3
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

নারী ছলনাময়ী না সাবধানীঃ নারী দিবস ২০১৮

Now Reading
নারী ছলনাময়ী না সাবধানীঃ নারী দিবস ২০১৮

টাইটানিক সিনেমার শেষের দিকে বৃদ্ধা রোজের একটা ডায়লগ আমার মনে পড়ে – “A women heart is deep ocean of secrets.” । মেয়েরা অনেক গোপনীয়তা রক্ষা করতে পারে – এটা বুঝানো হয়ম্নি এই বাক্যের মাধ্যমে। বরং এই বাক্যের মাধ্যমে বুঝানো হয়েছে – মেয়েরা খুব সহনশীল। প্রকৃতিগত কারনে আমরা পুরুষরা শারীরিক শক্তি বলে বেশি সক্ষম, ব্রেন খাটানোর জায়গা ও সুযোগ হয়ত আমাদের বেশী। কিন্তু সহনশীলতা – এই জায়গাটাতে তারা আমাদের থেকে বহু বহু গুনে এগিয়ে।

নারী শ্রেষ্ঠ নাকি পুরুষ – এ নিয়ে বিতর্ক চিরদিনের। কবি নজরুল ইসলাম অবশ্য বলে গেছে দুই সাইডেই সমান । উনার ভাষ্যে –

“বিশ্বে যা কিছু মহার সৃষ্টির চির কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধের তার নর।”

এত উলটো টাও কিন্তু হয়।

“বিশ্বে যা কিছু মহার ধ্বংসের চির অকল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধের তার নর।”

গোলডা মেইর , একজন শিক্ষিকা যিনি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি বলেছেন – “” Weather women are better than men i cant say but they are certainly no worse.” এর মানে মেয়েরা কখনোই ছেলেদের থেকে খারাপ না।

নারী নিয়ে অনেক গান আছে। আইয়ুব বাচ্চু বলেছেন – মেয়ে তুমি কি দুঃখ চিন , চিন না তবে চিনবে কেমন করে এই আমাকে? তপু ভাই বলেছেন – মেয়ে , তুমি এখনো আমায় গে ভাব কি?

দুঃখিত গে না, শব্দটা বন্ধু হবে। বন্ধুতের পরবর্তী পদ ভালবাসা আর সে ভালবাসায় দিনে দিনে মনের মিল না হলেই আমাদের কাছে নারী ছলনাময়ী। আসলে মেয়েরা ছলনাময়ী/হঠকারী না। শব্দ গুলো কেমন যেন ঘৃনা ধরায়। আসলে নারী খুব সাবধানী, এরা প্রকৃতিগত ভাবেই এমন।নিজেদের নিরাপত্তার কথা সবার আগে তাদের চিন্তা করতে হয়।

ভাল খারাপ দুটি দিক নিয়েই মানুষ। দুনিয়াতে খারাপ নারী পুরুষের অনুপাত তা সমান সমান বৈকি। কে যেন বলেছিল – “দুনিয়াতে খারাপ মহিলা অনেক আছে, কিন্তু খারাপ মা একটিও নাই।” বিপরীতে আবার পুরুষ লাগাবেন না, দুনিয়ায় খারাপ পুরুষ তো আছেই, খারাপ বাবাও আছে। অনেক বাবা আছে, উনাদের নস্টামির সিড়ি নিজের মেয়েকে জোর পুর্বক বিছানায় নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত হয়।
ইমদাদুল হক মিলনের একটা বই ছোটকালে উপহার পেয়েছিলাম জেঠির কাছ থেকে। সেখানে এক মা নিজের সন্তান এর ভাল থাকা ও নিজের ভালবসার জন্য জেলে থেকে মাছ ব্যাবসায়ী, তার থেকে ভাড়াটে গুন্ডা এবং ঐ গুন্ডার সি এন জি ওয়ালার ঘর পর্যন্ত করে।

মেয়েরা মায়ের জাত। কাজেই তারা শ্রদ্ধার পাত্রী। আজকের নারী দিবসে পৃথিবীর সকল মা – বোনকে জানাই অন্তরের গভীর থেকে শত সম্মান ও সালাম।

কোর্ট ম্যারিজ কতটুকু বৈধ? প্রতারিত হচ্ছে নারী!!

Now Reading
কোর্ট ম্যারিজ কতটুকু বৈধ? প্রতারিত হচ্ছে নারী!!

ঘটনা-১
সীমা এবং আনিস (ছদ্মনাম) এর ফোনে পরিচয়, পরিচয় থেকে প্রেম। পরিবার কে না জানিয়ে নোটারী পাবলিকের কার্যালয়ে গিয়ে কোর্ট ম্যারিজ করে। কিন্তু ছেলেটির পরিবার কোন ভাবেই বিয়েটা মেনে নেয় না। কিছুদিন পরেই আনিস পরিবারের চাপে বিয়েটি অস্বীকার করে। সীমা তার অধিকার দাবি করলে, ছেলেটির পরিবার থেকে বলা হয় , সীমা আর তার পরিবার নাকি ভয় দেখিয়ে জোর করে এই বিয়ে দিয়েছেন। ঘটনা তখন আদালত পর্যন্ত গড়ায়।

ঘটনা-২
মতিন সাহেবের বড় পরিবার। টানাটানির সংসার। বড় মেয়ের বয়স ১৫ বছর।এলাকার এক লোকের পরামর্শে, আর পরিবারের টানাটানির কথা চিন্তা করে, পাশের গ্রামের ময়না মিয়ার ছেলের সাথে কোর্ট ম্যারিজের মাধ্যমে মেয়ের বিয়ে দেন। ৬ মাস যেতে না যেতেই ছোট মেয়েটাকে মেরে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেয় শ্বশুর বাড়ির লোকজন।রাগে ক্ষোভে মতিন মিয়া চিন্তা করেন পুলিশ কেস করবেন। কিন্তু বিয়ে রেজিস্ট্রি না থাকাতে এবং নাবালিকা মেয়ে বিয়ে দেওয়ার কারণে পুলিশে কে জানাতেও ভয় পাচ্ছেন,যদি উল্টো ফেঁসে যান।

কোর্ট ম্যারিজ আসলে কি?

এভাবে কোর্ট ম্যারিজের কারণে অনেক নারী তার দাম্পত্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আসলে বাংলাদেশের আইনে কোর্ট ম্যারিজের কোন বৈধতা তো নেই, এমন কি অস্তিত্ব ও নেই। অথচ, অনেকেরই ধারনা কাবিন রেজিস্ট্রি র চাইতে কোর্ট ম্যারিজ অধিক শক্তিশালী। অথচ এটা সম্পূর্ণই ভুল ধারনা।
আসলে হলফ-নামার মাধ্যমে বিয়ের একটা ঘোষণা দেয়াই হচ্ছে কোর্ট ম্যারিজ। এর মধ্যে দেন মোহর, স্বামী স্ত্রীর অধিকার, সাক্ষী সম্পর্কে কোন উল্লেখ থাকে না।

আসলে বাংলাদেশের আইনে কোর্ট ম্যারিজের কোন বৈধতা তো নেই, এমন কি অস্তিত্ব ও নেই।

 

কারা করায় এই কোর্ট ম্যারিজ?

অনেকের মধ্যে কোর্ট ম্যারিজ করার প্রবণতা বেশি। সঠিক জ্ঞানের অভাবে অনেকে মনে করে কোর্ট ম্যারিজের মাধ্যমে বিয়ে করলে বিয়ের বন্ধন শক্ত হবে।
আইনের ছদ্মবেশে এক শ্রেণীর নোটারী পাবলিক এই অবৈধ কাজে সহযোগীটা করে। অনেকে আবার কোর্ট ম্যারিজের জন্য উকিলের কাছে যায়। কিছু উকিল টাকার লোভে সাহায্য প্রার্থীদের সম্পূর্ণ বিষয়টা সম্পর্কে কোন ধারণ দেন না। শুধু মাত্র একটি হলফ নামায় বিয়ের ঘোষণা দেন।

 

নারীরা কিভাবে প্রতারিত হয়?

কাজি অফিসে বিয়ের জন্য একটা বড় অংকের ফিস দিতে হয়। সেটা থেকে বাচার জন্য ও অনেকে কোর্ট ম্যারিজ করে।
আবার যাদের মধ্যে অসৎ উদ্দেশ্য থাকে তারাও এই পথটি বেছে নেয়। যেমন, একাধিক বিয়ের কথা গোপন করার জন্য, বা মেয়ের অভিভাবক কে জিম্মি করে টাকা আদায়ের জন্য, অথবা সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য।

এই দলিল করা খুবই সহজ। অনেক সময় হলফ-নামা প্রার্থী কে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন হয় না। ফলে ১৮ বছরের নিচে অর্থাৎ দেশিও আইনে নাবালিকা মেয়ের বিয়ে দেওয়া হয়। আবার নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা থেকে বাচার জন্য ও অনেকে কোর্ট ম্যারিজ করে।অনেক সময় বিয়ে বাতিল করার জন্য ছেলে পক্ষ এই কারণ দেখায় যে মেয়ে পক্ষ জোর করে দলিলে স্বাক্ষর নিয়েছে।

এই দলিলে কোন দেনমোহর উল্লেখ থাকে না। ফলে আবেগের বশবর্তী হয়ে নারী বিয়ে তো করে ,কিন্তু তার প্রাপ্য দেনমোহর থেকে বঞ্চিত হয়।
যেহেতু, আইনে কোর্ট ম্যারিজের কোন বৈধতা নেই, সেক্ষেত্রে নারী প্রতারিত হবার পর যখন আদালতে তার অধিকার আদায়ের জন্য যায়, তখন তাকে তার বিয়ে টা প্রমাণ করাই কষ্টকর হয়। অনেক সময় সাক্ষী না থাকাতে বিয়েও প্রমাণ করতে পারে না।

আর ছেলে পক্ষ যদি প্রভাবশালী হয় সেক্ষেত্রে মেয়েটার পক্ষে বিয়ে প্রমাণ করা আরও কষ্টকর হয়ে যায়।  অনেক সময় সন্তানের পিতৃ-পরিচয় অস্বীকার করে পুরুষ। তখনও নারীর পক্ষে সন্তানের বাবার অধিকার আদায় করা কঠিন হয়ে যায়।

 

আইনে কি বলা হয়েছে?

আইন অনুসারে বিয়ে তখনই বৈধ হবে যখন বিয়ে কাবিন রেজিস্ট্রি হবে। কাজি বাসায় ডেকে এনে অথবা কাজি অফিসে গিয়ে বিয়ের রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়। আইন অনুযায়ী কাবিন রেজিস্ট্রি ও আকদ সম্পন্ন করেই একমাত্র ঘোষণার জন্য এফিডেভিট করা যাবে। অনেকেই এ বিষয় এ জানে না।

আইন অনুযায়ী বিয়ের আসরেই কাবিন রেজিস্ট্রি করতে হয়। বিয়ের আসরে সম্ভব না হলে বিয়ে হবার ১৫ দিনের মধ্যেই বিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

মুসলিম বিবাহ ও বিচ্ছেদ বিধি ১৯৭৫ এর ১৯(৩) ধারা অনুযায়ী নিকাহ রেজিস্টার ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি যদি বিবাহ পড়ান, তবে সেই ব্যক্তিকে ১৫ দিনের মধ্যে অত্র এলাকার নিকাহ রেজিস্টারের নিকট অবহিত করতে হবে।

আমাদের দেশের আইন অনুযায়ী বিয়ে রেজিস্ট্রেশন না করা কিন্তু একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন ১৯৭৪ এর ধারা ৫(২) অনুযায়ী বিবাহ রেজিস্ট্রেশন না করার শাস্তি (তিন) মাসের কারাদণ্ড, অথবা ৫০০ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবার বিধান রয়েছ।

কাবিন নিবন্ধন করা থাকলে সুবিধা কি?

যদিও কাজীর কাছে বিয়ে নিবন্ধন করতে কিছু খরচ হয়, তবুও নিবন্ধন করাটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ বিয়ে নিবন্ধনের কিছু সুবিধা রয়েছে-

১। বিয়ে নিবন্ধন করা থাকলে তালাকের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করা সহজ হয়। তখন মেয়েটা সহজেই তার নিজের, সন্তানের খোরপোষ দাবি করতে পারবে।

২। স্ত্রীর দেনমোহর ও ভরণপোষণ আদায়ের জন্য কাবিননামার প্রয়োজন হয়।

৩।সন্তানের বৈধ পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য কাবিননামার প্রয়োজন হয়।

৪। কাবিননামা ছাড়া শুধু বিয়ের হলফ-নামা সম্পন্ন করা হলে বৈবাহিক অধিকার আদায় দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে।

 

সুতরাং, কোর্ট ম্যারিজ শব্দটি মুখে মুখে বহুল প্রচলিত হলেও, আসলে বাংলাদেশের আইনে এর কোন ভিত্তি নেই। এজন্য আবেগের বশবর্তী হয়ে, বা ঝামেলা এড়ানোর জন্য কখনই এর দ্বারস্থ হবেন না। তাহলে খুব সহজেই হতে পারেন প্রতারণার স্বীকার ।

বিয়ের কাবিন রেজিস্ট্রি করুন। নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকুন।

নারী ও নায়িকা

Now Reading
নারী ও নায়িকা

১.

-আপনার নতুন ছবিটা দেখলাম।

– তা কেমন লাগলো?

-ভালই। কিন্তু ঐ যে আইটেম সং…আসলেই কি তার খুব বেশি দরকার ছিল?

– ভাই, এটা বানিজ্যিক ছবি। এতে নাচ থাকবে গান থাকবে, থাকবে মারদাংগা একশন। তার সাথে এই যুগে আইটেম সং না হলে কি চলে! আরে ভাই, মানুষ পকেটের টাকা খরচ করে সিনেমা দেখতে আসে। তারা চায় নির্মল বিনোদন। তাই সিনেমার মাঝে দু একটা আইটেম গান থাকলে দর্শকের ও ভাল লাগে, প্রডিউসার হল মালিকদের ও দুটো টাকা আয় হয়।

২.

