বাংলাদেশের সমর্থকঃ পজেটিভ ও নেগেটিভ

Now Reading
বাংলাদেশের সমর্থকঃ পজেটিভ ও নেগেটিভ

বাংলাদেশে আজকের দিন হিসাব করলে কমপক্ষে ১৮ কোটি মানুষের বাস। প্রতিটা দেশেই কমবেশি বিভিন্ন খেলাধুলা থাকে। অবশ্য প্রতিটা খেলাই যে দর্শকদের মন আকর্ষণ করে তা নয়। একেক শ্রেণীর মানুষ এক এক খেলার প্রতি আকৃষ্ট থাকে। আমাদের দেশে যেসব খেলাধুলার অফিশিয়াল প্রতিষ্ঠান আছে অর্থাৎ যেসব খেলার সাথে আমাদের দেশের মানুষ সম্পৃক্ত, সেগুলো হলো ক্রিকেট,ফুটবল,হকি,কাবাডি,ব্যাডমিন্টন,হ্যান্ডবল,দাবা,গল্ফ ইত্যাদি। আবার এথলেটিক্সও আছে।

তবে এর মধ্যে সব খেলায় আমাদের দেশের খেলোয়াড়েরা ভালো যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। সবগুলো খেলা আমাদের দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় না। এরমধ্যে আমাদের দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা হচ্ছে ক্রিকেট। আমাদের দেশে ক্রিকেটের দর্শক ও সমর্থকের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। কারণ আমাদের দেশের খেলোয়াড়েরা ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি দক্ষতা অর্জন করতে পেরেছে। বিগত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান দেখলেই তা বোঝা যায়। আমাদের বাংলাদেশ ক্রিকেট পাগল দেশ, এটা আমরা সবাই জানি। সারা ক্রিকেট বিশ্বই জানে যে বাংলাদেশের মানুষ কতটা ক্রিকেট পাগল। ছোট ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে কিশোর-কিশোরী,যুবক-যুবতী,এমনকি বৃদ্ধারাও এখন ক্রিকেটপ্রেমী। যদি কখনো বাংলাদেশের ক্রিকেট ম্যাচ থাকে, তো সেদিন মানুষের সব কাজ বন্ধ। সবাই এক কাতারে টিভির সামনে।

সে যত বড় কাজই হোক। অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলে সেটা যত দ্রুত সম্ভব শেষ করতেই হবে। কারণ আজ তার পছন্দের দলের খেলা। আমাদের দেশের মানুষ এতটাই ক্রিকেটপ্রেমী, যে আমাদের দেশের মানুষ যদি বিকালে অবসর সময় পায় তো ক্রিকেট খেলেই কাটায়। আমরা প্রায় সবাই আমাদের দেশকে প্রতিটা খেলায় সমর্থন করি। সেটা মিরপুরে খেলা হলেই বোঝা যায়। গ্যালারি কানায় কানায় ভরা থাকে সাকিব-তামিমদের খেলা দেখার জন্য। পুরো স্টেডিয়াম হাউজফুল হয়ে যায়। খেলার আগে টিকেটের জন্য পড়ে লম্বা লাইন। টিকেট বিক্রি করতে গিয়ে কতৃপক্ষ প্রায়ই বিভ্রান্ত হয় এটা আমরা প্রায়ই দেখি। কেউ কেউ উত্তরবঙ্গ, কেউ আবার দক্ষিণবঙ্গ থেকে খেলা দেখতে ছুটে যায় ক্রিকেটের টানে। সিলেট,বরিশাল,চট্টগ্রাম থেকেও ছুটে আসে অনেকে। লম্বা লাইনে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকে মহামূল্যবান সোনার হরিণ এর ন্যায় একটা টিকেটের জন্য। এমন অনেক সময়ই দেখা যায় যে, কেউ কেউ ভোর ৪টা কিংবা ৫টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে যাতে টিকেট ফুরাবার আগেই সংগ্রহ করতে পারে। টিকেট হাতে পেলে মনে হয় সে যেন সোনার হরিণ পেয়েছে। অনেকে টিকেট না পেয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে কালোবাজার থেকে টিকেট কেনে তার প্রিয় দলের, প্রিয় খেলোয়াড়ের খেলা দেখার জন্য। আর যারা টিকেট শেষ পর্যন্ত পায়না, আক্ষেপে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফেরে। কেউ আবার ক্ষোভও ঝাড়ে। কতটা ক্রিকেটপ্রেমী আমাদের দেশের সমর্থকরা!

আমাদের দেশের সব সমর্থকের মনোভাবই যে এক, তা মোটেও না। আমার দৃষ্টিতে আমি আমাদের দেশে তিন শ্রেণীর সমর্থক দেখতে পাই। তা হলো বুঝবান সমর্থক, অবুঝ সমর্থক আর হলো প্রেমিক সমর্থক। আগে প্রেমিক সমর্থকের ব্যাপারটা পরিষ্কার করি। প্রেমিক সমর্থক হচ্ছে তারা, যারা খেলাটা খুব একটা বেশী দেখেনা, তেমন বোঝেও না, কাওকে খুব একটা চিনেনা তবে কখনো কারো সমালোচনা করেনা এবং সবাইকে খুব ভালোবাসে। এ ধরনের সমর্থকেরা একা একা খেলা দেখেনা, তবে যখন কেউ খেলা দেখে,তার সাথে বসে খেলাটাকে বেশ উপভোগ করে। এরা খেলা দেখার সময় তেমন কথা বলেনা। অন্যান্য দর্শকেরা যখন সমালোচনায় ব্যস্ত থাকে, তখন এরা সেই সমালোচনা শুনতে থাকে এবং তা থেকে কিছু শেখার চেষ্টা করে। এবার আসি বুঝবান সমর্থকদের ব্যাপারে।

মূলত এসব সমর্থকেরা কট্টর সমর্থক হয়ে থাকে। এরা অনেক ছোটবেলা থেকে খেলা দেখে। তবে সবাই যে ছোটবেলা থেকে খেলা দেখে বলেই বুঝবান সমর্থক তা কিন্তু নয়। বুঝবান সমর্থক হতে গেলে একটা খেলার বিভিন্ন সূক্ষ্ম বিষয় গুলোতেও জ্ঞান অর্জন করতে হয়। না বুঝে কোনো ডিসিশনে যারা উল্টাপাল্টা কথাবার্তা বলা শুরু করে, তাদেরকে আর যাই হোক, বুঝবান সমর্থক বলা যায়না। একটা সমর্থককে তখনই বুঝবান বলা হয়, যখন সে তার প্রিয় দলের যেকোনো ডিসিশনকে সম্মান করে।

