উন্নয়নে নারী শক্তির ভূমিকা

Now Reading
উন্নয়নে নারী শক্তির ভূমিকা

নারী শক্তি !!!
একটি সময় ছিল যখন নারীকে কেবল গৃহ খাদ্য সহায়ক আর শিশু লালন পালন কারী হিসেবে ই দেখা হতো ; কিন্তু এই প্রচলিত ধারণা আজ বদলে গেছে আর তা কেবল সম্ভব হয়েছে নারী সচেতনতার ফলেই | দিনে দিনে নারী নিজেকে বদলে ফেলেছে সময়ের প্রয়োজনে আর এই শক্তি ও সাহস কে কাজে লাগিয়ে নারী তার নিজের এবং দেশের প্রয়োজন মিটিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ও অনেক পরিচিতি লাভ করছে | নারীর এই সফলতার পেছনে লুকিয়ে আছে অনেক ব্যর্থতার গল্প আর নারী তার সকল ব্যর্থতাকে সফল করেছে তার ভেতরে থাকা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে | একজন নারীকে তার পুরুষ সকর্মীর তুলনায় অনেক বেশি কর্মঠ হয়ে কাজ করতে হয় ; দ্রুত চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি নিকট ভবিষ্যৎ চাহিদা মেটানোর জন্য সদা প্রস্তুত থাকতে হয় | নারীকে তার সেরাটা দেবার জন্য সবসময় যুক্ত হতে হয় বর্তমান প্রযুক্তির সাথে ; একদিকে বর্তমান চাহিদা অন্যদিকে গতানুগতিক গৃহ পরিচালনা এই দুটোর মাঝে এক পরিপূর্ণ ভারসাম্য এনে তবেই এগুতে হয় | বর্তমানে বাংলাদেশী নারীরা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কোম্পানিতে ভালো অবদান রাখছে তাদের কাজের মাধ্যমে আর তা কেবল সম্ভব হচ্ছে তার ভেতরে থাকা শক্তি আর স্বপ্নকে কাজে লাগানোর মাধ্যমে | গতানুগতিক গৃহ সমস্যা ছাড়াও কর্মক্ষেত্রে ও নারীকে অনেক বাধা মোকাবেলা করে কাজ করতে হয় ; পুরুষ সহকর্মীর বেঁধে দেয়া প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে ও নিজেকে একজন সফল কর্মী হিসেবে গড়ে তুলতে নারীর ভেতরের লুকানো শক্তি অনেক কার্যকর ভূমিকা পালন করে | একজন পুরুষ কর্মীর তুলনায় একজন নারী কর্মীকে অনেক বেশি ভাবতে হয় আর এই ভাবনার বিষয় জুড়ে থাকে একজন নারীর পারিবারিক এবং তার সামাজিক জীবন আর এই দুটোর মাঝে পরিপূর্ণ সমতা আনাটাই একজন নারীর ভেতরে থাকা শক্তির বাস্তব প্রতিফলন |
একটু সহযোগিতা, ভালো পরার্মশ, ভালো ব্যবহার এগিয়ে নিতে পারে নারীকে তার ভেতরে থাকা শক্তি আর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে ;আর এর মাধ্যমে পরিবার,দেশ, জাতি ও উপকৃত হতে পারে | নারীকে তার জন্মের পর হতে জীবনের প্রতিটি অধ্যায় পারি দিতে হয় অনেক প্রতিবন্ধকতায় ; আর সকল কিছু জয় করা সম্ভব হয় নিজের ওপর বিশ্বাস আর নারীর নিজের ভেতর লুকানো শক্তি কে কাজে লাগিয়ে | গৃহ ক্ষেত্রে নারীকে একজন ভালো স্ত্ৰী হতে হয় , ভালো মা হতে হয় আর কর্ম জীবনে একজন ভালো কর্মী হতে হয় | আর এ সব কিছুই সম্ভব হয় অনেক ত্যাগ আর ব্যক্তি স্বাধীনতার বিসর্জন দিয়ে | একজন নারীকে তার সকল কাজে একজন পুরুষের তুলনায় অনেক বেশি প্রমান করতে