সিদ্ধান্ত নেয় তার যা হারানোর হারিয়ে গেছে সে এখন রিস্ক নিয়ে হলেও সিংগুলারিটির সমাধান ব্ল্যাকহোল থেকে সংগ্রহ করবে। সে তার শিপ টি এমিলিয়ার শিপ থেকে ডিটাচ করে ফেলে। কুপার জানে ব্ল্যাকহোল এর যাত্রা তার কাছ থেকে পৃথিবীর হিসাবে ৫১ বছর নিয়ে নিবে, তা জেনেও কুপার ব্ল্যাকহোল এ পরে যায় এবং এমিলিয়ার শিপ এডমুন্ড গ্রহের দিকে যাত্রা করে……..

ব্ল্যাকহোল এ পরার সময় কুপার তার শিপ থেকে ইজেক্ট হয়ে যায় এবং ইনফিনিটি গর্রতে পড়তে থাকে.. তার মনে হচ্ছিলো সে মারা যাচ্ছে, এটা কি আফটারলাইফ? সে প্রশ্ন করতে থাকে নিজেকে..

তার সাথে তার সংগি রোবট টারস ও ব্ল্যাকহোল এ পরে গেছে.. কুপার চারিদিক তাকায় বোঝার চেষ্টা করে সে কি দেখছে? কোনো শেষ প্রান্ত নেই, সে হঠাত লক্ষ্য করে এখানে অসীম সংখ্যার বই স্তরে স্তরে সাজানো.. অনেক অনেক বই, বই এর মধ্য দিয়ে সে হাওয়ায় হাওয়ায় ভেসে বেড়াতে পারছে.. হঠাত কুপার একটি বইয়ের ফাকে মার্ফ কে দেখতে পায়,সেই ছোট্ট মার্ফ.. কুপার চিতকার করে ডাকতে থাকে.. মার্ফ তার ডাক শোনেনা..;

কুপার চিতকার করতে করতে কয়েকটা বই ধাক্কা দেয়,শেল্ফ থেকে পরে যায় বইগুলো.. মার্ফ অবাক হয়ে পেছন ফিরে তাকায়

কুপার ও অবাক!! এই ছোট্ট মার্ফ কে সে বুকশেলফ এর মধ্য দিয়ে কিভাবে দেখছে? কিছুক্ষন এর মধ্যে কুপারের আর বুঝতে বাকি রইলো না সে ৫ম ডাইমেনশন এর মধ্যে আটকা পরে আছে, যা হচ্ছে “সময়”। কে বা কারা সময় কে ফিসিক্যাল রুপ দিয়েছে, আর তা করার জন্য তারা ব্যাবহার করেছে মার্ফ এর রুম টিকে। মার্ফ এর রুমের অসংখ্য ইনফিনিটি মুহুর্ত কে এক করেছে ব্ল্যাকহোল এর ভেতরে। যেখানে কুপার ভেসে বেড়াচ্ছে মার্ফ এর অতীত থেকে বর্তমানের প্রতিটি মুহুর্তে..

এদিকে মার্ফ তার রুমে এসে দাড়িয়ে আছে,তার রুমের সেই ভুত কি তাকে গ্র‍্যাভিটি এর সমাধান দিবে? কিন্তু ইতিমধ্যে গ্র‍্যাভিটি এর সমাধান কুপারের হাতে,কারন সে অলরেডি ৫ম ডাইমেনশন এ আছে, চতুর্থ ডাইমেনশন তার কাছে এখন মোর্সকোড মাত্র। কিন্তু কুপার মার্ফ কে সেই তথ্য কিভাবে পাঠাবে?

হ্যা তার এই ইনফিনিটি ফিসিক্যাল টাইম ডাইমেনশন এর মধ্যে সঠিক মুহুর্ত টা খুজে বের করতে হবে.. মনে আছে কুপার মার্ফ কে একটি ঘড়ি দিয়েছিলো? সেই ঘড়ি ই হতে পারে তাদের সমীকরণ আদান প্রদান এর মাধ্যম। মার্ফ তার রুমে দাড়িয়ে আছে, ঘড়িটি শেল্ফ এ রাখা, হঠাত মার্ফ দেখলো তার ঘড়ির কাটা কোনো একটি মোর্সকোড দেখাচ্ছে.. মার্ফ চিতকার করে উঠলো.. চিতকার করে বলতে লাগলো ” Dad didn’t abandon us!! He saved us!! he was my ghost!! all this time!! he was my ghost!! ” মার্ফ গ্র‍্যাভিটি এর সমীকরণ পেয়ে গেলো। তারপর?? কুপারের কি হলো? যে বা যারা এই ৫ম ডাইমেনশন টি শুধু কুপারের জন্য তৈরী করেছিলো তারা এর ফিসিক্যাল রুপের কাজ শেষ হয়ার পর সব ধ্বংস করে ফেলল, এবং একটি মহাকাশ স্ট্যাশন কুপার কে পেলো। স্ট্যাশন এর নাম ছিলো ” কুপার স্ট্যাশন ” নামকরণ হয়েছে মার্ফ কুপার এর নামে, কারন সে চতুর্থ মাত্রার সমীকরণ সমাধান করেছিলো।