দলের যেকোনো বিপর্যয়ে ধৈর্য ধারণ করে। দলের বিপর্যয়ে কখনো দল সম্পর্কে আজেবাজে কথা বলেনা। এরা খেলাটাকে বিশ্লেষণ করতে জানে। তবে আমাদের দেশের মানুষের আবেগ একটু বেশিই। আমাদের দেশে কিছু সমর্থক আছে যারা স্রোতে গা ভাসানোর মতো সমর্থন করে। অর্থাৎ দল ভালো খেললে প্রশংসায় ভাসায়,আর দল একটু খারাপ করলেই সমালোচনা করতে তাদের এক মুহূর্ত সময় লাগেনা। কিছু সমর্থক বলব না, ম্যাক্সিমাম বাংলাদেশী সমর্থকদেরকেই এরকম আচরণ করতে দেখা যায়। এরা দল ভালো করলে,দলের কোনো খেলোয়াড় ভালো করলে তাকে নিয়ে যায় সর্বোচ্চ উচ্চতায়। মনে করেন,সাব্বির বা সৌম্যের মতো উদীয়মান তারকারা একটা সেঞ্চুরি হাঁকালেই তাকে রিকি পন্টিং বা টেন্ডুলকারের কাতারে পাঠাতে খুব একটা বেশি সময় নেয় না। আবার যারাই গতদিন এরকম পারফর্ম করেছিলো, তারাই যদি কোনো পারফর্ম করতে না পারে তাহলে তাদের নিয়ে উল্টাপাল্টা কথা বলতে তাদের একটুও বাঁধেনা। তাদেরকে পাড়ার খেলোয়াড় বানিয়ে দেয়। পরের ম্যাচে তাদেরকে একাদশে দেখলেই দল নির্বাচককে গালি দেওয়া শুরু করে। তখন বলে, সোম্যকে বা সাব্বিরকে কেনো দলে নেয়?

তাদের চিন্তাধারা এত কমে যায় যে তখন তারা ওপেনিং ব্যাটসম্যান এর জায়গায় মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যানকে জায়গা দিতে সম্মতি জানায়। একটা কথা বলি, কোনো খেলোয়াড়ই সেচ্ছায় খারাপ খেলে না। খেলাটা অত সহজ না। তারা কঠোর পরিশ্রম করে যোগ্যতা দিয়েই এ পর্যায়ে গেছে। তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালি দেওয়া নির্মম ব্যাপার। তারা দেশের জন্য ১০০% ই দেওয়ার চেষ্টা করে। আপনি ভাবুন তো, আপনি ওর পর্যায়ে কি যেতে পারছেন? পারেননি। তাহলে তো আপনি তার সমালোচনা করার যোগ্যতাই অর্জন করেননি। একটু খেয়াল করলেই দেখা যায়, বাইরের দেশের সমর্থকেরা কোনো দলের বিপর্যয়েও তাদের পাশে থাকে। প্রায় হেরে যাওয়া ম্যাচেও তার দলের কোনো খেলোয়াড় কোনো কিছু অর্জন করলে তাকে সাদুবাদ জানায়। কিন্তু আমরা কি করি? বিভিন্ন ধরনের ভুল ধরতে থাকি। টিম সিলেকশন ঠিক ছিল না, এই প্লেয়ারকে কেনো নিয়েছে, এ কিছুই খেলতে পারেনা ইত্যাদি। একটা জিনিস দেখেন, সোয়েব আলিকে নিশ্চয় চিনেন যদি আপনি সত্যিই বাংলাদেশের সমর্থক হয়ে থাকেন। সে তার সব কিছু ত্যাগ করে নিঃস্বার্থে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে সমর্থন করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ দল জিতুক বা হারুক, সে সবসময় পাশে আছে। দল জিতলে বাঘের মতো গর্জন করে দলকে উজ্জীবিত করে, হারলে তাৎক্ষণিক কেঁদে মনকে শীতল করে “এবার হবে” বলে দলকে উৎসাহ জোগায়। পৃথিবীর যে প্রান্তেই বাংলাদেশের খেলা থাকুক না কেনো, সোয়েব আলি হাজির। সমর্থক যদি হয়েই থাকেন, তো সোয়েব আলির মতো হোন। আমাদের খেলোয়াড়েরাও কিন্তু তার দেশকে ভালোবাসে,তার জান-প্রাণ উজার করে দেয় দলকে জেতাতে। তাদেরকে ভালোবাসুন। উপভোগ করুন প্রিয় দলের খেলাকে।

বিপিএল এবং আমাদের আক্ষেপ!

Now Reading
বিপিএল এবং আমাদের আক্ষেপ!

04_BPL2+1st+Semi+Final+Dhaka+vs+Sylhet+Gayle+bat+150213.jpg

 

বিপিএল আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় ক্রীড়াআসর।আইপিএলের আদলে ২০১২ থেকে হয়ে আসছে বিপিএল।শুরু থেকেই একে নিয়ে অনেক বিতর্ক  ছিল।বিপিএল হতে আমাদের কিছু প্রাপ্তি থাকলেও আক্ষেপও আছে অনেক।প্রথমেই বলতে চাই কিছু প্রাপ্তির কথা বিপিএল পরবর্তী বাংলাদেশ এর যে পারফরমেন্সে উন্নতি হয়েছে তাতে বিপিএলের ও যথেষ্ট অবদান রয়েছে।বিপিএল থেকেই আমরা পেয়েছি সাব্বির রহমান,মমিনুল হকের মতো প্লেয়ার।বিপিএলের ফলে আমাদের তরুন খেলোয়াড়েরা বিদেশি প্লেয়ারদের সাথে ড্রেসিংরুম শেয়ার করতে পাচ্ছে যার ফলে তারা অনেক কিছু শিখতে পারে যা তারা পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কাজে লাগাতে পারে।তারপরও যে আসর হতে পারে বাংলাদেশের ক্রিকেট ব্র্যান্ডিংয়ের কেন্দ্রবিন্দু, তার গায়ে কাল দাগ কেন? কেন এত আক্ষেপ এবং অপূর্ণতা।দুঃখজনক হলেও সত্য, ‘বিপিএল’ ‘বিতর্ক’ আর ‘অনিয়ম’ প্রায় পাশাপাশি। প্রথম আসর থেকে সেই যে বিতর্ক শুরু হয়েছে, তা বন্ধ হয়নি। বিপিএলের প্রাপ্তির মধ্যে রয়েছে অনেক আক্ষেপ।তেমনই কিছু আক্ষেপ হলঃ

