জেমস পটার অ্যান্ড দ্যা হল অফ এল্ডারস’ ক্রসিং-পার্ট ১

Now Reading
জেমস পটার অ্যান্ড দ্যা হল অফ এল্ডারস’ ক্রসিং-পার্ট ১

 

পূর্বকথা

উঁকি দিয়ে করিডরটা একবার দেখে নিলো গ্রে।আধো অন্ধকারে মনে হচ্ছে এর কোন শেষ নেই।শুধু জলাভূমির ভূতুড়ে আলোর মত রুপালী আলোর গোলক ভাসছে করিডর জুড়ে।গ্রে কে বলা হয়েছে এগুলোকে টাইম লুপ চার্মে রাখা হয়েছে যাতে কখনোই না নেভে।তারপরও,এটা হল অফ মিস্ট্রি।একটু কেঁপে উঠল সে। ‘আমি কাউকে দেখছি না এখানে’।ফিসফিসিয়ে পেছনে দাঁড়ানো দুজনকে উদ্দেশ্য করে বলল সে।‘দরজা টরজা-কিছুই তো নেই।তোমার কি মনে হয় তারা অদৃশ্য ব্যারিয়ার জাতীয় কিছু ব্যবহার করছে’? ‘উঁহু’,ভারি গলায় কেউ একজন জবাব দিল।‘আমাদের তো আগে থেকেই বলা আছে বীকনগুলো কোথায় রাখা আছে,তাই না?এই অংশটা নিরাপদ।পাহারাদারকে নিয়েই যত চিন্তা।যদি তাকে দেখতে না পাও,আমরা এগুবো। পায়ের ভর বদলাল গ্রে।“আমি জানি কি কি বলা হয়েছে।কিন্তু কিছু একটা ঠিক লাগছে না,বিস্টল।এসব ব্যাপারে আমার ইন্দ্রিয় আগে থেকেই সজাগ’। ‘আমাকে বিস্টল বলবে না গাধা কোথাকার,’বলল ভারি গলার মালিক-কালো শার্ট আর ট্রাউজার পরা লোমশ গবলিনটা।‘কাজের সময় আমি স্যাফ্রন,বুঝলে?’আর তোমার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের গুল্লি মারি।অপরিচিত জায়গায় আসলে ভিতুর ডিম হয়ে যাও তুমি।যত তাড়াতাড়ি ঢুকতে পারবো,তত তাড়াতাড়ি কাজ সেরে বেরিয়ে শ্যাকে ফিরে ফুর্তি করা যাবে’। তৃতীয় জন,লম্বা আর ছাগলাদাড়ি বুড়ো।সে স্যাফ্রনকে পাশ কাটিয়ে স্বাভাবিকভাবে করিডোর ধরে হেঁটে গেল দরজাগুলো চেক করতে করতে’। ‘দেখলে,পিঙ্ক কি করলো?’স্যাফ্রন বলল চারপাশে তাকিয়ে অনুসরণ করতে করতে।সে তার ইনফরমেশনে আস্থা রাখতে জানে।পাহারাদার নেই তো সমস্যাও নেই।তাই না,পিঙ্ক?’ গ্রে স্যাফ্রনের পিছে পিছে আসছিল,ভ্রু কুঁচকে রহস্যময় দরজাগুলো দেখতে দেখতে।সংখ্যায় সেগুলো শত শত না,হাজার হাজার।বিশাল করিডরের পাশ জুড়ে থাকা দরজাগুলোর কোনটার উপরেই কোন ধরণের নাম বা নির্দেশক নেই।দলের নেতৃত্বে থাকা পিঙ্ক গুণতে গুণতে যাচ্ছিল। ‘আমাকেই কেন গ্রে হতে হল?’গ্রে বলে উঠলো। ‘ধূসর কেউই পছন্দ করে না।এইটা কোন রঙ হল?’ গবলিনটা তার কথায় পাত্তা দিল না।কতক্ষণ পর পিঙ্ক থামল।বাকিরাও তার পিছে থেমে গিয়ে ভ্রু কুঁচকে তাকাল। ‘এটা কিভাবে সে জায়গা হয়?এই অংশে তো কোন দরজাই নাই।তুমি ঠিকঠাক গুনেছ তো পিঙ্ক?’ ‘ঠিকই গুনেছি’।পিঙ্ক বলল।তারপর নিচে তাকিয়ে মেঝের একটা অংশে জুতোর ডগা দিয়ে টোকা দিতেই একটা টাইলসের কোণায় সামান্য ফাটল দেখা গেল।পিঙ্ক ঝুঁকে সেই ফাটলে আঙ্গুল রেখে টান দিতেই মেঝের চারকোণা একটা অংশ উপরে উঠে এলো।সে উঠে দাঁড়াতেই ড্রয়ারের মত চৌকো অংশটা ঘড়ঘড় শব্দে ছাদ পর্যন্ত উঠে থামল।ওটা দরজার মতই লম্বা চওড়া,কিন্তু মাত্র কয়েক ইঞ্চি পুরু।গ্রে সেটার পিছে উঁকি দিয়ে কেবল সীমাহীন করিডোরটাই দেখতে পেল। ‘তুমি কিভাবে জানলে ওটার অস্তিত্ব?’স্যাফ্রন জানতে চাইল। “সে বলেছে”।পিঙ্ক কাঁধ ঝাঁকাল। “সে বলেছে,তাই না?আর কি কি বলেছে যার ব্যাপারে এখনো আমাদের জানাও নি?” ‘যতটুকু লাগে এখানে আসতে,ততটুকুই।পিঙ্ক জবাব দিল।তুমি তালার কারিগর,গ্রে মাসলম্যান আর আমি তোমাদের পথ প্রদর্শক।যার যদ্দুর জানা দরকার সে তদ্দুরই জানে। ‘হ্যাঁ হ্যাঁ,মনে আছে।গবলিন ঘাউ ঘাউ করে উঠল।তাহলে আমার কাজ আমি করি,ঠিক আছে? পিঙ্ক সরে জায়গা করে দিতেই স্যাফ্রন রহস্যময় পাথরের স্ল্যাবটার কাছে এসে তার বিশাল একটা কান পাতল,এখানে সেখানে টোকা দিয়ে দেখল।তারপর পকেট থেকে অসংখ্য পিতলের লুপওয়ালা একটা যন্ত্র বের করে একটা লুপের ভেতর দিয়ে স্ল্যাবটা দেখল। ‘তেমন কঠিন কিছু না’।বিড়বিড় করছে সে।‘এটা হোমানকিউলাস লক।তখনই খুলবে যখন আগে থেকে ঠিক করে রাখা কিছু জিনিস ঘটবে।হতে পারে যখন চাঁদের বুড়ি চরকা ভেঙে ব্রাজিলে গিয়ে ভোর তিনটায় সাম্বা নাচবে অথবা সুমন যখন গিটার ফেলে গুয়াতেমালায় নামতা শেখাতে যাবে কিংবা গ্রে যখন দেয়ালে পেশাব দিয়ে নিজের নাম লিখবে।আমি এরকম বেশকিছু হোমানকিউলাস ফ্যাক্টর দেখেছি।হাহ হাহ হা। ‘তাহলে এটা বেশ ভালোই,না?’ গ্রে আশাবাদী। গবলিনটা তার চোখা দাঁত বের করে হাসল।‘এটা পিঙ্কের কথার মতই।এই কাজ সারার মত দক্ষতা আমাদের আছে’।আরেক পকেট থেকে লাল পাউডার ভর্তি ছোট্ট একটা শিশি বের করে সাবধানে কর্ক খুলে স্ল্যাবের সামনে ফ্লোরে ঢালল।