5
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

জেগে উঠছে ঘুমন্ত ভাইরাসেরা !

Now Reading
জেগে উঠছে ঘুমন্ত ভাইরাসেরা !

ভাইরাস আমাদের খুব পরিচিত একটা শব্দ । এইটার সাথে আমরা হয়ত “ভাইরাল ফিভার” এর মাধ্যমেই অনেকে পরিচিত । কিন্তু, এর মাধ্যমে মানুষের যেমন কেবল ফিভার হয় ঠিক তেমনি এইডস কিংবা র‍্যাবিসের মত ভয়ংকর কিছুও হতে পারে । আবার এমনও হতে পারে যে মানুষের আসলে কিছুই হয়নি ! আজকে তাই, এরকম কিছু বৃহাদাকার ভাইরাস নিয়েই আলোচনা করব যা তাদের দীর্ঘ দিনের ঘুমন্ত অবস্থা থেকে জেগে উঠলেও সত্যিকার অর্থে তেমন ভয়ের কিছু নেই কারন, এগুলো মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয় !

 

ভাইরাস গুলোর উৎপত্তিস্থল   

এইসব ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল সংক্রান্ত সাধারন বৈশিষ্ঠ্য হল এগুলো কোন ভুগর্ভস্থ বরফের মধ্যে অবস্থিত । প্রায় ৩০,০০০ বছরের মত ঘুমন্ত অবস্থায় থাকার পর তারা আবার জেগে উঠছে । বিজ্ঞানীদের কাছে এই বিষয়টা বিস্ময়কর যে এতদিন ধরে কিভাবে তারা সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে ।

প্রথমেই যার কথা বলব তার নাম– “Pithovirus Sibericum” এই ভাইরাসটা প্রথম ২০১৪ সালের দিকে একটা পেপারে পাবলিশড হয় । যার ফলে, মানুষ এর কথা সর্বপ্রথম জানতে পারে । আর এইটা আবিষ্কার হয় রাশিয়ার সাইবেরিয়াতে বিদ্যমান  গভীর বরফ অঞ্চলগুলোতে  । যদিও, এই “Pithovirus” genus এর ভাইরাস প্রথম আবিষ্কার হয় ২০০০ সালের দিকে রাশিয়ার “Chukotka” নামক অঞ্চলে । যা কিনা “Anui River” থেকে ২৩ মিটার উপরে অবস্থিত ছিল । পরে রেডিও কার্বন টেস্টের মাধ্যমে জানা যায় এইটা ৩০ হাজার বছর আগের !**

 

Pithovirus_sibericum_sketch.jpg

 

তবে, শুধু এই পিথোভাইরাসই নয় এর আগেও আর কিছু এরকম বিশাল সাইজের ঘুমন্ত ভাইরাস আবিষ্কার হয়েছিল এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল Acanthamoeba polyphagamimivirus (APMV), যা কিনা ২০০৩ সালের দিকে প্রথম পেপার হিসেবে পাবলিশড হয় যদিও, এই ভাইরাস ১৯৯০ দিকেই বিজ্ঞানীরা খুজে পান । আর এই ভাইরাস ইংল্যান্ডের একটি ওয়াটার কুলিং টাওয়ার এ খুজে পাওয়া যায় ।

APMV প্রথম আবিষ্কৃত জায়ান্ট ভাইরাস হলেও এর ধারা তখনও বজায় থাকে । কারন, ঠিক এরপরেই ২০১৩ সালে আলোচনায় উঠে আসে আরেক জায়ান্ট ভাইরাস যার নাম হল “Pandoravirus Salinas” যেইটা কিনা চিলির উপকূলে আবিষ্কৃত হয় | আর, “Pandoravirus” genus এর আরেকটি ভাইরাস “Pandoravirus dulcis”  আবিষ্কার হয় অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে |**

আর ঠিক এরপরেই আবিষ্কার হয় আমাদের আলোচিত ভাইরাস “Pithovirus Sibericum”

তবে, মজার ব্যাপার হলো এরকম জায়ান্ট ভাইরাস আবিষ্কার কিন্তু এখানেই শেষ নয় | এরপরেও ২০১৫ এর দিকে আরেক টা ভাইরাস আলোচনায় চলে যা কিনা আগেগুলোর চেয়েও ক্ষেত্র বিশেষে বড় আর তার নাম হলো- “Mollivirus sibericum” যার উৎপত্তিস্থল সেই আগের জায়গাতেই যেখানে কিনা সেই পিথোভাইরাস পাওয়া গিয়ে ছিল ।

 

mollivirus.jpg

 

ভাইরাসের পরিচয়  

সাধারনত, একটা ভাইরাস কত বড় হতে পারে ? বড়জোর 20 nm থেকে 100 nm পর্যন্ত । কিন্তু, এইসব জায়ান্ট ভাইরাসগুলো হয় এসব সাধারন ভাইরাস থেকে বহুগুনে বড় । একটা মাইক্রোস্কোপ এর নিচেই এদের খুব সহজে দেখা যায়; যেগুলো, অন্য সাধারন ভাইরাসের ক্ষেত্রে হয়ত কল্পনা করা যায়না । যাইহোক, পিথোভাইরাস গুলো যখন আবিষ্কার হয় তখন এর সাইজ ছিল সবচেয়ে বড় । দৈর্ঘ্যে প্রায় 1500 nm এবং এর ডায়ামিটার হল প্রায় 500 nm । এই ভাইরাসগুল তখন ল্যাব টেস্ট করতে নিয়ে যাওয়া হয় যে কোনো ক্ষতিকারক কিছু আছে কিনা । এজন্য তারা কিছু অ্যামিবা নিয়ে পরীক্ষা করে এবং অবাক হয়ে আবিষ্কার যে অ্যামিবাগুলো সেই পরিবেশে টিকতে পারছেনা । পরে পরীক্ষা করে দেখা হয় অ্যামিবার শরীরে ভাইরাসগুলো দ্রুত বংশবৃদ্ধি করছে আর এর ফলেই, ইনফেকশনের কারনে, একটা সময় অ্যামিবাগুলো মারা পরছে ।

এরপর ঠিক একইরকম পরীক্ষা সেই মলিভাইরাস গুলোর উপরও পরীক্ষা করে দেখা হয় এবং সেখানেও দেখা যায় অ্যামিবাগুলো মারা পরছে ।

তবে, সর্বপ্রথম যখন APMV আবিষ্কৃত হয় তখন বিজ্ঞানীরা ধারণা করেছিলেন সকল জায়ান্ট ভাইরাসগুলো হয়ত এই ভাইরাসটির ফ্যামিলির অন্তর্ভুক্ত হবে । কিন্তু, বিজ্ঞানীদের সেই ধারণা ভুল করে এরপরে যখন Pandora ভাইরাসের আগমন হল তখন দেখা গেল এই ভাইরাস টি আগের সেই APMV এর চেয়ে একেবারেই আলাদা । আর, এই ঘটনার পরই বিজ্ঞানীদের বাধ্য করে যে জায়ান্ট এইসব ভাইরাসগুলোকে তারা যে ভেবেছিল তার চেয়ে অনেক বেশি ডাইভার্স ! আর ঠিক তারপরেই আবিষ্কার হয় পিথোভাইরাস যা আগেরগুলোর থেকেও আলাদা । এখানেই হয়ত, শেষ হওয়া উচিত ছিল কিন্তু, আবারও আরেকটি জায়ান্ট ভাইরাস আবিষ্কার হয় যা হল সেই মলিভাইরাস । বলাই বাহুল্য, এইটাও আগেরগুলোর থেকে আলাদা । আর এভাবেই বিজ্ঞানীরা ৪টি ভিন্ন প্রজাতির জায়ান্ট ভাইরাসের দেখা পেল ।

 

ভাইরাসগুলোর হঠাৎ জেগে ওঠার কারণ কি ?   

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল হঠাৎ কি হল যার কারনে, ভাইরাস গুলো এরকম জেগে উঠছে ? এর সহজ এবং এক কথায় উত্তর হল “ক্লাইমেট চেঞ্জ” । আমরা সবাই জানি পৃথিবী ক্রমান্বয়ে উত্তপ্ত হচ্ছে । আর এই উত্তপ্ত হবার ফলেই বরফগুলো আস্তে আস্তে গলতে শুরু করেছে । NOAA র মাধ্যমে জানা যায় যে, ২০১৪ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ১২ মাসের মধ্যে প্রায় ৯ মাসই ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে ওয়ার্মেস্ট সময়গুলোর মধ্যে একটি ।

এছারাও, আরো কিছু গবেষনায় দেখা যায়, গত ১০০ বছরে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা প্রায় ১.৩ ডিগ্রী ফারেনহাইট (০.৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস) বৃদ্ধি পেয়েছে । এছারাও ভূগর্ভস্থ বরফের (permafrost) তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৫ ডিগ্রী ফারেনহাইট (৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস) এবং বরফের গভীরতা প্রায় ৭% হ্রাস করেছে । 2

এইসব, তাপমাত্রা আমাদের কাছে তেমন মনে হবেনা কিন্তু, এইটুকু পার্থক্যই যথেষ্ট পুরো পৃথিবীর মধ্যে প্রলয়ংকারি কিছু ঘটানোর জন্য !

শেষের দিকে এটাই বলতে হয় আর বেশিদিন হয়ত বাকি নেই যখন এই ভাইরাসগুলো পুরোপুরি জেগে উঠবে । এখন পর্যন্ত যেই ভাইরাসগুলো পাওয়া গিয়েছে তা আসলেই, মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয় । কিন্তু, সমস্যা হল বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা সেই বরফের নিচে আরো অনেক ঘুমন্ত ভাইরাস থাকতে পারে তবে, সেগুলো মানুষের জন্য ক্ষতিকর কিনা তারা সেই বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নয় !