কুপার কে স্ট্যাশন এর তারা জানালো মার্ফ বারবার বলতো সমীকরণ টি সে তার বাবার কাছে পেয়েছে, কিন্তু কেউ বিশ্বাস করেনি.. কুপার তাকিয়ে আছে লোকটির দিকে! কত বছর পার হয়েছে পৃথিবীতে? -৯০ বছর।

মার্ফ? সে কি বেচে আছে?

হ্যা, সে হিমাগারে থেকে অপেক্ষা করেছে আপনার জন্য, সে বলত আপনি তাকে প্রমিস করেছিলেন আপনি ফিরে আসবেন..

কুপার মার্ফ কে দেখতে গেলো.. মার্ফ মৃত্যু পথ যাত্রী। থুরথুরে বুড়ি, কুপার ৩৩ বছরের যুবক।

মার্ফ এর হাতে তার বাবার দেয়া ঘড়িটি। মার্ফ কাদতে লাগলো, “বাবা আমি জানতাম তুমি আসবে.. কিন্তু সন্তানের মৃত্যু কোনো বাবার দেখা উচিত না,তুমি চলে যাও.. –

Cooper- কোথায় যাবো আমি?

Murf- ব্রান্ড এর কাছে, যে একা কোনো এক নির্জন গ্রহে বসতি গড়ছে..”

মানববসতি আবার নতুন করে যাত্রা করছে। স্পেস স্ট্যাশনে গ্র‍্যাভিটি বলতে কিছু নেই, বাড়িঘর গুলো বৃত্তাকারে বানানো, ঠিক যেভাবে তারা কল্পনা করেছিলো।

ইন্টারস্টেলার মুভিটা শুধু সায়েন্স ফিকশন না, এটি মানবিক।

বাবা-মেয়ের মধ্যে যে সুন্দর সম্পর্ক টা দেখিয়েছে তা বলার বাহিরে, ঠিক যে সময় কুপার গ্র‍্যাভিটি এর মোর্সকোড পেয়েছে ঠিক তখন ই মার্ফ তার সেই রুমে উপস্থিত হয়েছে, কারন তাদের বন্ডিং।

মুভিটি নিয়ে আমি একবার ক্লাসে লেকচার দিয়েছিলাম, হাতে কলমে বোঝাতে পাড়লে হয়তো আরো মজার কিছু ইনফরমেশন দিতে পারতাম। এরকম মুভি শুধু এন্টারটেইনমেন্ট ই নয়, অনেক বেশী কিছু শেখা যায় এসব মুভি থেকে। এবং মুভিটি পুরোপুরি ফ্যামিলি মুভি।

IMDB রেটিং : ৮.৬/১০

আমার রেটিং: ১০/১০

অতিমাত্রায় ভক্ত আমি এই মুভিটির। সামনে আরো মুভি নিয়ে আলোচনা করতে চাই, পাঠক যদি নির্দিষ্ট কোনো মুভি নিয়ে আলোচনা করার জন্য রিকুয়েস্ট করেন, অবশ্যই চেষ্টা করবো ইনশাল্লাহ।

ইন্টারস্টেলার বিশ্লেষণ (পর্ব ২)

Now Reading
ইন্টারস্টেলার বিশ্লেষণ (পর্ব ২)

আজকে আলোচনা হবে ইন্টারস্টেলার বিশ্লেষণ পর্ব ২ যারা ১ পড়েন নি তারা ট্র‍্যাক রাখতে পারবেন না, তাই এটা পড়ার আগে ১ পরে আসুন।

 

কুপার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে রেস্কিউ মিশন এ যাওয়ার।