১.ভেন্যু স্বল্পতাঃ বিপিএলে শুরু থেকেই খেলা হয়ে আসছে ২ কিংবা ৩টি মাঠে এরচেয়ে বেশি মাঠ কখনই ব্যাবহার করা হয়নি।তাই বিপিএল কে সারা দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব হয়নি।প্রতিবারই বিপিএল হয় ঢাকা,চট্টগ্রামে।মাঝেমধ্যে এদের সাথে যুক্ত হয়েছে খুলনা বা সিলেট স্টেডিয়াম কিন্তু কখনই বিপিএল হয়নি হোম অ্যান্ড এ অ্যাওয়ে ভিত্তিতে অথচ বিশ্বে অন্য যেসব টুর্নামেন্ট রয়েছে যেমনঃআইপিএল,সিপিএল,বিগ ব্যাশ এরা সবই হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে হয়।এইকারনেই বিপিএল এর প্রথম দিকে অনেক দর্শক হলেও পরে দর্শক সংখ্যা কমে যায় যেকারনে প্রতিবারই বিপিএল এর প্রথম দিকে টিকেটের চওড়া মূল্য থাকলেও পরে দাম অর্ধেক এ নেমে আশে ।কিন্তু খেলা যদি সারা দেশে হত তাহলে এরকম কখনই হত না ।একি মাঠ এ অতিরিক্ত ম্যাচ খেলানোর ফলে বিপিএল এ আমাদের অনেক লো স্কোরিং ম্যাচ প্রত্যক্ষ করতে হয়েছে।এই বছরও খেলা হবে শুধুমাত্র ৩টা স্টেডিয়ামে।তাই এই বছর ও হয়ত এইরকম কিছু হতে পারে।

২.ব্রডকাস্টিং ইস্যুঃবিপিএল এর প্রথম দুই আসর এ মোটামটি ভাল ভাবেই সম্প্রচার করেছিল চ্যানেল নাইন কিন্তু গত দুই আসর ধরে তাদের সম্প্রচার নিয়ে নানারকম প্রশ্ন উঠেছে কারন তাদের নিম্নমানের ক্যামেরাব্যাবহার,প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ক্যামেরার সংখ্যা না হওয়া।গত আসর এ প্রথম দিকে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ছিল যেমনঃজিং বেল থাকবে কিন্তু শুধুমাত্র কয়েক ম্যাচ বাদে সেই বেইল আর দেখা যাইনি।আর সবথেকে বড় যে ইস্যু হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত বিজ্ঞাপন।তাদের বিজ্ঞাপন দেয়ার মাত্রা এতই বেশি ছিল যে দর্শকরা রীতিমত অতিষ্ঠ ছিলেন।ওভার শেষে তো বটেই তারা তো খেলা চলাকালীন অবস্থায় ও বিজ্ঞাপন দিয়েছিল।যদিও এবার সম্প্রচার সত্ত্ব আছে জি টিভির কাছে তাই আশা করা যায় এবার ভালরকম সম্প্রচার দেখা যাবে।

৩.ফিক্সিং কেলেঙ্কারিঃ বিপিএলের প্রথম আসরে এইরকম কোন বিতর্ক না হলেও দ্বিতীয় আসরেই ধরা পরে ফিক্সিং কেলেঙ্কারি যার ফলে নিষিদ্ধ হতে হয় আমাদের জাতীয় দলের অন্যতম খেলোয়াড় মোহাম্মাদ আশরাফুল।এছাড়াও নিষিদ্ধ হয় প্রথম দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস।এর ফলে বিপিএল এক বছর বন্ধ দিয়ে আবার নতুন করে শুরু হয় ২০১৫ সালে।

৪.পেমেন্ট ইস্যুঃগত আসরের পেমেন্ট নিয়ে তেমন একটা বিতর্ক না হলেও এর আগের ৩ আসর নিয়ে ছিল অনেক বিতর্ক।অনেক প্লেয়াররাই তাদের পেমেন্ট ঠিকমত পাননি কেউ পেয়েছেন অর্ধেক,কেউবা একটু বেশি পেয়েছিলেন কেউ পেয়েছিলেন তার চেয়েও কম।এই সমস্যার জন্য বিসিবি ৩য় আসর থেকে প্লেয়ারস ড্রাফ্‌ট শুরু করে।

৫.নিম্নমানের বিদেশি প্লেয়ারের সমারোহঃবিপিএলের প্রথম দুই আসরে মোটামটি ভালমানের বিদেশি প্লেয়ার আসলেও তৃতীয় আসর থেকে এখন পর্যন্ত বিপিএল শুধুমাত্র কয়েকটি দল ব্যতীত প্রায় প্রতিটি দলই পাকিস্তান , শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজের নিম্নমানের প্লেয়ার দিয়েই চলছে।কিন্তু এবারের বিপিএল এ দলগুলো অনেক ভাল খেলোয়াড়দের নিজের দলে নিয়েছে।তাই আশা করা যায় এবার বিপিএলটা হয়ত আগের চেয়ে ভাল হবে।

৬.বিদেশি প্লেয়ার কোটা বিতর্কঃ এবছর বিদেশি প্লেয়ার খেলানোর ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম করেছে বিসিবি,যেখানে আগে একাদশে খেলতে পারত শুধু ৪ জন বিদেশি প্লেয়ার সেখানে এই বছর খেলতে পারবে ৫ জন।তাই এ নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক কারন একজন বিদেশি প্লেয়ার যদি বেশি খেলে তবে আমাদের দেশের একজন ক্রিকেটার সুযোগ পাবেনা তার ফলে হয়ত আমাদের দেশের তরুন খেলোয়াড়েরা নিজেদের প্রমানের সুযোগ কম পাবে। তাই বিদেশি প্লেয়ারের সংখ্যাবৃদ্ধিকে কেউ ভাল চোখে দেখছেনা।

বিপিএলের গত আসরগুলো নিয়ে নানারকম বিতর্ক থাকলেও বিপিএল এই বছর অনেক ভাল একটা টুর্নামেন্ট উপহার দিবে বলে আশা করি।হয়ত এইবার আমরা আন্তর্জাতিক মানের একটা টুর্নামেন্ট দেখতে পারব কারন এইবার প্রতিটা দলই অনেক ভাল প্লেয়ার নিয়ে মাঠে নামবে।এইবার হয়ত বিসিবি আমাদের একটা বিতর্কহীন,জমজমাট বিপিএল উপহার দিতে পারবে।

দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা,শুধিতে হইবে ঋণ!