হয় আর এই কারণে বার বার নিজেকে যোগ্য করে তুলতে হয় | একজন নারীকে যোগ্য করে তুলতে হলে তার ভেতরে লুকিয়ে থাকা শক্তির পাশাপাশি পারিপার্শ্বিক সহযোগিতা অনেক অবদান রাখতে পারে | প্রতিটি ধর্মেই নারী জাতিকে অনেক মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে এবং তাদের প্রতি সন্মান অক্ষুন্ন রাখতে বলা হয়েছে | নারীর প্রতি যথাযথ সন্মান নারীকে তার দায়িত্ব পালনে আরো বেশি ত্বরান্বিত করেছে | ইসলামের প্রাথমিক যুগে বিবি খাদিজা (রা:) অনেক ভূমিকা পালনে সক্ষম হয়েছেন তার প্রতি প্রিয় নবীর বিনয়ী ব্যবহার, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার জন্যই | নারীর প্রতি যথাযথ সন্মান তার ভেতরে থাকা শক্তিকে জাগাতে সহায়তা করে | আর এসবের প্রমান স্বরূপ বর্তমান সময়ে অনেক নারী তার নিজেকে তুলে ধরেছেন অনেক উঁচু পর্যায়ে | তাদের মধ্যে আছেন দেশের প্রধান মন্ত্রী, মাননীয় স্পিকার, বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস উনার, প্রজেক্ট উনার, ওমেন চেম্বার অফ কমার্স ইন্ডাস্ট্রি প্রফেশনাল ব্যাক্তিত্ব এছাড়াও বর্তমানে নারীরা পর্বত পারি দিতে ও সক্ষম হচ্ছে শুধু মাত্র তাদের নিজ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে | আধুনিক তথ্য প্রযুক্তিতে নারীকেই রোবটিক আইকন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ; এসবের পাশাপাশি দেশে বিদেশে খেলা-ধুলা ও বেশ এগিয়ে আছেন নারীরা | ফুটবল, ক্রিকেট, বাস্কেটবল, সাঁতার সকল ক্ষেত্রেই বর্তমানে নারীরা অনেক সফলতা অর্জন করছে এক কথায় ঘর হতে বাহির সব খানেই নারী সফল শুধু তার ভেতরের লুকায়িত শক্তি সাধনার ফলেই | একজন নারীকে যোগ্য ও প্রতিষ্ঠিত করে তুলতে দেশ ও জাতিকে এগিয়ে আসতে হবে ;নারীর ভেতরে থাকা শক্তির উপযুক্ত ব্যবহার করতে আনুষঙ্গিক উপাদান গুলো সক্রিয় করে তুলতে হবে | সরকারি ও বেসরকারিভাবে সকল সহায়ক উদ্যোগ নিতে হবে | আধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজলোভ্য করে গড়ে তুলতে হবে | একজন নারী যাতে তার পরিবারকে সামলে কর্মস্থলে তাকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে | উন্নত দেশের মতো আধুনিক শিশু পরিচর্চা কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে ; অর্থাৎ নারীকে তার ভাবনার পরিধিকে বহুদূর পর্যন্ত প্রসারিত করতে সুযোগ করে দিতে হবে তাকে তার গতানুগতিক গৃহ পরিবেশ থেকে বের হতে সহায়তা করতে হবে ; নারীকে তার নিজ যোগ্যতার উপযুক্ত ব্যবহার জানতে সাবলম্বী করে গড়ে তুলতে হবে আর এসবের মধ্যে দিয়ে একটি দেশ ও জাতি আরো সামনে এগিয়ে যেতে পারবে | এবং সেই সাথে একজন নারী তার ভেতরের শক্তিকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারবে ও নারী তার নিজেকে এক সাবলম্বী নারী হিসেবে আবিষ্কার করতে সক্ষম হবে |