নাসা বেসে কুপার কে বোঝায় তারা চতুর্থ মাত্রা (ডাইমেনশন) নিয়ে কাজ করছে যা হচ্ছে গ্র‍্যাভিটি। কিন্তু পৃথিবী যেভাবে বিষাক্ত হয়ে যাচ্ছে তাতে করে পৃথিবীতে এর বাস্তবায়ন সম্ভব না। মুভিতে দেখিয়েছে অভিকর্ষজ ত্বরন যদি মানুষ সলভ করে ফেলতে পারে তাহলে একটা গ্রহের পুরো ভূপৃষ্ঠ জুড়ে মানুষ থাকতে পারবে। রাস্তা বাড়ি গাড়ি শুধু সমান ভাবে থাকতে হবেনা, তা হতে পারে গোলাকৃতির, এভাবেই কুপার কে বোঝালো নাসা বেসে। এবং সেখানের জন ব্রান্ড তাকে আরো জানায় ১০ বছর আগে ১২ জন স্বেচ্ছাসেবন বিজ্ঞানী ১২ টি আলাদা শিপে করে ওয়ার্মহোল এ যাত্রা করে ১২ টি গ্রহ খোজার সুইসাইড মিশনে যায়। কিন্তু তাদের মধ্যে শুধু ৩ টি গ্রহ থেকে তারা সিগনাল পাঠায় যে ৩ টি গ্রহ প্রানী বসবাসের জন্য যোগ্য। সেই ৩ জন বিজ্ঞানী হলেন মিলার,ম্যান,এডমন্ড। কিন্তু এই মুহুর্তে যাত্রা করার জন্য তাদের কুপারের মত দক্ষ পাইলট লাগবে এবং শুধু মাত্র কুপার রাজী হলেই তাদের রকেট ছেড়ে যাবে। তারা কুপার এর উত্তর এর অপেক্ষা করছে

 

এই রেস্কিউ মিশন এর ২ টি প্ল্যান ছিলো। প্ল্যান A হলো তারা এমন একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ স্পেস স্ট্যাশন বানাবে,যেখানে তারা পৃথিবীর প্রায় সব মানুষ নিয়ে যাবে,কিন্তু এই প্ল্যান A সম্পুর্ন করতে তাদের গ্র‍্যাভিটি এর ইকুয়েশন সলভ করতে হবে যা ইতিমধ্যে ড. ব্রান্ড বলেছেন তিনি এগিয়ে গেছেন অনেকটা। আর প্ল্যান B হচ্ছে ওই ৩ টি গ্রহের মধ্যে মানব বসতি স্থাপন করতে হবে,এতে করে তারা যাত্রা করার সময় হিমায়িত কিছু ভ্রুন সংগে করে নিয়ে যাবে। কুপার কে ড. ব্রান্ড নিশ্চিত করলো তোমার সন্তান দের প্রজন্মের জন্য এই পৃথিবীতে আর কিছু নেই..

 

 

কুপার মহাকাশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো,মার্ফ প্রচন্ড রকম আপসেট। সে চাচ্ছেনা তার বাবা তাকে ছেড়ে যাক। মার্ফ দরজা বন্ধ করে বসে আছে তার রুমে। একা একা। হঠাত সে আবার লক্ষ্য করলো তার বুকশেলফ এর বইগুলো আবার সুবিন্যস্ত ভাবে একটা একটা করে পরে যাচ্ছে, এবার মার্ফ বই থেকে মোর্সকোড বের করা শুরু করলো, ঠিক যেভাবে তার বাবা বালুরেখা থেকে মোর্সকোড বের করেছিলো। মোর্সকোড দিয়ে মার্ফ খাতায় লিখলো, উত্তর আসলো : STAY. মার্ফ চিতকার করে কুপার কে বলতে লাগলো, মার্ফ এর রুমের ভুত টা তাকে সতর্ক করছে যেনো কুপার না যায়। কুপার শুনলো না, সে মার্ফ কে একটা ঘড়ি দিলো। দিয়ে বলল, মার্ফ তোমার বয়স এখন ১০ বছর, আমার ৩৩. আমি শুনেছি অনেক গ্রহে নাকি সময় পৃথিবীর চেয়ে অনেক দ্রুত যায়,আচ্ছা এমন ও তো হতে পারে, যখন আমি ফিরে আসবো তখন তোমার আর আমার বয়স সমান থাকবে? মার্ফ চুপ করে রইল। সে মানতে চায়না। তার বাবা চলে যাচ্ছে আর কোনো দিন আসবে কিনা সে জানেনা.. আর কে বা কারা থাকে বুকশেলফ এর মাধ্যমে মোর্সকোড পাঠাচ্ছে? মার্ফ জানেনা। মার্ফ কিচ্ছু জানেনা।