Now Reading
দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা,শুধিতে হইবে ঋণ!

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অষ্টম আসরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হার দিয়ে শুরু হয়েছিলো এইবারের বাংলাদেশের যাএা। দ্বিতীয় ম্যাচে বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয় বাংলাদেশের বনাম অস্ত্রেলিয়ার খেলা । বি’ গ্রুপ থেকে সেমিতে উঠার জন্য নিউজিল্যান্ড এর সাথের ম্যাচটি হয়ে উঠে ব্যাপক গুরুত্বপূর্ণ। সেই তৃতীয় ম্যাচটি তে এক বিস্ময়কর পারফরমেন্সের সাথে পুরো ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয় বাংলার টাইগারা।
আর ইংল্যান্ডের কাছে অস্ট্রেলিয়ার হেরে যাওয়া মাধ্যমে বাংলাদেশ উঠে যায় আইসিসি সেমিফাইনালে।
এই বারের আসরের সেমিফাইনালে ওঠাকে বড় অর্জন বলেই মনে করছেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি; “এই গ্রুপে আমরা এশিয়ার বাহিরের দেশগুলোর সাথে খেলেছি,তাই এইবার সেমিতে খেলতে পারাটা অনেক বড় অর্জন ও বটে, তা একটি ম্যাচ জিতেই হোক”।
আর বাংলাদেশের এই সেমিফাইনালে ওঠা নিয়ে অনেক বড় স্বপ্ন ই বুকে বাধছে টাইগারদের ভক্তরা। এইদিকে ভক্তদের উদ্দেশ্য করে মাশরাফি বলে : “আমাদের এখনই চ্যাম্পিয়ন বানিয়ে দিবেন না,বাংলাদেশ দলে অহেতুক কোন চাপ তৈরি না হলেই ভালো হবে। ছেলেরা চাপ মুক্তভাবে খেলতে পারলেই খুশি হবো, আশা করছি ভালো কিছু হবে।”
অন্যদিকে ১২ বছর আগের কার্ডিফের স্মৃতি স্মরণ করে সাবেক টাইগার আফতাব আহমেদ বলেন ; আমরা কেউ না হয় এই ১২ বছর টিকে থাকতে পারি নি, কিন্তু মাশরাফি টিকে আছে।

এদিকে দক্ষিন আফ্রিকার সাথে বড় ব্যবধানের জয়ের সাথে সাথে ভারত উঠে যায় সেমিতে। খেলার নিয়ম অনুসারে ই আগামী সেমিফাইনালে বাংলাদেশের বিপক্ষ হিসেবে মাঠে নামছে ভারত। ভারত বনাম বাংলাদেশের বল মাঠে গড়ানোর আগেই ক্রিকেট বিশ্বের আবহাওয়া বেশ গরম ই থাকে। এদিকে খেলার আগেই শুরু হয়ে যায় দুই দেশের ক্রিকেট ভক্তদের কথার মারপ্যাঁচ। বরাবরের মত এইবার ও ভারত ম্যাচ এর আগেই জল ঘোলা করতে শুরু করে দিয়েছে।
ভারতে সাবেক শেবাগ ইতিমধ্য ই বাংলাদেশ দলকে তুচ্ছ করে এক কূটউক্তি করেছে ; দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে জয়ের জন্য ভারতের ক্রিকেট দলকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং এরই সাথে সাথে বাংলাদেশ বনাম ভারত ম্যাচের জন্য আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে দেন ভারত ক্রিকেট দলকে।
শেবাগ এর টুইটের বার্তায় এই প্রকাশ পায়, সেমি ফাইনালে বাংলাদেশকে কোন প্রকার যোগ্য দল হিসেবে দেখছেন না ভারত এবং শেবাগ এ ও নিশ্চিত ফাইনালে ভারত ই যাবে।
অন্যদিকে, ভারত এর সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি বলেন, ” বাংলাদেশের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপ আছে, তারা স্পিন ভালো খেলে এবং বোলারা ও ভালো করছে।
তবে আমি নিশ্চিত নই দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে চলা ভারতকে তারা রুখতে পারবে কি না।”

শেবাগ আর সৌরভ গাঙ্গুলি কে বলতে চাই, আপনারা মাঠে না পারলে কি হবে, গলায় জোর আছে বলে কি? ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালের কথা হইতো আপনারা ভুলেই গেছেন। রোহিত শর্মার আউট কি মনে আছে? মনে আছে মাঠে যে ছিলো আপনাদের চামচা আলিম দার। আপনাদের অবস্থা দেখে আমাদের বাঙালিদের এইখানের একটা কথা মনে পড়লো : “চোরের মায়ের বড় গলা।”

বেশি না আপনাদের ১০ বছর আগের ই কথাটা একটু মনে করিয়ে দিতে চাই, ২০০৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপে যখন এই বাংলাদেশের কাছে গো হারা হেরেছিলেন। আরো মনে করিয়ে দিতে চাই, আপনারাই বলেন ২০০৭ সালের ভারত ক্রিকেট এ যে দল ছিলো তা ভারত এর জন্য ” ড্রিম টিম”। বর্তমানের অবসর প্রাপ্ত শেবাগ এবং সৌরভ গাঙ্গুলি ছিলো তখনকার দলে। আপনাদের “ড্রিম টিম ” নিয়ে ই যদি হেরে যান, আর বাদ ই দিলাম নয় এখন কার কথা।

২০১০ সালের কথাটাও আশা করি মনে আছে। আপনাদের তো আবার স্মৃতি শক্তি প্রখর, যার প্রশংসা না করে পারলাম না।
যেই মাশরাফির দুর্দান্ত বোলিং এ ইন্ডিয়ার উইকেট উড়ে গিয়েছিলো, যেই তামিম, সাকিব, মুশফিক এর ব্যাট থেকে এসেছিলো হাফ সেঞ্চুরি। তাদের মতো সিনিয়র সদস্য রা তো আছেই দলে।
তার সাথে ক্ষুদে খেলোয়াড় মাহমুদউল্লাহ কম যায় না। মাহমুদউল্লাহ ঠান্ডা মাথায় ক্লাসিক ব্যাটিং কি আপনাদের ভাবাবে না?
মুস্তাফিজ এর কাটার কি কোহেলির উড়াবে না?
ও তাসকিন এর বোলিং এর কথা ভারত এর মনে আছে তো, রুবেল এর গতি কি ভারত কে রুখবে না? ও নিউজিল্যান্ড এর সাথে মোসাদ্দেক হোসেনের বোলিং এর যাদু নিশ্চয় ভারত দেখেছে।