পাউডারটা তরলের মতন পাক খেয়ে খেয়ে ফ্লোরে পড়েই একটা পরিচিত নকশা তৈরি করল-একটা কঙ্কালের হাত,যেটা ইশারা করছে স্ল্যাবের দিকে। স্যাফ্রন ছোট্ট একটা পিতলের যন্ত্র বের করে বিড়বিড় করে আওড়াল-‘অ্যাকুলুমোস’।সাথে সাথে সেটার মাথা দিয়ে চিকন সবুজ আলোকরশ্মি বেরুতে লাগলো।হাঁটু গেঁড়ে বসে সাবধানে যন্ত্রের মুখ আঙুলটার দেখানো দিকে তাক করে রেখে দিয়ে মি. গ্রে অস্ফুটে আওয়াজ করে পিছিয়ে গেল।পিতলের যন্ত্রটার সবজে আলোয় স্ল্যাবটার পাথুরে পৃষ্ঠটাকে অন্যরকম দেখাচ্ছে।আলোছায়ার কারসাজিতে ফুটে উঠেছে একটা দৃশ্য- দাঁত ক্যালানো একটা কংকাল,যার চারপাশে নেচে বেড়ানো খুদে কিছু ছায়া।কংকালটার ডান হাত বাড়ানো,অনেকটা দরজার হাতলের মতন।বাম হাতটা দেখা যাচ্ছিল না।পিঙ্কের গা কাঁটা দিয়ে উঠল।সে বুঝে গেছে বাম হাতটা আসলে কোথায়। এটাকে বলে ‘ডান্স মাকাব্রে’।স্যাফ্রন বলল দৃশ্যটা পর্যবেক্ষণ করতে করতে।‘ড্যান্স অফ ডেড বা মৃত্যু নাচ’ ও বলে।মধ্যযুগীয় শিল্পকর্ম।ড্রাগনের রক্তের গুঁড়ো আর গুহার আলোতে প্রকাশ পেয়েছে।‘শাবাশ,গ্রে’! “তাহলে কি তালা খুলেছে?”পিঙ্কের গলায় আগ্রহ। “তালা দেয়া থাকলেই না খুলবে”।গবলিনটা জবাব দিল।“আমাদের শুধু জানা দরকার ছিল কোথায় ধরতে হবে”।ভেতরে ঢুকতে পারো এবার,পিঙ্ক। লম্বা,দাঁড়িওয়ালা লোকটা স্ল্যাবের দিকে সাবধানে এগুলো,যাতে সবজে আলোটা বাধা না পায়।তারপর কঙ্কালের বাড়ানো হাত ধরে মোচড় দিতেই মৃদু ক্লিক শব্দে দরজার মত অংশটা ভেতরে ঢুকে বিশাল,অন্ধকার একটা জায়গা উন্মুক্ত করে দিল।ভেতরে দূর থেকে পানি পড়ার টুপ টাপ আওয়াজ আর ঠান্ডা বাতাস আসছিল।গ্রে’র কপালে জমে থাকা ঘামের ফোঁটাটা শীতল হয়ে যাওয়ায় কেঁপে উঠল সে। “কোথায় গিয়েছে এটা?জায়গাটা এমনকি এখানেও না।বুঝছো তো?” “অবশ্যই”।স্যাফ্রন শুষ্ক গলায় জবাব দিল।যদিও ভেতরে ভেতরে সেও বেশ নাড়া খেয়েছে।“এটাই সে গুপ্ত ভান্ডার।অন্য সবকিছুর মতই এটাও আমাদের জানানো হয়েছে।সিন্দুকটা ওখানেই আছে।চলো,সময় বেশি নেই হাতে”। পিঙ্ক তাদের পথ দেখিয়ে এগিয়ে নিয়ে গেল,সেখানে আঁটবার জন্য তাকে মাথা নিচু করে যেতে হল।গন্ধ আর পায়ের আওয়াজের প্রতিধ্বনি শুনেই বোঝা যাচ্ছে বেশ গভীর একটা গুহায় রয়েছে তারা।