ঢাকা শহরে ইভটিজিং এক বিভীষিকার নাম (এক ঘন্টার পথে ৫-৬ বার টিজিংয়ের শিকার)

Now Reading
ঢাকা শহরে ইভটিজিং এক বিভীষিকার নাম (এক ঘন্টার পথে ৫-৬ বার টিজিংয়ের শিকার)

অনেক কষ্টে এরকম একটা বিষয় নিয়ে লিখতে বাধ্য হচ্ছি। কয়েকমাস আগে বিকেলে ফুফাতো বোনকে নিয়ে ওদের বাসায় যাওয়ার পথে প্রায় ৫-৬ বার ইভটিজিং এর শিকার হয়েছি। ফার্মগেট হতে মগবাজার যাওয়ার জন্য বাস পাচ্ছিলাম না বলেই হেটেই রওয়ানা হই।
# প্রথম টিজিংটা করে দুইজন লোক আমাদের বিপরীত দিক হতে ক্রস করার আগ হতেই বোনের দিকে তাকিয়ে ছিলো এবং ক্রস করে এক হাত পিছনে যাওয়ার পরেই বললো মাইয়াটার দুধ নাই! কথাটা আমাদের দুজনের কানেই এসেছে।

# এরপর আরেকটু সামনে এগোলাম দ্রুতগতিতে রিক্সা দিয়ে যাওয়া দুজন ছেলে ‘মালরে মাল’! বলে হাসতে লাগলো।

# আমরা সামনের দিকে এগোচ্ছি। আমাদের পিছন হতে সামনের দিকে যাওয়া পথচারী আমাদের ক্রস করার সময় বোনের দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায়। যেন বোনের ব্যাকসাইড দেখার পর ফেসটা না দেখলে উনি বাঁচবেন না।

# ফুটপাত ধরে হাটছি। একটা গ্যারেজ ক্রস করতেছিলাম সেই গ্যারেজের ছেলেরা আমাদের দেখে ‘চিকনী চামিলি’ গান গাওয়া শুরু করলো। আর আমরা গ্যারেজ ক্রস করে দশ হাত যাওয়ার পর “ঐ চিকনী চামিলি” বলে জোরে জোরে ডাকা শুরু করলো।

# আরেকটু সামনে যাওয়ার পরে বাইক দ্রুত গতিতে যাচ্ছে বলে উঠলো ‘মাম্মা! কত্ত বড় দুধরে’!

অবশেষে ওদের বাসায় আসলাম। ফুফুকে সালাম জানিয়ে, বোনকে বাসায় দিয়েই লজ্জায় আর মুখোমুখি হতে পারলাম না। দ্রুত চলে এলাম। আমি এমন ভাই আমার বোনকে এরকম অসম্মানে পড়তে হলো আমি থাকাকালীন সময়ে, আমি কিছুই করতে পারলাম না। আমার পুরো শরীর ব্যথায় নীল হয়ে যাচ্ছিলো এই কথাগুলো মনে পড়তেই..লজ্জা আর অপমানে আত্মহত্যা করতে ইচ্ছে করছিলো। এটা ভাবতে শিউরে উঠলাম আমি থাকাকালীন সময়ে যদি এগুলো হয়, আমার অনুপস্থিতিতে না জানি আরও কতকিছুই সহ্য করতে হয় তাকে। কিছুদিন আগে ও নাকি সন্ধার পরে বাসায় ফিরছিলো রিক্সায় করে হুট করে এক ছেলে রিক্সার সামনে এসে “ভাউ”! শব্দ করে অন্ধকারে পালিয়ে যায়…

ফেরার পথে মগবাজার বাসস্টান্ডে দাঁড়িয়ে আছি। স্টান্ডে আরও দুইটি মেয়ে দাঁড়িয়ে। তাদের দিকে তাকিয়ে বাসের হেলপার দ্রুত গতিতে যাওয়ার সময় কিছু বেফাঁস একটা বললো আর হাসলো।

বাসায় ফিরলাম। গতকালের ঘটনাগুলোই বারবার মনে পড়ছিলো। হঠাৎ ফেসবুকে এক আপুর একটা ভিডিও দেখলাম। উনি নাকি সি.এন.জিতে করে ফেরার পথে সি.এন.জি ড্রাইভার লুকিং গ্লাস দিয়ে উনার দিকে তাকাচ্ছিলো বারবার। এক পর্যায়ে মাস্টারবেশন করা শুরু করে। ভাবুন একবার কোথায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে এই সমাজ?