আপনাদের সেই ‘ ড্রিম টিম ‘ নিয়ে ১০ বছর আগের বাংলাদেশের সাথে পারলেন না। আর তো ১০ বছর পরের এই পরিপক্ব মাশরাফি বাহীনির সাথে।
তবুও ভারতকে সম্মান করে, টাইগার বাহিনীর অধিনায়ক বলেছে ; “সেমিফাইনালে যারা আসছে তারা অবশ্যই যোগ্য দল হিসেবে আসছে,যেই আসুক তাদের বিপক্ষে আমাদের সেরাটা দিয়ে খেলতে হবে,
প্রসেস ঠিক রেখে খেলতে হবে।”

বাংলাদেশ থেকে বর্তমানে ভারত এগিয়ে থাকলেও, এইবারের আইসিসি খেলায় টাইগার্স রা ভালো ফর্মে আছে। সাম্প্রতি তারা আইসিসি র‍্যাংকিং এ থাকা ১ নম্বর( অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিন আফ্রিকাকে) ২ নম্বর কে টপকে সেমিফাইনালে ওঠে গিয়েছে।
শক্তির দিক থেকে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও ম্যাচ এ দূরসময়ের নেতৃত্ব কিন্তু মাশরাফি থেকে ভালো পারবে না ভারত। এদিকে কৌশলে নিঃসন্দহে বাংলাদেশ ভারতের থেকে অনেক বেশি এগিয়ে। কারণ বাংলাদেশের কোচ (হাথুরুসিং), ভারতের কোচ থেকে কৌশল এগিয়ে তা সবার জানা।

কিন্তু কিছু দিন আগের প্রস্তুতি ম্যাচে টাইগার্স রা বেশ একটা ভালো করতে পারে নি। এইটা ও সত্যি যে প্রস্তুতি ম্যাচের টাইগার্স আর এখন কার সেমিফাইনালের টাইগার্স রা এক পজিশনে নেই। এখনকার টাইগার্স রা হলো ইতিহাস ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়ার দল।

ওহে বিরাট কোহলি, সৌরভ,শেবাগ একে একে হয়েছে অনেক পাওনা , এইবার সুদে আসলে সব শোধিতে হইবে দেনা। ক্রিকেট এ একটা কথা আছে ; হঠাৎ খারাপ দিন আসে। ভারত এর জন্য তা সামনের ম্যাচে ই।

আপনার মনে ও যত সব প্রশ্ন আছে সবই, উওর মিলবে শুধু কড়া নজর রাখতে হবে, আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালের ২য় পর্বের বাংলাদেশ বনাম ভারত এর ম্যাচে।

এক ওভার এ ৭৭ রান। গল্প নয় সত্য

Now Reading
এক ওভার এ ৭৭ রান। গল্প নয় সত্য

যখন কেউ প্রশ্ন করে এক ওভার এ সর্বোচ্চ রান কত ? তখন হয় তো সবাই বলবে ৩৬। আর কোন ব্যাটসম্যান এই কৃতিত্ব দেখিয়েছে বললে উত্তর আসবে হার্শাল গিবস ,রবি শাস্ত্রী এবং গ্যারি সোবার্স। হয়তো অনেকেই জানেন না এই উত্তর টি সম্পূর্ণ ভুল। উত্তর তা শুনলে হয়তো রীতিমতো করে যাবেন। কারণ ১৯৯০ সালে বুর্ট ভেন্স এর কুখ্যাত এবং আলোচিত একটি ওভার এ হয়েছিল ৭৭ রান। হ্যাঁ ভুল দেখেননি ,৭৭ রান।ব্যাটসম্যান ছিলেন লি-জর্মন এবং রজার ফোর্ড। কি চোখ কপালে তো। চলুন জেনে নেই কি ঘটেছিলো সেই ওভার এ।
ঘটনা টি ঘটে ওয়েলিংটনের শেল ট্রফির শেষ দিনে। যেখানে ওয়েলিংটন মুখোমুখি হয়েছিল ক্যান্টারবুরী সাথে। ম্যাচ টি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ক্রিস্টচার্চ ক্রিকেট গ্রাউন্ড এ। ম্যাচটি ছিল ওয়েলিংটনের মৌসুমের শেষ ম্যাচ। আর শিরোপা ধরে রাখতে ওয়েলিংটনের দরকার ছিল একটি জয়। দিনের শুরুতে ওয়েলিংটন তাদের ইনিংস ঘোষণা করে। তারা জয়ের জন্য ক্যান্টারবুরীকে ২৯১ রানের টার্গেট দিয়ে ছিল। ব্যাট করতে নেমে ক্যান্টারবুরী পরে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে। ওয়েলিংটনের বোলারদের বোলিং তোপে একে একে তারা হারায় তাদের ৮ টি মূল্যবান উইকেট। ক্যান্টারবুরী লক্ষ্য তখন যেভাবেই হোক ম্যাচ তা ড্র করা।
লি-জর্মন ক্যান্টারবুরী উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান তখন স্ট্রাইক এ। ওয়েলিংটনের ক্যাপ্টেন জন মরিসন এবং এরভি স্বীনি একটি বুদ্ধি আঁটল ক্যান্টারবুরীকে আটকাতে। তারা বোলিং এ বুর্ট ভেন্স কে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলো। বুর্ট ভেন্স ছিলেন একজন স্বীকৃত ব্যাটসম্যান এবং তার পূর্বে বোলিং করার কোনো রেকর্ড ও ছিল না। তবে কেন তাকে নিয়ে গেম প্ল্যান সাজালো জন মরিসন ?এমন কি ছিল তার সেই গেম প্লেন এ ?