-শুনলাম এবার নাকি ভিন্ন রকম ছবি বানিয়েছেন?

-এবারের ছবিটা আসলেই অন্যরকম। যাকে বলে জীবনঘনিষ্ঠ ছবি। জীবনটাকে খুব শৈল্পিকভাবে পর্দায় তুলে এনেছি। সিনেমা দেখলে আপনার মনেই হবে না আপনি সিনেমা দেখছেন। দেখলে মনে হবে এ যেন আপনারই জীবনের গল্প।

– তাতো বুঝলাম। কিন্তু এর মাঝেওতো দেখি কয়েকটা অশালীন দৃশ্য আছে। ওই যে নায়ক নায়িকার…ওই দৃশ্যটা…

-অশালীন বলছেন কেন? এতো জীবনেরই ছবি। কেন, বাস্তব জীবনে এমন কিছু হয়না? এর মাঝে আপনি অশ্লীলতা খুজে পেলেন কোথায়? অশীলতা কারে বলে আপনি বুঝেন, এর সংগা জানেন? ভাই, শ্লীল-অশ্লীল আমাকে শিখাতে আসবেন না। আমার খুব ভাল করেই জানা আছে কোনটা শ্লীল আর কোনটা অশ্লীল।

শরীরে পোশাক না থাকা মানেই অশ্লীল না। আবার কাপড় পড়েও আপনি নিদারুন অশ্লীল হতে পারেন। উপস্থাপনাটাই আসল।

World sinema  নিয়ে আপনার কোন ধারনা আছে? বিশ্বের অনেক ক্লাসিক সিনেমাতেই দেখবেন, দু চারটা ন্যুড সিন থাকে। কই সেগুলো নিয়ে শুনেছেন কোন সমালোচক তাকে অশ্লীল বলেছেন? আসলে আপনাদের মত এ রকম মানসিকতার লোকদের কারনেই দেশের শিল্প সংস্কৃতি এগুতে পারছেনা। যারা শিল্প সংস্কৃতির বুঝেনা কিছুই, খালি শ্লীল-অশ্লীল নিয়ে লাফালাফি করে।

৩.
– এবারেতো মিউজিক ভিডিও বানিয়েছেন শুনলাম।

-হ্যা। গানটা ভাল, সাথে গানের ভেতরের গল্পটাও। তাই অনেক যত্ন নিয়ে বানিয়েছি। খুবই রোমান্টিক একটা গান। এই গানের শ্যুটিং করতে গিয়ে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। ৫ দিন ধরে রাংগামাটি, বান্দারবান, সিলেটে শ্যুটিং করেছি। কি নেই গানে? আছে মেঘ, বৃষ্টি, পাহাড়, চা বাগান…

-শুনলাম, গানের একটা দৃশ্য নিয়ে নাকি খুব সমালোচনা হচ্ছে। যাতে নায়িকা পানিতে ভিজে…

-আরে বাদ দেনতো, সমালোচকদের কথা। এদেরতো আর অন্য কোন কাজ নেই, আমাদের সমালোচনা করেই এদের পেটে ভাত জোটে। রোমান্টিক গান…গানের ফিলিং অনুযায়ী দৃশটা ফুটিয়ে তুলতে হবে না? একটা গানে আর সময় কতটুকু? ৪-৫ মিনিট। তার মধ্যেই সব আবেগ তুলে আনতে হয়। অমন দৃশ্য না হলে রোমান্টিক গানের পুরো আমেজটা আসবে না। বুঝতে পেরেছেন? নাকি বুঝেন নি?

-জ্বি, জ্বী। খুব ভালই বুঝেছি। যতই বলুন শিল্পের জন্য, নারী আসলে বাজারের পন্য। বানিজ্যিক ছবি, আর্ট ফিল্ম কিংবা গান…বাজার অর্থনীতিতে নারীর একই স্থান। তাকে জনগনের মনোরঞ্জনের জন্য খোলামেলা হতেই হয়।

আচ্ছা, এমন ছবি কি আপনারা বানাতে পারেন না যাতে নায়িকার কোন বৃষ্টিভেজা দৃশ্য নেই, নেই আবেগঘন/অন্তরংগ কোন চরিত্র? যাতে নারী কেবল পুরুষের চোখে  শয্যাসংগী প্রেমিকাই নয়, বরং আপাদ মস্তক একজন মানুষ। যার আবেগ আছে, অনুভুতি আছে, দু চোখে স্বপ্ন আছে, আছে সুন্দর পৃথিবী গড়ার অভিলাষ। এমন ছবি, যাতে নায়িকা মানুষের সামনে নাচবেনা, গাইবেনা, যে ছবিতে তথাকথিত প্রেম নেই, আছে নারীর স্নিগ্ধ, প্রশান্ত রুপ। যেখানে নারী রুপের ছটায় মুগ্ধ করেনা, মহীয়ান হয়ে উঠে তার কর্মে।

ওই যে বললেন, জীবনঘনিষ্ঠ ছবি। এটাওতো জীবনেরই একটা রুপ। তাহলে এরকম কোন জীবন ঘনিষ্ঠ ছবি হতে বাধা কোথায়?

-বাহ! মনে হচ্ছিল ফিলোসফির কোন ক্লাসে বসে আছি। তা এমন ছবির প্রডিউসারই বা পাব কোথায় আর হলে গিয়ে দেখবেই বা কে? এ সব সস্তা আবেগ নিয়ে ইমোশনাল হওয়া যায়, ছবি বানানো যায় না। ছবি বানাতে হলে দর্শক, বাস্তবতা অনেক কিছুই বুঝতে হয়। যাক গে, আমার কাজ আমাকে করতে দিন। যে জগত আপনার না, সেটা নিয়ে খুব বেশি মাথা না ঘামানোই ভাল।

এই কে আছিস, ভাইকে একটা ঠান্ডা খাওয়া!

সংসার না চাকুরী? এক গোলক ধাঁধায় নারী

Now Reading
সংসার না চাকুরী? এক গোলক ধাঁধায় নারী

কেস স্টাডি-১
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য পাস করে চাকুরীতে ঢুকেছেন সাদিয়া জামান (ছদ্ম নাম)। মাঝারী ধরনের চাকুরী। বেতন খুব বেশি নয়, আবার খুব কম ও নয়। বাসায় সন্তানও আছে।বয়স দেড় বছর। মা এর কাছে রেখে আসেন। ৮ ঘণ্টা অফিসের পরও ঢাকা শহরের জামে লেগে যায় আরও ৩ ঘণ্টা। বাসায় ফিরে যখন শুনেন সন্তানকে সারাদিন তেমন কিছুই খাওয়াতে পাড়েন নি মা। চাপা অভিমান হয় মার প্রতি। আবার মায়াও লাগে। মায়ের ও বয়স হয়েছে। যে সময় রেস্ট নেবার কথা, সে সময় কিনা নিজের সংসার ফেলে তার সন্তানের দেখা শুনা করছেন। বাচ্চাটাও দিন দিন খুব জিদ্দি হয়ে যাচ্ছে। অসুখ তো লেগেই আছে। বাঁধা কাজের লোক পাওয়া এখন তো এক প্রকার অসম্ভব। আজ কাল আর কিছুই ভালো লাগে না সাদিয়ার। অফিসে সারাটা দিন মন খারাপ থাকে। কলিগদের দেখলেও রাগ লাগে। অথচ হাসি খুশি সাদিয়া এমন ছিল না। মাঝে মাঝে মনে হয় চাকুরীটা ছেড়ে দেই। কিন্তু এত কষ্ট করে পড়ালেখা করে তবে কি লাভ হল? সবাই কি বলবে? ঐ সংসার ই যখন করব তাহলে এত সময় আর টাকা খরচ করে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের কি দরকার ছিল ? আবার বাচ্চাটার শারীরিক- মানসিক বিকাশের কথা চিন্তা করলে মনটা খারাপ হয়ে যায়। আরেক টা বাচ্চা নেওয়ার কথা তো ভাবাই যায় না। সমাধান টা যে কি ভেবে পান না ।

কেস স্টাডি-২
রুবি আক্তার একজন উচ্চশিক্ষিত গৃহিণী ।বাচ্চার বয়স ২ বছর। স্বামী ভালো চাকুরী করেন। বেতন মোটা মুটি ভালো। তবে এই দুর্মূল্যের বাজারে একা মানুষ টাকে সংসার চালিয়ে নিতে খুব কষ্ট হয়ে যায়। পরিবারের বড় ছেলে। গ্রামে অসুস্থ বাবা মা কে টাকা পাঠাতে হয়। তবে রুবির সকল চাহিদা পূরণ করেন যথাসাধ্য । হয়ত বিলাসী জীবন দিতে পাড়েন না। রুবির খুব কষ্ট হয়। মনে হয় যদি একটা চাকুরী করতে পারতেন , তবে স্বামীকে কিছুটা হলেও তো আর্থিক ভাবে সাহায্য করতে পারতেন। নিজের হাতেও কিছু টাকা থাকত। নিজের বাবা মাকে ও আর্থিক ভাবে সাহায্য করতে পারতেন। কিন্তু, পরিবারে এমন কেও নেই যে এসে বাচ্চাকে রাখতে পারবে। কাজের লোককেও তো বিশ্বাস করা যায় না। সোশিয়াল মিডিয়াতে যখন দেখেন বান্ধবীদের চাকুরী জীবন। বাচ্চাও আছে তাদের। তখন মনে হয়, ওরা তো পারছে, তাহলে আমি পারছি না কেন? কি হল এত শিক্ষার? দিন দিন হতাশ হয়ে পরছেন। কেমন জানি মোটা হয়ে যাচ্ছেন । নিজের যত্ন টাও নেওয়া হয় না ঠিক মত। তবে কি তিনি একজন ব্যর্থ মানুষ?

 

উপরের দুটি ঘটনা বর্তমানের খুব সাধারণ । যা উচ্চশিক্ষিত মেয়েদের মধ্যে প্রায়ই দেখা যায়।এছাড়াও বর্তমানে নারীদের আরও সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। যেসব নারীদের সরকারি বা বদলি চাকুরী তাদের কষ্টটা আরও দ্বিগুণ। আবার যারা ব্যাংক বা মাল্টি ন্যাশনাল চাকুরীতে অনেক চাপের মধ্যে কাজ করেন তারা ঘরে –বাইরে কাজ করতে করতে ক্লান্ত, ছুটির দিনগুলোতে রেস্ট নিবে নাকি সামাজিকতা রক্ষা করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। শারীরিক মানসিক দুই চাপে পিষ্ট। আবার, যাদের স্বামীর সাথে ভালো সম্পর্ক নেই। চাকুরী না করলে তারা এক ধরনের নিরাপত্তা হীনতায় ভুগেন। অনেক পরিবার আবার নারীর আর্থিক , মানসিক প্রয়োজনীয়তাকে উপেক্ষা করেন।

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, বর্তমানে নারীর মানসিক স্বাস্থ্য এক ভয়ঙ্কর ঝুঁকির মধ্যে আছে। কারণ উচ্চশিক্ষিত নারীর সংখ্যা বাড়ছে ,কিন্তু নারী সহায়ক কর্ম পরিবেশ তৈরি হচ্ছে না। আর নারীর মানসিক অবস্থার উপর যেহেতু সন্তানের মানসিক অবস্থা নির্ভরশীল সেহেতু তারাও আছে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়। কারণ যে নারীটি নিজেকে নিয়ে খুশি নয়, সে সন্তান কে হাসি খুশি জীবন ধারণ কিভাবে শিক্ষা দিবে। যিনি নিজে এক গোলক ধাঁধায় ঘুরছেন তিনি সন্তান লালন-পালনের মত জটিল কাজকে কিভাবে উপভোগ করবেন। তাই এখনি উচিত সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ভাবে নারীকে সাহায্য করা। তার জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা । যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থ বিকাশের জন্য খুবই প্রয়োজন।
সুতরাং, এই সমস্যা সমাধানে এখনি সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে-

 

রাষ্ট্রের দায়িত্ব :
১। রাষ্ট্রের অনেক বড় একটি ভূমিকা পালন করতে হবে নারীর এই মানসিক সুস্থতার জন্য। প্রথমত নারী বান্ধব আইন তৈরি করতে হবে।

২। রাষ্ট্রীয় সহযোগিতায় এলাকায় এলাকায় ডে-কেয়ার তৈরি করতে হবে। ডে কেয়ার পরিচালনার শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি গড়ার জন্য নির্ধারিত কোর্স বা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকতে হবে। সেই সাথে আইন করে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে একটি আলাদা কক্ষ রাখতে হবে যেখানে বাচ্চা রাখার প্রশিক্ষিত আয়া, বা কাজের ফাকে ব্রেস্ট ফিডিং করানর সুযোগ, বিশ্রাম করার সুযোগ ইত্যাদির ব্যবস্থা থাকবে।

৩। নারী বান্ধব কিছু কর্মক্ষেত্রের সুযোগ রাখতে হবে। যেমন, ৮ ঘণ্টা চাকুরীর সাথে সাথে শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী কিছু ৪,৫,৬ ঘণ্টা কাজ করা যায় এমন পদের ব্যবস্থা রাখা যায়। যেন নারী তার সন্তানকে সময় দেবার পাশাপাশি নিজের যোগ্যতার ও সদ্ব্যবহার করতে পারে।

৪। নারীর মানসিক সেবা, নতুন মা-বাবা, মা চাকুরীজীবী দের পরামর্শ সেবা চালু করতে হবে।

আমাদের দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থায় এ সব কিছু খুব বেশি বেশি মনে হলেও সরকার কে এটা করতেই হবে। কারণ সুন্দর একটি দেশের জন্য প্রয়োজন সুস্থ স্বাভাবিক জনগোষ্ঠী। আর,দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী এবং পরবর্তী প্রজন্ম গড়ে তোলার কারিগর নারীর মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা ছাড়া তা কখনই সম্ভব নয়।