পিঙ্ক তার জাদুদন্ড বের করে আলো জ্বাললো,তারপরও পায়ের নিচের ভেজা,চকচকে পাথুরে মেঝে তেমন ভালো দেখা যাচ্ছেনা।জমাটবাঁধা অন্ধকার যেন আলোটাকে শুষে নিচ্ছে।গ্রে’র মনে হল জায়গাটা সূর্যের মুখ দেখেনি কোনোদিন।স্যাঁতসেঁতে ঠান্ডা তাদের চামড়ায় যেন চেপে বসছে।গ্রে একবার পিছে উঁকি দিয়ে দরজাটার আকার দেখতে পেল শুধু মরীচিকার মতন।রুপালী স্তম্ভের মত লাগছিল ওটাকে। “কি মনে হয়?কোথায় আছি আমরা?”জিজ্ঞেস করল সে। “আটলান্টিকের নিচে একটা গুহার এয়ার পকেটে”।পিঙ্ক হাঁটতে হাটতেই জবাব দিল। “সাগরের তলায়!”গ্রে মৃদু গলায় বলেই ঢোক গিলল সে।“আমার কেমন জানি বাজে অনুভূতি হচ্ছে এ ব্যাপারে।আমি ফিরে যেতে চাই,বিস্টল”। “আমাকে বিস্টল বলবে না,”গবলিনের মুখ দিয়ে আপনা আপনি বেরিয়ে গেল। “সিন্দুকটাতে এমন কিই বা আছে?”গ্রে গুঙিয়ে উঠলো।“খুব দরকারী কিছুই যাতে হয়।আমার তো এমন কিছুর কথা মাথায় আসছে না যার জন্য এরকম একটা জায়গায় আসতে হবে”। “হয়েছে,হয়েছে”।খেঁকিয়ে উঠলো স্যাফ্রন।“কি জিনিস তা তুমি কল্পনাও করতে পারবে না।আমাদের এইসব আর করতেই হবে না।ছোটখাট ধান্দা বাদ।রাজার হালে থাকব আজীবন’। “কিন্তু কি সেটা?”গ্রে পীড়াপীড়ি করল।“কি আছে ওই সিন্দুকে?” “অপেক্ষা কর,দেখতে পাবে,ঠিক আছে?” গ্রে হাঁটা থামাল।“তুমি জানো না,তাই তো?” স্যাফ্রন থুতু ফেলল মাটিতে।“ওটা কি সেটা ব্যাপার না,বেকুব।বলা হয়েছে জিনিসটা আমাদের কল্পনারও বাইরে,তাই না?আমাদের শুধু বাক্সটা নিয়ে যেতে হবে আর ইনফরমারটাকে কিছু লাভ দিতে হবে এই উপার্জন থেকে।কোন কারণ ছাড়া তারা তো আর মিনিস্ট্রি অফ ম্যাজিকে চুরি করতে সাহায্য করত না।পিঙ্ক জানে জিনিসটা কি।তাকেই জিজ্ঞেস করো”। “আসলে আমিও জানিনা,”চিন্তিত পিঙ্ক জবাব দিল। তারপর কিছু সময়ের নিরবতা।কেবল দূর থেকে পানি পড়ার আওয়াজ আসছে। “যার যা জানা দরকার সে ততটুকুই জানে”।গবলিন বলে উঠলো।“পথ দেখাও,পিঙ্ক”। “পৌঁছে গেছি।পিঙ্ক জবাব দিল।এবার গ্রে’র পালা”। সে ঘুরে সামনে আলোটা ধরতেই একটা কদাকার,দানবাকৃতি মুখ অন্ধকার থেকে উঁকি দিল।ভয়ে গ্রে’র হাঁটু ঠকঠক করে কাঁপছে। “এটা একটা মূর্তি,ভিতু কোথাকার”।স্যাফ্রন খেঁকিয়ে উঠলো।এই ড্রাগনের মাথার কথাই বলে দেয়া হয়েছে।