ঢোপকল – এক হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য

Now Reading
ঢোপকল – এক হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য

পানির অপর নাম জীবন। পরিষ্কার করে বলতে গেলে বিশুদ্ধ পানির অপর নাম জীবন।  কিন্তু এই পানিই দূষিত হলে তা হয়ে দাঁড়ায় মৃত্যুর কারন। বিশুদ্ধ পানির অভাবে দেখা দিতে পারে নানান রকম রোগ-বালাই। তাই চলুন আজ জেনে আসা যাক শিক্ষানগরী তথা  আম ও রেশমের নগরী রাজশাহীর হারিয়ে যাওয়া এক পানি সরবরাহকারী বন্ধুর গল্প। এ বন্ধুর নাম “ঢোপকল”।

 

পদ্মার কোল ঘেঁষে রাজশাহী অঞ্চল গড়ে উঠেছে। পদ্মার কোল ঘেঁষে গড়ে উঠলেও এখানকার মানুষদের জীবনযাপন সহজ ছিল না। বহুকাল থেকেই জনজীবনে পানি নিয়ে সমস্যা ছিলই। একবার রাজশাহী শহরের পানীয় জল পানের অযোগ্য হয়ে পড়ে। চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে আমাশয়-কলেরাসহ পানি-বাহিত নানা রোগ। দিশেহারা হয়ে পড়ে মানবজীবন।

সময়টা ১৯৩৭ সালের মাঝামাঝি। পানির এ সঙ্কট নিরসনে কলকাতার তত্ত্বাবধানে রাজশাহী শহরজুড়ে স্থাপন করা হয় শতাধিক পানির কল। দেখতে অদ্ভুত এ পানির কলগুলোই পরে ‘ঢোপকল’ হিসেবে পরিচিতি পায়। সেই থেকে রাজশাহী-বাসীর সঙ্গে দীর্ঘ  প্রায় ৮০ বছরের সম্পর্ক ঢোপকলগুলোর।

এক একটা ঢোপকল মাটি থেকে প্রায় সাড়ে ১১ ফুট লম্বা। আর এ গম্বুজাকৃতির কলগুলো তৈরি করতে তৎকালে ব্যবহার করা হয়েছিল সাদা সিমেন্ট, তবে সেই সময় একে বিলেতি মাটি বলা হতো। আর পুরো নকশাটা তৈরি হয়েছিল টিনের শিট দিয়ে। প্রথমে টিনের শিটের একটা বলয় তৈরি করা হতো। এর উপর দেওয়া হতো সাদা সিমেন্টের ঢালাই। সহজে যাতে না ভাঙে তাই ঢোপকল তৈরিতে তিন-দফা সিমেন্টের প্রলেপ দেওয়া হতো।

তবে যতোটা সহজ মনে হচ্ছে ততোটা সহজ ছিল না ঢোপকল তৈরির ইতিহাস।

কলকাতার তত্ত্বাবধানে শুরু হলেও একসময় ঢোপকল তৈরি প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।   কলকাতা যে অনুদান ও আর্থিক সহায়তা দিচ্ছিল তা ছিল অপ্রতুল। তাই আর দশটা প্রকল্পের মতই  অর্থসঙ্কটের  কারণে ঢোপকল প্রকল্প ভেস্তে যেতে বসেছিল।

সে সময় নিরুপায় হয়ে অনেকের  কাছে  এ  পানির কল বানানোর জন্য অর্থ সহায়তা চাওয়াও হয়েছিল। নগরের ধনাঢ্য অনেক ব্যক্তির কাছে সহায়তা চাওয়া হলেও তারা কেউ এগিয়ে আসেননি। শুধু  তৎকালীন ধনীদের মধ্যে এগিয়ে আসেন রাজশাহী জেলার পুঠিয়া জমিদার বাড়ির রানী হেমন্ত-কুমারী। তিনি প্রায় ৬৫ হাজার টাকা দান করেন ঢোপকল স্থাপনে। যদিও ধারণা করা হয় পুরো প্রকল্পটি শেষ করতে ব্যয় হয়েছিল পৌনে তিন লাখ টাকা। রানী হেমন্ত কুমারীর প্রতি সম্মান জানাতে তাই ঢোপকল প্রকল্পটির নাম রাখা হয়েছিল “হেমন্ত-কুমারী ওয়াটার ওয়ার্কস” ।

 