 

যাইহোক, আজকে এই পর্যন্তই | আশা করি সবার ভালো লেগেছে | সবাইকে ধন্যবাদ |

 


 

References:

  1. http://science.howstuffworks.com/life/cellular-microscopic/are-extinct-viruses-coming-back-thanks-to-climate-change.htm
  2. https://www.ncdc.noaa.gov/sotc/global/201502
  3. http://www.bbc.com/news/science-environment-26387276
  4. http://www.pnas.org/content/111/11/4274
  5. https://www.livescience.com/52175-ancient-giant-virus-revived-siberia.html
  6. https://www.livescience.com/43800-giant-virus-found-permafrost.html

অবশেষে সমাধান মিলেছে কঠিন ভাইরাসের ! ! !

Now Reading
অবশেষে সমাধান মিলেছে কঠিন ভাইরাসের ! ! !

সম্প্রতি ওয়ানাক্রাই র‍্যানসমওয়্যার নামের একটি ভাইরাস বিভিন্ন দেশের কম্পিউটার বা পিসিতে আক্রমণ শুরু করে। গত ১২ই মে শুক্রবার র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণ শুরু হয়। ১৫০টি দেশের ৩ লক্ষ পিসিতে ম্যালওয়্যারটি আক্রমণ করে। এটি পিসির গুরুত্বপূর্ণ ফাইলগুলোকে এনক্রিপ্ট করে এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ে পিসি ইউজারকে অর্থ পরিশোধ করতে বলে। তা নাহলে পুরো ফাইল নষ্টের হুমকি দেয়া হয়। এই আর্টিকেল এ মূলত পিসি ভাইরাস এবং র‍্যানসমওয়্যার নিয়ে বিস্তারিত বলা হবে। তবে প্রথমেই পিসি ভাইরাস সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নেয়া যাক।

কম্পিউটার ভাইরাস বা পিসি ভাইরাস কি?

কম্পিউটার ভাইরাস বা পিসি ভাইরাস হল এক ধরনের কম্পিউটার প্রোগ্রাম যা ব্যবহারকারীর অনুমতি বা কোন রকম ধারণা ছাড়াই নিজে নিজেই কপি হতে পারে। মেটামর্ফিক ভাইরাসের মত তারা প্রকৃত ভাইরাসটি কপিগুলোকে পরিবর্তিত করতে পারে অথবা কপিগুলো নিজেরাই পরিবর্তিত হতে পারে। একটি ভাইরাস এক কম্পিউটার থেকে অপর কম্পিউটারে যেতে পারে কেবলমাত্র যখন আক্রান্ত কম্পিউটারকে স্বাভাবিক কম্পিউটারটির কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। যেমন: কোন ব্যবহারকারী ভাইরাসটিকে একটি নেট ওয়ার্কের মাধ্যমে পাঠাতে পারে বা কোন বহনযোগ্য মাধ্যম যথা ফ্লপি ডিস্ক, সিডি, ইউএসবি ড্রাইভ বা ইণ্টারনেটের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। এছাড়াও ভাইরাসসমূহ কোন নেট ওয়ার্ক ফাইল সিস্টেমকে আক্রান্ত করতে পারে, যার ফলে অন্যান্য কম্পিউটার যা ঐ সিস্টেমটি ব্যবহার করে সেগুলো আক্রান্ত হতে পারে। কম্পিউটারের বিভিন্ন ফাইল ক্র্যাক করা বা নষ্ট করাই হচ্ছে কম্পিউটার ভাইরাসের মূল কাজ।

কম্পিউটার ওয়ার্ম কি?

সাধারণত কম্পিউটার ভাইরাস ও কম্পিউটার ওয়ার্ম কে এক জিনিস ভাবা হয়। কিন্তু তাদের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। একটি কম্পিউটার ওয়ার্ম হল একটি স্বাধীন ম্যালওয়্যার কম্পিউটার প্রোগ্রাম যা নিজেকে নকল করতে পারে যাতে তা অন্য কম্পিউটারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। প্রায়শই এটি ছড়িয়ে পড়ার করার কাজে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এবং অন্য কম্পিউটারের নিরাপত্তা ব্যর্থতার সুযোগ নেয়। একটি কম্পিউটার ভাইরাসের মত এটিরও নিজেকে কোন প্রোগ্রামে যোগ করার প্রয়োজন হয় না। এগুলো সবসময় নেটওয়ার্কের কিছু ক্ষতি করে এমনকি ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ ও খরচ করে। কিন্তু ভাইরাস একটি কম্পিউটারের ফাইল নষ্ট করে বা আক্রান্ত করে। অন্যান্য ম্যালওয়্যার দ্বারাও পিছনের এই দরজা বা গোপন দরজা তৈরীর চমৎকার কাজটি হয়ে থাকে যাতে ওয়ার্মও রয়েছে।

ম্যালওয়্যার কি?

পিসি বা মোবাইলে ক্ষতিকর প্রোগ্রামের লিংকসহ আসা ই-মেইলকে বলা হয় ম্যালওয়্যার। ম্যালওয়্যার (Malware) শব্দটি ইংরেজি malicious software থেকে এসেছে। malicious software এর সংক্ষিপ্ত রূপ হল ম্যালওয়্যার (Malware)। এ হল একজাতীয় সফ্‌টওয়্যার যা কম্পিউটার অথবা মোবাইল এর স্বাভাবিক কাজকে ব্যহত করতে, গোপন তথ্য সংগ্রহ করতে, কোনো সংরক্ষিত কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ব্যবস্থায় অবৈধ অনুপ্রবেশ করতে বা অবাঞ্ছিত বিজ্ঞাপন দেখাতে ব্যবহার হয়। ১৯৯০ সালে Yisrael Radai ম্যালওয়্যার শব্দটি সর্বপ্রথম ব্যবহারে আনেন। ইতিপূর্বে এই জাতীয় সফ্‌টওয়্যারকে কম্পিউটার ভাইরাস বলা হত। ম্যালওয়্যার সংজ্ঞাত হয় তার হানিকারক উদ্দেশ্য দ্বারা। এরা কম্পিউটার ব্যবহারকারীর স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে।

র‍্যানসমওয়্যার কি?

কোন ম্যালওয়্যার যখন কম্পিউটার ফাইল খুলতে বাধা দেয় ও তা খোলার জন্য অর্থ দাবি করলে তখন তাকে র‍্যানসমওয়্যার বলে। র‍্যানসমওয়্যার হল এক ধরনের ম্যালওয়্যার যেটি কিনা একটি কম্পিউটার ডিভাইসকে আক্রান্ত করার পর ব্যবহারকারীকে তার মেশিনে প্রবেশ করা থেকে বিরত রাখে এবং ব্যবহারকারীর প্রবেশগম্যতা সীমাবদ্ধ করে দেয় এবং এই সীমাবদ্ধতা দূর করার জন্য ব্যবহারকারীর কাছ থেকে মুক্তিপণ দাবি করে। কিছু র‍্যানসমওয়্যার আছে যা সিস্টেমের হার্ড ড্রাইভে অবস্থিত সকল ফাইল একটি বড় কী দিয়ে এনক্রিপ্ট করে ফেলে। এনক্রিপশন কী এতটাই বড় হয় যে মুক্তিপণ না দিয়ে একে ভেঙে ফেলা প্রযুক্তিগত দিক থেকে প্রায় অসম্ভব।

র‍্যানসমওয়্যার কিভাবে কাজ করে? 

সাধারণত ডাউনলোডকৃত ফাইলের মাধ্যমে এরা কোনো ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ করে এবং ট্রোজান হিসেবে সংখ্যাবৃদ্ধি করে। এরপর প্রোগ্রামটি একটি পেলোড রান করে। পেলোড হয়ত কোনো সত্তা (যেমন – আইন প্রয়োগকারী সংস্থা) কর্তৃক জাল সতর্কবাণী দেখাবে। যেমন- আপনার সিস্টেম অবৈধ ক্রিয়াকলাপ করতে ব্যবহার করা হয়েছে এবং আপনার সিস্টেমে অবৈধ কনটেন্ট আছে যেমন – পর্নোগ্রাফি, পাইরেটেড সফটওয়্যার বা মিডিয়া ফাইল অথবা মাইক্রোসফট উইন্ডোজের পাইরেটেড সংষ্করণ।কিছু পেলোড সরল অ্যাপলিকেশন দিয়ে গঠিত যা এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যে, মুক্তিপণ না দেওয়া পর্যন্ত তা সিস্টেমকে তালাবদ্ধ করে রাখে অথবা ব্যবহারকারীর সিস্টেমে প্রবেশগম্যতা সীমাবদ্ধ করে। কিন্তু বর্তমানে সবচেয়ে আধুনিক শ্রেণীর পেলোড হল শক্তিশালী এনক্রিপ্টশন ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর সিস্টেমের সকল ফাইলকে এনক্রিপ্ট করে ফেলে। ম্যালওয়্যালটি এমনভাবে ফাইলসমূহকে এনক্রিপ্ট করে যে, ক্ষতিকারক প্রোগ্রামটির লেখকের কাছে সংরক্ষিত ডিক্রিপশন কী ছাড়া ফাইলগুলো পড়া সম্ভব হয় না।গত এক সপ্তাহে ঘটে যাওয়া আলোচিত সাইবার হামলা র‍্যানসমওয়্যারে ১৫০টি দেশের তিন লক্ষ ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার আক্রান্ত হয়। মূলত এই হামলায় শিল্প খাতে আক্রান্তের হার বেশি।

ফ্রান্সের একদল গবেষক ওয়ানাক্রাই আক্রান্ত এনক্রিপ্টেড উইন্ডোজ ফাইল খোলার সমাধান বের করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ফ্রান্সের অ্যাড্রিয়েন গুইনেট, বেঞ্জামিন ডেলপি, ম্যাথিউসুচি অন্যতম। ম্যাথিউ সুচি তার ব্লগ পোষ্টে ওয়ানাক্রাইয়ের প্রতিষেধক এর একটি লিংক দেন। সেখানে সফটওয়্যার টুল ওয়ানাকি বিল্ট বা গুইনেট এর লিংক দেয়া হয়। এই টুল উইন্ডোজের সব অপারেটিং সিস্টেম ( ৭, এক্স পি, ২০০৩ ) এ কাজ করবে। টুলটির নামকরণ করা হয় ‘ ওয়ানাকিউয়ে ’। এটি পিসি মেমরিতে ডিক্রিপশন কির অবশিষ্টাংশ অনুসন্ধান করে কাজ শুরু করে। তারা এটি বিনামূল্যে বাজারে ছেড়েছে।অবশেষে সমাধান মিললো ওয়ানাক্রাই র‍্যানসমওয়্যার এর হাত থেকে।

মশাবাহিত রোগ চিকুনগুনিয়া !