যাও ওটা খোল,গ্রে”। “নামটা মোটেই ভাল্লাগে না আমার”।মূর্তির দিকে হেঁটে যেতে যেতে বলল গ্রে।আকারে তার চেয়ে লম্বা সেটা।গুহার দেয়াল থেকে চুইয়ে পড়া স্ট্যালাকলাইট আর স্ট্যালাগমাইট থেকে বেরিয়ে এসেছে।“আমি পার্পল ভালবাসি”। সে ঝুঁকে ড্রাগনটার দাঁতের ফাঁক দিয়ে হাত ঢুকিয়ে দিল ভেতরে।গ্রে অস্বাভাবিক শক্তিশালী হলেও উপরের চোয়ালটা উঁচু করা তার জন্যেও চ্যালেঞ্জ ছিল।কোনোমতেই নড়ছিল না সেটা।শেষ পর্যন্ত যখন গ্রে’র মনে হল তার হাত ছিঁড়ে যাবে,কাঁচ ভাঙার আওয়াজ করে চোয়ালটা আলগা হয়ে গেল।গ্রে সেটাকে উপরে ঠেলে ফাঁকটা চলাচলের মত বড় করল। “তাড়াতাড়ি করো”।দাঁতে দাঁত চেপে সে আদেশ দিল। স্যাফ্রন আর পিঙ্ক দ্রুত ঢুকল।ভেতরে পুরোপুরি গোল।স্ট্যালাগমাইট পিলারের মত ছড়িয়ে আছে।মাঝখানে একটা অদ্ভুত আকৃতির জিনিস রাখা অন্ধকারে। “এটা তো সিন্দুক না”।পিঙ্ক বলল সেদিকে তাকিয়ে। “হুম,স্যাফ্রন বলল।“কিন্তু এটাই একমাত্র জিনিস এখানে।দুজনে মিলে কি টেনে নেয়া যাবে?” পিঙ্ক সেদিকে এগিয়ে গেল।দুজনে কতক্ষণ জিনিসটা দেখে তারপর দাঁতের ফাঁকে জাদুদন্ড আটকে নিচু হয়ে জিনিসটা তুলে নিল।ক্যালসিয়াম আর খনিজের আস্তরণ পড়া সত্ত্বেও বেশ হালকা।দুজনে মিলে ধরাধরি করে সেটা নিয়ে ছুটল।পিঙ্কের জাদুদন্ডের আলো কাঁপাকাঁপি করায় দেয়ালে তাদের ছায়াও নাচানাচি করছে। জিনিসটা বের করে আনতেই গ্রে মূর্তির চোয়াল ছেড়ে দিল।একরাশ ধুলো ছিটিয়ে বিকট শব্দে সেটা নেমে এল।গ্রে ধপাস করে বসে পড়ে হাঁপাতে লাগলো। “কি জিনিস এটা আসলে”?স্যাফ্রন জিজ্ঞেস করল।“মনে তো হয়না এটা অনেক দামী কিছু”। “আমি কখনোই বলিনি এটা বহুমূল্য কিছু”।অন্ধকার থেকে গলার আওয়াজ ভেসে এল।“শুধু বলেছি তোমার জীবন চলে যাবে এতে।একটা কথার কত রকম অর্থ থাকতে পারে,তাই না?” স্যাফ্রন এদিক ওদিক ঘুরল আওয়াজের উৎস বুঝতে।কিন্তু পিঙ্ক আস্তে আস্তে পিছু ফিরল,যেন সে এটাই আশা করছিল।অন্ধকার থেকে কালো আলখাল্লা পরা একটা আকৃতি বেরিয়ে এল।তার মুখটা কদাকার মুখোশে ঢাকা।একই রকম সাজে আরও দু’জন বেরিয়ে এল। “তোমার গলা চিনে ফেলেছি।আমার বোঝা উচিত ছিল”। “হ্যাঁ”,সম্মতি জানাল কন্ঠটা।উচিত ছিল,মি. ফ্লেচার।কিন্তু না,তোমার এত বছরের অভিজ্ঞতা সামান্য লোভের কাছে হেরে গেল।