আর হবে একটি বানানও ভুল! ফুটপ্রিন্টারদের জন্য মেগা ট্রিক

Now Reading
আর হবে একটি বানানও ভুল! ফুটপ্রিন্টারদের জন্য মেগা ট্রিক

ফুট প্রিন্টের কথা যখন প্রথম জানতে পারি, তখন আসলেই অনেক খুশি হয়েছিলাম। সাতশ শব্দের একটা বাংলা আর্টিকেল লিখলে ফুট প্রিন্ট সত্তর টাকা করে আয় করার সুযোগ দিচ্ছে প্রথমে। এটা আমার মত মানুষের জন্য অনেক ভালো একটা ব্যাপার। কেননা, লেখার মান কেমন সেটা অবশ্য বিতর্কের ব্যাপার কিন্তু ভালো টাইপিং স্পীড আর বানান সম্পর্কে টুকটাক সচেতনতা আছে। অর্থাৎ, ব্যাপারটা সিরিয়াসলি নিলে বেশ ভালো আয় করা যাবে।

প্রথমদিকে এটাই আমার ধারণা ছিল। কিন্তু প্রথম একটা আর্টিকেল লেখার পরে ভুল ভাঙতে দেরী হলো না। কারণ, বানান এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার। আর বাংলা বানান এতটা কঠিন আমাদের সবারই প্রায় তিনটির বেশী করে বানান ভুল হচ্ছেই। তখন থেকেই একটা সল্যুশন বের করার চেষ্টা করছিলাম। এবং খুব সম্ভবত ভালো একটা উপায় পেয়েও গেছি। যেটা আমার বানান শুদ্ধ হতে সহায়তা করবে।

অতএব, দেরী না করে আসুন আলোচনা করি।

বানান শুদ্ধ করার জন্য আমরা অনেকেই গুগলে শব্দটি সার্চ দিয়ে বানান ঠিক আছে কিনা সেটা মিলিয়ে নেয়ার চেষ্টা করি। প্রথমদিকে যখন আমি নিজে এটা করতাম, অনেক বেশী কনফিউজড হয়ে যেতাম। কারণ নামকরা নিউজ পোর্টাল গুলো একেকটা একেক ধরনের বানান লিখেছে। তবে এক্ষেত্রে আমি বরাবরই প্রথম আলোর বানান ফলো করার চেষ্টা করি। কিন্তু এতেও ঠিক পোষাচ্ছিল না। তাহলে কী করা যায়?

হুম, সমাধান আমাদের হাতের কাছে। আমরা লেখার জন্য প্রায় প্রত্যেকেই তো অভ্র ব্যবহার করে থাকি, ঠিক না? আপনি জানেন কি, এই অভ্র সফটওয়্যারটিরই কিন্তু নিজস্ব বানান শুদ্ধিকরণ সুবিধা আছে।

 

কিভাবে আপনি এই অপশনটি পাবেন?
১। প্রথম আপনার ডেস্কটপে উপরের দিকে অথবা হিডেন আইকন গুলোর মধ্যে অভ্র আইকনটিতে রাইট বাটন ক্লিক করুন। তাহলেই নিচের ছবির মত spell checker অপশনটি পাবেন। এছাড়াও আপনি ctrll+F7 কমান্ড চেপেও এই অপশনটি আনতে পারেন।

Screenshot_1.pngScreenshot_3.png

২। এরপরে যখন স্পেল চেকারটি ওপেন হবে, তখন আপনি এমএস ওয়ার্ডে আপনার যে লেখাটি লিখেছেন, সেটা কপি করে টেক্সট বক্সে পেস্ট করুন। এবং এবার শুধু F7 চাপুন। তাহলেই আপনার লেখায় প্রথম যে ভুলটি হয়েছে, সেটা অভ্র ফাইন্ড আউট করবে এবং আপনাকে সঠিক বানানটি দেখিয়ে পরিবর্তন করতে বলবে।

৩। এক্ষেত্রে দুইটা সমস্যা হবে। কিছু অজানা ইংরেজি শব্দ অভ্র ভুল হিসেবে দেখাতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনি ইগনোর অন্স ক্লিক করে বিষয়টি এড়িয়ে যাবেন। আর ভুল বানানটি দেখিয়ে দিলে, চেঞ্জ অন্স অথবা চেঞ্জ অল ক্লিক করবেন। বুঝতেই তো পারছেন, চেঞ্জ অন্স ক্লিক করলে শুধু ওই শব্দটিই পরিবর্তন হবে। আর চেঞ্জ অল ক্লিক করলে পুরো লেখায় যতবার ঐ শব্দ এসেছে সব গুলো চেঞ্জ হয়ে যাবে।