Now Reading
মশাবাহিত রোগ চিকুনগুনিয়া !

প্রায় প্রতিটা সময়েই কোনো না কোনো খুব জনপ্রিয় রোগশোক আমাদের সামনে ঘুরঘুর করতে দেখা যায় | এর মধ্যে ছিল ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু ,জিকা কিংবা ফাইলেরিয়া | এই সবগুলোর জন্যই কোনো না কোনো মশা দায়ী থাকত | ঠিক সেরকম বর্তমান সময়েও আমাদের সামনে এরকম একটা জনপ্রিয় অসুখ রয়েছে যার নাম হলো “চিকুনগুনিয়া” | বলাই বাহুল্য ,এই রোগটার জন্যও মশা দায়ী !

চিকুনগুনিয়া কি ?

চিকুনগুনিয়া শব্দটা এসেছে পূর্ব আফ্রিকার দেশ তানজানিয়ার ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী কিমাকন্দ ভাষা থেকে | যার আক্ষরিক অর্থ হলো বাকা হয়ে যাওয়া | আর বাংলাদেশে একে বলে “ল্যাংড়া জ্বর” ! এতসব ভয়ংকর নাম হবার একটা যৌক্তিক কারণ ও রয়েছে | কারণ এই রোগ হলে আক্ষরিক অর্থেই সারা শরীরে এত বেশি ব্যথা করে যার ফলে মনে হতে পারে কেউ যেন হার বাকিয়ে দিয়েছে ! তবে, যাইহোক আমরা চিকুনগুনিয়া শব্দটি দ্বারা একটা রোগ হিসেবেই জানব | যা মূলত, মশার মাধ্যমে ভাইরাস হিসেবে আমাদের শরীরে আক্রমন করে | এর জন্য সাধারণত ২ টা মশা দায়ী | প্রথমটা হলো Aedes aegypti  আর দ্বিতীয়টার নাম  Aedes albopictus. এছাড়াও পাখি কিংবা রোডেন্ট এর মাধ্যমে এর ভাইরাস সার্কুলেট করতে পারে | তবে, মানুষের ক্ষেত্রে এই মশার কামড়ের মাধ্যমেই হয়ে থাকে |

চিকুনগুনিয়ার অঞ্চল

ভৌগলিক অঞ্চল বলতে আফ্রিকা ,এশিয়ার মধ্যে এর প্রকোপ বেশি | এছাড়াও , সেন্ট্রাল এবং সাউথ আমেরিকা, ইন্ডিয়ান ওশান, প্যাসিফিক ওশান এবং ক্যারিবিয়ান ও এর ঝুকিযুক্ত অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত |

তবে, আঞ্চলিক অঞ্চল বলতে চিকুন্গুনিয়ার মশা আমাদের বাড়ির আশেপাশেই ডোবা ,নালা-নর্দমা, জমে থাকা পানি ,ইত্যাদির মধ্যেই বিস্তার করে থাকে | এছাড়া বাইরে  ভোর কিংবা সন্ধার দিকে এই মশা সবচেয়ে বেশি কামরায় | এজন্য বাড়ির আশেপাশের অঞ্চল পরিষ্কার রাখাটা খুব জরুরি !

চিকুনগুনিয়ার লক্ষণ

প্রশ্ন আস্তে পারে চিকুনগুনিয়ার লক্ষণগুলো কি কি ? কি কি বৈশিষ্ট হলে আমরা বলতে পারি এইটা একটা চিকুনগুনিয়া ? এর সহজ উত্তর হলো -অসুখটার  ট্রেন্ড থাকা অবস্থায় কারো কোনো জ্বর হলেই মনে করতে হবে এইটা চিকুনগুনিয়া !!

সত্যিকার অর্থে চিকুনগুনিয়া আর ডেঙ্গু দুটোর ক্ষেত্রেই বৈশিষ্ঠ প্রায় একইরকম থাকে | যার ফলে দুটোর মধ্যে আলাদাভাবে চিহ্নিত করার কাজটা কঠিন | তবে, পার্থক্য হলো ডেঙ্গু জ্বরে চোখ ,মাথা, মাংসপেশী ,হাড়ে প্রচন্ড ব্যথা হয় | চিকুন্গুনিয়ার এইসব বৈশিষ্ট কম বেশি থাকলেও এর উল্লেখযোগ্য লক্ষণ জ্বরের সাথে জয়েন্টে প্রচন্ড ব্যথা, বমি ,ডায়রিয়া আর ত্বকে লাল রঙের র‍্যাশ | ব্যথাটাও এতই মারাত্বক যে অনেকের ভাষ্যমতে এর বর্ণনা হলো “কেউ পিডায়লেও মনেও হয় এত ব্যথা করেনা !!” কাজেই, বোঝায় যাচ্ছে এই অসুখে খুব ব্যথা আর জ্বর হয় !

ডায়াগনস করার উপায়

ডেঙ্গু আর চিকুনগুনিয়া ডায়াগনস প্রায় একই পদ্ধতিতে করে থাকে | আরটি-পিসিআর , কালচার বা এন্টিবডি পরীক্ষা করে এই রোগ নির্ণয় করা হয় |

 

চিকুনগুনিয়া থেকে বাচার উপায়

চিকুনগুনিয়া থেকে বাচার অর্থ হলো মশাকে প্রিভেন্ট করা | সাধারণত নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে এই কাজটা করা হয়ে থাকে |

  •  পুরো শরীর কে যতখানি সম্ভব ঢেকে রাখা |
  •  মশার ঔষুধ ব্যবহার করা |
  •  সবসময় রিপেলেন্ট কেনার ক্ষেত্রে ইনগ্রেডিয়েন্ট চেক করে নিতে হবে | যাদের মধ্যে – DEET, Picaridin, PMD, IR3535 উক্ত আইটেমগুলো বিদ্যমান |
  •  যদি সানস্ক্রিন ব্যবহার করা হয় তাহলে, প্রথমে সানস্ক্রিন এবং এর উপর রিপেলেন্ট প্রয়োগ করতে হবে |
  •  পার্মিথরিন ট্রিটেড জামা পড়তে হবে | (পার্মিথরিন সরাসরি ত্বকে প্রয়োগ করা যাবেনা )
  •  এসি রুমে ঘুমালে ভালো হয় !
  •  এছাড়াও ঘরে নেট ব্যবহার করা যেতে পারে |

 

রোগ মুক্তির উপায় 

প্রথমেই বলি হতাশ হতে হবে কারণ, চিকুনগুনিয়া থেকে আক্ষরিক অর্থে মুক্তি লাভ করা যায়না ! কারণ, এখন পর্যন্ত এর কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি | এইটা এমনিতেই ৭-১০ দিনের মধ্যে সেরে যায় | যদি সত্যিই কিছু করতে হয় তাহলে প্রিভেনশনই সবচেয়ে ভালো | তবে, তাও বেশ কিছু পদ্ধতি যা অনুসরণ করে এই অসুখের সময় নিজেকে কিছুটা ভালো রাখা যায় | এর মধ্যে হলো –

  • জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ গ্রহণ|
  • প্রচুর পরিমানে পানি পান |
  • আর বেড রেস্টে থাকা |

 

কখন হাসপাতালে যাবেন ?