 

পরিবার ও সমাজের দায়িত্ব

১।আমাদের দেশের মানুষের উপর সমাজের প্রভাব অনেক বেশি। এজন্য সামাজিক ভাবে নারীর এ সমস্যা সমাধানে একত্রে কাজ করতে হবে।

২। চাকুরীজীবী নারীদের সামাজিক ও পারিবারিক ভাবে সর্বাধিক সহায়তা করতে হবে। কারণ সে পরিবারের জন্যই রোজগার করছে। সে বাচ্চা, সংসারকে কতটুকু সময় দিতে পারছে না, সেটা হিসাব না করে বরং চেষ্টা করুন তার কাজ একটু সহজ করতে। হয়ত তার বাচ্চাটাকে একটু সময় দিন, তার ঘরের কাজে একটু সাহায্য করুন। আর এসব করা সম্ভব না হলে অত্যন্ত সুন্দর একটা পরামর্শ দিন।

৩। যেসকল নারী বাচ্চা-সংসারের জন্য তাদের ক্যারিয়ার বিসর্জন দিচ্ছেন তাদের প্রশংসা করুন । তারা যে সন্তান লালন পালনের মত জটিল একটা কাজ সফলতার সাথে করছেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়তে তাদের সবটা দিচ্ছেন সে জন্য তাকে সম্মানিত করুন। “এত পড়ালেখা করে কি লাভ হল?! ‘ এসব বলে তাকে মানসিক ভাবে অসুস্থ করে ফেলবেন না। মনে রাখবেন এখনকার বাচ্চা পালতে, তাদের পড়ালেখা করাতে ও উচ্চশিক্ষার প্রয়োজন আছে।
তাদের নিজেদের মত করে খরচ করার জন্য সামর্থ্য অনুসারে কিছু হাত খরচ নির্ধারণ করুন। এটা কিন্তু নারীর মানসিক প্রশান্তির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

নিজের প্রতি নিজের দায়িত্ব:

১। সব শেষে নারীর নিজের প্রতি নিজের দায়িত্বটাই কিন্তু সবচেয়ে বেশি। নিজেকে ভালবাসুন। নিজের যত্ন নিন । ব্যায়াম করুন। জীবন কে উপভোগ করুন। চাকুরী আর সংসার যেটাই করুন, ভালোবাসার সাথে করুন। আর জীবনে যা পেয়েছেন তার জন্য সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দিন।

 

২। অভিমান না করে, সুন্দর ভাবে পরিবারের সবার কাছে সাহায্য চান। পরিবারের পরামর্শ গুলো সহজ ভাবে নিন। নিজে একা সব না করে স্বামী, সন্তান, পরিবারের  অন্যান্য সদস্যদের মাঝে কাজ ভাগ করে দিন।

৩। গৃহিণী  যারা মনে করেন এত পড়ালেখা করেও মা-বাবা কে আর্থিক ভাবে সাহায্য করতে পারছি না, বা সমাজের জন্য তো কিছুই করতে পারছি না। তারা মনে রাখবেন টাকা-পয়সা দিয়েই সব হয় না। বাবা-মার নিয়মিত খোজ নিন, তাদেরকে ভালবাসুন।দেখবেন কিছু টাকা দিয়ে সাহায্য করার চাইতেও এটা অনেক বেশি প্রয়োজন তাদের। সমাজের বিভিন্ন ভালো কাজেও অংশ নিতে পাড়েন। যেমন- বন্যার্তদের সাহায্যে টাকা তুলেন, অসুস্থ আত্মীয়দের দেখতে যান, অনলাইনে ভালো কাজের জনমত গড়ে তুলেন। দেখবেন কাজ করে শেষ করতে পারছেন না।

৪। এছাড়াও গৃহিণীরা বিভিন্ন প্রফেশনাল কোর্স, মাস্টার্স কোর্স, বিভিন্ন ছোট খাট ট্রেনিং, ফ্রিল্যন্সিং, ছোট ব্যবসা, লেখা লেখি শুরু করে দিতে পাড়েন। এতে সময় ও ভালো কাটবে, আবার বাচ্চারা একটু বড় হয়ে ফুল টাইম আয়ও শুরু করে দিতে পারবেন।

৫। আর নারীদের কেই নারীর সবচেয়ে ভালো বন্ধু হতে হবে  । আপনার পাশের নারীটিকে বা পরিবারের চাকুরীজীবী বা গৃহিণী  নারীটিকে হিংসা না করে সাহায্য করুন। তাহলে নারীকে পুরুষ ও রাষ্ট্রের সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।

 

আসুন , সবাই মিলে মানুষ গড়ার কারিগর নারীকে সাহায্য করি। তবেই গড়ে উঠবে সুন্দর পরিবার,সমাজ ও দেশ।

 

রোহিঙ্গা আসলে কারা?

Now Reading
রোহিঙ্গা আসলে কারা?