পৌর কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় রাজশাহীর সোনাদিঘি থেকে পাম্পের সাহায্যে পানি সরবরাহ করা হতো এসব ঢোপকলে। প্রথমে মহারাণী হেমন্ত-কুমারী পানি শোধন কেন্দ্রে পানিকে বিভিন্ন ট্রিটমেন্ট করে পানি থেকে আয়রন ও পানির ক্ষারতা দুর করা হতো। তারপর সেটা সরবরাহ করা হতো সেই ঢোপগুলোতে। তবে সর্বপ্রথমে সেটা পাথরকুচির ফিল্টার দিয়ে পানি ফিল্টার করা হতো। এরপর সেটা সিমেন্টের তৈরি মোটা পাইপের সাহায্যে বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হতো। এই ঢোপকলগুলোর প্রতিটির পানি ধারণক্ষমতা ৪৭০ গ্যালন। প্রতিটি ঢোপকলেই ছিল একটি ‘রাফিং ফিল্টার’। এতে বালি ও পাথরের স্তর থাকায় সরবরাহ করা পানি আরও পরিশোধিত হয়ে বের হতো । শুরুর দিনগুলোতে ঢোপকল শুধু বিশুদ্ধ পানিই সরবরাহ করত না, শোনা যায়, ঢোপকল এর পানি যথেষ্ট ঠাণ্ডাও থাকত এর গঠনপ্রণালীর জন্য। তবে   সেই সময় সারাদিনে মাত্র দুই ঘণ্টা পানি সরবরাহ করা হতো। মোড়ে মোড়ে ঢোপকলগুলোতে পানি ধরে রাখা হতো। ফলে সারাদিনই পানি পাওয়া যেত।

প্রায় প্রতি দুই মাস পর পর এই ঢোপকল গুলোকে পরিষ্কার করা হতো। পরিষ্কারের নিয়মটি ছিল খুবই আধুনিক। এই ঢোপকলের উপরের ঢাকনাটি খোলা যেত। তারপর ভিতরে মানুষ নেমে ব্লিচিং পাউডার ও অন্যান্য জিনিস দিয়ে সেটা পরিষ্কার করতো। প্রতি দুই মাস পর পর প্রত্যেকটি ঢোপকল থেকে পানির স্যাম্পল সংগ্রহ করা হতো। পরে সেটা পাঠানো হতো পরীক্ষাগারে পানির মান ঠিক আছে কিনা সেটা দেখার জন্য।(সূত্র উইকিপিডিয়া)

লোকমুখে শোনা যায়, ঢোপকলের পানি শুধু তৃষ্ণাই মেটাতো না অনেক ক্ষেত্রে রোগের দাওয়াই হিসেবেও ব্যবহার করা হতো। এর মধ্য দিয়ে একটা জিনিস পরিষ্কার যে, ঢোপকল থেকে একই সঙ্গে স্বচ্ছ ও বিশুদ্ধ পানি পাওয়া যেতো।

 

কিন্তু সেদিনের সেই কষ্টার্জিত ঢোপকল আজ অবহেলিত। শহরের শতাধিক ঢোপকলের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটি বর্তমানে সচল আছে। অচল ঢোপকলগুলো দিয়ে পানি বেরুলেও তা আর বিশুদ্ধ নেই। কোথাও-বা ঢোপকল ভেঙে গড়ে তোলা হয়েছে বসতভিটা। বেশ কিছু ঢোপকল  ভেঙে ফেলা হয়েছে রাস্তা সম্প্রসারণে, ফুটপাতের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে। বেশ কিছু ঢোপকলে ওয়াসা থেকেই পানির সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কারণ হিসেবে তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, এসব ঢোপকল থেকে তারা কোনো রাজস্ব পান না, বিধায় এগুলো চালু রাখা তাদের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ভাবে অলাভজনক। রাজশাহী-বাসীর বিভিন্ন সময়ের দাবির কারণে ইদানীং কয়েকটি ঢোপকল বরেন্দ্র যাদুঘরে স্থান পেয়েছে। এছাড়া নগরীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়েও স্থাপিত হয়েছে ঢোপকল।

 