চিকুনগুনিয়া সাধারণত ষাটর্ধ ব্যক্তি ,অন্তসত্ব নারী ,ছোট শিশু এদের ক্ষেত্রে ঝুকি তুলনামূলক বেশি থাকে | এছাড়াও, যাদের কিডনি, যকৃত বা হৃদযন্ত্রে অসুখ রয়েছে তাদের ক্ষেত্রেও এর ঝুকি বেশি থাকে | যদি রক্ত চাপ কমে যায় কিংবা প্রসবের পরিমান ৫০০ মিলিলিটারের কম হয় ,তিন দিনের অধিক সময় জ্বর থাকে তাহলে বুঝতে হবে এখন হাসপাতালে যাবার সময় হয়েছে |

 

চিকুনগুনিয়া বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত

এই বিষয়ে বাংলাদেশের ঢাকা মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় অধাপক মো: শহিদুল বাশার বলেন  -“প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ ছাড়া অন্য কোনো ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া যাবেনা | এছাড়াও প্রচুর পরিমান পানি পান করতে হবে | আর চিকুনগুনিয়ার মৃত্যুঝুকি প্রায় নেই বললেই চলে |” এছাড়াও তিনি দুর্বলতা কাটাতে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার প্রতিও জোরদান করেন |

প্রফেসর আবুল কালাম আজাদের বক্তব্য মতে -“এই রোগের উপসর্গ দেখা দিলে এক সপ্তাহের মধ্যেই সেরলোজি এবং আরসি-পিসিআর টেস্ট করে শনাক্ত করা যায় |”

মোট কথা, বিশেষজ্ঞদের আলাপ থেকে একটা বিষয় বোঝা যায় চিকুনগুনিয়া নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত হবার কোনো প্রয়োজন আসলে নেই |

 

আজকে এই পর্যন্তই | পরবর্তিতে হয়ত নতুন কোনো টপিক নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব | সবাইকে ধন্যবাদ |

 


 

References :

  1. http://www.who.int/mediacentre/factsheets/fs327/en/
  2. https://wwwnc.cdc.gov/travel/diseases/chikungunya
  3. http://www.webmd.com/a-to-z-guides/tc/chikungunya-fever-topic-overview
  4. https://en.wikipedia.org/wiki/Chikungunya
  5. http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/1190166/%E0%A6%8F%E0%A6%A4-%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%A5%E0%A6%BE

দ্যা লাস্ট পিস অফ্ বার্থডে কেক

Now Reading
দ্যা লাস্ট পিস অফ্ বার্থডে কেক

সকালবেলা পুব আকাশে আলোর দেখা নেই কিন্তু আবীর ঘুম থেকে উঠে দিব্যি আরামে তৈরি হচ্ছে। এই চিত্র তো সচরাচর দেখা যায় না কেননা তা কেবল মাঝে মাঝে হয় ।আবীর যেখানে থাকে তা মফস্বল এলাকা শহরের ব্যস্ততার কোলাহল থেকে অনেক দুরে।আবীরের বন্ধুর সংখ্যা ডজন খানেক হবে। এই বন্ধুদের প্রাণভোমরা আবীর কেননা তার মতো মিশুক স্বভাবের কেউ হলে বন্ধুসংখ্যা নেহায়েত বাড়তে পারে।আবীরের বাসা নিয়ে বন্ধুদের কৌতুহল তার যবনিকা আবীর কখনো টানে নি ,তাই এখানে আবীর পদ্মা নদীর মাঝির হোসেন মিয়ার মতো রহস্যময় একটা চরিত্র।

আবীর বেশ পরিপাটি হয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে গেল। আজ তার ডজনখানেক বন্ধুর মধ্যে একজনের জন্মদিন।এই কাজে আবীরের ব্যাপক আগ্রহ আর দক্ষতার কারণে তাকে বন্ধুরা নি:সন্দেহে দায়িত্ব দিয়ে দেয়।বন্ধুদের জন্য ক্ষুদ্র পরিসরে কিছু একটা করতে পেরে আবীর যারপরণাই খুশি।আজকে বার্থডে পার্টি ছুটির দিনে হওয়ায় আবীরদের প্ল্যান পেয়েছে ভিন্নমাত্রা তারা সবাই মিলে আজ সাগর তীরে যাবে সেখানে দুপুরে সমুদ্রস্নান করবে,বোট রাইডিং করবে আরো কত কি ?বিকেলে সাগরের বালুকাময় তটে বসে সূর্যাস্ত দেখে চোখ জুড়িয়ে নির্মল বাতাসে গা এলিয়ে দিয়ে প্রকৃতির একটু কাছাকাছি যাওয়ার প্রয়াস বটে।

আবীরের বন্ধুরা একে একে সবাই চলে আসে তাদের উপস্থিতি দেখে আবীর বেশ খুশি কেননা এটাই হয়তো বন্ধুদের সাথে তার কাটানো শেষ জন্মদিনের পার্টি।

এইতো কিছুদিন পর যে যার যার মতো করে চলে যাবে জীবন সংগ্রামে জড়িয়ে পড়বে।ইতিমধ্যে সবার পড়ালেখার পাঠ চুকিয়ে ফেলেছে কেবল ফলাফলের আশায় বসে আছে।বন্ধুদের অপেক্ষা করতে করতে আবীর এতক্ষণ শুধু এ কথায় ভাবছিল তার এই অকৃত্রিম বন্ধুসঙ্গের তুলনা আসলে কারো সাথে চলে না।

পরবর্তী আধাঘন্টা তারা গাড়িতে হৈ হুল্লোড় আর মাস্তিতে কাটালো,বন্ধুর জন্মদিন কিভাবে উপভোগ্য করা যায় তা কেউ যেন আবীরকে দেখে শিখে।গাড়িতে করে যাওয়ার সময় কি করবে তা বন্দোবস্ত করে রেখেছে।এই কাজে আবীরের দক্ষতা প্রশংসিত বন্ধুদের মধ্যে কেউ কেউ তো আবীরকে ডিরেক্টর বলে ডাকে।

যেই কথা সেই কাজ সারাদিন তারা সাগর জলে লাফালাফি আর বিকেলে পড়ন্ত রোদে সূর্যাস্ত দেখা মাঝখানে দুপুরে ভুরিভোজন তো ছিলই।সারাদিন একে অপরের সাথে খুনসুটি তো ছিলই ।আবীরের এক ডজন বন্ধুর মধ্যে এটা ছিল ১১তম  জন্মদিনের পার্টি বাকি কেবল আবীর। বন্ধুরা সবাই প্ল্যান করে রেখেছে আবীরের জন্মদিনটা তারা বেশ ঝাঁকজমকভাবে করবে।এই যে আবীরের জন্মদিন তার রহস্যে উদঘাটন করতে বন্ধুদের নাকানি চুবানি খেতে হয়েছে।অবশেষে যা তারিখ উদ্ধার হলো তা বেশ জটিল কেননা তারিখটা ছিল ২৯শে ফেব্রুয়ারী। আবীরের যে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তা বেশ গভীর যে কেউ চাইলে সহজে তা অনুধাবন করতে পারে না।

সারাদিনের ঘোরাঘুরি করার পর আবীর ও তার বন্ধুরা চলে এল তার এক বন্ধুর বাড়িতে যেখানে রাতে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে।সারাদিনের ক্লান্তি সবার উপর ভর করায় সবাই রীতিমতো কাবু।ব্যবসায়ী বাবার একমাত্র সন্তানের বার্থ ডে বন্ধুদের নিয়ে করার জন্য কোন আত্মীয় স্বজনকে দাওয়াত করেন নি । আবীর সহ বাকি বন্ধুদের সবার ঠিকানা আপাতত আজকের বার্থডে বয় নাবিলের বাড়ির ছাদে।খোলা আকাশে চাঁদনী রাতে তারা সবাই মিলে আঁতশবাজি ফাটাবে আর কেক কাটবে।আবীরের চরিত্রের মতো তার চিন্তাগুলোও কি অদ্ভুত তাই না ?

বন্ধুদের এমনই ভাষ্য ছিল।তবে যে তারা আনন্দ উপভোগের কোন কমতি পাচ্ছে না তাও ঠিক।

তাই নির্দিষ্ট সময়ে কেক চলে আসল নাবিল কেক কাটল তারা তাদের পরিকল্পনা মতো হৈ হুল্লোড় করে নিল।এসবের মাঝে যথারীতি ফটোসেশন চলল।সবাইকে কেক বিলিয়ে দেয়ার পর নাবিল আবীরের জন্য একটা ছোট প্যাকেট নিয়ে আসল।এই সময় আবীর অন্যদের সাথে মজা করছিল।নাবিল তাকে একপাশে ডেকে নিল আর বলল আবীর তোর বোধহয় আজ মনে নেই। এই প্যাকেটটা আমি তোর জন্য এনেছি। আবীর একটু চমকে গেল নিজেকে আবার সামলিয়ে নিল।

নাবিলঃ দেখ আবীর প্রতিবারই বার্থডে পার্টি শেষ করে তুই কেবল এক টুকরো কেক আর একটা ফুল নিয়ে যাস। এতদিন আমরা কেউ তোর প্রতি অগাধ বিশ্বাস আর সম্মান রেখে জানতে চাই নি । আজ যখন তুই এর ব্যতিক্রম করলি তাই বন্ধুত্বের খাতিরে তোর কাছে জানতে চাইব ,আসলে কি এমন ব্যাথা যেটা তুই সযতনে লুকিয়ে রেখেছিস।

আবীরঃ আরে ব্যাটা ;তুই তো আমাকে ইমোশনাল করে দিলি।আমি নিজে থেকে বলব বলে তো আজ ওরকম কিছু করি নি।

নাবিলঃ সত্যি বলছিস ?