 

যাওয়ার আগে এমিলিয়া ব্রান্ড যে কুপার এর মহাকাশ যাত্রায় সংগি হচ্ছে সে মার্ফ একটি টেপ রেকর্ড করার ক্যাসেট দিয়ে যায়, যার মাধ্যমে পৃথিবী থেকে মহাকাশে তারা যোগাযোগ করতে পারবে। টম টেপ টি নিয়ে যায়। মার্ফ কে কোথাও দেখা যায়না। চলে যায় কুপার।

 

২ বছর তারা ক্রায়োস্লিপ এ থাকার পর ঘুম থেকে ওঠে মেসেজ গুলো চেক করে, সে দেখে টম কথা বলছে,কিন্তু মার্ফ কে সে দেখতে পায়না..

তারা তাদের প্রথম মিশনে যায়, মিলারস প্লেনেট এ। যেখানে নামার সময় এমিলিয়া ফিল করে কোনো একটি হাত যেনো তাকে স্পর্শ করে গেলো। মিলারস প্লেনেট এর ১ ঘন্টা পৃথিবীর হিসাবে ৭ বছর। মিলারস প্লেনেটের গ্র‍্যাভিটি অতিমাত্রায় বেশী হয়ায় সময় খুব আস্তে ভ্রমন করে, কিন্তু এখানে ১ ঘন্টা যেতে যেতে পৃথিবীতে ৭ বছর অতিক্রান্ত হয়ে যায়।

দুর্ঘটনা বসত তারা মিলারস প্লেনেট এ ৩.২৪ ঘন্টা প্রায় পার করে ফেলে। শিপে ফিরে এসে তারা দেখে ২৩ বছর পার হয়ে গেছে.. সবাই হতভম্ব।

পৃথিবীতে এখন ২০৯০ সাল???? ভাবা যায়না।

কুপার দ্রুত এসে ভিডিও মেসেজ অন করে,সে দেখে টম বিয়ে করেছে, তার ছোট বাচ্চা হয়েছে, তার ফাদার ইন ল মারা গেছে.. কত পরিবর্তন!!! সে মেসেজ বক্স টি বন্ধ করতে নেয়,তখন ই সে দেখে মার্ফ কে.. মার্ফ…!! সে তরুনী!!

মার্ফ এর জন্মদিন আজকে,সে তার বাবাকে বলছে, বাবা আমার বয়স আজকে ৩৩। তোমার মনে আছে তুমি বলেছিলে তুমি যেদিন ফিরে আসবে সেদিন হয়তো আমাদের ২ জনের বয়স সমান হবে। তো, আমার মনে হয় আজকে ফিরে আসার জন্য খুব ভালো সময়, তাইনা বাবা???

 

কুপার শক্ত হয়ে বসে আছে চেয়ারে। তার আর তার মেয়ের বয়স আজকে সমান। কুপার হোমে ফিরে যেতে চায়..শিপে আর যা কিছু আছে তা নিয়েই.. সে চিতকার করতে লাগলো.. সে বলল সময় কি পেছানো যায়না? এই ২৩ বছর হারিয়ে ফেলা সময় কি ফিরে পাওয়া যায়না?

এমিলিয়া ব্র‍্যান্ড তাকে বাধা দেয়। ফিরে গেলে চলবে না.. সময় বাকানো যায়, স্কুইজ করা যায়,সময় এর পাশ কেটে তার ফলাফল পরিবর্তন করা যায়,কিন্তু সময় পেছানো যাবেনা। বাকি প্ল্যানেট ২ টা আমাদের খোজ করতে হবে, প্রানের খোজ করতে হবে আমাদের.. এদিকে পৃথিবীতে ড. ব্রান্ড চতুর্থ মাত্রার সমীকরণ সমাধান এর চেষ্টা করছে,তাকে সাহায্য করছে মার্ফ। কিছুতেই তারা সমাধান করতে পারছেনা। কুপার রওনা হচ্ছে দ্বিতীয় গ্রহের উদ্দেশ্যে। ম্যান’স প্লেনেট, এই গ্রহ থেকেও সিগনাল এসেছে। এখানে প্রানের চিহ্ন আছে। প্রান খুজতে হবে।

 

বাকি অংশ আলোচনা হবে তৃতীয় পর্বে।

 

.