ঐতিহ্যের নগরী রাজশাহীতে ইদানীংকালে আধুনিকতার জোয়ার এসেছে। নগরের পুরনো দালান-কোঠা ভেঙে এখানে ওখানে মাথা উঁচু করছে নতুন নতুন দালান। তৈরি হচ্ছে যানজট, বাড়ছে যান্ত্রিকতা। এই যান্ত্রিকতার সময়ে কালের আঘাত এড়িয়ে ঢোপকলগুলো কতদিন টিকে থাকবে তা হয়ত সময়ই বলে দিবে। তবে  ইতিহাস সংরক্ষণে ঢোপকলের বিলুপ্তি যে আমাদের উদাসীনতার এটিও এক দৃষ্টান্ত সেটি নিঃসন্দেহে বলাই যায়।

নদী দূষণ

Now Reading
নদী দূষণ

ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানি । এই শহরে বসবাস করে প্রায় ১৫ মিলিয়ন মাণুষ এবং প্রতিদিন পানি লাগে প্রায় ২.২ বিলিয়ন লিটার । কিন্তু আমাদের ই পানি আসে কোথা থেকে? যদি আপনার মনে এই প্রশ্ন আসে তার উত্তর হচ্ছে ভূগর্ভস্থ এবং নদী থেকে । ঢাকার পাশে দিয়ে চলে গেছি কিছু বড় নদী সেগুলো হচ্ছে: তুরাগ, বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, লখনিয়া এবং টঙ্গী খাল । কিন্তু মজার বেপার কি জানেন আমারা প্রতিদিন যেই ভাবে নদী দূষণ করছি একদিন দেখা যাবে আমাদের দেশে নদী আছে ঠিকি কিন্তু নদীর পানি নাই আছে শুধু ময়লা আর রাসায়নিক আর কিছু পাওয়া যাবে না । এক সময় আমাদের এক মাএ চলাচলের ব্যবস্থা ছিল নদী পথ আর আমাদের দেশের প্রথম দিকের বাণিজ্য গুলিও হয়েছে এই নদীর উপর দিয়েই । আর আজ আমরা আমাদের এই নদী কে দূষিত করে ময়লার আর রাসায়নিক দিয়ে শেষ করে দিচ্ছি । এই নদী দূষণের ফলে দূষিত হচ্ছে আমাদের ভূগর্ভস্থ এর পানি আর সেই দূসিত পানি পান করছি আমরা । আমি যদি ঢাকার সেই চিরচেনা নদী বুড়িগঙ্গার কথাবলি তাহলে আমি শুনতে পাই সেই দিন গুলির কথা,যেই দিনে বুড়িগঙ্গা ছিল এক মাএ জায়গা যা আমাদের এই রাজধানির সাথে জুরে রাখত দেশের প্রতিটি প্রান্তকে। আর এখন এমন এক অবস্থা হয়েছে যে “বুড়িগঙ্গার পানি এখন এত দূষিত যে সমস্ত মাছ মারা গিয়েছে, মানুষের বর্জ্য বর্ধন করে এটি একটি কালো পানিতে পরিণত হয়েছে। সুতরাং এই সমস্যাটি বাংলাদেশের এখন একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এটি সমাধান করা উচিত। না হলে দেখা যাবে এক সময় ভুলেই যাব আমাদের দেশটি নদীমাতৃক দেশ ছিল । বিশ্বজুড়ে যখন পানি বাচাও আন্দোলন চলছে তখন আমরা পানি দূষণ করেই যাচ্ছি । যাইহোক, বাংলাদেশের রাজধানী হচ্ছে – বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্রতম এবং কম উন্নত দেশগুলির মধ্যে একটি – এটির শারীরিক ও সামাজিক অবনতির কথা বিবেচনা করে শহরটি কে উন্নত করা কাজ হয়েছে। ফলস্বরূপ, জনসংখ্যার দ্রুত বর্ধন এবং শিল্প থেকে দূষণকারীর বৃদ্ধি, এবং পৌরসম্পর্কিত বর্জ্যসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে সৃষ্ট পরিবেশগত পরিণতিগুলি ঢাকা শহরের চারপাশের নদীগুলির ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

River Pollution-59.jpg

চলুন তাহলে জেনে নেই কি ভাবে নদীর পানি দূষণ হচ্ছে এবং এর প্রভাব।

নদী দূষণ :

বাংলাদেশের নদী দূষণের শিকার, বিশেষতঃ ঢাকার আশেপাশের নদীগুলি দূষিত হয়ে পড়েছে।

কারণ সমূহ:

১.দ্রুত ও অনির্বাচিত নগরায়ণ ও শিল্পায়ন, ইটভাটা উন্নয়ন, ডাইনিং কারখানা, ট্যানারিরী ও নদী দখল ।