আবীরঃ আমরা তো আজ রাতের খাবার তোর এখানে খাচ্ছি;খাবারের পর এখানে ছাদে এসে না হয় বলব।আগে খাওয়াটা সেরে নিই।আন্টি অনেক কষ্ট করে করেছে আমাদের জন্য।

আবীরকে দেখে নিষ্প্রাণ মনে হল না বাইরে থেকে দেখতে খুব স্বাভাবিক মনে হল।বন্ধুরা সবাই মিলে খাবার খেয়ে নিল সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু কিন্তু আবীর।খাবারের পর জটপট সবাই চলে এল,আবীরকে মধ্যমণি করে বসিয়ে সবাই চক্রাকারে বসেছে।

এবার আবীর একদম সাবলীলভাবে শুরু করল তার কথাটা ……

তোরা হয়ত জানিস না আমি জীবনের বেশির ভাগ সময়টা কাটিয়েছি একটা এতিমখানায়।আমার যেদিন জন্ম হয় সেদিন নাকি আমার মা মারা যায়।তাই আমার মায়ের মৃত্যুর দিন আমি জন্মদিনের উৎসব কিভাবে করব ? সবচেয়ে বড় কথা সঠিক কোনদিন আমার জন্ম হয়েছে নির্দিষ্ট তারিখটা জানি না,যার কারণে মায়ের মৃত্যুদিবসটা পালন করতে পারি না।মূলত জন্মের সময় মাকে হারিয়ে আমি জন্মদিন পালন করার অধিকারটুকু হারিয়ে বসেছি।

তাই তোদের সবার জন্মদিনের দিন আমি এক টুকরো কেক নিয়ে রাতের খোলা আকাশে বসে ঐ হাজার তারার ভীড়ে মাকে খুঁজি আর অনাড়ম্বরভাবে মায়ের সাথে জন্মদিন পালন করি।

আমি জানি তোরা সবাই মিলে এবার ২৯শে ফেব্রুয়ারী আমার জন্মদিন পালন করার প্ল্যান করেছিস। এই জন্মদিনের পিছনে একটা ঘটনা আছে।যখন আমার স্কুলে রেজিস্ট্রেশনের জন্য জন্ম তারিখের প্রযোজন ছিল তখন আমি কোন সুনির্দিষ্ট তারিখ বলতে পারি নি।সেদিন স্যারের ধমক খেয়ে হুট করে ২৯শে ফ্রেবুয়ারী দিনটা বলে দিই।সেদিনের পর এটাই আমার অফিসিয়াল বার্থ ডে। (মুখে একটা চাপা হাসি)

আবীরের কথাটার পর বন্ধুরা সবাই একটু নড়ে বসল এতক্ষণ সবাই মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনেছে।পরক্ষণে আবীর টেনে বলল আরে আমি তো তোদের সবার সাথে জন্মদিন পালন করেছি।

তোদের সাথে এই স্বল্পসময়ে পরিচয়ে আমার বার্থ ডে পালন করার সুযোগটা তোদের দিতে পারলাম না।

আমি আসলেই অভাগা দোস্ত…..

এই সময় একটা পিনপতন নীরবতা বিরাজ করছিল কেননা আমাদের কথার সময়ে নাবিলের মা এস দাঁড়িয়ে ছিল।উনি আবীরের সমস্ত কথা শুনে আবীরকে এসে জড়িয়ে ধরল।

এই সময় আবীর আবেগাপ্লুত হয়ে সজোরে কেঁদেছে একদম বাচ্চা ছেলের মতো।মায়ের মমতার অতৃপ্তি আর নিজের মনের ক্ষোভের কালো মেঘটা সরিয়ে নিতে তার এরকম একটা বৃষ্টির দরকার ছিল।

সেদিনের রাতের পর অনেক বছর কেটে গেছে।আমি আজ আবীরের মেয়ের বার্থডে পার্টিতে গেস্ট।অফিসের কাজে একটু দেরী হওয়াতে আসতে দেরী হল।আবীর আমাকে কেক দেয়ার সময় বলে দিয়েছে,দোস্ত এটাই কেকের লাস্ট পিস ছিল আমি তোর জন্য রেখেছি। এই কথাটা শোনার পর আমি স্মৃতির করিডোরে হেঁটে এলাম স্মৃতি বড়ই যাতনাময়…..

তবে তার মায়ের জন্য নিশ্চয়ই রাখবে।আবীরের মেয়েটো হয়েছে একদম পরীর মতো দেখতে তবে আবীর ওকে স্রেফ মা বলে ডাকে। সেই অর্থে তো আজ তার মায়ের জন্মদিন।

শুভ জন্মদিন।

সাবধানতার মোড়কে যৌনতার ডামাঢোল

Now Reading
সাবধানতার মোড়কে যৌনতার ডামাঢোল

মানব সভ্যতার বিবর্তনের যে বাহ্যিকতা তার অনেকটাই মানুষের নানান কর্মকান্ডের মাধ্যমে নিয়ত পরিবর্তিত হয়ে আজকের অবস্থানে এসেছে।আমরা যদি লক্ষ্য করি বাংলাদেশ স্বাধীন ভূ-খন্ড হওয়ার পর থেকে সার্বিক অর্থে বাংলাদেশের যে সভ্যতার বিকাশ,মানবীয় আচরণ ও গুণাবলির বিকাশ পাশাপাশি সৃজনশীলতার পরিচায় বহনকারী কার্যাবলীর যে নমুনা তার অনেকটাই আধুনিকতার মোড়কে। এই সময়ে সবচেয়ে বেশি অগ্রসর হয়েছে বাংলাদেশের মিডিয়া।

স্বাধীনতা পরবর্তী যাবতীয় কর্মকান্ডের কৃতিত্ব বাঙালি জাতি হিসেবে আমরা দাবি করতে পারি।আমাদের স্বভাবজাত একটা অভ্যাস যেটা কিনা অনেকাংশে বদভ্যাস বলা যায়।আমরা নতুনকে আহবান করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ভিনদেশী সংস্কৃতিকে কাছে টেনে নিচ্ছি। এটা আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে গেছে তাই চাইলেও আমরা এই চক্রাকার গন্ডি থেকে বের হতে পারি না।

বিদেশী সংস্কৃতি বা মূল্যবোধকে আঁকড়ে ধরতে গিয়ে আমরা প্রতিনিয়ত একটা আগ্রাসনের শিকার হতে যাচ্ছি।এই যে আগ্রাসন তা ক্রমশ আমাদেরকে অক্টোপাসের মত ঘিরে ধরছে যা জাতির স্বকীয়তাকে ভঙ্গুর করে দিবে।সম্প্রতি যে আগ্রাসন আমাদের সংস্কৃতির উপর বিরুপ প্রভাব রাখছে তা বর্তমান প্রজন্মকে বিপদগামী যেমন করছে তেমনি ভবিষ্যত প্রজন্মকে দিগভ্রান্ত করে তুলবে।তাই এই বিষয়ে আমাদের সোচ্চার হওয়া জরুরী কেননা হেলায় গা ভাসিয়ে আমরা কোন একটা সংকটময় পরিস্থিতির নীরব দর্শক হতে পারি না।

আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে আমরা বিনোদনের জন্য জাদুর বাক্সরুপী টেলিভিশনের উপর আকর্ষিত হয়ে যাচ্ছি।টেলিভিশনের প্রাণ মূলত বর্তমান সময়ের স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো ।এই স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে আপনার কাছে বাহারি অনুষ্ঠানের পসরা সাজিয়ে বসে আছে।আপনার আমার কৌতুহলী মন তা কোনভাবেই অবহেলা করতে পারবে না।এটাই স্বাভাবিক কেননা নিয়ত নতুন কিছু আমার জানার আগ্রহ যেমন বৃদ্ধি করে তেমনি নিজেকে আত্মতৃপ্তিতে ভোগায়।

আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির উপর যে বিরুপ প্রভাব পড়ছে স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোর জন্য তা কোনক্রমে অস্বীকার করার উপায় নেই।এটাকে আপনি প্রকরান্তরে সামাজিক আগ্রাসন বলতে পারবেন।

বর্তমানে মানুষের মধ্যে প্রতিনিয়ত নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার একটা সুপ্ত বাসনা তা যখন প্রকট আকার ধারণ করে, তখন নিজের অবস্থান সমন্নুত রাখতে নিজেকে জয়ী হিসেবে দেখতে যেকোন কিছু করতে রাজি হয়।এই যে নিজের সাথে প্রতিযোগিতা ও এক ধরনের স্বার্থান্বেষী মনোভাব তার শুরুটা হয় পরিবার,বাবা,মা,ভাই-বোন প্রতিবেশী ও বন্ধু স্বজন এদের যে কাউকে কেন্দ্র করে। এই ধরনের সমস্যা যখন ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তখন সমাজে একটা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। সমাজের প্রতিটা স্তরে এসব কার্যাবলির কারণে প্রভাবিত হয়। তখন সমাজে বসবাসকারী মানুষ আবার নতুন কোন উৎস বা পথের সন্ধান করে। এই ধরনের পরিবর্তন হওয়া স্বাভাবিক সমাজ বিশ্লেষকদের মতে সমাজে এই যে নেতিবাচক কর্মকান্ড তাতে সম্পৃক্ততা যাদের তারা সংখ্যায় কম কিন্তু এসবের বিরুদ্ধে কোন সুচিন্তিত পদক্ষেপ না থাকাতে এক সময এগুলো মহীরুহে পরিণত হয়।

মানুষের যে অভিযোজন ক্ষমতা তার কল্যাণে প্রকৃতির নানান পরিবর্তনের সাথে তার খাপ খাইয়ে নেয়ার একটা মানসিক ক্ষমতা অন্তনির্হিত শক্তি বিদ্যমান রয়েছে।এই গুণাবলির কারণে সমাজের ভারসাম্য এখনো অটুট রয়েছে।

সমাজ সংস্কারক বা নীতিনির্ধারকরা এই সকল সসম্যা সমাধানকল্পে গঠনমূলক পদক্ষেপ নেয়। এই কর্তৃপক্ষের বাইরে গিয়ে সমাজে বসবাসরত মানুষের জন্য কিছু একটা করার দায়বদ্ধতা রয়ে যায় মিডিয়ার,কেননা এই মিডিয়া কেবল বর্তমানে সবার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হতে পারে।এই প্রসঙ্গে সমাজের কল্যাণের জন্য কিছু করাটা তাদের নৈতিক দায়বদ্ধতার মধ্যে পড়ে।