cricket1-1484378219.jpg

লি-জর্মন নিউজিল্যান্ড এর হয়ে খেলা আন্তর্জাতিক একটি ম্যাচে

আলোচিত সেই ওভার এর আগে ক্যান্টারবুরী রান ছিল ১০৮ রান ৮ উইকেট এর বিনিময়ে। মরিসনের গেম প্ল্যান ছিল তারা ক্যান্টারবুরী কে প্রকার রান গিফট দিবে। অর্থাৎ যে ক্যান্টারবুরী ড্র এর জন্য খেলছে তাদেরকে জয়ের আশা দেখিয়ে রক্ষণাত্মক খেলা থেকে আক্রমণাত্মক খেলতে উৎসাহিত করবে। যাতে তার তাদের শেষ ২ উইকেট ঝুঁকিতে ফেলে ম্যাচ জয়ের জন্য বড় শট খেলে। ওভার টি যখন শুরু হয় তখন ক্যান্টারবুরী এর ছিল ১৯৬ রান ৮ উইকেট এর বিনিময়ে। লি*জর্মন এবং রজার ফোর্ড এর ধৈর্যশীল ব্যাটিং এ তারা মোটামোটি শক্ত ভীত গড়ে তুলেছিল ড্র এর জন্য। লি-জর্মন তখন অপরাজিত ছিলেন ৭৫ রান করে।
জন মরিসন বোলিং এ আমন্ত্রণ জানালেন বুর্ট ভেন্স কে।ভেন্স বল করা শুরু করলেন। তার করা শুধু প্রথম এবং দ্বিতীয় বলটি হয়তো লিগ্যাল ডেলিভারি ছিল। এর পর যা হল তা এখন ইতিহাস। ফুলটস এর পর ফুলটস ,একের পর এক নো-বল। আর এই দিকে জর্মন খেলে যাচ্ছিলেন একের পর এক বাউন্ডারি। জর্মন সেই ওভার এ তুলে নেন তার সেঞ্চুরি। মাত্র ৬ বল খেলে তিনি ৮ টি ছক্কা এবং ৫ টি চার হাঁকান সেই ওভার এ। একই সেই ওভার থেকে করলেন ৭০ রান। তবে ফোর্ড ওভার এর ২ টি বল খেলেছিলেন যাতে তিনি ৫ রান সংগ্রহ করেন।
ভেন্সের বোলিংয়ে রানের ধারা ছিল যথাক্রমে ০,৪,৪,৪,৬,৬,৪,৬,১,৪,১,০,৬,৬,৬,৬,৬,৬,০,০,৪,১

cc003905b109fae0d216708e3fd7b562-9.jpg

ভান্স সেই ৭৭ রান দেয়া বোলার

কি হচ্ছে মাঠে এইটা ? এ দেখে সবাই হতবাক। এতটাই হতবাক যে স্কোরবোর্ড এ রান বদলানোর কোথাও ভুলে গিয়েছিলো। এদিকে আম্পায়ারের চোখ ও চড়কগাছ। এতটাই যে ৫ টা লিগ্যাল ডেলিভারি তাই ওভার ঘোষণা করে দিলেন। অবস্থা কিছুতেই সামাল দেয়া যাচ্ছিলো না যতক্ষণ না ইভান গ্যারি সেশন এর শেষ ওভার তা করলো। সেশন শেষ হবার আগে জয়ের জন্য ক্যান্টারবুরীকে দরকার ছিল ১৮ রান। সেশনের শেষ ওভার এ জর্মন আরো ১৭ রান তুলে নিলেন।
কিন্তু স্কোর বোর্ড এর কর্মকর্তারা তখন ভেন্স এর ওভার এ বিচলিত। জয়ের জন্য সেন্টারব্র্যায়ের দরকার ছিল ১ রান। কিন্তু স্কোর দেখতে না পাড়ায় ফোর্ড লাস্ট বলটি ডিফেন্সিভ খেলে। কারণ তার ধারণা ছিল ম্যাচ টি তারা ড্র করতে পেরেছে।

মজার বেপার হলো জন মরিসন ও ভেবেছিলেন টার্গেট এ আরো রান আছে। পরবর্তীতে জন মরিসন বলেন “আমিতো প্রায় হার্ট এটাক করে বসেছিলাম যখন শুনলাম সেন্টারব্র্যায়ের শুধুমাত্র ১ রান লাগতো জয় এর জন্য এবং আমরা ভেন্স এর বোলিং এর জন্য অনেক ঠান্ডা ফিল্ডিং করছিলাম ”

“I nearly had heart failure when I learnt a little time after the game that Canterbury only needed one to win and we had Vance bowling to a very leaky field”
John Morrison

 

4895446.jpg

ট্রফি হাতে ওয়েলিংটনের ক্যাপ্টেন জন মরিসন

ম্যাচ শেষেও ভেন্স এর ওভার নিয়ে কতে থাকলো কঠোর সমালোচনা। এই ব্যাপার নিয়ে মরিসন বলেন ” ঘটনাটি নিয়ে সকল প্রকার বিতর্ক চলছিল। আমাদের কপাল ভালো ছিল যে আমরা কোনো পয়েন্ট হারায়নি। আপনারা ভাবতে পারেন কতটা সৌভাগ্যবান হলে আমরা নিশ্চিত হারানো পয়েন্ট ফিরে পেয়েছি। যদি পয়েন্ট হারাতাম তবে হয়তো চ্যাম্পিয়নশিপ টাও পেতাম না তখন আরো বেশি বিতর্ক হতো। যাই হোক চ্যাম্পিয়নশিপ জেতায় আমরা সকল সমালোচনা থেকে বেঁচে গেছি এবং বিষয়টা বেশিদূর গড়ায়নি। ”

ঘটনাটি অনেকটাই স্টিভ ও ‘শৌঘ্নেসসির ৩৫ মিনিট এর সেঞ্চুরির মতো। অন্য একদিন না হয় সেইটা নিয়ে লিখবো। তবে বলে রাখি আজও জর্মন এবং ফোর্ড এর ৯ম উইকেট এ করা ১৮২ রান এর জুটি ক্যান্টারবুরী ৯ম উইকেট এ করা সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড।