রোহিঙ্গা একটি ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী যারা নিজ দেশেও পরবাসী। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায়। আরাকানী মুসলিমরা সেখানে হাজার বছর ধরে বসবাস করলেও বাংলাভাষী ও মুসলিম হওয়ার কারনে তারা মিয়ানমারের সরকার ও নাগরিকদের কাছে বিদেশী,বাঙ্গালি বা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে পরিচিত। জাতি সংঘ রোহিঙ্গাদের “বিশ্বের সবচেয়ে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ” হিসেবে অভিহিত করেছেন।
কারও কারও মতে রোসাঙ্গ থেকে রোহিঙ্গা শব্দটির উদ্ভব।
নবম-দশম শতকে আরাকান রাজ্য রোহান কিংবা রোহাঙ নামে পরিচিত ছিল।
রোহিঙ্গা শব্দটি রোসাঙ্গ শব্দটি থেকে এসেছে। সেই অঞ্চলের অধিবাসী হিসেবেই রোহিঙ্গা শব্দের উদ্ভব।
কারও কারও মতে, রোহিঙ্গা শব্দটি রেঙ্গুন শব্দের পরিবর্তিত রুপ।সেই মতে রেঙ্গুনে বসবাসকারী বার্মিজ সম্প্রদায় রোহিঙ্গা নামে পরিচিত।
কারও কারও মতে আফগানিস্তানের রোহিঙ্গা জেলা থেকে আগত হওয়ার কারনে এই নামকরন।তাদের মতে, ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বীন বখতিয়ার খলজীসহ বাংলার মুসলমান বিজেতা ও শাসকগোষ্ঠী ইসলাম প্রচার ও প্রসারের জন্য আফগানিস্তানের রোহিঙ্গা জেলা থেকে কিছু লোককে ধর্ম প্রচারের জন্য আরাকানে পাঠিয়েছিলেন। সেই মতে তাদের নামানুসারে নাম হয় রোহিঙ্গা।
১৩ তম শতকে বাংলার সম্রাট নাসিরুদ্দিন শাহ রোহিঙ্গাদের উন্নয়নে পদক্ষেপ নেন এবং আরাকানে একটি মুসলিম রাজ্য গঠনের উদ্যোগ গ্রহন করেন।
উনিশ শতক পর্যন্ত মিয়ানমার ভারতবর্ষীয় সাম্রাজ্যের অন্তভুক্ত ছিল।তখন ভারত উপমহাদেশের প্রধান ধর্ম ছিল হিন্দু। সময়ের পরিবর্তনে এখানে মুসলিম শাসন আসে।যার প্রভাব পুরো ভারতব্যাপী পড়ে।মুসলিমদের শাসনামলে অন্য রেলিজিয়নের লোক দলে দলে মুসলিম ধর্ম গ্রহন করে।আবার গৌতম বুদ্ধের বৌদ্ধ ধর্মের প্রচারের ফলে এই ধর্মের অনুসারী সংখ্যাও উপমহাদেশে বাড়তে থাকে। অন্যদিকে ব্রিটিশ ছত্রছায়ায় মিশনারীদের প্রভাবে এই এলাকায় খ্রিস্টান ধর্মাবলাম্বিদের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। কাল পরিক্রমায় ভারতবর্ষীয় হিন্দুরা ক্ষমতায় এলে বৌদ্ধ নিধন শুরু করে।নিরুপায় বৌদ্ধরা আরাকান রাজ্যে আশ্র‍য় গ্রহণ করে। বৌদ্ধরা আরাকানে মগ বা রাখাইন নামে আর মুসলিমরা রোহিঙ্গা নামে পরিচি।
মধ্যযুগে বাংলায় মোগল-পাথানদের সংঘর্ষ এর ফলে বাংলার অভিজাত মুসলমান সম্প্রদায় আরাকানে আশ্রয় নেয়য়। ১৬ শতকে আরাকানে রাজসভায় বাংলা সাহিত্য ও সাহিত্যিকদের বেশ প্রভাব ছিল। মহাকবি আলাওল, দৌলত কাজী তাদের অন্যতম।বলাবাহুল্য যে অভিজাত মুসলিম সম্প্রদায় এবং তাদের চাকর-চাকরানীরাও সেখানেই বসবাস করেছেন।জেনে রাখা দরকার চট্রগ্রাম ও কক্সবাজারের লাগোয়া সীমান্তবর্তী অপর পাশের এলাকাই হচ্ছে আরাকান। এখানে যাওয়ার জন্য একটি ডিঙ্গি নৌকার ৩০ মিনিটই যথেষ্ট।
প্রাচীনকাল থেকেই এই অঞ্চলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত বণিকেরা ব্যবসা-বানিজ্য করেছেন।ব্যবসায় মুনাফা ভাল হওয়ায় অনেকেই বিয়ে-সাদী করে স্থায়ী হয়েছেন।
এবার আসুন মুল ঘটনায় । মুঘল সম্রাট শাহজাহানের ছিল চার সন্তান। তাদের নাম ছিল ১.দারা ২.সুজা ৩.আওরঙ্গজেব ৪.মুরাদ।
সম্রাট শাহজাহানের এই চার সন্তানের মাঝে সিংহাসন নিয়ে দ্বন্ধে যুবরাজ আওরঙ্গজেব এবং যুবরাজ সুজার মাঝে যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধে এই দুই ভাইয়ের অন্যান্য ভাই- বোনেরা দুই জনের পক্ষেই অবস্থান নেন।তো যুদ্ধে আওরঙ্গজেব জয়ী হলে প্রথাগতভাবেই সুজা নির্বাসিত জীবন বেছে নিয়ে আরাকানের উদ্দেশ্য রওয়ানা হন তার অনুসারীদের নিয়ে। সাথে ছিল একমাত্র কন্যা আমিনা।কথিত সোনা-রুপা বোঝাই ১৮ টি নৌকা ও অন্যান্য রশদ নিয়ে চট্রগ্রাম থেকে তিনি আরাকানে নির্বাসনে যান।পথিমধ্যে সামুদ্রিক ডাকতাদের কবলে পরার পর ৭ নৌকা বোজাই সোনা-রুপা তিনি নিতে পেরেছিলেন। সেখানে গেলে আরাকানের স্থানীয় রাজা তাদেরকে পাহাড়ের তীর ঘেষা এক সুরম্য অট্রালিকা দেন বসবাস করার। কথিত যে, শাহ সুজার কন্যা ছিল অনিন্দ সুন্দরের অধিকারী। স্থানীয় রাজা প্রিন্সেস আমিনাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিলে শাহ সুজা সেই প্রস্তাব ঘৃনাভরে ফিরিয়ে দেন।এতে স্থানীয় রাজা অপমানিত হন। ঘুমন্ত অবস্থায় ভোর রাতে শাহসুজার অট্রালিকায় আগুন দেয়া হয় চারদিক থেকে দরজা বন্ধ করে।জীবন্ত পুড়ে মারা যান পুরো পরিবার। কয়েকদিন পর এই খবর দিল্লীত সম্রাট ছোট ভাই আওরঙ্গজেব এর কাছে গেলে দিল্লীবাসী খবই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।তাদের যুক্তি ভাই ভাই যুদ্ধ হয়েছে।একজন নির্বাসন গেছে।মেরে তো ফেলেন নি।কী এতবড় সাহস যে মুঘল যুবরাজ হত্যা করা হয়।দিল্লী থেকে দলে দলে লোক চট্রগ্রাম দিয়ে আরাকানে প্রবেশ করেন। মুসলিমরা আরাকানে গিয়ে তুমুল নৈরাজ্য সৃষ্টি করেন।সুজা হত্যার প্রতিশোধ নেন। বলা হয়, আজ ওমুককে ক্ষমতায় বসিয়েছেন তো কাল অমুককে ক্ষমতায় বসিয়েছেন কিন্তু কোন মুসলিম নিজেরা ক্ষমতা নেন নি।দীর্ঘ দিন এভাবেই চলেছিল।আরাকানরা স্থানীয় ভাবে মগ নামে পরিচিত। মুঘল অনুসারীদের আরাকান বা মগ সাম্রাজ্যে এই প্রতিশোধপরায়ন কর্মকাণ্ড থেকেই প্রবাদ আসে ” মগের মুল্লুক”।
.
রোহিঙ্গা সমস্যা উদ্ভবের কারণসমুহ:-
========================
বারমা রাজার আরাকান দখল:-
======================
এরপর ১৭৮৪ সালে মিয়ানমার আরাকান দখল করে নেন।রোহিঙ্গাদের উচ্ছেদ করেন।তাদের পরিচালিত মসজিদ-মাদ্রাসা গুড়িয়ে দিয়ে সেখানে প্যাগোডা নির্মিত হয়।
.
বারমার স্বায়ত্তশাসন :-
===================
১৮২৩ সালে ব্রিটেন মিয়ানমার দখল করে।১৯৩৭ সালে মিয়ানমারকে স্বায়ত্তশাসন দেয়া হয়। ১৯৩৮-৪২ পর্যন্ত বেশ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়।প্রতিটিতেই রোহিঙ্গারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।বাঁচার আসায় চলে আসেন বাংলাদেশে।
.
১৯৪২ সালের রোহিঙ্গা হত্যা:-
==================
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান ব্রিটিশদের কাছ থেকে মিয়ানমার দখল করে নিলে রাখাইনরা জাপানীদের পক্ষাবলম্বন করেরে রোহিঙ্গাদের উপর হামলা করে ১৯৪২ সালের March মাসে ৫ হাজার রোহিঙ্গা হত্যা করা হয়।
.
রোহিঙ্গাদের পালটা প্রতিশোধ :-
=====================
প্রতিশোধ হিসেবে রোহিঙ্গারা উত্তর রাখাইনে ২০ হাজার মগ হত্যা করে। কিন্তু জাপানীদের সহায়তায় মগরা রোহিঙ্গাদের কোনঠাসা করতে সম্মত হয়।
ইস্ট পাকিস্তান ও আরাকানরাজ্য সংযোগ প্রচেষ্টা ;
.
একটি আত্মঘাতী স্বিদ্ধান্ত:-
===================
১৯৪৭ সালে পাক-ভারত স্বাধীন হলে আরাকানের নেতারা জিন্নাহর সাথে যোগাযোগ করে আরাকানকে ইস্ট পাকিস্তানের সাথে সংযুক্ত করতে চায়।এইই উদ্যোগকে রাখাইনিরা বিশ্বাসঘাতকতার সাথে তুলনা করেন।
১৯৪৮ সালে মিয়ানমার স্বাধীন হয়। মিয়ানমার সরকারের সাথে একসময় রোহিঙ্গাদের সমঝোতা হয়।সমঝোতায় পার্লামেন্ট পদ,চাকুরি, ভাষার স্বীকৃতির নিশ্চয়তা দেন।কিন্তু পরে তা আর আলোর মুখ দেখেনি।
.
জাতি-উপজাতি বিচ্ছিন্নতার দাবী:-
=======================
স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৫৮ সালের দিকে বৌদ্ধরা ক্ষমতা সংহত করতে রোহিঙ্গা নির্মুল অভিযান পরিচালনা করেন।
১৯৬২ সালে মিয়ানমারে সামরিক শাসন জারি হয়।বলা বাহুল্য সুচির বাবাও একজন সামরিক জেনারেল। সামরিক শাসক ক্ষমতায় এসে মুসলিমদের উপর দমনপীড়ন শুরু করে।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন বেশ কিছু বাংলাদেশী আরাকানে আশ্রয় নেন।যুদ্ধপরবর্তীতে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা আশানুরূপ হবে না ভেবে সবাই বাংলাদেশে ফেরেন নি।এই সংখ্যা কত তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই।
১৯৭৮ সালে কুখ্যাত জেনারেল নে উইন #নাগমিন ড্রাগন নামে এককটি অভিযানের মাধ্যমে হাজার হাজার রোহিঙ্গা হত্যা করেন।প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয়য় নেয়।পরবর্তীকালে UNHCR ও অন্যান্য International organization এর চাপে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
.
১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইনপাস:-
============================
এই আইনের মাধ্যমে মিয়ানমারে তিনধরনের নাগরিকত্বের বিধান করা হয়।১.পূর্ণাঙ্গ ২. সহযোগী ৩.অভিবাসী। ১৮২৩ সালের আগে মিয়ানমারে বসবাসকারী ১৩৫ টি গোত্রভুক্ত নাগরিকগনই ফুল নাগরিকত্ব পাবেন।আইনে রোহিঙ্গাদের সহযোগী নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হয়। (জেনে রাখা দরকার বিদেশী বিয়ে, বিদেশি নাগরিকত্বের কারনে সূচি প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি)।
.
নির্দিষ্ট গ্রামে বন্ধী:-
================
রোহিঙ্গারা আরাকানের অভ্যন্তরীণ অন্য অঞ্চলে যেতে চাইলে মিয়ানমার BGP (Border Guard Police)এর কাছ থেকে Travel pass নিতে হয় শুধু তাই নয় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসতে না পারলে নিজ গ্রামে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়।
.
নাগরিক কাড থেকে বঞ্চিত:-
===================
১৯৮২ সালের আইনানুযায়ী ১৯৮৯ সালে মিয়ানমারে তিনধরনের নাগরিকত্ব কাড (Card) দেয়া হয় :- গোলাপী,নীল,সবুজ কিন্তু রোহিংগাদের কোন কাডই দেয়া হয় নাই।
.
বিয়েতে বাধা:-
===========
১৯৯০ সালের পর থেকে রোহিঙ্গা দেরকে বিয়ের জন্য সরকারের অনুমোতি নিতে হয়।
জন্মনিয়ন্ত্রণ :- ২০০৫ সালের পর থেকে BGP পক্ষ থেকে দম্পত্তিদের জানিয়ে দেয়া হয় দুইয়ের অধিক সন্তান নয়।
.
চিকিৎসা ও শিক্ষায় সীমিত অধিকার:-
=======================
রোহিঙ্গা মহিহিলাদের ধাত্রী বিদ্যা শেখানোর ক্ষেত্রেও International organization কে সরকারের বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে।
১৯৯১ সালে Oepration Pezza নামে অভিযানের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের উচ্ছেদ করে সেখানে বোদ্ধদের পুনর্বাসন করা হয়।
২০১২ সালে এক বৌদ্ধ নারীকে ধর্ষণ এর অভিযোগে ৮ জন রোহিঙাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। হাজার হাজার রোহিঙ্গা উদ্ধাস্তু হন।
মিয়ানমার-থাই সীমান্তে ১ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নেয়।
.
সূচি সরকারের সাম্প্রতিক অভিযোগ :
===========================
সুচির অভিযোগ রোহিঙ্গারা বাঙ্গালী।তারা এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা নয়।এবং তারা পুলিশের উপর হামলা করেছে। ( ধারনা করা হচ্ছে রাতজনৈতিক অবস্থানের কারনে সুচি রোহিঙ্গা দের প্রতি নরম হতে পারবেন না,পাছে উর্দির ভয়।সেনা শাসকেরা যে কোন অযুহাতে সূচির সরকারকে বরখাস্ত করতে চাইবেন।)
রোহিঙ্গাদের সাম্প্রতিক অভিযোগ :- BBC থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে Arakan Rohingha International এর চেয়ারম্যান জনাব নুরুল ইসলাম দাবী করেছেন সাম্প্রতিক সংঘর্ষতে তাদের ২৬৯ জন্য নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনী স্বীকার করেছে যে তারা ৬৯ জনকে হত্যা করেছে।
.
#রোহিঙ্গাদের কী কোন দোষ নাই?
==========================
রোহিঙ্গারাও মাঝে মাঝে ভুল জায়গায় আক্রমন করেন।আসলে সরকারের নির্যাতন এর মাত্রা যখন চরম মাত্রায় পৌছায় তখন রোহিঙ্গারা এই পদক্ষেপ নেন।তাছাড়া নাইপিদো প্রশাসনের পেছনের লোকেরা পরিকল্পিত ভাবে বৌদ্ধ ভিক্ষু হত্যা করে সেই দায় রোহিঙ্গাদের উপর চাপিয়ে দেন।
.
#মিয়ানমারের ভয়:
===============
রোহিঙ্গাদের ভেতর জন্মহার বেশি, যে হারে রোহিঙ্গা বাড়ছে তাতে মিয়ানমার প্রশাসন শংকায় ছিল। তারা রোহিঙ্গাদের এই সম্প্রসারণকে আন্তজাতিক সম্প্রদায়ের অবস্থান নেয়ার সুযোগ হিসেবে দেখছেন।২০০৯ সালের জাতিসংঘ হিসেব অনুয়ায়ী আরাকানে মুসলিম সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ ২৩ হাজার। বাংলাদেশে অবস্থান করছেন প্রায় ১১ লাখ।মোট ২০ লাখ প্রায়। বিশ্বের ৩০-৩৫ স্বাধীন দেশের চেয়ে আরাকানের রোহিঙ্গা সংখ্যায় বেশি।
বর্তমানে পার্বত্য এলাকা ও চট্রগ্রামে ১১ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান বা বসবাস করছেন।
.
#রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে কেন আসে?
=========================
বাংলাদেশে আসার কারন হল রোহিঙ্গাদের নাম- চেহারা-রেলিজিয়ান সবই বাংলাদেশের সাথে মিলে। তাছাড়া বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের ব্যাপারে মৌন সম্মতি দিয়েছেন ( কুটনৈতিক কারনে সরাসরি দিচ্ছেন না, )। মিয়ানমারের মুদ্রার চেয়ে বাংলাদেশের মুদ্রার মান বেশি। দেখা গেছে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি মাছের ট্রলারে কাজ করে ১ দিনে যা আয় করে সেই টাকা মিয়ানমারের প্রায় ২০০০ টাকার সমান।।সহজেই অনুমেয়।ফলে বাংলাদেশ তাদের সেকেন্ড হোম হয়ে দাড়িয়েছে।
.
#সরকার রোহিঙ্গাদের কেন সরাসরি সমর্থন দিচ্ছেন না?
.
সরকার যদি রোহিঙ্গাদের স্বাধীনতা বা চলমান আন্দোলনে সমর্থন দেন তাহলে মিয়ানমার পার্বত্যচট্টগ্রাম আন্দোলনে সমর্থন দিতে পারেন।এমনকি পার্বত্যচট্টগ্রাম অঞ্চলের যেসব বিচ্ছিন্নতাবাদী আছেন তাদের কে নাইপিদো সশস্ত্র সমর্থন করতে পারেন।
.
#সরকারের কৌশলগত বক্তব্য:
=========================
সরকার আজ (২৩ নভেম্বর ২০১৬) মিয়ানমারের রাষ্ট্রদুতের কাছে জবাব দিহি চেয়েছেন। আমাদের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদ অনুয়ায়ী সরকার মানবাধিকারের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন এবং মিয়ানমারের রোহিঙ্গা প্রশ্নে বর্তমান নীতির কড়া সমালোচনা করেন।
.
বাংলাদেশ -মিয়ানমার সম্পর্ক :-
=========================
মিয়ানমার হচ্ছে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী ৭মম দেশ।১৯৭২ সালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ মিয়ানমার সফর করে দুই দেশের মধ্যে একটি আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। নিন্মে বাংলাদেশ মিয়ানমার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গুলোর লিডিং পয়েন্ট তুলে ধরা হলো:-
১. ২০০২ সালে দুই দেশের মধ্যে Account Trade, Coastal shhipping, Jonit Trade Commission গঠনের ব্যাপারে চুক্তি সাক্ষরিত হয়।
২. মিয়ানমার বাংলাদেশকে ASEAN (Association of South East Asian Nation) এর সদস্য পদ দিতে একজন সমর্থক।
৩. BIMSTEC ও BCIM এ আঞ্চলিক সহযোগিতায় একই সাথে কাজ করছে।
৪. Asian Highway and Trans Asian Railway দ্বারা দেশদুটি কানেক্টেড হওয়ার চেষ্টা করছে।৫.২০০৩ সালে সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধির চুক্তি করে।
এছাড়াও রয়েছে জ্বালানী, বানিজ্য,বিনিয়োগ,স্থল-সীমান্ত, নৌট্রানজিট, ব্যাংকিং বানিজ্য। বিনিয়োগ বাড়াতে গঠন করা হয়েছে দুটি working committee. যদি উপরোল্লিখিত চুক্তিগুলো বাস্তবায়ন করা যায় তাহলে দুই দেশের বানিজ্যের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ বিলিয়ন ডলার।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের মিয়ানমারে সবচেয়ে বেশি মেডিসিন রপ্তানি করে।
(এবার ভাবুন ঢাকা কেন রোহিঙ্গা প্রশ্নে নাইপিদোর সাথে ঝামেলায় যেতে চাচ্ছেন না। উপরোল্লিখিত অগ্রগতিগুলো ১৬ কোটি মানুষের জন্য।)
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলে বাংলাদেশের কী সমস্যা:-
১.কক্সবাজার অপরাধপরাধ প্রবণ এলাকা হবে।
২. রোহিঙ্গা -উপজাতি সংঘর্ষ
৩.মাদক-চোরাচালান বেড়ে যাবে।
৪. অবশিষ্ট রোহিঙ্গারা চলে আসবেন।
৫. মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার দখল হবে।
৬.আইনশৃঙ্গলা খারাপ হবে।
৭.শ্রম বাজারে অপরাধের দায় বাংলাদেশকে নিতে হবে।
৮.মিয়ানমার -বাংলাদেশ সম্পর্ক খারাপ হবে।
৯.রাজস্ব হ্রাস পাবে।
১০. পরিবেশগত ক্ষতি।
মিয়ানমার প্রশ্নে চীন নিরব কেন?
ইঙ্গ- মার্কিন বলয় কী খুজছে?
.
জাতিসংঘ কী বলে?
=================
জাতিসংঘ যেহেতু সব সময় ইঙ্গ- মার্কিনী স্বার্থ দেখে, রাখাইনেও তাই হয়েছে।ফলে জাতিসংঘ মিয়ানমারের সাম্প্রতিক নির্যাতন কে ন্যাক্কারজনক বলে বিবৃতির মাঝেই সীমাবদ্ধ। আমরা দেখেছি জাতি সংঘ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের নিপীড়িত জনগণের পাশে থেকে শান্তিরক্ষী মিশন পাঠিয়েছে। ফিলিস্তিন,ইস্টতিমুর,কঙ্গো, কসোভো সহ বিশ্বের ৬৫ টিরও অধিক দেশে শান্তিরক্ষী মিশন পাঠিয়েছে। কিন্তু রোহিঙ্গা অধ্যুষিত আরাকানে নয় কেন? অন্যদিকে মিয়ানমারের সেনা সমর্থিত সরকার ছিল চীন-রাশিয়া পন্থী আর বর্তমান সরকার নোবেল পন্থী মানে পশ্চিমাপন্থী=সরাসরি বললে যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্রপন্থী। ইঙ্গ-মারকিন জোট চাচ্ছেন না সুচী ক্ষমতা হারানোর ভয়ে সেনাশাসকদের সাথে মিশে চীনের দিকে ঝুকে পড়ুক।সুতরাং মিয়ানমারকে জোটের হাতে রাখতে রোহিঙ্গা ইস্যু গায়ে লাগানোর কোন পরিকল্পনা নেই।। পরিস্কার ভাবে বললে পশ্চিমা মিত্ররা (বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র) চায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় ও দক্ষিণ চিন সাগরীয় দেশগুলোকে কাছে টেনে চিনের প্রভাবকে খাটো করা। সেই যন্ত্রে মিয়ানমার এতদিন আমেরিকার নাগালের বাহিরে ছিল, সরকার পরিবর্তন বিশেষত সূচি আসায় যুক্ররাষ্ট্রের জন্য সুবিধে।।
আরো জানা দরকার ২০১৪ সালে ASEAN পরস্পরের মধ্যে ২৫২ বিলিয়ন মার্কিনী ডলার লেনদেন হয়েছে (এক বিলিয়ন=বাংলাদেশি ৮ হাজার কোটি টাকা মাত্র) তাছাড়া মিয়ানমারের ভৌগোলিক গুরুত্ব এবং খনিজসম্পদও অন্যতম কারন এই দেশটিকে কাছে টানার জন্য।ফলে মিত্র শক্তিগুলো রোহিঙ্গা প্রশ্নে তততা সক্রিয় নয় যতটা মিয়ানমারকে কাছে টানার ক্ষেত্রে সক্রিয়।।
.
এই সমস্যার সমাধান কী?
==================
এই সমস্যা মিয়ানমারের অভ্যন্তরিন সমস্যা হলেও ইন্টারন্যাশনাল মানবাধিকার সংস্থা চুপ থাকতে পারে না।এজন্য
১. জাতিসংঘ মিয়ানমারের উপর চাপ প্রয়োগ করতে পারে।
২. কুটনৈতিক ততপরতা জোরদার করতে পারে
৩.বহুপাক্ষিক আলোচনা করতে পারে
৪. অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করতে পারে।
মন্তব্য: অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে রোহিঙ্গারা হচ্ছে অভিভাবকহীন জাতি,আর বুঝতেই পারছেন কমলাপুরের অভিভাবক টোকাই জীবনের কি নিদারুণ বাস্তবতা।
. সংগৃহীত: https://en.wikipedia.org (edited in bangla)