আমরা দেখি জাতীয় ও আন্তজার্তিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলো নিজ পরিসর থেকে তাদের সক্ষমতার আলোকে অনেক কিছু করছে।এই যে সচেতনতামূলক কর্মকান্ড এটাকে হাতিয়ার বানিয়ে বর্তমান সময়ে স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো এক ধরনের আগ্রাসন চালাচ্ছে।সমাজের প্রতিটা মানুষের নৈতিক দায়বদ্ধতা রয়েছে সমাজের প্রতি কিন্তু অসাধু কিছু ব্যবসায়ী এই কাজকে মোক্ষম হাতিয়ার বানিয়ে চ্যানেলের টিআরপি বাড়িয়ে নিচ্ছে।এই একই কাজের কারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো যে শো বা অনুষ্ঠানমালা প্রচার করে তাতে স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সম্পর্কের মুল্যকে ঠুনকো করে দেখানো হয়।তখন পর্দার এপাশে বসে দর্শক এরুপ কিছু ভেবে বসে হয়তো ভাবে এটাই হওয়াটা অনুচিত নয়। সমাজের মানুষকে সাবধান করার আরো বহুবিধ উপায় আছে বা ছিল কিন্তু চ্যানেলগুলো বেছে নিয়েছে এক ধরনের কৌশল যা কিনা সমাজের জন্য আত্মঘাতী বলা যায়।

বিদেশী বা দেশীয় চ্যানেলগুলোতে যে ক্রাইম বা অপরাধ বিষয়ে সচেতনতামূলক শো চালায় তার নেপথ্যে কি ? এই বিষয়টা দর্শকের কাছে এখনো পরিস্কার না। কেননা এই অনুষ্ঠান আপনি যদিও সচেতনতার স্বার্থে বানাচ্ছেন কিন্তু এমনও পরিস্থিতি আছে যেখানে আপনি পরিবার পরিজন নিয়ে তা উপভোগ করতে পারছেন না।

এখানে প্রতিটা শো বা পর্বের স্টোরি বা গল্প বলার ধরনটা এমন মুখরোচক করবে যাতে আপনাকে পর্দার সামনে আটকে রাখবে। এই বিষয়টা মূলত কোম্পানির প্রোগ্রাম পলিসির আওতায় পড়ে।

এখানে প্রেম, ভালবাসা, পারিবারিক দ্বন্ধ ,ব্যবসায়িক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দ্বন্ধ, স্বার্থপরতা, হিংসা বিদ্বেষ সবকিছুর পরিণতিটা আলটিমেট নির্ধারিত করা থাকে।প্রতিটি ঘটনার নাটকীয়তায় এখানে খুনের ঘটনা বা যৌনতার ঘটনাকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হাইলাইট করে আসছে। তাছাড়া এখানে কলাকৌশলীদের যেভাবে উপস্থাপন করা হয় তাতে করে মূল যে উদ্দেশ্য ঐ অপরাধ বিষয়ে আপনি আমি সচরাচর সতর্ক হব তা বেমালুম ভুলে যায়।

ইদানীং আমরা পত্রিকায় পাতায় দেখি কোন ঘটনার ব্যাখায় সাংবাদিক বা প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য তাকে এই ঘটনা ফিল্মি কায়দায় হয়েছে।এইসব ঘটনা যারা ঘটাচ্ছে তারা নিশ্চয়ই কোন মাধ্যমকে অনুসরণ করে তা করতে গিয়ে এক ধাপ বেশি সতর্ক হয়ে যায়।

এক প্রবীণের ভাষ্য আমাদের সময় এতো প্রেম ভালবাসা ছিল না এখন কেন এসব হচ্ছে।এটা স্বাভাবিক প্রশ্ন কেননা আপনার সামনে যদি ইনিয়ে বিনিয়ে কোন ঘটনাকে উপস্থাপন করা হয় তবে কৌতুহলবশত আমরা চ্যালেঞ্জিং কোন কিছুকে গ্রহণ করব।

দেশীয় বা বিদেশী চ্যানেলগুলোতে অপরাধ বিষয়ে সচেতন করতে যে অনুষ্ঠান বা শো দর্শকের সামনে হাজির হয় তাতে খোদ সিনিয়র সিটিজেনদের আপত্তি বা ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

আপনি যদি সামাজিক দায়বদ্ধতার কারনে কিছু করতে চান তবে অন্যভাবে করেন।আপনি প্রতিদিন একজন ভিক্ষুককে ভিক্ষা দিয়ে তার সমস্যা নিরসন করতে পারবেন না ভালো হয় যদি তার একটা পুনবার্সন করেন।

এই একই উপায় অবলম্বন করে আমরা সামাজিক সমস্যা সমাধানের জন্য গ্রাম বা মহল্লা পর্যায়ে জনসচেতনতামূলক পদক্ষেপ নিতে পারি।একদম প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ হতে শুরু করে প্রায় সবাইকে সামাজিক আন্দোলনে শরিক করে আমরা দৃশ্যমান সকল অসঙ্গতির একটা সুন্দর বিহিত করতে পারি।

স্থানীয় নীতিনির্ধারক বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের তদারিকর মাধ্যমে কেবল এই সকল সমস্যার আশু প্রতিকার সম্ভব হবে। আমরা প্রান্তিক পর্যায়ে সামাজিক সচতেনতা বাড়ানোর জন্য মনিটরিং সেল বা কমিউনিটি ক্লাব গঠন করতে পারি যা কিনা এইসকল সমস্যার সমাধান বা নিরসনকল্পে কাজ করবে কেবল সামাজিক দায়বদ্ধতা হতে।