২.অপ্রয়োজনীয় বর্জ্যগুলি নদীতে ফেলে দেওয়া হয় কারণ বেশীরভাগ শিল্পেরই কোনো শোধানাগার নেই ।

২০০৯ সালে বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ (বিসিএএস) কর্তৃক পরিচালিত একটি শিল্প জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৪০% শিল্পই ইপিএস রয়েছে। ১০% শিল্পের মধ্যে, ইপিএস নির্মাণাধীন রয়েছে এবং প্রায় ৫০% শিল্পের কোন ইপিএস নেই। তাই আমাদের শিল্পের ৫০% বর্জ্যগুলি নদীতে চলে যাচ্ছে ।

৪. কিছু নদী কৃষকদের দ্বারা পাট গাছ পচা ব্যবহার করা হয় যার ফলে দূষিত হচ্ছে নদী ।

৫.নৌকা এবং বিভিন্ন জলবাহী জাহাজের তেল ছিটকে দূষিত হচ্ছে নদী ।

৬.কৃষি জমিতে কৃষি রাসায়নিক ব্যবহারে দূষিত হচ্ছে নদী ।

75507.story_x_large.jpg

নদী দূষণের প্রভাব:

১.অনেকগুলি নদীর পানি ভর্তি অক্সিজেন স্তর মারাত্মক খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে যার ফলে কোনো জীব বসবাস করতে পারছে না ।

২.বর্ষা মৌসুমে দূষিত পানি ছড়িয়ে পড়ার কারণে কৃষিজমি দূষিত হয় এবং তার ফলে ফসল উৎপাদন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে ।

৩. কখনও কখনও দূষিত পানি খাদ্য শৃঙ্খলে প্রবেশ করে অবশেষে পাখি, মাছ এবং স্তন্যপায়ী প্রাণনাশ করে।

৪.কর্ণফুলীতে সাম্প্রতিক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা মাটির উপর ‘ঝুঁকি স্তরের খুব কাছাকাছি’ তেজস্ক্রিয়তা খুঁজে পেয়েছে। যদি নদীর তীরে তেজস্ক্রিয়তা বৃদ্ধি পায় তবে এটি মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন এবং মাছের বৃদ্ধি হ্রাস করবে। যদি লোকেরা ক্ষতিগ্রস্ত মাছ খায় তাহলে পারে তাদের দেহে ছড়িয়ে পড়তে পারে এই তেজস্ক্রিয়তা । ২০০০ সালের পারমাণবিক বিকিরণের প্রভাব সম্পর্কে জাতিসংঘের বৈজ্ঞানিক কমিটির মতে, তেজস্ক্রিয়তার কারণে রেডিয়েশন বিপদের মাত্রা ০.৫। তাদের গবেষণা বিজ্ঞানীদের অভ্যন্তরীণ বিকিরণ বিপত্তি যেখানে ঝুঁকি স্তর ১ এবং বাহ্যিক বিকিরণ বিপত্তি জন্য ০.৬৫০৭ এবং ০.৮২ পেয়েছেন ।

৫.নদীতে পাট জমতে থাকার কারণেই নদীর পানির গুণমান খারাপ হচ্ছে এই অবস্থার থাকে কারণ জলজ প্রাণী অক্সিজেনের অভাবে মারা যাচ্ছে।

৬.দূষণ এত তীব্র যে খুব কমই জল-জীবগুলি তা সহ্য করতে পারে এবং অবশেষে, অনেক প্রজাতির মাছ নদীতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এই মৃত মাছ ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায় এবং নদীর পানি আরও দূষিত করে তোলে ।

৭.নদী দূষণের ফলে স্থানীয় জেলেদেরও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। তারা তাদের আয় উৎস হারিয়ে ফেলছে এবং তাদের জীবন আরো কঠিন হয়ে উঠছে ।

৮.এটি ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যগুলির পরিবর্তনও করে যার ফলে নদী চ্যানেল, বন্যা, সমভূমি বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করতে পারে।

৯. লিড, ক্যাডমিয়াম, লোহা, তামা ও জৈবিক বর্জ্য দূষণ করে নদী কে।

এই নদী দূষণ থেকে নদী কে রকা করতে বাংলাদেশ সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়। তার মাঝে উল্লেখযোগ একটি হল: হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি শিল্প স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত ।

আসুন আমরা সচেতন হই এবং অন্য কেউ সচেতন করে তুলি।