এই যদি সমাজের বাস্তব নোংরা চিত্র যেখানে বাস হেলপার, রিক্সাওয়ালা, দোকানদান, ছাত্র, শিক্ষক সব শ্রেনীর পুরুষের দ্বারাই যদি নারীরা এরকম নোংরা কথাবার্তার শিকার হয় তাহলে সেই সমাজে আমি বাঁচতে চাইনা। হয় আমি সুইসাইড করব নইলে আইন নিজের হাতে তুলে নিবো।

এখন অনেকেই বলতে পারেন আমি কেন প্রতিবাদ করিনি। চলন্ত কিংবা দ্রুত গতিতে যাওয়া কারো সাথে আমি কি প্রতিবাদ করব? কিংবা সংখ্যায় বেশি ওদের সাথে? নিজের এলাকায় এমন ঘটতো! চিনে রাখতাম পরে ধোলাই দিতাম। কিন্তু নিজের এলাকায় এগুলো ঘটেনা। কিন্তু যেখানে ওরা আপনাকে শুধু চোখ দিয়েই নোংরা তাকানি তাকাবে… নোংরা ইশারা করবে চোখ দিয়ে… মুখে কিংবা শরীরে হাত দিয়ে কিছু করবে না সেক্ষেত্রে কি করতেই পারেন আপনি? কিচ্ছুই করার নেই। আইন তো নেই…আপনার যদি পাওয়ার থাকে আপনি ধোলাই দিতে পারবেন, অনেকে মানসম্মানের ভয়ে জড়ায় না। কিন্তু তাদেরকে আইনী সহায়তা দিলে তারাও প্রতিবাদ করতে পারতো।

আমাদের দেশে প্রতিদিন রাস্তায় বের হওয়া একটি মেয়ে ইভটিজিং এর স্বীকার হয়…হতে পারে নোংরা কথার আওয়াজে কিংবা কুদৃষ্টিতে।

কিছুদিন আগে এক বন্ধু সহ ফিরছি। চিড়িয়াখানা রোডেই দুইটা রিক্সা পাশাপাশি যাচ্ছে অনেক স্পিডে… একটাতে দুইটা মেয়ে আরেকটাতে দুইটা ছেলে। ছেলে দুইটা মেয়ে দুইটাকে ডিস্টার্ব করছিলো কিভাবে শুনবেন? কনডমের প্যাকেট দেখিয়ে। ভাবুন একবার!

আমার বন্ধু প্রায়ই একটা কথা বলে…সামনে একটা জেনারেশন আসবে একটা জারজ জেনারেশন। যারা এমন কোন পাপ নেই যে করবে না। কষ্ট হলেও সত্য সেগুলো আমাদেরই সন্তান হবে… কারন আমাদের জেনারেশনই হবে তাদের অনুপ্রেরণা।

এই সমাজে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে বড় জোর এইডস হতে বাঁচতে সেক্স করার পূর্বে কনডম পড়ানো কিংবা তিন সপ্তাহের বেশি কাশি হলে কফ পরীক্ষায় অভ্যস্ত করানো যায় কিন্তু ইভটিজিং কিংবা নারী নির্যাতনে প্রয়োজন কঠোর হতে কঠোরতম শাস্তি। এটার জন্য যাবজ্জীবন কিংবা মৃত্যুদণ্ড দিলে খুশি হই। কিন্তু তা কখনই হবে না। তা যদি নাই করতে পারেন অন্তত ৫ বছরের জামিন অযোগত জেল? তাও যদি না পারেন অন্তত একটা হেল্প লাইন নাম্বার: যাতে কল করলে ত্রিশ মিনিটের ভিতরে সেই স্পেশাল বাহিনী সেই স্থানে গিয়ে উপযুক্ত প্রমানের ভিত্তিতে প্রকাশ্যে শাস্তিপ্রদান! অন্তত তাদের জন্য এই আইন বানান যাদের কোন রাজনীতি করে এমন ভাই নেই, যাদের কোন পুলিশ রিলেটিভ নেই, যারা নিতান্তই ছাপোষা। যারা বছরের পর বছর রিক্সাওয়ালা, সিএনজি ড্রাইভার, হেলপার, পথচারী, বখাটে, ছাত্র শিক্ষক এদের হাতে লাঞ্ছিত হয়ে আসছে পথে ঘাটে, বাসে মার্কেটে কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

জাস্ট এই জারজদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে অন্য জারজদের মনে ভয় ঢুকিয়ে দিন। সুশীলদের পায়ে ধরি অন্তত এই দিকটার একটা হ্যস্তন্যস্ত করুন। আমার মা বোন স্ত্রী কন্যা এদের নিয়ে যেন একটা বেফাঁস কথা বলার সাহস যেন কেউ না পায়।

ছবি কার্তেসীঃ গুগল ইমেজ