বাংলাদেশ ফুটবলের পরিক্রমা

Now Reading
বাংলাদেশ ফুটবলের পরিক্রমা

দ্যা গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ — নামে পরিচিত বিশ্ব ফুটবলের মর্যাদার আসর ফুটবল বিশ্বকাপ।প্রতি চার বছর পর এই আসরে সারা বিশ্ব বুঁদ হয়ে থাকে। সারা বিশ্বের প্রায়ই ২০০ এর কাছাকাছি দেশ যারা কিনা প্রাথমিক পর্বে লড়াই করে মূল পর্বে টিকেট নিশ্চিত করতে।তাই দুবছর ধরে একটা মৃদু উন্মাদনা চলে ফুটবরপ্রেমীদের মাঝে।বাংলাদেশের ফুটবল এই সময় দুটো ভাগে ভাগ হয়ে যায় কেননা চিরপ্রতিদ্বন্ধী লাতিন আমেরিকার দুই পরাশক্তি আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলে বিভক্ত দুই দেশ।বিশ্বকাপ ফুটবলের সাথে সম্পৃক্ততা বলতে আমাদের এইটুকুই।
উপমহাদেশীয় যে প্রতিযোগিতা তা টপকে মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা নিশ্চিত করার স্বপ্ন অলীক স্বপ্নের মতো দেখায় কেননা আমরা এখনো প্রান্তিক পর্বে তেমন কোন সফলতা দেখাতে পারি নাই বললে চলে।আমাদের মূল দলের সফলতা বলতে কেবল সাফ গেমসের জয়।এটা সার্ক অঞ্চলের ফুটবলে খেলুড়ে দেশগুলোর মর্যাদার আসর বলে বিবেচিত।তাছাড়া এএফসি গেমস সহ আরো অনেক টুর্ণামেন্ট যেখানে আমরা নিজেদের উপস্থিতি তেমন উজ্বল করতে পারি নি।সমগ্র এশিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে এইসব প্রতিযোগিতায় জাপান,চীন,কোরিয়ার পাশাপাশি মধ্যেপ্রাচ্যর বেশ কয়েকটি দেশ ইরান,উজবেকিস্তান,সৌদি আরব,যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ ইরাক ও আফগানিস্তান যখন প্রতিযোগিতায় তাদের সক্ষমতার জানান দেয় তখন নিশ্চয়ই আমাদের সক্ষমতা নিয়ে ভাবা উচিত।
ফুটবল একটি দলগত প্রচেষ্ঠা কেননা এখানে জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে সম্মিলিত প্রচেষ্ঠার ফসল একেকটি খেলার জয়। যে সকল দেশে জাতীয়তাবাদ ঠুনকো সেখানে ফুটবলের সফলতা গৌণ বলা যায়। দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে ভারত তাদের অবস্থান সমুন্নত রাখতে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প হাতে নিয়েছে তারই ফলাফল স্বরুপ তারা বিগত কয়েক বছর ধরে ফ্র্যাঞ্ছাইজি ভিত্তিক ফুটবলের আসর নিয়মিত করছে। যেটা কিনা অনেকটা ইংলিশ লীগ ও লা-লিগার আদলে গড়ে তোলেছে।এই লীগে তারা সম্পৃক্ত করেছে তারকা খ্যাতি সম্পন্ন মানুষ এবং ধনীদের যেখানে তারা এই ফুটবলের উন্নয়নের ছোঁয়া বিস্তৃত করতে কোন কমতি রাখে নি।এখানে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যের সাথে জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হচ্ছে না।
উন্মুক্ত স্যাটেলাইটের কল্যাণে আমরা এখন রাত বিরাতে বিদেশী ফুটবলের উন্মাদনায় নিজেরা শরিক হই।এই একই কারণে আমাদের আশার পারদ তরতর করে বেড়ে চলছে।দেশীয় লীগের কোন ম্যাচে ঘরোয়া ফুটবলারের ড্রিবলিং বা পাসিং আমাদের মন ভরায় না।এটা আমাদের দোষ না এই ক্ষেত্রে অতিমাত্রায় আশাবাদী হওয়া ভুল বটে।কেননা আমি যদি দেশীয় ফুটবলের মামুনুল,জাহেদ,হেমন্ত ভিনসেন্ট এদের পারফরম্যান্সের তুলনা মেসি,রোনালদো নেইমারের পাল্লায় করি এটা আমাকে চরমভাবে হতাশ করবে।
আমাদের একটা বিষয় মানতে হবে ভৌগলিক পরিবেশ বা জাতিসত্তার কারণে আমরা সক্ষমতার দিক দিয়ে ইউরোপ,আমেরিকা ও আফ্রিকার মানুষের চেয়ে পিছিয়ে।এই পিছিয়ে থাকা মেনে নিয়ে সমস্ত দায়বদ্ধতা এড়িয়ে যেতে পারি না। দিনবদলের পালায় সমস্ত কিছু পরিবর্তন হয় কেবল ফুটবলের ভাগ্য পরিবর্তন হয় এটা মানা যায় না। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা কখনো সামগ্রিক ব্যর্থতা হতে পারে না।
এখন উন্নয়নের জয়রথে ফুটবলকে ঘিরে নবতর কৌশল আর প্রযুক্তির উদ্ভাবন হয়েছে আমরা কি আদৌ তার ‍উপযুক্ত ব্যবহার করেছি। শারীরিক সক্ষমতা কাটিয়ে উঠতে যেখানে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত হাই স্কোয়াড টিম গঠন করে যাদের কেবল আর্ন্তজাতিক মানের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সর্বশেষ আইএসএল এর মতো লীগে আমরা দেখি বিদেশী খেলোযাড়দের পাশাপাশি ইন্ডিয়ান খেলোয়াড়দের নৈপুণ্য। সেই তুলনায় দেশীয় ফুটবলে আমরা এখনো নিয়ম করে ঘরোয়া ফুটবলকে ঘোচাতে পারি নি।এটা অবশ্য কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা কেননা প্রশাসনিক বা অবকাঠামোগত দিক দিয়ে ফুটবলে এখনো বিশৃঙ্খলা গত সপ্তাহে একটা লীগের ম্যাচে লাল কার্ড দেয়ার ঘটনায় ক্লাবের কর্তাস্থানীয় ব্যক্তি যদি বিবাদে জড়িয়ে পড়ে তাতে চরম মাত্রায় যে পেশাদারীত্বের অভাব তা প্রতীয়মান হয়। এই ফুটবলকে ক্রিকেটের সমমান না হোক বর্তমান অবস্থা হতে উত্তরণের জন্য অবশ্যই সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
এই সময়ের ফুটবলপ্রেমীরা কোন অনুপ্রেরণা পাই না কেননা তারা সর্বশেষ কোন শিরোপা যা কিনা মর্যাদাপূর্ণ আসরের প্রতিনিধিত্ব করে, এমন কোন শিরোপা বাংলাদেশকে উঁচিয়ে ধরতে দেখে নি।
ফুটবলের পালাবদলে দেশে বিদেশী কোচের আসা যাওয়া আমরা দেখি নিয়ত তাদের ভাষ্য ট্যাকনিক্যাল বিষয়ে পারদর্শী হওয়া সম্ভব হলেও আমরা শারীরিক সক্ষমতা কাটিয়ে উঠতে পারছি না। এখন প্রশ্ন হলো এই অক্ষমতা কাটাতে আমাদের গৃহীত পদক্ষেপ কতখানি ফলদায়ক।যেখানে এশীয় অন্যদেশগুলো ধারাবাহিকতায় এগিয়ে যাচ্ছে সেখানে আমরা অপরিবর্তিত রয়ে যাচ্ছি। এইক্ষেত্রে সর্বশেষ সংযোজন আমরা আন্তজার্তিক আসর থেকে প্রায়ই তিন বছরের জন্য ছিটকে গেছি যেটা কিনা আমাদের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।
দেশীয় ফুটবলে গতি আনতে আমরা এখনো বিদেশী ভাড়া করা ফুটবলরারের উপর নির্ভরশীল। দেশীয় ফুটবলকে সুসংহত করতে একটা সময় উদ্যেগ নিয়েছিল বিদেশীদের জাতীয়তা প্রদান করে দল গঠনের যেটা কিনা অযৌক্তিক বটে।আমাদের সামনে আরো অনেক বিকল্প থাকা স্বত্ত্বেও আমরা কেন এমন পন্থার উপর দ্বারস্থ হবো।
ভারত বা শ্রীলংকার দলে অধিবাসী বা অভিবাসী দুই গোত্র থেকে লোকের সমাগম হয়।এখানে যোগ্যতাটা মুখ্য কেননা আমাদের অবকাঠামোগত ব্যবস্থাপনা দুর্বল হওয়াতে আমরা প্রান্তিক স্তরের ফুটবলার পাচ্ছি না।আমাদের দেশীয় সুযোগ সুবিধার মধ্যে বসবাস করছে পাহাড়ী জনগোষ্ঠী যারা কিনা রাষ্ট্র প্রদত্ত সকল সুবিধা ভোগ করছে তবে কেন তাদেরকে উপযুক্ত তদারকির মাধ্যমে জাতীয় দলে পর্যায়ক্রমে অর্ন্তভুক্ত করতে পারি না ?
সমতলের জনগোষ্ঠীর সক্ষমতার সাথে এই পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা ফুটবলের মতো পেশী শক্তির খেলায় একটা ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠনে সহায়ক হবে।
আমার সাথে অনেকে একমত হবে ফুটবলে জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে এ ধরনের পদক্ষেপ আমাদের সামনের পথচলাকে আরো শক্তিশালী করবে।
আমাদের ফুটবলে পিছিয়ে পড়ার একটা বড় সমস্যা হল প্রান্তিক পর্যায়ে ফুটবলের অবকাঠামোগত দুর্বলতা,খেলার মাঠের অভাব,পৃষ্ঠপোষকতার স্বল্পতা ইত্যাদি।ফুটবল যেমন মনস্তাত্ত্বিক খেলা তেমনি শক্তি ও কলাকৌশল প্রর্দশনের জায়গা বটে।এসব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠার যথেষ্ট উপায় বা সম্ভাবনা আমাদের সামনে আছে।এই ক্ষেত্রে যে সমস্যা প্রকট তা হলো অর্ন্তদ্বন্ধ আর পেশার প্রতি উদাসীনতা।সম্প্রতি হকির ক্ষেত্রে দেখা যায় প্রায় সময়ই খেলোয়াড়দের অসন্তোষ যেটা কিনা দেশীয় ফুটবলে হয়ে থাকে। বাংলাদেশ ফুটবলের অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম সহ আরো কয়েকজনকে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ এনে নিষিদ্ধ করা হয়। যেখানে নতুন ফুটবলার উঠে আসার পদ্ধতিটা আমরা কঠোর করে রেখেছি সেখানে প্রতিষ্ঠিতদের প্রতি কোনরুপ অন্যায় বা অবিচারের আলোকে শাস্তির খড়গ দেশীয় ফুটবলের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বটে।
এই একই সময়ে নিষিদ্ধ খেলোয়াড়দের নিষেধাজ্ঞার ধকল কাটিয়ে জাতীয় পর্যায়ে কোন ম্যাচ খেলতে পাঠানো হলে তার কাছ থেকে কতটুকু ফলাফল আপনি আশা করতে পারেন তা সময়ে বলে দেয়।
ইউরোপ আমেরিকার দেশগুলোতে আমাদের নিয়ত আনাগোনা কেবলই আমরা তাদের ফুটবলের সফলতার গুণগান করি নিতান্তপক্ষে তাদের প্রচলিত পদ্ধতি বা ব্যবস্থাপনার কোন যোগসাজেশ কেবল দেশীয় ফুটবলের সাথে জড়াতে পারি না। দেশীয় ফুটবলের অন্তরায় হতে পারে আমলা বা কর্তা নিয়োগ সম্পর্কিত সমস্যা যেমন আপনার সাথে ফুটবলের কোনকালে সম্পর্ক ছিল না আপনি ফুটবলের উন্নয়নের সাথে সিদ্ধান্ত প্রণয়ণে একটু একটু পিছিয়ে থাকবেন,এই সামান্যতম পিছিয়ে থাকাটা দেশীয় ফুটবলে প্রকট হয়ে ধরা দিয়েছে।
আধুনিক ফুটবলে দলবদলের নিয়ম যা কিনা অনেকটা কেনাবেচার সমান। এখানে অর্থের প্রভাব আর ক্ষমতার অপব্যবহার যা আপনাকে নিতান্তপক্ষে প্রকৃত লক্ষ্য বা সাধনা থেকে সরিয়ে নিয়ে আসবে।
এই সমস্যার সমাধানকল্পে অবশ্য কর্তৃপক্ষ পেশাদার ফুটবলের স্বার্থরক্ষায় যুগোপযোগি সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবে যা কিনা প্রকরান্তরে দেশীয় ফুটবলের উন্নয়নকল্পে অবদান রাখবে।
দেশীয় ফুটবলের হারানো গৌরব আর সোনালি সুদিন ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন যৌক্তিক পদক্ষেপ নিবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবলও তার মর্যাদাপূর্ণ আসরে দেশের পতাকাকে সমুন্নত রাখবে ।

আর্ন্তজাতিক পরিমন্ডলে ক্রিকেট এখন বাংলাদেশের ক্রীড়াজগতের এক অনবদ্য প্রতীক;যেখানে আমরা ফুটবলকে নিয়ে যেতে পারি কেবল দরকার সমন্বিত প্রচেষ্টা আর ফুটবলের প্রতি ভালবাসা।

