গ্রহের নাম গার্ডিয়ান – ২ { রাজা আকার মিরাক দেশ আক্রমণের প্রস্তাব }

Now Reading
গ্রহের নাম গার্ডিয়ান – ২ { রাজা আকার মিরাক দেশ আক্রমণের প্রস্তাব }

wallpaper_god_of_war_2_11_1920x.jpg

 

 

 

বিশ্বযুদ্ধে যে বা যারা জয়ী হয় পরবর্তীতে তারাই বিশ্ব  শাসনের ভার পায় এটাই স্বাভাবিক । আমাদের পৃথিবীতে ২য় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ২য় বিশ্বযুদ্ধে জয়ী জোট   যেমন সারা  বিশ্বে নিজেদের চাওয়া পাওয়াটাকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে সত্য মিথ্যার ধার না ধেরে নিজেদের অত্যাচার অনাচারকে আড়াল করে মানবতার ধোয়া তুলে বৈশ্বিক সম্পদ কুক্ষিগত করে হিংসার দাবানলের যে লেলিহান শিখা ছড়িয়ে দিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল  ঠিক  সেভাবেই আকার জোটও একই কাজ করে আসছে বিগত বিশ্বযুদ্ধ গুলোয় জয় লাভের পর।

 

আবার যখন কোন মিত্র দেশ রাজা আকার আবদার না মেটায় তখন প্রথমে মিত্র দেশটিকে অন্যান্য মিত্র দেশ থেকে একঘরে করে দেয়া  হয় যাতে সেই দেশ আবার নতি স্বীকার করে কিন্তু তাতেও যদি কাজ না হয় তাহলে ঐ দেশ যাদের সাথে বর্তমানে মিত্রতায় আবদ্ধ আছে তাদের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব ও  মতভেদ  তৈরি করে দেয়া হয় । উদাহরণস্বরূপ বলা যায় আমেরিকার সাথে তুরস্কের আগে খুব ভাল বন্ধুত্ব ছিল কিন্তু গেলো কয় বছরে তা তলানিতে এসে ঠেকে তারপর তুরস্ক রাশিয়ার সাথে নতুন বন্ধুত্ব তৈরি করে । এরপর তুরস্কের এক অনুষ্ঠানে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আততায়ীর হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয় এবং কিছুদিন আগে তুরস্কে মিশরের আদলে সেনা বিদ্রোহ  সংঘটিত হয় যা তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে প্রতিহত করে । তারপর এই সেনা বিদ্রোহের উস্কানির জন্য তুরস্ক এক তরফা ভাবে আমেরিকাকে দোষারোপ করে ।  আটা দেশের রাজা আকার  কাজের ধরণও অনেকটা একই রকম ।

 

 

 

_91914520_gettyimages-4695855.jpg

 

 

আবার প্রতিপক্ষ  বা মিত্র যে দেশেরই হোক না কেন কোন নেতা বা দেশ প্রধানের কারণে যদি আকার ইচ্ছা অনিচ্ছার ব্যত্যয় ঘটে তাহলে মন্ত্রী ইনের প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষিত অত্যন্ত দক্ষ, কুশলী , জানবাজ, চৌকস,তীক্ষ্ণ বুদ্ধির অধিকারী , প্রতিজ্ঞাবদ্ধ গুপ্তচর বাহিনীকে দিয়ে ঐ নেতাকে মারার একশ একটা কৌশল প্রয়োগ করতে থাকে। যতদিন না ঐ নেতা গুপ্তচর বাহিনীর হাতে মারা যায় ততদিন তার ওপর হামলা চালাতেই থাকে আর যদি ঐ নেতা এই হামলা আর মৃত্যুর ভয়ে আকার কাছে নতি স্বীকার করে নেয় তাহলে এবারের মত ঐ নেতাকে প্রাণে বাঁচিয়ে রাখা হয় তবে তার ওপর তীক্ষ্ণ নজরদারি রাখা হয় যাতে ভবিষ্যতে সে আর বিরোধিতা করতে না পারে ।

 