সকল নারীকে যদি মা-বোন এর চোখে দেখতেন!

Now Reading
সকল নারীকে যদি মা-বোন এর চোখে দেখতেন!

images (3).jpg

জন্ম থেকে আজ পর্যন্ত কত মানুষের কতই সুন্দর মুখই না আমরা দেখি কিন্তু কয়জন এর চেহারা আমাদের মনে থাকে, আর সেই আপন চেহারা-পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর  মায়ের মুখ কি ভুলতে পারি আমরা …পারি নাহ। পৃথিবীর সবচেয়ে আপন আমাদের মা। মা কেবলি মা নয় বেহেশত।  মেয়ে হয়ে জন্ম নেই মা, মায়ের গর্বেই আমাদের  জন্ম। নিজের মা  ….ভেবে দেখুন তো আপনার দৃষ্টি কেমন আপনার মায়ের প্রতি। ভালো করে ভাবুন। আপনার মা যেমন আপনার কাছেহ  পবিত্রতার প্রতীক…..সুন্দরের প্রতীক…তাই না! কিন্তু  আপনি কি  অন্য কোনো মায়ের দিকে  সেই দৃষ্টিতে তাকাচ্ছেন? আপনার বোনের দিকে যে দৃষ্টিতে তাকাচ্ছেন  অন্যের বোনের দিকে কেনো সমান দৃষ্টি যায় না….কেন?

নারী—-  আজ ভোগের বস্তুু । নাহ! সত্যিই ভোগের বস্তু..

সকল নারী  যদি আপনার মা বোন হতো….. কি করতেন ..পারতেন …আপনার কামনার দৃষ্টিতে তাকাতে! পারতেন নাহ। আপনার বিবেক কে জিঙ্গেস  করুন। আপনি যেমন অন্যের মা – বোনদের দিকে তাকাচ্ছেন আপনার মা-বোনের দিকেও অন্যরা  তাকায়।  কি করবেন আপনি আপনি কামনার দাস ….!

আপনার-আমার কারণে আজ নারীরা ভোগ্য পণ্য…আজ কি বলবেন…..নারী আজ ঘরে-বাইরে কোথায় নিরাপদ-কোথায়?   প্রতিনিয়ত নারী নির্যাতনের মাত্রা বাড়ছেই। এর মূল কারণ হলো আপনার  আমার সেই দৃষ্টি…..কামনার দৃষ্টি…হিংস্রতার দৃষ্টি..  ।

‘নারী-পুরুষের সমতার অভাব, পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা, সামাজিক ও পারিবারিক ক্ষেত্রে নারীর মতামত প্রদানের সুযোগ না থাকা, সুশাসনের অভাব সর্বোপরি সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় নারীর প্রতি সহিংসতার জন্য দায়ী। নারীকে সুরক্ষিত করতে আইন যথেষ্টই আছে্ কিন্তু আইনের যথেষ্ট প্রয়োগ নাই। দেশের বিবাহিত নারীদের ৮৭ শতাংশই স্বামীর হাতে কোনো না কোনো ধরনের পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হন। এর মধ্যে ৬৫ শতাংশ বলেছেন, তারা স্বামীর মাধ্যমে শারীরিক নির্যাতন ভোগ করেছেন, ৩৬ শতাংশ যৌন নির্যাতন, ৮২ শতাংশ মানসিক ও ৫৩ শতাংশ নারী স্বামীর মাধ্যমে অর্থনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) পরিচালিত ‘ভায়োলেন্স এগেইনস্ট উইমেন (ভিএডব্লিউ) সার্ভে ২০১১’তে পারিবারিক নির্যাতনের এমন চিত্রই উঠে আসে। গবেষণায় দেখা যায়, সরকারি হাসপাতালে ৪০.২ শতাংশ নারী সেবাগ্রহনকারী বলেন যে তারা সেবা প্রদানকারীদের থেকে দুর্ব্যবহারের শিকার ও শতকরা ১৫ জন হাসপাতালে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। আজ প্রত্যেক জায়গায় নারী নির্যাতিত…. তাহলে নারী অধিকার  কোথায় আজ….নারী অধিকার রক্ষা করছে কারা?

নারীদের অধিকার সচেতনতার অভাব এবং বিদ্যমান আইনের প্রয়োগগত সীমাবদ্ধতার কারণে নারীরা একদিকে যেমন তাদের ন্যয্য অধিকার ভোগ এবং আইনী সহায়তা প্রাপ্তির সুফল থেকে বঞ্চিত,  অন্যদিকে বৈষম্যমূলক আইনের উপস্থিতি তাদের অবস্থাকে আরো বেশি নাজুক করে তুলছে। এই বাস্তবতায় নারীদের মধ্যে অধিকার সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ যৌতুক, বাল্যবিবাহ, পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ, উত্যক্তকরণসহ নারীর প্রতি সকল প্রকার সহিংসতা বন্ধে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে নারীনেত্রীদের নারীর অধিকার ও আইন বিষয়ক শিক্ষা দিয়ে থাকে। তাতেই কি নারী নির্যাতন বন্ধ হবে?

এসিড নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০২
–  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধন ২০০৩)
– যৌতুক নিরোধ আইন, ১৯৮০
– মুসরলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রীকরণ) আইন, ১৯৭৪
–  মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রীকরণ) বিধিমালা, ১৯৭৫
– মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১
– মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯
– বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন. ১৯২৯
– বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন খসড়া (২০১৪)
– পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ আইন, ২০১০

দেশে আইনের অভাব নেই…শুধু আইনের সঠিক ব্যবহারের অভাব।রাজনীতি-সহ দেশের সবক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। এজন্য নারীদেরকে তাদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হতে হবে। বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। কারণ বাল্যবিবাহের শিকার হওয়া নারীরা অপরিণত বয়সে সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হয়।নারী নির্যাতন বন্ধে জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে। যাতে নারীরা উপযুক্ত সেবা পায়।নারীরা যদি পুরুষের সমান সুযোগ-সুবিধা, অধিকার ও সমান মজুরি পায়, তাহলে জাতি হিসেবে আমরা এগিয়ে যাবো। কিন্তু আমাদের নারীরা এখনও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, তারা কর্মক্ষেত্রে সমান মজুরি না পাওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশে নারীরা সহিংসতার শিকার হচ্ছে। ‘বর্তমানে নারীরা তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন। এ কারণে বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে,  এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। তবে আমরা সবাই মিলে সংঘব্ধভাবে যদি নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হই, তাহলে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমরা আরও এগিয়ে যেতে পারবো।ইতিহাস থেকে দেখা যায় যে, যুগে যুগে নারীরা পুরুষের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তবে বর্তমানে এ অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে। আমরা পুরুষরা যদি পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব পরিবর্তন করে নারীর প্রতি বৈষম্য না করি তাহলেই নারীরা তাদের অধিকার পাবে।

ইসলাম  এর দৃষ্টিতে নারী….

ইসলাম নারী নির্যাতন বন্ধ করার এবং নারী জাতির হক্ব বা অধিকার আদায় করার প্রতি কতখানি গুরুত্বারোপ করে তা এ আয়াত থেকেই অনুমান করা যায়।

ইরশাদ হচ্ছে- আর যখন তোমারা স্ত্রীদেরকে তালাক দাও এবং তারা ইদ্দত পূর্ণ করে, তখন তাদেরকে সঠিকভাবে নিয়ম মাফিক আপন করে রাখ; অথবা উত্তমভাবে বিদায় কর।

সাবধান! তাদের প্রতি অত্যাচার করার লক্ষ্যে কষ্ট দেয়ার উদ্দেশ্যে তাদেরকে আটকে রেখো না; এটি মানবতা বিরোধী কাজ। যে ব্যক্তি এমন অন্যায় আচরণ করবে; সে নিজেরই ক্ষতি কর; নিজের প্রতিই সে জুলুম করবে। কেননা এমন অন্যায় আচরণের কঠিন শাস্তি তাকে অবশ্যই ভোগ করতে হবে।

তাই আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে পরিবর্তনকরতে হবে। আমরা যদি দৃষ্টি ঠিক রাখি তাহলে নারী আর নির্যতিত হবে নাহ। নারীর নিরাপত্তার জন্য আইনের সঠিক প্রয়োগ করতে হবে..সমাজে নারীকে তার অধিকার ভোগ করতে দিতে হবল। তার সাথে সাথে আমাদের সচেতন হতে হবে।মায়ের জাতকে সম্মান দিতে হবে। কারণ মা ছাড়া পৃথিবির আলোই দেখা হতো নাহ।

 

 

 

অবহেলায় মেয়েদের ক্রিকেট

Now Reading
অবহেলায় মেয়েদের ক্রিকেট

দিন দিন বাংলাদেশ দলের উন্নতি হয়েছে । আগের মতো আর পিছিয়ে নেই আমাদের ক্রিকেট খেলা । সেই ২০০০ সালের দলের সাথে আজকের দলের তুলনা করলে আমরা দেখতে পাবো কতটা পরিবর্তন হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট । দেশে বিদেশ বিভিন্ন খেলা খেলে জয় ছিনিয়ে এনেছে বাংলার ছেলেরা । ঘরের মাঠে তারা হারিয়েছে অনেক বড় বড় দলকে । এমন কি বিদেশের মাটিতেও বিভিন্ন দল কে করেছে বাংলা ওয়াশ । আজ তারা রাঙ্কিং এ .৬ নাম্বারে উঠে এসেছে । চারিদিকে ছেলেদের জয় জয় কার ।

কিন্তু আমরা কি একটা বার আমাদের নারী বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে নিয়ে ভেবেছি । তাদের আজ কি অবস্থা ? তারা কেমন খেলছে ? তাদের রাঙ্কিং পজিশন কি ?
আসলে বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দল যেভাবে মিডিয়া কভারেজ পেয়ে থাকে , সেদিক থেকে বাংলাদেশ নারী দল অনেক পিছিয়ে । তাদের নিয়ে খুব কম ম্যাচ রিভিউ লেখা হয় । আমি যদি আপনাকে জিজ্ঞেস করি বর্তমানে বাংলাদেশ দেশ নারী দলের ক্যাপ্টেন এর নাম কি ? আমি নিশ্চিত আপনি হয়তো বলতে পারবেন না । আর যদি বলেও থাকেন প্রথমে আপনাকে ভাবতে হবে , তারপর উত্তর দিতে পারবেন । কিন্তু আপনাকে যদি প্রশ্ন করি বাংলাদেশ পুরুষ দলের ১৫ জন খেলোয়াড়ের নাম বলুন , তাহলে আপনি ২০ জনের নাম বলে দিবেন । তাহলে এই দিক থেকে কি আমাদের নারী দল পিছিয়ে নেই ? সর্ব শেষ বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক পরিবর্তন করা হয়েছে । এই খবর অনেকে জানলেও বর্তমানের অধিনায়কের নাম অনেকে জানে না । এইটা আমাদের জন্য খুবই লজ্জার বিষয় । বর্তমানে বাংলাদেশ নারী দলের নেতৃত্বে আছে জাহানারা আলম । সালমা খাতুন কে সরিয়ে বিসিবি নতুন অধিনায়কের নাম ঘোষণা করেন । এই খবর কিছু খুব বেশি প্রচার হয়নি । সেই সাথে বাংলাদেশে খুব কম কথা হয়েছে । আপনি খেয়াল করলে বুঝবেন , কিছু দিন আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট এর টি টুয়েন্টি ভার্সন থেকে মাশরাফি বিন মুর্তজা অবসর নিলে কি রকম অস্থিরতা শুরু হয় । নিউজ থেকে শুরু করে পাড়ার চায়ের দোকানে এই খবর । এমন কি মানব বন্ধন করতে দেখা গিয়েছে । আবার সেই মানব বন্ধ প্রচার করা হয়েছে টিভি এবং পত্রিকায় ।

আমি বাংলাদেশ পুরুষ দল নিয়ে কোন সমালোচনা করছি না । বাংলাদেশ নারী দলকে কেন প্রচার বিমুখ করে রাখা হয়েছে ? আপনি যখন কোনো দল কে সাপোর্ট করবেন তখন সেই দল খেলতে অনেক স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে । কিন্তু আপনি যখন তাদের পাশে থাকবেন না তারা খুব হতাশ থাকবে । আপনি একটা বার চিন্তা করেন , আমাদের মাশরাফি বাহিনী যখন খারাপ খেলে আমরা যতই গালাগাল করি না কেন , আবার তাদের খেলা হলে তাদের সমর্থন করতে টিভির সামনে বসে যাই । এতে করে তারা অনেক অনুপ্রাণিত হয় ।আবার তারা আগের মতো খেলার চেষ্টা করে । আমরা যদি আমাদের নার ক্রিকেট দলকে সাপোর্ট করতাম পুরুষ দলের মতো তাহলে আমি নিশ্চিত ভাবে বলতে পারে তারা এখন যা খেলছে তার থেকে অনেক বেশি ভালো খেলতো । তাহলে কি আমরা নিজেরাই পুরুষ ও নারীর মাঝে ভেদাভেদ তৈরি করছি ?