মাইক্রোবায়োলজি কিংবা অণুজীববিজ্ঞানের ইতিহাস

Now Reading
মাইক্রোবায়োলজি কিংবা অণুজীববিজ্ঞানের ইতিহাস

মাইক্রোবায়োলজি কিংবা অণুজীববিজ্ঞান বললেই আমাদের চোখের সামনে যে সকল বস্তু চলে আসে তা হলো ভাইরাস,ব্যাকটেরিয়া,প্রটোজোয়া ইত্যাদি । মাইক্রোবায়োলজি বর্তমান সময়ে বেশ একটি জনপ্রিয় বিষয় হয়ে উঠেছে । দেশে বিদেশে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই বিষয়টি পড়ানো হয় এবং গবেষণা করা হয় । অত্যন্ত ক্ষুদ্র জীবাণু যা খালি চোখে দেখা যায় না ,এই সকল জীবাণুই এই বিষয় এর অন্তর্ভুক্ত । এই সকল জীবাণু সম্মন্ধে বিস্তারিত আলোচনা ,এদের ক্ষতিক্ষর প্ৰভাৱ এবং এদের কিছু উপকারী দিক সম্মন্ধে আলোচনা করা হয় এই বিষয়ে ।এবার আলোচনা করা যাক এই অণুজীববিজ্ঞানের ইতিহাস নিয়ে। এই সকল ভাইরাস ,ব্যাকটেরিয়া কিন্তু একদিনে আবিষ্কৃত হয় নাই এবং এদের ইতিহাস বৃহৎ ।

১৬৬৫ সালে রবার্ট হুক সর্বপ্রথম প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে পান ।তিনি তার মাইক্রোস্কোপ দিয়ে এগুলো পর্যবেক্ষন করেন ।তিনি এগুলোর নাম দেন ”সেল” কিংবা কোষ ।তার এই পর্যবেক্ষণ মাইক্রোবায়োলোজির ইতিহাসে প্রথম ভীত স্থাপন করে ।এরপর বিজ্ঞানী লিউয়েনহুক প্রথম তার মাইক্রোস্কোপ এ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জীবাণু পর্যবেক্ষণ করেন ।তিনি এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জীবাণুর নাম দেন ”এনিম্যালকুয়েলস”।তিনি এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জীবাণুর আকৃতির বর্ণনা দেন এবং এগুলোকে বিস্তারিত তার কাগজে এঁকেছিলেন ।এরপর অনেক দিন অনুজীবিজ্ঞানের অগ্রগতি বন্ধ হয়ে ছিলো ।এই সময় কিছু দার্শনিক এবং বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করতেন যে ,”ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জীবাণুরা জড় বস্তু দেখে জন্ম নেয় ”।মানুষ বিশ্বাস করতো যে ,ইঁদুর ,স্যাপ এগুলো নোংরা মাটি বা কাদা যুক্ত মাটি দেখে জন্মাতে পারে।এই ধারণাকে বদলে দেওয়ার জন্য জন নিধাম একটি এক্সপেরিমেন্ট অর্থাৎ পরীক্ষা করেছিলেন।প্রথমে তিনি কিছু ফ্লাস্ক অর্থাৎ পাত্র নিয়েছিলেন এবং এই পাত্রগুলো তিনি টুকরো টুকরো মাংস দ্বারা পূর্ণ করেছিলেন তিনি এই পাত্রগুলো কিছু মাংস দ্বারা পূর্ণ করেছিলেন । কিছু পাত্র তিনি সিল অর্থাৎ বন্ধ করে দিয়েছিলেন এবং কিছু পাত্র খোলা অবস্থায় রেখেছিলেন।কিছুদিন পরে তিনি লক্ষ্য করলেন যে খোলা পাত্রে জীবাণুর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া গেছে । কিন্তু যে পাত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল সে পাত্রে কোনো জীবাণুর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় নি ।কিন্তু এরপরেও অনেক বিজ্ঞানী দাবি করেছিলেন যে খোলা পাত্রে বাতাস প্রবেশ করতে পেরেছিলো ,তাই জীবাণু জন্মাতে পেরেছে কিন্তু বন্ধ করা পাত্রে কোনো জীবাণু জন্মায় নি কারণ সেখানে কোনো বাতাস প্রবেশ করতে পারে নি ।১৭৪৫ সালে জন নিধাম আবারো দাবি করলেন যে ,”ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জীব জড় বস্তু দেখে জন্মায় ” ।কিন্তু বিজ্ঞানী স্প্যানল্যানজানি নিধাম এর ধারণাকে ভুল দাবি করেন ।তিনি বলেন যে ,”জীবাণুরা সবসময় জীবন্ত কোষ থেকেই জন্মায় ” এবং এরা বাতাসে বর্তমান থাকে ।বাতাসের মাধ্যমে এগুলো কোনো কিছুর সাথে মিশে ওই বস্তুকে দূষিত করতে পারে ।১৮৫৮ সালে রুডলফ ভারচু বিজ্ঞানীদের একটি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন ।তিনি এই তত্ত্বের নাম দেন ”জীবনজনিতত্ত্ব”।কিন্তু তিনি তেমন কোনো প্রমান দেখাতে পারেন নি তাই এই ধারণা বেশিদূর পৌঁছাতে পারে নি ।

অবশেষে ১৮৬১ সালে সকল জল্পনা কল্পনা অবসান ঘটে ।লুই পাস্তুর ধারণা দেন যে ,জীবাণুরা বাতাসে থাকে এবং তারা যেকোনো জিনিসকে সংক্রমিত করতে পারে ।তার এই ধারণা প্রমান করার জন্য পাস্তুর একটি পরীক্ষা করেছিলেন যেখানে তিনি দেখিয়েছেন যে ,জীবাণুরা আপনা আপনি জড় বস্তু থেকে তৈরী হয় না ।তিনি প্রথমে কিছু ফ্লাস্ক নিয়েছিলেন এবং ফ্লাস্কগুলো মুরগির সুপ্ দ্বারা এবং পূর্ণ করেছিলেন ।এরপর সেগুলোকে তিনি তাপ দিয়েছেন বিশুদ্ধ করেছিলেন । এরপর তিনি সেগুলো তাপ দেন এবং কিছু ফ্লাস্ক সিলগালা করে দেন অর্থাৎ কিছু ফ্লাস বন্ধ করে দেন। বাকি কিছু ফ্লাস্ক তিনি খোলা অবস্থা রেখে দেন । তিনি কিছুদিন পরে খোলা পাত্রে কিছু জীবাণু দেখতে পেয়েছিলেন এবং যেইগুলো বন্ধ করে দিয়েছিলেন সেখানে কোনো জীবাণু দেখতে পান নি।এরপরেও কিছু দার্শনিক এবং বিজ্ঞানীরা দাবি করলেও যে বন্ধ করা ফ্লাস্কগুলোতে বাতাস প্রেস করতে পারে নি তাই জীবাণুরা জন্মাতে পারে নি। এবার তিনি তিনি অন্য পদ্ধতিতে তার এক্সপেরিমেন্ট করেন এবং এর সময়ে তিনি কিছু ফ্লাস্ক আবারো চিকেন সুপ্ নিয়েছিলেন । এবার পাত্রগুলো ছিলো লম্বা গলা ওয়ালা এবং সেখানে বাতাস প্রবেশ করার ব্যবস্থা ছিলো । কিন্তু পাত্রগুলোর ডিজাইন এমনভাবে করা হয়েছিলো যে পাত্র গুলোতে কোনো বাতাসের জীবাণু প্রবেশ করে পারবে না । এরপর তিনি ফ্লাস্ক কিংবা পাত্র গুলোকে খোলা জায়গায় রেখে দিয়েছিলেন । কিছুদিন পরে তিনি পাত্রের মুখে কিছু জীবাণু আবিষ্কার করেছিলেন । অর্থাৎ তিনি প্রমান করতে সক্ষম হয়েছিলেন যে ,জীবাণুরা বাতাসে থাকে এবং তারা যে কোনো কিছুর সাথে মিশে সংক্রমিত হতে পারে এবং জীবাণুরা সবসময় জীবিত কোষ থেকেই উৎপন্ন হয় ।

এই লুই পাস্তুরের দ্বারাই মাইক্রোবায়োলজি সোনালী যুগের শুরু হয়েছিলো । পাস্তুর এরপর ফার্মেন্টেশন পদ্ধতি সম্মন্ধে বিস্তারিত ধারণা দেন ।তিনি পাস্তুরাইজেশন এর আবিষ্কারক। এই পাস্তুরাইজেশন বর্তমান সময় বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে । অনেক পানীয় ,দুধ ,বেভারেজ ,এগুলো কোম্পানিতে প্যাকিং এর সময় এই মেথড ব্যবহার করা হয় ।

এরপর আসে রবার্ট কোচ এর তত্ত্ব এবং এর কিছুদিন পর পর ই মানুষ বুঝতে পারে যে , ”জীবাণুরা রোগ তৈরী করতে পারে ”। অর্থাৎ এই অণুজীববিজ্ঞানের ইতিহাসে এইদুইজন বিজ্ঞানীর ভূমিকা অপরিসীম । এই মাইক্রোবায়োলজি বর্তমান সময়ের একটি চমকপ্রদ সাবজেক্ট এবং এর চাকুরী ক্ষেত্র অনেক বিশদ ।মাইক্রোবায়োলজি নিয়ে যারা ডিগ্রী লাভ করে তাদের মাইক্রোবায়োলোজিস্ট বলা হয়। আর এই মাইক্রোবায়োলোজিস্টদের এইসব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জীবাণু যা খাল চোখে দেখা যায় না তাদের নিয়ে সুস্পষ্ট ধারণা থাকতে হয় । এই সেক্টরে গবেষণার খাত অনেক বড়। বাংলাদেশেও দিনে দিনে এর বড় খাত তৈরী হচ্ছে।

সোর্স,cliffsnotes.com

পিকচার সোর্স,bsnscb.com

Page Sidebar