বিশ্বকাপে এবার রেফারিং হবে ভিআরএ পদ্ধতিতে

Now Reading
বিশ্বকাপে এবার রেফারিং হবে ভিআরএ পদ্ধতিতে

রেফারিদের সিদ্ধান্তকে আরও নির্ভুল ত্রুটিমুক্ত করতে যান্ত্রিক পদ্ধতির সাহায্য নিচ্ছে বিশ্ব ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আর ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে নতুন এই প্রযুক্তি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিস (ভিএআর) সিস্টেম ব্যবহার করা হবে। ২০১৬ সালের ক্লাব বিশ্বকাপে সর্বপ্রথম ভিএআর সিস্টেম পরীক্ষামূলক ব্যবহার করা হয়েছে। পরবর্তীতে স্পেন ও ফ্রান্সের মধ্যকার হাইভোল্টেজ আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রেফারি। যার ফলে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থাটি সিদ্ধান্ত নিল এবারের ফুটবল বিশ্বকাপেই তার প্রয়োগ ঘটাবেন। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন এ বিষয়ে। শেষ পর্যন্ত সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপে ভিএআর সিস্টেম থাকছে। রেফারিং এর নতুন এই সিস্টেম চালু হওয়ার পর এ পর্যন্ত ২০টি টুর্নামেন্টের ৮০০ ম্যাচে এই পদ্ধতি পরীক্ষামূলক ব্যবহৃত হয়েছে। এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে অনেকের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আছে। গোল লাইন টেকনোলজির এ ব্যবহার নিয়ে রয়েছে তুমুল বিতর্ক। অনেকেই ভাবছেন এ পদ্ধতি চালু হলে রেফারিং নিয়ে ফুটবলের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য হুমকির মুখে পড়তে পারে, হারিয়ে যেতে পারে ফুটবলের আসল সৌন্দর্য। তবে বেশিরভাগ ফুটবল প্রেমী বিষয়টিকে ইতিবাচক ভাবে নিচ্ছেন তারা ভাবছেন টেকনোলজির ব্যবহারে খেলাটা হবে আরও নিখুঁত। বিতর্কিত রেফারিং এড়াতে এই সিস্টেম বেশ কার্যকরী হবে বলে ধারণা তাদের। আর তাই দ্বিতীয় মতামতকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে ফিফা। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফ্যান্তিনো বলেন, ‘আজ থেকে ভিএআর সিস্টেম ফুটবল ম্যাচের একটা অঙ্গ হয়ে গেল যেটা নিয়ে দীর্ঘদিন আমাদের কাজ করতে হয়েছে। এই পদ্ধতি প্রয়োগের পর কোচ-ফুটবলার এমনকি সমর্থকদের থেকেও দারুণ ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাবে বলে বিশ্বাস।

শুধুই যে গোল এর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে তা কিন্তু নয়, যে কোনো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিতেই ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির সাহায্য নেবে মাঠে খেলা পরিচালনাকারী মূল রেফারি। মূলত চারটি বিষয় দেখা হবে ভিএআর পদ্ধতিতে – গোল হয়েছে কি না, পেনাল্টির সিদ্ধান্ত সঠিক কি না, সরাসরি লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত সঠিক কি না এবং ভুল ফুটবলারকে কার্ড দেখানো হল কি না।

জুরিখে এক বৈঠকের পরে ফুটবলের আইন নির্মাতা বডি সেই দ্য ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) কর্তৃক তাদের ভোটাভুটিতে অনুমোদন হয়ে গেলো এই বিশ্বকাপেই ভিএআর চালু হচ্ছে। পূর্বে ইউরোপের স্থানীয় কিছু লিগ এবং টুর্নামেন্টের ম্যাচে ভিএআর পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছিল। এবার আনুষ্ঠানিকভাবেই এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে রাশিয়া ফুটবল বিশ্বকাপে। আইএফএবি এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে- ফুটবলকে আরও স্বচ্ছ ও ত্রুটিমুক্ত করবে এই প্রযুক্তি, যার ফলে নতুন দিক উন্মোচিত হবে বিশ্ব ফুটবলে।

গোল লাইন টেকনোলজির ব্যবহার নিয়ে তুমুল বিতর্ক। কারও মতামত, টেকনোলজির ব্যবহারে ফুটবল আসল সৌন্দর্যই হারিয়ে ফেলবে। কারও মতে, টেকনোলজির ব্যবহারে খেলাটা হবে আরও নিখুঁত। তবে, দ্বিতীয় মতামতকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে ফিফা। তবেই ধরে নেয়াই যায় রাশিয়া ফুটবল বিশ্বকাপে অপেক্ষা করছে নতুন চমক।

 

২০১৮ ফুটবল বিশ্বকাপের হালচাল

Now Reading
২০১৮ ফুটবল বিশ্বকাপের হালচাল

ইতিমধ্যেই ২০১৮ ফুটবল বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব শেষ করা হয়েছে। পহেলা ডিসেম্বর থেকে  রাশিয়ার মস্কোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপে স্বাগতিক দেশসহ মোট ৩২টি দল অংশ নিচ্ছে। স্বাগতিক রাশিয়ার সাথে সবার আগে বিশ্বকাপ খেলার টিকিট নিশ্চিত করেছে পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবংবর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। মোটামুটি ফুটবলের অন্য সকল জায়ান্টরা বিশ্বকাপের আসরে থাকলেও এবার দেখা যাবেনা চার বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালিকে, ২০১৪ ফুটবল বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান অধিকারী নেদারল্যান্ডসকে এবং কোপা আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন চিলি’কে। যুক্তরাষ্ট্রেরও দেখা মিলবেনা এই বিশ্বকাপে, ১৯৮৬ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপ মিস করছে তারা। এছাড়াও চেক প্রজাতন্ত্র, ওয়েলস, স্কটল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, বসনিয়া-হারজেগোভিনা, তুরস্ক, আইভরি কোস্ট, ক্যামেরুন, ঘানার মতো ভাল দলগুলো বাছাইপর্ব খেলে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করতে পারেনি।

বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে-অফে সুইডেনের কাছে দুই লেগে ১-০ গোলে হারে ইতালি। এই হারের পর অবসর নেন ইতালির অধিনায়ক ও গোলরক্ষক জিওনলুইজি বুফন। ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন চিলি, বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচগুলিতে তাদের সেভাবে খুঁজে পাওয়া যায়নি এবার। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে ছয় নম্বরে ছিলো চিলি। নেদারল্যান্ডস এর ভাগ্যও খারাপ বলতে হয়, ২০০২ সালের পর এই প্রথম তারা বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত করতে পারেনি। বাজে পারফরম্যান্সের কারনে গত বছর ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপও খেলতে পারেনি নেদারল্যান্ডস। প্লে-অফে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপ খেলছে পেরু। পেরুর কাছে নিউজিল্যান্ডের হেরে যাওয়াতে ওশেনিয়া অঞ্চল থেকে অস্ট্রেলিয়া ছাড়া রাশিয়া বিশ্বকাপে আর কোনো দল অংশগ্রহণের সম্ভাবনা থাকলনা। অস্ট্রেলিয়াকে ওশেনিয়ার অংশ ধরা হলেও এই দেশ এশিয়ার অনেকটা অংশজুড়েই রয়েছে।

আবার দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে অনেক নাটকীয়তায় লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিক  বদান্যে তৃতীয় স্থানে থেকে সরাসরি বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ১৯৯০ সালের ইতালি ফুটবল বিশ্বকাপের ২৮ বছর পর এইবারই প্রথম বিশ্বকাপের মূলপর্বে জায়গা পেয়েছে আফ্রিকা অঞ্চলের পিরামিডের দেশ মিশর। রাশিয়া  বিশ্বকাপে আফ্রিকা অঞ্চল থেকে আরো সুযোগ পেয়েছে মরক্কো, নাইজেরিয়া ও সেনেগাল। এছাড়া এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নিয়েছে পানামা ও ২০১৬ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের চমক আইসল্যান্ড। সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা পেয়েছে আইসল্যান্ড যাদের জনসংখ্যা মাত্র ৩ লক্ষ ৩০ হাজার। এশিয়া থেকে আছে ইরান, জাপান, সৌদি আরব ও দক্ষিণ কোরিয়া।

মস্কোর স্টেট ক্রেমলিন প্যালেস কনসার্ট হলে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে।   ফিফা র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী দল সাজানো হয়েছে। যেখানে আটটি গ্রুপের এক নম্বর গ্রুপে থাকবে রাশিয়া এবং এরপরের সাতটি গ্রুপে থাকবে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ সাতটি দল। শুধুমাত্র ইউরোপ মহাদেশের সর্বোচ্চ দুটি দল একই গ্রুপে থাকছে, এছাড়া অন্য কোনো মহাদেশ থেকে একটির বেশি দল এক গ্রুপে রাখা হবে না।

এক নজরে রাশিয়া বিশ্বকাপের আট গ্রুপ :

‘এ’ গ্রুপ : রাশিয়া, সৌদি আরব, মিসর, উরুগুয়ে।

‘বি’ গ্রুপ : পর্তুগাল, স্পেন, মরক্কো, ইরান।

‘সি’ গ্রুপ : ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, পেরু, ডেনমার্ক।

‘ডি’ গ্রুপ : আর্জেন্টিনা, আইসল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, নাইজেরিয়া।

‘ই’ গ্রুপ : ব্রাজিল, সুইজারল্যান্ড, কোস্টারিকা, সার্বিয়া।

‘এফ’ গ্রুপ : জার্মানি, মেক্সিকো, সুইডেন, দক্ষিণ কোরিয়া।

‘জি’ গ্রুপ : বেলজিয়াম, পানামা, তিউনিসিয়া, ইংল্যান্ড।

‘এইচ’ গ্রুপ : পোল্যান্ড, সেনেগাল, কলম্বিয়া, জাপান।

 

চলুন জেনে নিই রাশিয়া বিশ্বকাপের ম্যাচ গুলো কোন ১২টি দৃষ্টিনন্দন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবেঃ

লুজনিকি স্টেডিয়াম, সেইন্ট পিটসবার্গ স্টেডিয়াম, সচি স্টেডিয়াম, একটেরিনবার্গ অ্যারিনা, কাজান অ্যারিনা , নিঝনি নভগোরোদ ,  রুস্তভ অন ডন অ্যারিনা, সামারা অ্যারিনা, সারাঙ্কস মোর্দোভিয়া অ্যারিনা, ভলগোগ্রাদ অ্যারিনা, মস্কো স্পার্টাক স্টেডিয়াম, কালিনিনগ্রাদ স্টেডিয়াম।

বিশ্বকাপ ফুটবলে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না থাকলেও এ দেশের কোটি মানুষ বুঁদ হয়ে থাকেন ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে। খুব কম মানুষের ভাগ্যেই সরাসরি স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখার সৌভাগ্য ঘটে।  তাই কোটি কোটি মানুষের ভরসা হয়ে উঠে টেলিভিশন।