বাংলাদেশ নারী দল ইচ্ছা করলে আমাদের দেশে বা বাহিরের দেশে গিয়ে ক্রিকেট খেলতে পারে না । কারণে তাদের স্পন্সর খুব কম হয় । কেনই বা হবে । যদি সেই খেলা প্রচার করা না হয় , তাহলে কেউ সহজে স্পন্সর হতে চাইবে না । যার কারণে অনেক সময় ইচ্ছা থাকলেও খেলা আয়োজন করা যায় না ।

লাস্ট যেই বিশ্বকাপ হলো সেটি তে খেলতে পারেনি নারী দল । তারা বাছাই পর্বে ছিটকে পরে গ্রুপ থেকে । তাহলে বোঝা যাচ্ছে নারী দল অনেক পিছিয়ে । বাংলাদেশ পুরুষ দলের জন্য যেই রকম বিদেশী স্টাফ দিয়ে কোচিং করানো হয় , সেই দিক থেকে বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল অনেক পিছিয়ে । এতো দিন তাদের জন্য দেশি কোচ ছিল । কিছু দিন যাবত শোনা যাচ্ছিলো তাদের জন্য বিদেশী কোচ এর ব্যবস্থা করে দিবে । আরেকটি কথা হলো আপনি যত বেশি ক্ৰিকেট খেলবেন ততো বেশি ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচে ভালো খেলবেন । কিন্তু আপনার খেলার পরিধি যদি হয় ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচ পর্যন্ত তাহলে ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচে ভালো করার সুযোগ নেই বললে চলে । আমি এই কথা বলছি কারণ ছেলেদের জন্য ঘরোয়া ক্রিকেট এর যেমন সুব্যবস্থা আছে , মেয়েদের জন্য নেই বলেই চলে । প্রতি বছর তাদের জন্য বলা হয়ে সুব্যবস্থা রাখা হবে কিন্তু ওই সব কথা কাগজে কলমে বন্ধী থাকে ।

যদি ফিটনেস নিয়ে কথা বলি তাহলে আরো খারাপ অবস্থা । মেয়েদের জন্য আলাদা ফিটনেস ঠিক রাখার তেমন ব্যবস্থা নেই বিসিবির । আর যা আছে তা বিশ্ব মানের না ।

আমি চাই বাংলাদেশ ক্রিকেট খেলা এগিয়ে যাক । কিন্তু আমার শরীরের এক অংশ বেড়ে যাবে আর আরেক অংশ ছোট থাকবে তা কিন্তু বেমানান লাগবে । আমি চাই পুরুষ ক্রিকেট এর সাথে সাথে মেয়েদের ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা করা হোক , খবর বের করা হোক , তাদের নিয়ে নিয়মিত আর্টিকেল লেখা হোক । আর আমাদের উচিত তাদের খেলা হলে বিশেষ করে দেশের মাটিতে খেলা হলে মাঠে গিয়ে বসে তাদের উৎসাহ দেয়া । একদিনে তারা বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করতে পারবে না জানি । কিন্তু একদিন না একদিন ঠিক উজ্জ্বল করবে সেই সাথে মেয়েদের ক্রিকেটে ওয়ার্ল্ড রাঙ্কিং এ এক নাম্বারে থাকবে ।

“ পরকীয়া ” পরিবার ও ভালবাসার অন্তরায় !

Now Reading
“ পরকীয়া ” পরিবার ও ভালবাসার অন্তরায় !

একটা সমাজের ভিত্তি কি ? যদি আপনাকে প্রশ্ন করা হয় ? এই প্রশ্নের উত্তর মতভেদে নানান রকম পার্থক্য লক্ষণীয়। এটা স্বাভাবিকই বলা চলে। একই সমাজে বসবাস করা মানুষগুলোর মধ্যে নানান মতভেদের কারণেই তো আজ এতো এতো সামাজিক নিয়মকানুন বের হয়েছে। এই মতভেদ কেবল সমাজের মধ্যে নয় একটা পরিবারের মধ্যে হয়। আমরা শক্ত একটা পারিবারিক মুল্যবোধ আর বিশ্বাস নিয়ে বেড়ে উঠি। এই বিশ্বাসের রীতি রেওয়াজ আমরা কোন না কোনভাবে সমাজে বসবাসের সময় অণুকরণ করি। একটা ভাল পরিবারের সংজ্ঞা কি যদি বলতে যায় তবে বর্তমান অনুযায়ী তা ভিন্ন হবে অবশ্যই ।

পরিবারের শক্ত একটা গাঁথুনি থাকে স্বামী-স্ত্রীর বিশ্বাসের মধ্যে।এই পরিবারের গঠন বা কার্যাবলী একটা সমাজের বাহ্যিকতাকে পরিস্ফুটিত করে। বর্তমানে পরিবারের যে ভাঙ্গন তার পেছনে অনেকাংশে দায়ী আধুনিকতা আর নগর জীবনের প্রভাব। এখন গ্রামাঞ্চলেও শহরের মতো যৌথ পরিবার ভেঙ্গে একক পরিবার গড়ে উঠতে দেখা যায়।

সাবস্ক্রাইব করে রাখুব বাংলাদেশীজম প্রজেক্টের ইউটিউব চ্যানেলে এখানে ক্লিক করে নতুন সব আপডেটের জন্য! 

আমাদের দেশে বিবাহ প্রথার মাধ্যমে একটা পরিবারের সূচনা হয় ।এই বিবাহ প্রথার মধ্যে আবার রয়েছে নানান প্রথা যেখানে পরিবারের সম্মতিতে কেউ বিয়ে করে ,আবার কেউ কেউ একে অপরকে ভালবেসে বিয়ে করতে দেখা যায়। রাজধানীসহ দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে লিভ-টুগেদারের মতো রিলেশনশীপের অস্তিত্ব লক্ষণীয় যদিও তা যৎসামান্য হারে।এই তো গেল কিভাবে একটা পরিবার গঠন হয় তার নমুনা ।রোজকার দিনে চলাফেরা বা নানান আনুষাঙ্গিক কারণে এই ভালবাসা বা বিয়ের মাধ্যমে গড়ে উঠা সম্পর্কগুলোতে একটা আস্থাহীনতা বা অবিশ্বাসের আস্তরণ জমে। এই আস্তরণ গাঢ় হয়ে মূলত সমস্যাটা দেখা দেয়।

সম্প্রতি আমাদের সমাজে বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ক বা অনৈতিক কোন সম্পর্কের জেরে নারী পুরুষ একে অপরের সাথে বসবাস করার প্রবণতা লক্ষণীয়।এটা সামগ্রিক অর্থে সামাজিক নীতি বিরুদ্ধ একটা কর্মকান্ড।সমাজ বিশ্লেষক বা বিশারদরা এটা নিয়ে  বেশ উদ্বিগ্ন বলা যায়। একটা পরিসংখ্যানে দেখা গেছে দেশের রাজধানী সহ বিভাগীয় শহরগুলোতে স্বামী-স্ত্রী একে অন্যকে ডির্ভোস দেয়ার যে হার তা আশংকাজনক হারে বাড়ছে। এই যে একে অপরকে ছেড়ে যাওয়ার মানসিকতা বা তাড়না তার পেছনে মুখ্য কারণ হলো স্বামী-স্ত্রীর বোঝাপড়ার অভাব।

আমরা দৈনিক পত্রিকা বা অনলাইন নিউজের বদৌলতে এই ধরনের খবর অহরহ পড়ছি। তাই সার্বিক অর্থে বলতে পারি পরকীয়া বা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ইদানীংকালে পরিবার প্রথার জন্য ক্যান্সার বনে গেছে। এই সমস্যাটা একদিনে বা হুট করে হই নি। এই যে বাজে একটা চর্চা বা প্রথা তা ক্রমশ আমাদের মাঝে এসে যেন ঝেঁকে বসেছে।

এই যে পরকীয়া বা তদসংশ্লিষ্ট ঘটনার বহুবিধ নেপথ্য কারণ থাকতে পারে যার মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য………..

স্বামী স্ত্রীর মতের অমিলঃ

দেশের অধিকাংশ বিয়ে হয় পরিবারের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে তাই এখানে স্বামী স্ত্রী একে অপরকে জানার বা বোঝার সময় কোনটা পাই না। একটা সম্পর্কে থাকতে যেখানে মানসিক সমোঝতার দরকার সেখানে কোন কোন ক্ষেত্রে মানসিক অপরিপক্কতা বা বোধগম্যহীনতার কল্যাণে একটা বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

মনের বিরুদ্ধ আচরণ বা পরিবেশ নিজের স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য হুমকি। তাই একই সাথে থাকলেও দুজনে দুজনের সাথে দ্বিমুখী আচরণ করে।ফলাফল পারিবারিক অশান্তি আর অন্যকোন দিকে ধাবিত হওয়ার একটা সুযোগ থেকে যায়।

অর্থনৈতিক সমস্যাঃ

বর্তমান সময়ে অর্থনৈতিক মুক্তি হল পরম মুক্তি। আপনি আর্থিকভাবে স্বচ্ছলতায় আছেন সুখপাখি আপনার কাছে এসে ধরা দিবে। যেখানে বলা হয় টাকায় নাকি বাঘের চোখ মেলে সেখানে আপনি আস্ত একটা বাঘও তো কিনে আনতে পারেন। পরিবার গুলো যেমন হোক না কেন প্রত্যেক পরিবারের একটা সীমাবদ্ধতা থাকে সেটা যদি আমরা আর্থিক মানদন্ডে মাপতে যায় তবে তা খুবই জটিল একটা বিষয়। মানুষের চাহিদা সবসময় সীমাহীন একটা রেখা ধরে ধাবিত হয়। তাই বাস্তবিক অর্থে আপনি পরিবারের রক্ষক হয়ে যদি আপনার অধীনস্ত সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান তবে আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। এই আর্থিক জটিলতা বা দোটানা অনেকাংশে পারিবারিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য দায়ী। স্বামী যদি স্ত্রীর ভরণপোষণ বা নানাবিধ চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয় তবে পারিবারিক শৃঙ্খল ভেঙ্গে যাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু না। এই ধরনের ঘটনা হারহামেশাই ঘটছে আমাদের চারপাশে। এটা ঘর ভাঙ্গার কারণ যেমন তেমনি আবার পরকীয়ায় আসক্ত হওয়ার নিমিত্ত হতে পারে।

 

স্বাধীনতার কমতিঃ

নারীর উপর কর্তৃত্ব দেখানো বা প্রভাব খাটানোর যে মানসিকতা তা পুরুষের একটা সহজাত অভ্যাস। যদিও এই অভ্যাসটা ইদানীং পরিবর্তন হচ্ছে।

স্বামী-স্ত্রী একে অপরের সাথে বসবাসের সে সামাজিক চুক্তি তাতে উভয়ের সমান অধিকার পাওয়াটা জরুরী। এক্ষেত্রে কোনভাবে যদি স্বামী বা কর্তার পক্ষ হতে নারী বা স্ত্রীর প্রতি একটা হস্তক্ষেপ বা নজরদারী যদি বেড়ে যায় তবে তা অনাকাঙ্খিত বটে। বনের পাখি যেমন খাঁচায় টিকবে না তেমনি মানব শিশু ও বনে টিকতে পারে না।

আমাদের পরিবারগুলোতে নজরদারীর বিষয়টা কোন কোন ক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপের আওতায় পড়ে। এই আধুনিক যুগে বা সমাজে বসবাস করে আপনি একজন মানুষের অধিকার নিয়ে খেলতে পারেন না। তাই স্বামী-স্ত্রীর গন্ডি বা পরিবারের গন্ডি যেখানেই হোক না কেন কোন বাধা আসলে তা ভেঙ্গে বেড়িয়ে যাওয়ার মানসিকতা সবাই দেখাবে।

পারিবারিক মুল্যবোধ বা বিশ্বাস অটুট রেখে পর্যাপ্ত স্বাধীনতা নারী পুরুষ উভয়ের জন্য বহাল রাখা জরুরী।

 