 

 

ইন্টারস্টেলার বিশ্লেষণ (পর্ব ১)

Now Reading
ইন্টারস্টেলার বিশ্লেষণ (পর্ব ১)

ইন্টারস্টেলার এমন এক মুভির নাম, যা বানাতে গিয়ে ৩ জন বিজ্ঞানী মহাকাশ নিয়ে গবেষনা করেন এবং মুভিতে যা যা দেখানো হয়েছে তার প্রায় ৯৫% বৈজ্ঞানিক ভাবে এবং থিওরিটিকাল ভাবে প্রুভ করা। বিশেষ করে সাইন্স এর স্টুডেন্টস দের জন্য এটি একটি ভালো লেসন, যা টাইম ট্রাভেলিং, থিওরি অব রিলেটিভিটি, ডাইমেনশন, প্যারালাল ইউনিভার্স, সিংগুলারিটি এবং মহাকাশ এর অন্যান্য বিষয় নিয়ে যথেষ্ট জ্ঞান দিতে সক্ষম। এই মুভি দেখার পর অনেকেই বলে ভালো লাগেনাই, এর মধ্যে প্রধান একটা কারন মুভিটি সঠিক ভাবে না বোঝা। মুভিটি যদি কেউ পুরোপুরি বুঝতে পারে & হিসেব গুলো মিলাতে পারে, তবে অবশ্যই এটি আনন্দ লাগবে।

এই মিশনে তাদের “Murphy’s law” মাথায় রাখতে হবে।

ল’ টি হচ্ছে “whatever can go wrong, will go wrong” অর্থাৎ যা কিছু পেচ লাগার সম্ভাবনা আছে তা পেচ লাগবেই,..

কথায় আছেনা আমরা কোনো বান্ডেল এর মধ্যে প্রয়োজন এর একটা কাগজ খোজার জন্য বান্ডেল এর ওপর থেকে খোজা শুরু করলে কাগজ টা থাকে ঠিক নিচে, আর নিচে থেকে খোজলে কাগজ টা থাকে ঠিক ওপরে..

আবার রাস্তায় যে সাইড দিয়ে আমরা যাই ওই সাইড এই খালি জ্যাম টা থাকে,অন্য সাইড কেনো ফাকা?

এই অদ্ভুত পরিস্থিতি ই হচ্ছে মারফি’স ল’। এই অবস্থায় মুভিতে মোট ৫ টি ডাইমেনশন দেখানো হয়েছে, এর মধ্যে ৩ টির সাথে আমরা পরিচিত। তা হলো দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতা..

চতুর্থ ডাইমেনশন এখানে দেখানো হয়েছে গ্র‍্যাভিটি অর্থাৎ অভিকর্ষজ ত্বরন এবং পঞ্চম দেখানো হয়েছে সময়। বিস্তারিত আলোচনা হবে দ্বিতীয় পর্বে।

এখন প্রথম পর্ব শুরু করি,

পৃথিবী ময়লা আবর্জনাপূর্ণ। প্রাকৃতিক দূর্যোগ,খরা,বালুঝড় ইত্যাদি ঘিরে ফেলেছে পৃথিবী কে.. মানবজাতির অস্ত্বিত্ত হুমকির মুখে। শুধু একটি পথ ই খোলা আছে এই হুমকির মুখ থেকে মানব জাতিকে রক্ষা করার… ইন্টারস্টেলার ট্রাভেল।

অর্থাৎ সৌরজগৎ ভ্রমন। নতুন একটি ওয়ার্মহোল আবিষ্কৃত হয়েছে,যার মধ্য দিয়ে মানুষ হয়তো নতুন কোনো গ্রহের সন্ধান পেতে পারে যেখানে মানুষ নতুন করে আবার জীবন শুরু করতে পারবে,আবার বুক ভরে শ্বাস নিতে পারবে ফসল ফলাতে পারবে। পৃথিবী ধ্বংসের মুখে। এই পৃথিবীতে ইঞ্জিনিয়ার এর কোনো মূল্য নেই, মূল্য আছে কৃষক এর, যে কিনা এক আনি ফসল ফলাতে পারবে.. বিষাক্ত এই পৃথিবীতে ধুলিঝর গ্রাস করে ফেলছে সব ফসল, দুর্ভিক্ষ হানা দিচ্ছে পৃথিবীতে.. এমন ই এক বিষাক্ত পৃথিবীতে বাস করে কুপার, তার একমাত্র ১০ বছরের মেয়ে মার্ফ এবং তার ছেলে টম কে নিয়ে। তাদের সাথে আছে কুপার এর ফাদার ইন ল।

