তবে সত্যিই কি ভূতের শহর এটি !

Now Reading
তবে সত্যিই কি ভূতের শহর এটি !

১৮২৫ সাল। সেই সময়কার উন্নতির শীর্ষে থাকা একটি শহরের ইতিহাস। সব কিছুই সুন্দর আর পরিপাটি করে সাজানো ছিল শহরটির। যা দেখলেই বোঝা যায় শান্তিপূর্ণভাবে বেশ ভালোই দিন কাটছিল সেখানকার মানুষের। যোধপুরের পালি সম্প্রদায়ের ব্রাহ্মণরা এখানে বসত গড়েছিল। তাঁরা কৃষি এবং ব্যবসা দুটোতেই সমান দক্ষ ছিলো। কুলধারার সঙ্গে আশেপাশের ৮৩ টি গ্রামে গড়ে ওঠে বসতি। উন্নতির শীর্ষে থাকলেও ১৮২৫ সালে রাখীপূর্ণিমার রাতে হঠাৎই ফাঁকা হয়ে যায় কুলধারা এবং তার লাগোয়া ৮৩ টি গ্রাম। রাতারাতি উধাও হয়ে যায় প্রায় ১৫০০ মানুষ। কিন্তু কেন ? কি ঘটেছিল বা এমন কি কারণ ছিল তাদের রাতারাতি উধাও হয়ে যাওয়ার পেছনে?

এটি ভারতে সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যে প্রসিদ্ধ রাজস্থানের একটি ছোট শহর কুলধারা। কুলধারাকে অনেক যায়গায় গ্রাম বলে উল্লেখ করা হলেও আসলে এটিকে গ্রাম বলা যায়না। সেখানকার কারুকাজ মন্ডিত বাড়ি, মন্দির, এলাকার স্থাপনা এবং উন্নত পথঘাট দেখে একটি সুন্দর শহরই বলা যায়। কুলধারা সোনার কেল্লার শহর জয়শলমীর থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার পশ্চিমে এই শহরের দেখা মিলবে কিন্তু সেখানে মিলবেনা কোন মানুষ। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী এই শহরটি একটি ভৌতিক শহর নামে পরিচিত। অবশ্য এই নামের জন্য রয়েছে যথেষ্ট জলজ্যান্ত প্রমাণ !

বলা হয়, একদিন এক স্থানীয় সামন্ত শাসক সালিম সিং গ্রাম প্রধানের কন্যার প্রেমে পড়েছিল। তাঁর রূপে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে বিয়ে করতে চায়। সে হুমকি দেয়‚ তার হাতে মেয়েটিকে তুলে দিতে ! তা নাহলে তাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হবে প্রচুর কর। কিন্তু সেই শর্তের পরেও বেঁকে বসেন কুলধারা গ্রামের প্রধান এবং গ্রামবাসীও তাদের আত্মসম্মানের সর্বোচ্চ মান দিতে বদ্ধপরিকর থাকে !

আরো বলা হয়, সামন্তের কুদৃষ্টি থেকে বাঁচতে রাখীপূর্ণিমার রাতে কুলধারা এবং তার লাগোয়া সব গ্রামের মানুষ উধাও হয়ে যায় রাতারাতি! একরাতেই নিজেদের গোছানো পরিপাটি ঘর বাড়ি সব ওভাবেই ফেলে রেখে চলে যায় তাঁরা ! আর কোনদিন তাঁরা কেউ ফিরে আসেনা। তবে যাবার আগে গ্রামবাসী এই কুলধারা গ্রামের মাটিকে অভিশাপ দিয়ে যায় !

সারি সারি ঘরবাড়ি, অতলস্পর্শী পাতকুয়ো, মন্দির,  পাথুরে পথ, সব কিছুই আছে কিন্তু কোন মানুষ নেই। প্রায় ২০০ বছর ধরে এভাবেই পরিত্যক্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে রাজস্থানের কুলধারা শহর।

প্রায় সাড়ে পাঁচশ বছর ধরে তিল তিল করে গড়ে ওঠা জনপদ কুলধারা রাতারাতি ভৌতিক হয়ে পড়ে। গা ছমছম করা আর হাড় হিম করা ভূতের রাজ্যও বলা যায়। দিল্লির প্যারানর্মাল সোসাইটি থেকে ৩০ জনের একটি দল রাত কাটাতে গিয়েছিল কুলধারা শহরে। ফিরে এসে তাদের দাবি‚ রাত জুড়ে তাদের সাথে অলৌকিক সব ঘটনা ঘটতে থাকে ধ্বংসস্তূপে ভরা কুলধারা শহরে। আচমকা রাতের বুক চিরে শোনা যায় আর্ত চিৎকার ! আবার হঠাৎ কমে যায় তাপমাত্রা ! সকালে গাড়ির গায়ে দেখা যায় শিশুদের হাতের ছাঁপ, অদৃশ্য থেকে ফিসফিস আওয়াজ আরো বিভিন্ন হাড় হিম করা অস্বস্থিকর অনুভূতির শিকার হন তারা। ফলে জীবন হাতে নিয়ে বের হয়ে আসেন কুলধারা থেকে।

এসব নানা ভৌতিক কারণে অদ্ভূত আর ভয়ঙ্কর নীরব হয়েই রয়ে যায় জনশূন্য শহরটি ! এতদিনের জরাজীর্ণতায় প্রায় ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে কুলধারা ! যদিও নাকি বহুবার এই গ্রাম দখলের চেষ্টা করা হয়েছিল অতীতে কিন্তু যেই দখল করতে চেয়েছে বসত ভিটা বা এই গ্রামে থাকতে চেয়েছে তারই ভয়ঙ্কর লোমহর্ষক মৃত্যু হয়েছে ! একবার কিছু মানুষ এখানে ধনসম্পদ লুটপাট করতে এসেছিল এবং উল্লাস করতে থাকে। পরেরদিন সকালে তাদের ছিন্নভিন্ন লাশ দেখা যায় ! কিন্তু কে খুন করল তাদের কেউ তা জানেনা !

এই গ্রামের আশেপাশে যারা থাকে তাদের মতে, এই গ্রামে যদি কেউ একা প্রবেশ করে তবে সে আর কোনদিন জীবিত ফিরতে পারেনা ! অনেকের মতে ২০০ বছর আগে গ্রামবাসী বা এখানকার মানুষের দেয়া অভিশাপ এখনও কার্যকর রয়েছে কুলধারা শহরে।

তথ্যসুত্র: অনলাইন