আর এখন বড্ড দেরি হয়ে গেছে”। “দাঁড়াও, হাত তুলে চেঁচিয়ে উঠল স্যাফ্রন।“আমাদের একটা চুক্তি হয়েছিল কিন্তু”। “হ্যাঁ,গবলিন বন্ধু।এই নাও তোমার ভাগ”। মুখোশধারী একজনের কাছ থেকে কমলা আলোকরশ্মি ছুটে গিয়ে সরাসরি স্যাফ্রনের মুখে আঘাত করল। সে হোঁচট খেয়ে বসে নিজের গলা চেপে ধরল,কোঁ কোঁ আওয়াজ করতে করতে।তারপর মাটিতে পড়ে তড়পাতে লাগল। গ্রে কাঁপতে কাঁপতে উঠে দাঁড়াল।“এটা ঠিক করলে না।বিস্টল তোমাদের কথামতোই তো কাজ করেছে”। “আর আমরা তা ই করছি যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম।মুখোশধারী বলল।তারপর আরেকটা কমলা আলোকরশ্মির ঝলক এবং গ্রে ও পড়ে গেল। তিন মুখোশধারী কাছিয়ে এসে পিঙ্ককে ঘিরে ফেলল।অসহায়ভাবে তাদের দিকে চাইল সে।“অন্তত বলো আমায় জিনিসটা কি,যার জন্যে এত কিছু”।সে বলল। “এই প্রশ্নের উত্তর তোমার জানার দরকার নেই,মি. ফ্লেচার”।বরং তোমাকে দেয়া প্রতিশ্রুতি আমরা পূরণ করতে চাই”। একটা জাদুদন্ড ধরা পিঙ্কের মুখ বরাবর।সে অনেক বছর ফ্লেচার নামটা ব্যবহার করেনি।বাজে কাজের সাথে সাথে এই নামটাও ত্যাগ করেছিল।সৎ হওয়ার চেষ্টায় ছিল সে,এমন সময় এই কাজের প্রস্তাব আসে।এত চমৎকার কাজ,সাথে ভালোই অর্থ,তাই মানা করতে পারেনি।অর্ডারে থাকা পুরনো বন্ধুরা জানলে হতাশ হত,কিন্তু তারা বেশিরভাগই এখন মৃত।অন্য কেউ তার আসল নাম না জানলেও এরা জানত।এরা তাকে ব্যবহার করেছে,আর এখন তার ব্যবস্থাও করতে যাচ্ছে।একদিক থেকে ঠিকই হয়েছে।সে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। কন্ঠটা বলতে লাগলো,”প্রথম প্রশ্নের জবাব দিতে পারি।এটাই তোমার প্রাপ্য।আজকের পরে তো আর বলতেও পারবে না কাউকে।তুমি এখানে এসেছিলে টাকাভর্তি সিন্দুকের খোঁজে কারণ তোমার বুদ্ধির দৌড় অতদূরই।আমাদের লক্ষ্য আরও বিশাল,মি. ফ্লেচার।তুমি আর তোমার সহযোগীদের সাহায্যে সেই লক্ষ্য পূরণে দরকারী সবকিছু পেয়ে গেছি।এই জিনিসটা তারই অংশ।আর তুমি দেখছ এখানে…তোমার সমাপ্তি।মুনডানগাস ফ্লেচারকে গ্রাস করেছে হতাশা।যখন কমলা আলোর ঝলকানিটা তাকে আঘাত করল তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে দিয়ে,সে অন্ধকারকে যেন আলিঙ্গন করে নিল।