একদিন সকালে মার্ফ ঘুম থেকে উঠে দেখলা তার বুক শেল্ফ এর বইগুলো মাটিতে পরে আছে। সব বই না, কিছু কিছু বই.. কেউ যেনো সতর্ক ভাবে বেছে বেছে তার সেল্ফ থেকে কয়েকটা বই ফেলে দিয়েছে.. মার্ফ বই গুলো উঠিয়ে রাখলো… ভুলে গেলো সেদিনের কথা। পরের দিন সকালে উঠে দেখে এক ই কান্ড, সেল্ফের বই গুলো মাটিতে পরে আছে। সে বুঝতে পারছে না ঘটনা কি। মার্ফ কুপার কে ডাকলো,ডেকে বলল সব কিছু.. কুপার বিশ্বাস করলো না,বলল হয়তো বা বাতাসে পড়ে গেছে বই। কিন্তু ঘটনা এখানেই থামলো না। একদিন মারাত্মক ধুলিঝর এ তাদের সারাঘর ধুলোয় ভরে গেলো। মার্ফ এবং কুপার মার্ফ এর রুমে গিয়ে অবাক হয়ে দেখলা রুমের এক কোনায় বালু গুলো আলাদা আলাদা গুচ্ছো আকারে পরছে, যেনো কেউ বালু গুলো কোথায় পড়বে তা সুবিন্যস্ত ভাবে সাজিয়ে রেখেছে.. মার্ফ কুপার কে বিজয়ীর ভংগিতে বলল, দেখলেতো? বললাম না আমার রুমে ভূত আছে?

কুপার একটা ছোট কয়েন এনে সুবিন্যস্ত বালুর দিকে লক্ষ্য করে সোজা ছুড়ে মারলো, সে দেখলো  যে অংশ টাতে বালু নেই সেদিক থেকে কয়েন টা চুম্বক এর মত সরে গিয়ে যেদিকে বালু পরছে সেদিকে গিয়ে পরলো..

কুপার হাসি দিয়ে বলল “Its not a ghost, its gravity ”

কেউ যেনো সুকৌশলে মার্ফ এর রুমের অভিকর্ষজ ত্বরন কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছিলো।

কুপার এবার এই বালুরেখার অর্থ বুঝতে বসলো, কিছুক্ষন লক্ষ্য করার পরে সে দেখতে পেলো বালুগুলো বাইনারী সংখ্যা অনুযায়ী পরছে। কুপার একটা মানচিত্র নিয়ে এর অর্থ বের করতে বসলো, সে অবাক হয়ে লক্ষ্য করলো বালুরেখাটি কোন একটি নির্দিষ্ট অক্ষরেখা & দ্রাঘিমারেখা নির্দেশ করছে.. কুপার দেরী না করে গাড়ি নিয়ে বালুরেখার গন্তব্যে রওনা হলো। অর্ধেক পথ গিয়ে সে দেখলো গাড়ির সিট এর নিচে মার্ফ লুকিয়ে আছে, তার আগ্রহের সীমা নেই। মার্ফ তার বাবার মত বাইনারী কোড এর অর্থ জানতে চায়..

গন্তব্যে পৌছে কুপার একটি নাসা(NASA) বেস দেখতে পেলো,যারা প্রস্তুতি নিচ্ছে নতুন গ্রহ খুজতে যাওয়ার জন্য এবং কুপারের পাইলট পেশনে যথেষ্ট দক্ষতা থাকায় কুপার কে তারা চাচ্ছে তাদের রকেট এর পাইলট হিসেবে রওনা দেয়ার জন্য। কুপার এর দিকে তারা ঠেলে দিলো বিশাল এক  চয়েস, হয় সে পৃথিবীতে তে থাকবে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মের ধীর মৃত্যু দেখবে, অথবা সে তার পরিবার আর কখনো না দেখার সম্ভাবনা নিয়ে সুইসাইড মিশনে পাড়ি জমাবে?

এমন এক ওয়ার্মহোল দিয়ে প্রবেশ করবে তারা যেখানে আগে কেউ যায়নি, কি আছে সেখানে?

যা আর কেউ জানেনা?

কি সিদ্ধান্ত নিবে কুপার?

মার্ফ কে কিভাবে বুঝাবে সে?

 

 

বিশ্লেষণ করবো  মুভি এর বাকি অংশ এরপরের লে