বাংলাদেশ ফুটবলের পরিক্রমা

Now Reading
বাংলাদেশ ফুটবলের পরিক্রমা

দ্যা গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ — নামে পরিচিত বিশ্ব ফুটবলের মর্যাদার আসর ফুটবল বিশ্বকাপ।প্রতি চার বছর পর এই আসরে সারা বিশ্ব বুঁদ হয়ে থাকে। সারা বিশ্বের প্রায়ই ২০০ এর কাছাকাছি দেশ যারা কিনা প্রাথমিক পর্বে লড়াই করে মূল পর্বে টিকেট নিশ্চিত করতে।তাই দুবছর ধরে একটা মৃদু উন্মাদনা চলে ফুটবরপ্রেমীদের মাঝে।বাংলাদেশের ফুটবল এই সময় দুটো ভাগে ভাগ হয়ে যায় কেননা চিরপ্রতিদ্বন্ধী লাতিন আমেরিকার দুই পরাশক্তি আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলে বিভক্ত দুই দেশ।বিশ্বকাপ ফুটবলের সাথে সম্পৃক্ততা বলতে আমাদের এইটুকুই।
উপমহাদেশীয় যে প্রতিযোগিতা তা টপকে মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা নিশ্চিত করার স্বপ্ন অলীক স্বপ্নের মতো দেখায় কেননা আমরা এখনো প্রান্তিক পর্বে তেমন কোন সফলতা দেখাতে পারি নাই বললে চলে।আমাদের মূল দলের সফলতা বলতে কেবল সাফ গেমসের জয়।এটা সার্ক অঞ্চলের ফুটবলে খেলুড়ে দেশগুলোর মর্যাদার আসর বলে বিবেচিত।তাছাড়া এএফসি গেমস সহ আরো অনেক টুর্ণামেন্ট যেখানে আমরা নিজেদের উপস্থিতি তেমন উজ্বল করতে পারি নি।সমগ্র এশিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে এইসব প্রতিযোগিতায় জাপান,চীন,কোরিয়ার পাশাপাশি মধ্যেপ্রাচ্যর বেশ কয়েকটি দেশ ইরান,উজবেকিস্তান,সৌদি আরব,যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ ইরাক ও আফগানিস্তান যখন প্রতিযোগিতায় তাদের সক্ষমতার জানান দেয় তখন নিশ্চয়ই আমাদের সক্ষমতা নিয়ে ভাবা উচিত।
ফুটবল একটি দলগত প্রচেষ্ঠা কেননা এখানে জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে সম্মিলিত প্রচেষ্ঠার ফসল একেকটি খেলার জয়। যে সকল দেশে জাতীয়তাবাদ ঠুনকো সেখানে ফুটবলের সফলতা গৌণ বলা যায়। দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে ভারত তাদের অবস্থান সমুন্নত রাখতে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প হাতে নিয়েছে তারই ফলাফল স্বরুপ তারা বিগত কয়েক বছর ধরে ফ্র্যাঞ্ছাইজি ভিত্তিক ফুটবলের আসর নিয়মিত করছে। যেটা কিনা অনেকটা ইংলিশ লীগ ও লা-লিগার আদলে গড়ে তোলেছে।এই লীগে তারা সম্পৃক্ত করেছে তারকা খ্যাতি সম্পন্ন মানুষ এবং ধনীদের যেখানে তারা এই ফুটবলের উন্নয়নের ছোঁয়া বিস্তৃত করতে কোন কমতি রাখে নি।এখানে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যের সাথে জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হচ্ছে না।
উন্মুক্ত স্যাটেলাইটের কল্যাণে আমরা এখন রাত বিরাতে বিদেশী ফুটবলের উন্মাদনায় নিজেরা শরিক হই।এই একই কারণে আমাদের আশার পারদ তরতর করে বেড়ে চলছে।দেশীয় লীগের কোন ম্যাচে ঘরোয়া ফুটবলারের ড্রিবলিং বা পাসিং আমাদের মন ভরায় না।এটা আমাদের দোষ না এই ক্ষেত্রে অতিমাত্রায় আশাবাদী হওয়া ভুল বটে।কেননা আমি যদি দেশীয় ফুটবলের মামুনুল,জাহেদ,হেমন্ত ভিনসেন্ট এদের পারফরম্যান্সের তুলনা মেসি,রোনালদো নেইমারের পাল্লায় করি এটা আমাকে চরমভাবে হতাশ করবে।
আমাদের একটা বিষয় মানতে হবে ভৌগলিক পরিবেশ বা জাতিসত্তার কারণে আমরা সক্ষমতার দিক দিয়ে ইউরোপ,আমেরিকা ও আফ্রিকার মানুষের চেয়ে পিছিয়ে।এই পিছিয়ে থাকা মেনে নিয়ে সমস্ত দায়বদ্ধতা এড়িয়ে যেতে পারি না। দিনবদলের পালায় সমস্ত কিছু পরিবর্তন হয় কেবল ফুটবলের ভাগ্য পরিবর্তন হয় এটা মানা যায় না। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা কখনো সামগ্রিক ব্যর্থতা হতে পারে না।
এখন উন্নয়নের জয়রথে ফুটবলকে ঘিরে নবতর কৌশল আর প্রযুক্তির উদ্ভাবন হয়েছে আমরা কি আদৌ তার ‍উপযুক্ত ব্যবহার করেছি। শারীরিক সক্ষমতা কাটিয়ে উঠতে যেখানে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত হাই স্কোয়াড টিম গঠন করে যাদের কেবল আর্ন্তজাতিক মানের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সর্বশেষ আইএসএল এর মতো লীগে আমরা দেখি বিদেশী খেলোযাড়দের পাশাপাশি ইন্ডিয়ান খেলোয়াড়দের নৈপুণ্য। সেই তুলনায় দেশীয় ফুটবলে আমরা এখনো নিয়ম করে ঘরোয়া ফুটবলকে ঘোচাতে পারি নি।এটা অবশ্য কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা কেননা প্রশাসনিক বা অবকাঠামোগত দিক দিয়ে ফুটবলে এখনো বিশৃঙ্খলা গত সপ্তাহে একটা লীগের ম্যাচে লাল কার্ড দেয়ার ঘটনায় ক্লাবের কর্তাস্থানীয় ব্যক্তি যদি বিবাদে জড়িয়ে পড়ে তাতে চরম মাত্রায় যে পেশাদারীত্বের অভাব তা প্রতীয়মান হয়। এই ফুটবলকে ক্রিকেটের সমমান না হোক বর্তমান অবস্থা হতে উত্তরণের জন্য অবশ্যই সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