পারিপার্শ্বিক পরিবেশঃ

আমরা একটা অণুকরণের রীতি বা সংস্কৃতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। আমদের দেশীয় কৃষ্টি কালচারের বাইরে গিয়ে ইউরোপীয় বা আমেরিকান ঘরানার যে মুল্যবোধ তা রপ্ত করাতে যেন আমরা তৎপর। এই বিষয়টা এখন আমাদের জন্য গলার কাঁটার মত বিঁধেছে। আমাদের আর্দশিক ভাবধারার সাথে সাংঘর্ষিক কিছু বিষয় যা পাশ্চাত্য হতে ধার করা তা মোটের উপর আমাদের সমাজ ব্যবস্থার মজ্জাটাই ভেঙ্গে দিচ্ছে। এইসব ওয়েস্টার্ন কালচারের চর্চার ফলে মানসিক যে বিকারগ্রস্থতা তা ধীরে ধীরে অস্তিত্বের জন্য হন্তারক। এই যেমন লেট নাইট পার্টি করা ,লীভ টুগেদারের মতো বিষয়গুলো সামাজিক ভাবধারার সাথে যায় না বললে চলে।

জৈবিক জীবনঃ

বিয়ে সামাজিক চুক্তি হলেও তার পরবর্তী শর্ত দাড়ায় জৈবিক চাহিদার বিনিময়ে সন্তান জন্ম দেয়া। এটা একটা অলিখিত শর্ত বলা চলে। মানুষের সুখের কোন মানদন্ড নেই তবে বিবাহ পরবর্তী জীবনে কে কতখানি সাবলীল তার পরিচয় বহন করে তাদের সুখী দাম্পত্য জীবন। অধিকাংশ সময়ে ফ্যান্টাসি বা মোহাচ্ছন্ন হয়ে কেউ অতিমাত্রায় উৎসাহী হয় বা কেউ কেউ নিরাসক্ত হয়ে জীবন যাপন করে। এক্ষেত্রে উপরিক্ত উপাদানগুলিও প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।

আমাদের দেশে অন্য অনেক কারণের মতো এই যে জৈবিক জীবন বা সেক্স লাইফ সম্পর্কিত সমস্যার ঘটনা নিয়ে ডির্ভোস বা বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা আলোচনায় আসে না। তবে এই বিষয়টা কোন না কোনভাবে নেপথ্য কারণ বলে বিবেচিত হতে পারে।

মোহাবেশঃ

চাকচিক্যময় জীবনের হাতছানি আর কৌতুহলের বশে অনেক সময় সুস্থ স্বাভাবিক জীবনকে কঠিন আর দুর্বোধ্য মনে হয়। বিদেশী সংস্কৃতির অন্ধ অণুকরণ বা গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসানো যেমন আছে তেমনি মাদকাসক্তি,স্টারডম,স্বেচ্ছাচারিতার মত বিষয়ও কারণ বনে যেতে পারে স্বামী বা স্ত্রী যে কারোর পরকীয়ায় জড়িয়ে যাওয়ার।

 

জীবনের অর্থ উপলব্ধীতে ব্যর্থঃ

অনেকসময় দেখা যায় সন্তানের মা-বাবা হওয়ার পরও কোন নারী বা পুরুষ ভিন্ন জনের সাথে সম্পর্কে জড়ায়। এটা নিজের কামনা বাসনাকে প্রাধান্য দেয়ার জন্য হলেও প্রকরান্তরে তা দ্বারা নিজের দায়িত্ব হতে সরে আসাকে ইঙ্গিত করে। যে সন্তানের বাবা-মা হয়ে একটা অনৈতিক সম্পর্কের জেরে নিজের সন্তানকে বিপদগ্রস্থ করে তোলে সে আর যাই হোক নিদানপক্ষে মনুষ্যত্ব অর্জন করতে পারে নি।

সম্প্রতি দেখেছি পরকীয়ার জেরে নিজের কোলের শিশুকে বলিদান করেছে নিষ্ঠুর মা-বাবা। ক্ষণস্থায়ী জীবনে নিছক একটা কামনার তৃপ্তির লক্ষ্যে নবজাতককে খুন করার মতো ঘটনা ঘটছে। অপরদিকে ভালবাসার মানুষের সাথে প্রতারণা ও পরিবার পরিজন সবার বিরুদ্ধে গিয়ে একটা ভিন্ন পরিস্থিতিতে নিয়ে যায় নিজের জীবনকে।এখানে অনেক সময় কাঙ্খিত সুখ অর্জিত হয় না বরং মেনে নিতে হয় অযাচিত দুঃখ কষ্টকে।

সর্বোপরি একটা ভালবাসা বা বিশ্বাসের মোড়কে যে পথচলা তাতে যদি কোনভাবে অবিশ্বাসের মতো ঘুণেপোঁকা বাসা বাঁধে তা মুহর্তেই ভেস্তে যায়। পরকীয়া মূলত স্বামী স্ত্রীর একে অপরের প্রতি অবিশ্বাসের দেয়ালে জন্ম নেয়া ভাইরাসসম কিছু। এই যে বোঝাপড়া বা অবিশ্বাসের রীতি তা বন্ধ করতে হবে প্রতিটা সৃষ্ট সমস্যা নিজেদের একটা স্বাভাবিক গন্ডিতে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। কোন কাঙ্খিত বা অলক্ষ্যের কিছুর জন্য তো আমরা পারিপার্শ্বিকতাকে নিয়ত কলুষিত করতে পারি না।

সম্প্রতি পরকীয়ার জেরে ঘটে যাওয়া ন্যাক্কারজনক কোন ঘটনা আমাদের বিবেককে একটু হলেও নাড়া দিয়েছে। কোন সন্তানের কাছে বাবা-মা যেন মূর্তিমান আতংকের প্রতিচ্ছবি বনে না যায়।

তাই পরকীয়ার জেরে প্রতিনিয়ত আপনি আপনার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটা খারাপ শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমান সময়ে আমাদের সচেতন ও আধুনিক নারী পুরুষ সকলকে সোচ্চার হতে হবে। আগামীর সুন্দর পথচলায় সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে আপনার আমার সকলের যেন সম্পুরক  অবদান থাকে।

 

“ নিরাপত্তাহীনতার বলয়ে শিশুরা ” সমাজের করণীয় কি ?

Now Reading
“ নিরাপত্তাহীনতার বলয়ে শিশুরা ” সমাজের করণীয় কি ?

কিশোর কবি সুকান্তের কন্ঠে উদাত্ত আহব্বান ছিল নবজাতকের জন্য করে যেতে হবে এই পৃথিবীকে জঞ্জালমুক্ত। এই জঞ্জালের ভেতর নবজাতকের বেঁচে থাকা কতখানি দুস্কর তা হয়তো কবির মনে একটা উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল। সময়ের স্রোতে কবি আজ আমাদের মাঝে নেই। কবির চিন্তা বা উদ্বেগ আজ যেন বার বার ফিরে আসছে প্রতীয়মান হয়ে। আমাদের দেশীয় প্রেক্ষাপটে একটা পরিবারতন্ত্রের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। এখানে বাবা,মা,ভাই,বোন সকলে একটা সৌহার্দ্যের বন্ধনে থাকে।

জন্মের পর মানব শিশুর যে আত্মা তা অনেকটা অবচেতন কেননা তখন তার কোন অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে তাড়িত করতে পারে না। একটা সময় অন্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে বেঁচে থাকার লড়াই করতে করতে যোদ্ধায় পরিণত হয়। প্রতিটা শিশুর অন্তরে লুকিয়ে থাকে ভবিষ্যতের কোন এক মূর্তমান চরিত্র। এই চরিত্রের গঠন ও লালন পালনের জন্য যাবতীয় কিছু করতে হয় শিশুর পাশাপাশি পরিবারের অন্য সকলকে। একটা শিশুর মানবাত্মা কাঁচা মাটির পিন্ডের মতো,শিল্পী কাঁচা মাটির পিন্ডকে লক্ষ্য করে তার মনের যে স্বীয় চিন্তা তার প্রতিফলন ঘটায়।

তেমনি সমাজে বসবাসরত মানুষের আচরণ আর ভালবাসা একজন শিশুর মনে একটা শক্ত বুঁনিয়াদ গড়ে তোলে।

মানব জীবনের প্রতিটা স্তরের গুরত্ব রয়েছে তবে শিশুকাল বা জীবনের প্রথম স্তরই যেন সবচেয়ে গুরুত্ববহ। এই সময়ে শিশু সবচেয়ে বেশি মানসিক বা চারিত্রিক দৃঢ়তা নিয়ে বেঁড়ে উঠে। তাই একজন সচেতন বাবা মায়ের স্থানে অধিষ্ঠিত হয়ে আমরা কি এই দায়িত্ব থেকে সরে আসছি ? এই বিষয় নিয়ে ভাবা উচিত।

সমাজ বিজ্ঞানের আলোচনায় বলা আছে পরিবারের মাঝে  এমনকি বাবা মায়ের গন্ডির মধ্যে শিশুর জন্য একটা নিরাপদ বলয় থাকা উচিত। যেখানটায় শিশুর সার্বিক বিকাশে কোন বাধা আসবে না। আমাদের দেশে একান্নবর্তী পরিবারের প্রথা ভেঙ্গে ক্ষুদ্র পরিবার প্রথা গড়ে উঠছে। যেখানে শিশুর জন্য অপেক্ষা করে বহুমাত্রিক সমস্যা। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে তার সাথে অনেকাংশে কোন সহায়ক কেউ থাকে না। সমাজ বা পরিবারের ক্ষেত্রে উদ্ভুত পরিস্থিতির আলোকে এইসব সমস্যার সুষ্ঠু বিহিত করা জরুরী।

আমরা আধুনিকতার মোড়কে একটা পিছিয়ে পড়া সমাজব্যবস্থায় আছি। এখানে সামাজিক সুরক্ষা আইনগুলো খুবই দুর্বল। যা প্রচলিত আছে তার কোন সুষ্ঠু প্রয়োগ নেই বললে চলে। সমাজে বেড়ে উঠতে গিয়ে একটা শিশু নানানভাবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে। এই সব পরিস্থিতি আমরা যেমন সৃষ্টি করি তেমনি এসবের প্রতিকারও আমাদের হাতে। এখন সময়ের দাবী আমরা কতটা সোচ্চার এই বিষয়াদি নিয়ে। সামাজিক প্রেক্ষাপটে এখন নানাভাবে শিশুদেরকে ব্যবহার করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যেমন আছে তেমনি অবহেলিত কাজেও আছে। এই বিষয়ে কর্তৃপক্ষের তদারকি যেমন নাই তেমনি পাশাপাশি রয়েছে উদাসীনতা।

আমাদের দেশে এখনো অনেক শিশু রয়েছে যারা শিশুসুলভ চরিত্রের গন্ডি হতে বের না হতেই তাদের নিয়োগ করা হয়  গৃহপারিচারিকার কাজে। শহরের উঁচু সু-সজ্জিত দালানের ভেতর এই রুপটা খুবই নিকৃষ্ট বলা যায়। আমি নিজের একটা অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারি।

আমি টিউশনির সূত্রে এক বড়লোকের বাড়িতে পড়াতে যেতাম। আমার স্টুডেন্টের বয়সী একটা কাজের মেয়ে তাদের বাসায় কাজ করে। একদিন দেখি কাজের মেয়েটিকে যাচ্ছেতাই ব্যবহার করছে। চোখের সামনে মেয়েটিকে বারকয়েক মারতে বা খারাপ ব্যবহার করতে দেখে নিজে বেশ অস্বস্তির মধ্যে ছিলাম।

কলকারখানাগুলোতে দীর্ঘসময়ে কাজের বিনিময়ে যৎসামান্য মজুরি বা নানানভাবে নির্যাতন যা কিনা একটা সভ্য সমাজে শিশুর জন্য বরাদ্দ হতে পারে না। শিশুর মৌলিক অধিকারের কতখানি আমাদের সমাজ দিতে পারছে তা দৃশ্যমান বটে।

সম্প্রতি আমাদের দেশে শিশুদের উপর বিদ্বেষটা যেন বেড়ে গেছে। বিগত কয়েকবছরে শিশুর প্রতি বিদ্বেষ যে হারে বেড়েছে তা সমাজবিশারদরা একটা সামাজিক উৎকন্ঠা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ঢাকাশহরসহ সারাদেশে পরকীয়ার জেরে,সম্পত্তির বিদ্বেষ বা স্বার্থের জন্য এখন শিশুকে হাতিয়ার করছে। কোন তুচছ ঘটনার জেরে যেমন শিশুকে আছাড় মেরে হত্যা করার মতো ঘটনা ঘটছে। তেমনি শিক্ষিত পরিবারের স্বামী স্ত্রীর ঝগড়ার জেরে অবুঝ শিশুকে বেগোড়ে প্রাণ দিতে হচ্ছে।

কখনো কখনো অবহেলা বা নিজেদের স্বেচ্ছাচারিতার ছলে দিনে দুপুরে শিশুকে পিটিয়ে মেরে ফেলছে। যেখানে দিনের আলোয় একজন শিশুকে মেরে তার ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ সাইটে আপলোড করেও এইসব ঘৃণ্য অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। এটা আইনের নিছক দুর্বলতা বলে দায় এড়ানো কোনভাবে সম্ভব নয়। একটা পোশাক কারখানায় কর্মরত শিশুকে শাস্তির নাম করে পায়ুপথে বায়ু প্রবেশ করিয়ে খুনের মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটছে। হিংস্র বা কুৎসিত মানসিকতার কিছু অধিকারী লোক যারা কিনা এইসব উগ্রতা অনেকটা খেলাছলে ঘটিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি যৌন নির্যাতনের মতো  কু-লিপ্সা মেটানোর জন্য হিংস্র জানোয়াররুপী মানুষগুলো শিশুদের ছাড় দিচ্ছে না। ষাটোর্ধ্ব বয়সী লোকের লিপ্সার শিকারে পরিণত হচ্ছে পাঁচ বছরের বয়সী কোন মেয়ে শিশু। নারী পাচারের মতো ঘটনা যেখানে অহরহ ঘটছে যার ভুক্তভোগীদের অধিকাংশই নারী শিশু। এটা সামাজিক অন্যায্যতার প্রতিপাদন বটে। আমাদের দেশে নারী শিশুরা এই আধুনিক সমাজ ব্যবস্থার আড়ালে আবডালে একটা অদৃশ্য কালো থাবার ছত্রছায়ায় পড়ে আছে। যেখানে প্রতিমুহুর্তে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে নানা উৎকন্ঠা আর উদ্বেগ। তাদের বেড়ে উঠার স্বাভাবিক সুস্থ পথটা আমরা প্রতিবন্ধকতায় ভরিয়ে রেখেছি।