৪। এভাবে একদম শেষ পর্যন্ত আপনি বানান শুদ্ধ আছে কিনা যাচাই করতে পারবেন।

 

অসুবিধা:

হ্যাঁ, এতক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন অভ্র এর এই বানান শুদ্ধিকরণ সুবিধাটি শতভাগ পারফেক্ট নয়। এটা টাইপ মিস্টেক এবং প্রায় নব্বই ভাগ ভুল বানান গুলো বের করতে পারে। কিন্তু আপনার তো দরকার পুরো ১০০ ভাগ সঠিক বানান। সেক্ষেত্রে আপনার সহজ কিন্তু কনফিউজিং বানান গুলো সম্পর্কে কিছুটা ধারনা রাখতে হবে।

উদাহরণ হিসেবে, ‘কোনো’ শব্দটির কথা বলা যায়। আপনি কোনো কিছু সম্পর্কে যদি লিখতে যান, তাহলে কিন্তু কোনো এবং কোন দুইটিই সঠিক। কোন লিখতাম আমরা অনেক আগে। আর সাম্প্রতিক সময়ে বাংলা একাডেমী যে বানানের বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে, তার মধ্যে এই কোনোও একটি। অর্থাৎ, দুইটিই সঠিক।

তাহলে আমাদের লেখার কমন কিছু কনফিউজিং বানান নিয়ে চলুন ছোট্ট করে একবার আলোচনা করে নেই। যেগুলোর দুটো বানানই সঠিক যার ফলে অভ্র ফাইন্ড আউট করতে পারে না।

কী নাকি কি?

অবশ্যই দুটিই সঠিক। তবে এটা নির্ভর করে আপনি আসলে কী বোঝাতে চাচ্ছেন? ধরুন, আপনি কাউকে প্রশ্ন করছেন, আজকে ক্লাসে কী কী পড়াবে? এক্ষেত্রে কিন্তু আপনাকে ‘কী’ লিখতে হবে। অর্থাৎ, আপনি এমন কিছু জিগ্যেস করছেন, যেটার উত্তর এক কথায় না হয়ে কিছুটা ব্যাখ্যা থাকবে, সেটার ক্ষেত্রে লিখতে হবে কী। তাহলে ‘কি’ লিখবেন কোথায়? আমি যদি আপনাকে প্রশ্ন করি, আপনি কি আমার লেখাটি পড়ছেন? তাহলে আপনার উত্তর হবে, হ্যাঁ। হুম, এখানেই আপনি কি লিখবেন। অর্থাৎ যে প্রশ্নের উত্তর এক কথায় হ্যাঁ এবং না তে দেয়া যায়, সেই প্রশ্ন করতে হলে আপনাকে কি লিখতে হবে।

করো নাকি কোরো?

এখানে একটা ভাবের ব্যাপার আছে। ধরুন আপনি কাউকে প্রশ্ন বলছেন, সাইদ, তুমি এই কাজটা করো। অর্থাৎ কথাটি খুব সাধারণ ভাবে সাইদকে করতে বলছেন। আবার, মনে করুন সাইদ কাজটি করতে চাচ্ছে না, তখন ওকে বলতে হবে, সাইদ… তুমি কাজটি কোরো প্লিজ? বুঝতে পারছেন? পরেরটায় আলাদা একটা আবেদন রয়েছে। এক্ষেত্রে আপনি কোরো ব্যবহার করতে পারেন।

হল নাকি হলো?

এক্ষেত্রে একটা কমন সমাধান আছে। যেটা প্রায় সব ব্যাকরণ বইতেই আপনি পাবেন। সেটা হলো, যে ক্রিয়াপদের শেষে ও কার না দিলে ব্যাপারটি বোঝা যায়। সেটায় আপনি অযথা ও কার দিতে যাবেন না। যেমন এখানে, হল মানে কিন্তু হলরুমও বোঝাতে পারে। অর্থাৎ আপনার এখানে হলো ব্যবহার করতে হবে।

যাইহোক, একদমই কমন কিছু ভুল নিয়ে শেষের দিকে আলোচনা করলাম। যেগুলো আপনাদের কাজে আসতে পারে। আর প্রথমদিকের অভ্র ট্রিকটা যে কাজে আসবে, সেটা তো গ্যারান্টি দিয়ে বলাই যায়!

ভাল থাকুন সবাই।