এই সময়ের ফুটবলপ্রেমীরা কোন অনুপ্রেরণা পাই না কেননা তারা সর্বশেষ কোন শিরোপা যা কিনা মর্যাদাপূর্ণ আসরের প্রতিনিধিত্ব করে, এমন কোন শিরোপা বাংলাদেশকে উঁচিয়ে ধরতে দেখে নি।
ফুটবলের পালাবদলে দেশে বিদেশী কোচের আসা যাওয়া আমরা দেখি নিয়ত তাদের ভাষ্য ট্যাকনিক্যাল বিষয়ে পারদর্শী হওয়া সম্ভব হলেও আমরা শারীরিক সক্ষমতা কাটিয়ে উঠতে পারছি না। এখন প্রশ্ন হলো এই অক্ষমতা কাটাতে আমাদের গৃহীত পদক্ষেপ কতখানি ফলদায়ক।যেখানে এশীয় অন্যদেশগুলো ধারাবাহিকতায় এগিয়ে যাচ্ছে সেখানে আমরা অপরিবর্তিত রয়ে যাচ্ছি। এইক্ষেত্রে সর্বশেষ সংযোজন আমরা আন্তজার্তিক আসর থেকে প্রায়ই তিন বছরের জন্য ছিটকে গেছি যেটা কিনা আমাদের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।
দেশীয় ফুটবলে গতি আনতে আমরা এখনো বিদেশী ভাড়া করা ফুটবলরারের উপর নির্ভরশীল। দেশীয় ফুটবলকে সুসংহত করতে একটা সময় উদ্যেগ নিয়েছিল বিদেশীদের জাতীয়তা প্রদান করে দল গঠনের যেটা কিনা অযৌক্তিক বটে।আমাদের সামনে আরো অনেক বিকল্প থাকা স্বত্ত্বেও আমরা কেন এমন পন্থার উপর দ্বারস্থ হবো।
ভারত বা শ্রীলংকার দলে অধিবাসী বা অভিবাসী দুই গোত্র থেকে লোকের সমাগম হয়।এখানে যোগ্যতাটা মুখ্য কেননা আমাদের অবকাঠামোগত ব্যবস্থাপনা দুর্বল হওয়াতে আমরা প্রান্তিক স্তরের ফুটবলার পাচ্ছি না।আমাদের দেশীয় সুযোগ সুবিধার মধ্যে বসবাস করছে পাহাড়ী জনগোষ্ঠী যারা কিনা রাষ্ট্র প্রদত্ত সকল সুবিধা ভোগ করছে তবে কেন তাদেরকে উপযুক্ত তদারকির মাধ্যমে জাতীয় দলে পর্যায়ক্রমে অর্ন্তভুক্ত করতে পারি না ?
সমতলের জনগোষ্ঠীর সক্ষমতার সাথে এই পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা ফুটবলের মতো পেশী শক্তির খেলায় একটা ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠনে সহায়ক হবে।
আমার সাথে অনেকে একমত হবে ফুটবলে জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে এ ধরনের পদক্ষেপ আমাদের সামনের পথচলাকে আরো শক্তিশালী করবে।
আমাদের ফুটবলে পিছিয়ে পড়ার একটা বড় সমস্যা হল প্রান্তিক পর্যায়ে ফুটবলের অবকাঠামোগত দুর্বলতা,খেলার মাঠের অভাব,পৃষ্ঠপোষকতার স্বল্পতা ইত্যাদি।ফুটবল যেমন মনস্তাত্ত্বিক খেলা তেমনি শক্তি ও কলাকৌশল প্রর্দশনের জায়গা বটে।এসব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠার যথেষ্ট উপায় বা সম্ভাবনা আমাদের সামনে আছে।এই ক্ষেত্রে যে সমস্যা প্রকট তা হলো অর্ন্তদ্বন্ধ আর পেশার প্রতি উদাসীনতা।সম্প্রতি হকির ক্ষেত্রে দেখা যায় প্রায় সময়ই খেলোয়াড়দের অসন্তোষ যেটা কিনা দেশীয় ফুটবলে হয়ে থাকে। বাংলাদেশ ফুটবলের অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম সহ আরো কয়েকজনকে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ এনে নিষিদ্ধ করা হয়। যেখানে নতুন ফুটবলার উঠে আসার পদ্ধতিটা আমরা কঠোর করে রেখেছি সেখানে প্রতিষ্ঠিতদের প্রতি কোনরুপ অন্যায় বা অবিচারের আলোকে শাস্তির খড়গ দেশীয় ফুটবলের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বটে।
এই একই সময়ে নিষিদ্ধ খেলোয়াড়দের নিষেধাজ্ঞার ধকল কাটিয়ে জাতীয় পর্যায়ে কোন ম্যাচ খেলতে পাঠানো হলে তার কাছ থেকে কতটুকু ফলাফল আপনি আশা করতে পারেন তা সময়ে বলে দেয়।
ইউরোপ আমেরিকার দেশগুলোতে আমাদের নিয়ত আনাগোনা কেবলই আমরা তাদের ফুটবলের সফলতার গুণগান করি নিতান্তপক্ষে তাদের প্রচলিত পদ্ধতি বা ব্যবস্থাপনার কোন যোগসাজেশ কেবল দেশীয় ফুটবলের সাথে জড়াতে পারি না। দেশীয় ফুটবলের অন্তরায় হতে পারে আমলা বা কর্তা নিয়োগ সম্পর্কিত সমস্যা যেমন আপনার সাথে ফুটবলের কোনকালে সম্পর্ক ছিল না আপনি ফুটবলের উন্নয়নের সাথে সিদ্ধান্ত প্রণয়ণে একটু একটু পিছিয়ে থাকবেন,এই সামান্যতম পিছিয়ে থাকাটা দেশীয় ফুটবলে প্রকট হয়ে ধরা দিয়েছে।
আধুনিক ফুটবলে দলবদলের নিয়ম যা কিনা অনেকটা কেনাবেচার সমান। এখানে অর্থের প্রভাব আর ক্ষমতার অপব্যবহার যা আপনাকে নিতান্তপক্ষে প্রকৃত লক্ষ্য বা সাধনা থেকে সরিয়ে নিয়ে আসবে।
এই সমস্যার সমাধানকল্পে অবশ্য কর্তৃপক্ষ পেশাদার ফুটবলের স্বার্থরক্ষায় যুগোপযোগি সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবে যা কিনা প্রকরান্তরে দেশীয় ফুটবলের উন্নয়নকল্পে অবদান রাখবে।
দেশীয় ফুটবলের হারানো গৌরব আর সোনালি সুদিন ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন যৌক্তিক পদক্ষেপ নিবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবলও তার মর্যাদাপূর্ণ আসরে দেশের পতাকাকে সমুন্নত রাখবে ।

আর্ন্তজাতিক পরিমন্ডলে ক্রিকেট এখন বাংলাদেশের ক্রীড়াজগতের এক অনবদ্য প্রতীক;যেখানে আমরা ফুটবলকে নিয়ে যেতে পারি কেবল দরকার সমন্বিত প্রচেষ্টা আর ফুটবলের প্রতি ভালবাসা।

ফুটপ্রিন্ট লেখক লগিন