প্রতিটা পরিবার আর সমাজের শৃঙ্খলে একটা বিব্রতকর পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সর্বাগ্রে দায়ী বাবা-মা এবং পরিবারের কর্তারা। এখন পারিপার্শ্বিকতায় আমরা নিজেদের স্বার্থকে জড়িয়ে কোমলমতি শিশুকে যেমন রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহার করে আসছি,তেমনি যেকোন হীন স্বার্থ উদ্ধারের জন্য ন্যাক্কারজনক ঘটনাও কম ঘটছে না। ইদানীংকালে ঘটে যাওয়া সকল ঘটনার প্রেক্ষাপটে রোষানলের শিকার ও বেঁচে যাওয়া সকল শিশুর প্রতি রাষ্ট্র বা নীতিনির্ধারকরা কোন সুবিচার করতে পারছে না। কোন ঘটনার উল্লেখযোগ্য শাস্তির বিধান করতে না পারায় রাষ্ট্রের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির নেপথ্যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি।

একটা সমাজ বা রাষ্ট্রের অন্তরালে কেবল পরিবারই যেখানে নিরাপদ একটা বলয় দিতে পারে সন্তানকে। সেখানে আমাদের উদাসীনতা আর অবহেলার কারণে পরিবারের মতো সুরক্ষিত স্থানটা আজ কোন না কোনভাবে শিশুদের জন্য বিপদসংকুল একটা স্থান হিসেবে চিহ্নিত।

আজকের শিশুর মধ্যে ভবিষ্যতের ধারকের অস্তিত্ব নিহিত। আগামীতে সুন্দর একটা সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্য এগিয়ে চলার জন্য আমাদের উচিত গঠনমূলক কিছু পদক্ষেপ নেয়া জরুরী।

যেখানে সুন্দর আগামীর পথচলায় প্রতিটা মানবশিশু দাঁপিয়ে বেড়াবে। এমন সুন্দর পথচলা কেবলই নিশ্চিত করতে পারি আমরা। এই পথচলার দ্বার তৈরিতে আসুন আমরা একটা পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যায়।

ধর্ষণ ও আমাদের সমাজের চালচিত্র

Now Reading
ধর্ষণ ও আমাদের সমাজের চালচিত্র

ধর্ষণ…!!
শব্দটা যেন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে একেবারে মিশে গেছে।
পত্রিকা, টিভি চ্যানেল, ব্লগ সাইট, ফেসবুক সহ সকল পাবলিক প্লেসে, এমনকি বন্ধুদের আড্ডাতেও এই শব্দটি বহুল ব্যবহৃত।
শব্দটা আমরা যত সহজে উচ্চারণ করি, ভিকটিমেরা তার চেয়েও অনেক বেশি যন্ত্রণার সাথে শব্দটা সহ্য করে থাকে। যে যন্ত্রণা হয়তো অনুধাবন করার ক্ষমতাটুকু আমাদের কারো নেই।
যন্ত্রণার তীব্রতা যে কতখানি, তা আমরা সাম্প্রতিক একটা ঘটনার দিকে চোখ রাখলেই বুঝতে পারি। ছোট্ট মেয়েটার ধর্ষণের বিচার না পেয়ে বাবা আর মেয়ে মিলে একসাথে আত্মহনন করেছিল রেললাইনে মাথা পেতে। তাদের কাছে এই শব্দের যন্ত্রণা মৃত্যুর থেকেও অনেক ভারী।
যে উদাহরণটা দিলাম, এটা খুবই ক্ষুদ্র একটা অংশ। প্রতিদিনই বহু ধর্ষণের ঘটনা ঘটে আর মিডিয়ায় আসে তার তলানি স্বরূপ ক্ষুদ্র একটা অংশ। আর সেটা নিয়ে আমরা অনলাইনে কয়েকদিন লাফালাফি করি। অবশেষে কোন সমাধান ছাড়াই নতুন নতুন ঘটনার নিচে চাপা পড়ে যায় সেই লাফালাফি। এদিকে ধর্ষিতারপরিবারের যন্ত্রণা, যন্ত্রণার যায়গাতেই রয়ে যায়। সমাধান না পেয়ে সেই যন্ত্রণা চেপে তারা সমাজে বেঁচে থাকে নিচু হয়ে। নিচুর কথা বললাম কেন, তার পুরোটা বলতে গেলে আমার লেখা কখনোই থামবে না। তবুও সংক্ষেপে বলি।

আমরা তথা আমাদের সমাজই ধর্ষিতাকে নিচু করে রাখে। ধর্ষণের বিচার না করে বরং ধর্ষিতাকে ও ধর্ষিতার পরিবারকে ছোট করে দেখে। দোষ না করেও, নির্যাতিত হয়েও তারা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না, কথা বলতে পারে না। অথচ, ধর্ষক ঠিকই বীর-দর্পে চলাফেরা করে। মাথা উঁচু করে চলে। একই চায়ের টেবিলে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে চায়ের কাপে চুমু খায়। আমাদের সমাজটাই এমন। নারী জাতির সম্মানটা কেবল নিজের “মা” আর “বোন” নামক শব্দের মাঝে সীমাবদ্ধ। বাকি সব নারী “মাল” আর ভোগের পণ্য। রাস্তাঘাট, যানবাহন থেকে শুরু করে যেখানেই কোন নারী দেখা যায়, তারা সবাই “মাল”। লোলুপ দৃষ্টি তাদের পিছু ছাড়েনা কখনোই। এমনকি ফেসবুকে কোন মেয়ে ছবি আপলোড দিলেও তার মাঝে মানুষ যৌনতা খোঁজে। হোক সে ক্লাসমেট, কাজিন অথবা এলাকার কোন মেয়ে। আপনার আশেপাশের পাবলিক প্লেস গুলোয় চোখ-কান খোলা রাখলেই একথার সত্যতা খুঁজে পাবেন। দূরে যেতে হবেনা। আমাদের তথা আমাদের সমাজের মনোভাবটাই এমন। যৌনাকাঙ্ক্ষা এতোই বেশি যে, আমরা তা রগে রগে ধারণ করে পথ চলি আর নিজের ব্যক্তিসত্তা ভুলে গিয়ে নির্লজ্জের মতো তা নারীদের দিকে ছুঁড়ে মারি।
যাক এসব কথা। ধর্ষণের কথায় আসি…

সম্প্রতি আলোচিত এক ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত সাদাতের বাবা বলেছে, “আমার ছেলে অন্যায় করেছে তো কি হয়েছে, আমিও করি”। বেহায়া, নির্লজ্জ কোথাকার। কোন বাবা তার ধর্ষক ছেলেকে নিয়ে স্ব-গর্বে এমন কথা বলতে পারে, সে ধারণা আমার ছিল না। তার উচিত ছিল, জাতির কাছে তার ছেলের কুকীর্তির জন্য ক্ষমা চাওয়া। ক্ষমা না চেয়ে বরং তার ছেলের বাজে কর্ম ঢাকতে নিজেকেও সেই পর্যায়ে নিয়ে গেছে। একটা মানুষ আদব-কায়দা শেখে তার পরিবার থেকে। যে পরিবারে এমন বাবা আছে সে পরিবারের ছেলে আদব-কায়দা হীন ধর্ষক হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু না। কুলাঙ্গার ছেলেকে বাঁচাতে কোন কাণ্ডজ্ঞানহীন বাবা যদি এমন কথা বলতে পারে, সম্ভ্রম হারা কোন মেয়ের বাবাও ওইসব ধর্ষকের কাণ্ডজ্ঞানহীন বাবাকে রাজপথে ফেলে জুতাপেটা করতে করতে মেরে ফেলার অধিকার রাখে। যদিও অধিকার নামক শব্দটা এদেশের প্রশাসকদের দলিলে নেই বলেই চলে।
ধর্ষণের সঠিক বিচার না থাকার কারণে আমাদের সমাজের চিত্রটা এমন। সঠিক বিচার সমাজের অপরাধ কমিয়ে আনতে সক্ষম। আফসোস, আমাদের এই জিনিসটার বড় অভাব। যদি এসব অপরাধের সঠিক বিচার হতো, ধর্ষক সমাজ তাদের কার্য সম্পাদনে একটু হলেও ভয় পেতো আর অপরাধ কমতো। এই বিচার নিয়ে কথা বললে আবার বিশাল রচনা হবার সম্ভাবনা আছে। তবুও ছোট করে বলি…

বিচারকের আসনে তথা প্রশাসনে যারা আছে তাদের জগতটা সম্পূর্ণ আলাদা। এদের পিছনের দিনগুলোতে তাকালে দেখা যাবে, কারো কারো জীবনে এরকম কার্যের অভিজ্ঞতা বেশ কয়েকটা রয়েছে। লোকসমাজে প্রচলিত আছে, “কচু গাছ কাটতে কাটতে নাকি ডাকাত হয়”। কথাটার সত্যতা প্রমাণে প্রশাসনের লোকগুলো বেশ পটু। ছোটবেলা থেকে যারা অনিয়ম দুর্নীতি করে আসছে, তারাই একসময় ক্ষমতায় বসছে। এদের থেকে সুবিচার পাওয়াটা অমাবস্যার চাঁদের মতো। অন্ধকারে থেকে থেকে অন্ধকারের কাজগুলোই তাদের বেশি আপন। যদিও মাঝে মাঝে দু একটা বিচার দেখা যায়, সেগুলো হয় তাদের গদি পাকা-পোক্ত করার জন্য অথবা লোক দেখানো।

তনুর জন্য আমাদের আন্দোলন কতখানি জোরালো ছিল… টিকেছে? টিকেনি…!! বিচার এখনো প্রক্রিয়াধীন। কবে শেষ হবে, আদৌ হবে কিনা, তা কেবল তারাই জানে। জোর যার, মুল্লুক তার। অথচ, এই তনুরা যদি প্রশাসকের পরিবারের কেউ হতো, ধর্ষককে গ্রেফতার থেকে শুরু করে বিচার কার্য শেষ হতে সময় লাগতো হাতে গোনা কয়েকটা দিন। আমরা কেউ প্রশাসক পরিবারের না, সবাই তনুর পরিবারের, তাই সুবিচার হয়তো আমাদের প্রাপ্য না।

প্রতিদিন কত মেয়ে যে ধর্ষিতা হয় তার শেষ নেই। কেউ সামনে এসে বিচার চায়, কেউ গোপনে যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকে লোকসমাজে টিকে থাকার তাগিদে। গতকালও একটা খবর পেলাম, প্রায় বছর-খানেক সময় ধরে মা-খালা সহ এক মেয়েকে ধর্ষণ করে আসছে। কতটা জঘন্য একটা খবর। একবার ভাবুন। লোক-লজ্জার ভয়ে অথবা ভিডিও ফ্ল্যাশ হয়ে যাবার ভয়ে টানা এক বছর ধরে নীরবে ধর্ষণের যন্ত্রণা সয়ে আসছে। ভিডিও শব্দটা উচ্চারণ করতেই অনেকগুলো খবর চোখের সামনে ভেসে উঠলো। যাক, বাদ দিলাম এসব ভিডিওর কথা। যারা এইসব কাজগুলো করে, তাদের যদি বিচার হতো, পুরোপুরি না হোক, অপরাধ কিছুটা হলেও কমতো। মাথাব্যথা নেই আমাদের প্রশাসনের। সমস্যা কি !! তার মেয়ে তো নিরাপদেই আছে। একবার আপনার মেয়েকে ঠেলে দিন না কোন এক ধর্ষকের হাতে। খুব সহজেই বুঝবেন এসবের যন্ত্রণা কতখানি। ধর্ষিতাকে কোন এক মেয়েকে নিজের মেয়ের জায়গায় বসান না একবার। দেখেন, যন্ত্রণা কতখানি। আপনাদের কাছে আমাদের প্রাপ্যতা তো এটুকুই। আর এই প্রাপ্যটা যদি না’ই মিটাতে পারেন, তবে ছেড়ে দিন আপনার গদি। আপনার মত কাণ্ডজ্ঞানহীনের আসন বিচারকের আসনে শোভা পায় না। তেলে মাথায় তেল দিয়ে তথা ক্ষমতাবানদের পা চাটাই যদি হয় আপনার কাজ, তবে ওইসব ক্ষমতাবান ধর্ষকদের “দণ্ডটা” মুখে নিয়ে চোখ বুজে চুষতে থাকেন; আরাম পাবেন। অর্থলোভ আর ক্ষমতা আপনাদের মানসিকতাকে কুকুরের চেয়েও নিকৃষ্টতম পর্যায়ে নিয়ে গেছে। কুকুরের সাথে তুলনা করেও ভুল করলাম। কুকুর অন্তত মনিবের নুন খেয়ে মনিবের কাজ করে। ধর্ষিতার পরিবারের সমর্থনেই হয়তো আপনি আপনার গদিতে বসতে পেরেছেন। কিন্তু তার জীবনের কঠিন-তম অবস্থায় আপনার লেজ গুটিয়ে ক্ষমতাবান ধর্ষকের দণ্ডে তেল মেজে দিচ্ছেন। শত ধিক আপনাদের। শত শত ধিক…!!!