আর যদি আকার গুপ্তচর বাহিনী ঐ নেতাকে কোন রকম নতি স্বীকার না করাতে পারে এবং  হেনস্তা করার সুযোগ না পায় তাহলে ঐ নেতার দেশের মীরজাফর টাইপের লোকের অনুসন্ধান করা হয় যারা নিজ দেশের  মাটি মানুষের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে কুণ্ঠিত বোধ করেনা এবং লোভের কারণে যে কোন পর্যায়ের নিচে নামার দরকার নামতে রাজি থাকে । তা যে  শেষ পর্যন্ত তাদেরকে মীরজাফরের মত অবমাননাকর পরিণতির দিকে নিয়ে যায় তা তারা ক্ষুনাক্ষরেও  টের পায়না । ঐ দেশ প্রেমিক নেতার মন্ত্রী বা খুব কাছের লোভী বেপরোয়া মানুষদেরকেই এই কাজে ব্যবহার করার বেশী প্রয়াস চালান হয় । ঐ    মীরজাফরদের এই বলে লোভ দেখানো হয় যে ,”যদি তুমি এই দেশ প্রেমিক নেতাকে হত্যা করতে পারো তাহলে আমরা তোমাকে পরবর্তীতে এই দেশের রাজা বানিয়ে দেবো । আর তোমার ভোগ বিলাসের জন্য  যা যা প্রয়োজন তা আমরা অবিরত ধারায় তোমাকে দিয়ে যাব , তুমি শুধু আমাদের কথা মত চলবে । নারী ,বাড়ি, গাড়ি , সোনাদানা , প্রাচুর্য সবই বলার আগেই তোমার সামনে হাজির হয়ে যাবে , যা তুমি কল্পনাও করতে পারবে না “।  তারপর ঐ দেশ প্রেমিক নেতাকে হত্যা করে মীরজাফরদেরকে তাদের কাজের ভয়ংকর শেষ পরিণতি অবলোকন করিয়ে ঐ দেশের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় আকার গুপ্তচর বাহিনী । অনেক সময় তারা নিজেরাই ঐ দেশের নিয়ন্ত্রণ করে যেভাবে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নিয়ন্ত্রণ করেছিল ভারত উপমহাদেশ আবার অনেক সময় নিজেদের পছন্দ মত আফগানিস্তান টাইপের  পুতুল রাজা বসিয়ে ঐ দেশের নিয়ন্ত্রণ করা হয় । ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যেমন আমাদের জমিদারদের কাছ থেকে প্রজাদের মেরে কেটে একাকার করে নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে  খাজনা নিত ঠিক সেই ভাবে ঐ পুতুল রাজার কাছ থেকেও  আকার গুপ্তচর বাহিনী খাজনা আদায় করে ।

 

 

B-179traitor.jpg

 

 

 

আর এভাবে নিজ গ্রহ  নিয়ন্ত্রণ করে রাজা আকা খুবই সন্তুষ্ট এবং তার এই নিয়ন্ত্রণের ধরণকে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত করার জন্যও আছে তার এক অসাধারণ প্রয়াস । সেই প্রয়াসের নাম তার অনুগত মিডিয়া । এই মিডিয়া তার যে কোন ছোট খাট খারাপ কাজ থেকে শুরু করে ভয়ংকর জঘন্য কাজকেও  অতি অসাধারণ কৌশলে পজিটিভ  দিকে নিয়ে যায় যেমন ধরা যাক আকা ইচ্ছা করলো মিরাক দেশকে আক্রমণ করবে এবং তার মিত্র দেশ এবং তার অনুগত মিডিয়াকে তা জানিয়ে দিল। কিন্তু আক্রমণ করার জন্য একটা জুতসই কারণও তো দরকার । তো কারণ হিসেবে ঠিক করা হল বলবে মিরাক দেশে পারমাণবিক অস্ত্র আছে যা ঐ গ্রহের মানুষের জন্য ভীষণ ক্ষতির কারণ কিন্তু হাজার চেষ্টা করেও যখন মিরাক দেশে অস্ত্র আছে এটা প্রমাণ করা গেলনা তখন আকার অনুগত মিডিয়া এই বলে প্রচার করলো মিরাক দেশের কাছে মানব বিধ্বংসী পারমাণবিক অস্ত্র নেই তবে তারা এই রকম অস্ত্র তৈরির সামর্থ্য রাখে যা বিশ্বের শান্তিপ্রিয় জনগণের জন্য হুমকি স্বরূপ তাই রাজা আকা এবং তার মিত্ররা বিশ্বমানবতা  রক্ষার খাতিরে নিজেদের সামরিক শক্তির অপচয় করে মিরাক দেশ আক্রমণ করে সমগ্র গ্রহে শান্তি বজায় রাখার প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেছে এবং বিশ্ববাসীর সমর্থন  আহবান করছে । কি অসাধারণ যুক্তি বিজ্ঞান , সত্যি যে কোন প্রশংসাই কম হয়ে যায় রাজা আকার এই নির্লজ্জ  আন্তর্জাতিক নীতির কাছে । চলবে …………।

 

আল্লাহ্‌ হাফিয।